Category: ধর্ম

  • কী করলে এক হাজার নেকি লাভ করা যাবে?

    কী করলে এক হাজার নেকি লাভ করা যাবে?

    দৈনিক এক হাজার নেকি লাভ ও এক হাজার গোনাহ মাফ হওয়া নিশ্চয় মুমিনের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। কোনো মুমিন এমন সৌভাগ্য হাতছাড়া করতে চাইবে না। প্রিয়নবী (সা.) উম্মতকে এমনই একটি আমল শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের জন্য কি দৈনিক এক হাজার নেকি লাভ করা কঠিন কিছু? তখন এক সাহাবি বলেন, আল্লাহর রাসুল! কী করলে এক হাজার নেকি লাভ করা যাবে? তখন নবীজী বলেন, ‘এক শ বার সুবহানাল্লাহ বললে এক হাজার নেকি লেখা হবে অথবা (কোনো কোনো বর্ণনায়) এক হাজার গোনাহ মোচন হবে। (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৮; ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৮২৫)

    এ ছাড়া হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর দশবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পড়বে, এর বিনিময়ে তার আমলনামায় চারজন গোলাম আজাদ করার সওয়াব লেখা হবে, ১০টি নেকি লেখা হবে, ১০টি গোনাহ মাফ হবে, ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং এ কালিমাগুলো সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য শয়তান থেকে রক্ষার কারণ হবে।

    মাগরিবের পর পড়লে অনুরূপ সওয়াব মিলবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে হেফাজতে থাকবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৫১৮; তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৩৪)

    বিভিন্ন বর্ণনায় রয়েছে, নামাজের বৈঠক থেকে ওঠার আগে, কোনো কথা বলার আগেই এই দোয়া পড়বে। কোনো বর্ণনায় শুধু নামাজের পর পড়ার কথা এসেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৩৪, ৩৪৭৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৭৯৯০)

    অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘…তার আমলনামায় এক নেকি লেখা হবে, এক শ গোনাহ মাফ হবে এবং একজন গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৭১৯)

    অন্য হাদিসে এসেছে, ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধরের একজন গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাওয়া যাবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, দশজন গোলাম স্বাধীন করার সওয়াব পাওয়া যাবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৭; তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৩৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৫৬৮)

    মোদ্দাকথা, বর্ণনার বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা থাকলেও ফজর এবং মাগরিবের পর এই দোয়া-আমলের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার গোনাহ মাফ করেন। তাকে সওয়াব দিয়ে পুরস্কৃত করেন। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

  • ১০৩ দেশের কোরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের হাফেজ

    ১০৩ দেশের কোরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের হাফেজ

    ইসলাম ডেস্ক :

    সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজ মুহাম্মদ শিহাব উল্লাহ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। এ প্রতিযোগিতায় ১০৩টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নেয়। সৌদি আরবের ইসলাম, দাওয়াহ ও দিক-নির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটি জানা গেছে।

    শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা- ৪১তম আসর’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগীদের পাশাপাশি এতে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও সম্মানী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানায় সৌদি আরব। সৌদি সরকারের আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এই প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন।

    বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতায় সৌদি বাদশাহ সালমানের পক্ষ থেকে তার ভাই ও মক্কা মুকাররমার গভর্নর আমির খালিদ আল-ফায়সাল পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি বিজয়ীদের হাতে কৃতিসনদ ও বিপুল পরিমাণ অর্থ-পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়াও এতে সৌদির ধর্ম, দাওয়াহ ও দিক-নির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল আজিজ আল শেখ উপস্থিত ছিলেন।

    সনদের পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে শিহাবকে ৫৫ হাজার সৌদি রিয়ালের (প্রায় ১১ লাখ টাকা সমপরিমাণ) প্রতীকী চেক দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিহাব গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রোয়েশিয়ায় ৪৩টি দেশের হাফেজদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২৫তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

    মক্কার গভর্ণর, সৌদির ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে বিজয়ীরা। দশ বছর বয়সী শিহাব উল্লাহ রাজধানী যাত্রাবাড়ীর তাহফিজুল কুরআন ওয়াস্ সুন্নাহ মাদ্রাসার ছাত্র। সে সাত বছর বয়সে কোরআন হেফজ করা শুরু করে। এরপর এক বছর না পেরোতেই পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। কুমিল্লা জেলার বরুডার নেয়ামতুল্লাহ মাহবুব তার বাবা। সৌদিতে শিহাবের সঙ্গে তার শিক্ষক ও যাত্রাবাড়ীর তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক প্রখ্যাত কারি নাজমুল হাসান রয়েছেন।

    ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা’র এই আসর চারটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক বিভাগের সেরা তিনজনকে পুরস্কৃত করে। এছাড়া সাফল্যের বিচারে উত্তীর্ণদের (অংশগ্রহণকারী সবাইকেই) ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।

  • রুকু-সেজদায় অক্ষম ব্যক্তি নামাজ পড়বেন যেভাবে

    রুকু-সেজদায় অক্ষম ব্যক্তি নামাজ পড়বেন যেভাবে

    নামাজের ভেতরে ৭টি ফরজ কাজের দুটিই হলো রুক ও সেজদা। যদি কোনো ব্যক্তি দাঁড়াতে বা বসতে না পারে তবে সেব্যক্তি কীভাবে রুকু ও সেজদা আদায় করবে? সেক্ষেত্রে রুকু-সেজদার হুকুম কী? ওই ব্যক্তির জন্য কি রুকু ও সেজদা আদায়ের প্রয়োজন নেই?

    ‘হ্যাঁ’, দাড়ানো কিংবা বসতে অক্ষম ব্যক্তিকেও রুকু ও সেজদা আদায় করতে হবে। অক্ষম ব্যক্তির জন্যও রয়েছে রুকু ও সেজদার বিধান। তবে তা সুস্থ ব্যক্তির মতো নয়। অক্ষম ও সুস্থ ব্যক্তির নামাজের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। অক্ষম ব্যক্তি কেবলামুখী হয়ে ইশারায় রুকু ও সেজদা আদায় করবে।

    প্রশ্ন হলো-
    অক্ষম ব্যক্তিকে যদি কেবলামুখী হতে হয় তবে তাকে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসতে কিংবা শুয়ে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা বা শোয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে?

    মনে রাখতে জরুরি
    নামাজের ভেতরের দ্বিতীয় শর্ত হলো দাঁড়ানো। যদি দাঁড়াতে অক্ষম হয় তবে বসে বসে নামাজ পড়বে। যদি বসে পড়তে অক্ষম হয় তবে শুয়ে নামাজ আদায় করবে। অর্থাৎ যতক্ষণ জ্ঞান আছে ততক্ষণ নামাজের হুকুম থেকে কেউ বাদ যাবে না। চাই তা দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা শুয়ে হোক।

    তাই দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম ব্যক্তির জন্য বসে কিংবা শুয়ে নামাজ আদায় করা বৈধ। অক্ষম ব্যক্তির জন্য কোন দিকে পা দিয়ে নামাজ পড়লেন, সেটি হুকুম নয়, বরং নামাজ আদায় করা হুকুম। আর তাতে অক্ষম ব্যক্তির যদি পশ্চিম দিকে পা দিতে হয় তবে তা নামাজের ক্ষেত্রে অক্ষম ব্যক্তির জন্য বৈধ।

    ইসলামিক স্কলার ও ফিকহ শাস্ত্র মতে, অক্ষম ব্যক্তি ছাড়া কারো জন্যই কেবলার দিকে জাগ্রত অবস্থায় পা দিয়ে বসা, শোয়া বৈধ নয়। ফিকরেহ পরিভাষায় তা মাকরূহ।’

    সুতরাং ইসলামের অন্যতম ইবাদত নামাজ প্রত্যেক জ্ঞানবান সুস্থ ও অসুস্থ ব্যক্তিকে আদায় করতে হবে। কোনোভাবেই তা তরক করা যাবে না।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিষাক্ত প্রাণী ও কুদৃষ্টি থেকে বাঁচতে বিশ্বনবির ছোট্ট দোয়া

    বিষাক্ত প্রাণী ও কুদৃষ্টি থেকে বাঁচতে বিশ্বনবির ছোট্ট দোয়া

    দুনিয়াতে অসংখ্য বিষাক্ত প্রাণী ও কুদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষের বিচরণ রয়েছে। এসব বিষাক্ত প্রাণী ও কুদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে শিখিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও আমল। যেসব আমল ও দোয়ায় মুমিন-মুসলমান বিষাক্ত প্রাণী ও বদনজর থেকে মুক্ত থাকবে।

    বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মহামারী আকার ধারণ করেছেন ডেঙ্গু ও এডিস মশার আক্রমন। এসব মোশার আক্রমণ এতটাই মারাত্মক যে, অল্প সময়েই মানুষ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। এ থেকে মুক্তি লাভ করা মানুষের জন্য আবশ্যক।

    আবার কুদৃষ্টি মানুষের সাজানো গোছানো জীবনকে অতিষ্ট করে তোলো। সুখের সংসার অশান্তিতে পড়ে যায়। সে জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই আল্লাহর কাছে কুদৃষ্টির আক্রমণ থেকে বাঁচতে বেশি বেশি দোয়া করতেন। যা মুমিন মুসলমানের জন্যও একান্ত আবশ্যক।

    একসঙ্গে বিষাক্ত প্রাণী ও কুদৃষ্টি থেকে মুক্ত রাখতে হজরত হাসান-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে দোয়া করতেন। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন-

    أعُوذُ بِكَلِماَتِ اللهِ التاَّمَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطاَنٍ وَهاَمَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

    উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।’ (বুখারি ও মিশকাত)

    অর্থ : ‘আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের সাহায্যে প্রত্যেক শয়তানের আক্রমণ থেকে আশ্রয় চাই। আরও আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর আক্রমণ ও প্রত্যেক ক্ষতিকর চোখ থেকে।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককে ও তাদের সন্তানদের বিষাক্ত প্রাণী ও কুদৃষ্টি থেকে বাঁচাতে প্রিয় নবির শেখানো দোয়া বেশি বেশি পড়ার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। ডেঙ্গু, এডিস মশাসহ বিষাক্ত প্রাণী ও খারাপ মানুষের বদনজর থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পবিত্র আশুরায় হাসানাত আব্দুল্লাহ’র উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ

    পবিত্র আশুরায় হাসানাত আব্দুল্লাহ’র উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ

    সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ এক দিন আজ। এ দিনটি (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা নামে পরিচিত। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারবালার ময়দানে ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে শহীদ হন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

    কারবালার শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়। ১০ মহররমে অনেক ফজিলতময় ঘটনা ঘটেছে।

    ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন।

    আশুরা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সরকারি ছুটি। দেশব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন আশুরা উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এর নিজ এলাকায় জামে মসজিদে মঙ্গলবার যোহর নামাজ বাদ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়।

    মিলাদে উপস্থিত ছিলেন আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন, গৌরনদী পৌর যুবলীগ সাধারন সম্পাদক মোঃ আলামিন হাওলাদার, উপজেলা প্রেস ক্লাব সাধারন সম্পাদক বি.এম মনির হোসেন, মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য মুসল্লিগন। মিলাদ শেষে তবারক বিতরণ করা হয়।

  • বরিশালে তাজিয়া মিছিল

    বরিশালে তাজিয়া মিছিল

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    কারাবালার প্রান্তরে হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পবিত্র অশুরা উপলক্ষে বরিশালে তাজিয়া মিছিল বের হয়েছে।

    পাকপাঞ্জাতোন পরিষদের আয়োজনে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নগরীর নতুনবাজার এলাকা থেকে এই শোক মিছিল বের হয়।

    এসময় মিছিলকারীরা হায়! হোসেন, হায়! হাসান মাতম করে। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার নতুন বাজার পোল এলাকায় গিয়ে শেষ করে।

    এছাড়া আশুরা উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন চলছে।

  • মুহররম ও আশুরায় মুসলমানের করণীয়

    মুহররম ও আশুরায় মুসলমানের করণীয়

    আরবি (হিজরি) সালের প্রথম মাস মুহররম। এ মাসের ১০ তারিখের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। এ মাসের করণীয় কী হবে? কী করতে হবে? তাও সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইনতিকালের প্রায় ৫০ বছর পর ৬১ হিজরীর ১০ মুহররম কারবালার প্রান্তরে ঘটেছে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। যে ঘটনায় সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর হৃদয় থেকে আজও রক্ত ঝরছে। সেদিন ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে হজরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাত বরণ করেন।

    হজরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এ শাহাদাতের ঘটনা অনেক বড় মর্যাদার। আর এতে রয়েছে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক বড় শিক্ষা, প্রেরণা ও পরীক্ষা।

    অনেকে মনে করেন, ইসলাম অপূর্ণাঙ্গ ছিল, আর তার পূর্ণতা এসেছে হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পবিত্র শাহাদাতের মাধ্যমে। যদি বিষয়টিকে এমন মনে করা হয় তবে তা হবে মারাত্মক ভুল কথা।

    কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইনতেকালের আগে ইসলামি শরিয়ত পরিপূর্ণ হয়েছে। যা কেয়ামত পর্যন্তই সংরক্ষিত থাকবে। এতে সংযোগ-বিয়োজনের কোনো সুযোগ নেই।

    সুতরাং এমন বিশ্বাস থেকে মুক্ত থাকতে হবে যে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইনতিকালের পরে সংঘটিত কোনো মুসিবত বা আনন্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো দিন বা কোনো মাসের নতুন কোনো ফজিলত বা নতুন কোনো বিধান আবিষ্কার করা যাবে না। যদি কেউ এমনটি করে তবে তা হবে সুস্পষ্ট গোমরাহী। যার পরিণাম জাহান্নাম।

    বরং ইসলামের জন্য ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ আত্মত্যাগ আমাদের জন্য ইসলাম রক্ষায় প্রেরণা ও শিক্ষা। ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেঁচে থাকাও অনেক বড় অনুপ্রেরণা ও পরীক্ষা।

    আশুরার দিনের স্মরণে ইসলাম বিধান পালন ও বাস্তবায়নই ঈমানের একনিষ্ঠ একান্ত দাবি। পাশাপাশি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত ইবাদত- রোজা, তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে এ দিনের ফজিলত লাভ করা। যে ফজিলত ও মর্যাদার কথা তিনি হাদিসে বর্ণনা করেছেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

    হাদিসে ঘোষিত এ বিশেষ দিনটিকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ ১০ মুহররমের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সে আলোকে আশুরার দিন রোজা পালন যেমন অনেক বড় ফজিলতপূর্ণ তেমনি মুহররম আল্লাহর মাস হিসেবে অনেব বড় মর্যাদার মাস।

    আর মর্যাদার মাসে আল্লাহর কাছে তাওবা-ইসতেগফার করা অনেক উত্তম ইবাদত। তাইতো হাদিসে রোজা পালন করার পাশাপাশি তাওবা-ইসতেগফারের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    মুমিন মুসলমানের উচিত আশুরার দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার রোজা পালন করা। মুহররম মাসব্যাপী তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়া পড়া। যে দোয়া ও ইসতেগফার বেশি পড়া জরুরি তা তুলে ধরা হলো-

    اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত)

    বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করবে-
    رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
    উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

    > সব সময় ইসতেগফার পড়া-
    أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

    আর সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-
    أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার রোজা পালন করার তাওফিক দান করুন। মুহররম মাসব্যাপী ক্ষমা প্রার্থনায় বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি অন্যায় রুসুম রেওয়াজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুহররম মাসে আশুরার রোজা কয়টি?

    মুহররম মাসে আশুরার রোজা কয়টি?

    ১০ মুহররম আশুরা। এ দিন রোজা রাখার কথা বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। বর্ণনা করেছেন এ দিনের রোজার বিশেষ ফজিলত। তিনি বলেছেন, রমজানের রোজা পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজা হচ্ছে আশুরার রোজা। তোমরা এ দিনে রোজা রাখ।

    হাদিসের ঘোষণায় আশুরার রোজা যেহেতু ফজিলতপূর্ণ। তাহলে আশুরায় কয়টি রোজা রাখবেন? ‘হ্যাঁ’, আশুরার রোজা মূলত ১০ মুহররমের রোজা। তবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে আশুরার রোজার সঙ্গে একটি রোজা বাড়িয়ে রাখার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় বিষয়টিও সুস্পষ্ট হয়ে যায়-
    صُومُوا عَاشُورَاءَ وَخَالِفُوا فِيهِ الْيَهُودَ، صُومُوا قَبْلَهُ يَوْمًا وَبَعْدَهُ يَوْمًا
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,ম ‘তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখ। আর তাতে ইয়াহুদিদের বিরোধিতা কর। আশুরার একদিন আগে কিংবা পরে একদিন রোজা রাখ।’ (ইবনে খুজায়মা)

    সে হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বর আশুরা। যারা ৯ মুহররম রোজা রেখেছে তারা ১০ মুহররম রোজা রাখার মাধ্যমে ২টি রোজা পূরণ করবেন। যারা ৯ মুহররম রোজা রাখেনি, তারা ১০ মুহররম ও ১১ মুহররম রোজা রেখে হাদিসের ওপর আমল করবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ১০ মুহররম আশুরার রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশালে ৬শ’ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার আয়োজন

    বরিশালে ৬শ’ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার আয়োজন

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশের সঙ্গে বরিশালেও চলছে নানা ধরনের প্রস্তুতি। বরিশাল নগর ও জেলার সব উপজেলার প্রায় অধিকাংশ মন্দিরেই চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।  জানাগেছে, বরিশালে এবার ৬শত ১৩ টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বরিশাল মহানগরে ৪০ টির মতো মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক মুখার্জী কুডু জানান, মহানগরসহ গোটা বরিশাল জেলায় এখন পর্যন্ত ৬১৩ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।  তবে চুড়ান্ত মন্ডপের বিষয়টি সঠিকভাবে জানতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।  প্রতিবারের মতো এবারেও বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হবে আগৈলঝাড়ায় উপজেলায়।

    এদিকে পূজা উৎসবকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল পুলিশ লাইন্স এর ড্রিল শেডে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম-বিপিএম(বার)। উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি  রাখাল চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক মানিক মুখার্জী কুডু, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র দে প্রমুখ। বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নাইমুল হক জানান, গুরুত্বপূর্ণ, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরি অনুযায়ী পূজা মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হবে।

    পূজা উৎসবকে ঘিরে উদযাপন কমিটির নিজস্ব সেচ্চাসেবক ও আনসার সদস্যদের ছাড়াও গোটা বরিশাল জেলায় ৯২৪ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মহানগরে পৃথকভাবে মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।

  • আশুরার যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবি

    আশুরার যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবি

    আরবি হিজরি সালের প্রথম মাস মুহররম। এ মাসের দশ তারিখই হেচ্ছ আশুরা। বহুকাল ধরেই আশুরা নিয়ে রয়েছে নানা কথা ও ঘটনার বর্ণনা। এ নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক বই ও ডকুমেন্টরি। যা এখনো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তবে এসব বিষয়ে থাকতে সতর্ক।

    শুধু কারবালার প্রান্তরে হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্য আশুরা মর্যাদাবান ও গুরুত্বপূ হয়নি। বরং প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের বর্ণনায় ফুটে ওঠেছে আশুরার মর্যাদা। যে কারণে প্রিয় নবি আশুরার দিনে রোজা রাখার কথা বলেছেন। বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফারের কথা বলেছেন।

    আশুরার কিছু প্রচলিত ঘটনা
    আশুরা নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা ধরনের কথা। যা মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করছে। এ সব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

    >> কেয়ামত
    অনেকেই বলে থাকেন যে, আশুরার দিনে কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় এ কথা প্রমাণিত নয়। এ দিন কেয়ামত সংঘঠিত হোক আর না হোক, কেয়ামত আসার আগেই মুমিন ব্যক্তির উচিত পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

    >> আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল
    আশুরায় তাওবা কবুল হয়। হাদিসে পাকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা এসেছে। আর আশুরার দিনে হজরত আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল হয়েছে মর্মে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব কিতাবে এ সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে ওলামায়ে কেরাম এ হাদিসের সনদকে দুর্বল বলেছেন।
    যেহেতু প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আশুরার দিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। তাই মানুষের উচিত এ দিন বেশি বেশি তাওবা করা।

    >> জুদি পাহাড়ে নৌকা নোঙর
    আশুরার দিন হজরত নূহ আলাইহিস সালামের নৌকা জুটি পাহাড়ে নোঙর করেছিল বলে শোনা যায়। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় এ তথ্য পাওয়া যায়। এ হাদিসটিকেও দুর্বল বলা হয়েছে।

    >> হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম
    হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম আশুরার দিনে হয়েছে বলে এমনই বর্ণনা এসেছে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিবে। আদম আলাইহিস সালামের তাওবার সনদের মতো এ বর্ণনার সনদও দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক কথা ও ঘটনা। মূলত এসব কারণে আশুরার মর্যাদা ঘোষিত হয়নি। তবে বনি ইসরাইলের সে ঘটনাটি হাদিসের বর্ণনায় ওঠে এসেছে-

    হাদিসের বর্ণনায় আশুরার দিনের সুস্পষ্ট ঘটনা
    আশুরার দিনে দু’টি ঘটনা সুস্পষ্ট। তার একটি হলো হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাওমের মুক্তি আর অন্যটি হলো ফেরাউন সম্প্রদায়ের ধ্বংস।

    > হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তার সাথীরা ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা সমুদ্রের মধ্যে তাদের জন্য রাস্তা বানিয়ে দেন। যা দিয়ে তারা সমুদ্র পাড়ি দেন।
    > ফেরাউন ও তার বাহিনী মুসা আলাইহিস সালামের কাওমকে তাড়া করে সমুদ্রে তৈরি রাস্তা প্রবেশ করলে সে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। আর তাতে ডুবে ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়।

    এছাড়াও কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হুসাইনের শাহাদতও ঘটে এ আশুরার দিনে। বিশ্বব্যাপী মানুষ এ দিনটিকে যদিও কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্য সবেশি স্মরণ করে থাকে।

    মুলতঃ বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরায় নয় বরং মুহররম মাসে আমল করার কথা বলেছেন। আর আশুরায় রোজা রাখার কথাও বলেছেণ। হাদিসে এসেছে-
    এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা ও তাওবা ইসতিগফারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই মাসব্যাপী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

    তাওবা ও ইসতেগফারের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো কুরআন-হাদিসে বর্ণিত ইসতেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে পড়া। এ দোয়াগুলোর মাধ্যমে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

    উল্লেখ্য যে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ৯ মুহররম। সে হিসেবে যারা আশুরার দিন রোজা রাখতে চান তারা ৯ তারিখ সোমবার দিবাগত রাত রোজার উদ্দেশ্যে সাহরি খাবে। পরদিন মঙ্গলবার ১০ মুহররম রোজা পালন করবে। আর দিনভর আল্লাহ কাছে তাওবা-ইসতেগফার করবে। আর এ দোয়া বেশি বেশি পড়বে-

    اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত)

    বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করবে-
    رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
    উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

    > সব সময় ইসতেগফার পড়া-
    أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

    আর সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-
    أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার দিনসহ মুহররম মাস জুড়ে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।