Category: ধর্ম

  • মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর

    মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর

    দেশের আকাশে হিজরি ১৪৪১ সালের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আগামী রোববার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পবিত্র এ মাসের গণনা শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে পবিত্র আশুরা।

    শনিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

    পরে এক ঘোষণাপত্রে জানানো হয়, সভায় ১৪৪১ হিজরি সালের মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল, গাইবান্ধা, ঝালকাঠি, কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় মহররম মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ মিলেছে। তাই ১ সেপ্টেম্বর থেকে মহররম মাস গণনা শুরু এবং ১০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) আশুরা উদযাপন হবে।

    সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মুহররমকে যে কারণে আল্লাহর মাস বলা হয়

    মুহররমকে যে কারণে আল্লাহর মাস বলা হয়

    হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। কুরআনে সম্মানিত ৪ মাসের একটি। হাদিসে এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুহররম মাসব্যাপী নফল রোজা ও তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করার জোর উপদেশ দেয়া হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম)

    প্রতিটি দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর সবই মহান আল্লাহর। কিন্তু এ হাদিসে মুহররমকে আল্লাহ মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর কারণই বা কী?

    উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-
    দুনিয়ার সব মসজিদই ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। আবার কাবা শরিফও ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। কিন্তু কাবা শরিফের মর্যাদার তুলনায় দুনিয়ার সব মসজিদের মর্যাদা সমান নয়।

    ঠিক এভাবেই সব মাস আল্লাহর হলেও মুহররম মাসের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণেই এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে ঘোষণা করে আলাদা মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এ মাসের বিশেষ ফজিলতের সঙ্গে তাওবা বা ক্ষমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস বর্ণিত রয়েছে। আর তাহলো-

    এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি আমাকে কোন মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দেন? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    ‘তুমি যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহাররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। এদিনটিতে ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদ)

    ইসলামি স্কলারদের মতে, হাদিসে নির্দেশিত মুহররমের এ দিনটি হলো ১০ মুহররম বা আশুরার দিন। এ দিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেকে তাওবা কবুল করবেন।

    তবে শুধু মুহররমের দিনই তাওবা করতে হবে এমন নয়, বরং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম আমল হলো- প্রতিদিন একশত বার তাওবা করার আমল। তাই বছর মাস সপ্তাহের বিশেষ দিন বিবেচনা না করে মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিনই আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইসতেগফার করে থাকে।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, মহররমের নফল রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা। কুরআন-সুন্নায় এসেছে, এমন কিছু তাওবা-ইসতেগফার তুলে ধরা হলো, যেগুলোর অর্থ ও ভাব বুঝে মহান আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুমিন। আর তাহলো-

    رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
    উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

    > সব সময় ইসতেগফার পড়া-
    أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

    আর সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-
    أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

    মুসলিম উম্মাহর উচিত মুহররমমাস জুড়ে আল্লাহ ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজসহ তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করা। আশা করা যায়, আল্লাহর মাসের ইবাদত ও তাওবা-ইসতেগফার ধন্য হবে মুমিনের জীবন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুহররম মাসের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। তাওবা-ইসতেগফার, রোজা ও বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ব্যঙ্গ করার অভিযোগে তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলা

    ব্যঙ্গ করার অভিযোগে তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলা

    বহুল আলোচিত-সমালোচিত বক্তা ও ‘দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

    আজ  বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. ইব্রাহিম খলিল।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৮ ও ৩১ ধারায় মামলাটি হয়েছে।

    মামলার বাদী ইব্রাহিম খলিল বিবরণীতে লিখেছেন, আসামি একজন ভণ্ড। তিনি নিজেকে মুফতি দাবি করলেও ইসলাম সম্পর্কে তার জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ আছে। ওয়াজ মাহফিলে আসামি ভক্তদের দিয়ে নেচে গান গাওয়া শুরু করেন। তার ওয়াজে ইসলামকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে বলেও বাদী অভিযোগ করেন।

  • ঢেলে দেই বক্তা তাহেরী একজন ভণ্ড!

    ঢেলে দেই বক্তা তাহেরী একজন ভণ্ড!

    মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, আসামি একজন ভণ্ড। তিনি নিজেকে মুফতি দাবি করলেও ইসলাম সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ আছে। ওয়াজ-মাহফিলে আসামি ভক্তদের নিয়ে নেচে গান গাওয়া শুরু করেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড ইসলামে বিদআত বলে গণ্য। তিনি ইসলাম ধর্মের অপপ্রচারকারী, ভণ্ড ও প্রতারক।

    আজ রোববার ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আ স ম জগলুল হোসেনের আদালতে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল মামলার আরজিতে এসব অভিযোগ করেন।

    মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে করা মামলার আরজিতে বলা হয়, যেহেতু বাদী একজন বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক, পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অত্যন্ত শান্তশিষ্ট, সহজ-সরল, দেশপ্রেমিক, আইন মান্যকারী একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক বটে। অপরদিকে আসামি (তাহেরী) একজন ভণ্ড, প্রতারক, স্বার্থপর, ধর্ম ব্যঙ্গ প্রচারকারী।

    মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামি একজন ভণ্ড। তিনি নিজেকে মুফতি দাবি করলেও ইসলাম সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ আছে। ওয়াজ-মাহফিলে আসামি ভক্তদের নিয়ে নেচে গান গাওয়া শুরু করেন। যেহেতু পবিত্র কোরআনের বিধি-নিষেধ ও ইসলাম ধর্মের পথ প্রদর্শক হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম পরিচালিত হলেও ধর্মীয় কোনো গ্রন্থ আসামির ওয়াজ-মাহফিলের মধ্যে নাচ-গান সমর্থন করে না। ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি অনুযায়ী তাঁর কর্মকাণ্ড মুনাফিকের শামিল।

    আরজিতে বলা হয়, আসামি ইউটিউব চ্যানেলের লিংকের চার মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যেখানে আসামি একটি ওয়াজে বলেন, ‘ইউনিভার্সিটির কিছু মাইয়া আছে। হেরা মডেলিং করে তোয়ার কপালে বেহেশত নেই।’

    তাঁর এ বক্তব্য গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কে বেহেস্তে যাবে, কে যাবে না— সেটা একমাত্র ধর্ম অনুযায়ী আল্লাহই জানেন।

    আরজিতে আরো বলা হয়, আসামির করা অপর ভিডিওতে বলা হয়, একজন তাহাকে জিজ্ঞাসা করেন, বিড়ি খাওয়ার দোয়া কোনটা? তখন আসামি বক্তব্যে বলেন, ‘আল্লাহুম্মা বারেক লানা ফি মা বিড়ি টানা’ এ ধরনের কোনো দোয়া ইসলামের কোথাও বলা নেই। ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে ব্যঙ্গ ও অবমাননা করা হয়েছে।

    অপর ভিডিও লিংকে দেখা যায়, আসামি বলেছেন, ‘বসেন, বসেন বইসা যান। ঢেলে দেই।’ এ ধরনের সম্পূর্ণ অশ্লীল শব্দ ইসলাম ধর্মে উল্লেখ নেই। আসামি ওই লিংকের ভিডিওতে আরো বলেন, কিছু কিছু ইউটিবার ‘ধান্দাবাজ’ তিনি ‘চিশতীবিডি’ (chistybd) নামের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার আহ্বান জানান।

    আরজিতে উল্লেখ করা হয়, তাহেরীর এসব কর্মকাণ্ড ইসলামে বিদআত বলে গণ্য। তিনি ইসলাম ধর্মের অপপ্রচারকারী, ভণ্ড ও প্রতারক। ইউটিউব, ফেসবুকসহ তাঁর প্রচারিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, তিনি ওয়াজের মধ্যে নাচ-গান করেন। ইসলাম ধর্মে নাচ-গান হারাম হলেও তিনি ভক্তদের নিয়ে নাচছেন। একটি ভিডিওর লিংকে ১০-১২ জন ভক্তকে তাঁকে নিয়ে নাচতে দেখা যায়। যেহেতু আসামির (গিয়াস উদ্দিন তাহেরী) এসব কর্মকাণ্ড আসামি নিজে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে ইসলামের ধর্মীয় অনূভূতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত সৃষ্টি করেছেন। আসামির এসব ওয়াজ মাহফিলের নামে ভণ্ডামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইনে প্রচার করে ইসলাম ধর্মের মধ্যে ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং মানুষকে ধর্মীয় সঠিক শিক্ষা না দিয়ে ভুল বুঝিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর উপক্রম রয়েছে।

    আসামির এসব বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড ভাইরাল হয়ে আলোচনার জন্ম দেয়। আসামির এসব কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও মুসলিম সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় যথেষ্ট চাক্ষুষ ও দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণাদি রয়েছে। বাদী পরবর্তী সময়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করায় মামলায় কিছুটা বিলম্ব হয় বলে উল্লেখ করেন।

    এর আগে তাহেরীর ওয়াজের ভিডিও ভাইরাল হলে তাঁকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়। এ ছাড়া তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • যে ৩ আমলে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতে পাবে মুমিন

    যে ৩ আমলে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতে পাবে মুমিন

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট।’ সুতরাং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে ডান হাতে আমলনামা নিয়ে জান্নাতে যেতে হলে একনিষ্ঠতার সঙ্গে অল্প আমলের বিকল্প নেই।

    হাদিসে এমন ৩টি আমলের ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, যারা সহজ ৩টি আমল করবে তাদের জান্নাতে যাওয়া একেবারেই সহজ। বাধা হয়ে থাকবে শুধু মৃত্যু। আর তাহলো-

    >> সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত ‘সাইয়েদুল ইসতেগফার’ পড়া
    সাইয়েদুল ইসতেগফার আল্লাহর এত চমৎকার প্রশংসায় ভরপুর যে, যদিকেউ নিজের গোনাহ মাফের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়; আল্লাহ ওই ব্যক্তি ক্ষমা করে দেন। হাদিসে এসেছে-

    ‘কেউ যদি আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়ে। আর সেদিন সে মারা যায়, আল্লাহর ইচ্ছায় সে জান্নাতে যাবে।’ (বুখারি)

    আর তাহলো-
    أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’

    >> প্রতিদিন ‘সুরা মুলক’ এক বার পড়া
    কুরআনুল কারিমের ২৯তম পারার প্রথম সুরা এটি। এ সুরাটি প্রতিদিন একবার পড়লে মুমিনের জান্নাত সুনিশ্চিত। দৈনন্দিন আমলের সুরাগুলোর মধ্যে এটি একটি। যা প্রতিদিন ইশার নামাজের পর পড়া হয়।

    এ ছাড়াও যাদের সুরাটি মুখস্থ আছে, তারা চাইলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেই এ সুরাটি তেলাওয়াত করতে পারে। নামাজে সুরা মুলক-এর আয়াতগুলো বুঝে বুঝে তেলাওয়াত করলে অন্যরকম আবহ তৈরি হয়। নামাজে একনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

    এ সুরায় মহান আল্লাহর স্মরণ ও তার প্রতি ভয় সৃষ্টি হয় এবং নেক কাজের আগ্রহ বেড়ে যায়। সুরা মুলক পড়ার মাধ্যমে নামাজ আদায় করলে দিনব্যাপী অগণিত খারাপ কাজের মাঝে একটি ভালো কাজ করার অন্যরকম অনুভূতি পাওয়া যায়।

    সুরাটির নিয়মিত পাঠকারীকে কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা করবেন আল্লাহ তাআলা। কেয়ামতের দিন সুরা মুলক তার তেলাওয়াতকারীকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

    >> প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়া
    প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কুরআনুল কারিমের মর্যাদাপূর্ণ আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করা। এ আয়াতে বান্দা তাওহিদের শ্রেষ্ঠ ঘোষণাগুলো তেলাওয়াত করে।

    যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ে, ওই ব্যক্তি ও জান্নাতের মাঝে এতোটুকু দূরত্ব থাকে যে, সে যেন শুধুমাত্র মৃত্যুবরণ করছেনা বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছেনা।

    সুতরাং মুমিন বান্দার উচিত, সকাল-সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া। দিনের যে কোনো সময় সুরা মুলক পড়া এবং প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুনিশ্চিত জান্নাত লাভে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মানুষের প্রতিটি দিন ও রাত কাটবে যে কাজে

    মানুষের প্রতিটি দিন ও রাত কাটবে যে কাজে

    আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন মানুষের জন্যই নাজিল করা হয়েছে। কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে মানুষের কর্তব্য। আর এ কারণেই কুরআনের আলোচ্য বিষয়ও মানুষ।

    যাতে মানুষ কুরআনের আলোকে জীবন সাজাতে পারে। কুরআনের আলোকে প্রতিটি দিন ও রাত সাজাতে পারে। তাই কুরআন ও হাদিসের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী মুমিন তার প্রতিটি দিন ও রাত যে কাজে অতিবাহিত করবেন তার একটি তালিকা তুলে ধরা হলো-

    >> নিয়মিত ফরজ নামাজ আদায় করবে। সঙ্গে নফল নামাজের গুরুত্বও বেশি। তবে এর মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া সর্বোত্তম।
    >> বেশি বেশি কুরআন অধ্যয়ন ও আল্লাহর জিকির করবে।
    >> গরিব-দুঃখীর মাঝে দানের হাত প্রসারিত করে দেবে।
    >> আল্লাহর কাছে নিজের গোনাহের জন্য একনিষ্ঠ মনে অনুতাপসহ ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

    >> অযথা ফাহেশা তথা খারাপ কথা বলা থেকে বিরত থাকবে।
    >> প্রয়োজনের বেশি না ঘুমানো। অতিরিক্ত ঘুমের কারণে যাতে দিন ও রাতের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়। রিজিক অন্বেষণ ও নামাজ যেন ছুটে না যায়।
    >> রমজানের ফরজ রোজা পালনের পাশাপাশি সুন্নাত ও নফল রোজা পালন করবে। সম্ভব হলে প্রত্যেক সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখবে। অন্ততঃ প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩-১৫ তারিখের রোজা রাখবে। আশুরা, ইয়াওমে আরাফা, জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিনসহ শাবান মাসে নফল রোজা পালন করবে।
    >> খাবার গ্রহণে সুন্নাত নিয়মের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি। যাতে কোনো খাবার নষ্ট না হয় আবার নিজের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয়।
    >> কাজে কর্মে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা যেমন বেশি তেমিন তাড়াহুড়ো করায় ভুল ও ক্ষতির সম্ভাবনাও বেশি।

    >> উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও বিষন্নতা পরিহার করে শান্ত ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আবশ্যক। এসব অবস্থায় বিশ্বনবিরে শেখানো পন্থা ‘সবর ও দোয়া করা।
    >> প্রয়োজন ছাড়া গভীর রাত পর্যন্ত না জেগে থেকে সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়া এবং সম্ভব হলে মধ্য রাতের পর ওঠে নামাজ ও জিকিরে কিছু সময় অতিবাহিত করা।
    >> জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। ঘুম, খাবার গ্রহণ ও কাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
    >> জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিথ্যা পরিত্যাগ করা আবশ্যক। কেননা মিথ্যা সব পাপের উৎস।
    >> অর্থহীন তর্ক-বির্তক, হট্টগোল কোনোভাবেই করা যাবে না। যাতে নিজের ও অন্যের ক্ষতি হয়।

    >> জিনা-ব্যভিচার, লজ্জাহীনতা থেকে বেঁচে থাকা। কেননা এগুলো চরম ও নিকৃষ্ট অপরাধ।
    >> প্রতিটি কাজে প্রতিটি মূহূর্তে ন্যায়-নীতি বজায় রেখে কর্তব্যপরায়ন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখা একান্ত আবশ্যক।
    >> সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারির যথাযথ কদর করা। এ সব বিষয়ে অন্যায়ের সঙ্গে কোনো ভাবে আপোষ করা যাবে না।
    >> প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি যথাযথ মর্যাদা দেয়া এবং দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। তবে জবাবদিহিতামূলক সমাজ তৈরি হবে।
    >> জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি ক্ষমাশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা এবং সদয় হওয়া।
    >> সর্বোপরি ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি বিষয়ে সাধ্যমত সদয় অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা।

    উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথ পালন করতে পারলেই আসবে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের মুক্তি। তৈরি হবে সুন্দর সোনালী সমাজ। আল্লাহর কাছে প্রত্যেক বান্দাই হবেন পরম সম্মানিত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করে সুন্দর জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সাওয়াব লাভে নিয়ত যে কারণে জরুরি

    সাওয়াব লাভে নিয়ত যে কারণে জরুরি

    ছোট ছোট বিন্দু মিলে যেমন মহাসিন্ধু তৈরি হয় তেমনি ছোট ছোট আমলের দ্বারা সহজে আল্লাহর নেয়ামত লাভ হয়। মানুষ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এ নেয়ামত লাভ করে। তবে আল্লাহর এসব নেয়ামত লাভে নিয়ত ও তার বিশুদ্ধতা জরুরি।

    হাদিসে কুদসি প্রমাণ করে বহু আমলধারী লোক সারা জীবন আমল করা সত্বেও জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপিত হবে। যার কারণ হচ্ছে শুধুমাত্র নিয়তের বিশুদ্ধতার অভাব।

    নিয়ত বলতে আমরা কী বুঝি?
    নিয়ত হচ্ছে মনের ইচ্ছা বা সংকল্প। যা মানুষের মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। আর বিশুদ্ধ নিয়ত হচ্ছে কোনো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে সফলতা লাভ করা।

    তাই মুমিন বান্দা চাইলে তার ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সব কাজকেই নেকির কাজে পরিণত করতে পারে। ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিয়তের হাদিস দ্বারাই শুরু করেছেনবিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ বুখারি-
    হজরত আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লাইসি থেকে বর্ণিত, আমি হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় প্রত্যেক কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া অথবা কোনো মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে- তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে, যে জন্যে সে হিজরত করেছে। (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বলেন- ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কারো বাহ্যিক অবকাঠামো ও সম্পদের দিকে লক্ষ্য করেন না। আল্লাহ তার বান্দার অন্তরের দিকে এবং কর্মের দিকে লক্ষ্য করেন।’ (মুসলিম)

    হাদিসে কুদসি থেকে জানা যায়, যার নিয়ত নষ্ট তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত-
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয় কেয়ামতের দিন যে ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম ফয়সালা করা হবে, সে ব্যক্তি শহিদ। তাকে ডাকা হবে এবং তার ওপর আল্লাহর দেয়া নেয়ামতগুলো একে একে স্মরণ করানো হবে।
    অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি এসব নেয়ামত ভোগ করেছিলে? সে স্বীকার করে নিবে। বলবে, হ্যাঁ, এসব নেয়ামত আমি ভোগ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, ওই সব নেয়ামতের শোকরিয়ায় তুমি কী আমল করেছ?
    সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেছি।
    আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; তুমি তো এই জন্য লড়াই করেছ, যেন তোমাকে লোকে বীর বলে ডাকবে।দুনিয়াতে তো তা দেয়া হয়েছে।
    অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

    এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তিকে আনা হবে-
    যে নিজে ইলম শিখেছে, কুরআন পড়েছে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে। তাকেও পূর্ববর্তী ব্যক্তির মতো আল্লাহর নেয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে এবং সে তা স্বীকার করে নিবে।
    আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করবেন, এর প্রতিদানে তুমি কী আমল করেছ?
    সে বলবে, আমি তোমার জন্য ইলম শিখেছি, কুরআন পড়েছি এবং অপরকে শিখিয়েছি।
    আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি তো এই জন্য ইলম শিখেছ যাতে লোকে তোমাকে আলেম বলে, কুরআনের ক্বারি বলে। দুনিয়ায় তা তো বলা হয়েছে।
    অতঃপর তাকে আল্লাহর নির্দেশে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

    এরপর তৃতীয় ব্যক্তিকে আনা হবে-
    যাকে আল্লাহ তায়ালা স্বচ্ছলতা দিয়েছেন ও সর্বপ্রকার সম্পদ দান করেছেন,। তাকে আল্লাহর নেয়ামতের কথা জানানো হবে, সে তা স্বীকার করবে।
    আল্লাহ বলবেন, তুমি, এর প্রতিদানে কী আমল করেছ?
    সে বলবে, যেখানে খরচ করা আপনি পছন্দ করেন, এমন কোনো খাত বাকি নেই, যেখানে আমি খরচ করিনি।
    আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি তা করেছ যেন লোকে তোমাকে দানবীর বলে। অতএব তোমাকে দানশীল বলা হয়েছে।
    অতঃপর তার ব্যাপারে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হবে। তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম ও নাসাঈ)।

    নিয়তের বিশুদ্ধতা ও মর্যাদায় হাদিসের ঘোষণা
    হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বলেন- আমার বান্দা যখন কোনো পাপ করার ইচ্ছা করে, তখন তোমরা তা লিখ না, যতক্ষণ না সে তা করে। যদি সে তা করে তবে সমান পাপ লিখ। আর যদি সে তা আমার কারণে (আল্লাহর ভয়ে অন্যায়) ত্যাগ করে, তাহলে তার জন্য তা নেকি হিসাবে লিখ।
    আর যদি সে নেকি (ভালো কাজ) করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা সে করেনি, তার জন্য তা নেকি হিসাবে লিখ। অতপর যদি সে তা (কাজটি) করে তাহলে তার জন্য তা দশগুণ থেকে সাত শ’ গুণ পর্যন্ত লিখ। (বুখারি, মুসলিম)

    উল্লেখিত হাদিসের আলোকে এ কথা সুস্পষ্ট যে-
    যে কানো ভালো কাজের নিয়ত করার সঙ্গে সঙ্গেই সাওয়াব শুরু হয়ে যায়। আবার কাজ ভালো কিন্তু নিয়ত বিশুদ্ধ নয়, তবে সে কাজেও সফলতা আসবে না বরং তাকে কঠিন জাহান্নামে নিক্ষেপ হতে হবে।

    সুতরাং মানুষের উচিত প্রথমে নিয়ত ঠিক করা। অতঃপর আমল করা। যদি নিয়ত ঠিক হয় তবে আমলও পাওয়া যাবে পরিপূর্ণ। আর যদি নিয়ত ঠিক না হয় তবে ভালো কাজেও সাওয়াব পাওয়া যাবে না বরং তার জন্য জাহান্নামের আজাব সুনিশ্চিত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়ত বিশুদ্ধ করার তাওফিক দান করুন। পরিশুদ্ধ নিয়ত ব্যতিত ভালো কাজ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। যে কোনো ভালো কাজের নিয়তের ওপর যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার তাওফিক দান করুন। নিয়ত শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জুমআর দিন যে আমল করবেন মুমিন

    জুমআর দিন যে আমল করবেন মুমিন

    ইয়াওমুল জুমআকে গরিবের হজের দিন বলা হয়। মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সেরা বিশেষ ইবাদতের দিন এটি। জুমআর দিনে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও আমল। এ সব আমলের রয়েছে অসামান্য ফজিলত ও মর্যাদা।

    জুমআর দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত, মনোযোগসহ ইমামের খোতবা শোনা, দরূদ পাঠ করা এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে অতিবাহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি।

    >> সুরা কাহফ তেলাওয়াত
    জুমআর দিনের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। তা হোক জুমআর আগে অথবা পরে। যারা এ দিনের সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে কেয়ামতের দিন তা পাঠকারীর জন্য আসমানসহ নূরে পরিণত হবে। হাদিসে এসেছে-

    – হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত নূর হবে।

    – হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরণের ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জালও বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে।

    – অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত তার সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। তবে উল্লিখিত গোনাহ মাফ হওয়ার দ্বারা ছোট গোনাহ উদ্দেশ্য। কারণ ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য যে, কবিরা গোনাহ তওবাহ করা ছাড়া মাফ হয় না।’

    >> জুমআর দিনের বেশি বেশি দরূদ পড়া
    হজরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সবদিন অপেক্ষা জুমআর দিনটিই হলো শ্রেষ্ঠ। এ দিনে হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই বিশ্ব ধ্বংসের জন্য শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং এ দিনের পুনর্জীবিত করার জন্য দ্বিতীয়বার ফুঁক দেয়া হবে। আর এ দিন তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর।
    তোমাদের দরূদ নিশ্চয় আমার কাছে উপস্থিত করা হবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দরূদ আপনার কাছে কেমন করে উপস্থিত করা হবে অথচ আপনি তখন মাটি হয়ে যাবেন?

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‌আল্লাহ তাআলা নবিদের শরীর জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকি)

    >> আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ইবাদত করা
    জুমআর দিন দোয়া কবুলের জন্য একটি সময় আছে, যখন বান্দার কোনো দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। যাদুল মাআদ গ্রন্থে এসেছে, ‘এ মর্যাদাবান মুহূর্তটি হলো- জুমআর দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর (মাগরিব পর্যন্ত)।’

    এ মতে পক্ষে একটি দীর্ঘ হাদিস রয়েছে। জুমআর দিন সূর্য উদয় হওয়ার পর (দুনিয়ায়) মানুষ এবং জিন ব্যতিত প্রত্যেক প্রাণীই কেয়ামতের ভয়ে আতংকিত থাকে। জুমআর দিনে এমন একটি বরকতময় সময় আছে, যাতে মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে তা দান করবেন-

    কা’ব বিন মালিক এ হাদিসের বর্ণনাকারী হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, এটি কি প্রত্যেক বছরে হয়ে থাকে?

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, বরং তা (এ সময়টি) প্রত্যেক জুমআতেই রয়েছে। অতঃপর কা’ব বিন মালিক তাওরাত (কিতাব) খুলে পাঠ করলেন এবং বললেন, আল্লাহর রাসুল সত্য বলেছেন।
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, অতঃপর আমি (তাওরাত কিতাবের পারদর্শী) হজরত আব্দুল্লাহ বিন সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। এবং তাঁকে কা’ব বিন মালিকের সঙ্গে আমার বৈঠকের কথা জানাই। তখন তিনি (হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম) বললেন, আমি সেই সময়টি সম্পর্কেও অবগত আছি।
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছ থেকে সেই সময়টি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বলেন-‘এটি (দোয়া কবুলের সেই সময়টি) হচ্ছে জুমআর দিনের শেষ মুহূর্ত।’

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কি করে সম্ভব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো বলেছেন, ‘মুসলিম বান্দা তখন নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তাকে তা-ই দান করবেন।’

    আর (জুমআর) দিনের শেষ মুহূর্তের সময়টিতে নামাজ পড়া বৈধ নয় (আসর নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামায পড়া নিষিদ্ধ)। সুতরাং উহা তো নামাজের সময় নয়।
    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম তখন বললেন-

    ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেন নি যে ব্যক্তি কোনো মজলিসে বসে নামাজের অপেক্ষায় থাকে সে ব্যক্তি নামাজ পড়া (নামাজের ওয়াক্ত হওয়া) পর্যন্ত নামাজেই মশগুল থাকে?

    মুসলিম উম্মাহর জন্য জুমআর দিন যেহেতু ইবাদত-বন্দেগির দিন হিসেবে সাব্যস্ত; তাই জুমআর দিন আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করাই হবে সব মুসলমানের একান্ত কাজ। আর উল্লেখিত বিশেষ আমলগুলো জুমআর দিনের জন্য সুনির্ধারিত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিনে সুরা কাহফ পড়ার, ইমামের খোতবা শোনার এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে বেশি বেশি দরূদ ও ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ‘ঢেলে দেই’ ট্রল নিয়ে তাহেরীর মন্তব্য

    ‘ঢেলে দেই’ ট্রল নিয়ে তাহেরীর মন্তব্য

    কেউ কথা কইয়েন না, একটু চা খাব? খাই একটু? আপনারা খাবেন? ঢেলে দেই? (মুচকি হেসে আবারও) ঢেলে দেই? … ‘ভাই পরিবেশটা সুন্দর না? কোনো হইচই আছে? আমি কি কাউকে গালি দিয়েছি? কারোর বিরুদ্ধে বলতেছি? এরপরও সকালে একদল লোক বলবে, তাহেরী বালা (ভালো) না।’

    বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বক্তব্যের ভিডিওগুলো রীতিমতো ভাইরাল।

    চলতি মাসের ১৮ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত গুগলে ‘ঢেলে দেই’ শব্দ দুটি সার্চ করেছেন প্রায় শতভাগ বাংলাদেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত এ শব্দ দুটির বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী।

    তবে তাহেরী বললেন ভিন্ন কথা। বলেন, ‘হিংসা-প্রতিহিংসা থেকে অনেকে আমার বক্তব্য কাট করে ট্রল করছে’।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অশ্লীল আচারভঙ্গি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তাহেরী বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিল নিয়ে সমালোচনা দু-একজন করতেই পারেন। কিন্তু আমার গ্রহণযোগ্য আলোচনার বিষয়গুলো নিয়েই তো আপনারা প্রচার করবেন। যারা ওয়াজ মাহফিল থেকে শব্দ কাট করে আমাকে সমালোচনার পাত্র হওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন, আপনারা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যান।’

    ওয়াজে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরদারির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কাউকে নজরদারিতে রাখতে পারে। এতে আমি বিচলিত নই।’

    তার কয়েকটি ওয়াজের ভিডিওতে অশ্লীল আচারণভঙ্গি, জিকিরের মাঝে গান-নাচ থাকা নিয়েও সমালোচনা হয়। গত বছরের মাঝামাঝি এক ওয়াজ মাহফিলে জিকিরের সময়, ‘বসেন বসেন, বসে যান’ উদ্ধৃতিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হয়।

    সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের একটি জেলায় ওয়াজ মাহফিলে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ‘পোলাতো নয় সে যে আগুনের গোলা রে’ গানটি নেচে-গেয়ে উপস্থাপন করায় ইসলামী আলোচকদের সমালোচনার মুখে পড়েন তাহেরী।

    ওয়াজ মাহফিলে নাচ ও গানের বিষয়ে ওই সময় তিনি বলেন, ‘এটা গান না। এগুলো করে আমি পোলাপাইনদের কৌশলে লাইনে আনি।’

    ওয়াজে অশ্লীলতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, যেকোনো ওয়াজ ও ওয়াজের বক্তাকে আমরা নিয়মিত ফলোআপ করি। আমাদের সাইবার সেল এ নিয়ে কাজ করছে। তারা রিপোর্ট করলে তার (তাহেরী) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জিকিরের সময় নেচে-গেয়ে ‘বসেন বসেন, বইসা যান’ বলায় সমালোচিত হন তাহেরী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে তৈরি হয় নানা ট্রল ও ভিডিও। এরপর কিছুদিন ওয়াজ বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ফের আলোচনায় এলেন এই বক্তা। কিন্তু কে এই তাহেরী? তার পরিচয়ই বা কি?

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাহেরী নামেই তিনি পরিচিত। তার পারিবারিক ইতিহাস ও বংশগত পরিচয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তবে তিনি তর্ক বিতর্কের মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে। যদিও তিনি তার সম্পর্কে বিতর্কের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে নাচ করার যে অভিযোগ রয়েছে তাকে তিনি ক্যামেরার কারসাজি বলে উল্লেখ করেছেন।

    স্থানীয়দের মধ্যে তাহেরীকে নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী একজন লাল পাগড়ি ও লাল আলখেল্লা পরিহিত পীর। রায়পুরার মাস্তানগঞ্জ নামক একটি মহল্লায় খাজা বাবার দরবার নাম দিয়ে এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি আস্তানা গড়ে তুলেছেন তিনি। এ আস্তানায় সার্বক্ষণিক বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আড্ডা চলে। নারী পুরুষের একত্রে নাচানাচি করার অভিযোগও রয়েছে এই আস্তানায়। তবে ঘটনার সত্যতা কতটুকু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ২০১৩ সালে নরসিংদীতে গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর ওয়াজে তাবলীগের লোকদের কাফের বলে গালাগাল, আলেম-ওলামা সম্পর্কে এবং শরীয়তের পীর-মাশায়েকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য নিয়ে রায়পুরার অলিপুরা শাহেরচর ও বড়চর গ্রামে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশত শটগানের ফাঁকা গুলি ও ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনায় একটি মামলাও হয়।

    গণমাধ্যমগুলো বলছে, গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী তার বক্তৃতায় তাবলীগের লোকদের কাফের বলে গালাগাল করে এবং আলেম ওলামা সম্পর্কে ও শরীয়তের পীর মাশায়েকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে। গত ১৫ জানুয়ারি নরসিংদীতে স্থানীয় ছাদেক চেয়ারম্যান ও এলাহী মেম্বার মিলে অলিপুরা গ্রামে গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরীকে প্রধান বক্তা করে এক জলসার ঘোষণা দিলে এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারা আত তাহেরীর আগমন বন্দের দাবিতে মিছিল করে রায়পুরা প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়।

    গত ২৫ আগস্ট কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার বিচারের দাবিতে ভৈরবে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এই মানববন্ধনেই সর্বশেষ অংশ নিতে দেখা যায় তাহেরীকে।

  • ঈমানি মৃত্যু লাভে বিশ্বনবি নিয়মিত যে দোয়া পড়তেন

    ঈমানি মৃত্যু লাভে বিশ্বনবি নিয়মিত যে দোয়া পড়তেন

    ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’- বহুকাল আগে থেকেই এ প্রবাদ বাক্য প্রচলিত রয়েছে সমাজে। হ্যাঁ, কোনো ব্যক্তির শেষ কাজটি যদি ভালো হয় তবে সে ব্যক্তি সফল। কেননা কাজের শেষেই মানুষ ফলাফল লাভ করে।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় এমন একটি দোয়া পড়তেন, যে দোয়ায় রয়েছে সব কাজের শেষে ভালো ও সুন্দর ফলাফল লাভের আবেদন।

    মুমিন মুসলমানের অন্তরের চুড়ান্ত চাওয়া-পাওয়া হলো ভালো ও উত্তম মৃত্যু লাভ করা। আর প্রত্যেকের উচিত ভালো ও সুন্দর ঈমানি মৃত্যু কামনা করা।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভালো ও সুন্দর মৃত্যুর জন্য কখনো এ দোয়া করতে ভুলতেন না। আর তাহলো-

    اَللَّهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِيْ الْأُمُورِ كُلِّهَا، وَأجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الآخِرَةِ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আহসিন আক্বিবাতানা ফিল উমুরি কুল্লিহা ওয়া আঝিরনা মিন খিযয়িদ দুনইয়া ওয়া আজাবিল আখিরাহ।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের সব কাজের শেষ ফল সুন্দর করুন এবং আমাদেরকে দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও কবরের আজাব থেকে মুক্ত রাখুন।’ (মুসনাদে আহমদ)

    এ দোয়াটি অনেক ব্যাপক। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্দর ও উত্তম তথা ঈমানি মৃত্যু লাভের জন্য এ দেয়াটি সব সময় পড়তেন।

    সুতরাং মুমিন ব্যক্তি সব সময় এ দোয়া পড়লে শুধু উত্তম ঈমানি মৃত্যুই নয়, বরং সব কাজের শেষই হবে তার জন্য উত্তম ও কল্যাণকর।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি কাজের শেষ ফল সুন্দর করতে সব সময় এ দোয়াটি পড়ার তাওফিক দান করুন। এ দোয়ার বরকতে ঈমানি মৃত্যু দান করুন। আমিন।