Category: ধর্ম

  • ইসলামে যে কারনে মদ ও জুয়াকে হারাম করেছেন

    ইসলামে যে কারনে মদ ও জুয়াকে হারাম করেছেন

    ইসলাম ডেস্ক:

    আদীযুগ  থেকে বিশ্ব মানবতার জন্য ‘এলকোহল’ তীব্র যন্ত্রনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। মদ অসংখ্য অগনীত মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ এবং বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি মানুষের ভয়ঙ্কর দুর্দশার কারণ। মানুষের সমাজে অসংখ্য সমস্যার মধ্যে আসল হল এই ‘এলকোহল’ বা মদ।

    আল্লাহ বলেন হে ঈমান গ্রহণকারী লোকেরা । মদ ও জুয়া, পাশা খেলা, তীর ছুঁড়ে ভাগ্র জানা এগুলো শয়তানের নিকৃষ্ট ধরনের জঘন্য কারসাজি। এসব পরিহার করো যেন তোমরা উন্নত মানবতার পথে এগিয়ে আসতে পারো।

    মদ কাকে বলে –

    হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে প্রতিটি মাতাল করে দেয়া বস্তুই হচ্ছে মদ। আর প্রতিটি মদই হারাম।

    মদখোরের দুনিয়াবী শাস্তি –

    হযরত আনাস বিন মালেক রাঃ থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে মাদ পান করা এক ব্যক্তি আসল। তখন তাকে খেজুর গাছের দু’টি ডাল দিয়ে চল্লিশ বেত্রাঘাত করা হয়।[এক বেতে চল্লিশ হলে, দুই বেতের দ্বারা হচ্ছে আশি ।  একই পদ্ধতিতে আবু বকর রাঃ ও এ অপরাধের শাস্তি দিতেন।

    যখন হযরত উমর রাঃ এর সময় আসল। তিনি লোকদের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন। তখন আব্দুর রহমান পরামর্শ দিলেন যে, কমপক্ষে আশি বেত্রাঘাত। দুই ডাল একসাথে নয়, বরং আলাদা করে আশিটি তখন হযরত উমর রাঃ আশিটি বেত্রা ঘাতের হুকুম দিলেন।

    মদপানের আখেরাতে শাস্তি –

    ইবনু উমার (রাঃ) বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন – মদ,  পানকারী, পরিবেশনকারী  ক্রেতা ,বিক্রেতা,, উৎপাদক ও সেবনকারী, উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী এবং যার জন্য সরবরাহ করা হয়- এদের সকলকে আল্লাহ লা‘নত ঘোষনা করেছেন।

  • আমল-ইবাদত ও দোয়া কবুলে যা করবে মুমিন

    আমল-ইবাদত ও দোয়া কবুলে যা করবে মুমিন

    মানুষের সব চাওয়া বা আবেদনই হতে হবে মহান আল্লাহর দরবারে। এমনকি কারো জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও তা চাইতে হবে আল্লাহর কাছে। এভাবে বলতে হবে- ছিঁড়ে যাওয়া ফিতা মেরামতের ব্যবস্থা করে দাও হে প্রভু! কেননা তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই দান করেন।

    মানুষ অনেক নেক উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন নিয়েই আল্লাহর কাছে আমল ইবাদত ও দোয়া করে। কোথাও যখন কোনো সমাধান নেই তখনও মানুষ আল্লাহর কাছেই ধরণা দেয়। সে কারণে মানুষের চাওয়া বা আবদনগুলোর পরিপূর্ণতার জন্য একনিষ্ঠ হওয়ার বিকল্প নেই।

    মানুষ এসব আমল ইবাদত ও দোয়া করার ক্ষেত্রেও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। যা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। আল্লাহ তাআলা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন-

    ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়। অথচ তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করতে সক্ষম। যখন তারা নামাজে দাঁড়ায়, তখন আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় যে তারা নামাজ আদায় করছে, কিন্তু আল্লাহকে তারা কমই স্মরণ করে।’ (সুরা নেসা : আয়াত ১৪২)

    যখন কোনো মানুষ অলসতা করে গুরুত্বহীনভাবে নামাজে দাঁড়ায়, তার এ নামাজ আল্লাহর দরবারে কতটুকু কবুল হবে?

    এমনিভাবে মানুষ অলসতার সঙ্গে গুরুত্ব না দিয়ে লোক দেখানো কান্নাকাটি, রোনাজারি করে আমল-ইবাদত ও দোয়া করলে তা কী কবুল হবে? এক্ষত্রে কুরআন সুন্নাহর নির্দেশনা হচ্ছে-

    আমল-ইবাদত ও দোয়া হতে হবে রিয়া বা লৌকিকতামুক্ত। যেখানে লোক দেখানো ইবাদত-বন্দেগির কোনো স্থান নেই। যে ইবাদতে অলসতা আছে, লোক দেখানোর প্রবণতা আছে, সে রিয়া বা লৌকিকতাপূর্ণ ইবাদতে শিরকের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়।

    হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার (এ কাজের) বদলে (কেয়ামতের দিন) শুনিয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার (কাজের) বদলা তাকে (কেয়ামতের দিন) দেখিয়ে দেবেন।’ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন এসব ব্যক্তিকে মানুষের সামনে অপমানিত করবেন ও কঠোর শাস্তি দেবেন।

    আবার অনেকে আছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি মানুষের সন্তুষ্টি কিংবা বাহবা পাওয়ার আশাও পোষণ করে তাদের ব্যাপারেও হাদিসে কুদসিতে ধ্বংসের সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন,

    ‘আমি অংশীদারিতা (শিরক) থেকে সব অংশীদারের তুলনায় বেশি মুখাপেক্ষীহীন। যে কেউ কোনো আমল করে এবং তাতে অন্যকে আমার সঙ্গ শরিক করে, আমি তাকে এবং তার আমলকে (উভয়কেই) বর্জন করি।’

    সুতরাং মুমিন বান্দাকে সতর্ক থাকতে হবে-

    আমল-ইবাদত-দোয়াসহ বান্দার যে কোজ, যত ছোটই হোক না কেন, তার করার আগে সাহায্য চাইতে হবে আল্লাহর। আর এ সাহায্যের মধ্যে কোনো অলসতা, গুরুত্বহীনতা কিংবা লোক দেখানো মানসিকতা, রিয়া বা লৌকিকতা থাকবে না।

    যখনই মানুষের মাঝে লোক দেখানো মানসিকতা থাকবে না। তখনই মুমিন বান্দার সব আমল-ইবাদত ও দোয়া মহান আল্লাহর কাছে কবুল হবে।

    শুধু তা-ই নয়,

    কোনো বান্দা যদি শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো আমল শুরু করে এবং পরবর্তীতে তার মধ্যে যদি লোক দেখানো ভাব জাগ্রত হয় এবং সে জাগ্রত হওয়া ভাবকে সে ঘৃণা করে, তা থেকে সরে আসতে চেষ্টা করে। তবে তার ওই আমল-ইবাদত ও দোয়া পরিশুদ্ধ হবে।

    আর যদি লোক দেখানো ভাব জাগ্রত হওয়ার পর তা থেকে ফিরে না আসে বরং এ ভাব মনে জাগ্রত হওয়ার জন্য মনে প্রশান্তি ও আনন্দ পায় তবে ওই ব্যক্তির আমল-ইবাদত ও দোয়া বরবাদ হয়ে যাবে।

    তাই আল্লাহর সাহায্য লাভে বার বার এ দোয়া করা-

    رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ، رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ، اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মাআল আবরার, রাব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়াআত্তানা আলা রুসুলিকা ওয়া লা তুখযিনা ইয়ামাল ক্বিয়ামাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ। (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩-১৯৪)

    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমাদের মন্দসমূহ মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, আপনি যার প্রতিশ্রুতি আপনার রাসুলদের মাধ্যমে আমাদের দিয়েছেন। আমাদের কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতি বিপরীত করেন না।’

    يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّت قَلْبِىْ عَلَى دِيْنِكَ
    উচ্চারণ : ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত কালবি আলা দিনিকা।’
    অর্থ : ‘হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখ।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

    মনে জাগ্রত হওয়া কুচিন্তার দিকে ধ্যান বা খেয়াল না দিয়ে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া-

    رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيّ، إِنّكَ أَنْتَ التّوّابُ الرّحِيمُ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’ (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)
    অর্থ : ‘হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী, দয়াময়।’

    আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে আমল-ইবাদত ও দোয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই তার ওপর ভরসা করার বা ধরণা দেয়ার তাওফিক দান করুন। লোক দেখানো ইবাদত কিংবা আমল-ইবাদতে অলসতা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশালে শারদীয় দুর্গপূজা উপলক্ষে মন্ডপগুলোতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি

    বরিশালে শারদীয় দুর্গপূজা উপলক্ষে মন্ডপগুলোতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি

     স্টাফ রিপোর্টার:

    ৩ দিন পরেই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে মন্ডপগুলো চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। সারাদেশের মতো বরিশালজুড়েও চলছে দুর্গোৎসবের আয়োজন। প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি এ মুহূর্তে চলছে মন্ডপ ও মন্দির ঘিরে সাজসজ্জার কাজ।

    পঞ্জিকা মতে গতকাল মহালয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্ত্যলোকে দেবীর আগমনী বার্তা বেজে উঠেছে। আগামী ৩ অক্টোবর দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা, ৫ অক্টোবর সপ্তমী পূজা, ৬ অক্টোবর মহাষ্টমী পূজা, ৭ অক্টোবর মাহনবমী পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। এদিকে বরিশাল নগরীর বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে ব্যস্ততার চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এসব মন্ডপের বেশির ভাগেরই মাটির কাজ শেষে চলছে রংয়ের কাজ। তবে বড় বড় ম-পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিযোগিতামূলক বড় তোরণ নির্মাণসহ সাজসজ্জার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে।
    বরিশালের সর্ববৃহৎ পূজামন্ডপ শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কিশোর দে বলেন, পূজার আয়োজনে কোনো কমতি রাখতে চাচ্ছেন না। তাই বিগত দিনের থেকে এবারে একটু ব্যতিক্রম আয়োজন করতে যাচ্ছেন তারা। আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে আসছে পরিবর্তন।

    কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমরা বরিশালের সব থেকে বড় তোরণ নির্মাণ করছি। প্রতিমা তৈরিতেও নতুন নকশা আনা হয়েছে।আশা করছি, দুর্গাপূজায় আমাদের এ বৃহৎ পূজামন্ডপে কোনো কিছুরই ঘাটতি থাকবে না। এদিকে নগরীর পাষাণময়ী কালীমাতার মন্দিরে এবারও পুকুরের মধ্যে মন্ডপ তৈরি করা হয়েছে।

    এখানে সাজসজ্জায় প্রতিবারের মতো থাকছে ভিন্নতা। দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিৎ দত্ত লিটু বলেন, এবার আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কয়েকদিন পরেই শহর উৎসবের আলোকসজ্জায় মুখরিত হয়ে উঠবে। এদিকে আগৈলঝাড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এবারও আগৈলঝাড়ার ১৫৪টি পূজামন্ডপে চলছে আয়োজন।
    তবে এ বছরই আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছে একশ’ হাতের নির্মিত দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার প্রতিমা। উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের জলিরপাড় গ্রামের বাসুদেব ওঝার বাড়ির সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে নির্মাণ করা হয়েছে একশ’ হাতের ব্যতিক্রমী দেবী দুর্গার প্রতিমা।

    উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশি পূজা আগৈলঝাড়ায় অনুষ্ঠিত হলেও একশ’ হাতের ব্যতিক্রমী দুর্গা প্রতিমা এ প্রথম নির্মাণ করা হয়েছে।

  • আমি কী বলি আর কোরআন কী বলে

    আমি কী বলি আর কোরআন কী বলে

    ইসলাম ডেস্ক:

    আমি বলি, ‘আমি ব্যর্থ’

    কোরআন বলে, ‘অবশ্যই বিশ্বাসীরা সফল হয়।’

    (সুরা : মুমিনুল, আয়াত : ১)

    আমি বলি, ‘আমার জীবনে অনেক কষ্ট।’
    কোরআন বলে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে আছে স্বস্তি।’

    (সুরা : ইরশিরাহ, আয়াত : ৬)

    আমি বলি, ‘আমাকে কেউ সাহায্য করে না।’
    কোরআন বলে, ‘…মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।’

    (সুরা : রুম, আয়াত : ৪৭)

    আমি বলি, ‘আমি দেখতে খুবই কুৎসিত।’
    কোরআন বলে, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে।’ (সুরা : ত্বিন, আয়াত : ৪)

    আমি বলি, ‘আমার সঙ্গে কেউ নেই।’
    কোরআন বলে, ‘তোমরা ভয় কোরো না, আমি (আল্লাহ) তো তোমাদের সঙ্গে আছি। আমি শুনি এবং আমি দেখি।’

    (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৬)

    আমি বলি, ‘আমার পাপ অনেক বেশি।’
    কোরআন বলে, ‘…নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

    আমি বলি, ‘আমি সব সময় অসুস্থ থাকি।’
    কোরআন বলে, ‘আমি (আল্লাহ) কোরআন অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত…।’

    (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮২)

    আমি বলি, ‘কোনো কিছু আমার ভালো লাগে না।’
    কোরআন বলে, ‘তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে শ্রেয়।’ (সুরা : দুহা, আয়াত : ৫)

    আমি বলি, ‘বিজয় অনেক দূরে।’
    কোরআন বলে, ‘…জেনে রেখো, অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য নিকটে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২১৪)

    আমি বলি, ‘আমার জীবনে কোনো খুশি নেই।’
    কোরআন বলে, ‘শিগগির তোমার রব তোমাকে (এত) দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে।’ (সুরা : দুহা, আয়াত : ৫)

    আমি বলি, ‘আমি সব সময় হতাশ।’
    কোরআন বলে, ‘আর তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখিতও হয়ো না। তোমরাই বিজয়ী, যদি তোমরা মুমিন হও।’

    (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৯)

    আমি বলি, ‘আমার কোনো পরিকল্পনা সফল হয় না।’
    কোরআন বলে, ‘…আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৫৪)

    আমি বলি, ‘আমার কেউ নেই।’
    কোরআন বলে, ‘…যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট…।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৩)

  • দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুত বরিশালের মণ্ডপগুলো: চলছে সাজসজ্জার কাজ

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুত বরিশালের মণ্ডপগুলো: চলছে সাজসজ্জার কাজ

    অনলাইন ডেস্ক ::

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশালের মণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জার কাজ । বরিশালজুড়েই চলছে দুর্গোৎসবের আয়োজন। প্রতিমা নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ মুহূর্তে চলছে মণ্ডপ ও মন্দির ঘিরে সাজসজ্জার কাজ।

    পঞ্জিকা মতে, শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্তলোকে দেবীর আগমনী বার্তা বেজে ওঠবে। আগামী ৩ অক্টোবর দেবী দুর্গার বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া দুর্গোৎসব ৮ অক্টোবর প্রতিম বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে।

    এদিকে, বরিশাল শহরের বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে ব্যস্ততার চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এসব মণ্ডপের বেশির ভাগেরই মাটির কাজ শেষে চলছে রংয়ের কাজ। তবে বড় বড় মণ্ডপগুলো ঘিরে দেখা গেছে, প্রতিযোগিতামূলক বড় তোরণ নির্মাণসহ সাজসজ্জার কাজ করতে।

    বরিশালের সর্ববৃহৎ পূজামণ্ডপ শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কিশোর দে বলেন, পূজার আয়োজনে কোনো কমতি রাখতে চাচ্ছেন না। তাই বিগত দিন থেকে এবারে একটু ব্যতিক্রম আয়োজন করতে যাচ্ছেন তারা। আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে আসছে পরিবর্তন।

    কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু বলেন, প্রতিবারের মত এবারও আমরা বরিশালের সব থেকে বড় তোরণ নির্মাণ করছি। প্রতিমা তৈরিতেও নতুন নকশা আনা হয়েছে। আশা করছি, দুর্গাপূজায় আমাদের এ বৃহৎ পূজামণ্ডপে কোনো কিছুরই ঘাটতি থাকবে না।

    এদিকে, শহরের পাষনময়ী কালিমাতার মন্দিরে এবারও পুকুরের মধ্যে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। এখানে সাজসজ্জায় প্রতিবারের মত থাকছে ভিন্নতা

    দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিৎ দত্ত লিটু বলেন, এবার আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কয়েকদিন পরেই শহর উৎসবের আলোকসজ্জায় মুখরিত হয়ে ওঠবে।

    এদিকে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এবারও আগৈলঝাড়ার ১৫৪টি পূজামণ্ডপে চলছে আয়োজন। তবে এ বছরই আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছে একশ’ হাতের নির্মিত দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার প্রতিমা। উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের জলিরপাড় গ্রামের বাসুদেব ওঝার বাড়ির সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে নির্মাণ করা হয়েছে একশ’ হাতের ব্যতিক্রমী দেবী দুর্গার প্রতিমা।

    উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশি পূজা আগৈলঝাড়ায় অনুষ্ঠিত হলেও একশ’ হাতের ব্যতিক্রমী দুর্গা প্রতিমা এ প্রথম নির্মাণ করা হয়েছে।

    শত হাতের দেবী দুর্গার নির্মাণ শিল্পী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ এলাকার ছন্টু বাউরী বলেন, বংশ পরম্পরায় তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। বাসুদেব ওঝার বাড়িতে ২০ দিন কাজ করে একশ’ হাতের দুর্গা প্রতিমার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন।

    আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলায় প্রতি পূজামণ্ডপে পাঁচশ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

  • ধোকা যে কারণে মারাত্মক অপরাধ

    ধোকা যে কারণে মারাত্মক অপরাধ

    ধোকা বা প্রতারণা করা মারাত্মক অপরাধ। চাই এ ধোকা ছোট কিংবা বড় মানুষের সঙ্গে হোক কিংবা বন্য পশুর সঙ্গে হোক। ইসলামে ধোকাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    ধোকাকে হারাম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সে ঘোষণা- তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ধোকা দেয় বা প্রতারণা করে সে আমার দলভূক্ত নয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিন্তু এ কথা বলেননি- যে নামাজ পড়বে না সে আমার দলভূক্ত নয় কিংবা যে রোজা রাখবে না সে আমার দলভূক্ত নয়। অথচ নামাজ ও রোজা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যা তরক করলে অনেক গোনাহ হওয়া সত্ত্বেও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘দলভূক্ত নয়’ বলে ঘোষণা দেননি।

    সুতরাং মানুষের উচিত, ধোকা বা প্রতারণা থেকে বিরত থাকা। কেননা ধোকা বা প্রতারণার দ্বারা মানুষ বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামাআত থেকে বের হয়ে যায়।

    এছাড়াও ধোকা বা প্রতারণায় দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে বেশ কিছু ক্ষতি। আর তাহলো-
    >> প্রতারক ব্যক্তি সমাজে চরম নিকৃষ্ট বলে বিবেচিত। কেউ তাকে বিশ্বাস করে না বরং চরম নীচুতা ও মানসিক কলংকের পরিচায়ক।
    >> প্রতারণার ফলে মানুষ ধীরে ধীরে মানুষের বিশ্বাস থেকে ওঠে যাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহ থেকেও দূরে সরে যায়।
    >> প্রতরণা মানুষের সম্পদ ও বয়সের বরকত ধ্বংস করে দেয়।
    >> প্রতারণায় মানুষের ঈমান একেবারেই দুর্বল হয়ে যায়।
    >> প্রতারণার ফলে মানুষের দোয়া কবুলের পথও বন্ধ হয়ে যায়।
    >> সর্বোপরি প্রতারণা মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে।

    যে প্রতারণা বা ধোকার কারণে মানুষ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দলভূক্ত হওয়া থেকে দূরে সরে যায়, সে নিকৃষ্ট কাজ থেকে অনেক জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ধোকা বা প্রতারণা থেকে হেফাজত থাকার পাশাপাশি দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে সঠিক পথে নিজেকে পরিচালিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে

    জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে

    রহমত বরকত মাগফিরাতে ভরপুর হচ্ছে জুমআর দিন। মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক বড় মর্যাদার দিন। অনেক বুজুর্গানে দ্বীনের জুমআর দিনকে নফল হজের চেয়ে মর্যাদার দিন হিসেবে মনে করতেন।

    জুমআর দিন মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণ
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সূর্য উঠে এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমআর দিনটিই হলো সর্বোত্তম দিন। কারণ-
    – হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ইয়াহুদি তাঁকে বলল, ‘হে আমিরুল মুমিনিন ! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহুদি জাতির উপর অবতীর্ণ হতো, তবে অবশ্যই আমরা সেই দিনকে ঈদ হিসাবে পালন করতাম, তিনি বললেন, ‘কোন আয়াত’? সে বলল, ‘আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সূরা মায়েদা : আয়াত ৩) হজরত ওমর বললেন, ‘এটি যে দিনে এবং যে স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি। তিনি সেদিন আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমুআ’র দিন।’ (বুখারি)

    – এই দিনেই আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল; এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল (আবু দাউদ) এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল (মুসলিম) এই দিনে তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল, এই দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিল (আবু দাউদ)

    জুমআর দিনের করণীয় সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা
    আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সূরা জুমআ : আয়াত ৯)

    জুমআর দিনের ফজিলত
    – রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য জুমআর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাকের কাছে জুমআর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মত শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদা সম্পন্ন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)
    – হে মুসলমানগণ! জুমআর দিনকে আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের জন্য (সাপ্তাহিক) ঈদের দিন হিসাবে নির্ধারণ করেছেন (جَعَلَهُ اللهُ عِيْدًا)। তোমরা এদিন মেসওয়াক কর, গোসল কর ও সুগন্ধি লাগাও।’ (মুয়াত্তা, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)

    – জুমআর রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে মারা যায়; আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেন।’ (তিরমিজি)

    জান্নাতে জুমআর দিন
    – জান্নাতে প্রতি জুমআর দিনে জান্নাতিদের হাট বসবে। জান্নাতি লোকেরা সেখানে একত্রিত হবেন। সেখানে এমন মনমুগ্ধকর বাসাত বইবে, যে বাতাসে জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণ বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি তাদের স্ত্রীদেরও অনুরূপ সৌন্দর্য বেড়ে যাবে।’ (মুসলিম)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালে জুমআর দিনের মর্যাদা ও ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। জুমআর দিনের করণীয় যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ইসলামে যে প্রশংসা নিষিদ্ধ

    ইসলামে যে প্রশংসা নিষিদ্ধ

    ইসলামে যে কোনো বিষয়ে অতিরঞ্জিত বা বাড়াবাড়ি প্রশংসা করা নিষিদ্ধ। এতে প্রশংসাকারী ও প্রশংসিত উভয় ব্যক্তিই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

    তাই অতিরিক্ত প্রশংসা ইসলাম শুধু নিষিদ্ধই নয় বরং তাতে রয়েছে মারাত্মক শাস্তি। এ বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা। কুরআনুল কারিমে এসেছে-
    ‘তুমি মনে করো না- তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত হয় এবং না করা বিষয়ের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে। এরূপ কখনও মনে করো না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল ইমরান : আয়াত ১৮৮)

    সুতরাং কারো প্রশংসা, খোশামোদ, তোষামোদ করতে গিয়ে অতিরঞ্জিত না করাই ইসলামের বিধান। কেননা অতিরক্তি প্রশংসা ও তোষামোদের দ্বিমুখী ক্ষতি রয়েছে। যে ব্যক্তি প্রশংসা করে আর যার প্রশংসা করা হয়, উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    প্রশংসাকারীর ক্ষতি

    যে প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নয় সে রকম প্রশংসা বা তোষামোদ করলে তাতে গোনাহগার হয় প্রশংসাকারী। অসামঞ্জস্য মাত্রারিক্তি প্রশংসায় ৩ ধরনের গোনাহ হয়ে থাকে। আর তাহলো-

    >> মিথ্যাচারের গোনাহ
    যারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই, এমন প্রশংসা করে তা মূলত মিথ্যাচারের অন্তর্ভূক্ত। আর মিথ্যা সবেচেয়ে বড় গোনাহই নয় বরং সব পাপের মা।

    >> মুনাফেকির গোনাহ
    যে ব্যক্তি অন্য কারো এমন প্রশংসা করে, যে প্রশংসায় তার নিজেরও আস্থা বা বিশ্বাস নেই। তবে সে প্রশংসা করা মুনাফেকি। কুরআনের ভাষায় মুনাফিকের অবস্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।

    >> অন্যকে হেয় করার গোনাহ
    কোনো ব্যক্তি যদি কারো এমন প্রশংসা করে যে, তার প্রশংসার ফলে যার প্রশংসা বা গুণগাণ গাওয়া হয়, তাতে ওই ব্যক্তি অন্যের চোখে হেয় হয় বা অপমাণিত হয়। তাতে প্রশংসাকারী নীচুতা ও হঠকারিতার পাপে পতিত হবে।

    প্রশংসিত ব্যক্তিও ২ ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়-

    >> অহংকারের ক্ষতি
    প্রশংসা পাওয়ার ফলে ওই ব্যক্তির মনে অহংকার জন্মাতে থাকে। সে অহংকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। অথচ অহংকার হলো মহান আল্লাহর গায়ের চাদর। যা নিয়ে টানাটানি করতে নিষেধ করা হয়েছে। মানুষ অহংকার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অংহকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করেন না।

    >> অন্যকে অপমানের মানসিকতা তৈরি হয়
    মিথ্যা ও অতিরিক্ত প্রশংসা শুনে প্রশংসিত ব্যক্তির মাঝে নিজর সম্পর্কে অনুরূপ ধারণা জন্মাতে থাকে। তাতে সে অন্যের সঙ্গে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ব্যবহার করতে থাকে। মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি প্রশংসা বাক্য শুনতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। যার যোগ্য সে নয়। এদের ব্যাপারে কঠিন শাস্তির ঘোষণা এসেছে কুরআনে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর উভয় শ্রেণিকে অতিরিক্ত প্রশংসা করার ও প্রশংসা পাওয়ার মানসিকতা থেকে দূরে রাখুন। মিথ্যাবাদী, মুনাফেক ও অহংকারী হওয়া থেকে প্রত্যেককেই হেফাজত করুন। আমিন।

  • জন্ম-মৃত্যুর যে বিষয়গুলো মানুষ কখনো চিন্তা করে না…!

    জন্ম-মৃত্যুর যে বিষয়গুলো মানুষ কখনো চিন্তা করে না…!

    জন্ম নেয়ার পর ধ্রুবসত্য হচ্ছে মানুষকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। মানুষের জন্ম ও মৃত্যুতে এমন কিছু কাজ ও বিষয় রয়েছে, যে বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ কখনো চিন্তা করে না। জানতে চায় না এ সব বিষয়ের পেছনে কী কারণ লুকিয়ে আছে।

    যখনই মানুষ জন্ম-মৃত্যুর মাঝে বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবে কিংবা চিন্তা করবে তখনই তার জীবনাচারে পরিবর্তন আসবে। জীবনকে উপলব্দি করতে শেখবে। দুনিয়ার কাজ সঠিকভাবে পালন ও পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণে সচেষ্ট হবে।

    কেননা মৃত্যু এমন এক জিনিস, যা আসার পর কোনো মানুষ এক কদম সামনেও যেতে পারবে না আর না পারবে পেছনে যেতে। যেখানে মৃত্যু আসবে সেখানেই তা বাস্তবায়ন হবে।

    মানুষের জন্ম-মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে ‘জন্ম মৃত্যুর আশ্চর্য মিল’ শিরোনামে একটি লেখা নজরকাড়ে। সাংবাদিকতার পেশাকে আঁকড়ে ধরার সংগ্রামে নিয়োজিত এক মফস্বল সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সুমন তার ফেসবুক ওয়ালে এ লেখাটি তুলে ধরেন-

    ●●●#জন্ম_মৃত্যুর_আশ্চর্য_মিল ●●●

    >> যখন তুমি জন্ম গ্রহণ করো, তখন তোমার কানে আজান দেয়া হয়, কিন্তু সালাত (পড়া হয় না) নয়। আবার যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো, তখন সালাত (জানাজা) আদায় হয়, আজান (হয় না) নয়।

    >> যখন তুমি মাতৃগর্ভ থেকে বের হও, (তুমি) জাননা, কে তোমাকে বের করেছে? এমনিভাবে যখন তোমার মৃত্যু হয়, (তখনও) তুমি জাননা, কে তোমাকে কবরে রেখেছে?

    >> যখন তুমি জন্মগ্রহণ কর, তোমাকে গোসল দেয়া হয়, পরিষ্কার করা হয়। অনুরুপভাবে যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো, তখনও তোমাকে গোসল (দেয়া হয়) ও পরিচ্ছন্ন করা হয়।

    >> যখন তুমি জন্মগ্রহণ কর, তোমার জন্মে কে খুশি হয়েছে, কে তোমাকে স্বাগত জানিয়েছে তখন (তুমি) জাননা। এমনিভাবে যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো, তখনও (তুমি) জাননা, কে তোমার জন্য কেঁদেছে এবং কে তোমার বিদায়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে?

    >> যখন তুমি মাতৃগর্ভে ছিলে, সে স্থানটি ছিল সংকীর্ণ ও অন্ধকার। আবার যখন তোমাকে কবরে রাখা হবে, সেটিও সংকীর্ণ ও অন্ধকার।

    >> যখন তুমি জন্মগ্রহণ করেছ, তখন তোমাকে একটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরা হয়েছে । আবার যখন মৃত্যুবরণ করবে, তখনও তোমাকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ঢেকে রাখা হবে।

    >> জন্মের পর বড় হলে (ভালো কিছু করলে) লোকেরা তোমার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে । তেমনিভাবে যখন তোমাকে কবরে রাখা হবে ফেরেশতারা তোমার (দুনিয়ার) আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে।

    সুতরাং মানুষের উচিত জন্মের সময়ে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোও মৃত্যুর সময় বা মৃত্যুর পর ঘটবে। আর সেসব বিষয়গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন পরিচালনা ও সুন্দর করা সবার জন্যই জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জন্ম-মৃত্যুর এ বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে নিজের জীবন সুন্দর করার তাওফিক দান করুন। পরকালের সফলতায় দুনিয়াতে পুঁজি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিয়ের পর নব দম্পতির জন্য যে দোয়া করতেন বিশ্বনবি

    বিয়ের পর নব দম্পতির জন্য যে দোয়া করতেন বিশ্বনবি

    মানবজীবনের স্বভাগত পরিচ্ছন্নতা, মানসিক ভারসাম্য ও চারিত্রিক পবিত্রতার অন্যতম উপায় বিয়ে। বিয়ে করার জন্য যুবকদের প্রতি বিশ্বনবি ঘোষণা করেছেন-

    ‘হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করতে সক্ষম, তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কারণ বিয়ে (মানুষের) দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং গোপনাঙ্গের হেফাজতে অধিক কার্যকর। আর যে ব্যক্তি বিয়ে করতে অক্ষম সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার যৌনক্ষুধাকে অবদমিত করে।’ (মিশকাত)

    যারা বিশ্বনবির ঘোষণা অনুযায়ী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন, সেসব নব দম্পতির জন্য রয়েছে বিশ্বনবির বিশেষ দোয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নব দম্পতিকে অভিনন্দন জানাতেন, তাদের দাম্পত্যজীবনের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করতেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাহিত ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলতেন-

    بَارَكَ اللهُ لَكَ وَ بَارَكَ عَلَيْكَ وَ جَمَعَ بَيْنَكُمَا فِيْ خَيْرٍ

    উচ্চারণ- ‘বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বাইনাকুমা ফি খাইরিন’ (তিরমিজি, মিশকাত)
    অর্থ : ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমাদের উভয়ের প্রতি বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন।’

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ-অনুকরণ ও দিক-নির্দেশনায় উম্মতে মুসলিমাও নব-দম্পতির জন্য এ দোয়া করবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবির শেখানো দোয়ার মাধ্যমে নব দম্পতির কল্যাণে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।