Category: ধর্ম

  • ‘ইয়াওমুল জুমা’এর বিশেষ আমল

    ‘ইয়াওমুল জুমা’এর বিশেষ আমল

    শুক্রবার মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক উৎসবের দিন। এই দিনকে ‘ইয়াওমুল জুমা’ বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও গোটা জগতকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই ছয় দিনের শেষ দিন ছিল জুম্মার দিন। এই দিনেই হজরত আদম (আ.) সৃজিত হন। এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনেই জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়।

    কেয়ামত এ দিনেই সংঘটিত হবে। আল্লাহ তায়ালা প্রতি সপ্তাহে মানবজাতির সমাবেশ ও ঈদের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী উম্মতরা তা পালন করতে ব্যর্থ হয়। ইসলামের জুম্মার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বয়ং আল্লাহপাক কোরআন পাকে ইরশাদ করেন ‘হে মুমিনগণ জুম্মার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশেও দ্রুত ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর’। সূরা জুমা, আয়াত নং-৯।

    তাই জুম্মার আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততা ত্যাগ করে জুম্মার নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে মসজিদে গমন করা সব মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, তখন মানুষ যে দোয়াই করে তা-ই কবুল হয়। এই দিনের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

    জুম্মার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল পাক (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুম্মার দিন আসর নামাজের পর না উঠে ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরিফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে। (সুবনহান আল্লাহ)

    দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম তাসলীমা’

    জুম্মার দিনের আরো কিছু আমলের মধ্যে রয়েছে—

    ১. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা: জুম্মার দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন আকাশতুল্য একটি নূর প্রকাশ পাবে।

    ২. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং বেশি বেশি জিকির করা মোস্তাহাব।

    ৩. জুম্মার রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ও জুম্মার দিনে নবী করিম (সা.) এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। এমনিতেই যে কোনো সময়ে একবার দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা পাঠকারীকে দশটা রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য দশবার রহমতের দোয়া করেন।

    ৪. জুম্মার নামাজের পূর্বে দুই খুতবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা।

    ৫. সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের সাথে জিকির, তাসবীহ ও দোয়ায় লিপ্ত থাকা।

  • যে কারণে টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষিদ্ধ

    যে কারণে টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষিদ্ধ

    মানুষ এখন ফ্যাশনপ্রেমী। নিজেকে একটু ফুটিয়ে তোলার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে! দুনিয়ার এই মিথ্যা মোহ মানুষকে ভুলিয়ে দেয় ধর্মীয় বিধি-নিষেধগুলোও। কেউ কেউ আবার নিজের ঠুনকো চিন্তাধারাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে কোরআন-হাদিস অবমাননা করে বসে। ইসলামী রীতিনীতিকে ভাবতে থাকে পুরনো ভাবধারা, যা সেই অহংকারী লোকদের দ্রুত এগিয়ে নেয় ধ্বংসের পথে। তারা শুধু আখিরাতেই ক্ষতিগ্রস্ত নয়, দুনিয়াতেও নিজের অজান্তে তারা হারায় অনেক কিছু।

    তেমনই একটি ট্রেন্ড টাখনুর নিচে কাপড় পরা, যা শরিয়তে কঠিকভাবে নিষিদ্ধ। দুঃখের বিষয় হলো, বেশির ভাগ মানুষই এই কঠিন গুনাহে লিপ্ত। পার্থক্য হলো, কেউ গুনাহ জেনে লজ্জিত, কেউ জেনেও এটিকে পুরনো চিন্তাধারা ভাবছেন, আবার কেউ জানেনই না।

    অথচ অতিমাত্রায় ফ্যাশন কখনো কখনো ধ্বংসের কারণও হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, অথবা আবুল কাসেম বলেছেন, এক ব্যক্তি আকর্ষণীয় জোড়া কাপড় পরিধান করে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ চলছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নিচে ধসিয়ে দেন। কিয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে ধসে যেতে থাকবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৮৯)

    আমাদের উঠতি বয়সী ছেলেদের মধ্যে এ ধরনের অভ্যাস খুব বেশি দেখা যায়। সাধারণত তারা বিভিন্ন সিনেমার হিরোদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমনটি করে। এ ব্যাপারে তাদের সচেতন করা  মা-বাবা, ভাই-বোনসহ সব আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবেরই দায়িত্ব।

    অনেকের ধারণা, শুধু নামাজের সময়ই টাখনুর ওপর কাপড় উঠাতে হয়, অন্য সময় টাখনুর নিচেও পরা যায়। এটাও ভুল ধারণা। কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, ইজারের (লুঙ্গি) বা পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ পায়ের গোড়ালির নিচে থাকবে, সেই অংশ জাহান্নামে যাবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৮৭)

    আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমরা টাখনুর নিচে কাপড় পরলে ধর্মের কী অসুবিধা? তার সরল উত্তর হলো, অসুবিধা ধর্মের নয়, অসুবিধা আমাদের নিজেদের। কারণ দুনিয়াতেও টাখনুর নিচে কাপড় পরার অপকারিতা কম নয়। পুরুষের পায়ের টাখনুতে থাকে টেস্টোস্টেরন নামক যৌন হরমোন, যা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের প্রয়োজন। টাখনুকে ঢেকে রাখলে টেস্টোস্টেরন হরমোন শুকিয়ে যায়। যার প্রভাবে শরীরে অনেক রকম সমস্যা দেখা দেয়। শুক্রাণু কমে যায়। ফলে সহজে বাচ্চা হয় না। এ সমস্যাটি আমাদের সমাজে মহামারি আকার ধারণ করছে। তা ছাড়া টেস্টোস্টেরনের অভাব মস্তিষ্ক ‘ঘোলাটে’ করে দেয়। এতে মনোযোগ নষ্ট হয়। স্মৃতিশক্তিও কমে আসে ধীরে ধীরে।

    হয়তো এ কারণেই রাসুল (সা.) বিভিন্ন হাদিসে টাখনুর নিচে কাপড় পরাকে নিষিদ্ধ করেছেন।

  • কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে

    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে

    কাবা শরিফ মহান আল্লাহর ঘর। এ ঘরের জেয়ারত ও ইবাদত সব কিছুই পূণ্যের কাজ। আল্লাহ তাআলা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ ফরজ করেছেন।

    আর হজের সময় ছাড়াও বছর জুড়েই মুসলিম উম্মাহ ওমরাহ পালনে জড়ো হন এ পবিত্র নগরীতে। এখানে বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে, যেখানের দোয়া সব সময় আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেন। যা ছবিসহ তুলে ধরা হলো-

    >> মাকামে ইবরাহিম
    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পদচিহ্নের স্মৃতিস্তম্ভ। কাবা শরিফের পূর্ব পাশে তাওয়াফের স্থানেই তা অবস্থিত। পদচিহ্ন পাথরটি সোনালি রঙের কারুকার্য খচিত লৌহ নির্মিত বেড়া দিয়ে মোড়ানো।
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে
    তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর এখানে দুই রাকাআত নামাজ পড়া সুন্নাত। এ স্থানে নামাজ পড়ার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ হলো, ‘তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর স্থানকে নামাজের স্থান বানাও।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১২৫)
    সুতরাং এখানে নামাজ পড়ে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সব সময় এ স্থানের দোয়া কবুল করে নেন।

    >> মিজাবে রহমত
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে
    এটি কাবা শরিফের উত্তর পাশ্বে হাতিকে কাবার ওপরে অবস্থিত। এ স্থান দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফে ছাদের পানি নিচে পড়ে। এ স্থানের নিচে নামাজ পড়ে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সে দোয়া সব সময় কবুল করে নেন।

    >> কাবার অভ্যন্তর
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে
    কাবা ঘরের ভেতরে প্রবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য পবিত্র কাবা ঘরের দরজা খোলা হয়। কাবা ঘরের ভেতরের দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সব সময় তা কবুল করে নেন।

    >> হাজরে আসওয়াদ
    বেহেশতি পাথর হাজরে আসওয়াদ। হাদিসের তথ্য মতে এ পাথরটি ছিল দুধ কিংবা বরফের চেয়ে সাদা। মানুষের পাপ গ্রহণে এটি এখন কলোতে পরিণত হয়েছে। আর একে বলা হয় হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর। এ পাথরকে স্পর্শ সম্ভব হলে চুম্বন অথবা দুই হাত তুলে এর দিকে ইশারা করেই তাওয়াফ শুরু করতে হয়।
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে
    হাজরে আসওয়াদের স্পর্শে মানুষের গোনাহ ঝরে যায়। আর এ স্থানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।

    >> মুলতাজেম
    মুলতাজেম কাবা শরিফের দেয়ালের ছোট্ট একটি অংশের নাম। যা হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝখানে অবস্থিত। এটি দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে
    এ স্থানে বুক, মুখমন্ডল ও হাত দিয়ে ধরে অবস্থান করে দোয়া করা। মুসলিম উম্মাহ এ স্থানে একান্তে আবেগে রোনাজারি করে থাকে। এ স্থান ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সব সময় এ স্থানের দোয়া কবুল করে নেন।

    >> হাতিমে কাবা বা হিজরে ইসমাইল
    কাবা শরিফ সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থিত তথা কাঁধ সমান উঁচু অর্ধ চাঁদের ন্যায় গোলাকার স্থানকে হাতিমে কাবা বা হিজরে ইসমাইল বলা হয়। তাওয়াফ কারিরা ৯০ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও ১.৫ মিটার পুরো দেয়াল বেষ্টিত স্থানসহ (হাতিমে কাবা বা হিজরে ইসমাইল) তাওয়াফ করে থাকে।
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে
    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম হাতিমে কাবাসহ বর্তমান কাবার সঙ্গে পূর্ণ কাবা নির্মাণ করেন। কুরাইশরা কাবা ঘর সংস্কারের সময় পুরো কাবা অর্থের অভাবে তৈরি করতে পারেনি। পরে বর্তমান কাবাকে বর্গাকৃতির করে হাতিমকে কাঠ দিয়ে আবৃত করে রাখে।

    এটিও কাবার মূল অংশ। এখানে নামাজ পড়া এবং দোয়া করা, কাবা ঘরের দোয়া করার সমান। আর এ কারণেই তাওয়াফের সময় হাতিমে কাবাকেও তাওয়াফ করতে হয়। এ স্থানের দোয়া আল্লাহ সব সময় কবুল করে নেন।

    >> মাতআফ বা তাওয়াফের স্থান
    এক কথায় কাবা শরিফের চারদিকে চত্তর। যে স্থানের ওপর দিয়ে হজ ও ওমরা পালনকারীরা তাওয়াফ করে থাকেন। আর আল্লাহ তাআলা এসব তাওয়াফকারীদের ওপর প্রতিদিন ৬০টি করে রহমত বর্ষণ করেন।
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে

    তাওয়াফ করার সময় মাতআফে চক্কর দিতে দিতে যে দোয়া করা হয়, আল্লাহ তাআলা সব সময় মাতাআফের তথা তাওয়াফের স্থানের দোয়া কবুল করে নেন।

    >> সাফা ও মারওয়া পাহাড়
    কাবা শরিফের দোয়া কবুলের স্থানগুলো দেখুন ছবিতে
    বিবি হাজেরার স্মৃতি বিজড়িত আল্লাহ তাআলার নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়া। এটি কাব ঘর শরিফ থেকে ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত। সাফা পাহাড় থেকে মারওয়া পাহাড়ের দূরত্ব ৩০০ মিটার বা ৯৮০ ফুট। এ স্থানে সাত বার আসা-যাওয়া হজ ও ওমরার অন্যতম রোকন। এ পাহাড় দুটিতে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সব সময় বান্দার দোয়া কবুল করে নেন।

    হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য এ স্থানগুলোতে দোয়া করা জরুরি। এ স্থানগুলো দোয়া মহান আল্লাহ তাআলা সব সময় কবুল করে নেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ স্থানে দোয়া করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ইসলামী শিক্ষার অভাবে মানুষ চরিত্রহীন হচ্ছে: চরমোনাই পীর

    ইসলামী শিক্ষার অভাবে মানুষ চরিত্রহীন হচ্ছে: চরমোনাই পীর

    নিউজ ডেস্ক :

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, দুনিয়াতে যতদিন ওহীভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা থাকবে ততদিন দুনিয়া টিকে থাকবে। কোরআনের শিক্ষার অভাবে মানুষ চরিত্রহীন হচ্ছে।

    তিনি বলেন, কোরআনী শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি কখনো অনৈতিক কাজে জড়াতে পারে না। সমাজে অশান্তির মূলেই রয়েছে নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থা। ইলমে ওহীর শিক্ষা প্রসারে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বুধবার জয়পুরহাটে আশরাফুল উলুম কওমী মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, ইসলাম কল্যাণের ধর্ম। মানবতা শান্তির ধর্ম। ইসলামকে বিশ্বব্যাপী কলুষিত করতে ইসলামবিরোধী শক্তিগুলো জঙ্গিবাদ জন্ম দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামের সুমহান পতাকাতলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শামিল হচ্ছে।

    এ থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে নিতেই আইএস ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে। ইসলাম চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নয়।

    তিনি সকলকে ইসলামবিরোধী সকল কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

  • রোকনে ইয়ামেনিতে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি

    রোকনে ইয়ামেনিতে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি

    কাবা শরিফের দক্ষিণ পশ্চিম কোনাকেই বলা হয় রোকনে ইয়ামেনি। কাবা শরিফের এ কোনো থেকে পুরো দক্ষিণ পাশ অতিক্রম করার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দোয়া পড়তেন। যে দোয়ায় দুনিয়া ও পরকালের রহমত কামনা এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার আকুতি ছিল।

    যারা কাবা শরিফ তাওয়াফ করবে, তাদের উচিত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পঠিত সে দোয়া বেশি বেশি পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা ছিল রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করা। এ কোনো স্পর্শ করার ফজিলতও তিনি ঘোষণা করেছেন। সুতরাং রোকনে ইয়ামেনি কোনা স্পর্শ করে বেশি বেশি এ দোয়াটি করা। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুই রোকনের (হাজরে আসওয়াদ ও রোকনে ইয়ামেনির) মধ্যবর্তী স্থানে এ দোয়া করতে শুনেছি-
    رَبَّنَا أَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَ فِى الْأَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতও ওয়াক্বিনা আজাবান নার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২০১)

    অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে নাজাত দান করুন।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)

    উল্লেখ্য যে, শুধু পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফকারীর জন্যই আল্লাহ তাআলা ৬০টি রহমত নির্ধারণ করেছেন। তাই আল্লাহর রহমত লাভে বেশি বেশি তাওয়াফ করার পাশাপাশি দুনিয়া ও পরকালের সফলতা ও মুক্তিতে কুরআনের উল্লেখিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়া।

    আল্লাহ তাআলা হজ ও ওমরা পালনকারীসহ সব তাওয়াফকারীকেই বিশ্বনবি ঘোষিত এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়ে দুনিয়া ও পরকালের স্বচ্ছলতা ও সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করুন। আমিন।

  • সরকারি খরচে সৌদি যাচ্ছে চরমোনাই পীরের ভাইসহ ৫৫ আলেম

    সরকারি খরচে সৌদি যাচ্ছে চরমোনাই পীরের ভাইসহ ৫৫ আলেম

    অনলাইন ডেস্ক :

    হজযাত্রীদের সৌদি আরবে হজ পালনে ধর্মীয়সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিতে ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিম গঠন করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন তারা।

    গতকাল মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিমে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীসহ একাধিক হেফাজত নেতা।

    সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট পাওয়া সাপেক্ষে ওলামা মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরব যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। এটি রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। তাদের ভ্রমণ ব্যয় এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশের বাহিরে হজ বাবদ ব্যয় খাতে বরাদ্দ রাখা অর্থ থেকে বহন করা হবে।

    এদিকে তালিকায় থাকা আলেমরা হলেন- ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিমের তালিকায় প্রথমেই আছেন হেফাজত নেতা মাওলানা আশরাফ আলী (কো-চেয়ারম্যান হাইয়াতুল উলইয়া), মাওলানা আবদুল হালিম বোখারি (প্রিন্সিপাল, পটিয়া মাদরাসা, চট্টগ্রাম), মুফতি রুহুল আমীন (প্রিন্সিপাল, গওহরডাঙ্গা মাদরাসা, গোপালগঞ্জ), মাওলানা জাফর আহমদ (প্রিন্সিপাল, ঢালকানগর মাদরাসা, ঢাকা), মাওলানা ইয়াকুব আলী খন্দকার (সুপারিনটেন্ডেন্ট, চমকপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, কিশোরগঞ্জ), মাওলানা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব, মুহতামিম জিরি মাদরাসা, চট্টগ্রাম),

    মাওলানা আনাস মাদানী (আল্লামা শফির ছেলে ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক), মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস (মহাসচিব, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, ঢাকা), মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ (ইমাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ, কিশোরগঞ্জ), মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী (প্রিন্সিপাল, জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুর, চট্টগ্রাম), মাওলানা মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী (চরমোনাই পীরের ভাই ও প্রিন্সিপাল, চরমোনাই আলীয়া মাদরাসা, বরিশাল), মাওলানা সৈয়দ মো. শরাফত আলী (প্রিন্সিপাল, শর্ষিনা আলিয়া মাদরাসা, পিরোজপুর), মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন (প্রিন্সিপাল, আকবর কমপ্লেক্স মিরপুর, ঢাকা), মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ (মুহতামিম, শায়েখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা)।

    তালিকায় আরো আছেন- মাওলানা ইয়াহিয়া মাহমুদ (প্রিন্সিপাল, দারুল উলুম রামপুরা বনশ্রী, ঢাকা), মুফতি মোহাম্মদ আলী (মুহতামিম, আফতাবনগর মাদরাসা, ঢাকা) মুফতি মোহাম্মদ ইয়াহিয়া (প্রধান মুফতি, লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা), মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী (মাওলানা মাহমুদুল হাসানের মেয়ের জামাই ও মুহাদ্দিস, জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী, ঢাকা), মাওলানা শামসুল হুদা খান (মুহতামিম, হিলি মাদরাসা, দিনাজপুর), মুফতি সাইফুল ইসলাম (প্রিন্সিপাল, বড় কাটারা মাদরাসা ও মেয়ের জামাই মুফতি আমিনী রহ.) মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু (প্রিন্সিপাল, গহরপুর মাদরাসা সিলেট),

    মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন (মাও. ফরিদ উদ্দিন মাসউদের ছেলে ও প্রিন্সিপাল, ইকরা বাংলাদেশ ঢাকা), মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক (অধ্যক্ষ, মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, ঢাকা), মাওলানা মোহাম্মদ ওসমান গনি (মুহাদ্দিস, দারুন্নাজাত কামিল মাদরাসা, ঢাকা) মাওলানা রেজাউল করিম (শিক্ষক, পটিয়া মাদরাসা, চট্টগ্রাম), মাওলানা আবুল কাশেম ফজলুল হক (উপাধ্যক্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা), মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম আল মারুফ (প্রিন্সিপাল, জামিয়া হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসা, মহাখালী, ঢাকা), মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ (উপাধ্যক্ষ. সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা), মাওলানা শোয়াইব (শিক্ষক, জিরি মাদরাসা, চট্টগ্রাম)।

    মাওলানা শওকত আলী কাসেমি (মুহতামিম, বাগিবাড়ি হাফিজিয়া মাদরাসা, নরসিংদী), মুফতি মিনহাজ উদ্দিন (ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ, ঢাকা), মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম আলী (মুহতামিম, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর), মুফতি শামসুদ্দোহা (প্রিন্সিপাল, জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম, মৌলভীবাজার), মাওলানা মো. মুহিব্বুল হক (প্রিন্সিপাল জামিয়া দরগা সিলেট), মাওলানা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (ইমাম ও খতিব জমিয়াতুল ফালাহ চট্টগ্রাম), মাওলানা মোস্তাক আহমেদ (প্রিন্সিপাল, দারুল উলুম মাদরাসা খুলনা), মাওলানা মোহাম্মদ নোমান (প্রিন্সিপাল, দারুল উলুম মাদরাসা, কুমিল্লা), বিশিষ্ট বক্তা মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী, মাওলানা সৈয়দ অহিদুজ্জামান (প্রিন্সিপাল, জামিয়া আরাবিয়া আশরাফিয়া, মিরপুর-পল্লবী),

    মাওলানা উসামা আমিন (শিক্ষক, গওহরডাঙ্গা মাদরাসা, গোপালগঞ্জ), মাওলানা ওয়াসিউর রহমান (প্রিন্সিপাল, জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া চট্টগ্রাম), মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ (ইমাম, লোহাগড়া কেন্দ্রীয় মসজিদ, নড়াইল), হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু সালেহ মোহাম্মদ উল্লাহ (ইমাম, মিরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ), মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান (ইমাম, গোপালগঞ্জ জেলা মারকাজ মসজিদ), মুফতি হাফিজুর রহমান (ইমাম, গোপালগঞ্জ কোর্ট মসজিদ), মুফতি আব্দুর রাজ্জাক কাজি (ইমাম, ঘাগর বন্দর মসজিদ, গোপালগঞ্জ), মাওলানা মোঃ মাহদী হাসান (মুহতামিম, কয়খা মাদরাসা গোপালগঞ্জ), মুফতি শুয়াইব ইবরাহিম (মুহাদ্দিস, ভবানীপুর মাদরাসা গোপালগঞ্জ)।

    মুফতি আব্দুল্লাহ মোকাররম (মাও. আবদুর রহমান হাফেজ্জির ছেলে ও শিক্ষক মাখজানুল উলুম মাদরাসা, ময়মনসিংহ), মাওলানা আকতার হোসেন (খতিব, গাজীপুর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ), মাওলানা নাসির আহমাদ (মুহতামিম, লক্ষীপাশা মাদরাসা, নড়াইল), মাওলানা ইসরাফিল হোসেন (ইমাম, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস (ইমাম, ডাকবাংলো মসজিদ কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ), মাওলানা মোহাম্মদ জাকারিয়া (মুহতামিম, ছোট দক্ষিণপাড়া, হস্তপল্লী শামসুল উলুম মাদরাসা, গোপালগঞ্জ) ও মাওলানা আবুল কালাম (মুহতামিম, কাজুলিয়া মাদরাসা গোপালগঞ্জ)।

  • পড়াশোনা ও অধ্যয়ন বড় ইবাদত

    পড়াশোনা ও অধ্যয়ন বড় ইবাদত

    কোরআনে সর্বপ্রথম যে শব্দটি অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো ‘ইকরা’—পড়ো। এটি আদেশমূলক ক্রিয়াপদ। আল্লাহ বলেছেন, ‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো…।’ (সুরা আলাক, আয়াত: ১-৩)

    প্রথম তিন আয়াতে ‘পড়ো’ শব্দটি দুইবার এসেছে। কোরআন মানবজাতির কাছে পাঠানো সর্বশেষ ও চূড়ান্ত ঐশীগ্রন্থ। আর আর মহান আল্লাহর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে মুসলিম জাতির ইতিহাসে সর্বপ্রথম যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা হলো ‘পড়ো’। জ্ঞান অর্জনের চাবিকাঠি হচ্ছে বই পড়া। এতে স্রষ্টা আর তার সৃষ্টি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বিকশিত হয়। এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় যে, ‘কোরআন’ শব্দটাও যে-মূল শব্দ থেকে এসেছে, তার অর্থ পড়া, পুনরাবৃত্তি করা বা আবৃত্তি করা। কাজেই সঠিক ইসলামী বুঝ অনুযায়ী শুধু পড়াটাও হতে পারে এক ধরনের বড় ‘ইবাদত’।

    কোরআনের অন্যতম একটি নাম ‘বই’
    পবিত্র কোরআনের অনেকগুলো নামের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘আল-কিতাব’ বা বই। প্রথম অবতীর্ণ শব্দের সাপেক্ষে যদি এই নামের সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, ইসলাম ও মুসলিমদের জ্ঞানসংক্রান্ত ভিত্তিই হচ্ছে পড়াশোনা করা। সবধরনের জ্ঞান অর্জন, সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ। বই একদিকে যেমন জ্ঞানের উৎস, অন্যদিকে জ্ঞান সংরক্ষণের প্রাথমিক মাধ্যম। বই পড়ার মাধ্যমে উন্মোচিত হয় জ্ঞানের নতুন দিগন্ত।

    জ্ঞানের সাফল্যই ইসলামের সাফল্য
    মূল কথা হচ্ছে, অধিকাংশ মুসলিমদের কাছে বই পড়া আজ এক হারিয়ে যাওয়া শিল্প। বইয়ের সঙ্গে সবধরনের সংযোগ যেন আজ দুর্বল-ম্রিয়মাণ। বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, এমন লোকের সংখ্যা মুসলিম বিশ্বে দিন দিন কমছে। অথচ ইসলামি সভ্যতাজুড়ে দেখা যায়, বই এবং বই পড়াকে ইসলাম কত সম্মানিত আর মর্যাদা দিয়েছে। এর স্বকীয়তা এখানেই যে বই ও বই প্রকাশনার সঙ্গে সাধারণ জনগণের ছিল সুশৃঙ্খলবদ্ধ সংযোগ। ফ্রান্‌য রনসেনথাল তার বইতে লিখেছেন, ‘জ্ঞানের ধারণা ইসলামে অর্জন করেছিল অনন্য এক সাফল্য। অতীতের সেই সাফল্য ছিল যথাযথ। আর এই সাফল্য অর্জন হয়েছিল অনবরত বইয়ের মধ্যে বুঁদ হয়ে থেকে এবং বৈচিত্রময় রকমারি সব বই থেকে স্বাদ নেওয়ার মাধ্যমে। যেসব বইয়ের মধ্যে এমন অনেক বইও ছিল যেগুলো ইসলামি বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিপরীত।’

    অনেকে হয়তো ইন্টারনেটের আবির্ভাব, নিত্যনতুন যোগাযোগ পণ্য এবং সংক্ষিপ্ত ভাষা ব্যবহারের প্রবণতাকে এজন্য দায়ী করবেন। কথাটা সঠিক; কিন্তু মূল সমস্যা আরও গভীরে। আর সেটার শুরু ইন্টারনেট আবির্ভাবেরও আগে। বইয়ের সঙ্গে সংযোগ হারানো এবং পরিণতিতে অধ্যয়ন ছেড়ে দেওয়া—এধরনের প্রবণতার শুরু আরও আগে; কম করে হলেও ১৮ শতকের দিকে। আর এখনও সেই প্রবণতা বিদ্যমান।

    আসুন, আবার বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করি। একটি উত্তম বই আপনার জীবনে পরিবর্তন এনে দিতে পারে। আপনাকে দিতে পারে সুনিবিড় শান্তির জায়গা জান্নাতের ঠিকানা।

  • ‘হাজরে আসওয়াদ’ যেসব হাজির জন্য কেয়ামতের দিন কথা বলবে

    ‘হাজরে আসওয়াদ’ যেসব হাজির জন্য কেয়ামতের দিন কথা বলবে

    হজ ইসলামের অন্যতম রোকন। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। আর বছরজুড়ে ওমরাহ পালন ব্যস্ত থাকে মুসলিম উম্মাহ। হজ-ওমরায় হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ, চুম্বন কিংবা ইশারা করতে হয়।

    কাবা শরিফের এ জেয়ারতে মুমিন মুসলমান অবশ্যই হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ, চুম্বন কিংবা ইশারা করেই তাওয়াফ শুরু করেন।

    হজ পালনকারীদের মধ্যে যারা ইখলাসের সঙ্গে কাবা শরিফ তাওয়াফে হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ, চুম্বন কিংবা ইশারা করেন, তাদের জন্য রয়েছে অনন্য ফজিলত। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন এমন অবস্থায় হাজরে আসওয়াদকে ওঠাবেন যে-

    – তার দুটি চোখ থাকবে। যা দিয়ে সে দেখবে।
    – তার একটি জবান থাকবে। যা দিয়ে সে কথা বলবে।
    আর ওই ব্যক্তির জন্য (হাজার আসওয়াদ) সাক্ষ্য দেবে-
    – যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ অন্তরে তাকে (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করবে। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, দারেমি ও মিশকাত)

    হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন, ‘হাজরে আসওয়াদ’ প্রথমে দুধ বা বরফের চেয়েও সাদা ও মসৃণ অবস্থায় জান্নাত থেকে অবতীর্ণ করা হয়। অতঃপর আদম সন্তানের পাপে তা কলো হয়ে যায়।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

    মানুষের গোনাহ গ্রহণে কালো হয়ে যাওয়া পাথরের কোনো গুণ নয় কিংবা পাথরের কোনো ক্ষমতাও নেই। তবে বিশ্বনবি এ পাথর স্পর্শ করেছেন, চুমু দিয়েছেন। তাই এ তাওয়াফের সময় কিংবা অন্য সময় এ পাথরে স্পর্শ বা চুমু খাওয়া বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি সুন্নত।

    সুতরাং যারাই এ পাথরে সুন্নাতের অনুসরণে একনিষ্ঠ অন্তরে স্পর্শ কিংবা চুমু খাবে, কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর দরবারে সেসব স্পর্শ কিংবা চুম্বনকারীর জন্য সাক্ষ্য দেবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকের হজের যাবতীয় আহকাম পালন করার এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের পরিপূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ঘুমানোর আগে অজু হতাশা দূর করে

    ঘুমানোর আগে অজু হতাশা দূর করে

    রাতে ঘুমানোর আগে প্রিয় নবী (সা.)-এর বিশেষ কিছু সুন্নত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম অজু করে ঘুমানো। হজরত বারাআ ইবনু আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবে (সঠিক আরবি উচ্চারণ কোনো আলেম থেকে অবশ্যই শিখে নিতে হবে) : ‘আল্লাহুম্মা আসলামতু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদতু আমরি ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু জহরি ইলাইকা, রুগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়া লা মানজা মিংকা ইল্লা ইলাইকা। আল্লাহুম্মা আমাংতু বিকিতাবিকাল্লাজি আংজালতা, ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাজি আরসালতা।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমার জীবন তোমার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার সব কাজ তোমার কাছে অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোনো আশ্রয়স্থল ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ, আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর এবং তোমার প্রেরিত নবীর প্রতি।’

    অতঃপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের ওপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলো তোমার সর্বশেষ কথায় পরিণত করো। (বুখারি, হাদিস : ২৪৭) প্রিয় নবী (সা.) আমাদের ঘুমানোর আগে অজু করার নির্দেশ দেওয়ার পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে।

    এক. ঘুম অনেকটা মৃত্যুর মতোই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আর তিনিই রাতে তোমাদের মৃত্যু দেন এবং দিনে তোমরা যা কামাই করো তিনি তা জানেন। তারপর তিনি তোমাদের দিনে পুনরায় জাগিয়ে তোলেন, যাতে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করা হয়। তারপর তাঁর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর তোমরা যা করতে তিনি তোমাদের সে বিষয়ে অবহিত করবেন। (সুরা : আনআম, আয়াত : ৬০) তাই ঘুমানোর আগে পবিত্রতা অর্জন করে নেওয়া জরুরি। কেননা কোনো কোনো হাদিসে এমনও এসেছে যে অজু অবস্থায় ইন্তেকাল করলে তাকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হবে।

    দুই. যদিও ঘুমানোর আগে মুমিনের নিয়ত থাকে শুধু রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ, তবে এর কিছু পার্থিব উপকারিতাও রয়েছে; যেমন—অজুর মাধ্যমে প্রশান্তি অনুভূত হয়, ফলে হতাশা দূর হয়ে যায়, যা সাধারণত ঘুমাতে গেলেই মানুষকে চেপে ধরার চেষ্টা করে। অজু আমাদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করে। অজুর মাধ্যমে মুখে জমে থাকা ছত্রাকগুলো দূর হয়ে যায়। ফলে ঘুমানোর আগে অজু আমাদের ত্বকের জন্যও ভালো। বিউটি এক্সপার্টরা ঘুমানোর আগে ভালোভাবে মুখ ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অজুর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সালামত আজিজ বলেন, অজু হৃদরোগ আরোগ্য হওয়ার একটি উত্তম উপায়। পাশ্চাত্যের মনস্তত্ত্ববিদরা প্রতিদিন অজুর মতো করে কয়েকবার দেহে পানি লাগানোর পরামর্শ দেন। (পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানে মুহাম্মদ (সা.), পৃ. ১১২)

  • জিলকদ মাসের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা

    জিলকদ মাসের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা

    হিজরি সালের ১১তম মাস জিলকদ। হজের ৩ মাসের দ্বিতীয় মাসও এটি। ইসলামে নিষিদ্ধ যে ৪ মাস রয়েছে তার মধ্যেও একটি এ জিলকদ মাস।

    ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন কারণে এ মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে যে কয়টি ওমরা করেছেন তার সব কটি করেছে এ জিলকদ মাসে। এ মাসেই সংঘঠিত হয়েছিল হুদায়বিয়ার সন্ধি ও বাইয়াতে রিদওয়ান।

    রমজান পরবর্তী ঈদের মাস শাওয়াল ও হজের মাস জিলহজের আগের মাস হওয়ায় জিলকদ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ।

    জিলকদ মাসটির প্রকৃত নাম হলো জুল-আল-কাআদাহ। আর এর অর্থ হলো বসা বা স্থিত হওয়া এবং বিশ্রাম নেয়া। রজব থেকে শাওয়াল মাস পর্যন্ত ৪টি মাস মুমিন মুসলমান ধারাবাহিক ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করে।

    এ ৪ মাসের ব্যাখ্যা এসেছে এভাবে-

    >> রজব হলো আল্লাহর মাস, বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাস।
    >> শাবান হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাস, ইবাদতের বীজ বপনের মাস; নিসফ শাবান বা শবে বরাত এবং সর্বাধিক নফল রোজা ও নফল ইবাদতের মাস।
    >> রমজান হলো উম্মতের মাস, ফসল তোলার মাস, ফরজ রোজা, তারাবির নামাজ, কিয়ামুল্লাইল; কুরআন নাজিলের মাস এবং ইবাদত–তিলাওয়াতে মশগুল থাকার মাস।
    >> শাওয়াল হলো ঈদুল ফিতর, সদকাতুল ফিতর ও নির্ধারিত সুন্নাত গুরুত্বপূর্ণ ছয় রোজার মাস।
    >> আর জিলকদ মাস হলো বিশ্রাম গ্রহণের মাস। কেননা এ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ ওয়াজিব ও সুন্নাত কোনো আমল নেই বিধায় এ মাসে মুমিন মুসলমান বিশ্রাম নেয়। আর এ মাসে যাতে মুমিন কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ তথা বাদানুবাদ থেকে বিরত থাকতে পারে, তাইতো এ মাসে সব ধরনের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ নিষিদ্ধ।

    এই মাসে আরবের লোকজন বাণিজ্য থেকে ফিরে আসত, যুদ্ধ থেকে ফিরে আসত, তাই এই মাস বিশ্রামের মাস। ঋতুর পরিবর্তনে এই সময়টায় স্থানীয় আরবের লোকজনের হাতে তেমন কোনো কাজ থাকত না। আরব সংস্কৃতি অনুযায়ী তারা এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থাকত এবং অন্যায়–অপরাধ (মদ্যপান) থেকেও নিবৃত্ত থাকত। এসব কারণেও এই মাসের নাম জিলকদ। (লিসানুল আরব, ইবনে মানজুর)।

    ইবাদতের শক্তি অর্জনের মাস

    রজব ও শাবান মাসে নফল রোজা পালন, রমজান মাসজুড়ে রোজা ও রাতে ২০ রাকাআত তারাবি আদায় শাওয়ালে ৬ রোজা রাখার পর জিলহজ মাসে পুনরায় ইবাদতের প্রস্তুতিতে নিজেকে প্রাণবন্ত করার মাস হলো জিলকদ। এ মাসের শক্তি সঞ্চার করে জিলহজ মাসের প্রথম ৯টি রোজা এবং মহররমের ১০টি নফল রোজা ও ইবাদতে অতিবাহিত করবে মুমিন।

    জিলকদ মাসের আমল

    জিলকদ মাসের বিশ্রামের পাশাপাশি কিছু আমল করা যেতে পারে আর তাহলো-

    >> এ মাসের ১, ১০, ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখ রোজা পালন করা।
    >> ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামের বিজের রোজা পালন কা।
    >> সোম ও বৃহস্পতিবারের সাপ্তাহিক সুন্নাত রোজা পালন করা।
    >> বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায় করা।

    >> সম্ভব হলে ওমরা পালন করা।
    >> হজের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
    >> কুরবানির প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

    ইসলামে ইতিহাসে এ মাসের স্মরণীয় ঘটনা

    >> এটি যে কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধের মাস।
    >> ১ জিলকদ : হুদায়বিয়ার সন্ধি সংঘটিত হয়।
    >> এ মাসেই বাইয়াতে রেদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
    >> ৮ জিলকদ : মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার হজ পালনকে ফরজ করা হয়েছে।
    >> ২৫ জিলকদ : হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম।
    >> ২৫ জিলকদ : পবিত্র কাবা শরিফ পৃথিবীতে প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হয় বলে জানা যায়।
    >> ৭ম হিজরির জিলকদ মাসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম ওমরা পালন করেছিলেন।
    >> এ মাসেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবনের সব ওমরাহ পালন করেন।