Category: ধর্ম

  • নামাজের বাইরে ও ভেতরের কাজ

    নামাজের বাইরে ও ভেতরের কাজ

    নামাজের বাইরে সাতটি কাজ ফরজ

    ১. শরীর পবিত্র হওয়া। (সুরা মায়িদা, আয়াত ৬, তিরমিজি, হাদিস : ১, ৩)

    ২. কাপড় পবিত্র হওয়া। (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৪, তিরমিজি, হাদিস : ১, ৩)

    ৩. নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া। (সুরা বাকারা, আয়াত ১২৫, তিরমিজি হাদিস : ১, ৩)

    ৪. সতর ঢাকা (অর্থাৎ পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং নারীদের চেহারা, দুই হাত কবজি পর্যন্ত ও পায়ের পাতা ছাড়া গোটা শরীর ঢেকে রাখা। মনে রাখা আবশ্যক, পর্দার ক্ষেত্রে নারীদের পুরো শরীরই সতরের অন্তর্ভুক্ত)। (সুরা আরাফ, আয়াত ৩১, সুরা নুর, আয়াত ৩১, আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৬ হাসান, মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৭৫৬ হাসান, তিরমিজি ১/২২২, হাদিস : ১১৭৩, ৩৭৭ সহিহ, আবু দাউদ ১/৯৪, হাদিস : ৬৪১ সহিহ, ২/৫৬৭, হাদিস : ৪১০৪ গ্রহণযোগ্য, মারাসিলে আবি দাউদ, ৮৬ হাদিস : ২৮ গ্রহণযোগ্য)

    ৫. কিবলামুখী হওয়া। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৪৪, বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১)

    ৬. ওয়াক্তমতো নামাজ পড়া। (সুরা নিসা আয়াত : ১০৩, বুখারি ১/৭৫, হাদিস : ৫২১)

    ৭. অন্তরে নির্দিষ্ট নামাজের নিয়ত করা। (বুখারি শরিফ ১/২, হাদিস : ১)

     

    নামাজের ভেতরে ছয়টি কাজ ফরজ

    ১.  তাকবিরে তাহরিমা, অর্থাৎ শুরুতে আল্লাহু আকবার বলা।

    (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৩, বুখারি ১/১০১, হাদিস : ৮৩৩, মুসলিম ১/১৭৬, হাদিস : ৪১১, ৪১২, তিরমিজি ১/৫৫, হাদিস : ২৩৮)

    ২. ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ দাঁড়িয়ে পড়া। (সুরা বাকারা, আয়াত ২৩৮, বুখারি ১/১৫০, হাদিস : ১১১৭, তিরমিজি ১/৬৬, হাদিস : ৩০৪)

    ৩. কেরাত পড়া (অর্থাৎ কোরআন শরিফ থেকে ন্যূনতম ছোট এক আয়াত পরিমাণ পড়া ফরজ।) (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত ২০, বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১, তিরমিজি ১/৬৬, ৬৭, হাদিস : ৩০২, ৩০৩ সহিহ)

    ৪. রুকু করা। (সুরা হজ, আয়াত ৭৭, বুখারি ১/১৫০, হাদিস : ১১১৩, ১১১৪, মুসলিম ১/১৭৭, হাদিস : ৪১২)

    ৫. দুই সিজদা করা। (সুরা হজ, আয়াত ৭৭, বুখারি ১/১০১, হাদিস : ৭৩৩, মুসলিম ১/১৭৬, হাদিস : ৪১১)

    ৬. শেষ বৈঠক (নামাজের শেষে তাশাহুদ পরিমাণ বসা) (আবু দাউদ : ১/১৩৯, হাদিস : ৯৭০)

    বি. দ্র. : নামাজি ব্যক্তির নিজস্ব কোনো কাজের মাধ্যমে (যেমন—সালাম ফেরানো ইত্যাদি) নামাজ থেকে বের হওয়াও একটা ফরজ। (আল বাহরুর রায়িক : ১/৫১৩)

    নামাজের কোনো ফরজ বাদ পড়লে নামাজ বাতিল হয়ে যায়। সাহু সিজদা করলেও নামাজ সহিহ হয় না। (আল বাহরুর রায়িক : ১/৫০৫, ফাতাওয়া শামি : ১/৪৪৭, হিদায়া : ১/৯৮)

  • আল্লাহর আদেশে শান্তি খুঁজে পেয়েছেন দাঙ্গাল কন্যা জায়রা

    আল্লাহর আদেশে শান্তি খুঁজে পেয়েছেন দাঙ্গাল কন্যা জায়রা

    ভারতীয় সিনেমার নতুন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম। আমির খানের সঙ্গে ‘দাঙ্গাল’-এর পর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে ‘দ্য স্কাই ইন পিঙ্ক’ সিনেমায় অভিনয় করেন।

    এত কম বয়সে তার অভিনয় দক্ষতা প্রশংসিত হয়। ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড-ন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর একসেপশনাল অ্যাচিভমেন্ট পেয়েছেন জায়রা।

    সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে অভিনয় থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেই পোস্ট নিজের টুইটার, ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করেছেন জায়রা।

    জানিয়েছেন, আল্লাহ’র আদেশে তিনি শান্তি খুজেঁ পেয়েছেন।

    ২০১৬ সালে আমির খানের সঙ্গে ‘দাঙ্গাল’ ছবিতে অভিনয় করেন জায়রা ওয়াসিম। এটাই ছিল শুরু। গত মার্চে প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে তার সিনেমা ‘দ্য স্কাই ইন পিঙ্ক’-এর শুটিংও শেষ হয়েছে।

    জায়রা তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, পাঁচ বছর আগে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা চিরকালের জন্য তার জীবন বদলে ফেলেছে। যে মুহূর্তে তিনি বলিউডে পা রেখেছিলেন, তার জন্য বিশাল জনপ্রিয়তার দরজা খুলে গিয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠছিলেন, সাফল্যের প্রতীক হিসাবে তাকে তুলে ধরা হয়েছিল এবং প্রায়ই তাকে তরুণদের রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। কিন্তু, তিনি যা করতে চেয়েছিলেন বা হতে চেয়েছিলেন, তার কোনোটা এসব নয়, তার কাছে সাফল্য এবং ব্যর্থতার যা ধারণা, তিনি নতুন করে তা বুঝতে শুরু করেছেন।

    জায়রা লিখেছেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি আমি অনেক দিন ধরে অন্য একজন হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছি, যদিও আমি এখানে সুন্দরভাবে ফিট হতে পারব, কিন্তু আমি এর জন্য নই। এই জগত আমাকে অনেক ভালোবাসা, সমর্থন, প্রশংসা দিয়েছে, কিন্তু এই জগত আর যেটা করেছে তা হলো আমাকে ক্রমশ অবমাননার দিকে ঠেলে দিয়েছে, ক্রমশ অসচেতনভাবে আমি আমার ইমান (বিশ্বাস) থেকে বেরিয়ে এসেছি। কারণ আমি এমন একটা পরিবেশে কাজ করতাম যা ক্রমাগত আমার ইমানের মাঝে এসে দাঁড়াত, ধর্মের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বিপন্ন হয়ে পড়েছিল।’

    জায়রা তার পোস্টে জানিয়েছেন, ক্রমাগত সেই বাধার সঙ্গে মানসিকভাবে লড়তে শুরু করেন তিনি। বারবার নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, এমন একটা ফিল্ডে তার কাজের সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিক এবং সেটা কখনও তার জীবনকে প্রভাবিত করবে না।

    তবে ‘নিজের উপর থেকে সমস্ত বারাখা (আশীর্বাদ)’ হারিয়ে ফেলছিলেন বলে জানান জায়রা।

    এরপর জায়রা লেখেন, ‘কোরানের বিশাল এবং ঐশ্বরিক জ্ঞানের মধ্যে আমি তৃপ্তি এবং শান্তি খুঁজে পেয়েছি। প্রকৃতপক্ষে হৃদয় তার সৃষ্টিকর্তার জ্ঞান, তার গুণাবলী, তার করুণা এবং তার আদেশের জ্ঞান অর্জনে শান্তি পায়।’

    নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বদলে আল্লাহ’র ওপরেই যে ভীষণভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন জায়রা, তার উল্লেখও রয়েছে পোস্টে।

    এতদিন নিজের বিবেকের সঙ্গে প্রতারণা করে কীভাবে সৃষ্টিকর্তা দ্বারা সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে নিজের জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি, তারও উল্লেখ রেখেছেন ওই পোস্টে।

    শেষে সবার প্রতি জায়রার উপদেশ, ‘সাফল্য, খ্যাতি, সম্পদ যে পর্যায়ে পৌঁছে যাক না কেন, তাতে যেন কখনো শান্তি এবং নিজের বিশ্বাস হারিয়ে না যায়’।

    এর আগে ২০১৮ সালে নিজেকে ভীষণ অবসাদগ্রস্ত জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন জায়রা।

    সেই পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, গত চার বছর ধরে দিনে পাঁচ বার করে অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট খেতে হয় তাকে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুম হয় না। এমনকি মানসিক অবসাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কখনও কখনও তার আত্মহত্যার চিন্তাও মাথায় এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন জায়রা।

  • কেউ মারা গেলে করণীয়

    কেউ মারা গেলে করণীয়

    কারো মৃত্যুর সংবাদ শোনামাত্র ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়বে। ইন্তেকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার হাত-পা সোজা করে দেওয়া। চোখ-মুখ বন্ধ করে দেওয়া। খাটিয়ার ওপর শুইয়ে সম্পূর্ণ শরীর চাদর দ্বারা ঢেকে দেবে। যত দ্রুত সম্ভব দাফনের ব্যবস্থা করবে। (মুসলিম, হাদিস : ৯১৮, তিরমিজি : ১/২০৬, ফাতাওয়া শামি : ২/১৯৩, ৩/১৫১-১৫২)

    কেউ মৃত্যুবরণ করলে চওড়া পট্টি দিয়ে তার চোয়াল বেঁধে দেওয়া মুস্তাহাব (ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য) এবং তার চোখ বন্ধ করে দেওয়া। (মুসলিম, হাদিস : ১৫২৮)

    চোখ বন্ধ করার সময় এ দোয়া পাঠ করবে

    উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইয়াসসির আলাইহি আমরাহু ওয়া সাহহিল আলাইহি মা-বাদাহু, ওয়াস আদহু বি-লিকাইকা, ওয়াজআল মা খারাজা ইলাইহি মিনমা খারাজা মিনহু।

    অর্থ : আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়ে আসা দ্বিন অনুযায়ী। হে আল্লাহ! তার বিষয়াদি সহজ করে দিন এবং পরের বিষয়গুলোও তার জন্য সহজ করে দিন। আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য তাকে দান করুন। তার কাছে আগন্তুক বস্তুগুলোকে প্রস্থানকৃত বস্তু থেকে উত্তম করে দিন। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৭)

    মৃত ব্যক্তির হাতদ্বয় সিনার ওপর রাখবে না, বরং তার দুই পাশেই রাখতে হবে। (সুনানে কুবরা, হাদি : ৬৮৪৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৪১)

    গোসল দেওয়ার আগে মৃত ব্যক্তির পাশে উচ্চৈঃস্বরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা মাকরুহ। (আবদুর রাজ্জাক : ৩/৩৮৬)

    মৃত্যুর খবর প্রচার করা এবং অনতিবিলম্বে কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা মুস্তাহাব। (বুখারি, হাদিস : ১১৬৮, আবু দাউদ, হাদিস : ২৮৪৭)

    টাকার বিনিময়ে কোরআনখানি করা বৈধ নয়

    মৃত ব্যক্তির নামে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কোরআন পড়িয়ে টাকা দেওয়া-নেওয়া ও খানা খাওয়া নাজায়েজ। আর যেহেতু টাকা বা কোনোরূপ বিনিময় নিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করলে স্বয়ং তিলাওয়াতকারীই ওই তিলাওয়াতের কোনো সওয়াব পায় না। তাহলে সে মৃত ব্যক্তির রুহে কী পৌঁছাবে? সুতরাং খতম নিজেদের পড়তে হবে বা এমন লোক দ্বারা পড়াতে হবে, যাদের সঙ্গে আগে থেকে মহব্বত ছিল, যারা বিনিময় ছাড়াই কোরআন পড়ে দেবে। (ফাতাওয়া শামি : ৫/৩৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৩৮৫)

    মৃত ব্যক্তিকে কিভাবে গোসল দেবেন

    মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ফরজে কেফায়া। কিছু লোক যদি তাকে গোসল করিয়ে দেয়, তাহলে সবার পক্ষ থেকে সে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। যদি কেউ তাকে গোসল করিয়ে না দেয়, তাহলে সবাই গুনাহগার হবে। (বুখারি, হাদিস : ১১৮৬, ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৭০)

    মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পদ্ধতি হলো—এমন চকিতে তাকে রাখবে, যার ওপর বেজোড়সংখ্যক সুগন্ধি দিয়ে ধুনি দেওয়া হয়েছে। তার সতর তথা পুরুষের ক্ষেত্রে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় দ্বারা আবৃত করবে। এরপর তার শরীর থেকে কাপড় খুলবে। নামাজের অজুর মতো তাকে অজু করাবে। তবে কুলি করাবে না এবং নাকে পানি দেবে না। বরং পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ওই কাপড় দ্বারা মুখ মুছবে। এরপর বরইপাতার সিদ্ধ পানি তার ওপর ঢালা হবে। যদি বরইপাতা ইত্যাদি পাওয়া না যায়, তাহলে বিশুদ্ধ পানি দ্বারা গোসল দেওয়া যাবে। তার মাথা ও দাড়ি সাবান ইত্যাদি দ্বারা ধৌত করা যাবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৩২, বুখারি, হাদিস : ১৬২)

    এরপর তাকে বাঁ পাশ করে রেখে তার ওপর পানি ঢালতে হবে, যাতে নিচেও পানি পৌঁছে। এরপর ডান পাশ করে শুইয়ে পানি ঢালতে হবে, যাতে সেদিকে নিচে পর্যন্ত পানি পৌঁছে। এরপর তাকে ঠেক লাগিয়ে বসানো হবে। পেট বিনম্রভাবে দাবানো হবে। কোনো মলমূত্র বের হলে সেগুলো ধুয়ে দিতে হবে। পুনরায় গোসল দিতে হবে না। এরপর কাপড় দিয়ে মুছে দেবে। (বুখারি, হাদিস : ১৬২, ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৪৫)

    এরপর তার দাড়িতে ‘হনুত’ এবং সিজদার স্থানগুলোতে কর্পূর দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১১৮০, সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস : ৬৯৫২)

    তবে মৃতের নখ ও চুল কাটা যাবে না। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৬৮৭৬)

    আর মৃত ব্যক্তি নারী হলে তাকে পরিপূর্ণভাবে সতর আবৃত করে গোসল দেবে। মৃতের মাহরাম বা অন্য নারী ওই মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেবে।

    মৃত ব্যক্তিকে কিভাবে কাফন পরাবেন

    মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়া মুসলমানদের ওপর ফরজে কেফায়া। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৮১৯)

    তাই কমপক্ষে এমন পরিমাণ কাফন পরিধান করাবে, যা দিয়ে মৃত ব্যক্তির পুরো শরীর আবৃত  হবে। (বুখারি, হাদিস : ১১৯৮, সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ৬৯৩৭)

    মৃত ব্যক্তিকে তার নিজস্ব সম্পদ থেকে কাফন দেবে, যাতে অন্যের হক সংশ্লিষ্ট না থাকে। (বুখারি : ৫/১৪)

    যদি নিজের কোনো সম্পদ না থাকে, তাহলে তাকে কাফন দেওয়ার দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তাবে—জীবিত অবস্থায় যাদের আহারবিহারের দায়িত্ব তার ওপর ছিল। যদি তাদের কাছেও কোনো সম্পদ না থাকে, তাহলে কাফনের ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে করতে হবে। যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে সক্ষম ও সচ্ছল মুসলমানদের ওপর তার কাফনের ব্যবস্থা করা ওয়াজিব।

    কাফন তিন প্রকার
    ১. সুন্নত কাফন, ২. কেফায়া কাফন এবং ৩. প্রয়োজনীয় কাফন।

    পুরুষের সুন্নত কাফন হলো—কমিস, ইজার ও লেফাফা। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৬৫, মুআত্তা মুহাম্মদ ২/৮৮)

    পুরুষের কেফায়া কাফন হলো ইজার ও লেফাফা। এর চেয়ে কম করা মাকরুহ। (বুখারি, হাদিস : ১১৮৬)

    পুরুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাফন হলো, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কাফন পাওয়া যায়। সেটা শুধু সতর ঢাকা পরিমাণই হোক না কেন। (বুখারি, হাদিস : ১১৯৭)

    নারীদের সুন্নত কাফন হলো লেফাফা, ইজার, কমিস, ওড়না ও সিনাবন্দ। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৪৫)

    নারীদের কেফায়া কাফন হলো ইজার, লেফাফা ও ওড়না। (হেদায়া : ১/৮৯)

    নারীদের জরুরি কাফন হলো প্রয়োজনের সময় যতটুকু পাওয়া যায়। উত্তম হলো সিনাবন্দ বক্ষ থেকে রান পর্যন্ত হওয়া। (বুখারি, হাদিস : ১১৯৭)

    কাফনের কাপড় সাদা হওয়া উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ৯১৫, মুসলিম, হাদিস : ১৫৬৩)

    ইজার মাথা থেকে পা পর্যন্ত হবে। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৬৯৩৭, মুআত্তা মুহাম্মদ : ২/৮৮)

    লেফাফা ইজার থেকে এক হাত লম্বা হবে। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৬৯৩৭)

    কমিস কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত হবে। কমিসে হাতা হবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৬০)

    পুরুষকে কাফন পরানোর নিয়ম হলো—প্রথমে লেফাফা রাখবে। তারপর লেফাফার ওপর ইজার রাখবে, অতঃপর কমিস রাখবে। এরপর মৃত ব্যক্তিকে এর ওপর রেখে প্রথমে কমিস পরাবে। অতঃপর ইজারকে বাঁ দিক থেকে চড়ানো, এরপর ডান দিক থেকে চড়ানো। এরপর বাঁ দিক থেকে লেফাফা মুড়ে দেওয়া, তারপর ডান দিক থেকে লেফাফা মোড়ানো। উভয় দিক থেকে কাফনকে বেঁধে দেওয়া, যাতে কাফন এলোমেলো না হয়ে যায়। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৪৫, বাদায়ে : ৩/২৫৮)

    নারীদের কাফন দেওয়ার পদ্ধতি হলো—প্রথমে লেফাফা বিছাবে। লেফাফার ওপর ইজার, তার ওপর কমিস বিছাবে। প্রথমে কমিস পরাবে। চুলগুচ্ছকে দুই ভাগ করে সিনার দুই পাশে কমিসের ওপর রেখে দেওয়া। এরপর ওড়না মাথার ওপর রাখা। ওড়না পেঁচানোও যাবে না, বাঁধাও যাবে না। বরং শুধু রেখে দিতে হবে। এরপর ইজারকে প্রথমে বাঁ দিক থেকে, তারপর ডান দিক থেকে পেঁচিয়ে সিনার দিক থেকে বেঁধে দেওয়া। অতঃপর লেফাফা পেঁচিয়ে দেওয়া। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৫২, ২৬৪, আবু দাউদ : ২৭৪৫)

    জানাজার নামাজ পড়ার নিয়ম

    জানাজার নামাজে ইমাম মৃত ব্যক্তির বক্ষ বরাবর দাঁড়াবে। (বুখারি, হাদিস : ১২৪৬)

    ইমামের পেছনে মুক্তাদিদের কাতার হবে। (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩১০২)

    সবাই আল্লাহর ইবাদত হিসেবে জানাজার ফরজ আদায়ের নিয়ত করবে। (বুখারি, হাদিস : ১)

    উল্লেখ্য, নিয়ত মনে মনে করা ফরজ। মুখে পড়া ফরজ নয়। তাই মনে মনে শুধু এতটুকু নিয়ত করলেই হবে যে জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া, চার তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায় করছি। নামাজ আল্লাহর জন্য, দোয়া মাইয়্যেতের জন্য।

    এরপর তাকবিরে তাহরিমা বলবে এবং কান পর্যন্ত হাত উঠাবে। এরপর ছানা পড়বে। এরপর তাকবির বলে দরুদ পাঠ করবে। এই তাকবিরে হাত ওঠাবে না। তারপর তৃতীয় তাকবির বলে মৃত ব্যক্তি ও মুসলমানদের জন্য দোয়া করবে। তখনো হাত ওঠাবে না। তারপর চতুর্থ তাকবির বলবে। তখনো হাত ওঠাবে না। (দারাকুতনি : ১৮৫৩, ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৯৫)

    অতঃপর ডান ও বাঁ দিকে সালাম ফেরাবে। (সুনানে কুবরা : ৭২৩৮)

    ইমাম তাকবির উচ্চৈঃস্বরে বলবে এবং বাকি দোয়া-দরুদ অনুচ্চৈঃস্বরে পড়বে। মুক্তাদিরা সবই অনুচ্চৈঃস্বরে পড়বে। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৮৪, সুনানে কুবরা, হাদিস : ৭৪৩৩)

    জানাজার নামাজের সুন্নত নিয়ম হলো

    ১। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হোক বা নারী, ইমাম তার সিনা বরাবর দাঁড়াবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১২৪৬)

    ২। প্রথম তাকবিরের পর ছানা পড়া। জানাজার নামাজের ছানা নামাজের ছানার চেয়ে কিঞ্চিৎ ভিন্ন।

    উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা ছানা-উকা ওয়া লা-ইলাহা গায়রুক।

    ৩। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ পড়া। (আমাদের নামাজে যেই দরুদ পড়ি) ৪। তৃতীয় তাকবিরের পর দোয়া পড়া। (ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৯৫)

    মৃত ব্যক্তি যদি বালেগ পুরুষ বা মহিলা হয়, তবে এই দোয়া পড়া

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফির লিহাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়েবিনা ওয়া ছগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উংছানা, আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম ওয়ামান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমান।

    অর্থ : হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত এবং মৃতদের, উপস্থিত এবং গায়েবদের, ছোট এবং বড়দের ও আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ইমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৪৫)

    মৃত যদি ছেলে শিশু হয়, তবে এই দোয়া পড়া

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজআলহু লানা ফারাতাঁও ওয়াজআলহু লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহু লানা শা-ফিআও ওয়া মুশাফ্ফাআ।

    আর মেয়েশিশু হলে এই দোয়া পড়া

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজআলহা লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহা লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহা লানা শা-ফিআতাঁও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।

    চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে। মনে রাখতে হবে, জানাজার নামাজে প্রথম তাকবির ছাড়া পরের তাকবিরগুলোতে হাত উত্তোলন করবে না। আর নামাজিদের কাতার তিন, পাঁচ, সাত—এভাবে বিজোড়ভাবে দাঁড় করাবে। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৭২৩৮, দারাকুতনি, হাদিস : ১৮৫৩)

    বিশেষ অবস্থায় জানাজার নামাজ

    যদি মৃত ব্যক্তির অভিভাবক জানাজা আদায় করে ফেলে, তবে আবার জানাজা পড়া যাবে না। (মবসুত : ২/১২০, তাবকাতে ইবনে সাআদ : ৩/৩৬৯)

    যদি জানাজা ছাড়া মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয়, তাহলে লাশ পচে ফেটে যাওয়ার আগে তার কবরের ওপর জানাজা পড়ে দেওয়া যাবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৫৫৪, বুখারি, হাদিস : ১২৩৭)

    যদি লাশ একাধিক হয়, তবে উত্তম হলো প্রত্যেকের জন্য পৃথকভাবে জানাজা পড়া। তবে সব লাশ একত্র করে একবার জানাজা পড়ে দেওয়াও জায়েজ। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৭০৫২, মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৪১৪)

    যদি একাধিক মৃত ব্যক্তির জানাজা একসঙ্গে পড়াতে হয়, তবে লম্বা করে লাশের কাতার বানাবে। প্রথমে পুরুষদের লাশ, তারপর বাচ্চাদের লাশ, এরপর নারীদের লাশ রাখা হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৭৯, ইবনে আবি শায়বা : ৩/৩১৫)।

    যে শিশুসন্তান জন্ম নেওয়ার পর তার মধ্যে জীবিত থাকার আলামত পাওয়া যায় এবং পরে মৃত্যুবরণ করে তার নাম রাখা হবে এবং জানাজা পড়া হবে। কিন্তু যে শিশুর মধ্যে জীবিত থাকার কোনো আলামতও দেখা যাবে না, তার জানাজা পড়া হবে না। বরং তাকে গোসল দিয়ে একটি কাপড় পেঁচিয়ে দাফন করা হবে। (বুখারি, হাদিস : ১২৭০, তিরমিজি, হাদিস : ৯৫৩)

    কোনো ওজর-অপারগতা ছাড়া মসজিদে জানাজা পড়া মাকরুহ। তবে অপারগতা থাকলে যে মসজিদে জামাত হয় সেখানে জানাজার নামাজ পড়াতে কোনো সমস্যা নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৫০৬, মুসলিম, হাদিস : ১৬১৫)

    যে ব্যক্তি ইমামকে জানাজার দুই তাকবিরের মধ্যে পায় সে অপেক্ষা করবে। ইমাম যখন দ্বিতীয় বা তৃতীয় তাকবির বলবে তখন ইমামের ইকতিদা করবে এবং দোয়ায় ইমামের অনুসরণ করবে। ছুটে যাওয়া তাকবির লাশ ওঠানোর আগে কাজা করবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৩/৫০৬, আব্দুর রাজ্জাক : ৩/৪৮৪)

    যে ব্যক্তি তাকবিরে তাহরিমা বলার পর দ্বিতীয় তাকবির বলার আগে আসবে সে তৎক্ষণাৎ ইমামের ইকতিদা করবে দ্বিতীয় তাকবিরের জন্য অপেক্ষা করবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি মায়বা : ৩/৩০৬)

    যে ব্যক্তি ইমাম চতুর্থ তাকবির বলার পর সালাম ফেরানোর সময় উপস্থিত হয় সে জানাজাপ্রাপ্ত হয়নি বলেই বিবেচিত হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা :  ৩/২৯৫)

    আত্মহত্যাকারী ব্যক্তিকেও গোসল দেওয়া হবে এবং তার ওপর জানাজা পড়া হবে। (দারাকুতনি : ১৭৮৮)

    যে ব্যক্তি নিজের মা-বাবাকে নিপীড়নের মাধ্যমে হত্যা করেছে, তার ওপর জানাজার নামাজ পড়া হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৪৫৬, সুনানে কুবরা, হাদিস : ১৫১৫৮)

    মৃতদেহ কিভাবে বহন করব

    মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া মুসলমানদের ওপর ফরজে কেফায়া। অনুরূপ মৃতদেহ বহন করাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা মুরসালাত, আয়াত : ২৫, ২৬, সুরা মায়েদা, আয়াত : ৩১)

    উত্তম হলো মৃত ব্যক্তির খাট সবার আগে ওঠানোর ক্ষেত্রে ইখলাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাদ ইবনে মাআজের মৃতদেহ নিজ হাতে উঠিয়েছিলেন। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৪৭, মুসলিম, হাদিস : ১৫৭১)

    মৃত ব্যক্তির খাট চার ব্যক্তি কর্তৃক ওঠানো মুস্তাহাব। উত্তোলনকারী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সুন্নত হলো মৃতদেহ নিয়ে ৪০ কদম হাঁটা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৬৭)

    মৃত ব্যক্তির খাট এমনভাবে ওঠানো মুস্তাহাব, যাতে মৃতদেহ নড়াচড়া না করে। (বুখারি, হাদিস : ৫০৬৭, মুসলিম ১৪৬৫, তিরমিজি, হাদিস : ৯৩৬)

    মৃতদেহের পশ্চাতে গমন করা তার অগ্রভাগে গমন থেকে উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৩২)

    মৃতদেহ মাটিতে রাখার আগে বসা মাকরুহ। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৪১)

    মৃতকে কিভাবে দাফন করব

    কবর কমপক্ষে কোমর পরিমাণ গভীর হওয়া মুস্তাহাব। তার চেয়ে বেশি হলে আরো উত্তম। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৮০০)

    কবরকে ‘লাহাদ’ বানানো উত্তম। যদি মাটি নরম হয়, তবে ‘শক’ বানানো যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৬)

    মৃত ব্যক্তিকে কবরে ডান পাশ করে কিবলামুখী রাখা। মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় ‘বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রাসুলিল্লাহ’ বলা।

    মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর কাফনের গিরা খুলে দেওয়া।

    মৃত ব্যক্তি নারী হলে তাকে কবরে রাখার সময় পর্দা দেওয়া। আর পুরুষ হলে কবরে পর্দা না দেওয়া।

    মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর ওপরে কাঁচা ইট বা বাঁশ ইত্যাদি দিয়ে আগে কবরের মুখ বন্ধ করে দেওয়া। পাকা ইট দেওয়া মাকরুহ। যদি কাঁচা ইট বা বাঁশ ইত্যাদি পাওয়া না যায়, তবে পাকা ইট দেওয়া মাকরুহ নয়।

    মৃত ব্যক্তির দাফনে শরিক সবাই নিজের উভয় হাতে কবরে তিনবার মাটি দেওয়া মুস্তাহাব। প্রথমবার মাটি ঢালার সময় বলবে ‘মিনহা খালাকনাকুম’, দ্বিতীয়বার মাটি ঢালার সময় বলবে ‘ওয়া ফিহা নুঈদুকুম’, তৃতীয়বার ঢালার সময় বলবে ‘ওয়া মিনহা নুুখরিজুকুম তারাতান উখরা’।

    এরপর মাটি দিয়ে কবরকে বন্ধ করে দেবে। মাটির স্তূপ দিয়ে কবরকে উটের পিঠের মতো বানাবে। চৌকোনা বানাবে না।

    সৌন্দর্য ও গৌরব করে কবরের ওপর ঘর বানানো হারাম। কবরকে শক্ত করার জন্য বানানোও মাকরুহ।

    ঘরে মৃত ব্যক্তি দাফন করা মাকরুহ। কারণ ঘরে দাফন করা নবীদের বৈশিষ্ট্য।

    অপারগতার কারণে এক কবরে কয়েকজনকে দাফন করা জায়েজ আছে। এক কবরে একাধিক মৃতদেহ দাফন করার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মাটির স্তূপ বানিয়ে পৃথক করে দেওয়া।

    জাহাজে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল দেওয়া হবে, কাফন পরানো হবে এবং জানাজাও পড়া হবে। যদি মাটি বেশি দূরে হয় এবং এত সময়ের মধ্যে মৃতদেহ পচে যাওয়ার আশঙ্কা হয়, তবে তা সাগরে ভাসিয়ে দেবে।

    মৃত ব্যক্তি যে স্থানে মৃত্যুবরণ করেছে, সেখানেই দাফন করা মুস্তাহাব।

    যদি মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়ার সময় কিবলামুখী রাখা না হয় অথবা বাঁ পাশ করে শোয়ানো হয় এবং কবর বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন এসব শুদ্ধ করে দেওয়ার জন্য কবর খোঁড়া নিষেধ।

  • পরিশুদ্ধ জীবন লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ও দোয়া

    পরিশুদ্ধ জীবন লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ও দোয়া

    সুন্দর ও উত্তম চরিত্র গঠনে কুরআন-সুন্নাহর উপদেশ গ্রহণের বিকল্প নেই। মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই যা কুরআন ও সুন্নায় বিশদ বর্ণনা করা হয়নি। তাইতো কুরআন এবং হাদিসের শিক্ষা ও বিধান বাস্তবায়নেই মানুষ হয়ে ওঠেছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। অজ্ঞতার যুগে মানুষ পেয়েছে আলোকিত সমাজ।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে উত্তম চরিত্র লাভে কুরআনের বাণী শুনিয়েছেন বুঝিয়েছেন নিজ ভাষায়। উদ্দেশ্য একটাই মানুষ যেন- দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায় থেকে মুক্ত থেকে নৈতিক উন্নত চরিত্র লাভ করে। সব সময় সব কাজে অন্তরে আল্লাহর ভয় পোষণ করে।

    পরিশুদ্ধ জীবন লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ তুলে ধরা হলো-

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মাঝে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে ব্যক্তি আল্লাহকে বেশি ভয় করে।’

    >> অন্য হাদিসে প্রিয় নবি বলেন, ‘কোনো মানুষ যদি পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে চায়, তবে সে যেন উত্তম চরিত্র অর্জন করে।’ এ হাদিস থেকে প্রমাণিত চরিত্রই মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

    >> ‘যে বক্তি সবচেয়ে বড় আলেম হতে চায়, তার জন্য তাকওয়া অর্জন করা আবশ্যক। কারণ আল্লাহর ভয় ছাড়া আলেম হওয়া সম্ভব নয়।’ আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন-
    ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি; পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে; যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান যে সর্বাধিক আল্লাহকে ভয় করে। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং সব খবর রাখেন। (সুরা হুজরাত : আয়াত ১৩)

    >> প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে নির্লোভী হতে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সম্মানিত হতে পারবে ওই ব্যক্তি, যে মানুষের কাছে কোনো কিছু হাত পেতে চায় না।’

    >> বিশ্বনবি সব সময় আল্লাহ তাআলার স্মরণ করতে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত ওই ব্যক্তি, যে অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করে। আল্লাহ তাআলা নিজেও মানুষকে বেশি বেশি জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন-

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর; এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর। তিনিই তোমাদের প্রতি রহম করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখানোর জন্য রহমতের দোয়া করে। তিনি মুমিনদের প্রতি দয়ালু।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৪১-৪৩)

    >> পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ জীবন লাভে আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতার বিকল্প নেই। তাই আত্মশুদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন জীবন লাভে সব সময় পূতঃপবিত্র থাকা জরুরি। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সব সময় ওজুর সঙ্গে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার রিজিকের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে দেন।’

    >> আল্লাহর কাছে ইবাদত-বন্দেগি কবুলের প্রথম শর্তই হলো হারাম থেকে বেঁচে থাকা। বিশ্ননবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির সব দোয়া (চাওয়া-পাওয়া) আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, যে ব্যক্তি সব সময় হারাম থেকে বেঁচে থাকে।’

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদেরকে বিশেষ তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে গোনাহমুক্তভাবে উপস্থিত হওয়ার আমল হলো, স্ত্রী সহবাসের পর দ্রুত পবিত্র হয়ে নেয়া।’

    >> হাশরের ময়দানে যখন আল্লাহর ছায়া এবং আলো ছাড়া আর কারো ছায়া বা আলো থাকবে না, সে দিনও কিছু লোক আল্লাহর ছায়া অবস্থান করবে এবং আলোয় পথ দেখবে। বিশ্বনবি বলেন- ‘পরকালে ওই ব্যক্তি আল্লাহর নূরসহ ওঠবে; যে ব্যক্তির দ্বারা কখনও মানুষ অত্যাচিরত হবে না।’ সুতরাং কোনোভাবে কারো প্রতি জুলুম বা অত্যাচার করা যাবে না।

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হবে যে, আল্লাহর ফরজ বিধান পালনে গুরুত্বের সঙ্গে যত্নবান হবে।’

    >> সবর মানুষের এমন এক উন্নত চারিত্রিক গুণ, যা এ ছোট্ট হাদিস থেকে উপলব্দি করা যায়। হাদিসে পাকে এসেছে, ‘দুনিয়ার বিপদাপদে যে ব্যক্তি সবর বা ধৈর্য ধারণ করবে, ওই ব্যক্তির দ্বারা জাহান্নামের আগুণ নেভানো সম্ভব হবে।’

    সুতরাং মানুষের উচিত চরম রাগ বা উত্তেজনার সময়েও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। আর তা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে তিনটি উপায় তুলে ধরেছেন-

    – অতি গোপনে সাদকা তথা গরিব-অসহায়কে দান-সহযোগিতা করা।
    – আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
    – কোনোভাবেই কারো (মানুষের) ওপর রাগ বা অভিমান করা যাবে না। সর্বাবস্থায় রাগ বর্জন করা।

    কুরআন ও সুন্নার এ নসিহতগুলো দুনিয়া ও পরকালের অফুরন্ত কল্যাণ লাভে মেনে চলার বিকল্প নেই। কুরআন-সুন্নাহর উপদেশ গ্রহণের মাধ্যমে উত্তম চরিত্র এবং সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনের পাশাপাশি পরিশুদ্ধ জীবন লাভ করাই মুমিন বান্দার একান্ত নৈতিক দায়িত্ব ও কাজ।

    সর্বোপরি আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করা এবং বিশ্বনবির শেখানো ছোট্ট এ দোয়াটি পড়া-

    اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা; ওয়াত তুক্বা; ওয়াল আ’ফাফা; ওয়াল গেনা।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত (পরিশুদ্ধ জীবন) কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ-সামর্থ্য (আর্থিক স্বচ্ছলতা) কামনা করি। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দর ও পরিশুদ্ধ জীবন লাভে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুপম আদর্শ গ্রহণে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • বিশ্বনবির যে ৩ উপদেশে সুন্দর জীবন গঠন করবে মুমিন

    বিশ্বনবির যে ৩ উপদেশে সুন্দর জীবন গঠন করবে মুমিন

    মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যই হচ্ছে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হলো দুটি। তিনি যে কাজে সন্তুষ্ট হন তা পালন করা। আর যা তিনি পছন্দ করেন না তা থেকে বিরত থাকা। গোনাহমুক্ত সুন্দর জীবন গঠনে হাদিসে ৩টি উপদেশ দেয়া হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাতে ৬টি কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। যার ৩টি কাজ মেনে চলতে হবে আর ৩টি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিক-নির্দেশনামূলক এ হাদিসটি তুলে ধরা হলো-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। (আর তাহলো)-

    >> যখন তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর।
    >> তাঁর সঙ্গে (কাউকে বা কোনো কিছুকে) বিন্দুমাত্র শরিক করো না।

    >> আল্লাহর বিধানকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর আর (তা থেকে) বিচ্ছিন্ন হও না।

    আল্লাহ যাকে তোমাদের কাজের নেতা হিসাবে নির্বাচন করেন, তার জন্য তোমরা পরস্পরে কল্যাণ কামনা কর। এ তিনটি কাজে আল্লাহ তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।
    আর তোমাদের প্রতি (যে ৩ কাজে) অসন্তুষ্ট হন-
    >> অপ্রয়োজনীয় (বেহুদা) কথা বললে।
    >> সম্পদ নষ্ট করলে এবং
    >> অনর্থক বেশী প্রশ্ন করলে।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনে হিব্বান)

    হাদিসের আলোকে প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত, ‘কুরআন সুন্নাহর বিধান মোতাবেক আল্লাহর ইবাদত করা। তাঁর সঙ্গে কোনোভাবে কাউকে বা কোনো কিছুকে শরিক না করা। জীবনের সর্বাবস্থায় আল্লাহর বিধানকে আঁকড়ে ধরে তা থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া।

    আবার প্রয়োজন ছাড়া অনর্থক গাল-গল্প বা কথা বার্তায় সময় ব্যয় না করা। অন্যায় পথে সম্পদ নষ্ট না করা এবং অযথা একে অপরকে প্রশ্নবানে জর্জরিত না করা।

    উল্লেখিত কাজগুলোর প্রথম ৩টি ছেড়ে দিলে এবং পরের ৩টিতে জড়িয়ে পড়লেই মানুষ গোনাহ ও মারাত্মক পাপের সঙ্গে লিপ্ত হয়। আর তা থেকে বেঁচে থাকতেই উম্মতের জন্য এ নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে হাদিসের আলোকে কল্যাণকার ৩ কাজ গ্রহণ এবং অকল্যাণের ৩ কাজ বর্জনের মাধ্যমে সুন্দর ও সফল জীবন লাভ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • গোনাহ মাফ ও মর্যাদা লাভের সহজ ৩ আমল

    গোনাহ মাফ ও মর্যাদা লাভের সহজ ৩ আমল

    কাজ ছোট কিন্তু উপকারিতা বেশি, এমন অনেক উপায় ও উপদেশ তুলে ধরেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি তাঁর উম্মতকে পরকালে নাজাত লাভের জন্য ছোট এবং পালন করতে সহজ অসংখ্য সুযোগ ও সুবিধার কথা ও কাজের বর্ণনা করেছেন।

    মানুষ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ভুল কিংবা পাপ করে থাকে। আর তা তাদের পরকালে নাজাতের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। গোনাহ মাফ এবং মর্যাদা লাভে ৩টি সহজ কাজের ছোট্ট একটি হাদিস তুলে ধরেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদের বলব না, আল্লাহ কি দিয়ে তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং তোমাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন?
    সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ‘হ্যাঁ’, (আপনি বলে দিন)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    – কষ্ট থাকার পরও ভালোভাবে ওজু করা।
    – মসজিদের দিকে বেশি বেশি আসা-যাওয়া অব্যাহত রাখা। এবং
    – এক নামাজ শেষ করে পরবর্তী নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। আর এটাই হলে ‘রিবাত’ (প্রস্তুতি)।’ (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

    হাদিসে উল্লেখিত ওজু, মসজিদে যাওয়া এবং নামাজের জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে সহজ কাজ আর কী হতে পারে?

    সুতরাং মানুষ প্রতিনিয়তই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ওজু করে, মসজিদে দিকে যাতায়াত করে এবং নামাজ পড়ে। এসব কাজগুলেঅ একনিষ্ঠ নিয়তে আদায় করলেই আল্লাহ তাআলা তার বান্দার গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং দুনিয়া ও পরকালে ওই বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবির এ ছোট্ট ৩টি উপদেশ পালন করে গোনাহ থেকে মুক্ত থাকার এবং মর্যাদা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ইবাদতে আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্ক গভীর হয়

    ইবাদতে আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্ক গভীর হয়

    ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে সম্পর্ক গভীর হয়। সর্বোত্তম ইবাদত হলো নামাজ। নামাজ হলো অন্যতম ফরজ। নামাজকে সঠিক করতে হলে আরেকটি ফরজের প্রয়োজন। আর তা হলো হালাল খাওয়া। ইবাদত কবুল করাতে হলে হারামকে পরিহার করতে হবে এবং হালালকে গ্রহণ করতে হবে। তা যত কঠিন হোক।

    ‘তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে কর, যেন তুমি তাকে দেখছ। আর এমন ভাব যদি তোমার মধ্যে সৃষ্টি না হয় তাহলে কমপক্ষে এ কথা মনে কর যে, আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।’ (মুসলিম)।

    মোল্লা আলী কারি (রহ.) রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস (হে আদমসন্তান! তুমি আমার ইবাদতে আত্মনিয়োগ কর)-এর অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, অর্থাৎ, তুমি তোমার প্রভুর ইবাদত করার সময় মন-দিল উপস্থিত রাখার ব্যাপারে খুব চেষ্টা কর। (মিরকাতুল মাফাতিহ ৭/২৬)।

    হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ বলেছেন, (হাদিসে কুদসি) হে আদমসন্তান! আমার ইবাদতে আত্মনিয়োগ কর, আমি তোমার হƒদয়কে অভাবমুক্ত করে দেব এবং দরিদ্রতা দূর করে দেব। আর যদি তা না কর, তাহলে কর্মব্যস্ততা দ্বারা তোমার হাত ভরে দেব। আর দরিদ্রতাও দূর করব না। (আল মুসনাদ ১৬/২৮৪ তিরমিজি, আবওয়াবুস সিফাতিল কিয়ামাহ)।

    রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই হাদিসে বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করবে তাকে দুটি পুরস্কার দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে যে তা করবে না তাকে দুই প্রকার শাস্তি দেওয়া হবে। পুরস্কার দুটি হচ্ছে-  হৃদয়কে অভাবমুক্ত করে দেওয়া এবং দরিদ্রতা দূর করা। আর শাস্তি দুটি হলো-  কর্মব্যস্ততার দ্বারা হাত ভরপুর করা ও দরিদ্রতা দূর না করা।

    ইমাম হাকেম হজরত মাকাম ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, (হাদিসে কুদসি) (মুসতাদরাক হাকিম হা/৭৯২৬) হে বনি আদম! আমার ইবাদতে আত্মনিয়োগ কর। বিনিময়ে আমি তোমার মনকে অভাবমুক্ত করে দেব। আর তোমাকে রিজিক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেব। হে বনি আদম! আমা হতে দূরে সরে যেও না, যদি যাও তাহলে আমি তোমাদের মনকে অভাবী করে দেব আর কর্মব্যস্ততায় ভরে দেব। (মুসতাদরাক ৪/৩২৬)

    ওই হাদিসের মধ্যেও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর ইবাদাতে আত্মনিয়োগকারীর জন্য দুটি পুরস্কার রয়েছে, আর যে আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাবে তার জন্য দুটি শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। পুরস্কার দুটি হচ্ছে-  মনকে অভাবমুক্ত করে দেওয়া ও হাতকে রিজিক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া। আর শাস্তি দুটি হচ্ছে- মনকে অভাবী করে দেওয়া এবং হাতকে কর্মব্যস্ততার দ্বারা পূর্ণ করে দেওয়া।

    আর এ তো স্পষ্ট কথা যে, আল্লাহ যার মনকে ধনী করে দেবেন, অভাব তার কাছেও আসতে পারবে না। কুলজাহানের রিজিকদাতা আল্লাহ যার হাতকে রিজিক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেবেন সে কখনো রিজিকের জন্য কষ্ট পাবে না। পক্ষান্তরে সর্বশক্তিমান প্রভু যার দিলকে অভাবী করে দেবেন কোনো শক্তি তাকে অভাবহীন করতে পারবে না। আর মহাপরাক্রমশালী বাদশাহ যার হাতকে কর্মব্যস্ততার দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন কোনো শক্তি তাকে এর থেকে বের করতে পারবে না।

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা হজ ও ওমরায় মুতাবায়াত কর। কারণ এ দুটি অভাব ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন রেত লোহার মরিচা দূর করে দেয়। অনুরূপ সোনা-রুপাকেও পরিষ্কার করে দেয়। আর হজে মাবরুরের বদলা বা প্রতিদান একমাত্র বেহেশত। (ফাতহুল কাবির)।

    ইমাম তিবি (রহ.) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, সদকাহ যেভাবে মাল বৃদ্ধি করে, অনুুরূপভাবে হজ ও ওমরাহ গুনাহ এবং অভাবকে দূর করে।

    ইমাম নাসায়ি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুতরাং যারা নিজেদের গুনাহ ও অভাব দূর করতে অধিক আগ্রহী তারা যেন হজ ও ওমরাহর মুতাবায়াত তাড়াতাড়ি করে। যখনই হজ করবে তখনই ওমরাহ পালন করবে বা যখনই ওমরাহ পালনে যাবে তখনই হজ পালন করবে।

  • যে কারণে অহংকার করবে না মুমিন

    যে কারণে অহংকার করবে না মুমিন

    অহংকার মারাত্মক পাপ। যা মানুষের সব আমলকে ধ্বংস করে দেয়। দুনিয়ার প্রথম পাপ বা গোনাহের সৃষ্টি হয়েছে এ আহংকারের মাধ্যমে। অহংকারের মাধ্যমেই ইবলিস চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যার অন্তরে তিল পরিমাণ অহংকার থাকবে; সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যার অন্তরে তিল পরিমাণ ঈমান রয়েছে সে জাহান্নামে যাবে না।’ (তিরমিজি)

    কুরআন এবং হাদিসের আলোকে অহংকার এমন এক মারাত্মক আচরণ। যা একজন বিনয়ী ও সফল ব্যক্তিকে তার সফলতার উচ্চাসন থেকে নিমিষেই নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

    কোনো বক্তিকে গরিব বলে ছোট করলে অহংকার হবে না বরং তার আত্ম-সম্মানে বাধে এরকম হেয় করলেই তা অহংকার হিসেবে পরিগণিত হবে।

    অহংকার হচ্ছে দুনিয়ার সব রোগের মা। এ কারণে আরবিতে অহংকারকে ‘উম্মুল আমরাজ’ বা সব রোগের জননী বলা হয়।

    হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তাআলা সব ফেরেশতাদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা আদমকে সেজদা কর। সব ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশ মেনে নিলেও শয়তান সেজদা করতে অস্বীকৃতি জানায়। কুরআনে সে ঘটনাকে অহংকার হিসেবে উল্লেখ করে। আল্লাহ বলেন-
    ‘সে অস্বীকৃতি জানাল এবং অহংকার করল। আর সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৩৪)

    আর অহংকার এ ঘটনাই হলো পৃথিবীর প্রথম অহংকারের সূচনা। আর এর মাধ্যমেই প্রথম পাপের সূচনা হয়। যে কারণে ‘মুয়াল্লেমুল মালায়েকা’ খ্যাত ইবলিসকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল।

    সুতরাং অহংকার থেকে সাবধান। অহংকার মানুষের সব আমলকে ধ্বংস করে চির জাহান্নামি হিসেবে সাব্যস্ত করে তোলে। অহংকার সম্পর্কে সচেতনতা লাভে এ কথাগুলো মনে রাখতে হবে-

    কোনো বিষয়ে নিজেকে অন্যের তুলনায় সম্মানিত বা বড় মনে করা, অর্থ-সম্পদ বা বয়সে বড় হয়ে ছোট কাউকে ছোট মনে করা আবার অহংকার নয়; বরং অহংকার হলো কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা অবজ্ঞা করা বা হেয় করাই হলো অহংকার।

    আল্লাহ তাআলা কোনো অহংকারী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। তিনি অহংকারী ব্যক্তিকে অনেক নেয়ামত থেকে বঞ্চিত রাখবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘দুনিয়াতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার প্রকাশ করে, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার নিদর্শনাবলী থেকে বিমুখ রাখবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৪৬)

    অহংকারী ব্যক্তি কোনোভাবেই জান্নাতে যেতে পারবে না। জান্নাতে যেতে হলে বা পরকালের চূড়ান্ত সফলতা পেতে হলে অবশ্যই তাকে অহংকারমুক্ত থাকতে হবে।

    হাদিসে জান্নাতের বিপরীতে যেভাবে জাহান্নামের তুলনা করা হয়েছে তেমনি ঈমানের বিপরীতে অহংকারের কথা বলে মুমিন মুসলমানকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে মুমিন ব্যক্তি অহংকার ত্যাগ করে ঈমানকে মজবুত করতে পারে। অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে পারে।

    যুগে যুগে ইসলাম বিরোধী বড় বড় নেতা তথা ফেরাউন, নমরুদ, আবু লাহাব, উতবা, শায়বা এবং আবু জাহেলরা এ অহংকারের কারণেই সত্যকে মেনে নিতে পারেনি। ইসলাম গ্রহণ করতে পারেনি। তারা নিক্ষেপিত হয়েছে ধ্বংসের অতল গহ্বরে। আবার যুগে যুগে সব নবি রাসুলই আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও বিনয়ের কারণেই লাভ করেছে সফলতা।

    সর্বোপরি অহংকার হলো আল্লাহর চাদর। যে ব্যক্তি অহংকার (আল্লাহর চাদর) নিয়ে টানাটানি করবে, আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না বরং ধ্বংস করে দেন। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি ভয় এবং সম্মান করে তারাই হলো অধিক সম্মানিত ও সফল।

    এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুক্তাকি বা আল্লাহভিরু।’ (সুরা হুজরাত : আয়াত ১৯)

    আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালের পতনের মূল অহংকার থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালে সম্মানিত ও সফল হওয়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • খাবারের দোষ-গুণ প্রকাশে বিশ্বনবির সুমহান নীতি

    খাবারের দোষ-গুণ প্রকাশে বিশ্বনবির সুমহান নীতি

    খাবার খাওয়া বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত। রাসুলে আরবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবাদতের শক্তি অর্জনে খাবার গ্রহণ করতেন। সুতরাং খাবার গ্রহণের সময় খাবার গ্রহণকে সুন্নাত মনে করলেই মুমিন বান্দা পেয়ে যাবেন সাওয়াব ও বরকত।

    অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ দাওয়াত কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে খাবারের ভালো-মন্দ বিচার করে থাকে। অনেকে কিছু খাবারকে ভালো বলে আবার অনেক সময় ভালো হয়নি বলে অনীহা প্রকাশ করে। কিন্তু খাবারের ভালো-মন্দ প্রকাশে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রয়েছে সুস্পষ্ট নীতি ও সুন্নাত তরিকা। হাদিসে এসেছে-

    >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। তাঁর নীতি ছিলো, কোনো খাবার জিনিস পছন্দ হলে তা তিনি খেয়ে নিতেন আর অপছন্দ হলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন।’ (মুসলিম)

    >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনো কোনো খাবার জিনিসকে খারাপ বলতে দেখিনি। তার নীতি ছিল, কোনো খাবার পছন্দ হলে তিনি খেতেন। আর তা খেতে আগ্রহ না হলে তা তিনি খেতেন না।’ (মুসলিম)

    সুতরাং কোনো মুমিন মুসলমানের উচিত নয় যে, কোনো খাবারের ব্যাপারে ভালো-মন্দ দোষারোপ করা। আর তা করলে খাবারের সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ হিসেবে বিচেচিত হয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে খাবারের ব্যাপারে হাদিসে ঘোষিত খাবারের দোষ-গুণ বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নীতি অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • কু-নজরের বড় ক্ষতি ও তা থেকে বাঁচার উপায়

    কু-নজরের বড় ক্ষতি ও তা থেকে বাঁচার উপায়

    কুনজর বা কুদৃষ্টি মানুষকে অন্যায় কাজের দিকে ধাবিত করে। এর মাধ্যমেই মানুষ অপরাধের দিকে ধাবিত হয়। অশ্লীলতা ও নগ্নতার প্রভাব বেড়ে যায়। এ কারণেই ইসলাম মানুষকে দৃষ্টির হেফাজতের ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন মুসলমানকে রাস্তার হক আদায় করে চলাফেরা করার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। দৃষ্টিকে অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

    বদ নজরের কারণে মানুষের অন্তর ও চরিত্র বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়। যা মানুষকে ধীরে ধীরে চরিত্রহীনতার দিকে ধাবিত করে। আর তাহলো-

    >> কল্পনা
    কুদৃষ্টি মানুষকে কল্পনাবিলাসী করে তোলে। দৃষ্টি হেফাজত না করে যদি কোনো সুন্দর চেহারার প্রতি নজর যায়। তবে সে চেহারা নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হয় কল্পনা। কল্পনার রাজ্যে মানুষ এমন কোনো হীন অপরাধ বা চিন্তা নাই, যা সে করে না। ফলে কাল্পনিকভাবেই মানুষের মাঝে তৈরি হয় চরম ও জঘন্য গোনাহের কাজ।

    বদ নজরকে বাহন বানিয়ে শয়তান মানুষের মন-মস্তিষ্কে হানা দেয়। একটা সময় মানুষ কল্পনাপ্রসূত চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নে আগ্রাসী হয়ে ওঠে। এ বদ নজর মানুষকে বিধ্বংসী খারাপ চরিত্র থেকে শুরু করে শিরকের দিকে ধাবিত করে।

    দৃষ্টি বা নজর ভালো করতে আল্লাহর ভয় অর্জন করতে হবে। আল্লাহর ভয়ে ভীত লোকদের সংস্পর্শে থাকতে হবে। বিশেষ করে খারাপ মানুষের সংস্পর্শ ত্যাগ করতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সর্তক করেছেন এভাবে-

    ‘আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার চিত্তকে (মনকে) আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি। যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে।’ (সুরা কাহ্‌ফ : আয়াত ২৮)

    >> মস্কিষ্কের বিকৃতি
    বদ নজরের ফলে মানুষ যে কোনো ভালো কাজ বা কথা থেকে দূরে সরে যায়। মানুষের ভালো কথা পছন্দ হয় না। কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে গান-বাদ্য-বাজনায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
    নিজ ঘরে সুন্দরী সতী-সাধবি স্ত্রী থাকা স্বত্ত্বেও মানুষ পরনারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। পশুর চরিত্র ধারণ করে বসে। যা মানুষকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের শেষ প্রান্তে নিয়ে যায়।
    নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পড়া-লেখা ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ মোবাইলসহ ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ও চরিত্র বিধ্বংসী খেলাধুলা ও সিনেমায় আসক্ত হয়ে যায়। দুনিয়ার সব খারাপ তথ্য উপাত্তগুলোকেই জীবনের একমাত্র চাওয়া-পাওয়া মনে করে।

    শিশু, কিশোর, যুবক, ছাত্র, ব্যবসা, চাকরিসহ প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি নিজ নিজ কাজে এমনভাবে অমনোযোগী হয়ে ওঠে যে, এর বিপরীত খারাপ কাজ ছাড়া কোনো কাজেই তার মন বসে না।

    এ থেকে বেঁচে থাকেত আল্লাহর সাহায্য লাভে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশিত এ দোয়া বেশি বেশি পড়া জরুরি-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

    >> ধর্মীয় ঘোড়ামি
    বদ নজরের ফলে মানুষ তাওহিদ থেকে শিরকে দিকে ধাবিত হয় আবার ইবাদতকারী ব্যক্তি বেদায়াতের দিকে ধাবিত। কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন বিষয় পড়তে কিংবা অধ্যয়ন করতে গিয়ে বিপরীত চিন্তা-ভাবনায় নিজেকে জড়িয়ে রাখে।

    স্বচ্ছ ইসলামে বিশ্বাসী মুমিন ব্যক্তির প্রতি ধর্মীয় গোড়ামির কুপ্রভাবে নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ঈমান বিধ্বংস হয়ে যায়। তাওহিদের বিপরীতে শিরকে জড়িয়ে পড়ে। ইবাদত মনে করে বেদায়াতি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে। ফলে মানুষ ঈমানহারা হয়ে যায়।

    সুতরাং মানুষের উচিত, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। এমন কোনো দিকে নজর বা দৃষ্টি না দেয়া যার ফলে মানুষ কুদৃষ্টি বা বদনজরের রাহুগ্রাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

    বদনজর বা কুদৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে বাঁচতে নিয়মিত কুরআনি আমল করে যাওয়া। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। এ আয়াত তেলাওয়াত করা। এ আয়াতের শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। যারা পড়তে পারে না তা লিখে নিজেদের সঙ্গে রাখা-

    وَإِن يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ – وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِينَ

    উচ্চারণ : ওয়া ইয়্যাকাদুল্লাজিনা কাফারু লাইয়ুযলাকুনাকা বি-আবসারিহিম লাম্মা সামিয়ুজ জিকরা ওয়া ইয়াকুলুনা ইন্নাহু লামাঝনুন। ওয়া মা হুয়া ইল্লা জিকরুল লিল-আলামিন।’ (সুরা আল-ক্বালাম : আয়াত ৫১-৫২)

    অর্থ : ‘অবিশ্বাসীরা যখন আল্লাহর কিতাব শুনে তখন এমনভাবে তাকায় যে, মনে হয় এখনই নিজেদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ঘায়েল করে দেবে। তারা এ কথাও বলে যে, সে (এ কিতাবের বাহক) একজন পাগল। অথচ (এরা জানে না) এ কিতাব তো মানবমণ্ডলীর জন্যে একটি উপদেশ বৈ কিছুই নয়!’

    মনে রাখতে হবে
    কুনজরের বড় ক্ষতিগুলো থেকে বাঁচতে কল্পনা, মস্তিষ্কের বিকৃতি ও ধর্মীয় গোড়ামি থেকে বেঁছে থাকা যেমন জরুরি তেমনি বেশি বেশি আল্লাহকে ভয় করাও জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দৃষ্টির হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। খারাপ বা অশ্লীল কাজ ও চিন্তা-চেতনা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। জীবনের যাবতীয় খারাপ ধারনা ও কুনজর থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর সাহায্য ও প্রার্থনার তাওফিক দান করুন। আমিন।