Category: ধর্ম

  • ইফতারের সময় যেসব আমল করতেন বিশ্বনবি

    ইফতারের সময় যেসব আমল করতেন বিশ্বনবি

    রহমত বরকত ও নাজাতের মাস রমজান সমাগত। চাঁদ দেখা গেলেই ৭ মে মঙ্গলবার থেকেই তা পালিত হবে। আল্লাহর নির্দেশ পালনে দিনভর উপবাস করবে মানুষ। সন্ধ্যা হলেই আল্লাহর নির্দেশ পালনে সুন্নাত তরিকায় ইফতার করবে রোজাদার।

    রোজাদারের ইফতারের সময় রয়েছে কিছু করণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। ইফতার সংক্রান্ত করণীয় ও দোয়াগুলো রোজাদারের জন্য পালন করা অনেক সাওয়াব ও কল্যাণের কাজ।

    ইফতারের বিধান

    সারাদিন উপবাস করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙা বা খোলার উদ্দেশ্যে কিছু খাওয়াকে ইফতার বলে। সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে এ ইফতার করা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সুন্নাত। ‘সূর্যাস্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর দেরি না করে দ্রুত ইফতার করে নেয়া সর্বোত্তম।’ (বুখারি)

    ইফতারের সামগ্রী

    খেজুর দ্বারা ইফতার করা উত্তম ও মোস্তাহাব। আর যদি খেজুর না পেলে কিংবা না থাকলে তবে সাদা পানি দ্বারা ইফতার শুরু করা উত্তম।

    মনে রাখতে হবে, ইফতারের সময় সামান্য কিছু দিয়ে হালকা ইফতার করে কিছুক্ষণ পর পরিপূর্ণ খাবার গ্রহণ করা ইসলাম ও বিজ্ঞান সম্মতভাবে উত্তম। এতে শরীর অনেক সুস্থ ও সবল থাকে। তাই মাগরিবের নামাজ আদায় করে ইফতার পরবর্তী খাবার গ্রহণ করা।

    ইফতার সামনে নিয়ে অপেক্ষা করা

    ইফতারের আগে ইফতার সামনে নিয়ে তাসবিহ-তাহলিল ও তাওবা-ইসতেগফার আল্লাহ কাছে অনেক পছন্দনীয়। ইফতারের সময় আল্লাহ বান্দার সব চাওয়াগুলোই পূরণ করে দেন। রোজাদার প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে খাবার সামনে নিয়ে আল্লাহর ভয়ে সময় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। এটি আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয় বিষয়।

    ইফতারের আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া-

    اَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْم – اَلَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ اَلْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْم

    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।

    নিচের দয়াটিও বিশেষভাবে পড়া যায়-

    اَلْحَمْدُ للهِ اَللّهُمَّ إنِّيْ أسْئَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْئٍ أنْ تَغْفِرَلِيْ.

    উচ্চারণ : ‘আলহামদুলিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরলি।’
    অর্থ : ‘সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য; হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে তোমার সর্ববেষ্টিত রহমতের উসিলায় প্রার্থনা করছি, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ (ইবনে মাজাহ)

    ইফতারের সময় বিশ্বনবির দোয়া

    হজরত মুয়াজ ইবনে যুহরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন, তখন এ দোয়া পড়তেন-
    أللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلى رِزْقِكَ أفْطَرْتُ.
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত)

    ইফতার করার পর বিশ্বনবির দোয়া

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-
    ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ
    উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’
    অর্থ : ‘ (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াব ও স্থির হলো ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)

    অন্য কারো ঘরে মেহমান হয়ে ইফতার করলে এ দোয়া পড়া-
    أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ.
    উচ্চারণ : আকালা ত্বাআমাকুমুল আবরারু, ওয়া সাল্লাত আলাইকুমুল মালায়িকাতু, ওয়া আফত্বারা ইংদাকুমুস সায়িমুন।’ (আবু দাউদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইফতারের সময় উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ খেয়াল করার পাশাপাশি রমজানকে গোনাহ মাফের উত্তম উপায় হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • সাহরি খাওয়া সম্পর্কে যা বলেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

    সাহরি খাওয়া সম্পর্কে যা বলেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

    রোজার উদ্দেশ্যে ভোর রাতে খাবার গ্রহণই সাহরি। সাহরি খাওয়া সুন্নত। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণায় সাহরিতে রয়েছে বরকত ও কল্যাণ। অমুসলিমরাও রোজা পালন করে, তাদের রোজায় সাহরি নেই। তাই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহরি গ্রহণ করতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন।

    সাহরি সম্পর্কে বিশ্বনবির ঘোষণা-
    – ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম)

    অন্য হাদিসে এসেছে
    – রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সাহরি খাওয়া বরকতময় কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি কর। কারণ যারা সাহরি খায় আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ইবনে হিব্বান)

    – রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া। (অর্থাৎ মুসলিমরা সাহরি খায় আর ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা সাহরি খায় না)।’ (মুসলিম, নাসাঈ)

    সাহরি খাওয়ার সময়
    ভোর রাতের শেষ মুহূর্তে সাহরি খাওয়া উত্তম। তা পেট ভরে খেতে হবে এমন নয় বরং অল্প হলেও তা অনেক বরকত ও কল্যাণের। কারো যদি পেট ভরা থাকে তাহলে তার অন্তত এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি গ্রহণ করা উচিত। হাদিসে এসেছে-

    সাহরি খাওয়ার সময় শুরু হয় মধ্যরাত থেকে। আর শেষ হয় ফজরের আগে। তবে ফজরের আগে তথা শেষ রাতে সাহরি গ্রহণ করাই সর্বোত্তম।

    যদি কেউ মধ্যরাতের আগে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে; তবে তাকে সাহরি গ্রহণের জন্য শেষ রাতে উঠতে হবে। আর মধ্য রাতের পর খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে সাহরি খাওয়ার বরকত ও হুকুম আদায় হয়ে যাবে।

    – হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যায়েদ বিন সাবেত তাকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাহরি খেয়ে (ফজরের) নামাজ পড়তে ওঠে গেছেন।

    – হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সাহরি খাওয়া ও ফজরের আজান হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কতটুকু? উত্তরে যায়েদ বিন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ’৫০ অথবা ৬০ আয়াত পড়তে যতক্ষণ সময় লাগে।’ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি)

    ৫০/৬০ আয়াত বলতে মধ্যম ধরনের আয়াত। যা তেলাওয়াতে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগবে। সে আলোকে ফজরের আজানের ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সাহরি খাওয়া। অতএব সাহরি খাওয়ার সুন্নাত সময় হলো ফজরের ১৫/২০ মিনিট আগে সাহরি খাওয়া।

    সাহরি গ্রহণের উপকারিতা
    প্রিয় নবি বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাওয়ার অভ্যাস গঠন কর। কারণ সাহরি বরকতময় খাদ্য।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ) যেহেতু সাহরি বরকতময়। তাই সাহরিতে বরকত থাকার অর্থই হলো-
    – সাহরি গ্রহণে রোজাদার সারাদিন সুস্থ ও সবল থাকবে।
    – ইবাদত-বন্দেগিতে আগ্রহের কমতি থাকে না।
    – রোজার কষ্ট হালকা হয়।
    -প্রিয়নবির নির্দেশ পালন করা হয়। এবং
    – ইয়াহুদি-খ্রিস্টানসহ অমুসলিমদের অনুসরণ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

    ক্ষুধা না থাকলেও সাহরিতে যা খাবেন 
    সাহরি খাওয়া বরকতের, তাই বলে সাহরি খাওয়া নিয়ে বাড়াবাড়ি একদমই ঠিক নয়। বিশাল আয়োজনে পেট ভরে সাহরি গ্রহণের কোনো দিক-নির্দেশনাও নেই। বরং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে ইবাদত-বন্দেগিতে অলসতা চলে আসে। রমজানের কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে বঞ্চিত হয় মুমিন মুসলমান।

    তাই অল্প-বিস্তর যে কোনো খাবার গ্রহণেই সাহরি খাওয়ার বিধান পালিত হয়ে যাবে। কেউ যদি খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি বা দুধ পান করে অথবা ২/১টি বিস্কুট বা এ পরিমাণ সামান্য খাবারও খায়; তাতেও সাহরি খাওয়ার বরকত অর্জিত হয়ে যাবে।

    – হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সাহরি খাওয়ায় বরকত আসে। সুতরাং তোমরা তা (সাহরি) খেতে ছেড়ো না; যদিও তোমরা তাতে এক ঢোক পানিও খাও। কেননা যারা সাহরি খায়, তাদের জন্য আল্লাহ রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

    – হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, প্রিয়নবি বলেছেন, ‘মুমিনের শ্রেষ্ঠ সাহরি হলো খেজুর।’

    এমন যেন না হয়-
    সাহরিতে বিভিন্ন খাবার গ্রহণের ফলে শ্বাস কষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা যেন না হয়। যার ফলে দিনের শুরুতে ফজর সালাত আদায়ে কষ্ট হয়ে যায়। ফজর পরবর্তী সময়ে আল্লাহর জিকিরে বসার আগ্রহ ও মনোযোগ হারিয়ে না যায়।

    আল্লাহ তাআলা সব রোজাদারকে প্রতিদিন সাহরি খাওয়ার তাওফিক দান করুন। সাহরির বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। ফেরেশতাদের মাগফেরাত লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • পুরো রমজান যে রুটিন মেনে চলবে রোজাদার

    পুরো রমজান যে রুটিন মেনে চলবে রোজাদার

    যে ব্যক্তি রমজান পেল এবং রমজানের রোজা পেলো কিন্তু নিজেকে গোনাহমুক্ত করতে পারল না তার মতো অভাগা আর কেউ নেই। আর যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান পেল এবং তার হদসমূহ সঠিকভাবে পালন করলো, সে এমনভাবে পাপমুক্ত হলো যেন সে সদ্য মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হলো।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সে বিখ্যাত হাদিসটিতে রোজার আবশ্যক কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে। যেখানে তিনি রমজানের হক আদায় না করলে কী পরিণতি হবে তা বর্ণনা করেছেন। হাদিসে এসেছে-
    হজরত কাব ইবনে উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক দিন রাসুলুল্লাাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মসজিদে নববির) মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলেন, তখন বললেন, ‘আমিন’। যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন, তখন বললেন, ‘আমিন‘। যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন তখনও বললেন, ‘আমিন’।
    হজরত কাব ইবনে উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) নামলেন, আমরা তাঁর কাছে আমিন বলার কারণ জানতে চাইলাম। বললাম এর আগে আপনাকে কখনো এভাবে আমিন বলতে শুনিনি।
    উত্তরে তিনি বললেন, প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সময় জিবরিল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসে বলরেন, ‘ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি যে রমযান মাস পেল, তবুও তার গোনাহ মাফ করাতে পারল না। আমি বললাম, ‘আমিন’।
    যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি যার কাছে আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করল না। আমি বললাম, ‘আমিন’।
    যখন তৃতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি যে বৃদ্ধ পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল অথচ তারা উভয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতবাসী করতে পারল না। আমি বললাম, আমিন।’ (মুসলিম, তিরজিমি)

    মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজানের রোজার গুরুত্ব কতবেশি তা সহজেই বোধগম্য। সুতরাং রমজানের রহমত ও বরকত লাভে মুমিন মুসলমান যে নমুনায় রোজা পালন করবেন, যে বিষয়গুলো প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন সংক্ষেপে তার কিছু তলে ধরা হলো-

    > রমজানের চাঁদ দেখার পর রাতের নামাজ তারাবিহ যথাযথ ভাব-গাম্ভীর্যের সঙ্গে আদায় করা।

    > শেষ রাতে সাহরি খাওয়ার আগে তাহাজ্জুদ ও ক্ষমা প্রার্থনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া।

    > রাতের শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া। ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে সাহরি খাওয়া শেষ করা। সাহরিতে পেট ভরে না খাওয়া বরং কিছু কম খাওয়ার চেষ্টা করা।

    > সাহরি পর দেরি না করে মসজিদে চলে যাওয়া। মনোযোগের সঙ্গে ফজরের আজান শোনা এবং উত্তর দেয়া। আজানের পর দরূদ পড়ে দোয়া করা।

    > আজানের পর সুন্নত পড়ে জামাতের জন্য অপেক্ষা করা। যতটুকু সম্ভব এ সময় মাসনুন দোয়া, জিকির এবং তাওবা-ইসতেগফারে মশগুল থাকা।

    > ফজরে জামাআতের ইকামাত শুরু হলে আজানের মতো ইকামতের উত্তর দেয়া এবং আল্লাহর সামনে হাজিরা দেয়ার মানসিকতায় এ নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করে তা মনোযোগের সঙ্গে আদায় করা।

    > ফজরের সালাম ফেরানোর পর ১ বার তাকবির (اَللهُ اَكْبَرْ) আর ৩ বার ইসতেগফার (اَسْتَغْفِرُالله) পড়া।
    সম্ভব হলে এ তাসবিহগুলো আদায় করা-
    – ‘আল্লাহুম্মা আংতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাক্বতা ইয়া জাল ঝালালি ওয়াল ইকরাম’ পড়া।
    – ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পড়া।
    – আয়াতুল কুরসি ১ বার পড়া।
    – তাসবিহ ফাতেমি পড়া। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ- (سُبْحَانَ الله), ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ- (الْحَمْدُ لله), ৩৩/৩৪ বার আল্লাহু আকবার (اَللهُ اَكْبَر) পড়া।
    – ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়া দুর্রু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিয়ুল আলিম’ ৩ বার পড়া।
    – দরূদ শরিফ পড়া।
    – তাওবা ও ইসতেগফার পড়া।
    – সুরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত পড়া।
    – সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা। অতঃপর
    – সূর্য ওঠে গেলে ৪ রাকাআত ইশরাকের নামাজ আদায় করে বিশ্রামে যাওয়া।

    > বিশ্রামের পর (ঘুম থেকে উঠে) অফিসে, কাজে বের হওয়ার আগে ৪ রাকাআত চাশতের নামাজ পড়ে নেয়া।

    > যাদের কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য কুরআন তেলাওয়াত কিংবা তেলাওয়াত শোনা, কুরআন অধ্যয়ন কিংবা কুরআনের অনুবাদ বুঝে ‍বুঝে পড়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা।

    > জোহরের নামাজের আগেই ওজু ও গোসল সেরে আগে আজানের সময় কিংবা আরো আগে মসজিদে চলে যাওয়া। সুন্নাতের পর জামাআতের আগে তাসবিহ-তাহলিল, কুরআন তেলাওয়াতে মশগুল থাকা।

    > যারা খতম তারাবিহ আদায় করেন, প্রতিদিনের তারাবিহতে তেলাওয়াত করা কুরআনের অংশটুকু অর্থসহ পড়া। সম্ভব হলে তাফসির দেখে নেয়া। অন্তত সে অংশটুকু ভালো করে তেলাওয়াত করা।

    > রাতের তারাবিহ সুন্দর ও প্রাণবন্ত করতে সম্ভব হলে আসরের আগে পরিমাণমত বিশ্রাম গ্রহণ করা।

    > বিশ্রাম গ্রহণের পর আসরের নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে চলে যাওয়া। সম্ভব হলে সুন্নত নামাজ পড়ে জামাআতের অপেক্ষা করা এবং তাওবা-ইসতেগফার করা।

    > আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তেলাওয়াত, দোয়া-জিকিরে মনোনিবেশ করা।

    > ইফতারের আগ মুহূর্তে ইফতারি সামনে নিয়ে ইফতারের জন্য অপেক্ষা করা। আর আল্লাহর তাসবিহ ও জিকিরে মশগুল থাকা।

    > ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে খেজুর দিয়ে ইফতার করা। খেজুর না থাকলে সাদা পানি দ্বারা ইফতার গ্রহণ করা।

    > ইফতারের পর প্রশান্তির দোয়া পড়া- ‘জাহাবাজ্জামাউ ওয়াব তালাক্বিল উরুকু ওয়া ছাবাতাল আঝরু ইনশাআল্লাহু তাআলা।’

    উল্লেখ্য যে, খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার করে বেশি তৈলাক্ত খাবার কিংবা অন্যান্য খাবার বেশি পরিমাণে না খাওয়া। মাগরিবের নামাজ আদায় করে খাবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি।

    > মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে চলে যাওয়া। ফজরের পর যে তাসবিহ ও দোয়াগুলো পড়তে বলা হয়েছে, সেগুলো পড়া। অতঃপর তারাবিহ নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

    আর যারা কর্মব্যস্ত তারা কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলে তাসবিহ-তাহরির, তাওবা-ইসতেগফারে নিজেকে নিয়োজিত রাখা আবশ্যক।

    এভাবেই পুরো রমজান মাস মন্দ ও অন্যায় কাজ থেকে নিজেদের বিরত রেখে ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখার মাধ্যমে বিগত জীবনের গোনাহগুলো মাফ করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা জরুরি।

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশায় রাতের নামাজ তারাবিহ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার আগের জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’

    মুমিন মুসলমানের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণের অন্যতম মাস রমজান। এ মাসের ইবাদতই বছর জুড়ে লালন করবে মুমিন। মন্দ কাজ ত্যাগ করে ভালো কাজে নিয়োজিত থাকবে রোজাদার।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, জিকির-আজকার ও তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে পুরো রমজান মাস অতিবাহিত করা। পরকালের জন্য দুনিয়ার জীবনে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী গোনাহমুক্ত জীবন লাভে রমজানের যথাযথ হক আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯

    সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯

    ১৪৪০ হিজরি সনের (২০১৯) শাবান মাস যদি ২৯ দিনে শেষ হয় তবে আগামী ০৭ মে থেকে শুরু হবে এ বারের রমজান। সেক্ষেত্রে ০৬ মে সোমবার দিবাগত রাতেই শুরু হবে তারাবিহ, শেষ রাতে খেতে হবে সাহরি।

    আর যদি শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয় তবে সেক্ষেত্রে এক দিন পেছাবে রোজা। তবে সে সম্ভাবনা এবার খুবই কম। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ০৫মে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়েছে। সে হিসেবে দেশগুলোতে ০৬ তারিখই রোজা শুরু হবে।

    গত ৮ এপ্রিল ২০১৯ (সোমবার) ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৪৪০ হিজরির রমজান মাসের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী এবার প্রথম রমজানে সাহরির শেষ সময় ভোররাত ৩টা ৫২ মিনিট এবং ইফতারের সময় ৬টা ৪৩ মিনিট।

    রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাহরি ও ইফতারের সময় সূচি সর্বোচ্চ ১১ মিনিট যোগ করতে হবে এবং ১০ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

    ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ঘোষিত সময়সূচি হলো-


    উল্লেখ্য যে, সাহরির শেষ সময় সতর্কতামূলকভাবে সুবহে সাদেকের ৩ মিনিট আগে ধরা হয়েছে এবং ফজরের ওয়াক্তের শুরুর সময় সুবহে সাদেকের ৩ মিনিট পর রাখা হয়েছে।

    গ্রহণের জন্য সতর্কতামূলক শেষ সময়ের ৬ মিনিট পর ফজরের আজান দিতে হবে। আবার সূর্যাস্তের পর সতর্কতামূলকভাবে ৩ মিনিট বাড়িয়ে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সারাদেশে এক নিয়মে খতম তারাবিহ পড়ার আহ্বান

    সারাদেশে এক নিয়মে খতম তারাবিহ পড়ার আহ্বান

    ০৬ মে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে এ দিন সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে রহমতের বার্তাবাহী বরকতময় মাস রমজান। পড়া হবে রাতের নামাজ তারাবিহ।

    দেশব্যাপী যেসব মসজিদে খতমে তারাবিহ (তারাবিহ নামাজে পুরো কুরআন তেলাওয়াত) হবে, সেসব মসজিদে একই নিয়মে তারাবিহ পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এ আহ্বান জানান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আহ্বানটি তুলে ধরা হলো-

    সারাদেশে সকল মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতম তারাবিহ পড়ার আহ্বান

    পবিত্র রমজান মাসে খতম তারাবিহ পড়ার সময় সারাদেশে সকল মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

    পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রায় সকল মসজিদে খতম তারাবিহতে পবিত্র কুরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তেলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে।

    তবে কোনো কোনো মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে কর্ম উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের পক্ষে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

    এ অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে একটি মানসিক অতৃপ্তি ও অতুষ্টি অনুভূত হয়। কুরআন খতমের পূর্ণ সাওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন।

    এ পরিস্থিতি নিরসনকল্পে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ৬ দিন দেড় পারা হিসেবে ৯ পারা এবং পরবর্তী (৭ম দিন থেকে ২৭তম দিন) ২১ দিনে ১ পারা হিসেবে ২১ পারা তেলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র লাইলাতুল কদরে কুরআন খতম করা সম্ভবপর হবে।

    এর আগে দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা ও খতিব-ইমামদের সাথে আলোচনা হলে তারাও এ পদ্ধতিতে খতম তারাবিহ আদায়ের পক্ষে বিজ্ঞ অভিমত দিয়েছিলেন এবং সে মোতাবেক অধিকাংশ মসজিদে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

    এমতাবস্থায়, পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতম তারাবিহ আদায় অর্থাৎ প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে এবং পরবর্তী ২১ দিনে প্রতিদিন ১ পারা করে তেলাওয়াতের মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদরে কুরআন খতমের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষে থেকে মসজিদের খতিব-ইমাম, মসজিদ কমিটি, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ আহ্বান দেশের সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জন্য কুরআন খতমের মাধ্যমে তারাবিহ পড়ার জন্য বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে যে কোনো মসজিদে নামাজ আদায় করলেই কুরআন খতমের মাধ্যমে তারাবিহ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। আত্মতৃপ্তি ও সাওয়াব লাভ করবে নিয়মিত তারাবিহ আদায়কারী মুমিন মুসলমান।

  • রোজা রাখার নির্দেশ ও উপকারিতা

    রোজা রাখার নির্দেশ ও উপকারিতা

    ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম চতুর্থটি হলো রোজা। হিজরি সনের প্রত্যেক রমজান মাসজুড়ে রোজা পালন মহান আল্লাহর নির্দেশ। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ নারী-পুরুষের ওপর ফরজ ইবাদত এটি।

    মুসলিম উম্মাহকে রোজা পালনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া, পরহেজগারি অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। যাতে রয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েত। এ হেদায়েত সত্য মিথ্যা সুস্পষ্ট পার্থকারী। সুতরাং যারা এ মাসের সাক্ষাৎ পাবে তারা যেন রোজা পালন করে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)

    রমজান মাসে রোজা পালন আল্লাহর তাআলা হুকুম। বিশেষ অক্ষমতা কিংবা অপারগতা ব্যতিত রোজা ছেড়ে দিলে গোনাহ হবে। হাদিসে পাকে এসেছে-

    ‘বিশেষ কোনো ওজর ছাড়া যে ব্যক্তি রমজানের একটি রোজাও ভেঙে ফেলে, সে সারা জীবনও যদি রোজা রাখে তবুও রমজানের ওই রোজার হক আদায় হবে না। সে আল্লাহর সামনে এমনভাবে হাজির হবে যে, আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করবেন বা শাস্তি দেবেন।’ (তাবারানি)

    অন্য হাদিসে এসেছে-
    ‘যে ব্যক্তি কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একদিন রোজা ভাঙে, সারা বছরেও তার কাজা হবে না হবে না, যদিও সে পুরো বছর রোজা পালন করে।’ (হাদিসটি বুখারির টিকা উল্লেখ করা হয়েছে, আবু দাউদ, তিরিমজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

    রোজার উপকারিতা
    রমজানের রোজা পালনে রয়েছে অনেক উপকারিতা। হাদিসের নির্দেশনা এমন যে, ‘রোজা রাখুন, সুস্থ থাকুন।’

    রোজাদার ব্যক্তির জন্য দিনের বেলায় পানাহার, যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকতে হয়। যারা আল্লাহর এ নির্দেশ পালন করে তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সাওয়াব ও প্রতিদানের ঘোষণা-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দার সব নেক আমলের সওয়াব দানের জন্য একটি নিয়ম থাকে। নেক আমল অনুযায়ী সাওয়াব দেয়া হয়। তা দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু রোজার বিষয়টি সাধারণ নিয়মের উর্ধ্বে। বান্দা আমার জন্যই পানাহার ত্যাগ করেছে, যৌন ক্রিয়া থেকে বিরত থেকেছে। সুতরাং আমি নিজে তাকে বিশেষ প্রতিদান ও সাওয়াব দেব।’ (মুসলিম)

    রোজা রাখলে আগের জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়ার সুসংবাদ দিয়েছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদসে এসেছে-
    ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও বিশ্বসের সঙ্গে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও সাওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলঅ তার আগের (জীবনের) সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বুখারি)

    হাদিসে রোজাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার দুর্গ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘রোযা হলো জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার শক্ত ঢাল এবং সুরক্ষিত বিশেষ দুর্গ।’ (তিরমিজি)

    এ রোজাই কেয়ামতের দিন রোজাদারের জন্য শাফায়াতকারী হবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমার জন্য এ বান্দা পানাহার ত্যাগ ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করেনি। সুতরাং এ বান্দাকে ক্ষমা করে দাও হে প্রভু! তখন আল্লাহ তাআলা রোজাদারের সুপারিশ গ্রহণ করে নেবেন।

    রোজা মানুষের জন্য পশুত্বের স্বভাব থেকে বিরত থাকার অন্যতম প্রশিক্ষণ। কেননা পশুর বৈশিষ্ট্য হলো, যখন ইচ্ছে খায়, ইচ্ছে হলেই পান করে কিংবা যৌণ কাজে জড়িয়ে পড়ে।

    আর ফেরেশতারা এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাদের না আছে পানাহারের চাহিদা বা প্রয়োজনীয়তা আর না আছে যৌন ক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা।

    আর মানুষ রোজা রাখার মাধ্যমে পশুত্বের সে স্বভাব থেকে ফিরে থেকে ফেরেশতাদের স্বভাবের অনুসরণ করার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ও পরিমিতবোধ তৈরি করে থাকে।

    রোজার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, তাকওয়া তথা মহান আল্লাহ তাআলা ভয় অর্জন করে। নিজেদের চরিত্রকে নিষ্কলুষ করে গড়ে তোলে। আল্লাহর হুকুম পালনে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।

    শুধু তাই নয়, রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ কম খাওয়া, কম ঘুমানো ও কম কথা বলার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকে। আর তাতে মানুষের আত্মার অনেক উন্নতি হয় ও সৌন্দর্য বেড়ে যায়।

    রোজা রেখে সতর্ক থাকতেও পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বনবি। অন্য কারো মন্দ কথার জবাব না দিয়ে নিজেকে রোজাদার হিসেবে পরিচয় দেয়ার মাধ্যমে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নসিহত পেশ করেছেন-
    ‘তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখবে, তখন দিনের বেলা সে যেন মুখে কোনো অশ্লীল কথা না বলে, হৈ চৈ না করে। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তার সঙ্গে ঝগড়া করতে আসে কিংবা গালিগালাজ করে; তাহলে সে যেন শুধু এটুকু বলে চুপ থাকে যে, ‘আমি রোজাদার’, আমি রোজাদার।’ (বুখারি)

    কেননা রোজা রেখে মন্দ কথা ও মিথ্যা পরিহার না করতে পারলে এ রোজা মানুষের কোনো উপকারেই আসবে না। প্রিয় নবি বলেন-
    ‘রোজা রেখে যে ব্যক্তি মিথ্যা, মন্দকথা ও কুকর্ম ত্যাগ করে না, তার এই উপবাসে আল্লাহর কাছে কোনো কাজে আসে না।’ (বুখারি)
    অন্য হাদিসে এসেছে-
    অনেক রোজাদার এমন আছে যে, মন্দ কাজ থেকে বিরত না থাকার কারণে তাদের রোজা থেকে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট ছাড়া কিছুই অর্জিত হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ)

    যেহেতু রোজা আল্লাহর নির্দেশ ও ফরজ ইবাদত। সুতরাং তা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সক্ষম মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য পালন করা আবশ্যক। আর যখন মানুষ রোজার বিধান পালন করে ছোট বড় সব গোনাহ থেকে বিরত থাকবে, তখনই রোজা সব সুফলগুলো লাভ করা যাবে।

    বিশেষ করে-
    পানাহার, স্ত্রী সহবাসসহ মিথ্যা, পরনিন্দা, গালিগালাজ, অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারলেই রোজার পরিপূর্ণ উপকারিতা লাভ করা সম্ভব হবে। আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত হবে। ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য গুণ অর্জন করতে সক্ষম হবে মানুষ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রোজার বিধান যথাযথ পালনের মাধ্যমে রোজা উপকারিতা লাভ ও তাকওয়া অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ প্রভাব থেকে জানমালের হেফাজতে বরিশালে মসজিদে মসজিদে দোয়া

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ প্রভাব থেকে জানমালের হেফাজতে বরিশালে মসজিদে মসজিদে দোয়া

    অনলাইন ডেস্ক:

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাব থেকে দেশ ও দেশের মানুষের জানমালের হেফাজতের লক্ষ্যে বরিশালে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৩ মে) বাদ জুমা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে এ দোয়া ও মোনাজাত করেন মুসল্লিরা।

    এদিকে, জুমা নামাজ শেষে দুপুরে ২ টার দিকে বরিশালের আকাশের মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পরিবেশ কিছুটা অন্ধাকার হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস।

    প্রশাসন দুপুর ৩টা থেকে সব ধরনের নৌযানসহ খেয়া পরাপারের ট্রলারও বন্ধ ঘোষণা করেছে। আর বিকেল ৫টার মধ্যে উপকূলের লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। পাশাপাশি ‘ফণী’র আঘাত মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে মাইকিং করেছে স্বেচ্ছাসেবকরা।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশ কার্যকর থাকবে। একতলা লঞ্চগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বরিশাল নদীবন্দরে অবস্থান করা পথ শিশুদের অপরাজেয় বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তাদের শেল্টার হোমে নিয়ে গেছেন।

    বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা সরকার জানান, তারা কন্ট্রোলরুম খোলার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

    নদীবন্দর পরিদর্শনে এসে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সভা করেছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।

    ‘ফণী’ মোকাবিলায় ত্রাণ, মেডিকেল টিম আর আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • ঘূর্ণিঝড়ে যে দোয়া পড়বেন

    ঘূর্ণিঝড়ে যে দোয়া পড়বেন

    ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো বাসাত থেকে মুক্ত থাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। কেননা মহান আল্লাহই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। তবে যদি তোমরা একে তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেখতে পাও, তবে এ দোয়া করবে-

    اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ خَيْرِ مَا فَيْهَا وَ خَيْرِمَا أُمِرَتْ بِهِ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ شَرِّ مَا فَيْهَا وَ شَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরি মা ফিহা ওয়া খাইরি মা উমিরাত বিহি, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি হাজিহির রিহি ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উমিরাত বিহি’ (তিরমিজি, মিশকাত)

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট এ বাতাসের ভালো দিক, এতে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার উত্তম দিকটি প্রার্থনা করছি। এবং তোমার নিকট এর খারাপ দিক হতে, এতে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার মন্দ দিক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    বিপদাপদ থেকে আত্ম-রক্ষায় প্রতিদিনের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় নিন্মোক্ত দোয়াটি পড়ে; তাকে কোনো বিপদাপদ ও বালা-মুছিবত স্পর্শ করবে না-
    بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الْأَرْضِ وَلَا فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الُعَلِيْم
    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদূররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামিই ওয়াহুয়া সামিয়ুল আলিম।’ (তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, যেন তাঁর উম্মতকে দুর্যোগ ও বিপর্যয় দিয়ে এক সঙ্গে ধ্বংস করে দেয়া না হয়।

    এ সব বিপদকালীন সময়ে বিশ্বনবি বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পড়তে নির্দেশ দিতেন।

    সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত ঘূর্ণিঝড়, প্রবল ঝড়ো বাতাস ও বিপদ-আপদে উল্লেখিত দোয়া পড়া এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘূর্ণিঝড়ে হাদিসের শেখানো দোয়া পড়ার এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • মেঘ-বৃষ্টিতে যে দোয়া পড়বেন

    মেঘ-বৃষ্টিতে যে দোয়া পড়বেন

    রাত-দিনের আবর্তন, শীত ও গরমের আগমন, মেঘ-বৃষ্টি, ঠাণ্ডা-তুষারপাত ইত্যাদি সবকিছুই আল্লাহ তাআলা বান্দার কল্যাণে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবীর মাধ্যমে প্রত্যেক জিনিসের কল্যাণ কামনায় তাঁর নিকট আশ্রয় লাভের পদ্ধতি শিখিয়েছেন।

    আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে পানির বর্ষণের মাধ্যমে জমিনে বান্দার রিযিকের ফয়সালা করে থাকেন ঠিকই, তথাপিও  মেঘের মধ্যেও রয়েছে অকল্যাণ। এ কারণেই আকাশে মেঘ দেখা গেলে তা যেন বান্দার কল্যাণে আসে এবং এবং সব অকল্যাণ থেকে মানুষ মুক্তি পায়, সে দোয়া করাই বান্দার উচিত।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে এমনই একটি দোয়াটি শিখিয়েছেন। যা এখানে তুলে ধরা হলো-

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সারির মা ফিহি (বুখারি)
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, এ মেঘের মধ্যে যে অনিষ্ট রয়েছে তার থেকে।

    সুতরাং আকাশে মেঘ দেখা গেলে উম্মাতে মুহাম্মাদির উচিত উক্ত দোয়ার মাধ্যমে মেঘের অকল্যাণ থেকে মুক্তি লাভের প্রার্থনা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মেঘ-বৃষ্টি অকল্যাণ থেকে রক্ষা করে কল্যাণ লাভ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন

    রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন

    রমজান অনেক মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ মাস। এ মাসে মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি অবিরত রহমত বরকত নাজিল করেন। আর বান্দাকে মাগফেরাত ও নাজাত দান করেন। শাবান মাসের শেষ দিন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতদের বিশেষ তাসবিহ ও দোয়া পড়তে বলেছেন।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস জুড়ে তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করা ছিল উম্মতের জন্য বিশেষ নসিহত। যাতে মানুষ এ বিশেষ তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে পরিপূর্ণভাবে তৈরি করতে পারেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘শাবান মাসের শেষ দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন যে, ‘হে লোক সকল! অবশ্যই তোমাদের সামনে মহান মাস, বরকতময় মাস উপস্থিত। এ মাসে তোমরা ৪টি কাজ বেশি বেশি আদায় কর। এর মধ্যে দু’টি কাজ আল্লাহর জন্য আর দু’টি কাজ তোমাদের নিজেদের জন্য।

    আল্লাহ জন্য ২ কাজ হলো (তাসবিহ) এ সাক্ষ্য দেয়া যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
    আর নিজের জন্য যে দুই কাজ করতে বলেছেন, তাহলো- জান্নাত লাভের দোয়া করা এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাওয়া।’

    হাদিসে ঘোষিত বিশেষ দোয়া

    > তাসবিহ পড়া অর্থাৎ এ সাক্ষ্য দেয়া-
    – لَا اِلَهَ اِلَّا الله
    উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’
    অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

    > ইসতেগফার করা অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়া। হাদিসে অনেক ইসতেগফার এসেছে। এর যে কোনোটি পড়লেই হবে-
    – اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اِنَّ اللهَ غَفُوْرُ الرَّحِيْم
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।
    অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

    – اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اّللَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
    অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি এক ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাবো।’

    – رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব্ আলাইয়্যা ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’
    অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় তাওবাকবুলকারী, দয়াবান।’

    – اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানি; ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আ’হদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বা’তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া; ওয়া আবুউ বিজামবি ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমত তোমার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আমার ওপর তোমার অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমার পাপও স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ব্যতিত কোনো ক্ষমাকারী নেই।’

    > জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া-
    – اَللَّهُمَّ اَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَ اَجْرِنَا مِنَ النَّارِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলনাল জান্নাতা ওয়া আঝিরনা মিনান নার।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।’

    – اَللهُمَّ انَّ نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান নার।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই।’

    হাদিসে পাকে আরো এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা ৩ বার জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবে, জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুলে সুপারিশ করবে।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো রমজান মাস জুড়ে বেশি বেশি তাওহিদের ঘোষণা, ইসতেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা, জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে নাজাতের দোয়া করার কথা বলেছেন।

    আল্লাহ তাআলা রমজানজুড়ে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখিত তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে রমজানের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।