Category: ধর্ম

  • কাবা ঘরের যে ৯ বিস্ময়কর তথ্য মানুষের অজানা

    কাবা ঘরের যে ৯ বিস্ময়কর তথ্য মানুষের অজানা

    মুসলিম উম্মাহর ক্বেবলা পবিত্র কাবা শরিফ। এটি মুমিন মুসলমানের সবচেয়ে প্রিয় ও পবিত্র স্থান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর এ কাবার জিয়ারতে আসে লাখোকুটি মুসলিম জনতা। তারা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে কাবা চত্ত্বর।

    এ কাবা সম্পর্কেই রয়েছে বিস্ময়কর কিছু তথ্য। যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জানা আবশ্যক। বিশ্ব মুসলিমের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

    >> কাবা ঘর নির্মাণ
    বর্তমান যে স্থানে কাবা শরিফ স্থাপিত এ স্থানে তা নির্মাণ করেছিলেন মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর ছেলে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম।
    বর্তমান সময়ে কাবার যে অবকাঠামো তা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনকালের সময় এমন ছিল না। আর বর্তমান সময় পর্যন্ত তা বেশ কয়েকবার সংস্কার করে এর উন্নয়ন করা হয়েছে।
    সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে উন্নত সরঞ্জাম ও পাথরের ব্যবহারে কাবা চত্ত্বরসহ এর বেশি কিছু উন্নয়ন কাজ করার মাধ্যমে কাবার ফাউন্ডেশনকে শক্তিশালী ও মজবুত করা হয়।
    সৌদি আরব সরকারের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় রয়েছে কাবার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। যা সময়ের প্রয়োজনেও করা জরুরি ছিল।

    Kabba-1

    – সৌদি গেজেটের তথ্য মতে, কাবা ঘরের উচ্চতা পূর্ব দিকে ১৪ মিটার (অন্য একটি সূত্র তা ১২.৮৪ মিটার), পশ্চিম দিকে ১২.১১ মিটার, উত্তর দিকে ১১.২৮ মিটার এবং দক্ষিণ দিকে ১২.১১ মিটার। (সৌদি গেজেট, ৩ জানুয়ারি, ২০১০ ইং)
    >> কাবা ঘরের দরজা ও জানালা
    কাবা ঘরের ২টি দরজা ছিল। একটি দিয়ে প্রবেশের জন্য আর অন্যটি দিয়ে বের হওয়ার জন্য। আর ছিল একটি জানালা। বর্তমানে একটি দরজাই রাখা হয়েছে।
    ভূমি থেকে ২.৫ মিটার উচ্চতায় রয়েছে কাবার দরজা। এটির দৈর্ঘ্য ৩.০৬ ও প্রস্থ ১.৬৮ মিটার। দরজাটি বাদশা খালেদ ২৮০ কেজি স্বর্ণ দ্বারা তৈরি করে উপহার দেন।

    >> কাবা ঘরের গিলাফে রঙের ব্যবহার
    কাবা ঘরের গিলাফের রঙ কখনোই কালো ছিল না। বর্তমানে কাবা ঘরের গিলাফের রঙ কালো ব্যবহার করা হয়। আব্বাসীয় খলিফাদের পরিবারের প্রিয় রঙ ছিল কালো। তাদের সময় থেকে কাবা ঘরে কালো গিলাফ পরানো হয়। এর আগে কাবা ঘরে সবুজ, লাল ও সাদা রঙের গিলাফ ব্যবহার করা হতো।

    Kabba-3

    – কাবা ঘরে প্রথম গিলাফ পরান : হিমিয়ারের রাজা তুব্বা আবুল আসাদ।

    >> কাবা ঘরের চাবি
    মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবা ঘরের চাবি বনি শায়বাহ গোত্রের ওসমান ইবনে তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে হস্তান্তর করেন। বংশ পরম্পরায় এখনো তারাই কাবা ঘরের চাবির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
    অনেকদিন ধরেই কাবা ঘরের বিভিন্ন ধরনের বিশেষ তালা ও চাবির ব্যবহার হয়ে আসছে। দীর্ঘ দিন পরপর পরিবর্তন করা এসব তালা কিংবা চাবি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত কাবা শরিফে ৫৮টি তালা-চাবির নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়।

    Kabba-4

    – যার মধ্যে তুরস্কের সাবেক রাজধানী ও প্রাচীন শহর ইস্তাম্বুলে তোপকাপি জাদুঘরেই রয়েছে ৫৪টি চাবি।
    – ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি জাদুঘরে রয়েছে ২টি চাবি এবং
    – মিসরের রাজধানী কায়রোর ইসলামি আর্ট জাদুঘরে রয়েছে ১টি চাবি।
    কাবা শরিফের চাবি রাখার জন্য কিসওয়ার কাপড় দ্বারা তৈরি বিশেষ বক্স তৈরি করা হয়। যার মধ্যে রাখা হয় পবিত্র কাবা শরিফের চাবি।

    >> কাবা সবার জন্য উন্মুক্ত!
    একসময় কাবা ঘরের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। সবাই পবিত্র কাবা ঘরে প্রবেশ করতে পারতো। পরে কাবা ঘরে সবার অবাধ প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।
    এখন তা বিশেষ নিয়ম মেনে দেশটির রাষ্ট্র প্রধান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিয়ম মেনে কাবা ঘরে প্রবেশ করতে পারেন।

    – কাবা ঘরের অভ্যন্তর বিশেষ পানি দ্বারা বছরে দুই বার ধোয়া হয়।
    – মক্কা বিজয়ের দিন সর্ব প্রথম কাবা ঘর গোসল দেন হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    >> সাঁতার কেটে তাওয়াফ!
    এখন পর্যন্ত দুবার কাবা চত্বরে পানি তলিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। একবার ইসলামের স্বর্ণ যুগে। আর দ্বিতীয়টি ১৯৪১ সালে।
    ১৯৪১ সালে সপ্তাহব্যাপী প্রবল বৃষ্টির কারণে কাবা চত্বরসহ মক্কার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আর সে সময় কাবা ঘর জিয়ারতকারীদের কেউ কেউ সাঁতার কেটে কাবা ঘর তাওয়াফ করেন। সেসময় সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টির কারণে কাবা চত্বরে প্রায় ৬ ফট পানি জমে যায়।

    Kabba-6

    তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনকালের সময়ও একবার কাবা চত্বরে পানি জমে থাকার তথ্য জানা যায়। সে সময় হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু সাতরে কাবা তাওয়াফ করেছিলেন বলে জানা যায়।

    >> হাজরে আসওয়াদ ভাঙা!
    কাবা শরিফে দক্ষিণ-পূর্ব কোনে স্থাপিত কালো পাথর হলো হাজরে আসওয়াদ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কাবা ঘরে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদটি ভাঙা।
    ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী ৬০৫ খ্রিস্টাব্দে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরাট দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে বিভিন্ন গোত্রের লোকদের সহায়তায় নিজ হাতে তা কাবা ঘরের কোনে স্থাপন করেন।
    হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে গিয়ে তা রূপা দিয়ে বাধাই অবস্থায় দেখে অনেকের মনে এ প্রশ্ন জাগে যে হাজরে আসওয়াদ বাধানো কেন? আবার হাজরে আসওয়াদে এত ফাটলই বা কিসের? বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়-

    Kabba-7

    – ৬৪ হিজরিতে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু শাসনকালের সময় কাবা ঘরে আগুন লাগলে হাজরে আসওয়াদটি ভেঙে একাধিক খণ্ড হয়ে যায়। কেউ কেউ বলেন এটি ৩ খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। পরে তিনি এটিকে রুপার আবর দিয়ে একত্রিত করে পুনরায় কাবা চত্বরে স্থাপন করেন।
    – ৩১৭ হিজরীতে পূর্ব আরবের কারামতি সম্প্রদায় কাবা ঘর আক্রমণ করে ভাংচুর ও লুন্ঠন চালায়। কাবা ঘরের বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে হাজরে আসওয়াদও লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় তারা।
    – ২২ বছর পর পাথরটি তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। লুণ্ঠনের সময় পাথরটি ব্যাপক ক্ষতি ও টুকরো টুকরো হয়ে যায়। হাজরে আসওয়াদের ভাঙা অংশগুলোর মধ্যে এখনো কয়েকটি খন্ড নিখোঁজ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এখনো ৮ খণ্ড পাথর নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছে।
    হাজরে আসওয়াদের ভাঙা অংশগুলো কাদামাটি, মোম, অম্বর ইত্যাদি দিয়ে মেরামতপূর্বক বাধাই করে রাখা হয়েছে।

    >> কাবা ঘরে ঢুকলে কোন দিকে নামাজ?
    কাবা ঘরের বাইরে তাওয়াফের চত্বরে কাবা ঘরের ৪ পাশে দাঁড়িয়েই মানুষ নামাজ আদায় করে। কিন্তু যারা কাবা ঘরের ভেতরে ঢুকে নামাজ আদায় করে, তারা কোন দিকে ফিরে নামাজ আদায় করে? এ কৌতুহল কিংবা প্রশ্ন অনেকেরই।
    কাবা ঘরের ভেতরে যে কোনো দিকে ফিরেই নামাজ আদায় করা যায়। তাতে কোনো বিধি-নিষেধ নেই।
    আবার কাবা ঘরের বাইরে যে কোনো পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া যায়। তবে কাবা ঘরের ইমাম সাহেবগণ বেশির ভাগ সময় মাকামে ইবরাহিম চত্বরে বর্তমান দরজার সামনে দাঁড়িয়েই নামাজ পড়ান।

    >> কাবা ঘরের দরজা কখন খোলা হয়?
    রাষ্ট্রীয় কিংবা বিদেশি মেহমান না আসলে বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খোলা হয়। আর সে সময় কাবা ঘরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

    কাবা ঘরের আরো কিছু তথ্য- 

    – কাবা ঘরের সিলিংয়ে তিনটি কাঠের পিলার আছে। প্রতিটি পিলারের ব্যাস ৪৪ সে.মি.।
    – কাবা ঘরের ভেতরের দেয়ালগুলো সবুজ ভেলভেটের পর্দা দিয়ে আবৃত। যা প্রতি তিন বছর পর পর পাল্টানো হয়।
    – কাবা ঘরের ছাদ লম্বায় ১২৭ সে.মি আর প্রস্থে ১০৪ সে.মি.।
    – কাবা ঘরে আলো প্রবেশের জন্য একটি ভেন্টিলেটার রয়েছে। কাঁচ দিয়ে ঢাকা এ ভেন্টিলেটারটি প্রস্থের দিকে স্থাপিত। কাবা ঘর ধোয়ার সময় এ কাচের ভেন্টিলেটার খোলা হয়।
    – কাবা ঘরের ছাদ প্রথমে কুসাই নির্মাণ করেন অতঃপর কুরাইশ।
    – কাবা ঘরে প্রথম মূর্তি স্থাপন করে আমর বিন লুহাই।
    – কাবা ঘরে প্রথম আজান দেন হজরত বেলাল বিন রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

  • যে কাজে পরকালে মুক্তি পাবে মুমিন

    যে কাজে পরকালে মুক্তি পাবে মুমিন

    দুনিয়াকে বাদ দিয়ে পরকালে সফলতা লাভের কোনো সুযোগ নেই। কেননা দুনিয়া আখেরাতে শস্যক্ষেত্র। দুনিয়ার সব ভালো ও মন্দ কাজের বিচার হবে পরকালে। প্রতিটি কাজেরই হিসাব গ্রহণ করা হবে।

    কেয়ামতের দিন দুনিয়ার কাজের জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো আদম সন্তানই মুক্তি পাবে না। তাই দুনিয়ার যে কোনো কাজ পরকালের জবাবদিহিতার মানসিকতা নিয়ে সম্পন্ন করা জরুরি।

    এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কেয়ামতের দিন কোন কাজে মুক্তি মিলবে?
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে ধোকাবাজি করো না।’
    ওই ব্যক্তি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে ধোকাবাজি করার অর্থ কী?’
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    ‘আল্লাহর নির্দেশ/বিধান শুধুমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করো। অন্য উদ্দেশ্যে নয়।’

    মূলকথা হলো, দুনিয়ার কোনো আমল কিংবা ইবাদতই আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা যাবে না। কেননা আমল বা ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করাই হলো আল্লাহর সঙ্গে ধোকাবাজি।

    দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় ধোকাবিজ হলো- রিয়া বা লোক দেখানো আমল কিংবা ইবাদত। যা ছোট শিরকের অন্তর্ভূক্ত। ছোট ছোট শিরক অব্যাহত থাকলে তা বড় শিরকে পরিণত হয়। আর শিরককারীর কোনো ইবাদতই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ঘোষণা করেন যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা রিয়াকারীকে ৪টি মারাত্মক সম্বোধনে ডাকবেন-
    >> হে কাফের! (অস্বীকারকারী)
    >> হে ফাজের! (পাপী)
    >> হে গাফের! (ধোকাবাজ)
    >> হে খাছের! (ক্ষতিগ্রস্ত)

    অতঃপর আল্লাহ তাআলা রিয়াকারের উদ্দেশ্যে বলবেন, ‘তোমাদের আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে। তোমাদের প্রতিদান নষ্ট হয়ে গেছে। তোমাদের উপকারে আসতে পারে এমন কোনো আমল নেই।

    হে গাফের! (ধোকাবাজ) আজ তোমার আমলের প্রতিদান সেসব লোকদের কাছ থেকে গ্রহণ করো, যাদের উদ্দেশ্যে কিংবা যাদেরকে দেখানোর জন্য তুমি দুনিয়াতে আমল কিংবা ইবাদত করেছিলে।

    মনে রাখতে হবে
    যে কোনো কাজ অর্জন করার চেয়ে তা রক্ষা করা অনেক কঠিন। তেমনি নেককাজ বা আমল করা অতি সহজ, আর তা হেফাজত করা অনেক কঠিন।

    সুতরাং আমল অল্প হোক কিংবা বেশি; তা করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য। কোনোভাবেই অন্যকে দেখানোর জন্য কোনো আমল বা ইবাদত করা যাবে না। আর তাতেই পরকালে সহজে মুক্তিপাবে মুমিন।

    আল্লাহর সঙ্গে ধোকাবাজি থেকে বিরত থাকতে তাওবা-ইসতেগফারের বিকল্প নেই। এ তাওবা-ইসতেগফারই মানুষকে যাবতীয় প্ররোচনা থেকে মুক্ত রাখবে।

    এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষ্পাপ হওয়ার পরও উম্মতের শিক্ষা লাভে তিনি প্রতিদিন ৭০-১০০ বার আল্লাহর কাছে তাওবা-ইসতেগফার করতেন।

    দুনিয়ার যাবতীয় রিয়া ও ফেতনা থেকে মুক্ত থাকতে পড়ুন-
    اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم الَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
    অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি এক ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাবো।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কেয়ামতের দিন মুক্তি লাভে লোক দেখানো কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার যাবতীয় আমল ও ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • কুরআনিক ভয়েসে মাশরাফির মেয়ে হুমায়রা ভিডিও

    কুরআনিক ভয়েসে মাশরাফির মেয়ে হুমায়রা ভিডিও

    ৮ বছরের হুমায়রা মর্তুজা। আহলুল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উদ্যোগে কুরআনিক ভয়েসে অংশগ্রহণ করেছে হুমায়রা। আহলুল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করেছে জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতা ২০১৯।

    হুমায়রা মর্তুজা বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মেয়ে। আহলুল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে সাবলিলভাবে কুরআন তেলাওয়াত করে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে হুমায়রা।

    হুমায়রা মর্তুজা মঞ্চে কুরআনুল কারিমের ৯৩ নম্বর সুরা ‘সুরা আদ-দোহা’ তেলাওয়াত করে।

    উল্লেখ্য, মাশরাফি বিন মর্তুজা ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নড়াইলের মেয়ে সুমনা হক সুমিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো মেয়ে সন্তানের বাবা হন তিনি। ২০১১ সালের ১৮ মার্চ মাশরাফি ও সুমনা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় হুমায়রা মর্তুজা।

  • রোজাদারের যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

    রোজাদারের যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

    রহমত ও বরকত নাজিলের মাস রমজান সন্নিকটে। মুসলিম উম্মাহ মাসব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি লিপ্ত হতে শারীরিক মানসিক ও আত্মিকভাবে তৈরি হচ্ছে। এ মাসের রয়েছে অসাধারণ সব বৈশিষ্ট ও মর্যাদা।

    সারা বিশ্বের মুসলিম একযোগে দিনের বেলায় পানাহার ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে দূরে থেকে দীর্ঘ ৩০ দিন রোজা পালন করবে।

    ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ রমজানের রোজা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-

    সাওম বা রোজা কী?
    সাওম আরবি শব্দ। শব্দটি কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা বা ত্যাগ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর ইসলামে সাওম বা রোজা মানে হলো- সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় গ্রহণ এবং যৌন মিলনসহ যেসব কাজে রোজা ভেঙে যায় তা থেকে আল্লাহর নির্দেশ পালন ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিরত থাকা।

    ইসলামে রোজার গুরুত্ব
    সাওম বা রোজা ইসলামের ৫টি স্তম্ভের একটি। রোজা মানুষকে যাবতীয় অনাচার থেকে হেফাজত করে।
    – হজরত ওসমান বিন আবুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রোজা হলো দোজখ থেকে বাঁচার জন্য ঢালস্বরূপ; যেমন যুদ্ধ থেকে বাঁচতে তোমরা ঢাল ব্যবহার করে থাক।’ (মুসনাদে আহমাদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

    – হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রোজা হলো জাহান্নাম থেকে রক্ষার জন্য ঢাল বা দুর্ভেদ্য দুর্গস্বরূপ।’ (মুসনাদে আহমাদ, বাইহাকি)

    – অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘তোমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে রমজান-
    > এটি একটি বরকতময় মাস।
    > এ মাসে রোজা পালন করা আল্লাহ তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন।
    > এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।
    > এ মাসে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়।
    > এ মাসে অবাধ্য শয়তানদের শেকলবদ্ধ করা হয়। আর
    > এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। সুতরাং যে এ রাত থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃত পক্ষেই বঞ্চিত হলো।’ (নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)

    – হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে আন্তরিকতার সঙ্গে ও সাওয়াবের নিয়তে রোজা পালন করে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনের আগের সব গোনাহ মাফ করে দেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    – হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের দূরত্বে রাখবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    রোজা রাখবেন যারা
    প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। তবে তাতে রয়েছে কিছু শর্ত-
    > রোজা রাখতে সক্ষম হতে হবে।
    > প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
    > মুকিম বা বাড়িতে অবস্থানকারী হতে হবে। মুসাফিরের জন্য নয়।
    > নারীদেরকে অবশ্যই হাফেজ (মাসিক ঋতুস্রাব) ও নেফাস (সন্তান ভূমিষ্ঠের নির্ধারিত সময়) মুক্ত থাকতে হবে।

    যাদের জন্য রোজা জরুরি নয়
    কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কারণবশত অনেকের জন্যই রোজা রাখা জরুরি নয়। তবে পরবর্তীতে সে রোজাগুলো আদায় করে নিতে হয়। আর তাহলো-
    > অজ্ঞান হয়ে গেলে।
    > বয়সন্ধিক্ষণের সময়। সবে মাত্র রোজা ফরজ হয়েছে, কিন্তু রাখতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়।
    > অতি বয়স্ক মানুষ। যার জন্য রোজা রাখা প্রায় অসম্ভব।
    > মারাত্মক দীর্ঘ মেয়াদী অসুস্থ ব্যক্তি।
    (তারা উভয়ে তাদের রোজা পরিবর্তে একজন মিসকিনের খাদ্যভার বহন করবে)
    > গর্ভর্তী নারী। রোজা রাখার কারণে যদি গর্ভবর্তী নারী ও তার গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    (এদের ক্ষেত্রে কেউ কেউ বলেন, একজন মিসকিনের খাদ্যভার বহন করতে হবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এরা পরবর্তীতে ৩০ দিন রোজা পূর্ণ করে নেবে)
    > সফর বা ভ্রমণকারী ব্যক্তি। সফর অবস্থায় রোজা রাখা আবশ্যক নয়। সফর শেষে রোজাগুলো আদায় করে নেবে।
    > হায়েজ ও নেফাসে আক্রান্ত নারী। মাসিক ঋতুস্রাবের সময় কিংবা সন্তান ভূমিষ্ঠের পরবর্তী মেয়াদে থাকা নারীর জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। পরবর্তীতে তারা ইদ্দতকালীন রোজা পূর্ণ করে নেবে।

    রমজান মাসজুড়ে যে আমলগুলো জরুরি
    যারা রোজা পালন করেন, তাদের জন্য রয়েছে কিছু আবশ্য করণীয়। যা রমজান মাসজুড়ে পালন করা জরুরি-
    >> তারাবিহ নামাজ আদায়
    রমজানের চাঁদ দেখা গেলে ওই সন্ধ্যা থেকেই তারাবিহ বা রমজানের রাতের নামাজ আদায় করা। এ নামাজ মসজিদে কিংবা ঘরে একা একাও আদায় করা যায়। হাদিসে এসেছে-
    ‘হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের আশায় ক্বিয়ামে রমজান অর্থাৎ তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (বুখারি)

    >> শেষ রাতে সাহরি খাওয়া
    কম হলেও রোজার জন্য শেষ রাতে সাহরি খাওয়া। অন্তত একটি খেজুর দিয়ে হলেও সাহরি খাওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘তোমরা সাহরি খাবে, কেননা এতে অনেক বরকত রয়েছে।’ (বুখারি)

    >> খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা
    ইফতারের সময় হলে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা। খেজুর না পেলে সাদা পানি পান করে ইফতার শুরু করা। হাদিসে এসেছে-
    ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেয়ে (মাগরিবের) নামাজের আগে রোজা ভঙ্গ করতেন।’ (আবু দাউদ)

    >> সময় হওয়ার পর ইফতারে দেরি না করা
    ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। সময় হওয়ার অযথা রোজা ভাঙতে দেরি না করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘মানুষ ততদিন কল্যাণের পথে থাকবে, যতদিন তারা (সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে) তারাতারি ইফতার শুরু করবে।’ (মুসলিম)

    >> মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিহার করা
    রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানের অন্যতম দাবি। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে না, তার পানাহার ত্যাগ করায় (রোজা রাখায় আল্লাহর) কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি)

    >> মন্দ কথার উত্তম জবাব দেয়া
    রোজাদারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি মন্দ কথার জবাবে ভালো কথায় উত্তর দেয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘কেউ যদি মন্দ কথা বলে, রাগানোর চেষ্টা করে, তখন তাকে এ কথা বলা যে, আমি রোজাদার।’ (নাসাঈ)

    রোজা রেখে যা করা যাবে না
    এমন কিছু কাজ আছে, যা করলে রোজা হবে না। আর যদি কেউ সে কাজগুলো করে ফেলে তবে পুনরায় রোজা রাখতে হবে।
    > রোজা অবস্থায় পানাহার করলে।
    > ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।
    > রোজা অবস্থায় মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হলে।
    > যৌন কাজে নিয়োজিত হলে।

    মুসলিম উম্মাহর উচিত, রামজান শুরু আগেই উল্লেখিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। নিজেদের মানসিক ও আত্মিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের এখনই সময়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের আগে প্রাথমিক এ বিষয়গুলো জেনে যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রোজাদারের জন্য সবসময় যে ৬ কাজ জরুরি

    রোজাদারের জন্য সবসময় যে ৬ কাজ জরুরি

    রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মাসব্যাপী রোজাদার ব্যক্তির জন্য ৬টি কাজ নিয়মিত পালন করা জরুরি। কাজগুলোতে রয়েছে সাওয়াব ও শারীরিক অনেক উপকারিতা। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কাজগুলোর প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।

    মুমিন মুসলমানের জন্য রমজান মাসে যে ৬টি কাজ করা অতিব জরুরি তাহলো-

    >> তারাবিহ নামাজ আদায়

    রমজানের চাঁদ দেখা গেলে ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই তারাবিহ বা রমজানের রাতের নামাজ আদায় করা। এ নামাজ মসজিদে কিংবা ঘরে একা একাও আদায় করা যায়। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের আশায় ক্বিয়ামে রমজান অর্থাৎ তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (বুখারি)

    >> শেষ রাতে সাহরি খাওয়া

    কম হলেও রোজার জন্য শেষ রাতে সাহরি খাওয়া। অন্তত একটি খেজুর দিয়ে হলেও সাহরি খাওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘তোমরা সাহরি খাবে, কেননা এতে অনেক বরকত রয়েছে।’ (বুখারি)

    >> খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা

    ইফতারের সময় হলে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা। খেজুর না পেলে সাদা পানি পান করে ইফতার শুরু করা। হাদিসে এসেছে-
    ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেয়ে (মাগরিবের) নামাজের আগে রোজা ভঙ্গ করতেন।’ (আবু দাউদ)

    >> সময় হওয়ার পর ইফতারে দেরি না করা

    ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। সময় হওয়ার অযথা রোজা ভাঙতে দেরি না করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘মানুষ ততদিন কল্যাণের পথে থাকবে, যতদিন তারা (সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে) তাড়াতাড়ি ইফতার শুরু করবে।’ (মুসলিম)

    >> মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিহার করা

    রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানের অন্যতম দাবি। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে না, তার পানাহার ত্যাগ করায় (রোজা রাখায় আল্লাহর) কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি)

    >> মন্দ কথার উত্তম জবাব দেয়া

    রোজাদারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি মন্দ কথার জবাবে ভালো কথায় উত্তর দেয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘কেউ যদি মন্দ কথা বলে, রাগানোর চেষ্টা করে, তখন তাকে এ কথা বলা যে, আমি রোজাদার।’ (নাসাঈ)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত রমজানব্যাপী এ কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করে রমজানের অবিরত রহম,ত বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত লাভে ধন্য হওয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ ও উল্লেখিত মাসনুন আমলগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • মেয়ের প্রতি বিশ্বনবির ভালোবাসা

    মেয়ের প্রতি বিশ্বনবির ভালোবাসা

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ৪ মেয়ে ছিল। যাদের মধ্যে ৩ জনই তাঁর জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন। বেচে ছিলেন শুধু হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা। তাঁর প্রতি ছিল প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অগাধ ভালোবাসা।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মেয়ে ফাতেমাকে কী পরিমাণ ভালোবাসতেন, হৃদয়ে মমতা পোষণ করতেন তা হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনায় ওঠে এসেছে-

    উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কথা-বার্তায় ফাতেমার চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আর কাউকে দেখিনি। সে (ফাতেমা) যখন তাঁর কাছে আসতো, তখন তিনি ওঠে দাঁড়াতেন, তাঁকে স্বাগত জানাতেন, চুমো খেতেন এবং নিজের আসনে তাঁকে বসাতেন।
    আবার যখন তিনি (প্রিয় নবি) ফাতেমার কাছে যেতেন তখন সেও ওঠে দাঁড়াতো, তাঁর হাত ধরতো, তাঁকে স্বাগত জানাতো, চুমো খেত এবং নিজের আসনে নিয়ে বসাতো।’ (আদাবুল মুফরাদ)

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু নিজ মেয়েকেই আদর করতেন না বরং নিজ নাতনি হজরত উমামাসহ অন্য মেয়ে শিশুদেরও ভালোবাসতেন। নাতি হাসান ও হোসাইনসহ অন্য ছেলে শিশুরাও তার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতো না।

    ‘উমামা যখন শিশু তখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাকে কাঁধে চড়িয়ে মসজিদে চলে এলেন। এরপর এভাবেই নামাজে দাঁড়ালেন। দাঁড়ানো থেকে যখন রুকুতে যাবেন তখন তাকে নামিয়ে রাখলেন। এরপর (রুকু শেষে) দাঁড়িয়ে আবার তাকে কাঁধে চড়ালেন। এভাবেই তিনি পুরো নামাজ শেষ করলেন।’ (নাসাঈ)

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়ে শিশুদের লালন-পালনে, তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করার মাধ্যমে তাদের জীবনকে বিকশিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

    মেয়ে শিশুদের লালন-পালন, ভরণপোষণ ও উত্তম আচরণের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির কথা বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
    ‘যার ৩ কন্যা সন্তান হবে আর সে তাদের আবাসের ব্যবস্থা করবে, তাদের প্রতি মমতা দেখাবে, তাদের দায়িত্ব নেবে তার জন্য জান্নাত সুনিশ্চিত। জিজ্ঞাসা করা হলো হে আল্লাহর রাসুল! যদি (কন্যা) ২ জন হয়? প্রিয় নবি বললেন, ২ জন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবিদের কারো ধারণা- ‘যদি কেউ বলতো একজন হলে? তাহলে প্রিয় নবি বলতেন, একজন হলেও।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরাকে হাকেম)

    অন্য হাদিসে এসেছে-
    ‘তোমাদের কারও যদি ৩ মেয়ে কিংবা ৩ বোন থাকে আর সে তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে।’ (তিরমিজি)

    মেয়েদের দায়িত্ব পালনে জাহান্নামে আগুন থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয় নবি। অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন-
    ‘মেয়েদের লালন-পালনের দায়িত্ব যার কাঁধে অর্পিত হয় আর সে ধৈর্যের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে তারা সে ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হয়ে থাকবে।’ (তিরমিজি)

    পরিশেষে…
    মেয়ে শিশুর দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জান্নাতে অবস্থান করবেন বলে যেভাবে হাদিসে বর্ণনা দিলেন, তাহলো-
    ‘যে দু’টি মেয়ে শিশুকে দেখাশোনা করল, লালন-পালন করলো, আমি এবং সে এভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবো। এ কথা বলে তিনি হাতের দুই আঙুল দিয়ে ইশারা করে দেখিয়েছেন।’ (তিরমিজি)

    মেয়ে শিশুর লালন-পালনকারী ব্যক্তির জন্য সেরা উপহার আর কী হতে পারে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও প্রিয় নবির সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশের সুনিশ্চিত ঘোষণা।

    সন্তান ছেলে কিংবা মেয়ে হোক, তাদের দেখলে বাবা-মায়ের চোখ জুড়িয়ে যায়। তাদের যে কোনো সফলতায় বাবা-মা তাদের কষ্টকে ভুলে যান। তাইতো এ দোয়ার মাধ্যমে সন্তানদের কল্যাণ কামনা করতে বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা-
    رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْیُنٍ وَّ اجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِیْنَ اِمَامًا.
    উচ্চারণ : রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুর্রাতা আইয়ুনিও ওয়াঝআলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা।
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি দান করুন, যারা হবে আমাদের নয়নপ্রীতিকর; আর আমাদেরকে আপনি মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।’ (সুরা ফোরকান : আয়াত ৭৪)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিজ কন্যাসহ মেয়ে শিশু ও নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ ও সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করার তাওফিক দান করুন। মেয়েদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন

    রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন

    রমজান অনেক মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ মাস। এ মাসে মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি অবিরত রহমত বরকত নাজিল করেন। আর বান্দাকে মাগফেরাত ও নাজাত দান করেন। শাবান মাসের শেষ দিন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতদের বিশেষ তাসবিহ ও দোয়া পড়তে বলেছেন।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস জুড়ে তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করা ছিল উম্মতের জন্য বিশেষ নসিহত। যাতে মানুষ এ বিশেষ তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে পরিপূর্ণভাবে তৈরি করতে পারেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘শাবান মাসের শেষ দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন যে, ‘হে লোক সকল! অবশ্যই তোমাদের সামনে মহান মাস, বরকতময় মাস উপস্থিত। এ মাসে তোমরা ৪টি কাজ বেশি বেশি আদায় কর। এর মধ্যে দু’টি কাজ আল্লাহর জন্য আর দু’টি কাজ তোমাদের নিজেদের জন্য।

    আল্লাহ জন্য ২ কাজ হলো (তাসবিহ) এ সাক্ষ্য দেয়া যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
    আর নিজের জন্য যে দুই কাজ করতে বলেছেন, তাহলো- জান্নাত লাভের দোয়া করা এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাওয়া।’

    হাদিসে ঘোষিত বিশেষ দোয়া

    > তাসবিহ পড়া অর্থাৎ এ সাক্ষ্য দেয়া-
    – لَا اِلَهَ اِلَّا الله
    উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’
    অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

    > ইসতেগফার করা অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়া। হাদিসে অনেক ইসতেগফার এসেছে। এর যে কোনোটি পড়লেই হবে-
    – اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اِنَّ اللهَ غَفُوْرُ الرَّحِيْم
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।
    অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

    – اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اّللَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
    অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি এক ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাবো।

    – رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব্ আলাইয়্যা ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’
    অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় তাওবাকবুলকারী, দয়াবান।’

    – اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানি; ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আ’হদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বা’তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া; ওয়া আবুউ বিজামবি ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমত তোমার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আমার ওপর তোমার অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমার পাপও স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ব্যতিত কোনো ক্ষমাকারী নেই।

    > জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া-
    – اَللَّهُمَّ اَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَ اَجْرِنَا مِنَ النَّارِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলনাল জান্নাতা ওয়া আঝিরনা মিনান নার।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।’

    – اَللهُمَّ انَّ نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান নার।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই।’

    হাদিসে পাকে আরো এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা ৩ বার জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবে, জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুলে সুপারিশ করবে।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো রমজান মাস জুড়ে বেশি বেশি তাওহিদের ঘোষণা, ইসতেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা, জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে নাজাতের দোয়া করার কথা বলেছেন।

    আল্লাহ তাআলা রমজানজুড়ে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখিত তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে রমজানের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ইসরাইলি আক্রমণে ৭৫ ভাগ মসজিদ ধ্বংস

    ইসরাইলি আক্রমণে ৭৫ ভাগ মসজিদ ধ্বংস

    সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি খবর ভেসে বেড়াচ্ছে যে, ফিলিস্তিনে অবস্থিত হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মসজিদটি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। কিন্তু তার চেয়ে মারাত্মক ও দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো ফিলিস্তিনের গাজা’র প্রায় ৭৫ ভাগ মসজিদই ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। খবর মিডল ইস্ট মিরর।

    সংবাদ মাধ্যমটির তথ্য মতে জানা যায় যে, গত ৫১ দিনে ৭৩টি মসজিদ ধ্বংসের পাশাপাশি ২০৫টি মসজিদ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইসরাইল।

    পিইসিডিসি (ফিলিস্তিন ইকোনোমিক কাউন্সিল ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্সট্রাকশন) কর্তৃক গঠিত কমিটির তথ্য মতে ফিলিস্তিনের গাজায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য কার্যালয়সহ প্রায় ৪০.৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ইসরাইলি হামলায় শুধু মসজিদই ধ্বংস হয়নি, দুটি গির্জাসহ ১০টি সমাধিস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

    পিইসিডিসি কমিটির তথ্য মতে শুধু গাজাতেই ইসরাইলি আক্রমণে ৭৫ ভাগ মসজিদ ধ্বংস হয়েছে।

    এসব ধ্বংস প্রাপ্ত মসজিদের মধ্যে ফিলিস্তিনের বিখ্যাত মসজিদ আল-ওমরিও ধ্বংস করা হয়েছে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে দুই দফা আক্রমণে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আর ২০১৯ সালে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়।

    হজরত আমর ইবনুল আসের সময়কার একটি প্রাচীন মসজিদ; যেটি ১৩৬৫ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। সে মসজিদটিও ধ্বংস করা হয়েছে। যার নাম ছিল মসজিদ মানারাত আল-জাহের।

    মসজিদটি ৩ হাজার বর্গমিটার বিস্তৃত ছিল আর এতে এক সঙ্গে প্রায় ২০০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতো।

    উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে ইসরাইলি আক্রমণ ছিল অনেক বেশি। যা ২০০৮ ও ২০০৯ সালের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি।

    ইসরাইলি আক্রমণে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদগুলো পুনঃর্নিমাণে সহায়তাকারী বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের মসজদি কর্তৃপক্ষ।

  • রমজানের রোজা রাখার বিধান

    রমজানের রোজা রাখার বিধান

    যুগে যুগে মানুষের ওপর রোজা ফরজ। হজরত আদম আলাইহিস সালাম প্রত্যেক মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা পালন করতেন। যা হজরত নুহ আলাইহিস সালামের সময় পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।

    এভাবে হজরত দাউদ আলাইহিস সালামসহ অনেক নবি-রাসুলই রোজা বিধান পালন করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ইসলাম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও উপোস করে থাকেন।

    সর্বশেষ আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য পুরো রমজান মাস জুড়ে রোজা পালনকে বিধান করে দিয়েছেন। কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

    ‘হে ঈমাদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা পালন করাকে আবশ্যক করেছেন। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর রোজা পালন করা আবশ্যক ছিল। যাতে তোমরা (রোজা পালনে) তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

    কুরআনের পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা অসুস্থ ও মুসাফিরদেরকে রোজার এ বিধান থেকে অব্যহতি দেন। আর বলেন, ‘রমজান মাস। যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। যাতে ছিল মানুষের জন্য হেদায়েত।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)’

    হাদিসে পাকে রমজানের রোজার আবশ্যকতা তুলে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-

    হজরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, (একবার) এলোমেলো চুলসহ এক গ্রাম্য আরব প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন। অতঃপর বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে বলুন, আল্লাহ তাআলা আমার ওপর কত রাকাআত নামাজ ফরজ করেছেন?

    তিনি বললেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তবে তা স্বতন্ত্র।’
    তারপর সে ব্যক্তি বলল, আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার ওপর কত সিয়াম ফরজ করেছেন?
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘রমজান মাসের সাওম বা রোজা; তবে তুমি যদি কিছু নফল রোজা আদায় কর তবে তা স্বতন্ত্র কথা।’

    তারপর তিনি বললেন, বলুন, আল্লাহ আমার ওপর কী পরিমাণ জাকাত ফরজ করেছেন?
    রাবি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ‘ওই সত্ত্বার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবি করে সম্মানিত করেছেন।

    (লোকটি বলল) আল্লাহ আমার ওপর যা ফরজ করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াবো না এবং কমাবোও না।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করবে কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করবে।’ (বুখারি)

    কুরআন এবং হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী রমজান মাসব্যাপী রোজা পালন করা আল্লাহর বিধান ও ফরজ তথা আবশ্যক ইবাদত। যারা এ ইবাদত যথাযথ পালন করবে, তাদের জন্য পরকালের সফলতা তথা জান্নাত লাভ সুনিশ্চিত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সফলতা ও জান্নাত লাভে রমজানের রোজার যথাযথ হক আদায় করে তা পালন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নেককার বান্দার ৩ আলামাত

    নেককার বান্দার ৩ আলামাত

    নেককার বান্দা কারা? কেমন অবস্থার সৃষ্টি হলে কিংবা অনুভূতি কেমন হলে বুঝবেন যে আপনি নেককার। তাদের চেনার বা নিজেকে নেককার বান্দা হিসেবে বুঝার উপায়ই বা কী?

    নেককার বান্দার ৩টি হালত বা অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন হজরত শাকিক বিন ইবরাহিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। তাকে নেককাবার বান্দার হালত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ ৩টি বিষয় তুলে ধরেন-

    > প্রসিদ্ধ ও তাকওয়াবান আলেমের কাছে নিজের আমল ইবাদতের অবস্থা বর্ণনার পর যদি তিনি তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, তবে বুঝতে হবে যে তিনি পুণ্যবান বা নেককার বান্দা। অতঃপর এ আমলের ধারা অব্যাহত রাখা।
    >> জিনিস যত দামিই হোক কেন? কিংবা দুনিয়ার যত মূল্যবান সম্পদই হোক না কেন? যদি দামি ধন-সম্পদ দেখার পরও কারো মধ্যে সম্পদের লোভ বা আকর্ষন না জন্মে।তবে বুঝতে হবে তা নেককার বান্দার গুণ।
    >> যে নিজের সামনে এ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় যে, এক্ষুনি সে মৃত্যুবরণ করবে, আর তাতে নিজেকে মৃত্যুর জন্য উপযুক্ত ভাবে কিংবা মৃত্যুর সংবাদে স্বাচ্ছন্যবোধ করে বা মৃত্যুর জন্য সে প্রস্তুত। তবে বুঝতে হবে যে এ ব্যক্তির মাঝেও নেককার বান্দার গুণ বা স্বভাব রয়েছে।

    সুতরাং নেককার বান্দার জন্য উল্লেখিত ৩টি হালত নিজের মধ্যে অর্জন করা জরুরি। যে কোনো সময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি।

    যারাই এ গুণ ৩টি অর্জন করতে সক্ষম; তাদের উচিত মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা এবং বেশি বেশি নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করা। যেন কোনো ব্যক্তির আমলে রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত স্থান না পায়।

    আর এ সব নেককার বান্দার জন্য রয়েছে অনেক সুসংবাদ। আল্লাহ তাআলার সে সুসংবাদ হলো-
    > আর আল্লাহর নেককার বান্দা হওয়ার অন্যতম উপায় হলো তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জন করা। যারা আল্লাহকে ভয় করে তারাই পাবে সর্বোচ্চ পুরস্কারের ঘোষণা। আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)
    > ‘নিশ্চয় পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে।’ (সুরা ইনফিতার : আয়াত ১৩)
    > নিশ্চয় সৎকর্মশীলগণ পান করবে এমন পানীয় যার মিশ্রণ হবে কার্পুরের অর্থাৎ ঠাণ্ডা ও সুগন্ধযুক্ত।’ (সুরা ইনসান : আয়াত ৫)
    >‘অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যিনে।’ (সুরা আল মুতাফ্ফিফিন : আয়াত ১৮) এটা আরশের নিকটবর্তী স্থান।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রিয়ামুক্ত থেকে নিজেদের মধ্যে উল্লেখিত ৩টি হালত তৈরি করার তাওফিক দিন।

    আমিন।