Category: ধর্ম

  • যে আমলে চরম শত্রুও সামনে আসবে না

    যে আমলে চরম শত্রুও সামনে আসবে না

    আস-সাবুরু (اَلصَّبُوْرُ) আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নাম। এ নামের গুণ ও মর্যাদা সম্পর্কে কুরআনে পাকে অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে। এ গুণবাচক নামের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত।

    হাদিসে পাকে আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের অনেক আমল ও ফজিলত বর্ণিত আছে। যে গুণবাচক নামের আমলে মানুষ বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করে।

    তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম আছে। যে ব্যক্তি এ গুণবাচক নামগুলোর জিকির (আমল) করবে; সে জান্নাতে যাবে।’

    দুঃখ দুর্দশা ও বিপদাপদে এ পবিত্র গুণবাচক নামের আমল করলে শান্তি লাভ করব। আর নিরাপত্তা লাভে এ গুণবাচক নাম (اَلصَّبُوْرُ) ‘আস-সাবুরু’-এর নিয়মিত আমলই যথেষ্ট।

    Amal

    উচ্চারণ : ‘আস-সাবুরু’
    অর্থ : ‘অত্যন্ত ধৈর্যশীল’

    ফজিলত ও আমল
    – চরম দুঃখ-দুর্দশা ও বিপদের সময় আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম (اَلصَّبُوْرُ) আস-সাবুরু’ ৩৩ বার পাঠ করলে-
    – সে শান্তি লাভ করবে।
    – শত্রুর আক্রমন ও মুখ বন্ধ হয়ে যাবে এবং পিছু হটে যাবে।
    – বিচার প্রার্থী বিচারকের কাছে ভালো আচরণ পাবে।
    – সব মানুষের কাছে সে হবে সম্মানিত।

    – যদি কোনো ব্যক্তি মধ্য রাতে আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম (اَلصَّبُوْرُ) আস-সাবুরু’-এর জিকির করে, তবে তার কল্যাণ হবে।

    সুতরাং হাজারো প্রচেষ্টা ও সাধনায় যেসব বিপদজনক কাজ ও দুঃখ-দুর্দশা দূর হয় না। সেসব কাজ আল্লাহ তাআলা এ ছোট্ট গুণবাচক নামের আমলে সমাধান হয়ে যাবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর গুণবাচক নামের এ ছোট্ট আমলে উল্লেখিত বিষয়ে সঠিক সমাধান শান্তি ও নিরাপত্তা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে কারণে তাওবাহ আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল

    যে কারণে তাওবাহ আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল

    আল্লাহর দিকে ফিরে আসার নাম তাওবাহ। এ তাওবাহ’র মাধ্যমে মানুষ অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রাখে। তাওবাহ করার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হয়। তাওবা করা হলো মহান আল্লাহর নির্দেশ। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    তোমরা প্রত্যেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করো।’ (সুরা আত-তাহরিম : আয়াত ৮)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো গোনাহ ছিল না। তারপরও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্রাম কম-বেশি ৭০/১০০ বার তাওবা করতেন। আর তাওবাহ মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাওবা-এর মাধ্যমে অনেক নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন।

    তাওবাকারী শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রব বলে মাফ করার করুণ আকুতি পেশ করেন। আর তাওবাহ ছিল প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় আমল। তাইতো তাওবাকারীকে মহান আল্লাহ বেশি ভালো বাসেন।

    তাওবাহ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি অনেক বেশি খুশি হন। যা অন্য কোনো ইবাদতে হওয়া যায় না। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু দু’টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। একটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আর একটি তিার নিজের পক্ষ থেকে। আর তাহলো-

    – তিনি বলেন, ঈমানদার ব্যক্তি তার গোনাহগুলোকে এত বড় (বোঝা) মনে করে যে, সে যেন একটা পর্বতের নিচে বসে আছে। আর সে আশংকা করবে যে সম্ভবত পর্বতটা তার ওপরই ধ্বসে পড়বে। আর যে বক্তি পাপে নিমজ্জিত সে তার গোনাহগুলোকে মাছির মতো (ক্ষুদ্র) মনে করে। যা তার নাকে বসে চলে যায়। আবু শিহাব নিজ নাকে হাত দিয়ে দেখিয়ে দেন।

    পক্ষান্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণিত হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মনে করো কোনো এক ব্যক্তি (সফরের) কোনো এক স্থানে (বিশ্রাম গ্রহণের জন্য) অবতরণ করলো। আর সেখানে প্রাণেরও ভয় ছিল। তার সঙ্গে তার সফরের বাহনও ছিল। যার ওপর ছিল (সফরের) খাদ্য ও পানীয়। (এ সব রেখে) সে ঘুমিয়ে পড়লো। আর জেগে দেখলো তার বাহন হারিয়ে গেছে। সে সময় সে গরমে ও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো।

    তখন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, ‌আল্লাহ যা চাইলেন তা হলো। তখন সে বললো- আমি যে স্থানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। তারপর সে নিজ স্থানে ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়লো।তারপর জেগে দেখলো যে, তার বাহনটি তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। (খাদ্য ও পানীয়সহ) বাহন পেয়ে সে ব্যক্তি যতটা খুশী হলো, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তাওবাহ করার কারণে এরচেয়েও বেশি খুশি হন।’ (বুখারি)

    অন্য বর্ণনা হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবাহ’র কারণে সেই লোকটির চেয়েও বেশি খুশি হন; যে লোকটি মরুভূমিতে তাঁর উট হারিয়ে যাওয়ার পর তা পেয়ে যায়।’ (বুখারি, মুসলিম)

    মানুষের উচিত আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হতে বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফারের আমলে নিজেদের জীবন রাঙিয়ে তোলা। কেননা বিশ্বনবি যে কোনো মজলিশে এত বেশি তাওবাহ ইসতেগফার করতেন যে, গুণতে থাকলে বুঝা যেত যে, তিনি ১০০ বার এ তাওবা করছেন-

    رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়া তুত্ আলাইয়িা ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’
    অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় তাওবাকবুলকারী এবং দয়াবান।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

    সুতরাং আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হতে পাপ করার সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি। কেননা এক হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যায় করা ও তাওবা করার প্রসঙ্গে ঘোষণা দেন যে-
    ‌রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন আছে! যদি তোমরা পাপ না কর, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন এবং (তোমাদের পরিবর্তে) এমন এক জাতি তৈরি করবেন; যারা পাপ করবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালে চিরস্থায়ী জীবনের সফলতা লাভে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার যাবতীয় বিপদ তাওবাহ’র মাধ্যমে সমাধানের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ইসলামের আলোকে সুস্থ থাকবেন যেভাবে

    ইসলামের আলোকে সুস্থ থাকবেন যেভাবে

    সুস্থ শরীর ও মন মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। তাই সুস্থ থাকতে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কেননা ‘রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা উত্তম’।এটা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম স্লোগানও বটে। এ জন্য সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

    মানুষের প্রতি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ১৯৪৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ হিসেবে ৭ এপ্রিল নির্ধারণ করে। এ ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও ‘সমতা ও সংহতি নির্ভর সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।

    মানুষের সুস্থ দেহ ও মানসিক প্রশান্তি লাভে ইসলামেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্থতার প্রতি মর্যাদা দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-
    ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পাঁচটি অবস্থার আগে পাঁচটি অবস্থাকে মর্যাদা দিতে হবে। তন্মধ্যে একটি হলো- ‘অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে মর্যাদা দাও।’ কেননা সুস্থতা হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য গণীমত।

    মানুষের শরীরে যাতে রোগের উৎপত্তি না হয়, সে বিষয়ে নসিহত পেশ করেছেন বিশ্বনবি। তিনি বলেন-
    – ‘হে মুহাজির সম্প্রদায়! এমন পাঁচটি অভ্যাস রয়েছে, সেগুলো যেন তোমাদের মধ্যে পাওয়া না যায়। সে জন্য আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে ‘অশ্লীলতা’। যখন কোনো জাতি অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে কিংবা তার মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ পায়। তখন তাদের মাঝে প্লেগসহ বিভিন্ন ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি মহামারী আকারে দেখা দেয়। যে রোগের কথা পূর্বপুরুষদের কেউ আগে কখনো শোনেনি।

    পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণেও মানুষ রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। পরিবেশ যখন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, তখন এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আর তাতে মানুষ অসুস্থতায় পতিত হয়। এ কারণে পরিবেশ বিপর্যয়কে গোনাহের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘জলে- স্থলে মানুষের কৃতকর্মের কারণে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা (অন্যায়-অনাচার-জুলুম থেকে) ফিরে আসে। (সুরা রুম : আয়াত ১৪)

    তাইতো সুস্থ থাকতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে তোমরা সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা কর, কারণ ঈমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে অধিক মঙ্গলজনক কোনো কিছু কাউকে দান করা হয়নি।’ (ইবনে মাজাহ)

    সুস্থতা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
    অনেক কারণে মানুষের সুস্থ থাকা জরুরি। বিশেষ করে ইসলাম সুস্থ থাকার গুরুত্ব অত্যাধিক। আল্লাহর হুকুম পালনে কিংবা ইসলামের বিধি-বিধান বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। তাই সুস্থ না থাকলে ইসলাম বিধান বাস্তবায়নও সম্ভব নয়।

    আবার ইবাদত-বন্দেগির জন্যও সুস্থ থাকা আবশ্যক। কারণ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ছাড়া ইবাদত-বন্দেগি করাও সম্ভব নয়। হাদিসে এসেছে-
    ‘দুর্বল মুমিনের তুলনায় শক্তিশালী মুমিন অধিক কল্যাণকর ও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ।’ (মুসলিম)

    অন্য হাদিসে এসেছে-
    ‘অধিকাংশ মানুষ দুটি নিয়ামত সম্পর্কে সচেতন নয়। আর তাহলো- সুস্থতা এবং অবসর।’ (বুখারি)

    পরকালে আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ সুস্থতার সময় সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করবেন। প্রত্যেক বান্দাকেই জিজ্ঞাসা করা হবে- ‘আমি কি তোমাকে শারীরিক সুস্থতা দেইনি?’ (তিরমিজি)

    সুতরাং যদি কোনো বান্দা অসুস্থ হয়ে যায় তবে তাকে চিকিৎসা গ্রহণ করাও জরুরি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করতেন। লোকদের চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করতেন। চিকিৎসা গ্রহণ সম্পর্কে প্রিয় নবি বলেছেন-
    – ‘হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, কেননা মহান আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি। তবে একটি রোগ আছে যার কোনো প্রতিষেধক নেই, তাহলো বার্ধক্য।’(আবু দাউদ)

    মনে রাখতে হবে 
    ইসলামের দৃষ্টিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা শুধু বৈধই নয় বরং তা গ্রহণ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লামের নির্দেশও বটে। আর তাহলো-
    – হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি একবার অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে এসে তার হাত মোবারক আমার বুকের ওপর রাখেন। আমি অন্তরে এর শীতলতা অনুভব করি। অতঃপর তিনি বলেন, তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছ। তুমি ছাকিফ গোত্রের হারেস ইবনে কালদার কাছে যাও। সে (এই রোগের) চিকিৎসা করে।’ (আবু দাউদ)

    – বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা রোগ দিয়েছেন, রোগের প্রতিষেধকও নাজিল করেছেন। প্রত্যেক রোগের চিকিৎসা রয়েছে। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর। তবে হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করবে না।’

    – তিনি আরো বলেন, ‘হারাম বস্তুতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য আরোগ্য বা রোগমুক্তি রাখেননি।’

    সুতরাং সুস্থতায় চিকিৎসা গ্রহণে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নসিহত হোক মুমিন মুসলমানের অনুপ্রেরণা। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুস্থ থাকা, চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সেবায় আত্মনিয়োগ করা হোক ঈমানের একান্ত দাবি। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে নিজেদের সুস্থতায় সচেতন হওয়া জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুস্থ থাকার কুরআন-সুন্নাহর উপদেশ গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • শাহজালালেই হবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন

    শাহজালালেই হবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন

    বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের পরিবর্তে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে সৌদি প্রতিনিধি দল।

    ঢাকায় সফররত সৌদি আরবের ডাইরেক্টর জেনারেল (পাসপোর্ট) মেজর জেনারেল সোলাইমান আব্দুল আজিজ ইয়াহ ইয়াহর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সম্মতির কথা জানান।

    প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, প্রি-অ্যারাইবেল ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি আজ (বৃহস্পতিবার) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশকোনা হজক্যাম্প পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম করা সম্ভব বলে জানান।

    ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বরাত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    যে প্রক্রিয়ায় শাহজালালে ইমিগ্রেশন হবে 

    চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজারসহ ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও অবশিষ্ট ৫০ ভাগ সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে।

    প্রচলিত রীতি অনুসারে বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীরা আশকোনা হজক্যাম্পে ও সৌদি এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। আসন্ন হজেও একই নিয়মে তারা আশকোনা হজক্যাম্প ও শাহজালালে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন।

    এরপর উভয় বিমানের হজযাত্রীদের শাহজালাল বিমানবন্দরের একটি এক্সক্লুসিভ জোনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাদের সৌদি আরবের জেদ্দায় যে ইমিগ্রেশনের কাজ হতো সেই কাজটি (ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ ও মিলিয়ে দেখা) ওই এক্সক্লুসিভ জোনে সম্পন্ন করা হবে অর্থাৎ সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশনের কাজ ওইখানে সম্পন্ন করে হজযাত্রীরা স্ব স্ব বিমানে আরোহণ করে যাত্রা করবেন। এক্সক্লুসিভ জোনের সব কার্যক্রম থাকবে সৌদি আরবের টেকনিক্যাল দলের হাতে। ফলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা বিমানবন্দরে ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করার বিড়ম্বনা লাঘব হবে।

    আট বিভাগে সব হজযাত্রীর দশ আঙুলের হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হবে

    বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আসন্ন হজে হজ-ভিসার জন্য দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দেয়ার আগেই দেশের আট বিভাগে প্রত্যেক হজযাত্রীর দশ আঙুলের হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। ফলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি কর্তৃপক্ষের ইমিগ্রেশন কাজ সহজ হবে।

    Hajj-BD-1

    ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের পক্ষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী, ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান, বিমান সচিব মো. মহিবুল হক, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, কাউন্সেলর (হজ) মাকসুদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য সাক্ষাতে সৌদি প্রতিনিধি দলে অংশগ্রহণ করেন সৌদি আরবের ডাইরেক্টর জেনারেল (পাসপোর্ট) মেজর জেনারেল সোলাইমান আব্দুল আজিজ ইয়াহ ইয়াহ, মেজর জেনারেল খালেদ বিন ফাহাদ আল যুইয়াদ, ডক্টর হুসাইন বিন নাসের আল শাকিত, আলী বিন মোহাম্মদ আল ওতাইবি, মোহাম্মদ বিন ওবায়েদ আল উতাইবি, ব্রিগেডিয়ার সামি বিন আব্দুল্লাহ মুকিম, ইঞ্জিনিয়ার হামাদ বিন ইব্রাহিম আল হাম্মাদ, ড. আব্দুর রহমান আল ইসা, কর্নেল মোহাম্মদ বিন ওমর আল ঘামদি, ড. হামোদ বিন সাদ আল কোয়ারনি, হাসান বিন সাঈদ আল জাহারানি, ফাইহান মাহিয়া আল মাহিয়া, আব্দুর রহমান সাউদ আল মাহিয়া ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ বিন নাসের আল হাল্লাফ।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত সৌদি আরব সফরকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সৌদি হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রীকে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের সৌদিতে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাংলাদেশে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান।

    বাংলাদেশের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২১ মার্চ সৌদির একটি কারিগরি দল বাংলাদেশ সফর করে।

    শুক্রবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন

    আগামীকাল (শুক্রবার) বেলা ১১টায় সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৫১৫ কক্ষে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। এই সংবাদ সম্মেলনে শাহজালালে ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের অবহিত করা হবে।

  • পৃথিবীর প্রথম নারী হজরত হাওয়াকে নিয়ে কুরআনের বর্ণনা

    পৃথিবীর প্রথম নারী হজরত হাওয়াকে নিয়ে কুরআনের বর্ণনা

    দুনিয়ার সব মানুষের মা হজরত হাওয়া আলাইহিস সালাম। তার গর্ভজাত সন্তানের দ্বারাই আজ সারা দুনিয়ায় মানুষের বংশবৃদ্ধি হয়ে এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসলামের ইতিহাসে যেসব নারী বিখ্যাত হয়ে আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম এবং পৃথিবীর প্রথম নারীও হজরত হাওয়া আলাইহিস সালাম।

    কুরআনুল কারিমের ছয় স্থানে তাকে নিয়ে আয়াত নাজিল করেছেন আল্লাহ তাআলা। হজরত আদম আলাইহিস সালামকে একাকিত্ব থেকে মুক্ত করতে এবং মানব সৃষ্টির প্রচলনকল্পে হজরত হাওয়া আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি ছিলেন হজরত আদম আলাইহিস সালামের স্ত্রী।

    তিনিই প্রথম সৃষ্টি যিনি কোনো জীবন থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছেন। তার মাধ্যমেই মানব জীবনের উৎসের সূচনা হয়েছে। তিনিই সমগ্র মানব জাতির মা। আল্লাহর সৃষ্টিতে দ্বিতীয় মানুষ ও প্রথম নারী।

    কুরআনের যে ছয় স্থানে হজরত হাওয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে তাহলো-

    > হজরত হাওয়া আলাইহিস সালাম মানব জাতির মা। আল্লাহ বলেন-

    হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর; যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দুজন থেকে বিস্তার করেছেন অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাঞ্চা করে থাক এব আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১)

    > বাবা-মা ছাড়া মাটি দ্বারা সৃষ্টি।

    আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির পর তার চিত্ত বিনোদন ও মানুষের প্রজন্ম সৃষ্টি লক্ষ্যে হজরত আদম থেকে মা হাওয়াকে সৃষ্টি করেন। আল্লাহ বলেন-
    ‘তার নিদর্শনাবলির মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ। পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ।’ (সুরা আর-রূম : আয়াত ২০)

    > হজরত আদম থেকে হাওয়ার সৃষ্টি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য আট ধরনের চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, রাজত্বও তারই। তিনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?’ (সুরা আয-যুমার : আয়াত ০৬)

    > হজরত হাওয়ার সৃষ্টি প্রসঙ্গে অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন-

    ‘তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছে একটি মাত্র সত্তা থেকে। আর তার থেকেই তৈরি করেছেন তার জোড়; যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করলো, তখন, সে গর্ভবর্তী হলেঅ। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকলো। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকলো যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদের সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৮৯)

    > হজরত হাওয়ার বেহেশতে থেকে বের হওয়ারে কথার উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন-

    ‘হে আদমের বংশধর! শয়তান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে; যেমন করে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে (আদম-হাওয়া) জান্নাত থেকে বের করেছে। (তারা) বের হওয়ার সময় (তাদের) অবস্থা এমন হয়েছিল যে, তাদের (জান্নাতি) পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছে। যাতের তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ে। সে এবং তার দলবল তোমাদের দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদের তাদের বন্ধু বন্ধু করে দিয়েছি; যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।’ (সুরা আল-আরাফ : আয়াত ২৭)

    > শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে যে দোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ-

    ‘তারা উভয়ে বললো- হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।’ (সুরা আল-আরাফ : আয়াত ২৩)

    হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ দোয়া দুনিয়া ও পরকালে মুসলিম উম্মাহর জন্য এক কার্যকরী টনিক। মুসলিম উম্মাহ সব সময় এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

    সুতরাং কুরআনে বর্ণিত সর্বোচ্চ মর্যাদার ৫ মহিয়সী নারীর মধ্যে হজরত হাওয়া আলাইহিস সালাম ছিলেন অন্যতম একজন। সমগ্র মানব জাতির জন্য শিক্ষণীয় আদর্শ। তার কাছ থেকেই ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের অনুপ্রেরণা লাভ করে মুমিন।

    কারণ তিনি আল্লাহ নির্দেশ অমান্য করে বেহেশতের মতো শান্তির স্থান থেকে দুনিয়াতে এসেছিলেন। আর আল্লাহর হুকুম অমান্যের অপরাধ থেকেও মুক্তি লাভ করেছিলেন। যে দোয়ার মাধ্যমে তিনি মুক্তি লাভ করেছিলেন সেটিও মুমিন মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে তুলে ধরেছেন।

    এক নজরে বর্ণিত সুরার নাম ও আয়াত নম্বর-

    – সুরা নিসা : আয়াত ০১
    – সুরা আরাফ : আয়াত ২৩, ২৭ ও ১৮৯
    -সুরা আয-যুমার : আয়াত ০৬
    – সুরা আর-রূম : আয়াত ২০

    কুরআনে বর্ণিত আয়াতের আলোকে দুনিয়ায় মুমিন মুসলমান নতুন জীবন সাজাতে সচেষ্ট হবে। আল্লাহর নির্দেশ মানতে অনুপ্রেরণা লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা তা কবুল করুন।

    আমিন।

  • হজ নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়লো ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত

    হজ নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়লো ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত

    সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের সময়সীমা আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। আগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আজ ১০ এপ্রিল (বুধবার) নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় আরেক দফা বাড়িয়ে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শিব্বির আহমেদ উছমানী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনের কোটা এখনও খালি আছে। আগে আসলে আগে প্রাক-নিবন্ধনের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের সময়সীমা ১০ এপ্রিলের পরিবর্তে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। তবে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সুবিধার্থে আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে পাসপোর্ট দাখিল করতে হবে। উল্লেখ্য যে, রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকারি ছুটির দিনেও পাসপোর্ট দাখিল করা যাবে।

    ইতোপূর্বে আহ্বানকৃত প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যারা কোনো কারণে নিবন্ধন করতে পারেননি তাদের মধ্যে ২০১৯ সালে হজ পালনে আগ্রহীদের পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা বরাবর লিখিত আবেদন বা prp@hajj.gov.bd; morahajsection@gmail.com ই-মেইল অবহিতকরণ অথবা ০৯৬০২৬৬৬৭০৭ -এই নম্বরে ফোন করে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

  • কঠিন বিপদে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    কঠিন বিপদে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে সুখ-দুঃখ, বিপদ-মুসবিত তত দিন থাকবে। বিপদকে ঘৃণা বা খারাপ দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অনেক সময় বিপদের কারণেই মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। আবার যখন মানুষ চরম অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয় তখনই মানুষের ওপর বিপদ-মুসিবত পতিত হয়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই কোনো কঠিন সমস্যা বা বিপদের সম্মুখীন হতেন তখনই আল্লাহর কাছে একান্তভাবে দোয়া প্রার্থনা করতেন। বিপদ-মুসিবত থেকে মুক্ত থাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সে ছোট্ট আবেদন হলো-
    يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ
    উচ্চারণ : ইয়া- হাইয়ু ইয়া- ক্বাইয়ূ-মু বিরাহমাতিকা আস্তাগিছ। 
    অর্থ : ‘হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার নিকটে সাহায্য চাই।’ (তিরমিজি, মুসতাদরেকে হাকেম, মিশকাত)

    আবার তিনি যখন দেখতেন কোনো মানুষ বিপদে পড়েছেন, তখন তিনি তাদের বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য এ দোয়া করতেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ বিপদগ্রস্ত লোক দেখলে বলবে (এ দোয়া পড়বে)-
    اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِىْ عَافَانِىْ مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ – وَ فَضَّلَنِىْ عَلَى كَثِيْرٍ مِّمَنْ خَلَقَ تَفْضِيْلَا
    উচ্চারণ : আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আফানি মিম্মানিবতালাকা বিহি; ওয়া ফাদ্দালানি আলা কাছিরিম মিম্মান খালাকা তাফদিলা।’
    অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তোমাকে বিপদাক্রান্ত করেছেন; তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং আমাকে তিনি তার মাখলুক থেকে মাখলুকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।’ তখন তাকে এ মুসিবত কখনো স্পর্শ করবে না।’ (তিরমিজি)

    সুতরাং কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হলে নিজের জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া পড়া। আবার যদি নিজেদের মধ্যে কেউ বিপদ-মুসিবতে পড়ে তবে তার জন্য হাদিসে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে শেখানো দোয়ার মাধ্যমে দুনিয়ার যাবতীয় কঠিন সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। পরস্পরের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে ৭ কাজে রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার

    যে ৭ কাজে রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার

    দুনিয়াতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা দুনিয়াকে ভালোবাসে এবং পরকালকে অবহেলা করে। ফলে সে দুনিয়া ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দুনিয়াকেও ভালোবাসতে হবে, এ ভালোবাসা হবে পরকালের সফলতার জন্য।

    দুনিয়ার সময়কে গুরুত্ব দিয়ে ভালোবাসার সঙ্গে আল্লাহর বিধান পালন করতে হবে। কেননা দুনিয়া হচ্ছে পরকালের সফলতা লাভের কর্মক্ষেত্র।

    যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা দুনিয়ার সব সুযোগ-সুবিধাকে পরকালের সফলতা লাভের জন্যই ব্যবহার করে। কেননা মুমিনের কাছে পরকাল অপেক্ষা উত্তম কোনা কোনো কিছুই হতে পারে না।

    যে সব মুমিন বান্দা পরকালের সফলতা লাভে দুনিয়াকে ভালোবাসে এবং দুনিয়াতে আল্লাহর দেয়া বিধান যথাযথ বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করে তারা ৭ শ্রেণিতে বিভক্ত। সেই ৭ শ্রেণির লোকেরা হলেন-

    > যারা গুরুত্বর পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে।
    > যারা কোনো কাজে অন্যের প্রতি প্রচণ্ড রাগের সময়ও তাকে ক্ষমা করে দেয়।
    > যারা আল্লাহর নির্দেশ ও আহ্বানে সাড়া দেয়।
    > যারা আল্লাহর নির্দেশতি পন্থায় নামাজ প্রতিষ্ঠা করে।
    > যারা যে কোনো কাজ নিজেদের মধ্যে পরামর্শের আলোকে সম্পাদন করে।
    > যারা আল্লাহর দেয়া জীবিকা থেকে তার পথে ব্যয় করে।
    > যারা কারো দ্বারা জুলুম বা অত্যাচারের শিকার হলে
    – হয় সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে নতুবা
    – প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দেয় অথবা
    – অত্যাচারের পরিমাণ অনুযায়ী আপোশ-মীমাংশায় সম্মত হয়।

    আল্লাহ তাআলা উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন। এগুলো হলো মুমিন বান্দার গুণ। যা সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেই সম্পাদন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যা আছে তা সর্বোত্তম ও স্থায়ী, যারা মারাত্মক পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, রাগ হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমা করে, প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দেয়, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, নিজেদের মধ্যে পরামর্শের আলোকে কর্ম সম্পাদন করে, তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, অত্যাচারিত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ, তবে যে ক্ষমা করে দেয় ও আপোষ নিষ্পত্তি করে- আল্লাহর কাছে তার পুরস্কার রয়েছে।’ (সুরা শুরা : আয়াত ৩৬-৪০)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের নির্দেশের আলোকে উল্লেখিত গুণগুলো নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। পরকালের স্থায়ী ও সর্বোত্তম পুরস্কার মহা সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • পরকালে শাফায়াত পেতে বিশ্বনবির সতর্কবার্তা

    পরকালে শাফায়াত পেতে বিশ্বনবির সতর্কবার্তা

    পরকালে যার আমলনামা ভালো হবে সে মুক্তি পাবে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ ও শাফায়াত পেতে উম্মতের শিক্ষা লাভে তাঁর পরিবার, আপনজনসহ বংশধরদের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ঘোষণা করেছেন।

    আল্লাহ তাআলা কুরআনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, (হে রাসুল) আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।

    আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ পরিবার, বংশ ও আত্মীয়-স্বজনকে এ মর্মে সতর্ক করেন যে, ‘কেয়ামতের দিন আমি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারবো না।’ হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যখন সুরা শুআরার ২১৪নং আয়াত নাজিল হয়- ‘(হে রাসুল!) আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।’

    তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে (ধারাবাহিকভাবে নাম ডেকে) ঘোষণা করলেন-
    > হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর (একত্ববাদ ও ইবাদতের) জন্য নিজেদের প্রস্তুত কর। আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে বনি আবদে মানাফ! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে রাসুলের ফুফু সাফিয়্যাহ! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যা ফাতেমা! তুমি আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা নিয়ে নাও। আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।’ (বুখারি)

    অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ ঘোষণা দিতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আয়াত নাজিল করেন-
    ‘আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তোমার বাহুকে অবনত কর। তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বল, তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালু (আল্লাহর) ওপর ভরসা কর। যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাজে) দণ্ডায়মান হও এবং সেজদাকারীদের মধ্যে তোমার ওঠা-বসা। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ২১৫-২২০)

    এ কারণেই মানুষের উচিত দুনিয়ার সব কাজ মহান আল্লাহর জন্য সম্পাদন করা। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। আল্লাহ নির্দেশ দেন-
    ‘(হে রাসুল!) আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি (সব ইবাদত), আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৬২)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তার বংশধর, চাচা, ফুফু, কন্যার ব্যাপারে এত কঠোর সতর্ক বার্তা দিতে পারেন তবে মুসলিম উম্মাহর জীবন-যাপন কেমন হওয়া উচিত।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদতের ব্যাপারে গুরুত্ব বুঝাতেই নিজ বংশধর, চাচা, ফুফু, মেয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

    সুতরাং মুসলমানের উচিত আল্লাহর নাফরমানি না করে শিরকমুক্ত ঈমানের সঙ্গে নেক আমল ও ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়া। তবেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ উম্মতে কাজে আসবে। তিনিও তার উম্মতের জন্য শাফায়াত করবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শিরকমুক্ত ঈমান লাভ ও তার ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত করার তাওফিক দান করুন। হাশরের ময়দানে হাদিসে ঘোষিত সব ধরনের শাফায়াত লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যেসব শর্ত পূরণ না হলে ইবাদত কবুল হবে না

    যেসব শর্ত পূরণ না হলে ইবাদত কবুল হবে না

    ইবাদত কবুল হলে সফলতা সুনিশ্চিত। সুতরাং মানুষের উচিত এমনভাবে আমল করা যার ফলে মানুষের ইবাদত তথা সব আমল কবুল হয়। আর তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য করতে ৪ শর্ত পূরণ করতে হবে।

    যে ৪টি শর্ত পূরণ করতে না পারলে মানুষের কোনো আমলই আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। এ ৪টি শর্তের মধ্যে ২টি হলো আমল বা ইবাদত করার আগে আর বাকি দু’টি আমলের মধ্যে পূরণ করতে হবে। আর তাহলো-

    ইবাদত বা আমলের আগে-
    >> ইলম
    ইলম বা জ্ঞান ছাড়া মানুষের কোনো আমল সহিহ-শুদ্ধ হওয়া শুধু কঠিনই নয় বরং অসম্ভব। মানুষের সেই আমলই কবুল যা বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে করা হয়।

    >> নিয়ত
    নিয়তের পরিশুদ্ধতা ছাড়া কোনো আমলের প্রতিদানই পাওয়ার যোগ্য নয়। আবার এমন অনেক আমল আছে যা নিয়ত ব্যতিত কবুলই হয় না। যে কারণে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতদের লক্ষ্য করে উল্লেখ করেছেন-
    ‘নিশ্চয় নিয়ত অনুযায়ী মানুষ আমলের প্রতিদান পেয়ে থাকে।’

    ইবাদত বা আমলের মধ্যে-

    > ধৈর্য

    আমল গ্রহণযোগ্য হওয়ার আরেকটি অন্যতম উপায় হলো ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করা। আমল বা ইবাদত করতে গিয়ে অস্থিরতা বা তাড়াহুড়ো করা যাবে না। বরং আমল কবুলের জন্য সন্তুষ্টচিত্তে ধৈর্যের সঙ্গে আমল করাই জরুরি।

    > ইখলাস বা একনিষ্ঠতা

    মানুষের কোনো ইবাদত বা আমলই ইখলাস ছাড়া কবুল হয় না। আমল বা ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়ার অন্যতম শর্তই হলো তা একান্ত মনোযোগের সঙ্গে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য করা।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আমল বা ইবাদত করার আগেই সে আমল বা ইবাদত সম্পর্কে জেনে নেয়া এবং ইবাদতের বিশুদ্ধ নিয়ত করা। অতঃপর ইবাদত করার সময় তা মনোযোগের সঙ্গে পূর্ণ ইখলাসের সঙ্গে ধিরস্থিরভাবে ধৈর্যের সঙ্গে তা আদায় করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত ৪টি শর্তের দিকে লক্ষ্য রেখে ইবাদত বা আমল করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।