Category: ধর্ম

  • বিশ্বনবি যে কারণে খেজুর খেতে বলেছেন

    বিশ্বনবি যে কারণে খেজুর খেতে বলেছেন

    রমজান মাসে ইফতারের প্রধান অনুসঙ্গ হলো খেজুর। ক্ষুধা ও পিপাসায় ক্লান্ত দেহের জন্য খেজুরের বিকল্প নেই। খেজুর ছাড়া চরম ক্ষুধা ও পিপাসায় কোনো খাবারই স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

    ক্ষুধায় কাতর ক্লান্ত দেহের জন্য প্রাকৃতিক সুগার সমৃদ্ধ আদর্শ খাবার খেজুরের রয়েছে আরো অনেক উপকারিতা। খেজুর ক্লান্ত শরীরকে কর্মক্ষম করতে দ্রুত শক্তির যোগানই দেয় না বরং তা অনেক রোগেরও প্রতিষেধক।

    পুষ্টিগুণে ভরপুর খেজুরের উপকারিতা বর্ণনা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    হজরত সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি ‘আজওয়া’ খেজুর খাবে, ওই ব্যক্তিকে বিষ ও জাদু কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    তাছাড়া খেজুর খাওয়া প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতও বটে। তাই খাদ্যের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এবং বিষক্রিয়া ও জাদু থেকে বেঁচে থাকতে হাদিসে ঘোষিত ‘আজওয়া’ খেজুরসহ যে কোনো খেজুর খাওয়া উত্তম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে খেজুর গ্রহণের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য লাভের পাশাপাশি সুন্নতের অনুসরনে সাওয়াব অর্জনের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • রজব মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ৫ ঘটনা

    রজব মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ৫ ঘটনা

    ইসলামি ক্যালেন্ডারের আরবি (হিজরি) বছরের চার পবিত্র মাসের একটি হলো ‘রজব’। এটা শান্তি ও নিরাপত্তার মাস। এ মাসের সব ধরনের কলহ, যুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী যে কোনো কাজই নিষিদ্ধ।

    রজব সেই মাস, যে মাস শাবান ও রমজান মাসকে প্রকাশ করে। রমজানের প্রস্তুতি শুরু করার তাগিদ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহ তা’আলার বিধান ও গণনায় মাস বারটি। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৩৬)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রজব মাসের চাঁদ দেখতেন তখন থেকেই এ প্রার্থনা শুরু করতেন-
    اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান; ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শা’বান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দেন অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধি করে দেন, যাতে আমরা রমজানের বরকত থেকে উপকৃত হতে পারি)।’

    ইসলামের ইতিহাসে রজব মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ৫ ঘটনা
    > এ মাসে তিনি পবিত্র মেরাজ সংঘটিত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পবিত্র নগরী মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস ভ্রমণ করিয়েছেন এবং একান্ত সাক্ষাতের জন্য তাঁর কাছে ডেকে নিয়েছেন। যা ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য তাঁর শ্রেষ্ঠ মুজিজা।

    > এ মাসের সংঘটিত মেরাজে আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উপহারস্বরূপ ৫ ওয়াক্ত নামাজ দান করেছেন। যার ফলে মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে প্রতিদিনি ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে।

    > প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশেষ যুদ্ধ ‘তাবুক যুদ্ধ’। যা হিজরি ৯ সালের রজব মাসে সংঘটিত হয়। ইসলামে ইতিহাসে শক্তিশালী যুদ্ধগুলোর মধ্যে এটি ছিল একটি। রজব মাসে সংঘটিত তাবুক অভিযানে বিনা যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে।

    > মসজিদে আকসা স্বাধীনতা লাভ করে এ রজব মাসে। ৫৮৩ হিজরির রজব মাসে মুসলিম সেনাপতি সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী খ্রিস্টান ক্রসেডদের সঙ্গে যুদ্ধ করে মসজিদে আকসাকে মুক্ত করেন।

    > ইসলামি খেলাফতের অবসানও হয় এ রজব মাসে। ১৩৪২ হিজরির ২৮ রজব কার্যত খেলাফতের যুগের অবসান হয়ে যায়। খেলাফতের শেষ সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল মজিদ খেলাফত ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন।

    রজব মাস হোক সবার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার মাস। রমজানের প্রস্তুতির মাস। মুসলিম উম্মাহর উচিত এ মাসের বরকত লাভ এবং ঐতিহাসিক শিক্ষা ও উপহারগুলো গ্রহণ করে নিজেদের তৈরি করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ মাসের সব ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বছরজুড়ে শান্তি নিরাপত্তা লাভ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আগুন নেভাতে যে দোয়া পড়বেন

    আগুন নেভাতে যে দোয়া পড়বেন

    অগ্নিকাণ্ড মানুষের বিপদের কারণ। সাধারণত অসতর্কতায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকে। আবার আল্লাহর অবাধ্যতার মাত্রা চরম হলেও আল্লাহর পক্ষ থেকে নানা ধরনের আজাব-গজব নাজিল হয়।

    দুনিয়ার বিপদ-আপদ, আজাব-গজব থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর স্মরণের বিকল্প নেই। তাই কোথাও আগুন লাগলে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা জরুরি।

    আগুন নেভাতে আল্লাহ তাআলার ছোট্ট তাসবিহ-ই যথেষ্ট। যদি কোথাও আগুন লাগে তবে এ তাসবিহ উচ্চ স্বরে পাঠ করা। আর তাহলো-
    اَللهُ اَكْبَر
    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার
    অর্থ : আল্লাহ মহান।

    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে স্পর্শ না করতে আগুনকে আল্লাহ যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অগ্নিুকাণ্ডের সময় এ দোয়া পড়ে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা-
    يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ
    উচ্চারণ : ‘ইয়া নারু কুনি বারদাও ওয়া সালামান আলা ইবরাহিম।
    অর্থ : হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।

    আজান দেয়া : আগুনের আক্রমণ যদি বেড়ে যায় তবে উচ্চ স্বরে আগুন নেভানোর নিয়তে আজান দিলেও আল্লাহর রহমতে আগুন নিভে যায়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আগুন নেভাতে উচ্চ স্বরে আল্লাহ তাআলার তাসবিহ ও আজান দেয়ার তাওফিক দিন। আল্লাহর আজাব-গজব থেকে বেচে থাকতে তার বিধান পালনের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • জমজমের পানি পানে সব আশা পূরণ হয় কিনা জেনে নিন

    জমজমের পানি পানে সব আশা পূরণ হয় কিনা জেনে নিন

    রাসূল (সা.) হাদিসের মধ্যে এরশাদ করেছেন, ‘জমজমের পানি কোনো ব্যক্তি যে নিয়ত করে বা উদ্দেশ্য করে পান করবে, সেই নিয়ত বা উদ্দেশ্য তার পূরণ হবে।

    তার উদ্দেশ্য পূরণ হবেই। সুতরাং জমজমের পানি কেউ যদি অসুস্থতার জন্য নিয়মিত পান করেন, ইনশাআল্লাহ তাঁর সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে, কোনো সন্দেহ নেই।

    এটা করা যেতে পারে। রাসূল (সা.) বলেছেন, জমজমের পানির মধ্যে সুস্থতার বিষয়ও রয়েছে এবং মানুষের খাদ্যের যে উপাদান, সেগুলোও রয়েছে, খাদ্যের কাজ করে থাকে।

    জমজমের পানি অত্যন্ত বরকতময় পানি। ইসমাইল (আ.)-এর মা উম্মে ইসমাইল হাজর (আ.)-এর মায়ের একটা বড় মোজেজা হিসেবে এটাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অনেক বড় একটা সম্মানের বিষয় যে তিনি এই সম্মানটুকু লাভ করতে পেরেছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর বান্দাগণ এই নেয়ামত লাভ করতে পারবেন।

  • কবর দেখলেই যে দোয়া পড়া জরুরি

    কবর দেখলেই যে দোয়া পড়া জরুরি

    মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের আমলনামা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ৩ শ্রেণির ব্যক্তি মারা গেলেও তাদের আমল জারি থাকে। যারা দুনিয়ার জীবনে সাদকায়ে জারিয়া, উপকারি ইলম এবং নেক সন্তান রেখে যান।

    কেননা যতদিন পর্যন্ত মানুষের সাদকার কর্মকাণ্ড জারি থাকে, উপকারি ইলমের চর্চা থাকে কিংবা রেখে যাওয়অ নেক সন্তান দোয়া বা ভালো কাজ করে থাকে, ততদিন এসবের সাওয়াবও মৃত ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হতে থাকে।

    এ কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত ব্যক্তির প্রতি সাওয়াব পাঠানোর আবেদনস্বরূপ সাহাবাদের কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, যা তারা কবর জিয়ারতের সময় পড়তেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এ দোয়া শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবর যিয়ারাতে বের হতেন-

    اَلسَّلاَمُ عَلَيْ أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَ الْمُسْلِمِيْنَ وَ يَرْحَمُ اللهُ الْمُسْتَقْدِمِيْنَ وَ الْمُسْتَأْخِرِيْنَ وَ اِنَّا اِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلَاحِقُوْنَ
    উচ্চারণ : আস্সালামু আলা আহলিদদিয়ারি মিনাল মুমিনিনা ওয়াল মুসলিমিনা ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুসতাক্বদিমিনা ওয়াল মুসতাখিরিনা ওয়া ইন্না ইন শাআল্লাহু বিকুম লালাহিকুন।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    অর্থ : মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের মধ্য থেকে যারা আগে (মারা) গেছেন এবং যারা পরে (মৃত্যুবরণ করবেন) যাবেন, তাদের ওপরও আল্লাহ দয়া করুন। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরাও শীঘ্রই তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবো।

    اَلسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَ الْمُسْلِمِيْنَ وَ اِنَّا اِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلَاحِقُوْنَ نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَ لَكُمُ الْعَافِيْةَ
    উচ্চারণ : ‘আস্সালামু আলা আহলাদদিয়ারি মিনাল মুমিনিনা ওয়ালমুসলিমিনা ওয়া ইন্না ইন শাআল্লাহু বিকুম লালাহিকুনা নাসআলুল্লাহা লানা ওয়া লাকুমুল আ’ফিয়াতা।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    অর্থ : ‘মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর ইচ্ছায়, নিশ্চয়ই আমরাও শীঘ্রই তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবো। আমরা তোমাদের জন্য এবং আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।’

    উল্লেখ্য যে, নিন্মোক্ত দোয়াটি বহুল প্রচলিত। হাদিসের সনদের ব্যাপারে অনেকেই এটিকে দুর্বল বলেছেন। আর তাহলো-
    اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا اَهُلَ الْقُبُوْرِ يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ اَنْتُمْ سَلَفُنَا وَ نَحْنُ بِالْاَثَرِ
    উচ্চারণ : ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুরি ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম; আংতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিলআছারি।’

    অর্থ : ‘হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের অগ্রগামী আমরা তোমাদের অনুগামী।’

    কবরবাসীর জন্য এ দোয়া শুধু কবরবাসীর জন্যই নয়, বরং এ দোয়া নিজেদের জন্য রয়েছে দোয়া। যদি কোনো ব্যক্তির এ দোয়া কবুল হয়ে যায়, তবে এ থেকে উপকারিতা লাভ করবে উভয়ে।

    সুতরাং কবরের কথা স্মরণ হলে কিংবা কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এ দোয়া করার মুসলিম উম্মাহর জন্য জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিজের এবং মৃত ব্যক্তির কল্যাণ কামনায় উল্লেখিত দোয়াগুলো পড়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ইসলামে স্বাধীনতার মর্যাদা

    ইসলামে স্বাধীনতার মর্যাদা

    স্বাধীনতা’ ব্যাপক অর্থবোধক একটি শব্দ। মুখে মুখে স্বাধীন বললেই কোনো দেশ বা জাতি স্বাধীনতা লাভ করতে পারে না। সর্বক্ষেত্রে অন্যায় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তিই স্বাধীনতা।

    ইসলামে স্বাধীনতার মর্যাদা অনেক বেশি। ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এক কণ্ঠস্বর। সত্য ও ন্যায় প্রকাশ, অন্যায়-জুলুমের প্রতিবাদ ও বিনা বাধায় ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশই হলো আসল স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা মহান আল্লাহর এক মহা অনুগ্রহ।

    দীর্ঘদিন পদে পদে চরম জুলুমের স্বীকার হয়েছিল তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের মজলুম জনগণ। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা লাভ করেছিল বাংলাদেশ, তার সূচনা ছিল ২৫ মার্চ দিবাগত ‌কালরাত।

    পশ্চিম পাকিস্তানের হয়রানি, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন ও দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে এদিন পূর্ব পাকিস্তানের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বুকের তাজা রক্ত বিসর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বিনিময়ে পেয়েছে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড বাংলাদেশ।

    শাসক শ্রেণি নিজেদের যত ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থার কথা ঘোষণা করুক না কেন, স্বাধীনতা না থাকলে সেখানে নিশ্চিত অন্যায় ও জুলুম সংঘটিত হবে। তাই ইসলাম মানুষের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদই নয় বরং দিয়েছে জোরালো তাগিদ।

    মদিনা রাষ্ট্রের স্থপতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিচালিত সমাজব্যবস্থায় স্বাধীনতার সচিত্র প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছিল। তিনি পরাধীন ব্যক্তিকে আজাদ করার প্রতি মানুষকে উৎসাহ দিয়েছেন। প্রেরণা জুগিয়েছেন অত্যাচারমুক্ত সমাজব্যবস্থার।

    শুধু তাই নয়, পরাধীন ব্যক্তিকে স্বাধীন করে সন্তান ও ভাইয়ের মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মানুষের এ স্বাধীনতা দেয়ার কারণে ইসলামের বিজয় ত্বরান্বিত হয়েছে। সাদা-কালো, ধনী-গরিব এক ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

    সাধারণ ব্যক্তিও সর্বোচ্চ মর্যাদা মদিনা মুনাওয়ারায় ইবাদতের ঘোষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। আবার যুদ্ধের ময়দানে সেনাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন ক্রীতদাস থেকে মুক্ত হওয়া স্বাধীন মানুষ।

    ১৯৭১ সালে অসংখ্য জীবনের কুরবানি ও ত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘদিনের শোষণ থেকে মুক্তি লাভ করেছে বাংলাদেশের মানুষ। ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত সে মাসও দিন দরজায় কড়া নড়ছে। স্বাধীনতার মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়ার চূড়ান্ত সুযোগ লাভ করেছে এ জাতি।

    এ দিবসে মানুষের প্রত্যাশা- পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে এ দেশের মানুষ। মৌলিক মানবাধিকার দারিদ্র্যতা, নিরক্ষরতা এবং অজ্ঞতা থেকে মুক্ত হয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, শিক্ষিত ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ গড়ে তুলবে। যেখানে সব ভাষা, ধর্ম, বর্ণের মানুষ সমান সুফল ভোগ করবে।

    স্বাধীনতার সেসব সুফল লাভ করতে বাংলাদেশী জাতীয়তায় বিশ্বাসী সব মানুষকে দেশের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দেখাতে হবে। প্রত্যেককেই সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের বিকল্প নেই।

    দেশের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের আগ পর্যন্ত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওই হাদিসের ওপর আমল করতে হবে। তিনি বলেছেন, ‘একদিন ও একরাতের সীমান্ত পাহারা ধারাবাহিকভাবে এক মাসের রোজা পালন এবং সারারাত নফল ইবাদতে কাটানো অপেক্ষা উত্তম।’ (মুসলিম) অন্যত্র তিনি বলেছেন, ‘একদিন সীমান্ত রক্ষার কাজে নিযুক্ত থাকা হাজার দিনের মনজিল অতিক্রম অপেক্ষা উত্তম।’ (তিরমিজি)

    নিজ দেশের সীমানা ও নিরাপত্তায় সার্বিক সহযোগিতা করা জনগণের জন্য যেমন ঈমানের একান্ত দাবি তেমনি শাসকশ্রেণির দায়িত্বও রয়েছে অধিক। তারা দেশের মানুষের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুন্দর অবাধ ও নিরপেক্ষ করবে। তবেই মানুষ লাভ করবে স্বাধীনতার সর্বোচ্চ সুখ ও শান্তি।

    আল্লাহ তাআলা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব মানুষকে আজকের এ দিনে স্বাধীনতার মান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • লোক দেখানো ইবাদতকারীর ৪ আলামত

    লোক দেখানো ইবাদতকারীর ৪ আলামত

    গোপনে আমল তথা ইবাদত করা ইখলাসের অন্যতম নিদর্শন। উত্তম প্রতিদান লাভের বুনিয়াদও এটি। তাই মানুষের উচিত যে কোনো ভালো কাজ এমনভাবে করা যাতে তা লোক দেখানোর জন্য না হয়। কেননা লোক দেখানো ইবাদতকারী ব্যক্তি ইসলামের রিয়াকার হিসেবে পরিচিত।

    কুরআন এবং হাদিসে রিয়াকারের কোনো আমলই গ্রহণযোগ্য হবে না বরং মুমিন মুসলমানের জন্য ছোট শিরক হিসেবে বিবেচিত। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মধ্যে রিয়াকারী সম্পর্কেই বেশি ভয় করতেন।

    অথচ সমাজে এমন কিছু ধর্মীয় ও নৈতিক অভ্যাস এবং কাজ প্রচলিত আছে, যা নিয়তের কারণে ইবাদতের পরিবর্তে গোনাহের কাজে পরিণত হয়। যে মনোভাবে মানুষের ভালো কাজ তথা ইবাদতগুলোও বরবাদ হয়ে যায়, তা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

    যে কাজগুলোর কারণে মানুষ লোক দেখানো ইবাদতকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। তাহলো-

    > মানুষের অনুপস্থিতিতে একান্ত ব্যক্তিগত পরিবেশে নেক আমল বা ভালো কাজে অবহেলা করা।
    > মানুষের সামনে পূর্ণ উদ্যম ও আগ্রহের সঙ্গে আমল করা।
    > যে কাজে মানুষ প্রশংসা করে সে কাজ বেশি বেশি করা।
    > যে কাজ করলে মানুষ মন্দ বলে, সে কাজ অতি অল্প করা।

    পরিপূর্ণ ঈমানদার ব্যক্তি কখনোই উল্লেখিত কাজগুলো করতে পারে না। কারণ তাদের একান্ত চাওয়া হলো মহান আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত উল্লেখিত গুণগুলো আন্তরিকভাবে পরিহার করে যাবতীয় আমল-ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত গুণগুলো পরিহার করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • এখনও নিবন্ধনের বাকি ৪২ হাজার হজযাত্রী

    এখনও নিবন্ধনের বাকি ৪২ হাজার হজযাত্রী

    ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, ‘চলতি বছর এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুক ৬ হাজার ৫৭ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বাকি রয়েছেন ৭৫৯ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ৭৫ হাজার ৫২ জন। নিবন্ধনের জন্য বাকি রয়েছেন ৪১ হাজার ৬৯৪ জন।’ সরকারি-বেসরকারি সব মিলিয়ে নিবন্ধনের বাকি ৪২ হাজার ৪৫৩ জন হজযাত্রী। আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যাত্রীদের নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে।

    সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এসময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী জানান, আগের বছরগুলোয় মতোই এ বছরও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হাজিরা হজ করতে পারবেন। সৌদি সরকার কর্তৃক বিভিন্ন প্রকার ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে হজের সার্বিক প্যাকেজ মূল্য বাড়লেও নানা প্রক্রিয়ায় বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২৪ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘হজ ব্যবস্থাপনা সবার জন্য সুন্দর করার লক্ষ্যে আমার নেতৃত্বে একটি টিম সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি সৌদি সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।’

    তিনি বলেন, ‘মুসলিম জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে আমাদের পাওনার অতিরিক্ত ২০ হাজার হজযাত্রীর কোটা বাড়ানোর দাবি করেছি। সৌদি সরকারের ধর্মমন্ত্রীদ্বয় সৌদি বাদশার সঙ্গে পরামর্শ করে আমাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের প্রি-অ্যারাইভ্যাল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে এই কার্যক্রম পরিচালনা দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ বছর হজ যাত্রীদের জন্য উন্নতমানের বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

  • দেশের নিরাপত্তায় যে দোয়া পড়বেন

    দেশের নিরাপত্তায় যে দোয়া পড়বেন

    বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে চলছে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মহড়া। দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের আক্রমনে দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে বেঁচে থাকতে আত্ম-সচেতনতার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার বিকল্প নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দেশের শান্তি ও নিরপত্তা কামনার দোয়া করার উপদেশ দিয়ে কুরআনে পাকে আয়াত নাজিল করেছেন-

    رَبِّ اجْعَلْ هَـذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বিঝআল হাজাল বালাদা আমিনাও ওয়াঝনুবনি ওয়া বানিয়্যা আন-না’বুদাল আচনাম।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৫)

    অর্থ : হে (আমার) প্রভু! এ জনপদকে আপনি শান্তিময় করে দিন। আর আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখ।’

    অধিক সুখ-শান্তিতে জোরহাম গোত্রের মানুষ আল্লাহকে ভুলে তার সঙ্গে শিরকে জড়িয়ে পড়ে। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাদের সত্যের পথে আহ্বান করা সত্ত্বেও তারা সঠিক পথে ফিরে আসেনি। ফলে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিজ সম্প্রদায়ের জন্য এ দোয়া করেছিলেন।

    আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করে নেন। ফলে পবিত্র মক্কা নগরীতে রেখে আসা স্ত্রী পুত্রসহ সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবন যাপন করতে লাগলো। শিরক ও অশান্তি দূরভীত হয়ে গেল।

    পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা পবিত্র মক্কা নগরীকে তার নেয়ামত, শান্তি ও নিরাপত্তার শহর হিসেবে কবুল করে নেন। যে শান্তি ও নিরাপত্তা আজো বিদ্যমান।

    সুতরাং প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত নিজ দেশ ও শহরের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। বান্দার দোয়ায় মহান আল্লাহ প্রতিটি জনপদে তথা দেশেই শান্তি ও নিরাপত্তা দান করতে পারেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ আয়াতের মাধ্যমে তার কাছে প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আত্মনির্ভরশীল হতে বিশ্বনবির অমূল্য নসিহত

    আত্মনির্ভরশীল হতে বিশ্বনবির অমূল্য নসিহত

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নসিহত মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ। যে বা যারা এ উপদেশ মেনে চলবে, দুনিয়া ও পরকালের নাজাতের জন্য তাই যথেষ্ট।

    মানুষ মনে প্রাণে একনিষ্ঠতার সঙ্গে যা চাইবে, তাৎক্ষনিকভাবে তা না পেলেও দেরিতে হলেও তা পাবে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ঘোষণাও তাই। তাই দুনিয়াতে স্বচ্ছল ও সাবলম্বী জীবন লাভ করতে চাইলে প্রতি কাজেই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকা আবশ্যক। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি বর্ণনা করেন-

    হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আনসারদের কিছু ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সাহায্যের আবেদন করলেন। তিনি তাদেরকে সাহায্য করলেন।

    তাঁরা আবার সাহায্য চাইলো। তিনি (আল্লাহর রাসুল) আবারও তাদের দান করলেন। এমনকি তাঁর নিকট যা কিছু ছিল, তা সবই নিঃশেষ হয়ে গেলো।

    এভাবে হাতের সবকিছু দান করার পর তিনি আনসারদের ওই ব্যক্তিদের বললেন, ‘আমার কাছে যে ধন-সম্পদ আসে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে সঞ্চয় করে রাখি না।
    জেনে রেখো!-
    > যে ব্যক্তি পবিত্র হতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্রই রাখেন।
    > যে ব্যক্তি কারো মুখাপেক্ষী হতে চায় না, আল্লাহ তাকে সাবলম্বী করে তোলেন।
    > যে ব্যক্তি ধৈর্য অবলম্বন করতে চায়, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীলতা দান করেন।
    ধৈর্যের চাইতে উত্তম ও প্রশস্ত আর কোনো জিনিস কাউকে দেয়া হয়নি। (বুখারি ও মুসলিম)

    এ হাদিসে প্রিয়নবি মানুষের বেশ কিছু মানবিক দুর্বলতার বিষয় তুলে ধরেছেন। যেসব দুর্বলতার কারণে মানুষ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌছে যায়।

    এক মুমিন অন্য মুমিনের কাছে সাহায্য চাইলে তার সাহায্য-সহযোগিতা করাই হলো হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা। কোনো মুমিন বান্দা যদি একাধিকবার সহযোগিতা কামনা করে, সম্ভব হলে তাই করা। কেননা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত সাহায্য দেয়া অব্যাহত রেখেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনার জিনিস মজুদ ছিল।

    কোনো মুসলিম শাসক কিংবা মুসলমান নেতার এ কাজ উচিত নয় যে, তার কাছে অঢেল সম্পদ গচ্ছিত থাকা স্বত্ত্বেও তার কোনো প্রতিবেশি অভাব-অনটনে, অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করবে। বরং তার দায়িত্ব হলো সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবি প্রতিবেশির জন্য অবিরাম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে রাখা। বান্দার সাহায্যে আল্লাহ তাআলা সম্পদে বরকত দান করেন।

    সুতরাং দানশীল কিংবা দান করার সদ্বিচ্ছা আছে যার, তার জন্য শিক্ষণীয় ৩টি বিষয় হলো-
    > কোনো ব্যক্তি পবিত্র হতে চাইলে আল্লাহ তাআলা তাকে পবিত্র করেন। তা জীবনের সর্বক্ষেত্রেই হতে পারে। এমনটিই দিক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রিয় নবি।
    > আবার কোনো বান্দা যদি অগাধ পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হতে চায় তবে আল্লাহ তাআলা তাকে পরমুখাপেক্ষী থেকে হেফাজত করেন এবং সাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলেন। এটিও প্রিয় নবির পবিত্র ঘোষণা।
    > আর যে ব্যক্তি চরম বিপদ ও মুসিবতে সবর বা ধৈর্যধারণ করতে চায়। আল্লাহ তাআলা অসংখ্য সমস্যার মাঝেও তাকে ধৈর্যধারণকারী হিসেবে কবুল করে নেন।

    আর এসব গুণ ও যোগ্যতা অর্জনের জন্য শক্তিশালী সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ধৈর্যের সঙ্গে নিরলস পরিশ্রম ও সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। ধৈর্য থাকলে দুনিয়াতে মানুষের জন্য কোনো কাজই অসাধ্য নয়। শুধু প্রয়োজন একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা। তবেই আল্লাহ তাআলা মানুষকে প্রত্যেক কাজে সফলতা দান করেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে সর্বাধিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সব সমস্যা মোকাবেলা করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।