Category: ধর্ম

  • তাহাজ্জুদ নামাজে যে সুফল লাভ করে মুমিন

    তাহাজ্জুদ নামাজে যে সুফল লাভ করে মুমিন

    তাহাজ্জুদ বা রাতের নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। এ নামাজে মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর একান্ত প্রিয় বান্দা হওয়ার অন্যতম উপায়ও এটি। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুমিনের উপকারিতা ও সতর্কতা তুলে ধরেছেন।

    শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। তাই তো বিতাড়িত শয়তান মানুষকে তার সব কৌশল প্রয়োগ করে মুমিন বান্দাকে তাহাজ্জুদ থেকে গাফেল রাখতে সদা সচেষ্ট। সে কারণে প্রকৃত মুমিন বান্দা শয়তানকে চ্যালেঞ্জ করে রাতের আরামকে হারাম করে তাহাজ্জুদের জায়নামাজে রাত কাটিয়ে দেন।

    মুমিন বান্দার জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের এ ঘোষণা অনুযায়ী আমল করাই যথেষ্ট। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন শয়তান তার মাথার শেষাংশে (ঘাড়ে) তিনটি গিট মেরে দেয়। প্রত্যেক গিট দেয়ার সময় এ মন্ত্র পড়ে মুমিন বান্দাকে অভিভূত করে দেয় যে, তোমার এখনো লম্বা রাত বাকি, অতএব ঘুমাতে থাকো।

    সুতরাং সে যদি জেগে ওঠে আল্লাহর জিকির করে তবে (শয়তানের দেয়া গিটের) একটি বাঁধন খুলে যায়। তারপর ওজু করলে আরেকটি বাঁধন খুলে যায়। অতঃপর তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তার সবগুলো বাঁধনই খুলে যায়।

    ফলে ফজরের সময় সে উদ্যম ও স্বতস্ফুর্তভাবে ভোর বেলা জেগে ওঠে। অন্যথায় (তাহাজ্জুদ না পড়লে) আলস্যভরা ভারী মন নিয়ে ফজরের সময় জেগে ওঠে। (মুয়াত্তা মালেক, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শয়তানের যাবতীয় ক্ষতিকর বাঁধন থেকে মুক্ত হতে তাহাজ্জুদ যথাযথ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ইসলাম সম্পর্কে আল্লাহ যে ঘোষণা দিলেন

    ইসলাম সম্পর্কে আল্লাহ যে ঘোষণা দিলেন

    আল্লাহ তাআলার কাছে একমাত্র ইসলামই গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবনাদর্শ বা ধর্ম গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে এ কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, ‘যারা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবন ব্যবস্থা সন্ধান করে, তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না।

    ইসলাম পরবর্তী কোনো যুগেই ইসলাম ছাড়া কোনো আদর্শ মুসলমানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কোনো ক্ষমতার কাছেই মুসলমান মাথা নত করেনি। যেমনিভাবে প্রবল ক্ষমতাধর সম্রাট আকবরের যুগে তার প্রতিষ্ঠিত ‘দ্বীনে ইলাহী’ মাথা উঁচু করতে পারেনি।

    ইসলামই একমাত্র গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয় জীবন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। সে ঘোষণাই দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা-

    Quran-1

    আয়াতের অনুবাদ

    Quran-2

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ
    এ সুরার ১৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজেই তার একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন যে, ইসলাম-ই হলো দুনিয়াতে চিরস্থায়ী প্রতিষ্ঠিত একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা। এর পরে আর কোনো জীবন ব্যবস্থা আসবে না।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর মিথ্যা নবুয়তের দাবি নিয়ে অসংখ্য লোক আত্মপ্রকাশ করেছিল। তাদের সে দাবি ঈমানের বলে বলিয়ান মুসলমানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। দুনিয়ার বহু ক্ষমতাধর রাজা-বাদশারাও ইসলামের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে টিকতে পারেনি। যার জলন্ত প্রমাণ সম্রাট আকবর।

    বর্তমান সময়েও বহু মানুষ ইসলামকে সঠিক ভাবে বুঝার চেষ্ট করে না। তাদের ধারণা ইসলাম নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। বাস্তবে ইসলাম নাম সর্বস্ব এমন জীবন ব্যবস্থা নয়, বরং ইসলাম হলো আল্লাহ তাআলা কর্তৃক মনোনীত ও পছন্দনীয় পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। যাতে অপরিপূর্ণতার কোনো কিছুই নেই।

    মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ন এক জীবন ব্যবস্থার নাম-ই হলো ‘ইসলাম’। আর কুরআনে পাকে সে ঘোষণাই দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।

    মনে রাখতে হবে
    যারা ব্যক্তি জীবনে ইসলামকে মেনে চলে কিন্তু সমাজ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের বাস্তবায়ন দেখতে চায় না, তারা ইসলামের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো আর কিছু অংশের প্রতি অবিশ্বাস করলো। আল্লাহর কাছে এ রকম খণ্ডিত ইসলাম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা।

    যারা আধুনিককালে যারা মুসলমান হয়েও সেকুলারিজম তথা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে এবং তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতার ছত্রছায়ায় ইসলামকে দুর্বল ও অপরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে সাব্যস্ত করার প্রয়াস চালায়, তাদের ভ্রান্ত ধারণা এ আয়াত দ্বারাই বাতিল ঘোষিত হচ্ছে।

    আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তাআলা ইসলামকে অবিশ্বাসকারীদের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘যারা ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মানতে নারাজ তাদের জানা উচিত আল্লাহ তাআলা তাদের কর্মকাণ্ডের হিসাব গ্রহণে আল্লাহ তাআলা অনেক দ্রতগামী। সুতরাং সময় থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা বুদ্ধিমানের কাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার প্রতিটি কাজে পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে গ্রহণ ও এর বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • দোয়ার সময় যে ভুল করা যাবে না

    দোয়ার সময় যে ভুল করা যাবে না

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দোয়া ইবাদতের মূল।’ অন্য হাদিসে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চায় না বা দোয়া করে না, আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার প্রতি রাগান্বিত হন।

    আল্লাহ তাআলা সে বান্দাকেই বেশি ভালোবাসেন যে বান্দা গোনাহ করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তার প্রয়োজন পূরণে দোয়া করে। কিন্তু দোয়া করার সময় সাধারণ মানুষ একটি ছোট্ট ভুল করে থাকে। যা কোনোভাবে কামন্য নয়।

    মানুষের উচিত দোয়া করার আগে প্রথমেই আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করা। তারপর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পেশ করা।

    কিন্তু মানুষ আল্লাহর প্রশংসা করলেও অনেক সময় ভুলবশতঃ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পেশ করে না। এ ছোট্ট ভুলটির বিষয়ে হাদিসে এসেছে-

    হজরত ফাদালাহ ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাজের মধ্যখানে দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ ব্যক্তি তাড়াহুড়া করছে।
    তারপর তিনি তাঁকে (ওই ব্যক্তিকে) ডাকলেন এবং তাকে বা অন্য কাউকে বললেন, তোমাদের কেউ (সালাত) নামাজ আদায় করলে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর গুণগান করে। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করে। তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দোয়া করে। (তিরমিজি, আবু দাউদ)

    সুতরাং দোয়া করার আগে আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসা করার পর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পেশ করা জরুরি।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা মতে তাড়াহুড়া না করে আল্লাহর প্রশংসা ও প্রিয় নবির দরূদ পাঠের মাধ্যমে দোয়া করলে সে দোয়া অতি তাড়াতাড়ি দোয়া কবুল হয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ধীরস্থিরভাবে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরূদ পড়ে মনের একান্ত প্রার্থনাগুলো তার দরবারে পেশ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নিউজিল্যান্ডের সেই মসজিদে অশ্রুসিক্ত নামাজ আদায়

    নিউজিল্যান্ডের সেই মসজিদে অশ্রুসিক্ত নামাজ আদায়

    সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় অব্যাহত রয়েছে। প্রতি ওয়াক্তে চোখের পানিতে ভাসছে নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের বুক। নিউজিল্যান্ডজুড়ে আদিবাসী, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়ের লোকজন শোক পালন অব্যাহত রেখেছে।

    সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার পর নিউজিল্যান্ড সরকার অস্ত্র আইন আরো কঠোর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ আইনের ব্যাপারে বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন।’

    নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, তার কোয়ালিশন সরকার সব অস্ত্রের সহজলভ্যতা কমিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ। এ সময় তার পাশে ছিলেন কোয়ালিশন সরকারের শরিক দলের নেতা ও ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন পিটারস। যিনি অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনার বিরোধী ছিলেন। তিনিও প্রধানমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

    উইন্সটন পিটারস বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরের ঘটনার পর বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের পৃথিবী চিরতরে বদলে গেছে। সুতরাং আমাদের আইনও বদলে যাবে।’

    শুক্রবারের সন্ত্রাসী ঘটনায় নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ এখনো বিরাজ করছে। অশ্রুসিক্ত নয়নে মসজিদ দুটির মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন। দেশটির সব সম্প্রদায়ের লোকজন দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের স্মরণে কর্মসূচি পালন করছেন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

    অনেক শিক্ষার্থী আল নুর মসজিদের বাইরে ঐতিহ্যবাহী মৌরি নাচের মাধ্যমে ‘হাকা’ (বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান) অনুষ্ঠান পালন করে। গতকালও অকল্যান্ডে ওরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘কিয়া কাহা’ (শক্ত থাকুন) বলে সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে এ অনুষ্ঠান পালন করেন।

  • মুমিনকে রাজত্বদান করার যে অঙ্গীকার করেছেন আল্লাহ

    মুমিনকে রাজত্বদান করার যে অঙ্গীকার করেছেন আল্লাহ

    সব ক্ষমতার মালিক আল্লাহ তাআলা। তিনিই মানুষকে ক্ষমতা বা রাজত্ব দান করেন। তবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে শুধু মুমিনদেরকে শর্তসাপেক্ষে রাজত্ব দানের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    তোমাদের মধ্যে যারা (আল্লাহর উপর) বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেভাবে তিনি পূর্ববতীদেরকে শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের জীবনব্যবস্থাকে, তিনি তাদের জন্যে যা পছন্দ করেছেন এবং ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে প্রশান্তি দান করবেন। (শর্ত হলো) তারা আমার ইবাদাত করবে এবং আমার সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করবে না। তারপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।’ (সুরা নুর : আয়াত ৫৫)

    আল্লাহ তাআলা এ ঘোষণায় মুমিনের যে কাজগুলোকে সুস্পষ্ট করেছেন তাহলো-

    – সৃষ্টিকর্তা হিসেবে এককভাবে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে হবে।
    – আমলে সালেহ তথা নেক কাজ করতে হবে।
    আয়াতের শেষাংষে এ দুটি বিষয়ের ওপরই যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে তা তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে-
    – আমলে সালেহ তথা ইবাদত শুধু আল্লাহ তাআলারই করতে হবে; অন্য কারো নয় এবং
    – কোনোভাবে আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করা যাবে না।

    আল্লাহর বিশ্বাস স্থাপন ও তার ইবাদতে দুনিয়ার সব ভয়-ভীতিকে উপেক্ষা করতে হবে। সব কাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে। যখনই মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার মাধ্যমে উল্লেখিত দুটি শর্ত পূরণ করবেন, তখনই আল্লাহ তাআলা মানুষকে সার্বিক প্রশান্তির সঙ্গে শাসন ক্ষমতা দান করবেন। আর এটিই মহান প্রভুর ওয়াদা।

    সুতরাং ঈমানদার ব্যক্তি নিজের খেয়াল-খুশী মতো কোনো কাজ করতে পারবে না। কোনো চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। সব বিষয়ে মহান আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হবে। তবেই আল্লাহ তাআলা পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করবেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো পদ্ধতিতে শিরক থেকে বেঁচে থাকতে বেশি বেশি এ প্রার্থনা করা-

    اَللهثمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكِ اَنْ اُشْرِكَ بِكَ وَ اَنَا اَعْلَمُ وَاسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا اَعْلَمُ

    উচ্চারণ :আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকাবিকা ওয়া আনা আলামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আলামু।’ (মুসনাদে আহমাদ)

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার স্বজ্ঞানে তোমার সঙ্গে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আর অজানা অবস্থায় যদি শিরক হয়ে যায়, তবে তা থেকে ক্ষমা চাই।’

    আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে তার সঙ্গে শিরক করা থেকে মুক্ত থেকে ইবাদত বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। বান্দার সঙ্গে করা আল্লাহর অঙ্গীকার লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আল্লাহ যেভাবে নিজেই একত্ববাদের সাক্ষ্য দিলেন

    আল্লাহ যেভাবে নিজেই একত্ববাদের সাক্ষ্য দিলেন

    আল্লাহ তাআলা নিজেই তার একত্ববাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। ফেরেশতারাও রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষী যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত কোনো উপাস্য নেই। আলেমদের ভাষায়ও আল্লাহ ছাড়া কোনো ইবাদতের উপযুক্ত ইলাহ নেই।

    আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাওহিদের সাক্ষ্য নির্ধারণে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বহু নির্দশন ও ঘটনা নাজিল করেন। অবশেষ আল্লাহ স্বয়ং নিজেই নিজের একত্তবাদের সাক্ষ্য দিলেন। সে সঙ্গে ফেরেশতা ও দ্বীনের অভিজ্ঞ আলেমেদেরও সাক্ষী হিসেবে শামিল করে মর্যাদা বৃদ্ধির ঘোষণাই দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    Quran-1
    আয়াতের অনুবাদ

    Quran-2

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ

    আল্লাহ তাআলা আগের আয়াতগুলোতে তাওহিদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। মানব জাতীর জীবনে আল্লাহর একত্ববাদের একটি বাস্তবরূপ লাভ করা আবশ্যক। তার একত্ববাদের সে বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার জন্যই সুরা আল ইমরানের ১৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজেই একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

    একত্ববাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের বিষয়টি তিনি নিজেই তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নেই। শুধু তিনিই এ সাক্ষ্য দেননি বরং ফেরেশতা ও জ্ঞানীরাও এ সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয়ার পাশাপাশি মানব ও সমগ্র জগতের প্রতি তার নিখুঁত ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের বর্ণনাও তুলে ধরেছেন।

    যেহেতু মহান আল্লাহ ঘোষণা দেন যে, তিনিই বিশ্বজগতের একক ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাই একথা স্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রথম দায়িত্ব হলো নিজেকে মহান আল্লাহর সামনে গোলাম বলে স্বীকার করে নেয়া।

    আল্লাহর আইনকেই জীবনের সব ব্যাপারে চূড়ান্ত আইন বলে বিশ্বাস স্থাপন করা। মহান প্রভুর পরিপূর্ণ আনুগত্য করা এবং তার কাছেই পরিপূর্ণভাবে আত্মসমার্পন করা।

    এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের সাক্ষী নিজে দেয়ার পাশাপাশি ফেরেশতা ও আলেমদের কথা উল্লেখ করে তাদের বিশেষ মর্যাদাও তুলে ধরেছেন। তবে এক্ষেত্রে সে সব আলেমই সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে, যারা কুরআন-সুন্নাহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

    যেহেতু মহান আল্লাহ নিজেই তাওহিদ তথা একত্ববাদের সাক্ষ্য দিচ্ছেন সুতরাং একত্ববাদে বিশ্বাসী হতে আর কারো সাক্ষ্যের প্রয়োজন নেই। কেননা তিনিই সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী ও তার কথাই সত্য।

    সমস্ত সৃষ্টজীব শুধুমাত্র তারই দাস। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। ইবাদতের উপযুক্ত উপাস্য হওয়ার ব্যাপারে তার কোনো অংশীদারও নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে একত্ববাদের বিশ্বাসে পরিপূর্ণ বিশ্বাসী হওয়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • কুরআনে বর্ণিত নেককার বান্দার বৈশিষ্ট্য

    কুরআনে বর্ণিত নেককার বান্দার বৈশিষ্ট্য

    আল্লাহ তাআলার নেককার বান্দারা আল্লাহর কাছ এভাবে আহ্বান করে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা ঈমান গ্রহণ করেছি। ঈমানের বরকতে আমাদের মাফ করে দাও এবং দোজখের আজাব থেকেও আমাদেরকে হেফাজত কর।

    আল্লাহ পরকালে বান্দার জন্য দু’টি স্থান নির্ধারণ করেছেন। গোনাহগার বান্দার জন্য রয়েছে শাস্তির স্থান দোজখ আর নেককার বান্দার জন্য চিরস্থায়ী শান্তির স্থান জান্নাত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে তাদের কথা উল্লেখ করে বলেন-

    Quran

    আয়াতের অনুবাদ

    Quran

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ
    সুরা আল-ইমরানের ১৬নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদের কথা তুলে ধরেছেন যারা নিজেদের ঈমানের স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে আল্লাহর কাছে নিজেদের গোনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি চেয়েছেন।

    অতঃপর এ সুরার ১৭নং আয়াতে সেসব নেককার বান্দার পরিচয় তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘যারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, দাতা এবং রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’

    – ধৈর্যশীল
    সেব বান্দা, যারা সব ধরণের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেও আল্লাহর পথে (হুকুম পালনে) অবিচল থাকে।

    – সত্যবাদী
    সেসব বান্দা, যাদের কোনো লোভ লালসা অথবা দুঃখ কষ্ট সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। যারা তাদের কথা, কাজ, নিয়ত এবং উদ্দেশ্যে সততার পরিচয় দেয়।

    – অনুগত
    যারা মহান আল্লাহর প্রতি সব সময় অনুগত থাকে। পাপাচার থেকেও বিরত থাকে।

    – দাতা
    যারা নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহ তাআলার পথে অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে।

    – ক্ষমাপ্রার্থী
    যারা রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমাপ্রার্থী হয়। শেষ রাতে শয্যা ত্যাগ করে ঘুম থেকে ওঠে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অনেক কঠিন কাজ। সত্যিকার অর্থে রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থীরাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা।

    কুরআনের এ আয়াত মুমিন মুসলমানকে ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, দাতা ও ক্ষমাপ্রার্থী হওয়ার তাগিদ দেয়। সারা জীবন ইবাদত-বন্দেগি করে বিপদে ধৈর্যশীল, সততা, দান ও ক্ষমা থেকে বিরত থাকলেও আল্লাহর হক আদায় হবে না।

    মুমিনের উচিত, মুসিবতে ধৈর্যশীল হওয়া, চরম লোভ-লালসায় সততা অবলম্বন করা, অভাব-অনটনেও দান করা এবং চরম কষ্ট স্বীকার করে শেষ রাতে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করা। তবেই নেককার বান্দা হিসেবে মানুষের প্রতি আল্লাহর রহমত লাভের আশা করা যায়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ায় কুরআনে বর্ণিত উল্লেখিত গুণগুলো অর্জনের মাধ্যমে পরকালের চিরস্থায়ী সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন। নেককার বান্দা হিসেবে কবুল করুন।

    আমিন।

  • পরিপূর্ণ দ্বীনদারির জন্য যে ৪টি হাদিসই যথেষ্ট

    পরিপূর্ণ দ্বীনদারির জন্য যে ৪টি হাদিসই যথেষ্ট

    পরিপূর্ণ দ্বীনদারি ছাড়া যেমন স্বচ্ছ ও নিষ্কলুষ জীবন গড়া সম্ভব নয় আবার পরিপূর্ণ দ্বীনদারির সঙ্গে জীবন রাঙাতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ওপর আমলের বিকল্প নেই। তাই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অমূল্য নসিহত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা আবশ্যক।

    ইমাম আবু দাউদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার বিখ্যাতগ্রন্থ আবু দাউদে ৪টি হাদিস তুলে ধরেছেন। যে ৪টি হাদিসের ওপর আমল করলেই পরিপূর্ণ দ্বীনদার হিসেবে নিজেকে তৈরি করা সম্ভব। তাহলো-

    > ‘সব কাজই মানুষের নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ তাই প্রত্যেকের উচিত প্রতিটি কাজের শুরুতে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা।

    > ‘(কোনো) ব্যক্তির (জন্য) ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে- যা কিছু (কথা ও কাজ) অর্থহীন তা বর্জন করা।’ যারা দুনিয়ার জীবনে অর্থহীন কাজ বর্জনে সক্ষম, তারা দুনিয়া ও পরকালে সফলতা লাভেও সক্ষম।

    > ‘কোনো মুমিন ব্যক্তিই প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ভাইয়ের জন্য এমন বস্তু পছন্দ না করে, যা সে তার নিজের জন্য পছন্দ করে।’ অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজে নিজের জন্য যা পছন্দ, নিজের সঙ্গীদের জন্যও তা পছন্দ করা।

    > ‘হালাল ও হারাম সুস্পষ্ট। কিন্তু এ দুটির বাইরেও কিছু সন্দেহজনক বস্তু আছে…।’ সুতরাং দুনিয়ার জীবনে হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে মেনে নেয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক বিষয়গুলো ছেড়ে দেয়াই উত্তম। তবেই প্রকৃত দ্বীনদার হওয়া সম্ভব।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়াতে উল্লেখিত ৪টি হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার মাধ্যমে সঠিক দ্বীনদার হিসেবে নিজেদের তৈরির তাওফিক দান করুন। পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে সফল হওয়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত যেভাবে ইবাদতে পরিণত হয়

    মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত যেভাবে ইবাদতে পরিণত হয়

    ইবাদত করা আল্লাহ তাআলা নির্দেশ। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর নামে যত ভালো কাজ করা হয় তার সবই ইবাদত হিসেবে পরিগণিত। এ ইবাদত বা উপাসনা দু’টি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    প্রথমটি : ইবাদতের প্রতি থাকতে হবে পরম ভালোবাসা।
    দ্বিতীয়টি : আল্লাহর প্রতি পরম শ্রদ্ধায় নিজেকে বিলীন করে দেয়া।

    ইবাদাতের প্রতি ভালোবাসা মানুষের আগ্রহ বাড়ায় আর শ্রদ্ধা ভয়-ভীতির মাধ্যমে ইবাদাতে নিজেকে বিলিন করে দেয়া যায়। আর ইসলামের পরিভাষায় এটি হলো ইহসান। সুতরাং ইহসান অবলম্বন করেই মানুষকে ইবাদত করতে হবে। কেননা ইহসানের মাধ্যমেই মানুষ তার প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদতে পরিণত করতে সক্ষম হয়।

    সার্বক্ষনিক যে মনোভাব পোষণ করবে
    > মানুষ সব সময় এমন মনোভাব পোষণ করবে, যেন সে তাঁকে (আল্লাহকে) দেখছে। বান্দা যখনই আল্লাহকে দেখছে ভেবে যে কোনো কাজে সময় অতিবাহিত করবে তখন তার প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতে পরিণত হবে।

    কোনো প্ররোচনাই তার কাজে অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। বান্দার যত চাওয়া তার সবই আল্লাহর কাছে চাইবে। তখন আল্লাহ তাআলা তার সব চাওয়াই পূর্ণ করে দেবেন।

    > মানুষ তার সময় এমন ভাবে অতিবাহিত করবে, যেন সে আল্লাহকে না দেখলেও আল্লাহ তাআলার সব কর্মকাণ্ড দেখছেন। মানুষ যখন এ মনোভাব পোষণ করবে তখন তার দ্বারা অন্যায় কাজ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। অন্যায় কাজ থেকে মুক্ত হতে পারলেই মানুষ সব কাজে সফলতা লাভ করবে। আর প্রতিটি মুহূর্তই তার ইবাদত হিসেবে পরিগণিত হবে।

    সুতরাং ইবাদতের সময় অন্তরে ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা। আল্লাহর তাআলঅর প্রতি শ্রদ্ধায় নিজেকে বিলীন করে দেয়া জরুরি।

    ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহকে দেখতে পাওয়া কিংবা আল্লাহকে দেখতে না পেলেও আল্লাহ তাআলা দেখছেন এ অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত করাই হলো ইহসানের সর্বোচ্চ স্তর। যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অনেক জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘যে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মস্তক অবনত করে সৎকাজে নিয়োজিত থাকে এবং ইবরাহিমের ধর্ম অনুসরণ করে, তার চেয়ে দ্বীনের ব্যাপারে আর কে উত্তম?’ (সুরা নিসা : আয়াত ১২৫)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ইহসানের সঙ্গে অতিবাহিত করে গোনাহমুক্ত জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। সর্বোত্তম মুসলিম হিসেবে নিজেদের তৈরি করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • হাজিদের জন্য ‘স্মার্ট সিটি’ হচ্ছে মক্কা-মদিনা

    হাজিদের জন্য ‘স্মার্ট সিটি’ হচ্ছে মক্কা-মদিনা

    কাবা শরিফ ও প্রিয় নবির রওজা জেয়ারতের উদ্দেশ্যে সারাবিশ্ব থেকে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় একত্রিত হয়। ওমরা ও হজ ছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব হজ ও ওমরা কর্তৃপক্ষ মক্কা-মদিনায় ‘স্মার্ট সিটি’ তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খবর আল-আরাবিয়া।

    হজের সময় মক্কা-মদিনায় আল্লাহর মেহমনদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে স্মার্ট ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে।

    হারামাইন শরিফাইন ইনিস্টিটিউটের খাদেম এবং হজ-ওমরাহ গবেষণা কেন্দ্রের সচিব ড. মাযিন শমরানি বলেন, হাজিদের জন্য মক্কা ও মদিনার স্থানগুলোকে ‘স্মার্ট সিটি’র অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    হাজি ও ওমরা পালনকারীদের চলাচল ও শীতল পরিবেশের সুবিধার্থে মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারায় বেশি বেশি ছায়াদার গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সে সঙ্গে থাকবে পানির ঝরণা ও পরিবেশ শীতলকারী সরঞ্জাম।

    হজ ও ওমরা পালনকারীর জন্য যে কোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষনিক সমাধানের বিষয়টিও রয়েছে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্য তালিকায় ।

    এছাড়াও মিকাত’-এর স্থানকে আরো সুন্দর, উন্নত ও সুপরিসর করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। অসুস্থ, অক্ষমদের জন্য আলাদা করে পর্যাপ্ত টয়লেটসহ অন্যান্য সেবা প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    সৌদি আরব হজ কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ হজ-ওমরা পালনকারী ও দর্শণার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।