Category: ধর্ম

  • বরিশালের হুমায়ুন হাতে লিখলেন পুরো কুরআন

    বরিশালের হুমায়ুন হাতে লিখলেন পুরো কুরআন

    অনলাইন ডেস্ক:

    বিশ্বের বহু দেশে পবিত্র কুরআন হাতে লেখার খবর পাওয়া যায়। এবার বাংলাদেশের এক প্রতিভাবান তরুণ হুমায়ুন কবির সুমন হাতে লিখেছেন পবিত্র কুরআন।

    মাদ্রাসায় না পড়েও প্রবল ইচ্ছা শক্তির জোরেই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের হুমায়ুন কবির সুমন আরবি শিখে ৩ বছরে পুরো কুরআন হাতে লিখেছেন।

    ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করার পর হুমায়ুন কুরআনুল কারিম লেখার উদ্দেশ্যে আরবি লেখা শেখেন। অতঃপর ২০০৭ সালে পবিত্র কুরআন হাতে লেখা শুরু করেন। ৩ বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে পুরো কুরআন লেখা সম্পন্ন করেন হুমায়ুন।

    Pandolipi-1

    সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় আরবি লেখা শিখে কুরআন লেখা এবং পৃষ্ঠা বিন্যাস ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ক্যালিওগ্রাফিও ব্যবহার করেছেন তিনি। বরিশালের তরুণ প্রতিভা হুমায়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কুরআনে পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে চান তিনি।

    হুমায়ুন কবির সুমন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের মো. রজব আলী শিকদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার গাউছিয়া মার্কেটের একটি শোরুমের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    হুমায়ুন করিব সুমন নিখুঁত, নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা পবিত্র কুরআনুল কারিমের পাণ্ডুলিপি তৈরি করায় তার প্রতি রইলো শুভ কামনা…

  • বিবি আসিয়া মৃত্যুর আগে যে দোয়া পড়েছিলেন

    বিবি আসিয়া মৃত্যুর আগে যে দোয়া পড়েছিলেন

    হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সময় জালিম শাসক ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আসিয়া আল্লাহর ওপর ঈমান আনেন। ফেরাউন নিজ স্ত্রীর ঈমান আনার খবর শুনে চরম রাগান্বিত হন।

    এক পর্যায়ে ফেরাউন তার স্ত্রীকে চরম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। সে সময় সাহায্য চেয়ে ফেরাউনের স্ত্রী আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। মৃত্যুর আগে বিবি আসিয়ার আহ্বান মহান আল্লাহর কাছে এত অধিক পছন্দনীয় হয়ে যায়, যা তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়াস্বরূপ এবং ইসলামের সত্যয়নকারী হিসেবে এ আয়াত তুলে ধরেন-

    رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

    উচ্চারণ : রাব্বিবনি লি ইংদাকা বাইতান ফিল জান্নাতি ওয়া নাঝ্ঝিনি মিন ফিরআউনা ওয়া আমালিহি ওয়া নাঝ্ঝিনি মিনাল ক্বাওমিজ জালিমিন।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১১)

    অর্থ : ‘হে আমার পালনকর্তা! আপনার কাছে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর তৈরি করুন। আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে জালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।

    সুতরাং নির্যাতনের শিকার নারী ও মাজলুমদের জন্য এ প্রার্থনা আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার স্বরূপ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে চরম অত্যাচার-নির্যাতন ভোগ করার সময় এ দোয়ার মাধ্যমে তার কাছে আশ্রয় লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • বড় পীর আবদুল কাদের জিলানীর মায়ের আদেশ ও স্মরণীয় বাণী সমূহ

    বড় পীর আবদুল কাদের জিলানীর মায়ের আদেশ ও স্মরণীয় বাণী সমূহ

    সন্তানের ওপর মায়ের প্রভাবই থাকে সবচেয়ে বেশি। যে কারণে সন্তান যাতে সুসন্তান হয়ে গড়ে ওঠে তা একমাত্র মায়ের পক্ষেই নিশ্চিত করা সম্ভব। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বুজুর্গ হিসেবে হজরত আবদুল কাদের জিলানীর গড়ে ওঠার পেছনে মায়ের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। বলা হয়, হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.) যখন মাতৃগর্ভে ছিলেন, তখন তাঁর পুণ্যময়ী জননী কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করতেন। মাতৃগর্ভে থাকা শিশু তা মুখস্থ করে ফেলতেন। এভাবে জিলানী (র.) মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় পবিত্র কোরআন শরিফের একটা বড় অংশ মুখস্থ করে ফেলেন। জন্মের পরই তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন।

    তাঁর পুণ্যময়ী মা-ই তাকে লালন-পালন এবং প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করেন। সে শিক্ষার কারণেই পরবর্তী জীবনে উন্নতি সাধনে সক্ষম হন। মমতাময়ী জননী তাঁকে সদা সত্য কথা বলতে শিখিয়েছেন। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য মা তাকে বাগদাদের উদ্দেশে পাঠান। তখন তাঁর জামার পকেটের নিচে ৪০টি স্বর্ণ মুদ্রা ভরে দিয়েছিলেন। কিশোর জিলানী (র.) এক যাত্রীদলের সঙ্গে বাগদাদে রওনা হলেন। পথিমধ্যে যাত্রীদের কাফেলা ডাকাত দলের দ্বারা আক্রান্ত হয়। ডাকাতরা যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল লুটে নেয়। অল্প বয়সের বালক হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.)-কে কিছু বলল না ডাকাত দল। একজন ডাকাত কৌতূহলবশত তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, হে বালক! তোমার কাছে কী আছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমার কাছে ৪০টি স্বর্ণ মুদ্রা আছে।

    এই দেখ আমার জামার ভিতরে সেলাই করা আছে। তোমরা সেগুলো নিয়ে যাও। সে ডাকাত হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.)-কে তাদের সরদারের কাছে নিয়ে যায়। সরদার মুদ্রাগুলো বের করে হাতে নিয়ে বলল, হে বালক, তুমি যদি না বলতে তবে আমরা তোমার এ স্বর্ণ মুদ্রার খবর জানতাম না। তুমি কেন স্বর্ণ মুদ্রার কথা বললে। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.) বললেন, আমার মা আমাকে মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছেন। মায়ের কারণেই জগদ্বিখ্যাত বুজুর্গ হতে পেরেছিলেন তিনি।

    বাণীসমূহ : — একদল অজ্ঞ, মূর্খ এবং ভণ্ডপীর, ভণ্ডদরবেশ বলে বেড়ায় যে, ইলমে শরিয়ত এবং ইলমে তরিকত দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এর একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক নেই। এমন কি এরা মনে করে পরস্পরের সম্পর্কের কোনো প্রয়োজনও নেই। তারা শরিয়তের প্রয়োজনীয়তার ওপর তেমন গুরুত্ব দেয় না। শরিয়তকে তারা সব সময় অবজ্ঞা করে চলে। বলে বেড়ায়, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য একমাত্র উপায় ইলমে তরিকতের অনুসারী হওয়া। তাদের প্রচারের ভাব-ভঙ্গিতে সাধারণ লোক মনে করে যে, তারা না জানি ইলমে তরিকত সম্পর্কে কত বিজ্ঞ। মূলত এরা সে সম্পর্কে কোনোই জ্ঞান রাখে না। তাদের এ কথা যে তাদের অজ্ঞতা ও মূর্খতা বৈ কিছুই নয়।

    — নিজের কল্যাণের স্বার্থে এবং আজাব থেকে রেহাই পেতে যথাসম্ভব কম কথা বল। তুমি তোমার আমলনামার পাতাগুলো আড্ডাবাজি দিয়ে পূর্ণ কর না। কেন না, চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের দিনে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তা হলো তোমার জীবনে আল্লাহকে স্মরণ করার মুহূর্তগুলো।

    — আপনার বলা কথাগুলোই প্রকাশ করে দিবে আপনার অন্তরের গভীরে কী আছে।

    — যখন কোনো বান্দা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তা আসলে কেবল মুখে উচ্চারিত কোনো বিষয় থাকে না, বরং আল্লাহর করুণা ও রহমত প্রাপ্তির কৃতজ্ঞতা স্বীকার অন্তর থেকেও করা হয়।

  • আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনে পরিণতি

    আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনে পরিণতি

    হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের সময়ে ঘটনা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য শিক্ষণীয় ঘটনা। যারা আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করবে তাদের পরিণতি কী হতে পারে তার কিছু নমুনা রয়েছে এ বর্ণনায়।

    ইবাদতের দিন হিসেবে হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের অনুসারিরা ‘শনিবার’ কে বাছাই করেছিলেন। আর শনিবার সমুদ্রের মাছ শিকার করা ছিল নিষিদ্ধ। তারা এ বিধান লঙ্ঘনে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।

    সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন ‘শনিবারের মাছ ধরার কৌশল নিয়ে তারা ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের দু’টি দল শাস্তির সম্মুখীন হয় আর একটি দল মুক্তি পেয়ে যায়। তাদের এ বিভক্তি ও কার্যক্রম থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে বিশেষ শিক্ষা-

    শাস্তিপ্রাপ্ত দল

    আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে শনিবার মাছ শিকারের অপকৌশল গ্রহণ করায় তারা আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হয়। অর্থাৎ বিধান লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাই বানরে পরিণত হয়ে যায়। পুরুষেরা বড় বানর আর স্ত্রীরা বানরীতে রূপান্তরিত হয় এবং শিশুরা ছোট বানরে পরিণত হয়।

    দ্বিতীয় দলটি অন্যায় কৌশল গ্রহণ না করেই এ গজবে পতিত হয়। কারণ তারা এ অন্যায় কৌশল গ্রহণকারীদেরকে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেনি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করেনি। তাই তারাও আল্লাহর গজবে নিপতিত হয় এবং বানরে পরিণত হয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করাই ছিল তাদের অপরাধ।

    মুক্তিপ্রাপ্ত দল

    শনিবারের বিধান লঙ্ঘনকারীদের অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং অন্যায়কারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারী দল মুক্তি লাভ করে। কারণ তারা আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং তাদের বাসস্থানের মধ্যে চলাচলের রাস্তা ছাড়া সীমানা তৈরি করে আলাদা হয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআল তাদেরকে এ গজব থেকে হেফাজত করেন।
    এ কারণেই রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের সামনে যদি কোনো অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখ, তবে তা হাত দ্বারা বাধা দাও, সামর্থ না থাকলে মুখ দ্বারা বাধা দাও, যদি তাতেও সামর্থ না থাকে অন্তরে ঘৃনা করো। (অন্তরে ঘৃণার মানে হলো এ অন্যায় থেকে বিরত রাখতে নিরবে গোপনে অন্যায়ের প্রতিরোধমূলক কাজ চালিয়ে যাও) আর এটা হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতম পরিচয়।

    সুতরাং আল্লাহর বিধানের লঙ্ঘন নয়, বরং তার বিধানের আনুগত্য করা। যারা বিধান লঙ্ঘন করে তাদেরকে অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখা অন্যথায় তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা। আর এটাই ঈমানের দাবি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর শাস্তি থেকে হেফাজত করতে তার বিধানের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন ও অনুসরণ করার পাশাপাশি অন্যায়ের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে চিন্তা ও কাজ মানুষকে সফলতার পথ দেখাবে

    যে চিন্তা ও কাজ মানুষকে সফলতার পথ দেখাবে

    জন্ম অনিশ্চিত, কিন্তু মৃত্যু সুনিশ্চিত। কোনো মানুষের সন্তান হবে কি হবে না, এমন নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারে না। এমন কথাও কেউ বলতে পারে না যে, তার সন্তান হবে না। আবার এমন কথা কেউ বলতে পারবে না যে, সে সন্তান জন্ম লাভ করবে। এর উভয়টিই মহান আল্লাহর এখতিয়ার।

    পক্ষান্তরে কোনো মানুষ জন্মগ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিষয় সুনিশ্চিত হয়ে যায় যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তাকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। এর থেকে পালানোর কোনো পথ নেই। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে একথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন-
    প্রত্যেক জীবনকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে।

    চিন্তার বিষয়
    সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠা মানুষকে এ কথা বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সন্ধ্যার সাক্ষাৎ তার নাও হতে পারে। সুতরাং মানুষকে এ বিষয়টি চিন্তা করেই জীবন-যাপন করতে হবে। মনে করতে হবে এ মুহূর্তটিই তার শেষে দিন বা শেষ সময়।

    মানুষের উচিত এ রকম ভাবা যে, প্রতিটি দিনই তার জীবন জন্য নতুন দিন। যেন এখনই জন্ম গ্রহণ করেছে সে। আবার দিনের শেষেই মৃত্যুবরণ করবে। এমন চিন্তার অধিকারীর পক্ষেই সম্ভব গোনাহমুক্ত জীবন-যাপন করা। আর এ উপদেশ দিয়ে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-
    (হে রাসুল!) আমি আপনাকে যা দান করেছি তা গ্রহণ করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হোন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৩৪)

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এমনই ছিল মহান আল্লাহর ঘোষণা। আর প্রিয় নবির মাধ্যমেই বিশ্ব মানবতা পেয়ে গেছে কুরআনের এ সংবাদ। যারা আল্লাহর দান-অনুদান, আদেশ-নিষেধ পালন করে জীবন সাজাবে তারাই আল্লাহর দফতরে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে। এটাই মহান প্রভুর ঘোষণা।

    যখনই মানুষ আল্লাহর দেয়া উপদেশ গ্রহণ করবে, প্রতিটি দিনকে নিজের জীবনের প্রথম দিন মনে করবে এবং দিনের শেষ বেলাকে জীবনের শেষ বেলা হিসেবে চিন্তা করবে, তখন আল্লাহ ও তার রাসুলের উপদেশ কাজে আসবে। দুনিয়া ও পরকালের সফলতাও সে লাভ করবে।

    এভাবে চিন্তা করুন
    বিগত দিনে যারা নিজের ভুলে কিংবা মনের অজান্তে অন্যায়মূলক কাজে সময় কাটিয়েছে, তাদের পেছনের দিনগুলো নিয়ে সময় নষ্ট না করে তাওবার সঙ্গে আগামীর দিনগুলোর সঠিক ব্যবহারই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

    অতীতে সব দুঃশ্চিন্তা ও ভবিষ্যতের সব অনিশ্চিত আশা-আকাঙ্ক্ষর নেশা থেকে বেরিয়ে এসে শুধু আজকের দিনটিকে নিজেকে সঠিক পথে পরিচালনা করা। সারাদিন নিয়ে এভাবে চিন্তা করা উচিত-
    – সারাদিন প্রতিটি কাজের সঙ্গে হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ বা প্রার্থনা জাগ্রত রাখা।
    – কম হোক বুঝে-শুনে কুরআন তেলাওয়াত করা।
    – প্রতিটি কাজেই ভারসাম্য ও নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখা।
    – তাকদিরের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখা।

    সর্বোাপরি সবার নারী-পুরষের পোশাক-পরিচ্ছেদ, সাজ-সজ্জা, বেশভূষা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয়ে সতর্ক থাকা। তবেই পরিপূর্ণ সফলতা লাভ করা সম্ভব হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জীবনের প্রতিটি দিনকে কুরআন-হাদিসের আলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। সব অন্যায় ও অনাচার থেকে নিজেদের হেফাজত করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • জান্নাতিদের জীবন-যাপন যেমন হবে

    জান্নাতিদের জীবন-যাপন যেমন হবে

    মানুষের দুনিয়ার চাকচিক্য ও ধন-সম্পদের ঐশ্বর্য এবং নারীসহ আকর্ষণীয় বস্তুর মোহের বর্ণনার পর জান্নাতের সুখ-শান্তি ও নেয়ামতের বর্ণনা করেছেন।

    কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে জান্নাতের ও জান্নাতবাসীদের নেয়ামত, পারস্পরিক সাক্ষাত এবং জান্নাতের জীবনাচরণ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

    মুমিন বান্দা জান্নাতে যা চাইবে তা-ই পাবে। জান্নাতে যেমন জীবন-যাপন করার ইচ্ছা পোষণ করবে তাদের জীবনাচার তেমনিই হবে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক দেখা-সাক্ষাৎ ও জীবনাচার সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে-

    – হজরত শফি ইবনে মানে’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতের নেয়ামতের মধ্যে এটি একটি নেয়ামত যে, জান্নাতবাসীগণ পরস্পর উট ও ঘোড়ার ওপর আরোহন করে পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবে। বিশেষ করে জুমআর দিন লাগাম ও জিনসহ ঘোড়া হাজির করা হবে। আর এ ঘোড়াগুলো মলমূত্র ত্যাগ করবে না। জান্নাতবাসীরা এসব ঘোরার ওপর আরোহন করে আল্লাহর ইচ্ছায় যেখানে মন চায় সেখানে যাবে।’

    – হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতের একটি বিশাল গাছ রয়েছে, যার ওপরের অংশ থেকে জান্নাতিদের পরিধানের জন্য পোশাক বের হবে এবং নিচের দিক থেকে সোনার ধূসর রঙের ঘোড়া বের হবে।

    আর ঘোড়াগুলোর লাগাম ও জিন হবে ইয়াকুত ও মুক্তার। এ ঘোড়াগুলোর থাকবে ডানা। এ ডানাগুলো ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে যতদূর দৃষ্টি যায়। এ ঘোড়াগুলো মলমূত্র ত্যাগ করবে না।

    আল্লাহর বন্ধুগণ এ ঘোড়াগুলোতে আরোহন করবেন। জান্নাতিরা যেখানে যেতে চাইবেন, সেখানে উড়ে চলে যাবেন।
    উড়ন্ত অবস্থায় নিচ থেকে যারা তাদেরকে দেখবেন তারা বলবেন এরা আমাদের আলোকে নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন।
    তখন তাদেরকে জবাব দেয়া হবে যে, তারা দুনিয়াতে আল্লাহর পথে দান করতো আর তোমরা কার্পণ্য করতে, তারা জেহাদ করতো আর তোমরা বসে থাকতে।’ (তাফসিরে মাজহারি)

    – হজরত রাবিয়া হারসি বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আমাকে স্বপ্নে বলা হয়েছে যে, একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি একটি বড় বাড়ি নির্মাণ করেছেন। অতঃপর সে বাড়িতে দস্তরখান বিছিয়েছেন। আর লোকজনকে একত্রিত করার জন্য একজন ঘোষক নিয়োগ দেন। সে ঘোষকের আহ্বানে যারা সাড়া দিয়ে দস্তরখানে খাবার গ্রহণ করেছেন; সে মহান ব্যক্তি তার (অংশগ্রহণকারীদের) প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। 

    পক্ষান্তরে যারা এ দাওয়াত কবুল করেনি এবং সে ঘরে আসেনি, খাবার গ্রহণ করেনি; সে ব্যক্তির প্রতি বাড়ির মালিক নারাজ হয়।

    অতঃপর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন, বাড়ির মালিক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। আর সে ঘোষক হলেন হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বাড়ির দস্তরখান হলো আল্লাহ তাআলা ঘোষিত চিরস্থায়ী শান্তির স্থান জান্নাত।’ (দারেমি)

    কুরআন ও হাদিসে জান্নাতের বর্ণনা, জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক, জীবনাচরণসহ বিশদ আলোচনা করার কারণ হলো মানুষ দুনিয়ার ক্ষনস্থায়ী জীবনের ধন-সম্পদ, চাকচিক্য, আরাম-আয়েশের পেছনে না ছুটে চিরস্থায়ী জান্নাতের প্রতি মোহ তৈরি করা। কুরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে আখেরাতের সাফল্য লাভে নিজেকে এগিয়ে নেয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জান্নাতের অনূভূতি হৃদয়ে পোষণ করে পরকালের সফলতায় নিজেকে তৈরির করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আল্লাহর জিম্মায় থাকবে যেসব নামাজি

    আল্লাহর জিম্মায় থাকবে যেসব নামাজি

    মুমিন বান্দার সবচেয়ে প্রিয় সময়ের নামাজ হচ্ছে সকালের ফজর নামাজ। এ নামাজ সংখ্যায় যেমন অল্প তেমনি তা আদায়ে স্বস্থি ও প্রশান্তি লাভের পাশাপাশি উপকারিতাও অনেক বেশি।

    কেননা মুমিন বান্দা ফজরের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে লাভ করে আল্লাহর নিরাপত্তা। অথচ অধিকাংশ মানুষই ঘুমের ঘোরে তা পরিত্যাগ করে। ফজরের নামাজের উপকারিতা বর্ণনায় রয়েছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস।

    – রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি তারা জানতো যে, ইশা ও ফজরের নামাজে কি ফজিলত রয়েছে, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও (ফজর ও ইশার) জামাতে এসে শামিল হতো।’ (মুসলিম)

    – মুসলিমের অন্য বর্ণনায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে সে সারাদিন আল্লাহ তাআলার জিম্মায় (নিরাপত্তায়) থাকে।’ সুবহানাল্লাহ!

    হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী, এক মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহর নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম নিরাপত্তা আর কী হতে পারে।

    ফজরের নামাজ এমন এক উপকারি নামাজ, যে নামাজ মানুষের ইবাদত বন্দেগিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সে বর্ণনা সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন। কেউ যদি ফজরের নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করে তবে সারারাত জেগে ইবাদত করার সাওয়াব পায়। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাআতে ইশার নামাজ আদায় করে, সে অর্ধ রাত ইবাদতের সাওয়াব পায়। আর যে ব্যক্তি ফজর নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করে সে সারারাত ইবাদত করার সাওয়াব পায়।’ সুবহানাল্লাহ!

    ফজরের মাত্র দু’রাকাআত নামাজ জামাআতে আদায় করার ফলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সারারাত ইবাদতের সাওয়াবের পাশাপাশি সারাদিনের নিরাপত্তা গ্রহণ করেন। একজন মুমিন বান্দার জন্য এরচেয়ে সৌভাগ্যের আর কী হতে পারে?

    এতো গেল দুনিয়ার ঘোষণা, পরকালেও রয়েছে বিশেষ ঘোষণা-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যারা রাতের অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদেরকে তুমি কেয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ আলোর সুসংবাদ দাও।’

    অর্থাৎ যে দিন আল্লাহর আলো ছাড়া আর কোনো আলো থাকবে না, সেদিন অন্ধকার পথে হেঁটে ফজর ও ইশার নামাজ আদায়কারীর জন্য থাকবে বিশেষ আলোর ব্যবস্থা।

    সুতরাং হাদিসের আলোকে ফজরের নামাজ আদায়কারীর সুসংবাদগুলো হলো-
    – আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ করা যায়।
    – ঘুমিয়ে থেকেও সারারাত ইবাদতের সাওয়াব লাভ করা যায়।
    – কেয়ামতের দিন পুরিপূর্ণ আলোর সুসংবাদও দিয়েছেন প্রিয় নবি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত ইশার নামাজ জামাআতে পড়ার মাধ্যমে অর্ধ রাত এবং ফজর নামাজ জামাআতে আদায় করার মাধ্যমে সারারাত ইবাদতের সাওয়াব লাভ ও সারাদিনের নিরাপত্তা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আল্লাহ যে কারণে বান্দাকে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন

    আল্লাহ যে কারণে বান্দাকে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার কাছে দোয়া তথা ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ একবার দু’বার নয়, বার বার তাকে ডাকার, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনের অনেক আয়াত ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিসে বার বার দোয়া করার এসব কারণ ওঠে এসেছে।

    দোয়াকে অন্যতম ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দোয়া বা আল্লাহকে ডাকার অন্যতম উপকার কি তা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, দুনিয়াতে যে সব বিপদ এসেছে আর যা এখনো আসেনি তা থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র মাধ্যমও আল্লাহকে ডাকা বা দোয়া করা।

    আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক জায়গায় তাকিদের সঙ্গে তার কাছে দোয়ার করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা তাকে ডাকে বা দোয়া প্রার্থনা করে আল্লাহ তাদের দোয়া শুনেন এবং যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন। আল্লাহ বলেন-

    ‘যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে (তখন তুমি বল) আমি তাদের কাছেই আছি। কোনো প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি (কোনো মাধ্যম ছাড়াই) তার ডাক শুনি এবং তাতে সাড়া দেই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান রাখে, যাতে করে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হয়।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৬)

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যারা আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চায় আল্লাহ তাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষন করেন। তাদের দান করেন সবচেয়ে বেশি প্রিয় জিনিস, শান্তি ও নিরাপত্তা। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যার জন্য দোয়ার দরজা খোলা হলো, মূলত তার জন্য রহমতের দরজা খোলা হলো। আল্লাহর কাছে যা কিছু চাওয়া হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা তার কাছে বেশি প্রিয়। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে বিপদ-মুসিবত এসেছে আর যা (এখনও) আসেনি তাতে দোয়ায় উপকার হয়। অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দোয়াকে অপরিহার্য করে নাও। (তিরমিজি)

    আল্লাহর কাছে দোয়া বা তাকে ডাকার প্রসঙ্গগুলো কুরআনুল কারিমের যেভাবে ওঠে এসেছে, তার কিছু হলো এ রকম-

    – তোমরা তোমাদের প্রভুকে বিনয়ের সঙ্গে ডাক আর গোপনে সীমালংঘনকারীদের তিনি পছন্দ করেন না।’ (সুরা আল-আরাফ : আয়াত ৫৫)
    – অবশ্য আমার প্রভু অতি কাছে এবং (তোমাদের) ডাকে সাড়া দানকারী।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৬১)
    – নিশ্চয়ই আমার প্রভু (আমাদের ডাক) দোয়া শুনে থাকেন। হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকে (শ্রেষ্ঠ দোয়া ও তোমাকে স্মরণের অন্যতম মাধ্যম) নামাজ কায়েমকারী বানাও। হে আমার প্রভু! আমার দোয়া কবুল কর।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৯-৪০)

    সুতরাং নতুন করে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য নয় বরং জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভে, অনাগত বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহকে ডাকা, আল্লাহর বিধি-বিধান পালন করা মুসলিম উম্মাহর জন্য জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তার বিধান পালনের মাধ্যমে তাকে ডাকার তথা তার কাছে সার্বিক বিষয়ে আশ্রয় লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ওজুতে যে কাজগুলো মোস্তাহাব

    ওজুতে যে কাজগুলো মোস্তাহাব

    ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জন তথা ওজু করা ফরজ। ওজুতে ৪টি কাজ ফরজের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু ওয়াজিব ও সুন্নাত কাজ। এর বাইরেও ওজুকারীর জন্য রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোস্তাহাব কাজ। এ মোস্তাহাব কাজগুলো পালনের গুরুত্বও অত্যাধিক।

    ওজুকারীর জন্য মোস্তাহাব কাজগুলো হলো-
    > পবিত্রতা অর্জনে (ওজুর) নিয়ত করা
    ইমাম আজম ওজুতে নিয়ত করাকে সুন্নাত বলেছেন। কিন্তু ইমাম শাফেঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ওজুর নিয়ত করা ফরজ তথা আবশ্যক।

    > সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা
    এটা হচ্ছে সুন্নাত। ইমাম শাফেঈ বলেন, সুন্নাত হলো নতুন পানি দ্বারা আলাদা আলাদা ৩ বার মাসেহ করা। ওজুতে মাথা মাসেহ করা ফরজ। আর বারবার মাসেহ করলে তা ধোয়াতেই পরিণত হয়ে যায়। তখন আর মাসেহ থাকে না।

    > ওজুতে ধারাবাহিকতা রক্ষা
    আল্লাহ তাআলা ওজু যেভাবে করতে বলেছেন সেভাবে শুরু করে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ায় তারতিব রক্ষা করা। ইমাম শাফেঈ’র মতে ওজুতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ফরজ।

    > ডান দিক থেকে শুরু করা
    ডান দিক থেকে ওজু শুরু করা উত্তম। কেননা আল্লাহ তাআলা সব ভালো কাজের বিষয়ে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করেন। এমনকি জুতা পরিধান ও চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রেও।

    ওজুর ক্ষেত্রে উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করা মোস্তাহাব। যা পালনে রয়েছে অনেক সাওয়াব ও ফজিলত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ওজুর ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতের সঙ্গে সঙ্গে মোস্তাহাব কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • পরিচ্ছন্ন জীবন লাভে যে দোয়া পড়বেন

    পরিচ্ছন্ন জীবন লাভে যে দোয়া পড়বেন

    বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন জীবন-যাপন করা অনেক কঠিন কাজ। সময়ের শ্রোতে প্রকাশ্যে চলছে অশ্লীলতা। অশ্লীলতা ও নগ্নতার কারণে কিশোর ও যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাই গোনাহমুক্ত জীবন লাভে অশ্লীলতা ও নগ্নতা থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর একান্ত রহমতের বিকল্প নেই।

    বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন জীবন লাভে আল্লাহ তাআলা শেখানো ভাষায় তার কাছে সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন পরিচালনা করা জরুরি।

    নিজেকে পাপমুক্ত রাখতে বেশি বেশি এ দোয়া পড়া জরুরি-
    رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
    উচ্চারণ : রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের সব গোনাহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের সব দোষত্রুটি দূর করে দিন। আর নেক লোকদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দান করুন।

    ফেতনা-ফাসাদযুক্ত কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে আল্লাহর একান্ত সাহায্য আবশ্যক। কেননা আল্লাহ যাকে চান তাকে গোমরাহ বা গোনাহে লিপ্ত করার কেউ নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার একান্ত রহমতে দুনিয়ার সব অশ্লীলতা ও নগ্নতার গোনাহ থেকে মুক্ত থেকে পরিচ্ছন্ন জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।