Category: ধর্ম

  • গোনাহগার ব্যক্তি যেভাবে ক্ষমা লাভ করবে

    গোনাহগার ব্যক্তি যেভাবে ক্ষমা লাভ করবে

    দুনিয়াতে মানুষ যখন জিকিরের মজলিস বসে তখন তা বেহেশতের বাগানে পরিণত হয়ে যায়। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন সুসংবাদই দিয়েছেন।

    আবার যারা জিকিরের মজলিসে বসে তখন তাদেরকে খাবার গ্রহণের কথাও বলেছেন। আর সে খাবার হলো- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার।

    জিকিরের মজলিসে কিছু মুহূর্ত বসার মর্যাদা এত বেশি যে, আল্লাহ তাআলা মজলিসে বসা ব্যক্তিদের সব চাহিদা পূরণ করে দেন। চলার পথে জিকিরের মজলিস দেখে কোনো গোনাহগার সামান্য সময়ের জন্য বসলেও আল্লাহ নিশ্চিত এ গোনাহগার ব্যক্তিকেও ক্ষমা করে দেন।

    জিকিরকারী বান্দাদের এসব খোঁজ খবর রাখার জন্য আল্লাহ তাআলা একদল নির্ভীক ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কিছু অতিরিক্ত পরিভ্রমণকারী ফেরেশতা আছেন (যারা বিশ্বে ঘুরে) জিকিরের মজলিসের খোঁজ খবর রাখেন।

    যদি কোনো জিকিরের মজলিস পেয়ে যান, তখন তাদের সঙ্গে (জিকিরে) বসে পড়েন এবং তাঁদের একে অপরকে পাখা দিয়ে ঘিরে ধরেন। এভাবে (পাখা দিয়ে ঘিরে ধরে) তারা আসমান পর্যন্ত পূর্ণ করেন।

    যখন মজলিসের (জিকিরকারী) মানুষের বিচ্ছিন্ন হয়ে যান (মজলিস শেষে চলে যান) তখন তারা উর্ধ্বে ওঠেন। মহান আল্লাহ, যিনি সবই জানেন। তিনি তাদের (ফেরেশতাদের) জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কোথা থেকে এসেছ?

    তারা (ফেরেশতারা) বলেন, ‘আমরা দুনিয়ায় আপনার কিছু বান্দার কাছ থেকে এসেছি, যারা আপনার ‘তাসবিহ’ (সুবহানাল্লাহ), ‘তাকবির’ (আল্লাহু আকবার), ‘তাহলিল’ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), ‘তাহমিদ’ (আলহামদুলিল্লাহ) বলেছেন এবং আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

    (তখন) আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কী প্রার্থনা করেছেন? তারা (ফেরেশতারা) বলেন, ‘তারা আপনার জান্নাত প্রার্থনা করেছেন?

    (তখন) আল্লাহ বলেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? তারা (ফেরেশতারা) বলেন, ‘হে প্রভু! ‘না’, তারা জান্নাত দেখেনি। আল্লাহ বলেন, যদি তারা জান্নাত দেখতো তবে কী হতো? ফেরেশতারা বলবেন, তারা আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতো।
    আল্লাহ বলবেন, তারা আমার কাছে কি আশ্রয় চেয়েছে? ফেরেশতারা বলবে, তারা জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে।

    আল্লাহ বলবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, ‘না’, হে প্রভু!

    (তখন) আল্লাহ বলবেন, তারা যদি আমার জাহান্নাম দেখতো তবে কী অবস্থা হতো? তাছাড়া এ বান্দারা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে।

    (তখন) আল্লাহ বলবেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করলাম। তাদের প্রার্থনা কবুল করলাম। তারা যা থেকে আশ্রয় চায় তা থেকে তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করলাম।

    ফেরেশতাগণ বলবেন, ‘হে প্রভু! তাদের মধ্যে একজন অন্যায়কারী-গোনাহগার বান্দা আছে যে, মজলিস অতিক্রম করে যাচ্ছিল, তাই সে (জিকিরের মজলিসে) একটু বসেছে।

    আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাকেও ক্ষমা করলাম; তারা এমন সম্প্রদায় যাদের সঙ্গে কেউ বসলে সে দুর্ভাগা হবে না।

    উল্লেখিত হাদিস থেকে বুঝা গেল, জিকিরের মজলিস হলো দুনিয়ায় জান্নাতের বাগান। জিকিরের বাক্যগুলো হলো জান্নাতের বাগানের খাবার। আর যারা এ মজলিসে বসে সে গোনাহগার হলেও আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তাকে জান্নাতে আশ্রয় দান করবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ায় জিকিরের হালকায় বসার মাধ্যমে আখেরাতে মহাসাফল্য লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • চরমোনাইর মাহফিল আখেরি মুনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো

    চরমোনাইর মাহফিল আখেরি মুনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো

    অনলাইন ডেস্ক:

    চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম আখেরী মোনাজাতে বলেছেন,হে আল্লাহ নাস্তিক মুরতাদদের নসিবে হেদায়াত না থাকলে তাদের ধ্বংস করে দিন।

    আমীন আমীন বলে এসময় ময়দানে উপস্থিত লাখ লাখ মুসুল্লি সাড়া দিয়ে পীরের দুয়ায় সমর্থন জানায়।

    শনিবার সকালে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিনদিন ব্যাপী আয়োজিত চরমোনাইর মাহফিল শেষ হয়।

    সকাল ৮ টা ৩৩ মিনিট হতে ১২ মিনিট ব্যাপী আখেরী মোনাজাতে পীর রেজাউল মহান আল্লাহর দরবারে আরো বলেন, আল্লাহ হক্ব বাতিলের পরিচয় প্রকাশ করে দিন। হককে বাতিলের থেকে বিজয় দিয়ে দিন।

    মোনাজাতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে সকলের কৃত পাপের ক্ষমা চান। মৃত্যুর ভয়ে কবর হাশরের চিন্তায় মোনাজাতে পীরের সাথে কান্নায় ভেংগে পড়েন মুসুল্লিরা। মুসুল্লীদের কান্নায় চরমোনাইর আকাশ বাতাস ভারী হয়ে যায়।

    মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও মুসলিম জাতির কল্যান চেয়ে দুয়া করা হয়। মুনাজাতে তিনি ঢাকায় চকবাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন।

    রোহিঙ্গা মুসলিমদের হেফাজতের জন্য মাহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। আখেরী মোনাজাতে প্রশাসন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের জন্যও দুয়া করেন। মোনাজাতের পূর্বে পীর রেজাউল নতুন ও পুরাতন মুরিদদের সবক বাতলাইয়া দেন।

    ফজর বাদ তিনি মাহফিলের শেষ বয়ান করেন। বয়ানে জীবনের প্রত্যেক কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য করতে বলা হয়। বয়ানে তিনি হাদীস কুরআনের উদ্বৃতি দিয়ে মানুষের জীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবী জানায়।

    এসময় তিনি মৃত্যুর ভয়াবহতা,কবরের শাস্থি,হাশরের ময়দানে হিসাব দেয়ার ভয়াবহতা এবং জাহান্নামের ভয়ংকর শাস্তির কথা উল্লেখ করেন। এতে মুসুল্লিরা আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নার্ত কন্ঠে ফরিয়াদ করতে থাকে।

    চরমোনাই মাহফিলে মহিলাদের আসতে নিষেধ করে পীর বলেন মহিলারা কোন মাহফিলে অবাধ যাওয়ার ফলে বিদয়াতি কর্মকান্ড শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    মাহফিলে আসা মুসুল্লিদের মধ্য হতে বিভিন্ন কারনে অসুস্থতায় মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ জানাজা শেষে তাদের স্ব স্ব এলাকায় দাফনের জন্য পাঠান হয়। মুনাজাত শেষে লঞ্চ, ট্রলারে, গাড়ীতে মানুষের ঢল নামে।

    সাড়াদিন ব্যাপী মানুষ বাড়ি ফিরতে চেষ্টা করলেও লোকের ভীরে একদিনে মাঠ পরিস্কার হয়নি । এদিকে মাহফিল শেষ হলে রাস্তাঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়।

    মুজাহিদ কমিটির সদস্যরা, বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা, পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে লোকজনের সুষ্ঠু ভাবে বাড়ি ফিরতে সহায়তা করেন।

  • অস্থিরতা ও পেরেশানিতে পড়ুন প্রিয় নবির ছোট্ট দোয়া

    অস্থিরতা ও পেরেশানিতে পড়ুন প্রিয় নবির ছোট্ট দোয়া

    কোনো বিপদ বা সংকট আসার আগে মানুষ যদি সে বিপদ কিংবা সংকট সম্পর্কে সামান্যতম ইঙ্গিতও পায়, তাতেই মানুষের মাঝে অস্থিরতা ও পেরেশানি বেড়ে যায়। অনেক সময় এমনও হয় যে, বিপদ বা সংকট যতটা না মারাত্মক, মানুষ তার চেয়ে অনেক বেশি পেরেশানি ভোগ করে।

    এ অস্থিরতা ও পেরেশানি যে শুধু বর্তমান সময়ে থাকে তা নয়; বরং ইসলামের প্রথম যুগে সাহাবায়ে কেরামের মাঝেও তা অনেক সময় পরিলক্ষিত হতো। যদিও মহান আল্লাহ তাআলার ওপর তাদের ছিল অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস। আর ছিল প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্ত্বনা ও সদুপদেশ।

    কঠিন বিপদ অস্থিরতা ও পেরেশানিতে আল্লাহর সাহায্য লাভে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো ছোট্ট দোয়াটি ছিল এমন-
    اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوَرَاتِنَا ، وَآمِنْ رَوَعَاتِنَا

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাসতুর আওয়ারাতিনা ওয়া আমিন রাওয়াআতিনা।’ (মুসনাদে আহমদ)
    অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সব দুর্বলতাকে ঢেকে দিন এবং আমাদের অস্থিরতাকে স্থির করে দিন।

    ইসলামের প্রথম বড় সমরাভিযান ‘আহযাব’ তথা খন্দকের যুদ্ধ। যে যুদ্ধে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার হেফাজতে আত্মরক্ষামূলক শত্রুদের বেরিকেড সৃষ্টিতে খাল খনন করেছিলেন।

    সাহাবায়ে কেরাম সে সংকটময় সময়টিতে অতিরিক্ত পেরশান হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য লাভে কী দোয়া পড়বেন তা জানতে চান-
    ‘হে আল্লাহর রাসুল! এ কঠিন সময়ে আমাদের জন্য কোনো দোয়া বা আমল আছে কি? তখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়াটি পড়ার কথা বলেন। সাহাবায়ে কেরাম উল্লেখিত দোয়াটি পড়েন এবং আল্লাহ তাআলা ঝড়ো-বাতাসের মাধ্যমে মুসলিম বাহিনীকে শত্রুর মোকাবেলা থেকে হেফাজত করেন।

    সুতরাং সংকটময় পরিস্থিতে চিন্তা ও অস্থিরতার সময় মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া ও আমলের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া আবশ্যক। এ আমল ও দোয়ার ওসিলায় আল্লাহ মুমিন-মুসলমানকে কঠিন পরিস্থিতিতেও চিন্তা ও অস্থিরতামুক্ত করেন। মুমিনদেরকে দান করেন বিজয় ও প্রশান্তি। খন্দকের যুদ্ধই তার প্রমাণ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ ছোট্ট দোয়ার আমলটি যথাযথ আদায় করার মাধ্যমে দুনিয়ার যাবতীয় পেরেশানি ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • রাসূল (সা.) – হজরত আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    রাসূল (সা.) – হজরত আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    একনজরে দেখে নিন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) থেকে আমাদের আদি পিতা হজরত  আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    ১. হজরত মুহম্মদ মুস্তাফা (সা.)
    ২. তাঁহার পিতা আব্দুল্লাহ
    ৩. তাঁহার পিতা আব্দুল মোত্তালিব
    ৪. তাঁহার পিতা হাসিম
    ৫. তাঁহার পিতা আব্দ মানাফ
    ৬. তাঁহার পিতা কুছাই
    ৭. তাঁহার পিতা কিলাব
    ৮. তাঁহার পিতা মুরাহ
    ৯. তাঁহার পিতা কা’ব
    ১০. তাঁহার পিতা লুই
    ১১. তাঁহার পিতা গালিব
    ১২. তাঁহার পিতা ফাহর
    ১৩. তাঁহার পিতা মালিক
    ১৪. তাঁহার পিতা আননাদর
    ১৫. তাঁহার পিতা কিনান
    ১৬. তাঁহার পিতা খুজাইমা
    ১৭. তাঁহার পিতা মুদরাইকা
    ১৮. তাঁহার পিতা ইলাস
    ১৯. তাঁহার পিতা মুদার
    ২০. তাঁহার পিতা নিজার
    ২১. তাঁহার পিতা মা’দ
    ২২. তাঁহার পিতা আদনান
    ২৩. তাঁহার পিতা আওয়াদ
    ২৪. তাঁহার পিতা হুমাইসা
    ২৫. তাঁহার পিতা সালামান
    ২৬. তাঁহার পিতা আওয
    ২৭. তাঁহার পিতা বুয
    ২৮. তাঁহার পিতা কামওয়াল
    ২৯. তাঁহার পিতা ওবাই
    ৩০. তাঁহার পিতা আওয়ান
    ৩১. তাঁহার পিতা নাসিদ
    ৩২. তাঁহার পিতা হিযা
    ৩৩. তাঁহার পিতা বালদাস
    ৩৪ . তাঁহার পিতা ইয়াদলাফ
    ৩৫. তাঁহার পিতা তাবিখ
    ৩৬. তাঁহার পিতা জাহিম
    ৩৭. তাঁহার পিতা নাহিস
    ৩৮. তাঁহার পিতা মাখি
    ৩৯. তাঁহার পিতা আ’য়েফ
    ৪০. তাঁহার পিতা আবকার
    ৪১. তাঁহার পিতা উবাইদ
    ৪২. তাঁহার পিতা আদ দাহা
    ৪৩. তাঁহার পিতা হামদান
    ৪৪. তাঁহার পিতা সানবার
    ৪৫. তাঁহার পিতা ইয়াসরিবি
    ৪৬. তাঁহার পিতা ইয়াহজিন
    ৪৭. তাঁহার পিতা ইয়ালহান
    ৪৮. তাঁহার পিতা ইরাওয়া
    ৪৯. তাঁহার পিতা আইযি
    ৫০. তাঁহার পিতা যিশান
    ৫১. তাঁহার পিতা আইছার
    ৫২. তাঁহার পিতা আফনাদ
    ৫৩. তাঁহার পিতা আইহাম
    ৫৪. তাঁহার পিতা মুকাসির
    ৫৫. তাঁহার পিতা নাহিস
    ৫৬. তাঁহার পিতা যারিহ
    ৫৭. তাঁহার পিতা সামি
    ৫৮. তাঁহার পিতা মায্যি
    ৫৯. তাঁহার পিতা ইওয়াদ
    ৬০. তাঁহার পিতা ইরাম
    ৬১. তাঁহার পিতা হিদার
    ৬২. তাঁহার পিতা হজরত ইসমাইল (আ.)
    ৬৩. তাঁহার পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)
    ৬৪. তাঁহার পিতা তারক
    ৬৫. তাঁহার পিতা নাহুর
    ৬৬. তাঁহার পিতা সারুয
    ৬৭. তাঁহার পিতা রা’উ
    ৬৮. তাঁহার পিতা ফাহিয
    ৬৯. তাঁহার পিতা আবীর
    ৭০. তাঁহার পিতা আফরাহশাদ
    ৭১. তাঁহার পিতা সা’ম
    ৭২. তাঁহার পিতা হজরত নূহ (আ.)
    ৭৩. তাঁহার পিতা লামিক
    ৭৪. তাঁহার পিতা মাতু সালিখ
    ৭৫. তাঁহার পিতা হযরত ঈদ্রীস (আ.)
    ৭৬. তাঁহার পিতা ইয়ারিদ
    ৭৭. তাঁহার পিতা মালহালিল
    ৭৮. তাঁহার পিতা কিনান
    ৭৯. তাঁহার পিতা আনস
    ৮০. তাঁহার পিতা হজরত শীস (আ.)
    ৮১. তাঁহার পিতা হজরত আদম (আ.)

  • মুসলিম উম্মাহর বন্ধন হোক সুদৃঢ়

    মুসলিম উম্মাহর বন্ধন হোক সুদৃঢ়

    আল-মুসলিমু মিল্লাতুন ওযাহেদা’ অর্থাৎ বিশ্ব মুসলিম এক জাতি এক দেহ।’ মুসলমান মুসলমানের আয়না স্বরূপ। কোনো মুমিন মুসলমানের মধ্যে কোনো দোষ বা অন্যায় দেখলে তা তাকে দেখিয়ে দেবে পরিশুদ্ধ করবে, এটাই ঈমানি দায়িত্ব।

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন মুসলমানের পারস্পরিক দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে অনেক নসিহত পেশ করেছেন। আর তাহলো-

    – হজরত নোমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘(দুনিয়ার) সব মুমিন একটি ব্যক্তিসত্তার মতো। যখন তার চোখে ব্যাথ্যা শুরু হয়, তখন তার গোটা শরীরই ব্যাথা অনুভব করে। আর যদি তার মাথা ব্যথা হয় তাতে তার গোটা শরীরই বিচলিত হয়ে পড়ে।’ (মিশকাত)

    – হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ বান্দাকে সাহায্য করতে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখে।’

    হাদিসের শিক্ষা হলো
    > দুনিয়ার প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তি ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এক দেহের মতো বসবাস করবে। আর তাতেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি। পরকালের সুনিশ্চিত সফলতা আসবে।
    > একজন মুমিন মুসলমান তার অন্য ভাইকে সাহায্য করবে এটাই আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের একান্ত চাওয়া।

    এ কারণে হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানের সঠিক পরিচয় তুলে ধরেছেন এভাবে-
    ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি; যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’

    সুতরাং হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি নয়, নয় কোনো মতপার্থক্য ও বিরোধিতা। দুনিয়ার শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিপূর্ণ ঈমানদারের পরিচয় ফুটিয়ে তুলি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে দুনিয়ার সুখ-শান্তি এবং পরকালীন জীবনের চিরস্থায়ী মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • পরিপূর্ণ দ্বীনদারির জন্য যে ৪টি হাদিসই যথেষ্ট

    পরিপূর্ণ দ্বীনদারির জন্য যে ৪টি হাদিসই যথেষ্ট

    পরিপূর্ণ দ্বীনদারি ছাড়া যেমন স্বচ্ছ ও নিষ্কলুষ জীবন গড়া সম্ভব নয় আবার পরিপূর্ণ দ্বীনদারির সঙ্গে জীবন রাঙাতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ওপর আমলের বিকল্প নেই। তাই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অমূল্য নসিহত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা আবশ্যক।

    ইমাম আবু দাউদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার বিখ্যাতগ্রন্থ আবু দাউদে ৪টি হাদিস তুলে ধরেছেন। যে ৪টি হাদিসের ওপর আমল করলেই পরিপূর্ণ দ্বীনদার হিসেবে নিজেকে তৈরি করা সম্ভব। তাহলো-

    > ‘সব কাজই মানুষের নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ তাই প্রত্যেকের উচিত প্রতিটি কাজের শুরুতে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা।

    > ‘(কোনো) ব্যক্তির (জন্য) ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে- যা কিছু (কথা ও কাজ) অর্থহীন তা বর্জন করা।’ যারা দুনিয়ার জীবনে অর্থহীন কাজ বর্জনে সক্ষম, তারা দুনিয়া ও পরকালে সফলতা লাভেও সক্ষম।

    > ‘কোনো মুমিন ব্যক্তিই প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ভাইয়ের জন্য এমন বস্তু পছন্দ না করে, যা সে তার নিজের জন্য পছন্দ করে।’ অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজে নিজের জন্য যা পছন্দ, নিজের সঙ্গীদের জন্যও তা পছন্দ করা।

    > ‘হালাল ও হারাম সুস্পষ্ট। কিন্তু এ দুটির বাইরেও কিছু সন্দেহজনক বস্তু আছে…।’ সুতরাং দুনিয়ার জীবনে হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে মেনে নেয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক বিষয়গুলো ছেড়ে দেয়াই উত্তম। তবেই প্রকৃত দ্বীনদার হওয়া সম্ভব।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়াতে উল্লেখিত ৪টি হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার মাধ্যমে সঠিক দ্বীনদার হিসেবে নিজেদের তৈরির তাওফিক দান করুন। পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে সফল হওয়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে গোনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন প্রিয়নবি

    যে গোনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন প্রিয়নবি

    গোনাহের পর ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ক্ষমা চান আপনার ও মুমিন নারী-পুরুষের দোষ-ত্রুটির জন্য।’ (সুরা মুহাম্মদ : আয়াত ১৯)

    হাদিসে এসেছে মানুষ যদি গোনাহ না করত আল্লাহ এ জাতিকে ধ্বংস করে দিয়ে অন্য জাতি নিয়ে আসতেন। যাতে তারা গোনাহ করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তবে সব গোনাহের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানকে সতর্ক থাকতে হবে।

    এমন কিছু গোনাহের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যেগুলো হাদিসের পরিভাষায় সবচেয়ে বড় গোনাহ। যে ব্যাপারে প্রিয়নবি সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছন।

    একবার হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চাইলেন যে, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সবচেয়ে বড় গোনাহ কী? অতঃপর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসটি বর্ণনা করেন-

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে বড় গোনাহ কোনটি? তিনি বললেন-

    > কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
    অতপর তিনি বললেন, তারপর কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    > তোমার সঙ্গে খাবে, এ ভয়ে সন্তানকে হত্যা করা।
    তিনি আবার বললেন, তারপর কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    > তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে জিনা (ব্যভিচার) করা।
    তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার সত্যতা ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করেন- ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না।(বুখারি)

    প্রথম কথা হলো
    আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না। এটা সবচেয়ে বড় গোনাহ। যা আল্লাহ তাআলা কখনো ক্ষমা করবেন না।

    দ্বিতীয়ত
    নিজেদের সন্তানকে হত্যা করাও সবচেয়ে বড় অপরাধ। অনেক সময় দেখা যায়, গর্ভে সন্তান চলে আসে, বিভিন্ন অজুহাতে বাবা-মা কিংবা পরিবারের সদস্যরা সে সন্তানকে অকালে গর্ভপাতের মাধ্যমে নষ্ট করে ফেলে। যা কোনোভাবেই উচিত নয়। কেননা এটি সবচেয়ে বড় গোনাহের একটি।

    তৃতীয়ত
    জিনার মতো মারাত্মক অপরাধ থেকে বিরত থাকা। কেননা নারী পুরুষের চারিত্রিক পবিত্রতা ও শৃঙ্খলার জন্য আল্লাহ তাআলা বিয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। তা সত্ত্বেও অন্যের স্ত্রীর প্রতি কুদৃষ্টি ও অবৈধ মেলামেশা করা। ইসলাম এটাকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। বরং এ পর্যায়ের জিনাকারীর শাস্তি পাথর মেরে হত্যা করার বিধান প্রণয়ন করেছে ইসলাম।

    সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে, সন্তান হত্যা না করে জিনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত না হয়ে অন্তরে আল্লাহ ভয় ও ভালোবাসা পোষণ করাই ঈমানদারের একমাত্র কাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত সবচেয়ে বড় গোনাহগুলো থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • দোয়াটি ছোট হলেও গুরুত্ব অনেক বেশি

    দোয়াটি ছোট হলেও গুরুত্ব অনেক বেশি

    মাজলুম ব্যক্তির যে কোনো দোয়াই আল্লাহ তাআলা সঙ্গে সঙ্গে কবুল করে নেন। কেননা দোয়া করতে থাকা মজলুম ব্যক্তি ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না। এ কারণেই কোনো মানুষের ওপরই জুলুম বা অত্যাচার করা উচিত নয়।

    জুলুমের অপরাধে আল্লাহর অনেক আজাব ও গজব নাজিল করেন। তাই কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াতেই মানুষের ওপর জুলুমের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    আবার পরকালে জালেমদের ওপর দৃষ্টি পড়লেই মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে আবেদন করবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না।’

    তাইতো জালেম-অত্যাচারী ও অপরাধীদের সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতে দুনিয়াতে বেশি বেশি মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করা উচিত।

    যদিও দোয়াটি ছোট, কিন্তু এর আহ্বান ও গুরুত্ব অনেক বেশি। এ আহ্বানে রয়েছে নিজেকে জালেম থেকে হেফাজত করার কথা। আবার জালেমের সঙ্গী হওয়া থেকেও বিরত থাকার আহ্বান রয়েছে এতে। যেভাবে মহান আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন-
    رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা লা তাঝআলনা মাআল ক্বাওমিজ জ্বালিমিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৪৭)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী বানিও না।

    সুতরাং প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের উচিত, জালেম-অত্যাচারী ও অন্যায়-অপরাধকারীদের সঙ্গী হওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখা। তাদের সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতে আল্লাহর শেখানো ভাষায় তারই দরবারে বেশি বেশি দোয়া করতে থাকা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ ছোট্ট দোয়াটি বেশি বেশি পড়ে জালেমদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • প্রিয়নবিকে বিভিন্ন অবস্থায় স্বপ্নে দেখার তাৎপর্য কী?

    প্রিয়নবিকে বিভিন্ন অবস্থায় স্বপ্নে দেখার তাৎপর্য কী?

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছেন? স্বপ্নে দেখে থাকলে সে স্বপ্নের ব্যাখ্যায় সম্পর্কে আপনি কি বিভ্রান্ত? প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখে থাকলে সন্দিহান না হয়ে সে স্বপ্নের ব্যাখ্যায় আসা যেতে পারে। কারণ প্রিয়নবির সঙ্গে স্বপ্নে সেসব লোকের সঙ্গেই সাক্ষাত হয়, যারা তার একান্ত প্রিয়।

    এক হাদিসে প্রিয়নসি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নে তাঁকে দেখা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে প্রিয়নবিকে স্বপ্নে দেখার ব্যাখ্যার উত্তর। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    ‘যদি কেউ প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে স্বপ্নে আমাকে দেখে থাকে, তবে সে সত্যই আমাকে দেখেছে। কারণ শয়তান কোনোভাবেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেশ বা অবিকল আকৃতি ধারণ করতে পারে না।’

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। কেননা যে চোখ প্রিয়নবিকে (ঈমানের সঙ্গে) দেখবে, সে ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়। জান্নাত হয়ে যায় সুনিশ্চিত। তাই প্রিয়নবিকে দেখলে দুঃখ প্রকাশ নয় বরং খুশি হওয়া উচিত।

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি কেউ প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেন তবে সে যেন দুঃখিত না হয়। বরং তাদের খুশি হওয়া উচিত এই কারণে যে, তার জীবনকালে সে একবার প্রিয়নবিকে দেখতে পেয়েছে।’

    প্রিয়নবিকে বিভিন্ন অবস্থায় স্বপ্নে দেখার তাৎপর্য কী?

    বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষ প্রিয়নবিকে স্বপ্নে দেখে থাকেন। এ সব স্বপ্নের রয়েছে আবার গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ও ইঙ্গিত। যা মানুষকে সাবধান করে তোলে-
    -কোনো ব্যক্তি প্রিয়নবিকে এ অবস্থার ওপর স্বপ্নে দেখেছেন যে, প্রিয়নবি সে ব্যক্তির ওপর নখোশ কিংবা খুশি নন। তবে এ স্বপ্নের মর্মার্থই বা কী হতে পারে?
    এর মর্মার্থ হলো- আল্লাহর কোনো প্রিয় বান্দা ইসলামের পরিপূর্ণতার পর ইসলামের কথা বা কাজে এমন কিছু করেছেন যা সঠিক পন্থা নয় বরং বিদাআত। যে কারণে আল্লাহর সে প্রিয় বান্দার ঈমান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

    – স্বপ্নে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখার মর্মার্থ হলো-
    ‘আল্লাহর সেই প্রিয় বান্দার ঈমান বা বিশ্বাস দুর্বল হয়ে গেছে।

    – প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মসজিদে অবস্থান কিংবা মৃদু মেজাজে দেখার মর্মার্থ হলো- ‘আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন।’

    – প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোনো দেশে অবস্থান করতে দেখার মর্মার্থ হলো-
    ‘সে দেশের মানুষ শত্রুমুক্ত হবে এবং সে দেশ সমৃদ্ধি লাভ করবে।’

    – স্বপ্নে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শরীরের নির্ধারিত কোনো অংশের উপস্থিতি ছাড়া দেখার মর্মার্থ হলো- সে ব্যক্তির ঈমান বা বিশ্বাস শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ এটি অবিশ্বাস হিসেবে পরিচিত। শরীরের যে অংশবিহীন দেখা যাবে, সে অংশে গুরুত্ব অনুযায়ী ওই ব্যক্তি অবিশ্বাসী হিসেবে চিহ্নিত হবে।

    – যদি কেউ স্বপ্নে দেখেন যে, প্রিয়নবি শুকনো ফল বিতরণ করছেন, তবে এর মর্মার্থ হলো- ‘তাঁর ওপর সে ব্যক্তির বিশ্বাস অনেক শক্তিশালী।’

    – স্বপ্নে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কারো ওপর ক্রোধান্বিত অবস্থায় দেখলে এর মর্মার্থ হবে- সে ব্যক্তির জন্য প্রকৃত পক্ষে এটি ভালো লক্ষণ নয়। বরং প্রিয়নবি ওই ব্যক্তির নখোশ বা রাগান্বিত।

    – স্বপ্নে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাফন-কাফন করতে দেখলে এর মর্মার্থ হলো- ওই ব্যক্তি যে দেশে বসবাস করছে সে দেশে সমস্যা পড়বে।

    -আর যদি কেউ স্বপ্নে দেখেন যে, প্রিয়নবির দাফনের পেছনে হাটছেন, তবে এর মর্মার্থ হলো- সে ব্যক্তি ইসলামে বিদাআতের প্রচলন ঘটছে।

    মনে রাখতে হবে
    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখার অর্থই হলো, সে ব্যক্তির জীবন সফলতায় ধন্য হয়ে যাবে।
    যদি কোনো ব্যক্তি প্রিয়নবিকে স্বপ্নে দেখেন তবে সে ব্যক্তি জীবন পরিচালনায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে সক্ষম হবে।
    চরম কষ্টে থাকা কোনো ব্যক্তি প্রিয়নবিকে স্বপ্নে দেখেন কিংবা কোনো ঋণগ্রস্তব্যক্তি প্রিয়নবিকে দেখে অথবা কোনো ব্যক্তি প্রবল সমস্যার সময় প্রিয়নবিকে স্বপ্নে দেখেন তবে তাদের সব কষ্ট, ঋণ ও সমস্যা চিরদিনের জন্য সহজ সমাধান হয়ে যাবে।

    সুতরাং শুধুমাত্র ইসলামের প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী মানুষ কিংবা তাঁর একান্ত প্রিয় মানুষই তাঁকে স্বপ্নে দেখে থাকেন। পেয়ে থাকেন সঠিক পথে চলার দিক-নির্দেশনামূলক পাথেয়।

    ইবনে সিরিনের মতে, ‘যারা প্রিয়নবির প্রতি অগাধ বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর প্রিয় মানুষে পরিণত হন, তারাই স্বপ্নে প্রিয়নবির সাক্ষাত লাভ করেন। আর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নে তাঁর প্রিয় মানুষদেরকে তাদের অবস্থা সম্পর্কে সতর্কতার ইঙ্গিত প্রদান করেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবির আদর্শের ওপর অটল ও অবিচল থাকার মাধ্যমে স্বপ্নে তার দিক-নির্দেশনা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু : বয়ান করবেন যারা

    বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু : বয়ান করবেন যারা

    বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের বড় আয়োজন টঙ্গী ময়দানের বিশ্ব ইজেতমা। ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু হয়ে এবার চলছে ৫৪তম আসর। এবারের ইজতেমা এক সঙ্গে ২ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে চলছে। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার ২য় ধাপ আজ বাদ জোহর মাওলানা আব্দুল বারীর আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।

    প্রথম ধাপের আয়োজনে ছিল বাংলাদেশের কাকরাইল মারকাজ। আর দ্বিতীয় ধাপের আয়োজন চলছে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের তত্ত্বাবধানে।

    আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি জোহরের পর বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা আব্দুল বারী। বয়ানের বাংলা তরজমা করেন তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ।

    আরো যারা বয়ান করবেন তারা হলেন-
    – বাদ আছর : মাওলানা মোশাররফ হোসেন, কাকরাইল মসজিদের আহলে শুরা সদস্য।
    – বাদ মাগরিব : মাওলানা শামীম আহমদ, চলতি ইজতেমার জিম্মাদার ও নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি। বয়ানের অনুবাদ করবেন তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা আশরাফ আলী।

    ১৮ ফেব্রুয়ারি
    – বাদ ফজর : মাওলানা মুরছালিন, নিজামুদ্দিন মারকাজ। বয়ানের অনুবাদ করবেন, মাওলানা আব্দুল্লাহ।
    – কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ান : সকাল সাড়ে ১০টায় বয়ান করবেন বাংলাদেশের ইকবাল হাফিজ ও এলাহাবাদের শাহেদ।
    – খাওয়াছদের (ভিআইপি) বয়ান : সকাল ১০.৩০ মিনিটে বয়ান করবেন মুফতি সাজিদ, নিজামুদ্দিন মারকাজ।
    – বধিরদের উদ্দেশ্যে বয়ান : মাওলানা ওমর মেওয়াতি, নিজামুদ্দিন মুরব্বি।
    – আরবি খিত্তায় বয়ান : মাওলানা আব্দুল্লাহ, কাকরাইল।
    – ইংরেজি খিত্তায় বয়ান : প্রফেসর লিয়াকত, নিজামুদ্দিন মারকাজ।
    – মালশিয় খিত্তায় বয়ান : মুফতী শাহজাদ ও মুফতি রিয়াছত, নিজামুদ্দিন মারকাজ।
    – উর্দু খিত্তায় বয়ান : মাওলানা শওকত, নিজামুদ্দিন মারকাজ।
    – রুশ (রাশিয়া) খিত্তায় বয়ান : প্রফেসর নওশাদ, নিজামুদ্দিন মারকাজ।
    – চায়না খিত্তায় বয়ান : মাওলানা আসআদ, নিজামুদ্দিন মারকাজ।

    উল্লেখ্য যে, আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে টঙ্গীর ময়দানে তাবলিগের সাথীরা জড়ো হতে থাকে।

    এদিকে সকাল ৯টায় ইজতেমা ময়দানের মাশওয়ারার কামরায় নিজামুদ্দিনের শীর্ষ মুরুব্বী মাওলানা শামীম আহমদের জিম্মাদারীতে আলমি মাশওয়ারায় উল্লেখিত বয়ানের এই ফায়সালা সাব্যস্ত হয়।