Category: ধর্ম

  • বাড়ল হজের খরচ, মন্ত্রিসভায় দু’টি প্যাকেজ অনুমোদন

    বাড়ল হজের খরচ, মন্ত্রিসভায় দু’টি প্যাকেজ অনুমোদন

    ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে খরচ বাড়ল। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনের বিধান রেখে ‘হজ প্যাকেজ, ১৪৪০ হিজরি/২০১৯ খ্রিস্টাব্দ’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    এবার হজ পালনে প্যাকেজ-১ এ ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ এবং প্যাকেজ-২ এ ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা খরচ করতে হবে।

    সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে হজ প্যাকেজ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

    গত হজের তুলনায় প্যাকেজ-১ এ খরচ বেড়েছে ২০ হাজার ৫৭১ টাকা ও প্যাকেজ-২ এ বেড়েছে ১২ হাজার ৬৪১ টাকা।

    গত হজে প্যাকেজ-১ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হয় ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা। অপরদিকে প্যাকেজ-২ এর মাধ্যমে খরচ হয় ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা।

    একই সঙ্গে সংশোধিত ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি ১৪৩৯ (২০১৮)’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ১০ আগস্ট (৯ জিলহ্জ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

    সৌদি আরবের সঙ্গে হজচুক্তি অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও অবশিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করার সুযোগ পাবেন।

  • মুমিন বান্দার ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দোয়া

    মুমিন বান্দার ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দোয়া

    আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে ঘোষণা দিয়েছেন যারা আল্লাহর ও তার রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ঈমানের স্বীকৃতি দেবে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায় ও অপরাধ থেকে ক্ষমা করবেন।

    আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঈমানের স্বীকৃতি লাভের শর্তে মানুষকে সব অন্যায় থেকে ক্ষমা ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির আহ্বান শিখিয়েছেন।

    শুধু ক্ষমাই করবেন না, তিনি ঈমানদার ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকেও হেফাজত করবেন। আল্লাহ তাআলার ক্ষমা লাভ ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভে আল্লাহর শেখানো সে দোয়া হলো-
    رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়াক্বিনা আজাবান্নার।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৬)
    অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমরা (আপনার প্রতি) ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদের গোনাহ মাফ করে দেন এবং দোজখের আগুন থেকে হেফাজত করেন।

    মুসলিম উম্মাহর উচিত শিরকমুক্ত ঈমানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। সব ধরনের অন্যায় তথা গোনাহ থেকে মুক্ত থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভের জন্য প্রার্থনা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রকৃত ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। গোনাহমুক্ত জীবন লাভ ও জাহান্নামের আগুন থেকে ক্ষমা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • সৌদির কারণে হজের খরচ বাড়ছে ২৫ হাজার টাকা!

    সৌদির কারণে হজের খরচ বাড়ছে ২৫ হাজার টাকা!

    আসন্ন হজ মৌসুমে সৌদি সরকারের কারণে বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের খরচ অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা গুনতে হবে। সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত করারোপ এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ খরচ বাড়বে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত করারোপ এবং পরিবহন ব্যয় গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করায় সৌদি রিয়াল ৭১৪ দশমিক ৫০ সমপরিমাণ (১৫ হাজার ৩২৬ টাকা ৫০ পয়সা) বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া গত বছরের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের ওপর শতকরা ১২ শতাংশ করারোপ করায় ১৫৭ দশমিক ৫০রিয়াল সমপরিমাণ (তিন হাজার ৭০৯ টাকা) বৃদ্ধি পাবে। এ বছর ট্রেন ভাড়া শতভাগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৬২ দশমিক ৫০ রিয়াল সমপরিমাণ (পাঁচ হাজার ৯৪৫ টাকা) বৃদ্ধি পাবে।

    এছাড়াও রাজকীয় সৌদি সরকার কর্তৃক কর আরোপ করায় ২৫ টাকা ২৫ পয়সা বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ বাড়বে।

    সূত্র আরও জানায়, সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চলতি বছরের হজ নীতি ও হজ প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর হজ প্যাকেজের খরচ বৃদ্ধি পাবে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি সরকার ২৫ হাজার টাকা খরচ বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশি হজযাত্রী প্রতি খরচ কমবেশি ১২-১৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে হজ প্যাকেজে খরচ ১৫ হাজার টাকার বেশি বাড়বে না। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।

    উল্লেখ্য, গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট এক লাখ ২৭ হাজারের বেশি হজযাত্রী সৌদি যাবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ১৭ হাজারের বেশি হজযাত্রী যাবেন।

    ইতিমধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের মধ্যে হজ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তিতে হজযাত্রীর কোটা গত বছরের সমসংখ্যক রাখলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ২৫ হাজার কোটা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে।

  • হাশরের মাঠে মানুষের অবস্থান যেমন হবে

    হাশরের মাঠে মানুষের অবস্থান যেমন হবে

    মানুষের জীবনকাল আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। হায়াতের বেশি কোনো মানুষই বাঁচতে পারে না। এটাই মহান আল্লাহ তাআলার সুমহান বিধান।

    নির্দিষ্ট জীবনকাল অতিবাহিত করার পর মানুষকে আল্লাহ কাছে ফিরে যেতে হবে। কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পর পৃথিবীতে আগমনকারী সব মানুষকে হাশরের ময়দানে সমবেত করা হবে।

    সেখানে মানুষের জীবনকালের সব কাজের হিসাব-নিকাশ করা হবে। যারা হিসাব গ্রহণের দিন সফলতা লাভ করবে এবং ডান হাতে আমলনামা লাভ করবে তারা হবে সফল। আর যারা জীবনকালের হিসাব প্রদানে ব্যর্থ হবে তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি।

    মানুষের হিসাব গ্রহণের দিনের বর্ণনা দিয়ে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সত্যের পথে চলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মানুষের জীবনকালের হিসাব-নিকাশের বর্ণনাও ওঠে এসেছে এ হাদিসে-

    হজরত সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,কেয়ামতের দিন (সব) মানুষকে ধবধবে সাদা রুটির মতো জমিনের ওপর একত্রিত করা হবে। তার মাঝে কারো কোনো পরিচয় থাকবে না। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    হিসাব নিকাশে দিনে মানুষের পেরেশানি এত বেশি থাকবে যে, তারা পরস্পরের দিকে তাকানোর কোনো সুযোগ পাবে না। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি কেয়ামতের দিন সব মানুষ নগ্ন (খালি) পায়ে উলঙ্গ শরীর নিয়ে খৎনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে।’
    আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! নারী-পুরুষ পরস্পর কি কারো দিকে তাকাবে না?
    তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, ‘হে আয়েশা! (সে দিন) পরস্পরের দিকে তাকানোর চেয়ে বিষয়টা অনেক কঠিন হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    সুতরাং মানুষের উচিত পরকালের হিসাব-নিকাশ প্রদানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে আল্লাহর বিধি-বিধান পালনে মনোনিবেশ করা। আল্লাহর একান্ত রহমত কামনা করা। কেননা সেদিন কোনো মানুষই তার রহমত ব্যতিত সফলতা লাভ করতে পারবে না।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর বিধি-বিধান পালনের একান্ত রহমত লাভের তাওফিক দান করুন। হাশরের ময়দানে ডান হাতে আমলনামা লাভ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে নামাজের জন্য উম্মতে মুহাম্মাদি হবে অগ্রবর্তী দল

    যে নামাজের জন্য উম্মতে মুহাম্মাদি হবে অগ্রবর্তী দল

    মানুষের নাজাতের অন্যতম মাধ্যম নামাজ। বিচার ফয়সালায় নামাজের হিসাবই আগে গ্রহণ করা হবে। আবার এ নামাজের কারণেই হাশরের ময়দানে উম্মতে মুহাম্মাদি অগ্রবর্তী দল হিসেবে মর্যাদা লাভ করবে। আর সে নামাজ হলো জুমআর নামাজ।

    জুমআর নামাজ প্রত্যেক সাবালক জ্ঞান সম্পন্ন পুরুষের জন্য জামাআতে আদায় করা আবশ্যক। এটা মহান প্রভুর ঘোষণা-

    হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর (শুক্রবার) দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে জলদি হাজির হবে এবং বেচা-কেনা বন্ধ করে দেবে। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। যদি তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

    জুমআর নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা। উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য জুমআর দিন ও তার ইবাদত মহান প্রভুর নেয়ামত ও উপহার। এর ফলে উম্মতে মুহাম্মাদি বিচার দিনের ফয়সালায় অগ্রবর্তী দলের অন্তর্ভূক্ত হবে। বিচারের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে না। হাদিসে পাকে এসেছে-

    ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুনিয়াতে আমাদের আগমনের সময়কাল হলো সব জাতির পরে। কিন্তু কেয়ামতের দিন আমরা হবো সবার অগ্রবর্তী দল। (সবার আগে আমাদের হিসাব-নিকাশ হবে) অবশ্য আমাদের আগে ওদেরকে (ইয়াহুদি ও নাসারা) কিতাব দেয়া হয়েছিল।আমরা কিতাব পেয়েছি ওদের পরে।

    এই (জুমআর) দিনের তাজিম (মর্যাদা ও ইবাদত) ওদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল।কিন্তু ওরা তাতে (এ দিনের ব্যাপারে) মতবিরোধ করেছিল।

    আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে (উম্মতে মুহাম্মাদিকে এ দিনের মর্যাদা ও ইবাদতের ব্যাপারে) একমত হওয়ার তাওফিক দান করেন। সুতরাং সব মানুষ আমাদের পেছনে।

    ইয়াহুদিরা আগামী দিনকে (আমাদের পরের দিন শনিবার) তাজিম (জুমআর দিন বলে মনে) করে। আর নাসারারা তার পরের দিনকে (রোববার) তাজিম করে।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে আল্লাহর পছন্দনীয় ও শ্রেষ্ঠ হলো জুমআর দিন শুক্রবার। সব জাতিকেই আল্লাহ তাআলা এদিনটি ইবাদতের জন্য দিতে চেয়েছেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কেউ এ দিনটিকে গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়নি। বরং তারা পরের দিন শনি ও রোববারকে বেছে নিয়েছে।

    যেহেতু শনি ও রোববারের আগে আসে জুমআর দিন শুক্রবার, সে কারণেই উম্মতে মুহাম্মাদি যদিও সবার পরে পৃথিবীতে কিতাব লাভ করেছে এবং ইবাদতের দিন হিসেবে শুক্রবার লাভ করেছে, সে হিসেবে তারা সবার অগ্রবর্তী দলের মর্যাদা লাভ করবে।

    সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত ইবাদতের দিন জুমআর নামাজের আজানের সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার সব কাজ ছেড়ে দিয়ে কুরআনের নির্দেশ মোতাবেক মসজিদে উপস্থিত হওয়া।

    হাদিসের ঘোষণা ও মর্যাদা রক্ষায় জুমআর হক যথাযথ আদায় করা উচিত। যারা জুমআর দিনের ইবাদত ও মর্যাদা রক্ষায় অগ্রবর্তী হবে বিচার ফয়সালার কঠিন মুহূর্তে তারাই হবে নাজাত লাভের অগ্রবর্তী দল।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে জুমআর দিনের হক ও মর্যাদা যথাযথ অক্ষুন্ন রাখার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ ঘোষিত নেয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আল্লাহর দয়া লাভের ছোট্ট দোয়া

    আল্লাহর দয়া লাভের ছোট্ট দোয়া

    আল্লাহর দয়া ও মমতা অসীম। কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার দয়া, ক্ষমা ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন আবার তাঁর অবাধ্যতার কারণে কঠিন আজাব ও শাস্তির কথাও তুলে ধরেছেন। এ সবই মানুষের জন্য সতর্কবার্তা।

    আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে বান্দাকে তার দয়া লাভের দোয়া শিখিয়েছেন। যাতে মানুষ আল্লাহর কাছে দু হাত তুলে দয়া, ক্ষমা ও ভালোবাসা লাভে দোয়া করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
    উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুংকা রাহমাতাও ওয়া হাইয়্যি’লানা মিন আমরিনা রাশাদা।’ (সুরা কাহফ : আয়াত ১০)

    অর্থ : হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুখ-দুঃখে সর্বাবস্থায় তাঁর দয়া লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • কবরের সংক্ষিপ্ত বিচার ও ফয়সালার ধরণ

    কবরের সংক্ষিপ্ত বিচার ও ফয়সালার ধরণ

    প্রত্যেক মানুষই মরনশীল। আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, প্রতিটি জীবনকেই মৃতু্যর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। হাশরের ময়দানে একত্রিত করা ও বিচার শুরু হওয়ার আগে কবরেই মানুষের সংক্ষিপ্ত হিসাব তথা পরীক্ষা শুরু হবে।

    এ কারণেই যারা দুনিয়ার জীবনে আল্লাহকে বেশি ভয় করে তারা আখেরাতের প্রথম মঞ্জলি কবরের জীবন ও সংক্ষিপ্ত বিচারের সম্মুখীন হওয়াকেও বেশি ভয় করে।

    তাকওয়াবানদের এ ভয়ের অন্যতম কারণ হলো, যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারে পার পেয়ে যাবে, তাদের পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারে আটকে যাবে তাদের দুঃখ ও লাঞ্ছনার শেষ নেই। কবরের এ সংক্ষিপ্ত বিচার তথা প্রশ্নোত্তর পর্ব পরকালীন জীবনের ওপর বিশ্বাসের প্রথম স্তর।

    কবরের সংক্ষিপ্ত বিচার
    মৃতু্যর পর মৃতব্যক্তিকে যখন প্রথমে কবরে রাখা হবে, তখন মুনকার-নকির নামক অপরিচিত, অদ্ভুত ও বিকট আকৃতির দু’জন ফেরেশতা কবরে আসবেন। যাদেরকে দেখলে মুমিন ব্যক্তি ভয় পাবে না। কিন্তু অপরাধী ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক ভয় পাবে।

    সেখানে প্রশ্নোত্তর মূলক সংক্ষিপ্ত বিচার শুরু হবে। যারা প্রশ্নের উত্তরগুলো যথাযথ দিতে পারবে, তারাই সফলকাম। আর যারা সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না, তারা ব্যর্থ।

    মুনকার-নকির কবরে এসে মৃতব্যক্তিকে শোয়া থেকে উঠিয়ে বসাবে। তারপর ধারাবাহিকভাবে ৩টি প্রশ্ন করবে-

    প্রথম প্রশ্ন
    مَنْ رَبُّكَ؟
    মান রাব্বুকা?
    আপনার প্রভু কে?

    প্রশ্নের উত্তর
    যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-
    رَبِّى الله
    আল্লাহ আমার প্রভু।

    আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না।

    দ্বিতীয় প্রশ্ন
    مَنْ دِيْنُكَ؟
    মান দ্বীনুকা?
    আপনার দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা কী?

    প্রশ্নের উত্তর
    যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-
    دِيْنِىَ الْاِسْلَام
    ইসলাম‌ আমার জীবন ব্যবস্থা বা দ্বীন।

    আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না।

    তৃতীয় প্রশ্ন
    مَنْ هَذَا الرَّجُل؟
    মান হাজার রাজুল?
    এই ব্যক্তি কে?

    প্রশ্নের উত্তর
    যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-
    نَبِيُّنَا مَحَمَّدُ رَّسُوْلُ الله
    তিনি আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না। সে বলবে আমি এ ব্যক্তিকে চিনি না। (নাউজুবিল্লাহ)

    সংক্ষিপ্ত বিচারের ফলাফল
    যারা এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবে। তাদের কবরের সঙ্গে জান্নাতের যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়া হবে। জান্নাতের হাওয়া এবং সুঘ্রাণ তাদের কবরে আসতে থাকবে। তাদেরকে বলা হবে-

    ‘এখন তুমি আরামে ঘুমাও। নতুন বিবাহ করা দম্পতির মতো। যারা মনের সুখে ঘুমোতে থাকে।’ এভাবে তারা কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এক ঘুমে পুরো সময় পার করে দেবে।

    আর যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ের ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হবে তাদের কর্ম অনুযায়ী কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।

    পরিশেষে…
    কবরের সফলতা লাভে কুরআনের সুসংবাদ গ্রহণ করাই মুমিন মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ে মুনকার-নকিরের প্রশ্নের উত্তর সহজ হওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন বলেন-
    ‘যারা শ্বাস্বত বাণীতে (কালেমায়) বিশ্বাসী, আল্লাহ তাদের দুনিয়া এবং আখেরাতে এ কালেমা তথা ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ২৭)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ে সফল হওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিচার-ফয়সালায় কামিয়াবি হওয়ার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে সরাসরি কবুল হয়

    যে তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে সরাসরি কবুল হয়

    মহান আল্লাহ তা’য়ালা অনেকভাবেই তার বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। পবিত্র হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম এরশাত করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে সরাসরি কবুল হয়।

    আল্লাহর দরবারে সন্দেহাতিতভাবে যাদের দোয়া কবুল হয়- (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া, (২) মুসাফিরের দোয়া এবং (৩) ছেলের জন্য পিতা-মাতার দোয়া।

    আরবি হাদিস

    ا1/987 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَات لاَ شَكَّ فِيهِنَّ: دَعْوَةُ المَظْلُومِ، وَدَعْوَةُ المُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ ». رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ:«حديث حسن » . وليس في رواية أَبي داود: « عَلَى وَلَدِهِ » .

    বাংলা হাদিস

    আবূ আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনজনের দোয়া আল্লাহর দরবারে সন্দেহাতিতভাবে কবুল হয় (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া, (২) মুসাফিরের দোয়া এবং (৩) ছেলের জন্য পিতা-মাতার দোয়া।

    [আবু দাউদ ১৫৩৬, তিরমিজি ১৯০৫, ৩৪৪৮, ইবন মাজাহ ৩৮৬২, আহমদ ৭৪৫৮, ৮৩৭৫, ৯৮৪০, ১০৩৩০, ১০৩৯২]

  • নামাজ যে কারণে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত

    নামাজ যে কারণে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত

    নিজেকে পরিশুদ্ধ করার একমাত্র ইবাদত নামাজ। এ ঘোষণা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ (মানুষকে) অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৪৫)

    নামাজ মানুষের অন্যতম ইবাদত হওয়ার কারণ হলো, এ নামাজের মাধ্যমেই মানুষ যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থেকে পবিত্র জীবন-যাপন করে। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে-

    ফোয়ারা বা নদীতে যেমন আপনা-আপনি পানির স্রোত বয়ে যায় ঠিক তেমনি ঈমানদার ব্যক্তির কাছেও স্রোতের মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পর্যায়ক্রমে উপস্থিত হতে থাকে।

    কোনো ব্যক্তি যদি নদী কিংবা পানির ফোয়ারা থেকে গোসল করে তবে তার শরীর থেকে যেভাবে ময়লা বিদূরিত হয় ঠিক তেমনি কেউ যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথারীতি আদায় করে তবে তাদের জীবন থেকেও গোনাহনামক ময়লা বিদূরিত হয়ে যায়।

    এ কারণেই রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-

    ‘জেনে রেখো! নামাজই তোমাদের সর্বোত্তম ইবাদত।

    নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো-
    আল্লাহর তাআলার হুকুম পালন বা ইবাদতে সবচেয়ে বেশি আনুগত্য প্রকাশ পায় এ নামাজের মাধ্যমে।নামাজে আল্লাহ এবং বান্দার বাইরে আর কারো কোনো অংশ থাকে না। বান্দা নামাজ পড়ার মাধ্যমে একনিষ্ঠভাবে শুধু আল্লাহ তাআলারই শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে।

    বান্দা যেন মহান আল্লাহ তাআলার একান্ত সান্নিধ্য লাভ করতে পারে, সে জন্যই আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর প্রতিদিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। আর বান্দাও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকে একান্ত আপন করে নেন। তাই নামাজকে মুমিনের মেরাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

    মনে রাখতে হবে
    নামাজ ফরজ ইবাদত। ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। অন্যসব ইবাদতের আগে প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য যথাযথ সময়ে তা আদায় করা ফরজ। কোনো অজুহাতেই নামাজ তরক করা যাবে না। কারণ-

    ‘মুসলিম এবং কাফের ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ তরক করা।’ অর্থাৎ কাফের নামাজ ছেড়ে দেয় আর মুসলিম নামাজ প্রতিষ্ঠা করে।

    মানুষের ঈমান লাভের পর নামাজই হলো ঈমানদারের বাহ্যিক প্রমাণ। যে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করে সেই প্রকৃত মুমিন। যে নামাজ আদায় করে না সে মুমিন হতে পারে না।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শত প্রতিকূলতার মাঝেও যথাযথভাবে সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • সুনিশ্চিত জান্নাত মিলবে যে ৬ দায়িত্ব পালনে

    সুনিশ্চিত জান্নাত মিলবে যে ৬ দায়িত্ব পালনে

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মুক্তির জন্য সত্যগ্রন্থ কুরআনুল কারিমসহ রহমতস্বরূপ এ দুনিয়াতে এসেছেন। মানুষকে শান্তির বাণী শুনিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন অনেক দিক-নির্দেশনা। যারা প্রিয়নবির ঘোষণা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে, তাদের জন্য রয়েছে চির কল্যাণ ও মুক্তি।

    প্রিয়নবি মুসলিম উম্মাহকে ৬টি দায়িত্ব গ্রহণ সাপেক্ষে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। কী সেই দায়িত্ব? যারা প্রিয়নবি ঘোষিত ৬টি দায়িত্ব সুসম্পন্ন করবেন, তিনি তাদের জন্য সুনিশ্চিত জান্নাতের ব্যবস্থা করবেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে আমার জন্য ৬টি বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করো, আমিও তোমাদের জান্নাতের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব গ্রহণ করবো। সে ৬টি বিষয় হলো-

    > যখন তোমরা কথা বলবে সত্য বলবে।
    > যখন ওয়াদা করবে, অবশ্যই তা পূরণ করবে।
    > যখন আমানত রাখবে, অবশ্যই তা খেয়ানত করবে না।
    > তোমাদের লজ্জাস্থানের পবিত্রতা অবশ্যই রক্ষা করবে।
    > তোমাদের দৃষ্টি অবনত রাখবে এবং
    > তোমাদের হাত সব ধরণের ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত রাখবে।’ (বায়হাকি)

    প্রিয়নবি ঘোষিত উল্লেখিত কাজগুলো দ্বীনের ছোট ছোট নসিহত। ইচ্ছা করলেই যে কেউ এ নসিহত অনুযায়ী জীবন সাজাতে পারে। বিনিময়ে লাভ করতে পারে পরকালের সীমাহীন জীবনের সফলতা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত নসিহতগুলো যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।