Category: ধর্ম

  • কাবা শরিফে ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুম্বন করবেন কেন ? ইসলাম কি বলে জেনে নিন

    কাবা শরিফে ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুম্বন করবেন কেন ? ইসলাম কি বলে জেনে নিন

    হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর। যা পবিত্র কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বহস্তে স্থাপন করেছেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবা শরিফের কোনায় এ পাথর স্থাপন করে তাতে চুম্বন করেন।

    হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য হাজরে আসওয়াদ আল্লাহ তাআলার অনন্য নির্দশন। আল্লাহ তা’আলা এ পাথরের কোনো থেকে তাওয়াফ করাকে বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। এ পাথরের দিকে ইশারা করে সম্ভব হলে চুম্বন বা স্পর্শ করে তাওয়াফ শুরু করতে হয়।

    মুসলিম উম্মাহর জন্য এ পাথরটিকে চুম্বন করা সুন্নাত। আর তাওয়াফকালে এ পাথরটিকে চুম্বন বা স্পর্শ সম্ভব না হলে এর দিকে ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করাও সুন্নাত। হাদিসে পাকে এ পাথরে চুম্বনের ফজিলত বর্ণায় এসেছে! হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেছেন- ‘আল্লাহর কসম! নিশ্চিত আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন এটাকে এমনভাবে ওঠাবেন যে, তখন- এটার (হাজরে আসওয়াদের) দুইটি চোখ হবে; যা দিয়ে দেখবে। এর (হাজরে আসওয়াদের) একটি জিহ্বা হবে; যা দিয়ে কথা বলবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের (প্রিয়নবির ভালোবাসায় একনিষ্ঠতার) সঙ্গে এটাকে চুম্বন করেছে, তার পক্ষে এটা (হাজরে আসওয়াদ) সাক্ষ্য দেবে। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, দারেমি) হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য হাজরে আসওয়াদ চুম্বন এক মহা আকর্ষণের নাম। আল্লাহ তাআলা যাকে তাওফিক দেন তিনিই এ পাথর চুম্বনে সমর্থ হন। কথিত আছে, ‘এ পাথরে চুম্বনের বরকতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে গোনাহ থেকে মুক্ত করেন। সুতরাং হজ ও ওমরা পালনকারীদের উচিত অন্যকে কষ্ট না দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা। হাজরে আসওয়াদ (আরবি: الحجر الأسود‎‎ বাংলা:কালো পাথর) হল একটি কালো রঙের প্রাচীন পাথর যা কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাতাফ থেকে দেড় মিটার (চার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথর আদম ও হাওয়ার সময় থেকে পৃথিবীতে রয়েছে। প্রাক ইসলামি পৌত্তলিক সমাজেও এই পাথরকে সম্মান করা হত। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুল মুহাম্মদ (সা) ৬০৫ সালে এটি কাবার দেয়ালে স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে এটি একটি রূপার ফ্রেমে আটকানো অবস্থায় কাবার সাথে সংযুক্ত রয়েছে। এর রং গাঢ় কালো এবং লক্ষাধিক হাজির স্পর্শের কারণে এটি মসৃণ আকার লাভ করেছে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এটি আদম ও হাওয়ার সময় বেহেশত থেকে পৃথিবীতে এসে পড়ে। এটিকে একটি উল্কা বলা হলেও এর সত্যতা নিশ্চিত না।

    হজ্জ বা উমরার অংশ হিসেবে মুসলিমরা তাওয়াফ করে থাকেন। এর শুরুতে হাজরে আসওয়াদ চুমু দেয়া রীতি রয়েছে। ফ্রেমে মুখ ঢুকিয়ে হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করতে হয়। এর পাশে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকে সৌদি পুলিশ। তারা খেয়াল রাখে, ফ্রেমে মাথা ঢোকাতে বা চুম্বন করতে কারও যেন কষ্ট না হয়। তবে চুমো দেয়া সম্ভব না হলে হাত ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করা হয়।

    হাজরে আসওয়াদ নিয়ে ঘটনা, ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সময়ে পবিত্র কাবাঘর পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদকে আগের জায়গায় কে বসাবেন—এ নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেধেছিল। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন এবং দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তি ঘটান।

    এই পবিত্র পাথরের দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৭ ইঞ্চি। বর্তমানে এটি আট টুকরো। আগে হাজরে আসওয়াদ ছিল আস্ত একটি পাথর। হজরত আবদুল্লাহ বিন জোবায়েরের শাসনামলে কাবা শরিফে আগুন লাগলে হাজরে আসওয়াদ কয়েক টুকরা হয়ে যায়। আবদুল্লাহ বিন জোবায়ের পরে ভাঙা টুকরাগুলো রুপার ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেন। ফ্রেম সংস্করণের সময় চুনার ভেতর কয়েকটি টুকরা ঢুকে যায়। বর্তমানে হাজরে আসওয়াদের আটটি টুকরা দেখা যায়। বড় টুকরাটি খেজুরের সমান। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ ও ওমরাপালনকারীকে গোনাহ মাফের নিয়তে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন এবং স্পর্শ করার তাওফিক দান করুন। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা অনন্য নির্দশন হাজরে আসওয়াদের সাক্ষ্য লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল

    সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে,দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ চতুর্থ বারের মতো সরকার গঠন করেন ও নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হয়।উক্ত মন্ত্রী পরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহন করেই, গত ২৪শে জানুয়ারী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হইতে মক্কা ও মদীনায় পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান কামাল (এমপি)।

    সৌদি আরবের বিমান বন্দরে পৌছানোর পর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন ও অভ্যর্থনা জানান, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তা বৃন্দ ও সৌদি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা।

    গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় এর জনসংযোগ কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ( পিআরও) শরীফ মাহামুদ অপু এক বার্তায় জানান,বর্তমান সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান কামাল তার পরিবার সহ পবিত্র ওমরাহ হজ্বপালন এর উদ্দেশ্যে সৌদি আরব এ অবস্থান করছেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান কামাল (এমপি),প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা ও দেশবাসীর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন ও দেশবাসীর নিকট দোয়া চেয়েছেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (পিআরও) জানান, সপ্তাহ খানেক এর সফর শেষে তিনি দেশে ফিরবেন।

     

  • বিপদে পড়লে মহানবী (সাঃ) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন

    বিপদে পড়লে মহানবী (সাঃ) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন

    আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন। দোয়া ৩টি হলো-: ১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন : লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস) অর্থ:

    একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০) ২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’ অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫) ৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা। অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪) অারো পড়ুন: স্বল্প সময়ে ৪০ লাখ নেকি লাভ করতে চান? দোয়াটি পাঠ করুন:হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, যে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্যের ঘোষণা দিবে আল্লাহ তার আমলনামায় ৪০ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ লাখ পর্যন্ত নেকি দান করবেন। কোনো কোনো বর্ণনায় প্রতিদিন সকালে নামাজের পর নিচের দোয়াটি পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি হজরত তামিম দারি (রা.) থেকে বর্ণিত। একত্ববাদের ঘোষণার এ দোয়াটি তুলে ধরা হলো-

    উচ্চারণ : আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ, ইলাহান ওয়াহিদান- আহাদান সামাদান- লাম ইয়াত্তাখিজ সাহিবাতান ওয়ালা ওয়ালাদান; ওয়ালাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ। অর্থ: আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতিত আর কোনো উপাস্য নেই।
    তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। একক উপাস্য, একাই, অমুখাপেক্ষী, তার স্ত্রী-সন্তান নেই। তার সমকক্ষও কেউ নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর আমল নামায় ৪০ লাখ নেকি লিখে দিবেন। (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি, তাবরানি)

  • হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকা কমাল সরকার

    হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকা কমাল সরকার

    অনলাইন ডেস্ক:

    ২০১৯ সালে হজযাত্রীদের বিমানের ভাড়া ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা থেকে ১০ হাজার কমিয়ে ২৮ হাজার করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এ কথা জানিয়ে বলেন, এবছর হজে যাওয়া যাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার প্রত্যেক হজযাত্রীকে ভাড়া দিতে হবে এক লাখ ২৮ হাজার টাকা। যা গতবছরের চেয়ে ১০ হাজার ১৯১ টাকা কমেছে।

    এ সময় হজ পালনে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে মুসল্লিদের পরিবহনে ভালোমানের প্লেন ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী৷

    এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিশুরা নৈতিক শিক্ষা পেলে দেশ সোনার মানুষ পাবে

    শিশুরা নৈতিক শিক্ষা পেলে দেশ সোনার মানুষ পাবে

    অনলাইন ডেস্ক:

    পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক শিক্ষায়ও সমৃদ্ধ করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে আমরা সোনার মানুষ পাব। দেশ পরিণত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায়। বাংলাদেশের শান্তি-সম্প্রীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

    মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সম্পন্ন জাতি গঠনে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ভূমিকা শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

    বরিশাল নগরীর বগুড়া সড়কে কবি জীবনানন্দ দাশ মিলনায়তনে বুধবার দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট।

    কর্মশালায় বক্তারা বলেন,শিশু শিক্ষার্থীদের মনে ধর্মের মূল শিক্ষার বীজ বপন করতে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। শিশুরা যাতে কুসংস্কার থেকে দূরে থাকে এবং সম্প্রীতির শিক্ষায় আলোকিত হয় সে ব্যাপারে কেন্দ্র শিক্ষকদের বিশেষ জোর দিতে হবে। কারণ, প্রত্যেক ধর্মই শান্তির ধর্ম। শিশুরা যদি ধর্মগ্রন্থের প্রকৃত বাণী ধারণ করে বড় হয় তাহলে দেশে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ। আর সে কারণে সকল ধর্মের অনুষ্ঠান এখন পরিণত হয় সার্বজনীন উৎসবে। দেশের এ সম্প্রীতি কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের প্রকল্পের পরিচালক অতিরিক্ত সচিব রঞ্জিত কুমার দাশ, বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাকিবুল ইসলাম ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যক্ষ বিপুল বিহারী হালদার।

    প্রকল্পের বরিশালের সহকারী পরিচালক দেবারশীষ দাসের সঞ্চালনায় কর্মশালায় সভাপত্বি করেন জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান।

    অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সমাজসেবী বিজয় কৃষ্ণ দে, অধ্যক্ষ তপংকর চত্রক্রবর্তী, মুক্তিযোদ্ধা মুকুল মুখার্জি প্রমুখ। কর্মশালায় ১৫০ জন কেন্দ্রশিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

  • মৃতদের সঙ্গে যৌনমিলন করেন যে হিন্দু সাধুরা

    মৃতদের সঙ্গে যৌনমিলন করেন যে হিন্দু সাধুরা

    এরা ধ্যান করেন, খান, ঘুমান এবং শ্মশানে চারিদিকে চিতায় আগুনে পুড়তে থাকা লাশের পাশেই যৌনমিলনে লিপ্ত হন। এরা নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ান, মানুষের মাংস খান এবং নরকংকালের খুলি থেকে পান করেন। গাঁজায় টান দেন। আর তাদের কেবল জনসমক্ষে দেখা যায় বহুদিন পরপর কেবল কুম্ভমেলার সময়।

    ভারতের এই হিন্দু সাধুদের বলা হয় অঘোরি। সংস্কৃত ভাষায় অঘোরি মানে হচ্ছে ভীতিকর নয় এমন কিছু। কিন্তু বাস্তবে এই অঘোরিদের জীবনযাপনের কাহিনী মানুষের মধ্যে জাগায় একই সঙ্গে ভীতি, কৌতুহল এবং ঘৃণা।

    এই সাধুদের নিয়ে গবেষণা করেছেন লন্ডনের স্কুল অব আফ্রিকান এন্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের অধ্যাপক জেমস ম্যালিনসন।তিনি সেখানে ‘সংস্কৃত এন্ড ক্লাসিকাল ইন্ডিয়ান স্টাডিজ’ পড়ান।

    জেমস ম্যালিনসনের ভাষায়, ‘অঘোরিদের এ সব রীতির মূল কথা হচ্ছে, তারা অ্যাধাত্মিক মুক্তিলাভের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে এক হতে চান, আর সে জন্যে তারা বিশুদ্ধতার সূত্রের সীমা ছাড়িয়ে যেতে চান।’

    ম্যালিনসন পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেনের খুবই অভিজাত স্কুল ইটনে এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি নিজেও একজন মহান্ত বা গুরু। তবে একটি ভিন্ন হিন্দু গোত্রের অনুসারী তিনি, যারা বিশুদ্ধতার সব সূত্র মেনে চলে। অঘোরিদের এ সব নিয়ম কানুন তাদের গোত্রে নিষিদ্ধ। তবে অঘোরিদের মেলা-মেশার সুযোগ হয়েছে তার।

    ‘যা কিছুই গর্হিত বা নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত, তার সব অঘোরিরা ভঙ্গ করতে চায়। সনাতনী ভালো-মন্দের যে ধারণা, সেটা তারা প্রত্যাখ্যান করে।

    ‘যে পথ ধরে তারা আধ্যাত্মিক সাধনায় লিপ্ত হয়, সেটা পাগলামি এবং বিপদজনক বলে মনে হবে। এরা মানুষের মাংস খায়, এমনকি নিজেদের মল খায়। কিন্তু তারা মনে করে এই কাজ করে তারা চেতনার একটা উচ্চতম পর্যায়ে পৌঁছায়।’

    অঘোরিদের মধ্যে যে সব রীতি বা প্রথা চালু রয়েছে, সেগুলো সাম্প্রতিকালের বলেই মনে হবে। অঘোরি শব্দটাই জানা যায় আঠারো শতক থেকে।

    তবে এই হিন্দু সাধুরা কাপালিকদের অনেক নিয়ম কানুন অনুসরণ করে। নরমুন্ডু বহনকারী কাপালিকদের সম্পর্কে কিন্তু জানা যায় সেই সপ্তম শতক থেকেই। কাপালিকরা নরবলির প্রথায় বিশ্বাস করতো। কিন্তু এদেরকে এখন আর দেখা যায় না।

    অন্য হিন্দু জাতের মতো অঘোরিদের সমাজকে খুব সুসংগঠিত বলা যাবে না। বেশিরভাগ সময় এরা বাস করে দূরের কোন জনবিচ্ছিন্ন এলাকায়। বাইরের দুনিয়ার লোকদের এরা খুব বিশ্বাস করে না। তারা এমনকি তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখে না।

    অঘোরিরা সাধারণত আসে সমাজের তথাকথিত ‘নিচু জাতের’ লোকদের মাঝ থেকে। তবে বুদ্ধিবৃত্তির বিচারে এদের মধ্যেও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ আছে। ম্যালিনসন জানান, একজন অঘোরি নেপালোর রাজার উপদেষ্টা পর্যন্ত হয়েছিলেন।

    লেখক মনোজ ঠাক্কার অঘোরিদের নিয়ে একটি বই লিখেছেন। তার মতে, অঘোরিদের আসলে খুব বেশি ভুল বোঝে মানুষ। ‘এরা আসলে খুব সহজ-সরল মানুষ। প্রকৃতির মাঝে বাস করে। তাদের কোনও চাহিদা নেই।’

    ‘তারা সবকিছুকে দেখে সর্বশক্তিময়ের প্রকাশ হিসেবে। তারা কাউকে বা কোনও কিছুকে প্রত্যাখানও করে না, ঘৃণাও করে না। এ কারণেই তারা একটি জবাই করার পশুর মাংসের সঙ্গে নরমাংসের কোনও তফাৎ করে না। যা পায়, তাই খায়।’

    অঘোরিদের সংখ্যা খুবই কম। জেমস ম্যালিনসন এবং মনোজ ঠাক্কার দুজনেই মনে করেন, কুম্ভমেলায় যাদের দেখা যায়, তারা হয়তো নিজে থেকে অঘোরিদের অনুসারী, তারা হয়তো যথাযথভাবে অঘোরি সমাজে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

    অনেকে হয়তো তীর্থযাত্রীদের এবং পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এবং অর্থ উপার্জনের জন্য ওই বেশ ধারণ করে।

    পূণ্যার্থীরা তাদের খাবার এবং অর্থকড়ি দেয়। কিন্তু মনোজ ঠাক্কার বলছেন, অঘোরিরা অর্থকড়ির ব্যাপারে নিস্পৃহ।

    ‘এরা কিন্তু সবার জন্যই প্রার্থনা করে। কেউ সন্তান পাওয়ার জন্য তাদের আশীর্বাদ চাইছে আর কে বাড়ি বানানোর জন্য, সেটা নিয়ে তারা ভাবে না।’

    অঘোরিরা মূলত শিবের পুজারি। ধ্বংসের দেবতা। উত্তর ভারতে কেবলমাত্র পুরুষরাই অঘোরি সম্প্রদায়ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নারী অঘোরিও দেখা যায়। এরা শ্মশানে বাস করে। তবে তারা কাপড় পরে।

    ‘বেশিরভাগ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। শ্মশান হচ্ছে মৃত্যুর প্রতীক। কিন্তু অঘোরিদের জন্য সেটাই হচ্ছে শুরু। তারা সাধারণ মানুষের নীতি এবং মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়’, বলছেন মনোজ ঠাক্কার।

    গত কয়েক দশকে সমাজের মূলধারার অনেক কিছু অঘোরিরা তাদের সমাজে চালু করেছে। যেমন তারা কুষ্ঠরোগীদের জন্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার সাংস্কৃতিক নৃতাত্ত্বিক রন ব্যারেট জানালেন, সমাজের সবচেয়ে অস্পৃশ্য বলে বিবেচিত কুষ্ঠরোগীদের সঙ্গে তারা কাজ করছে।

    বেনারসে অঘোরিরা কুষ্ঠরোগীদের জন্য ক্লিনিক চালায়। সেখানে তাদের আয়ুর্বেদী চিকিৎসা দেয়।

    অঘোরিদের অনেকে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বাসে-ট্রেনেও চড়ে। আর জনসমক্ষে আসার সময় তারা অন্তত কিছু কাপড় পরে।

    অঘোরিদের সংখ্যা কত অনুমান করা কঠিন। তবে ধারণা করা হয় এই সংখ্যা কয়েক হাজারের বেশি হবে না। বেশিরভাগ ভারতীয়, যারা হিন্দু সাধুদের দেখে অভ্যস্ত, তারাও যখন কোনও অঘোরির মুখোমুখি হয়, সেটি তাদের খুবই বিচলিত করতে পারে, তাদের মনে ঘৃণা জাগাতে পারে।

    অনেক অঘোরি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে তারা মৃতদেহের সঙ্গে সঙ্গম করেছে। তবে তাদের সমাজেও যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু নিষেধের বেড়াজাল আছে।

    জেমস ম্যালিনসন জানান, এরা পতিতাদের সঙ্গে তাদের রীতি অনুযায়ী যৌনসঙ্গম করে। কিন্তু সমকামিতায় বিশ্বাসী নয় তারা, এটি অনুমোদনও করে না। যখন অঘোরিরা মারা যায়, তাদের দেহ অন্য অঘোরিরা খায় না। তাদেরকে কবর দেওয়া হয় কিংবা চিতায় পোড়ানো হয়।

  • বিবি হালিমার ঘরে যেভাবে বেড়ে ওঠেন বিশ্বনবি

    বিবি হালিমার ঘরে যেভাবে বেড়ে ওঠেন বিশ্বনবি

    বিশ্বনবির জন্মকালীন সময়ে মক্কার লোকেরা নিজেদের সন্তানদেরকে মক্কা শহর থেকে পল্লী গ্রামে পাঠিয়ে দিতেন। যাতে তারা গ্রামের সুন্দর ও উন্মুক্ত পরিবেশে সুস্থ ও মজবুতভাবে বেড়ে ওঠতে পারে। সে আলোকে প্রিয়নবিও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তাকেও সুন্দর প্রতিপালন দুগ্ধ পানের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল।

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের কিছুদিন পর মক্কা পল্লীর হাওয়াযেন গোত্রের বনি সাদ বিন বকর শাখার কতিপয় দুগ্ধদানকারী নারী নবজাতক নেয়ার জন্য পবিত্র নগরী মক্কায় আসেন। সে দলে হজরত হালিমা সাদিয়াও ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী হারিস বিন আবদুল্লাহ।

    সে বছরটি ছিল মারাত্মক দুর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনের। অভাবের তাড়নায় নিঃস্ব যেসব নারীর দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল তারা দুগ্ধপোষ্য শিশু গ্রহণের ব্যকুল ছিল। হজরত হালিমা সাদিয়ার দুগ্ধপোষ্য শিশুর নাম ছিল আব্দুল্লাহ।

    হজরত হালিমা সাদিয়া স্বামী ও শিশু সন্তান আব্দুল্লাহসহ একটি বযস্ক সাওয়ারীর পিঠে চড়ে দুগ্ধপোষ্য সন্তান লাভের আশায় পবিত্র নগরী মক্কায় এসে পৌছলেন। কিন্তু অন্যদের তুলনায় তাদের আসতে দেরি হয়ে যায়।

    পথিমধ্যে ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশু আবদুল্লাহ সারারাত কান্নাকাটি করে, ফলে তারা বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করে। সন্তানের ক্ষুধা নিবৃত্ত করার মতো দুধ ছিল হজরত হালিমা সাদিয়ার বুকে এবং সাওয়ারীর পালানে।

    হালিমার মক্কায় আগমন

    দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত ও অবসন্ন গোটা কাফেলা পবিত্র নগরী মক্কায় এসে উপস্থিত হয়। কাফেলার সবাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ তিনি ছিলেন পিতৃহীন, ইয়াতিম। যথাযথ পারিশ্রমিক ও উপঢৌকন না পাওয়ার ভয়ে তারা প্রিয়নবিকে এড়িয়ে গেলন।

    আগত কাফেলার সবাই শিশু পেয়ে যায় কিন্তু হজরত হালিমা কোনো শিশু পায়নি। আর বাকী ছিলেন শুধু শিশু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হজরত হালিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু এ ইয়াতিম শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিতেই স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং জেদ ধরেন যে, এ ইয়াতিম শিশুকেই সে গ্রহণ করবে।

    হালিমার স্বামী তাকে বলল- ‘ইয়াতিম শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিতে পার, হতে পারে আল্লাহ তাআলা তার মাঝে আমাদের জন্য কোনো কল্যাণ রেখেছেন।’

    শিশু মুহাম্মদকে গ্রহণ

    বিবি হালিমা শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করলেন যে, তার স্তন দুটি দুধে পরিপূর্ণ। তা থেকে শিশু মুহাম্মদকে দুধ পান করালেন। তার সন্তান আব্দুল্লাহকেও দুধ পান করালেন।

    যে বয়স্ক ও দুর্বল সাওয়ারিতে করে তারা মক্কায় এসেছেন, সে সাওয়ারী অন্যদের সাওয়ারী থেকে শক্তিশালী ও তার পালনেও দুধে ভরপুর হয়ে গেল। তা থেকে হজরত হালিমার স্বামী হারিস দুধ দোহন করে তারা উভয়ে তৃপ্তিসহকারে দুধ পান করলেন।

    হজরত হালিমার স্বামী তখন স্ত্রীকে বললেন, হে হালিমা! জেনে রেখো, তুমি এক মহান কল্যাণময় শিশু পেয়েছ। হজরত হালিমা বলেন, ‘আমারও তা-ই মনে হয়।’ শুরু হলো শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে হালিমার পথচলা।

    হালিমার গৃহে শিশু মুহাম্মদ

    মক্কায় আসার পথে যে বাহনে আসতে বিবি হালিমার কষ্ট হয়েছিল এবং তারা কাফেলা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। সে সাওয়ারী শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে গোটা কাফেলাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চললো।

    কাফেলার সহযাত্রী নারীরা বলতে লাগলো, হে আবু যুয়াইবের কন্যা! একটু দাঁড়াও এবং আমাদের জন্য অপেক্ষা কর। এটা কি সেই সাওয়ারী নয়, যেটায় চড়ে তুমি আমাদের সঙ্গে এসেছিলে?

    হজরত হালিমা সাদিয়া বললেন, ‘হ্যাঁ’। তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম! এ সাওয়ারী আগের অবস্থার পুরোপুরি উল্টো।’

    হাওয়াযেন গোত্রে শিশু মুহাম্মদ

    হজরত হালিমা শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে নিজ গৃহে এসে উপস্থিত হলেন। আল্লাহর একান্ত মেহেরবানি যে, সবাই যখন অভাব-অনটনে নিমজ্জিত, তখন হালিমার গৃহে বেইছে স্বচ্ছলতার সুবাতাস।
    যেখানে গোত্রের কারো ভেড়া ও ছাগলের পাল পেট পুরে খেতে পারে না এবং দুধ দেয় না সেখানে হজরত হালিমার ভেড়া ও ছাগলের পাল পেট ভরে খায় এবং পালান ভর্তি দুধ দেয়। আর তাতে দ্রুত হজরত হালিমার অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। সাবলম্বী হয়ে ওঠে হজরত হালিমার পরিবার।

    শিশু মুহাম্মদের বেড়ে ওঠা

    হজরত হালিমার গৃহে প্রিয়নবির আগমনই ছিল মহান আল্লাহর একান্ত রহমত। যে কারণে পুরো গোত্র দুর্ভিক্ষগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তার গৃহ ছিল সার্বিকভাবে স্বচ্ছল। এর এটি ছিল প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক বিশেষ মুজিজা।

    আল্লাহ তা’আলা একান্ত রহমত ও বরকতা দ্বারা হালিমার ঘরকে সাহায্য করেন। ক্ষুধা ও ভয় থেকে প্রিয়নবিসহ বিবি হালিমার পুরো পরিবারকে হেফাজত করেন। আর এভাবেই নিরাপদে বিবি হালিমার ঘরে বেড়ে ওঠেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    আল্লাহ তা’আলা ইয়াতিম শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবে দুর্ভিক্ষের মাঝে সাহায্য করেছিলেন। যা ইসলাম ও মুসলমানসহ বিশ্ব মানবতার জন্য এক মহান শিক্ষা।

  • মারধর খেয়েও ক্যামেরা থেকে দৃষ্টি সরাননি নারী সাংবাদিক

    মারধর খেয়েও ক্যামেরা থেকে দৃষ্টি সরাননি নারী সাংবাদিক

    কর্তব্যে অবিচল থাকা এবং সাহসিকতার নিদর্শন প্রকাশ পেল এক মুসলিম নারী সাংবাদিকের কাছ থেকে। মারধর খেয়ে ও হেনস্থার শিকার হয়েও তিনি নিজ দায়িত্ব থেকে পিছ পা হননি।

    ভারতে কেরালার কৈরালি টিভি চ্যানেলের চিত্র সাংবাদিক শাজিলা আব্দুর রহমান। এই কেরালায় শবরীমালা মন্দিরে নারী প্রবেশ নিয়ে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল গোটা রাজ্য। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছিল রাজ্যে। আর সেই ঘটনার ফুটেজ ও ছবি আনতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, সংবাদমাধ্যমও বাদ যায়নি বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব থেকে। শাজিলা আব্দুল রহমানও এই তাণ্ডবের শিকার হন।

    এই নারী সাংবাদিক যখন ভিডিও করছিলেন তখন তার উপর হামলা করে বিক্ষোভকারী। তাকে কিল-ঘুসি, চড় মারা হয়। শুধু তাই নয়, হেনস্তাও করা হয়। নির্যাতনের কারণে তাকে কাঁদতে দেখা যায়। কিন্তু তিনি কাঁধ থেকে ক্যামেরা সরাননি।

    মারধর খেয়েও ক্যামেরা থেকে দৃষ্টি সরাননি নারী সাংবাদিক

    কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে শাজিলা। মারধরের যন্ত্রণার চিত্র দেখা যাচ্ছে তার মুখে।

    শাজিলার সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই তার প্রশংসা করেন অনেকে। তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা, সাহসিকতার প্রশংসার ঝড় উঠেছে।

    এর আগে মহিলা সাংবাদিকরা শবরীমালায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে পিছু হাঁটতে হয়েছিল তাদের।

  • শবরীমালা মন্দিরে নারীর প্রবেশকে ঘিরে সহিংসতায় নিহত ১

    শবরীমালা মন্দিরে নারীর প্রবেশকে ঘিরে সহিংসতায় নিহত ১

    ভারতের কেরালার বিখ্যাত শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী দুই নারীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সহিংসতা শুরু হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে বলে এএফপির খবরে বলা হয়।

    কেরালা পুলিশের মুখপাত্র প্রমোদ কুমার এএফপিকে বলেন, নিহত ব্যক্তি বিজেপির সদস্য। গতকাল বুধবার বিক্ষোভের সময় পাথরের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। গতকাল রাতে তিনি মারা যান।

    গতকাল ভোরে কালো পোশাকে পুলিশের সাহায্যে মন্দিরে প্রবেশ করে প্রার্থনা শেষে নির্বিঘ্নে চলে যান ওই দুই নারী। এরপরই বন্ধ করে দেওয়া হয় ‘অপবিত্র’ হয়ে যাওয়া মন্দির। ধোয়ামোছার পর ‘পবিত্রতা’ ফিরিয়ে এনে ফের খোলা হয় মন্দির।

    শবরীমালা মন্দিরে হিন্দু দেবতা আয়াপ্পার অধিষ্ঠান। আয়াপ্পার পুরুষ ভক্তদের দাবি, ওই দুই নারী মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করলেও দেবতার দর্শন হয়নি।

    কেরালা হাইকোর্টের নির্দেশে ১৯৯১ সাল থেকে শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই প্রথা এবং লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হয়।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ধর্মাচরণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ করা যায় না। রায় সত্ত্বেও গত চার মাসে কোনো ঋতুমতী নারী শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেননি। সেই অসাধ্য সাধিত হলো গতকাল ভোরে। দীর্ঘ গিরিপথ হেঁটে ভোররাত চারটার সময় চল্লিশোর্ধ্ব ওই দুই নারী—বিন্দু ও কনক দুর্গা—মন্দিরে প্রবেশ করেন। টেলিভিশন ভিডিওতে দেখা যায়, কালো কাপড়ে শরীর ঢেকে পুলিশের সাহায্যে দুই নারী মন্দিরে ঢুকছেন।

    বিন্দুর বয়স ৪৪। তিনি সিপিআই (এমএল) সমর্থক ও কর্মী। কনক দুর্গার বয়স ৪২। তিনি তামিলনাড়ুর অসামরিক সরবরাহ দপ্তরের কর্মী। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি কেরালায় আসেন আয়াপ্পা দর্শনের ইচ্ছায়।

    গতকালের ঘটনার পর থেকে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতা যাতে আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    পুলিশ গতকাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল, স্টান গ্রেনেড ও জলকামান থেকে জল ছোড়ে। রাজ্যের রাজধানী তিরুঅন্তপুরমে বিশৃঙ্খলা চলাকালে সাংবাদিকেরা হেনস্তার শিকার হন।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাজ্যের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির বিক্ষোভ আয়োজন মার খেয়েছে।

    শবরীমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশ বিষয়ে মোদি গতকাল বলেন, বিষয়টি ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কিছু কিছু মন্দির আছে, যাদের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে, যেখানে পুরুষেরাও যেতে পারে না এবং পুরুষেরা যানও না।

  • কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম জমিন

    কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম জমিন

    সলামী জ্ঞানের তথ্যমতে পৃথিবীতে ভূমির সৃষ্টি হয় মক্কায় অবস্থিত কাবা ঘরের স্থলকে কেন্দ্র করেই। হাদিস মতে, কাবার নিচের অংশটুকু অর্থাৎ কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। এভাবে সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। পরে এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় সাত মহাদেশের।

    মুসলমানরা মনে করে, পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আলামীনের অনন্য নিদর্শন পবিত্র কাবা শরিফ। ভৌগোলিকভাবে গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে বরকতময় পবিত্র কাবার অবস্থান- এটাও অনেকের জন্য আশ্চর্যজনক বিষয়।

    সৃষ্টির আদিকাল থেকেই আল্লাহ পবিত্র কাবা শরিফকে তার মনোনীত বান্দাদের মিলনমেলাস্থল হিসেবে কবুল করেছেন।

    দুনিয়াজুড়ে মুসলমানদের এই কিবলা তথা কাবা শরিফ সম্পর্কে নানা বিষয় জানতে আমরা সবসময়েই আগ্রহী হই- তবে এর সবটা হয়তো জানা হয় না। এই সুযোগে কাবা সম্পর্কিত কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য জেনে নেয়া যাক। অনেকেই হয়তো এ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত নন। আসুন, বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক-

    ১) কাবা শরিফের সংস্কার:

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও শত্রুদের আক্রমণের কারণে বেশ কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ। তাই বেশ কয়েকবারই ক্ষতিগ্রস্ত কাবাকে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।

    সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য মতে, কাবাকে এ পর্যন্ত ১২ বার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিপর্যয়ের হাত থেকে সংরক্ষণ করতে কাবা শরিফকে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে আধুনিক ও শক্তিশালী প্রযুক্তির প্রয়োগে সংস্কার করা হয়। কাবা পুনঃসংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯৬ সালে হাতিমে কাবাও পুনঃনির্মাণ করা হয়।

    পবিত্র কাবা শরিফ নির্মাণ-পুনঃনির্মাণে বিভিন্ন যুগে হজরত আদম (আ.), হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত ইসমাইল (আ.) এবং আখেরি নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)ও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    ২) কাবার গিলাফের রং পরিবর্তন:

    ‘কিসওয়া’ হলো কালো রংয়ের কাপড়। যা দ্বারা কাবা শরিফকে ঢেকে দেয়া হয়। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই যে এ কিসওয়া বা গিলাফ সবসময় কালো ছিল না।

    প্রথমদিকে জরহাম গোত্রের শাসনামলে তাদের নিয়মানুযায়ী কিসওয়া দ্বারা কাবা শরিফের আচ্ছাদন সর্বপ্রথম শুরু হয়।

    পরবর্তীতে প্রিয়নবী (সা.) ইয়েমেনি সাদা কাপড় দিয়ে পবিত্র কাবাকে ঢেকে দেন। বিভিন্ন খলিফাদের আমলে লাল, সাদা, সবুজ রঙের কিসওয়াও ব্যবহার করা হতো। আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে পবিত্র কাবার কিসওয়া হিসেবে বিভিন্ন রঙের ব্যবহার বন্ধ করে কালো রঙের কিসওয়া ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তখন থেকেই কিসওয়ার জন্য কালো রঙটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    ৩) আকৃতি পরিবর্তন:

    নবী ইব্রাহিমের (আ.) আমল থেকেই মূলত পবিত্র কাবা শরিফ আয়তক্ষেত্র আকৃতির ছিল। ইসলামের আগমনের পূর্বে কুরাইশরা যখন পবিত্র কাবাকে পুনঃনির্মাণ করে তখন তহবিলের অভাবে পবিত্র কাবা শরিফের পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি তারা। যে স্থানটি তখন নির্মাণ করতে পারেনি সেই স্থানটিকে বলা হয় ‘হাতিমে কাবা’। এটি কাবারই অংশ। এ কারণে হাতিমে কাবাকে তাওয়াফে অন্তর্ভূক্ত করতে হয়। যা একটি ছোট্ট গোলাকার প্রাচীর দ্বারা চিহ্নিত।

    ৪) দরজা-জানালা:

    মূল কাবা শরিফে দুটি দরজা অন্তর্ভূক্ত ছিল। একটি দরজা ছিল প্রবেশের জন্য অন্যটি বাহির হওয়ার জন্য। এছাড়াও পবিত্র কাবা শরিফের দেয়ালে একটি জানালাও ছিল। বর্তমানে পবিত্র কাবা শরিফে রয়েছে একটি মাত্র দরজা এবং কোনো জানালা নেই, যদিও কাবা শরিফের ছাদে ওঠার জন্য ভিতরে একটি দরজা রয়েছে।

    ৫) ভেতরে কী আছে?

    এই প্রশ্ন অনেকেরই। পবিত্র কাবা শরিফের ভেতরে ভিত্তি মজবুতে তিনটি পিলার রয়েছে; যেগুলোর প্রত্যেকটি লিন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। পারফিউম ব্যবহারের জন্য পিলারের মধ্যে একটি ছোট বাক্স আকৃতির টেবিল রয়েছে। তিনটি খুঁটি বা স্তম্ভে ঝুলে আছে বিভিন্ন ডিজাইনের প্রদীপমালা।

    পবিত্র কোরআনের আয়াতের কারুকার্যখচিত সবুজ কাপড় কাবা শরিফের দেয়ালের ওপরের অংশে জুড়ে রয়েছে। পাশের দেয়ালে একটি স্বর্ণনির্মিত দরজা রয়েছে যেটাকে ‘বাব আল তাওবা’ বলে ডাকা হয়। যেটি ছাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

    ৬) হাজরে আসওয়াদ:

    পবিত্র কাবা শরিফের এক কোণে সংযুক্ত ‘হাজরে আসওয়াদ’ কালো পাথরটি আগে আকারে বড় ছিল। বর্তমানে এ পাথরটি ভেঙে ৮ টুকরায় বিভিন্ন সাইজে বিভক্ত। যা একটি সিলভার রংয়ের ফ্রেমে একত্র করে কাবা শরিফের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে লাগানো।

    পাথরটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বন্যাসহ অনেকবার চুরি ও জালিয়াতির চেষ্টার কারণে অনাকাঙ্খিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হাজরে আসওয়াদের প্রথম সিলভার ফ্রেমটি তৈরি করেছিলেন আবদুল্লাহ বিন জুবাইর।

    ৭) চাবির জিম্মাদার:
    প্রাক ইসলামি যুগ থেকে এখন পর্যন্ত কাবা শরিফের চাবি একটি পরিবারের কাছেই রয়েছে।

    সম্মানিত এই পরিবারটি হলো বনু তালহা গোত্র। এ গোত্র গত ১৫শ শতাব্দী ধরে এ দায়িত্ব পালন করছে। এটি ওই পরিবারের জ্যৈষ্ঠ সদস্যরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন।

    ৮) বার্ষিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম:
    বছরে দুই বার এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয় বার করা হয় জিলকদ মাসে। এ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বনু তালহা তথা আলশিবি পরিবারের লোকেরাই করে থাকেন।

    পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ‘ঊড’ তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। পবিত্র নগরী মক্কার গভর্নর এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে আমন্ত্রণ জানান।

    ৯) দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত:

    একটা সময়ে পবিত্র কাবা শরিফের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এ পবিত্র ঘরে প্রবেশ করে ইবাদাত-বন্দেগিও করতো। হজের সময় তীর্থযাত্রীরা ইচ্ছা করলে এতে প্রবেশ করতে পারতো।

    কিন্তু হাজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ঘরের নিরাপত্তার জন্যই এখন কেউ ইচ্ছা করলেও অভ্যন্তরে যেতে পারে না। এটা এখন মাঝে মাঝে বিশেষ বিশেষ মেহমানদের জন্য খোলা হয়।

    ১০) তাওয়াফ:
    পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে অবিশ্বাস্য হলেও চিরন্তন সত্য যে, এর চারদিকে ঘোরা অর্থাৎ তাওয়াফ কখনো বন্ধ হয় না।

    তবে হ্যাঁ, নামাজের সময় যখন মুয়াজ্জিন জামাতের জন্য ইক্বামাত দেন ঠিক নামাজের সময় তাওয়াফকালীন অবস্থায় যে যেখানে থাকে সেখানে দাঁড়িয়েই নামাজে অংশগ্রহণ করে। নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে আবার তাওয়াফ শুরু হয়ে যায়।

    শুধু তাই নয়, যখন বন্যার কারণে পানিতে তাওয়াফ চত্ত্বর তলিয়ে গিয়েছিল তখনো মানুষ সাঁতার কেটে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করতো।