Category: ধর্ম

  • আজ শুভ বড়দিন

    আজ শুভ বড়দিন

    আজ থেকে দুই সহস্রাধিক বছর আগে জেরুজালেমের কাছাকাছি বেথলেহেম নগরীর এক গোয়ালঘরে জন্মেছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট।

    ৩৩ বছরের স্বল্পস্থায়ী জীবনে তিনি মানুষকে শুনিয়েছেন শান্তির বাণী, ভালোবাসার কথা। হিংসা-দ্বেষ, পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মানুষকে মুক্ত করাও ছিল তার প্রবর্তিত ধর্মের অন্যতম মূল কথা। তার শান্তির বাণী শাশ্বত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য।

    প্রচারের সময় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যিশু। কিন্তু কোনো নির্যাতন-নিপীড়নই তাকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। মানুষকে জয় করার হাতিয়ার ছিল তার সংযম ও সহিষ্ণুতা।

    বর্তমান যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সংঘাতময় এ পৃথিবীতে যিশুর বাণী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। যিশু বিশ্বাস করতেন ঈশ্বরের শক্তিতে। বাইবেলে বর্ণিত আছে- ‘আমি সব মন্দ আত্মাকে তাড়াই ঈশ্বরের শক্তিতে এবং তোমরা যা আমার কাছ থেকে শোনো তা আমার নয় বরং সেসব কথা পিতার, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।’ বর্তমান বিশ্বের হিংসা ও পারস্পরিক অশ্রদ্ধাবোধ প্রকৃত অর্থে আত্মারই সংকট।

    মন্দ আত্মা মানুষকে তাড়িয়ে ফিরছে নেতিবাচকতার দিকে। মানুষের মধ্যে যিশু প্রস্তাবিত পরিশুদ্ধ আত্মার প্রতিস্থাপন ছাড়া এ সংকট থেকে মুক্তির উপায় নেই। যিশু সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ দেয়ার কথাও শুনিয়েছেন। আধুনিক গণতন্ত্রের মর্মকথাও তা-ই।

    সভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, শুধু খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের জীবন ও দর্শনেই যিশুর প্রভাব পড়েনি, পুরো মানবসভ্যতাই কিছু না কিছু মাত্রায় প্রভাবিত হয়েছে তার আদর্শ, নীতি ও বিশ্বাস দ্বারা।

    প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বের খ্রিস্ট বিশ্বাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও ধর্মীয় অনুভূতির পরম মমতায় আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব পালন করে থাকে। দিনটি উপলক্ষে যিশুখ্রিস্টের জন্মের কাহিনী পাঠ ও ধ্যান করা হয়। সেই কাহিনী অবলম্বনে গির্জাঘরে, এমনকি প্রত্যেক বাড়িতে গোশালা নির্মাণ করে ফুলপাতা দিয়ে সাজানো হয়।

    এর সঙ্গে গান-বাজনা, নাম-সংকীর্তন, ভোজন, আনন্দ-উল্লাস ইত্যাদি চলে। এসব বাহ্যিক উৎসব-আয়োজনের ঊর্ধ্বে খ্রিস্ট বিশ্বাসীরা তাদের হৃদয়-মন ও অন্তরাত্মাকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে প্রয়াসী হন। তাদের এই আনন্দ-উৎসব যাতে নিছক আচারিক বা অনুষ্ঠানসর্বস্ব না হয় সেজন্য বড়দিনের পূর্ববর্তী চার সপ্তাহব্যাপী আগমনকাল হিসেবে পালনের ব্যবস্থা করেন।

    এ সময়ে খ্রিস্টভক্তরা ধ্যান-অনুধ্যান, মন পরীক্ষা, ব্যক্তিগত পাপ স্বীকার, সমবেত পুনর্মিলন বা ক্ষমা-অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্পর্কের উন্নয়ন ও নবায়ন করতে সচেষ্ট হন।

    বড়দিনের উৎসবে মুসলমান সম্প্রদায়ও যোগ দিয়ে থাকে এবং আনন্দ ভাগ করে নেয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী অংশ নিয়েছিলেন, তাদের অনেকে শহীদ হয়েছেন।

    বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় অংশ নিয়েছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরাও একাকার হয়ে আছেন এ দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের সঙ্গে। বড়দিন উপলক্ষে আমরা বাংলাদেশে অবস্থানরত খ্রিস্টানসহ পৃথিবীর সব খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে জানাই শুভেচ্ছা।

    বড়দিনের উৎসব সার্বজনীনতা লাভ করুক। এ ধর্মীয় উৎসবে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সংহতি গড়ে উঠবে এবং তা বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

  • যে গোনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন প্রিয়নবি

    যে গোনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন প্রিয়নবি

    শামীম ইসলাম:

    গোনাহের পর ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ক্ষমা চান আপনার ও মুমিন নারী-পুরুষের দোষ-ত্রুটির জন্য।’ (সুরা মুহাম্মদ : আয়াত ১৯)

    হাদিসে এসেছে মানুষ যদি গোনাহ না করত আল্লাহ এ জাতিকে ধ্বংস করে দিয়ে অন্য জাতি নিয়ে আসতেন। যাতে তারা গোনাহ করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তবে সব গোনাহের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানকে সতর্ক থাকতে হবে।

    এমন কিছু গোনাহের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যেগুলো হাদিসের পরিভাষায় সবচেয়ে বড় গোনাহ। যে ব্যাপারে প্রিয়নবি সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছন।

    একবার হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চাইলেন যে, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সবচেয়ে বড় গোনাহ কী? অতঃপর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসটি বর্ণনা করেন-

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে বড় গোনাহ কোনটি? তিনি বললেন-

    > কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
    অতপর তিনি বললেন, তারপর কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    > তোমার সঙ্গে খাবে, এ ভয়ে সন্তানকে হত্যা করা।
    তিনি আবার বললেন, তারপর কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    > তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে জিনা (ব্যভিচার) করা।
    তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার সত্যতা ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করেন- ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না।’ (বুখারি)

    প্রথম কথা হলো
    আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না। এটা সবচেয়ে বড় গোনাহ। যা আল্লাহ তাআলা কখনো ক্ষমা করবেন না।

    দ্বিতীয়ত
    নিজেদের সন্তানকে হত্যা করাও সবচেয়ে বড় অপরাধ। অনেক সময় দেখা যায়, গর্ভে সন্তান চলে আসে, বিভিন্ন অজুহাতে বাবা-মা কিংবা পরিবারের সদস্যরা সে সন্তানকে অকালে গর্ভপাতের মাধ্যমে নষ্ট করে ফেলে। যা কোনোভাবেই উচিত নয়। কেননা এটি সবচেয়ে বড় গোনাহের একটি।

    তৃতীয়ত
    জিনার মতো মারাত্মক অপরাধ থেকে বিরত থাকা। কেননা নারী পুরুষের চারিত্রিক পবিত্রতা ও শৃঙ্খলার জন্য আল্লাহ তাআলা বিয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। তা সত্ত্বেও অন্যের স্ত্রীর প্রতি কুদৃষ্টি ও অবৈধ মেলামেশা করা। ইসলাম এটাকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। বরং এ পর্যায়ের জিনাকারীর শাস্তি পাথর মেরে হত্যা করার বিধান প্রণয়ন করেছে ইসলাম।

    সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে, সন্তান হত্যা না করে জিনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত না হয়ে অন্তরে আল্লাহ ভয় ও ভালোবাসা পোষণ করাই ঈমানদারের একমাত্র কাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত সবচেয়ে বড় গোনাহগুলো থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চরমোনাই মাহফিল শুরু

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চরমোনাই মাহফিল শুরু

    ওয়াজ-মাহফিল ও ধর্মীয় সভার ওপর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে বরিশালের চরমোনাই দরবার শরিফে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল।

    তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার মাহফিলের নিয়মে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহফিল সংশ্লিষ্টরা।

    সোমবার জোহরের নামাজের পর উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের সূচনা করেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। উদ্বোধনী বয়ানে পীর রেজাউল করীম বলেন, চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিলে এসে দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের সুযোগ নেই। এখানে শুধুমাত্র আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য সঠিক পথ দেখানো হয়।

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, কেউ যদি দুনিয়ার উদ্দেশ্য হাসিলের নিয়তে চরমোনাইতে এসে থাকেন তবে তাকে নিয়ত পরিবর্তন করতে হবে এবং মাহফিলের আলোচনা শুনে সে অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করতে হবে।

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চরমোনাই মাহফিল শুরু

    চরমোনাই মাদরাসার অধ্যক্ষ পীরের বড় ভাই সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি বলেন, প্রতি বছর দুটি বার্ষিক মাহফিলের দ্বিতীয় দিন ওলামা মাশায়েখ মহাসমাবেশ এবং তৃতীয় দিন ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এবার যেহেতু একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার স্বার্থে ওলামা মাশায়েখ মহাসমাবেশ ও ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। এবার তিনদিনের মাহফিলে ধর্মীয় আলোচনার বাইরে রাজনৈতিক আলোচনা করা হবে না।

    মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়তউল্লাহ বলেন, মাহফিলে লাখ লাখ মুসুল্লির সমাগম ঘটেছে। মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতাল করা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসায় সেখানে ৪০ জন ডাক্তার রয়েছেন। মাহফিলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিজস্ব প্রায় ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী দিনরাত পরিশ্রম করছেন। আগামী ২৯ নভেম্বর সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিল শেষ হবে।

  • নামাজে’ তাজমহলের পবিত্রতা নষ্ট,তাই শুদ্ধিকরণ করতে ‘আরতি’! ভারতে তোলপাড়

    নামাজে’ তাজমহলের পবিত্রতা নষ্ট,তাই শুদ্ধিকরণ করতে ‘আরতি’! ভারতে তোলপাড়

    নামাজ আদায়ের ফলে প্রেমের স্মৃতিসৌধ তাজমহলের পবিত্রতা নাকি নষ্ট হয়েছে, তাই পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে তাজমহল চত্বরেই ধূপ-ধুনো দিয়ে পূজা-আরতি করার অভিযোগ উঠল ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠী বজরং দলের এক নারী নেত্রী ও তার দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে।

    শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন এক দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর পক্ষ থেকে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় বজরং দলের (আরবিডি) নারী শাখার জেলা সভাপতি মীনা দিবাকর নিজেও বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ‘আমরা ধূপকাঠি, দেশলাই আর গঙ্গাপানি নিয়ে তাজমহল চত্বরে প্রবেশ করি এবং মসজিদে আরতি করি। আমরা আসলে জায়গাটি পবিত্র করছিলাম। কেননা এটি একটি শিব মন্দির। প্রতিদিন নমাজ পড়ে এই মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে।

    তিনি আরও জানান ‘তেজো মহালয়া বা শিব মন্দিরের জন্যই তাজমহল তার পরিচিত পেয়েছে। এই স্থানে কেবলমাত্র শুক্রবারই নামাজ আদায়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অন্য দিনগুলোতেও এখানে নামাজ আদায় করা হচ্ছে।

    তাই আমরা আরতি করে জায়গাটাকে পবিত্র করছি।’ কর্তৃপক্ষের উচিত সপ্তাহের অন্য দিন নামাজ আদায় ঠেকানো না হলে তাদের পূজা-আরতি করাও রোধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মীনা দিবাকর। তাঁর সাফ যুক্তি ‘তারা (মুসলিম) যদি কোরআন সাথে করে নিয়ে এসে নামাজ আদায় করতে পারে, তবে আমরা কেন ধূপ-গঙ্গাপানি সাথে করে এনে আরতি করতে পারবো না?

    তবে বিষয়টি নিয়ে এএসআই বা সিআইএসএফ’এর পক্ষ থেকে কোন যথোপযুক্ত ব্যখ্যা দেওয়া হয়নি। তাজমহলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এএসআই-এর সহকারী কর্মকর্তা অঙ্কিত নামদেব জানান, ‘আমরা আরতি-র ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে পেরেছি। সেই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

    সিআএসএফ-এর কমান্ডান্ট ব্রীজ ভূষণ জানান, ‘বিষয়টি এখনও আমার কাছে আসেনি, যদি এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে তার যথার্থতা যাচাই করে দেখা হবে।

    কংগ্রেসের সিটি ইউনিটের সভাপতি হাজি জামিউদ্দিন কুরেশি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মীনা দিবাকরসহ যারা তাজমহল চত্বরে আরতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে বলেও কুরেশির অভিযোগ।

    উল্লেখ্য, তাজমহলে নামাজের আদায়ের লক্ষ্যে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের পরই ২০১৩ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া-এর পক্ষ থেকে তাজমহলের ভিতর মুমতাজ মসজিদে শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায়ের ওপর বিদেশিদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

  • ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশি হিন্দুরা বাদ?

    ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশি হিন্দুরা বাদ?

    বিরোধীদের ক্ষোভ সামাল দিতে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে বাংলাদেশি হিন্দুদের বাদ দেওয়া হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) এমনই সুপারিশ করবে বলে অনুমান অসমিয়া গণমাধ্যমের।

    বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও শিখদের নাগরিকত্ব দিতে ভারতের পার্লামেন্টে একটি বিল আনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। বিলটি বর্তমানে রাজেন্দ্র আগরওয়ালের নেতৃত্বাধীন জেপিসির বিবেচনাধীন।

    বিলটিকে ঘিরে আসামের রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি চলছে উগ্রপন্থীদের হুংকার। এর মধ্যে পাঁচ বাঙালি হিন্দু খুনও হয়েছেন।

    এ অবস্থায় জেপিসির সদস্য ভুবনেশ্বর কলিতার সঙ্গে কথা বলে অসমিয়া সংবাদমাধ্যম টাইমএইট জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের বাদ দিয়ে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দুদেরই নাগরিকত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।

    ২০ নভেম্বর দিল্লিতে বসছে জেপিসির বৈঠক। জানা গেছে, বৈঠকের আগে সদস্যদের বক্তব্য লিখিতভাবে পেশ করতে বলা হয়েছে।

    নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে আসামের ৭০টি সংগঠন। এ মাসের শেষে তারা ‘হিন্দু বাংলাদেশি’দের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ‘সত্যাগ্রহ’ করবে বলে জানিয়েছে।

    অহম ছাত্র সংস্থার (আটাসু) সভাপতি বসন্ত গগৈ গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসামে বাংলাদেশিদের কোনো স্থান নেই।

    আরেক ধাপ এগিয়ে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা অখিল গগৈ বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের চেষ্টা হলে আসামের বিজেপি সরকারকে ব্রহ্মপুত্রের পানিতে নিক্ষেপ করা হবে।

    অখিলের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাস হলে অন্তত ১ কোটি ৯০ লাখ বাংলাদেশি হিন্দু আসামে চলে আসবে। এ কারণে অসমিয়ারা হারাবেন নিজেদের ভিটেমাটি।

    অখিলের এই তথ্য মানতে নারাজ বিজেপির বিধায়ক শিলাদিত্য দেব। তিনি হিন্দুদের ভারতে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিরোধিতা করেছেন মুসলিম অনুপ্রবেশের।

    বিজেপির বাইরের প্রায় প্রতিটি দলই নাগরিকত্বে জাতপাতের রাজনীতিকে গুরুত্ব না দেওয়ার পক্ষে। তারা ২৪ মার্চ ১৯৭৪-কে নাগরিকত্বের ভিত্তি বছর হিসেবে বহালের পক্ষে।

  • প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    একনজরে দেখে নিন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আমাদের আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    ১. হযরত মুহম্মদ মুস্তাফা (স)
    ২. তাঁহার পিতা আব্দুল্লাহ
    ৩. তাঁহার পিতা আব্দুল মোত্তালিব
    ৪. তাঁহার পিতা হাসিম
    ৫. তাঁহার পিতা আব্দ মানাফ
    ৬. তাঁহার পিতা কুছাই
    ৭. তাঁহার পিতা কিলাব
    ৮. তাঁহার পিতা মুরাহ
    ৯. তাঁহার পিতা কা’ব
    ১০. তাঁহার পিতা লুই
    ১১. তাঁহার পিতা গালিব
    ১২. তাঁহার পিতা ফাহর
    ১৩. তাঁহার পিতা মালিক
    ১৪. তাঁহার পিতা আননাদর
    ১৫. তাঁহার পিতা কিনান

    ১৬. তাঁহার পিতা খুজাইমা
    ১৭. তাঁহার পিতা মুদরাইকা
    ১৮. তাঁহার পিতা ইলাস
    ১৯. তাঁহার পিতা মুদার
    ২০. তাঁহার পিতা নিজার
    ২১. তাঁহার পিতা মা’দ
    ২২. তাঁহার পিতা আদনান
    ২৩. তাঁহার পিতা আওয়াদ
    ২৪. তাঁহার পিতা হুমাইসা
    ২৫. তাঁহার পিতা সালামান
    ২৬. তাঁহার পিতা আওয
    ২৭. তাঁহার পিতা বুয
    ২৮. তাঁহার পিতা কামওয়াল

    ২৯. তাঁহার পিতা ওবাই
    ৩০. তাঁহার পিতা আওয়ান
    ৩১. তাঁহার পিতা নাসিদ
    ৩২. তাঁহার পিতা হিযা
    ৩৩. তাঁহার পিতা বালদাস
    ৩৪ . তাঁহার পিতা ইয়াদলাফ
    ৩৫. তাঁহার পিতা তাবিখ
    ৩৬. তাঁহার পিতা জাহিম
    ৩৭. তাঁহার পিতা নাহিস
    ৩৮. তাঁহার পিতা মাখি

    ৩৯. তাঁহার পিতা আ”য়েফ
    ৪০. তাঁহার পিতা আবকার
    ৪১. তাঁহার পিতা উবাইদ
    ৪২. তাঁহার পিতা আদ দাহা
    ৪৩. তাঁহার পিতা হামদান
    ৪৪. তাঁহার পিতা সানবার
    ৪৫. তাঁহার পিতা ইয়াসরিবি
    ৪৬. তাঁহার পিতা ইয়াহজিন
    ৪৭. তাঁহার পিতা ইয়ালহান
    ৪৮. তাঁহার পিতা ইরাওয়া
    ৪৯. তাঁহার পিতা আইযি

    ৫০. তাঁহার পিতা যিশান
    ৫১. তাঁহার পিতা আইছার
    ৫২. তাঁহার পিতা আফনাদ
    ৫৩. তাঁহার পিতা আইহাম
    ৫৪. তাঁহার পিতা মুকাসির
    ৫৫. তাঁহার পিতা নাহিস
    ৫৬. তাঁহার পিতা যারিহ
    ৫৭. তাঁহার পিতা সামি
    ৫৮. তাঁহার পিতা মায্যি
    ৫৯. তাঁহার পিতা ইওয়াদ
    ৬০. তাঁহার পিতা ইরাম

    ৬১. তাঁহার পিতা হিদার
    ৬২. তাঁহার পিতা হযরত ইসমাইল (আঃ)
    ৬৩. তাঁহার পিতা হযরত ইবরাহিম (আঃ)
    ৬৪. তাঁহার পিতা তারক
    ৬৫. তাঁহার পিতা নাহুর
    ৬৬. তাঁহার পিতা সারুয
    ৬৭. তাঁহার পিতা রা’উ
    ৬৮. তাঁহার পিতা ফাহিয
    ৬৯. তাঁহার পিতা আবীর

    ৭০. তাঁহার পিতা আফরাহশাদ
    ৭১. তাঁহার পিতা সা’ম
    ৭২. তাঁহার পিতা হযরত নূহ (আঃ)
    ৭৩. তাঁহার পিতা লামিক
    ৭৪. তাঁহার পিতা মাতু সালিখ
    ৭৫. তাঁহার পিতা হযরত ঈদ্রীস (আঃ)
    ৭৬. তাঁহার পিতা ইয়ারিদ
    ৭৭. তাঁহার পিতা মালহালিল
    ৭৮. তাঁহার পিতা কিনান
    ৭৯. তাঁহার পিতা আনস
    ৮০. তাঁহার পিতা হযরত শীস (আঃ)
    ৮১. তাঁহার পিতা হযরত আদম (আঃ)

  • বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন কোনগুলো এবং কেন শ্রেষ্ঠ? এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?

    বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন কোনগুলো এবং কেন শ্রেষ্ঠ? এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?

    শামীম ইসলাম:

    বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন কোনগুলো এবং কেন শ্রেষ্ঠ? এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?- আল্লাহ মহান সৃষ্টিকারী, তিনি পালনকর্তা এবং তিনিই একমাত্র রব-প্রতিপালক। পৃথিবীর সব কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং তার নির্দেশনায় সব কিছু সংগঠিত হয়।

    রাত-দিন সবই আল্লাহ মহানের সৃষ্টি। ভালো-মন্দ একমাত্র তারই নিয়ন্ত্রণে আবর্তিত হয়। বারো মাস সৃষ্টি করে আল্লাহ মহান যেমন রমজানকে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তেমনি সব দিনের মাঝে দশটি দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    কোন দশদিন বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন?

    পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মহান ইরশাদ করেন, ‘কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের।’ [সূরা আল-ফাজর, আয়াত : ১-২] উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ মহান ‘দশ রাতের কসম’ বলে আরবি জিলহজ মাসের দশদিনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

    সব বিজ্ঞ মুফাসসির এই ব্যাপারে একমত। এছাড়া বিখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘এ মতটিই সবার পছন্দ এবং এটিই সঠিক মত’।

    হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিনগুলো হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন। [মুসনাদ বাযযার : ১১২৮; মুসনাদ আবী ইআলা : ২০৯০]

    পবিত্র কুরআন ও হাদিসে রাসূলের (সা.) বর্ণনা থেকে এ কথা প্রতীয়মান যে, আরবি জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন।

    কেন এই দশটি দিন শ্রেষ্ঠ?

    বিভিন্ন কারণে এই দশটি দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। কোরআন-হাদিসের আলো যে সব কারণে এই দশটি দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয় তা হলো-

    ১. আল্লাহ মহান এই দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে কসম খেয়েছেন।

    ২. রাসূল (সা.) এই দশটি দিনকে শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    ৩. এই দশদিনের মাঝে রয়েছে ঐতিহাসিক আরাফাহ দিবস।

    ৪. এই দশদিনে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে কুরবানির আমল।

    ৫. এই দিনগুলোতে আল্লাহ মহান তার জিকিরের প্রবর্তন করেছেন।

    এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?

    হজরত ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যার আমল জিলহজ মাসের এই দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। [বুখারী : ৯৬৯; তিরমিজি : ৭৫৭]

    এই দশদিনে যেসব আমল করা যেতে পারে-

    ১. পবিত্র হজ ও ওমরা পালন করা- হজরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘এক উমরা থেকে আরেক উমরা এতদুভয়ের মাঝের গুনাহগুলোর কাফফারা এবং মাবরূর হজের প্রতিদান কেবলই জান্নাত।’[বুখারী : ১৭৭৩; মুসলিম : ৩৩৫৫]

    ২. সিয়াম বা রোজা রাখা- হজরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, সিয়াম বা রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য; শুধু সিয়াম বা রোজা ছাড়া। কারণ, তা আমার জন্য। তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম বা রোজা ঢাল স্বরূপ।’[বুখারী : ১৯০৪; মুসলিম : ২৭৬২]

    ৩. তাকবির ও তাহমিদ এবং তাসবিহ ও তাহলিল পাঠ করা– হজরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই।

    তাই তোমরা এ সময়ে তাহলিল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।’[বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]

    ৪. কুরবানী করা- এ দিনগুলোর দশম দিন সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। কেউ কেউ বলেছেন কুরবানি করা ওয়াজিব। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত বা নামাজ আদায় করুন ও কুরবানি করুন।’ {সূরা আল-কাউসার, আয়াত : ০২}

    ৫. বিভিন্ন আমল- এছাড়া এই দশদিনে ফরজ নামাজ গুরুত্বের সাথে আদায় করা, রাতে-দিনে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। দান-সদকাহ বেশি বেশি করা। জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানির পূর্ব পর্যন্ত নখ, মাথার চুল, গোঁফ, নাভি ও বগলের নিচের পশম না কাটা ইত্যাদি আমল অনুমোদিত।

  • বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে মোমের আলোয় ঝলমলে

    বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে মোমের আলোয় ঝলমলে

    শামীম ইসলাম:

    বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানের ৫০ হাজারের বেশি সমাধিমন্দির মোমের আলোতে ঝলমল করছে। সমাধির পাশে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করছেন স্বজনরা। অসংখ্য মোমের আলোয় পুরো মহাশ্মশান এলাকা অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করেছে।

    সমাধিস্থলে গিয়ে মোমের আলো ছড়িয়ে, আগরবাতি জ্বালিয়ে, ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে প্রয়াত প্রিয়জনকে স্মরণ ও আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করছেন স্বজনরা। পাশাপাশি প্রয়াত প্রিয়জনের উদ্দেশে তার সমাধিস্থলে নিবেদন করা হয় প্রয়াতের পছন্দের নানা ধরনের খাবার।

    উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় শশ্মান দীপাবলি উৎসবকে ঘিরে এই বর্ণিল আয়োজন। এ কারণে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে মানুষের ঢল নেমেছিল। সন্ধ্যা হতে না হতেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা। লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে মহাশ্মশানে। নারী, পুরুষ, শিশুরা প্রত্যেকের হাতে ছিল মোমবাতি, আগরবাতি।

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস কালিপূজার আগের দিন ভূতচতুর্দশী তিথিতে পূজা অর্চনা করলে প্রয়াত ব্যক্তির আত্মা শান্তি লাভ করে। তাই আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি প্রয়াত প্রিয়জনের উদ্দেশে তার সমাধিস্থলে নিবেদন করা হয় প্রয়াতের পছন্দের নানা ধরনের খাবার। সবকিছু করা হয় তিথি থাকা অবস্থায়।

    বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকার জানান, সোমবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লগ্ন (তিথি) শুরু হয়ে শেষ হয় মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। দুপুরের পর থেকে প্রয়াতদের স্বজনদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটেছে মহাশ্মশানে।

    বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু জানান, কথিত আছে এশিয়া মহাদেশ তথা পৃথিবীর বৃহত্তম আয়োজন এটি। ভারতে এটি দীপাবলি উৎসব নামে পরিচিত হলেও বরিশালে শশ্মান দীপালি উৎসব হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। নতুন পুরনো মিলিয়ে মহাশ্মশানে ৬১ হাজারেরও বেশি সমাধি রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজারের অধিক পাকা, ১০ হাজার কাঁচা মঠ এবং ৮শ’ মঠ রয়েছে যাদের স্বজন এই দেশে নেই। সেইসব মঠগুলো হলুদ রঙ করা হয়েছে। স্বজন না থাকা মঠগুলোতে কমিটির পক্ষ থেকে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

    মানিক মুখার্জি কুডু জানান, পাঁচ একর ৯৬ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত মহাশ্মশানের পুরনো অংশের অধিকাংশ সমাধি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো সেখানে ব্রাহ্মণদের ২/৩টি এবং রূপসী বাংলার কবি জীবনান্দ দাসের পিতা সত্যানন্দা দাস ও পিতামহ সর্বানন্দা দাস, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ বিপ্লবী দেবেন ঘোষ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী মনোরমা মাসি মা, শিক্ষাবিদ কালিচন্দ্র ঘোষসহ খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গের সমাধি রয়েছে।

    শশ্মান দিপাবলি উৎসব নির্বিঘ্ন এবং উৎসবমুখর করতে মহাশ্মশানের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ১২টি সিসি ক্যামেরা এবং নিয়োগ করা হয়েছে ২০০ স্বেচ্চাসেবী।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রচুর লোকের সমাগম ঘটেছে। শশ্মান দীপালি উৎসবকে নির্বিঘ্ন এবং উৎসবমুখর করতে শশ্মান এলাকায় দেড় শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

  • বরিশালে আগামীকাল উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় দিপাবলী উৎসব

    বরিশালে আগামীকাল উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় দিপাবলী উৎসব

    উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীণতম ও বড় দিপাবলী উৎসব সোমবার বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশশ্মানে অনুষ্ঠিত হবে। দিপালী উৎসবকে ঘিরে শ্মশান ও শ্মশানের সমাধিস্থাপনাগুলো ধোয়া মোছার কাজ শেষে রং ও লেখার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

    জানা গেছে, সোমবার রাত নয়টা ৪৮ মিনিটে ভূত চতুর্দ্দশী আরম্ভ হয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত এই তিথি থাকবে। এ সময়ের মধ্যে এখানে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দিপালী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাত ১২টা এক মিনিটে মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে শ্রী শ্রী শ্মশান কালী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরই এ বৃহৎ শ্মশানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যরে মধ্যদিয়ে উৎসব উদ্যাপন করা হয়।

    উৎসবটির অন্যতম অনুষঙ্গ হলো শ্মশাণ দীপাবলী। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় চলবে পূজার্চনা। একইসাথে ঘরে ঘরে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রদীপ জ্বেলে আয়োজন করা হবে দীপাবলী উৎসবের। পুরো শ্মশানজুড়ে জ্বলবে কয়েক লাখ প্রদীপ। পরলোকগতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শ্মশাণে শ্মশাণে প্রদীপ জ্বালানো হবে। আলোর বন্যায় ভাসবে মহাশ্মশাণ।

    মহাশ্মশান রক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকার জানান, প্রতিবছর ভূত চতুর্দ্দশী পূণ্য তিথিতে দিপাবলী উৎসব হয়ে থাকে। প্রিয়জনের সমাধিতে দীপ জ্বালিয়ে দেওয়ার এ প্রথা উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে হয়ে আসছে।

    তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মহাশ্মশানে প্রায় লক্ষাধিক সমাধি রয়েছে। শ্মশান সমিতির নেতারা জানান, এখানে রয়েছে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্বসহ সমাজসেবীদের সমাধি। যারমধ্যে মৃত্যুর ৮০ বছর পর ভারতের কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের চিতাভস্ম এনে এ মহামশ্মশানে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশ ও পিতামহ সর্বানন্দ দাশের সমাধি। বিপ্লবী দেবেন্দ্র নাথের সমাধি, বিপ্লবী মনরোমা বসু মাসিমা, শিক্ষাবিদ কালীস চন্দ্র ঘোষসহ আরও অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের সমাধি রয়েছে। প্রতিবছর এ শ্মশানে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের উত্তরসূরীরা শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এছাড়াও নেপাল এবং ভারতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। মহাশ্মশান রক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে মহাশ্মশানে বাহারি আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে প্রতিবারের মতো র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী পুরো শ্মশানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজ করছে। শ্মশান এলাকাজুড়ে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নগরীর লাকুটিয়া খাল ঘিরে প্রায় চার একর জায়গায় জুড়ে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এ মহাশ্মশানে প্রায় পৌনে দুইশ’ বছর সময় ধরে এ রেওয়াজ চলে আসছে। সে অনুযায়ী প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দিপালী উৎসবে পুরো শ্মশানজুড়ে জ্বলে উঠবে কয়েক লাখ মোমের প্রদীপ।

  • শ্মশান দিপালী উৎসবের প্রস্তুতি বরিশালে

    শ্মশান দিপালী উৎসবের প্রস্তুতি বরিশালে

     উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান দিপালী উৎসব পালনে বরিশাল মহাশ্মশানে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আগামী ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে শ্মশান দিপালী উৎসব। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ দেড়শত বছরের পুরোনো মহাশ্মশানে প্রতিবারের ন্যায় এবারও সমাধিগুলো ধোয়া মোছার কাজ চলছে।
    মহাশ্মশানের নেতৃবৃন্দ জানান, উৎসব উপলক্ষ্যে ৭ একর ৪১ শতাংশ আয়তনের এ মহাশ্মশানে করা হবে বাহারী আলোকসজ্জা। যার কাজও এখন চলছে তড়িৎ গতিতে। প্রতি বছর ভূত চতুর্দশী পূণ্য তিথিতে এ উৎসব হয়ে থাকে। শুধুমাত্র বরিশালের নয়, শশ্মানে দিপালি উৎসব দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আসেন ভক্ত অনুসারী ও পর্যটকরা। প্রিয়জনের সমাধিতে দীপ জ্বালিয়ে দেওয়ার সেই প্রথা উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে হয়ে আসছে। সে কারণে কাউনিয়া মহাশ্মশানের এই দিপালী উৎসবের প্রথা শত বছর ধরে চলছে বলা যায়। প্রতি বছর এ দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মহাশ্মশানে দীপ জ্বালিয়ে প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। সেসময় পুরো মহাশ্মশান আলোকজ্জল হয়ে ওঠে মোমবাতি এবং প্রদীপের আলোয়। প্রিয়জনের স্মৃতিতে মোমের আলো জ্বালানো ছাড়াও সমাধিতে তার প্রিয় খাদ্যসহ নানা উপাচার ও ফুল দিয়ে সমাধি সাজিয়ে তোলা হয়। পূর্বপুরুষের স্মৃতিতে করা হয় প্রার্থনা। তবে যাদের স্বজনরা দিপালি উৎসবে এখানে আসে না। সেসব সমাধিগুলোতে মহাশ্মশানের তত্ত্বাবধানে দীপ প্রজ্জ্বলন করা হয় উৎসবের দিন।