Category: ধর্ম

  • “মসজিদে কুবা” দুনিয়ায় ফজিলতপূর্ণ চারটি মসজিদের একটি

    “মসজিদে কুবা” দুনিয়ায় ফজিলতপূর্ণ চারটি মসজিদের একটি

    মসজিদে কুবা বা কুবা মসজিদ (আরবি:مسجد قباء)  সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ। হিজরতের পর মুহাম্মদ (সা.) এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এখানে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। মসজিদটি মদিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর দূরত্ব মসজিদে নববী থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মতো।

    রাসুল (সঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর এটাই প্রথম মসজিদ, এমনকি ইসলামের এবং উম্মতে মোহাম্মদির প্রথম মসজিদ। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার সম্মান ও ফজিলত। এ মসজিদের আলোচনা কোরআনে করা হয়েছে এবং মসজিদ সংলগ্ন অধিবাসীদের একটি বিশেষ গুণের প্রশংসা করা হয়েছে।

    মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়ে অত্যাধিক ফজিলত রয়েছে। মসজিদে কুবায় নামাজের ফজিলতের কথা অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন- হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশ্বারোহণ করে কিংবা হেঁটে মসজিদে কুবায় আগমন করতেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন।

    অন্য এক হাদিসে রয়েছে, প্রতি শনিবারে রাসুল সা. কুবায় আগমন করতেন। (বুখারি-মুসলিম)। আরেক হাদিসে বর্ণিত আছে, মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার সওয়াব একটি ওমরাহর সমপরিমাণ। (তিরমিজি) রাসুল সা. আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নাত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে একটি ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। (ইবনে মাজাহ) তাই তো রাসুল সা. এর যুগ থেকেই প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার জন্য গমন করা মদিনাবাসীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানেও তাদের এই আমল অব্যাহত রয়েছে।

    হজরত মোহাম্মদ (সা.) পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসের প্রথম দিন আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে হিজরত করেন। আর এ হিজরতের মধ্য দিয়ে মদিনা শহরকে কেন্দ্র করে ইসলাম ও কোরআনের বাণী বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। রাসূলের (সা.) হিজরতের পর সাহাবীরাও পর্যায়ক্রমে মদিনা গমন করেন। হজরত মোহাম্মদ (সা.) নিজ হাতে কুবা মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মূলত তারই তত্ত্বাবধানে মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। হজরত মোহাম্মদ (সা.) বেশ কয়েকরাত এই মসজিদে অবস্থান করেন এবং কসর নামায আদায় করেন।

    ‘কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে যে বসতি গড়ে উঠেছে তাকে কুবা মহল্লা বলা হয়। এই যোগসূত্রে মসজিদটির নামকরণ হয় মসজিদে কুবা। নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ মসজিদের  ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন।

    মসজিদে কুবা শুরু থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করা হয়। নবীর আমলের পর ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ( রা.) তার খেলাফতকালে মসজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কয়েকবার এই মসজিদের পুনর্নিমাণ ও সংস্কার করা হয়। সবশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নিমাণ করা হয়। এই মসজিদ নির্মাণে পুরো মসজিদে এক ধরনের সাদাপাথর ব্যবহার করা হয়, যা অন্যকোনো মসজিদে সাধারণত দেখা যায় না।

    চারটি উঁচু মিনার, ছাদে ১টি বড় গম্বুজ এবং ৫টি অপেক্ষাকৃত ছোটো গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। মসজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজের জায়গা ও প্রবেশ পথ আলাদা। অজুর জায়গাও ভিন্ন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদের ভেতরের কারুকাজও বেশ মনোমুগ্ধকর। মূল মসজিদ ভবনের মাঝে একটি খালি জায়গা আছে, সেখানেও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। দামি কারপেট বিছানো মেঝেতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, রয়েছে জমজম পানির ব্যবস্থা।

  • মুহাম্মদ শব্দের অর্থ হলো প্রশংসিত’

    মুহাম্মদ শব্দের অর্থ হলো প্রশংসিত’

    হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামানুসারে বিশ্বব্যাপী নবজাতক সন্তানদের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখা জনপ্রিয় হচ্ছে।

    ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত মুসলমানদের নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখার রীতি দীর্ঘকালের। তবে নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখা কোনো ধর্মীয় বিধান নয়। উপমহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সাধারণত এ প্রচলন দেখা যায় না।

    তবে পশ্চিমা বিশ্বে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামানুসারে নবজাতক সন্তানের মূল নাম ‘মুহাম্মদ’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। এ তালিকায় প্রথমেই চলে আসছে ব্রিটেনের নাম।

    ব্রিটিশ পরিসংখ্যান অফিস ঘোষণা থেকে জানা যায়, লন্ডনে শিশুদের প্রিয় নাম হিসেবে মুহাম্মাদ নামটি দশম স্থানে অবস্থান করছে।

    লন্ডনের পশ্চিম মিডল্যান্ডস এবং ইয়র্কশায়ারের সবচেয়ে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘মুহাম্মদ’ নাম।

    উল্লেখ্য যে, ‘মুহাম্মদ শব্দের অর্থ হলো প্রশংসিত’। এ নাম পবিত্র কুরআনের একটি সুরার নাম করণ করা হয়েছে। কুরআনের ৪টি সুরায় এ নামটি ৪ বার এসেছে। আর তাহলো সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৪, সুরা আহজাব : আয়াত ৪০, সুরা মুহাম্মদ : আয়াত ২ এবং সুরা ফাতাহ : আয়াত ২৯)

  • ফজর নামাজ থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আমলের ‍ফজিলত

    ফজর নামাজ থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আমলের ‍ফজিলত

    মানুষের বাস্তব জীবনে সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ দুনিয়া ও পরকালের সফলতার একমাত্র পথ। ফজরের মাধ্যমে মানুষের দিন শুরু হয়। দিনের শুরুতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাআতের সঙ্গে ফজর নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত (আধা ঘণ্টা) কিছু সময় বসে জিকির-আজকার করতেন।

    ফজরের নামাজ আদায়ের পর নামাজের স্থানে বসে তাসবিহ তাহলিলের এ আমলে রয়েছে অনেক ফজিলত। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সময় নিজে সূর্যোদয়ের আগে নামাজের স্থান থেকে ওঠতেন না বরং তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার, তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন নেক আমলে অতিবাহিত করতেন। এ সামান্য সময়ের ফজিলত বর্ণনায় হাদিসে এসেছে-

     > হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজর নামাজ আদায় করতেন, তখন (সূর্য পুরোপুরি ওঠে মাকরূহ ওয়াক্ত শেষ হয়) নামাজ (চাশতের নামাজ) জায়েজ হওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁর বসার স্থান থেকে ওঠতেন না।

    তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করার পর নামাজ জায়েজ হওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁর বসার স্থানে বসে থাকবে, ওই ব্যক্তি একটি মকবুল হজ ও একটি মকবুল ওমরার সাওয়াব অর্জন করবে।’

    > হজরত জাবের ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন তখন সূর্য ভালোভাবে ওঠা পর্যন্ত তাঁর বসার স্থানে চারজানু হয়ে বসে থাকতেন।’

    হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন তখন তাঁর নামাজের স্থানে বসে থাকতেন। মানুষেরা তার চারদিকে বসত। সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি এভাবে থাকতেন। এরপর তিনি একে একে তাঁর সব স্ত্রীদের ঘরে গিয়ে তাদেরকে সালাম দিতেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করতেন।’

    > হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফজরের নামাজের পরে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে রত কিছু মানুষের সঙ্গে বসে থাকা আমার কাছে ইসমাইল আলাইহি সালামের বংশের ৪ জন ক্রীতদাসকে মুক্ত করার চেয়ে বেশি প্রিয়।

    অনুরূপভাবে আসরের নামাজের পরে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে রত কিছু মানুষের কাছে বসে থাকা আমার কাছে ৪ ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়েও বেশি প্রিয়।’

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই ফজরের নামাজের পর নামাজের স্থানে সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করে জিকির-আজকার, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল ও নসিহতের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করতেন।

    পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাগণও সুযোগমতো ফজরের নামাজের পর মসজিদে কিংবা ঘরে সূর্যোদয় হওয়া পর্যন্ত বসে ব্যক্তিগতভাবে জিকির-আজকার করতে ভালোবাসতেন।

    বিখ্যাত তাবেয়ি মুদরিক ইবনে আওফ বলেন, আমি চলার পথে দেখলাম হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ফজরের নামাজ আদায় করে বসে আছেন। আমি বললাম, বসে রয়েছেন কেন? তিনি বললেন, ‘সূর্যোদয়ের জন্য অপেক্ষা করছি।’

    বিখ্যাত তাবেয়ি আবু ওয়াইল বলেন, আমি একদিন ফজরের নামাজের পর হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম। আমরা তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন, ‘প্রবেশ কর।’ আমরা বললাম, ‘কিছু সময় আমরা অপেক্ষা করি, হয়ত বাড়ির কারো কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে।’ তখন তিনি আমাদের দিকে ফিরে বসে তাসবিহ করতে থাকলেন।

    তিনি বললেন, ‘হে আব্দুল্লাহর বাড়ির মানুষেরা, তোমরা গাফলতির চিন্তা করেছিলে!’ এরপর তিনি তার দাসিকে বললেন, দেখ তো সূর্য উঠেছে কিনা। সে বলল, ‘না’। পরে তৃতীয়বার যখন তিনি তাকে বললেন, ‘সূর্য ওঠেছে কিনা দেখ।’ তখন সে বলল, হ্যাঁ, সূর্য ওঠেছে।
    তখন তিনি বললেন, আল্লাহর সব প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে এই দিনটিও উপহার দিলেন। তিনি এই দিনে আমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি প্রদান করেননি।

    মনে রাখতে হবে

    আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো মানুষই মুক্তি পাবে না। এমনটিই বলেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি রহমত করতে কিংবা ক্ষমা করতে নেক আমল খুঁজবেন। তাইতো প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য অনেক ছোট ছোট কাজের বড় বড় প্রাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তন্মধ্যে ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির-আজকার অনেক কার্যকরী।

    নেক আমল যেভাবে মানুষকে মুক্তি দিতে পারবে না আবার নেক আমল ছাড়া রহমতও লাভ করা যাবে না। তাই জীবনে সফলতা লাভে আল্লাহর রহমত কামনার পাশাপাশি নেক আমলের বিকল্প নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফজরের নামাজের পর নামাজের স্থানে বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে জিকির-আজকার, তাসহিব-তাহলিল ও কুরআন তেলাওয়াত করে সময় অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুসলিমদের প্রতিটি বাড়িতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি!

    মুসলিমদের প্রতিটি বাড়িতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি!

    মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের উপরে চরম নির্যাতন চালাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের নির্যাতন এখন মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেও উঠছে অভিযোগ। চীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ জমা পড়ল জাতিসংঘে। অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

    চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বাস করে উইঘুর নৃগোষ্ঠীর মুসলিমরা। এই সম্প্রদায় চীনে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেক উইঘুর নৃগোষ্ঠেীর মানুষকে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে বলেও শোনা যায়। ক্যাম্পে থাকা ব্যক্তিদের উপরেও চলে নির্মম অত্যাচার।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষদের নির্বিচারে আটক করে নিরাপত্তারক্ষীরা। বাধা দেওয়া হয় নিত্যদিনের ধর্মীয় অনুশাসনে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থেও ব্যবহার করা হয় তাঁদের।

    আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল উপায়ে সম্প্রতি জিনজিয়াং প্রশাসন উইঘুরদের উপরে কড়া নজরদারি শুরু করেছে। উইঘুর মুসলিমদের প্রতিটি বাড়িতে বসানো হয়েছে কিউআর কোড। এই উপায়ে দূরে থেকেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি চালানো হয় প্রতিটি বাড়িতে।

    এই উপায়ে কোন বাড়িতে কে কখন ঢুকছে বা বাইরে বেরোচ্ছে তার উপরে চলে নজরদারি। বাইরে থেকে কেউ আসলেও সেদিকেও নজর রাখে প্রশাসন। কেন আসা হয়েছে? সেই প্রশ্নই করা হয় আগন্তুককে। উত্তর সন্দেহজনক হলেই নিরাপত্তারক্ষীরা তুলে নিয়ে যায়। যদি সন্দেহ দৃঢ় হয় কিন্তু প্রমাণ না মেলে তাহলে ডিএনএ টেস্টের মতো পরীক্ষার সম্মুখীনও হতে হয়।

    স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে বাড়িতে সাধারণ গল্প করা হলে বা গান গাইলে সেটাও রেকর্ড করা হয়। প্রশাসনের যদি কিছু বেগতিক মনে হয় তাহলেই চলে নির্যাতন।

    যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি অনৈতিক মনে হচ্ছে না। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জিনিজিয়াং প্রদেশে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে ইসলামিক জঙ্গিরা। সেই কারণেই নিরাপত্তাজনিত কারণে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ক্যাম্পে অত্যাচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে জিনজিয়াং প্রশাসন।

  • নাইট ক্লাবে আজান-দরুদ পড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন যুবক

    নাইট ক্লাবে আজান-দরুদ পড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন যুবক

    নাম গুশ মিফতাহ। তিনি ইন্দোনেশিয়ার একজন ধর্মপ্রচারক। নাইট ক্লাবে উপস্থিতদের আজান, কালিমা ও দরুদ পড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন এই যুবক।

    এ ঘটনা এক সপ্তাহ আগের। ইন্দোনেশিয়ার বাতি শহরের অবস্থিত সবচেয়ে বড় নাইট ক্লাব ‘বসি ভিভিআইপি ক্লাব’ এ উপস্থিত অতিথিদের সামনে স্টেজে উঠেন ওই যুবক। এরপর মাইক নিয়ে তিনি আজান দেন। আজানের পরে তিনি কালিমা পড়েন এবং দরুদ পড়েন। তার সঙ্গে উপস্থিত অতিথিদেরও পড়তে অনুরোধ করলে সবাই একসঙ্গে দরুদ পড়েন।

    এই ঘটনার দৃশ্য ভিডিও করা হয়। এক সপ্তাহ আগে গুশ মিফতাহ সেই ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকউন্টে ও ইউটিউবে প্রকাশ করেন।

    মিফতাহর ওই ভিডিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।

    গুস মিফতাহ স্থানীয় একটি ইসলামিক বোর্ডিং ‘ওরা আজি পেসান্ত্রেন’ এর প্রধান কর্মকর্তা।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নাইট ক্লাবের স্টেজে গায়ক বা জকি’র স্থানে দাঁড়িয়ে মিফতাহ। তার হাতে মাইক্রোফোন। সামনে বসে আছেন কয়েকশ অতিথি।

    মিফতাহ অতিথিদের উদ্দেশে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে প্রথমে ‘আল্লাহু আকবর’, আল্লাহু আকবর’ বলে আজানের কিছু অংশ উচ্চারণ করেন। এরপর তিনি কালিমা ও পরে দরুদ পড়া শুরু করেন।

    একপর্যায়ে মিফতাহ উপস্থিত অতিথিদের ও তার সঙ্গে দরুদ পড়তে আহ্বান জানালে সবাই মিলে দরুদ পড়া শুরু করেন।

  • সাইকেল চালিয়ে হজ্জ্বে যাচ্ছেন মুসলিস আবদুল্লাহর পরিবার!

    সাইকেল চালিয়ে হজ্জ্বে যাচ্ছেন মুসলিস আবদুল্লাহর পরিবার!

    প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মুসলিম হজ ও ওমরা পালনে সৌদি আরব গমন করে থাকেন। সাধারণত আকাশপথেই এই ধর্মীয় কাজটি পালন করতে যান তারা।

    তবে বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের এক পরিবার বাইসাইকেল চালিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে হজ পালন করার জন্য।

    দেড়মাস আগে রওয়ানা দিয়ে এরইমধ্যে ৩ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তারা মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে এসে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে তাদের আরও পাড়ি দিতে হবে ১০ হাজার কিলোমিটার পথ।

    এই যাত্রায় তাদের পাড়ি দিতে হবে ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ। তাদের এই পুণ্য যাত্রায় বেশ কিছু দেশ পাড়ি দিতে হবে মুসলিস পরিবারকে। মালয়েশিয়া পাড়ি দেওয়ার পর তারা পৌঁছাবেন থাইল্যান্ডে। সেখান থেকে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পেরিয়ে সৌদি ভূমির মক্কায় পৌঁছাবেন তারা।

    তার পুণ্যের যাত্রায় রয়েছেন মুসলিস আবদুল্লাহ (৪৭), তার স্ত্রী জুলিয়ান্তি হুসিন (৪৭), তাদের সন্তান মির্জা হাকিম (১৫), আহমদ জাকি হাফিজ (১১) এবং ছয় বছর বয়সী অলিভিয়া ইয়ুমনা রয়েছেন। তাদের দিক-নির্দেশনায় সঙ্গে আছেন মুসলিসের বন্ধু মোহামেদ দামাহুরি মুতালিব (৬২)।

    এ বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে মুসলিস আবদুল্লাহ বলেন, একটি স্বপ্ন দেখার পর সাইকেল চালিয়ে মক্কায় পৌঁছে হজ-ওমরা পালন করার চিন্তাটা আমার মাথায় আসে।

    এই পুণ্যযাত্রীরা আশা করছেন, তারা আগামী হজ মৌসুমের আগেই মক্কায় গিয়ে পৌঁছাবেন। কোথাও নিতান্তই প্রয়োজন পড়লে ফ্লাইটেও চড়তে পারেন তারা।

  • সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ যাতে সামাজিক শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সে জন্য সকল ধর্মের লোকদের আরো সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ রবিবার বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্ম মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখায়, জনকল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। কোন ধর্মই জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ অথবা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না।’

    যদি কেউ আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের লোকরা অংশ নেওয়ায় বিজয় ত্বরাম্বিত হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে সমাজে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব আরো জোরদারে সকল ধর্ম বিশ্বাসের লোকদের প্রতি আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বলেন, সকল ধর্মীয় উৎসবই আনন্দ-উল্লাসের, কিন্তু প্রতিটি উৎসবই সকলের অংশগ্রহণে সার্বজনীন হয়ে ওঠে।

    আবদুল হামিদ বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাঝে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত ঐক্য যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহানুভবতার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।

    এ সময় তিনি হিন্দু সম্পদায়ের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সমাজ থেকে সকল ধরনের অবিচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও সংঘাত দূর করে জনগণের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করাই ছিল শ্রী কৃষ্ণের মূল মতাদর্শ।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজে ধর্ম ও ভালো লোককে রক্ষায় সকল ধরনের অপশক্তি নির্মূলে সমাজে শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল।

    এ সময় অভ্যর্থনায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীবলম্বীর ব্যক্তিবর্গ, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগণ। এ সময় তারা রাষ্ট্রপতিকে জন্মাষ্টমীর ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

    সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার, হিন্দ্র ধর্মাবলম্বী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গও বঙ্গভবনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

  • কেউ সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে পা দেবেন না

    কেউ সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে পা দেবেন না

    কেউ সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে পা দেবেন না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করার ডাক দিয়েছে বিএনপি। ওই সাম্প্রদায়িক শক্তি যদি আবার ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে ২০০১ সালের চেয়ে ভয়াবহ পরিবেশ সনাতন ধর্মালম্বীদের জন্য অপেক্ষা করছে।

    আজ রবিবার দুপুরে পলাশীর মোড়ে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিপূর্বক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে গোপন ছদ্মবেশী শত্রুকে বেশি ভয় পাই। এদের আগামী নির্বাচনে প্রতিরোধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।

  • শোলাকিয়ায় ১৯১তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

    শোলাকিয়ায় ১৯১তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

    দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায়। সকাল ৯টায় জামাত শুরু হয়। জামাতে ইমামতি করেন শহরের মারকাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ দিকে জামাতকে ঘিরে নেয়া হয় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    এবার শোলাকিয়া ছিল ১৯১তম ঈদুল আজহার জামাত। শোলাকিয়ার রীতি অনুযায়ী নামাজ শুরুর ১০ মিনিট ৫ মিনিট ও সব শেষ ৫ মিনিট আগে বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে জামাতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি জানান দেয়া হয়।Top-(6)

    এর আগে সকাল থেকে মুসুল্লীরা আসতে থাকেন ঈদগাহের দিকে। প্রতি বছর ঈদের জামাতে এখানে লাখো মানুষের ঢল নামে। বড় জামাতে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, তাই এখানে প্রতি বছর ঈদের জামাতে দেশ-বিদেশের মুসুল্লীদের ঢল নামে।

    Top-(2)

    ঈদকে ঘিরে নেয়া হয় চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো এলাকাকে ৮টি সেক্টরে ভাগ করে দায়িত্ব পালন করে র্যাব-পুলিশ, এপিবিএনসহ ২ প্লাটুন বিজিবি। বসানো হয় ২৪টি চেকপোস্ট। মাঠের ভেতরে-বাইরে বসানো হয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। মেটাল ডিটেক্টরে দেহ তল্লাসীর পর নির্ধারিত গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় মুসুল্লীদের। মাঠের আশপাশের নিরাপত্তায় আকাশে নজরদারি করে শক্তিশালী ক্যামেরাযুক্ত দুইটি ড্রোন।

    Top-(3)

    পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম জানান, গত বছর এ মাঠে প্রায় ৫ লাখ মুসুল্লীর সমাগম হয়েছিল। এবার কোরবানির কারণে মুসুল্লী কম হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কোনো কমতি ছিল না। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে জামাত শেষ হয়েছে।

    Top-(4)

    শোলাকিয়া মাঠের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, কোনো নিরাপত্তা হুমকি না থাকলেও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। এছাড়াও দূরের মুসুল্লীদের জন্য ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জে দু’টি বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করে প্রশাসন।

  • বরিশালে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

    বরিশালে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

    শেখ সুমন :

    বরিশালে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৮টায় নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল,নব নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান,বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীরসহবিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা সহ নগরীর বিভিন্ন শ্রেনি পেশার কয়েক হাজার মুসল্লি কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।নামাজ শেষে নেতৃবৃন্দ পরস্পরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    নামাজ শেষে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানীর জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে আজকের মধ্যে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেন সিটি মেয়র।নামাজ পরবর্তী ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান দেশ ও জাতির অগ্রগতি কামনা করে বলেন, ত্যাগের মহিমায় কোরবানি দিয়ে প্রত্যেকের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করা।এসময় তিনি ১৫ আগস্ট জাতির জনকসহ অন্য শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। দেশের সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    বরিশালে এবারও ঈদের সর্ববৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফের মাঠে সকাল ৯টায়। পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি মো. রেজাউল করিম ঈদ জামাতে ইমামতিত্ব করেন।বরিশালের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় পিরোজপুরের নেছারাবাদ ছারছিনা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৮টায়।

    এছাড়া ঝালকাঠীর মরহুম কায়েদ সাহেব হুজুর প্রতিষ্ঠিত এনএস কামিল মাদ্রাসা মাঠে সকাল ৮টায়, পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ হযরত ইয়ারউদ্দিন খলিফা (রা.) মাজার শরীফ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং বরিশালের উজিরপুরের গুঠিয়ার দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স ও ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    দুটি করে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল নগরীর চক বাজারের জামে এবাদুল্লাহ মসজিদে সকাল সকাল ৮টায় ও সাড়ে ৯টায়, হেমায়েত উদ্দিন রোডের জামে কসাই মসজিদে সকাল ৮টায় ও সাড়ে ৯টায় এবং সদর রোডের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ও ৯টায়।

    এছাড়া গোরস্থান রোডের আঞ্জুমান-ই হেমায়েত-ই ইসলাম ময়দানে সকাল ৮টায়, পুলিশ লাইনস্ মাঠে সকাল পৌঁনে ৯টায়, নূরিয়া স্কুল মাঠে সকাল ৮টায় এবং কেন্দ্রিয় কারাগার জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় সহ বরিশাল নগরী এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বড় ছোট সহস্রাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।ঈদ জামাতের পর বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানী করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।