Category: ধর্ম

  • প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনায় অনেক প্রস্তুতি হেফাজতের

    প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনায় অনেক প্রস্তুতি হেফাজতের

    রাকিব সিকদার নয়ন:

    কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ায় আগামী ৪ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাতে হবে শুকরানা মাহফিল।

    মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর পীরজঙ্গী মাজার মাদ্রাসায় এ শুকরানা মাহফিলের প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুকরানা মাহফিল সফলের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    এ মাহফিলে কাদিয়ানিদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা, ইসলামবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করা এবং আলেম, ইমাম ও ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হবে। শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে শুকরানা মাহফিলে যোগ দেবেন সারাদেশের হেফাজত ইসলামপন্থী কওমি আলেম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবারের শুকরানা মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আশরাফ আলী। এতে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কুদ্দুছ, মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল বছীর, মাওলানা মুহাম্মাদ আরশাদ রহমানী, মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ আলী, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি নূরুল আমীন, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া এবং মাওলানা মুহাম্মাদ সফিউল্লাহ।

    এছাড়া ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রায় দেড় হাজার মুহতামিম ও আলেম উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। মাহফিলে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও উচ্চ শ্রেণির ছাত্রদের উপস্থিতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বেফাকসহ ছয়টি কওমি শিক্ষাবোর্ডের ওপর।

  • মহানবী (স.) কে কটূক্তি না করতে ইউরোপীয় আদালতে রুল জারি

    মহানবী (স.) কে কটূক্তি না করতে ইউরোপীয় আদালতে রুল জারি

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কোনোরকম কটূক্তি না করতে রুল জারি করেছে ইইউ আদালত। বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) এ রুল জারি করে।

    ২০১১ সালের করা এক অস্ট্রিয় নারীর অভিযোগের বিচারের রায়ে নবী মুহাম্মদ (স.) কে কোনোরুপ অপমানজনক বক্তব্য দেয়া যাবে না সমর্থন জানিয়ে এই রুল জারি করে তারা।

    এ মর্মে ইসিএইচআর জানায়, ইসলামের নবীকে নিয়ে কুটূক্তি কোনোমতেই কারও বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়েনা।

    উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ‘বেসিক ইনফরমেশন অন ইসলাম’ শীর্ষক সেমিনারে নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন এক অস্ট্রিয় নারী।

    ধর্মীয় আদর্শকে অবমাননা ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারিতে ওই নারীকে ৪৮০ ইউরো (সাড়ে ৫শ’ ডলার) অর্থদণ্ড দেয় অস্ট্রিয়ার আদালত।

    ওই নারী এর বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার নিম্ন ও উচ্চ আদালতে যান। কিন্তু সেখানে আদালত তার অভিযোগ গ্রহণ না করায় তিনি ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) এ অভিযোগ করেন।

    ওই নারীর অভিযোগ দীর্ঘ সময় বিচার বিশ্লেষণের পর ইইউ আদালত বৃহস্পতিবার ওই নারীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা দেয়। এর আগে ধর্মীয় ব্যাক্তিত্বকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর পক্ষের কোনো অভযোগ পেলে আদালত পদক্ষেপ নেবে বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল অস্ট্রিয়ার আদালত।

    সে সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ইসিএইচআর জানায়, অন্য ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতি সুরক্ষিত রাখতে ও ধর্মীয় শান্তি সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ রুল জারি করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় মোট জনসংখ্যা ৮.৮ মিলিয়ন, যেখানে ৬ লাখ মুসলিম অধিবাসী রয়েছেন।

  • বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ বানাবে সৌদি

    বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ বানাবে সৌদি

    বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ করতে চায় সৌদি সরকার। সৌদি সরকারই এ মসজিদ নির্মাণের সমস্ত ব্যয় বহন করতে ইচ্ছুক।

    সোমবার রাতে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ ইচ্ছা প্রকাশ করেন সফররত সৌদি প্রতিনিধি দল।

    উক্ত বৈঠকে মসজিদটি সৌদি বাদশাহর নামে নির্মাণ করতে চায় সৌদি সরকার বলে জানান সৌদি প্রতিনিধি দল।

    মসজিদটি নির্মাণের জন্য জমি নির্বাচন, আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ও আনুষঙ্গিক খরচের বাজেট দিলে তারা মসজিদ নির্মাণের সমুদয় অর্থ বহন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলটি।

    সৌদি সরকারের ইচ্ছাপ্রকাশের এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান।

    রাজউকের সঙ্গে আলাপ করে পূর্বাচলে পাঁচ-ছয় বিঘা জমি খুঁজে করবেন বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মোট ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে সৌদি প্রতিনিধি দলের সামনে একটি ভিডিও উপস্থাপন করে বাংলাদেশ প্রতিনিদি দল।

    এসময় বাংলাদেশ সরকার এসব মসজিদ নির্মাণে সৌদি সরকারের আর্থিক সহায়তা কামনা করে।

    ভিডিওটি দেখার পর সৌদি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ উদ্যোগেকে স্বাগত জানায় এবং তারা এ ব্যাপারে এক মাসের মধ্যে কত অনুদান দেবেন তা জানিয়ে দেন।

    তবে তারা এ মুহূর্তে রাজধানী ঢাকায় কয়েক বিঘা এলাকাজুড়ে সৌদি বাদশাহর নামে একটি বড় মসজিদ স্থাপনের আশা ব্যক্ত করেন।

    উক্ত সভায় বাংলা‌দেশ সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যস‌চিব মো. ন‌জিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাম‌রিক স‌চিব মেজর জেনা‌রেল মিয়‌া মো. জয়নুল আবে‌দিন, ধর্মস‌চিব মো. আনিছুর রহমান, অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের অর্থ বিভা‌গের ভারপ্রাপ্ত স‌চিব আবদুর রউফ তালুকদার, ব‌হিঃসম্পদ বিভা‌গের অতি‌রিক্ত স‌চিব মোহাম্মদ শামসুল আলম, ধর্ম মন্ত্রণাল‌য়ের অতি‌রিক্ত স‌চিব ডা. মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন, ইসলামী ফাউ‌ন্ডেশ‌নের মহাপ‌রিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল‌য়ের মহাপ‌রিচালক মো. আ‌জিজুর রহমান।

    সফররত সৌ‌দি প্র‌তি‌নি‌ধি দ‌লের সদস্যরা হলেন, সৌ‌দি অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের উপ‌দেষ্টা ফাহাদ আল ওতাইবি, সৌ‌দি ইসলা‌মিক অ্যা‌ফেয়ার্স, দাওয়াহ ও গাই‌ডেন্স বিষয়ক মন্ত্রণাল‌য়ের অফিস ডাই‌রেক্টর শেখ আহ‌মেদ আলী রু‌মি, অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের প্র‌কৌশলী মুতলাক আল খাতা‌নি, অর্থ বিভা‌গের প্র‌তি‌নি‌ধি টার‌কি আল আলা‌বি ও বাংলা‌দেশে সৌ‌দি দূতাবা‌সের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।

  • হার্টের ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন

    হার্টের ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন

    শামীম ইসলাম:

    হার্ট বা হৃদপিণ্ড মানুষের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এ হৃদপিণ্ড সম্পর্কে হাদিসে পাকে এসেছে যে, মানুষের শরীরে একটি গোস্তের টুকরো আছে, যার এ টুকরোটি সুস্থ থাকবে, তার পুরো শরীরই সুস্থ থাকবে। আর যার এ গোস্তের টুকরোটি অসুস্থ হয়ে যাবে, তার পুরো শরীরই অসুস্থ হয়ে যাবে। আর তা সুস্থ রাখার উপায় হলো আল্লাহর জিকির।

    মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি হার্ট বা হৃদপিণ্ড বর্তমান সময়ে অনেক বেশি রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা বা যে কোনো রোগের সম্মুখীন হলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

    তবে কুরআনুল কারিমের আমলেও হৃদপিণ্ডের ব্যথা ও ব্যধি থেকে মুক্ত থাকা যায়। যারা নিয়মিত কুরআনের আমল করবে আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদপিণ্ডের ব্যথাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যধিগুলো দূর করে দেবেন। দোয়াটি হলো-

    Doa-Inner

    উচ্চারণ : আল্লাজিনা আমানু ওয়া তাত্বমাইন্নু ক্বুলুবুহুম বিজিকরিল্লাহি আলা বিজিকরিল্লাহি তাত্বমাইন্নুল ক্বুলুবু।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১৩)

    আমল
    যে ব্যক্তি সুরা রাদের উল্লেখিত আয়াত নিয়মিত ৪১ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা ও রোগ-ব্যধি দূর করে দেবেন।

    আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী বেশি বেশি জিকির করাও জরুরি। সুতরাং আল্লাহর স্মরণ ও কুরআনের আমলই মানুষকে হার্ট বা হৃদপিণ্ডের যাবতীয় রোগ-ব্যধি ও ব্যথা থেকে মুক্ত রাখতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হার্ট বা হৃদপিণ্ডের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত কুরআনের আমল করার তাওফিক দান করুন। বুকের সব ধরনের ব্যথা থেকে হেফজাত করুন। আমিন।

  • বরিশালে পূজোর ভ্যান ও শারদীয় মিলন মেলার উদ্বোধণ করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    বরিশালে পূজোর ভ্যান ও শারদীয় মিলন মেলার উদ্বোধণ করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    শেখ সুমন :

    আজ শনিবার বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে উদযাপিত হয় পূজোর ভ্যান ও শারদীয় মিলন মেলা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ৭ম শারদ সম্মাননা ও শারদীয় মিলন উৎসবের উদ্বোধণ করেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবাহান চৌধুরী ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত্ব করেন পূজোর ভ্যান ও শারদীয় মিলন মেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ভানু লাল দে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পূজোর ভ্যান ও শারদীয় মিলন মেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব অপূর্ব অপু ।

    অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: মোশারফ হোসেন, জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, বরিশাল জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মৃনাল কান্তি সাহা, বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র দে নারু, সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিৎ দত্ত লিটু, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোহাম্মদ এবং অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী রফিকুর রহমান।

    শারদীয় দুর্গা পূজায় বরিশাল মহানগরের সেরা নান্দনিক প্রতীমা তৈরীতে  পুরষ্কার গ্রহণ করে, পাষানময়ী কালিমাতার মন্দির, ফলপট্রি মহানগর পূজা মন্ডপ ও শ্রী শ্রী শংকর মঠ।

    সেরা সাজসজ্জায় পুরষ্কার গ্রহণ করে, পাষানময়ী কালিমাতার মন্দির, ফলপট্রি মহানগর পূজা মন্ডপ ও অগ্রগামী যুব সংঘের দুর্গা পূজা।

    সেরা আলোকসজ্জায় পুরষ্কার গ্রহণ করে, পাষানময়ী কালিমাতার মন্দির, জগন্নাথ দেবের মন্দির ও ভাটিখানা পূজা মন্ডপ ।

    এবং সাবিকী প্রতীমা তৈরীতে পুরষ্কার গ্রহণ করে, সোনাঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বড় কালিবাড়ি মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও সাগরদী পূজা মন্ডপ।

    এছাড়াও সকল পূজা মন্ডপকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

    পুরষ্কার বিতরণ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যনাট্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ মঞ্চায়ন করা হয়।

  • কেবল মক্কা আর মদিনা ছিল দৃশ্যমান,আর পৃথিবীর বাকি সবই ছিল অন্ধকার: সুনিতা উইলিয়াম

    কেবল মক্কা আর মদিনা ছিল দৃশ্যমান,আর পৃথিবীর বাকি সবই ছিল অন্ধকার: সুনিতা উইলিয়াম

    মহাকাশ অঙ্গনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সম্পর্কে সুনিতা উইলিয়াম নিজেই বলেছেন যে, ‘আমি যখন পৃথিবী থেকে প্রায় ২৪০ মাইল উপরে উঠলাম, তখন পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে পৃথিবীপৃষ্ঠে দুটি তারা (আলো) দেখতে পেলাম।

    এর পর একটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে আলো দুটি দেখার চেষ্টা করলে দেখি, একটি আলোর অবস্থান মক্কায় আর অন্যটি মদিনায়। এই দৃশ্য দেখার পর আমি প্রচণ্ডভাবে অভিভূত হই এবং তখনই ইসলাম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিই। পরে ইসলাম গ্রহণ করে ফিরে এসে।

    একটি নভোযান পাঠানো হলো বরাবরের মতোই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে। ২০০৬ সালের কথা। যে অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশের খোঁজখবর সংগ্রহ করাই।

    অন্য গবেষকদের সঙ্গে সে নভোযানে অবস্থান করছিলেন সুনিতা উইলিয়াম। মহাকাশ গবেষণাযানটি যখন পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ২৪০ মাইল উপরে, হঠাৎ নিচের দিকে চোখ আটকে যায় সুনিতার। পৃথিবী পৃষ্ঠে তারার মতো তিনি দুটি আলো জ্বলতে দেখলেন।

    তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন সুনিতা; ভাবলেন, পৃথিবীপৃষ্ঠে তো কোনো আলোকশিখা থাকার কথা নয় এভাবে জ্বলে থাকার মতো। সঙ্গীদের ডেকে দেখালেন এবং টেলিস্কোপের সাহায্যে আলো দুটিকে নির্ণয় করার চেষ্টা চালালেন।

    তবে এই আলোকরশ্মি দুটি কি? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলো সুনিতার। আরো কাছে, আরো পরিষ্কারভাবে দেখলেন, আলো দুটির কেন্দ্রস্থল পৃথিবীর মক্কা ও মদিনা। মহাকাশমুখি এই আলোকরশ্মি দুটি বিকিরিত হচ্ছে মক্কা শহরের কেন্দ্রস্থল ও মদিনা শহরের কেন্দ্রস্থ থেকে।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনিতা উইলিয়াম ১৯৬৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ায়ো অঙ্গরাজ্যের ‘ইউক্লিডে’ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দীপক পাণ্ডে ও মা বনি পাণ্ডে উভয়ই ছিলেন ভারতীয় হিন্দু।

    সব জল্পনা-কল্পনা এবং সন্দেহ-কানাকানির ইতি টেনে গত রমজান মাসে ওমরাহ পালন করতে এসে নিজের মুসলমান হওয়ার ঘোষণা দিলেন সুনিতা উইলিয়াম এবং গর্ব করে বললেন, ‘আমি এখন একজন মুসলমান, এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগছে।

    নাসার প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সুনিতার ইসলাম গ্রহণ করা বিষয়ে তাঁকে চেনেন বা জানেন এমন অনেকের মন্তব্য ছিল অনেকটাই এরকম- ‘আর কারো পক্ষে সম্ভব হলেও সুনিতার পক্ষে এটা কখনো সম্ভব নয়। কারণ সে ছিল ইসলাম বিদ্বেষী’।

    আর আমি এখন একজন মসলমান।’ ইসলাম গ্রহণ করা নিয়ে শত জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে ওমরাহ পালন করতে আসা সুনিতা উইলিয়াম জেদ্দার হোটেল হিলটনে বসে এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন তাঁর ইসলাম গ্রহণ করার কাহিনী।

    সাংবাদিকদের শোনাচ্ছিলেন তাঁর মুসলমান হওয়ার রোমাঞ্চকর গল্প। এ সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করার নেপথ্যে থাকা ঘটনা ব্যক্ত করার পাশাপাশি উত্তর দেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও।

    যে দেশে কোন মসজিদ নেই, গোপনে নামাজ পড়েন মুসলমানেরা!

    ‘জানেন এই থিম্পুতে ৯টি গির্জা আছে। অথচ কোনো মসজিদ নেই। আমরা মুসলমানেরা তো কম নই। আপনি মিডিয়ার লোক। যদি পারেন ভুটানে মসজিদ নেই এ বিষয়ে কিছু একটা করেন।’ ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বলছিলেন হাজী আবদুল কাদের। ভারতের বিহারের এই মুসলমান বিয়ে করেছেন ভুটানি এক মহিলাকে।

    থাকেন থিম্পুতে। গোশত আর মাছের ব্যবসা আছে তার। থিম্পুর কক টাওয়ারসংলগ্ন নারজিন ল্যাম সড়কে তার গোশতের দোকান। ভারতের ব্যাঙ্গালুর থেকে গরুর হালাল গোশত আমদানি করে বিক্রি করেন থিম্পুতে। থিম্পুতে একমাত্র ওই দোকানেরই এক অংশে নামাজ ঘর বানিয়েছেন তিনি।

    ছোট পরিসরের এই রুমেই হয় জুমার নামাজ। পায়ের ব্যথার জন্য থিম্পু ইমটাটে ভারতীয় গ্রিফ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা নামাজ ঘরে যেতে পারেন না তিনি। তাই ১২-১৩ বছর আগে বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই নামাজ ঘর বানিয়েছেন তিনি। এই নামাজ ঘরের মুসল্লিরা আবার হাতেগোনা ৩০-৩৫ জন। শুধু জুমার নামাজই পড়ার সুযোগ পান এখানে।

    মুসল্লিরা সবাই ভারত থেকে থিম্পুতে রুটি-রুজির জন্য আসা নিম্ন আয়ের গরিব মুসলমান। অন্যদের এখানে নামাজ পড়তে দিতে চান না আবদুল কাদের। তাকে দেয়া অনুমতির খবর জানাজানি হলে যদি ঝামেলা পোহাতে হয়। ভারতীয় মুসলমান আজিবর, রিপন শেখদের দেয়া তথ্য, ‘ভুটানে কাজ করা ভারতীয় শ্রমিকদের ৯০ শতাংশই মুসলমান’।

    এই নামাজ ঘরের ছবি তুলতে গেলে ভীষণ আপত্তি এই মুসলমানদের। ‘ভাই আপনি যদি ছবি তোলেন এবং তা জানাজানি হয়ে যায় তাহলে এখানে আমাদের নামাজ পড়াই বন্ধ হয়ে যাবে।’ অনুরোধ নামাজিদের। এর পরও নিউজের প্রয়োজনে একটি ছবি তুলেছি।

    ২০১৩ সালে বিজেএমসি ফুটবল দলের সাথে ভুটান সফরের সময় এই হালাল গোশতের দোকানের সন্ধান পেয়েছিলাম ভারতীয় এক মুসলমানের কাছ থেকে। তখন জানতাম না এখানে যে নামাজ হয়। সে সময় থিম্পুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন তথ্য দিয়েছিলেন, ‘এখানে প্রকাশ্যে নামাজ পড়া নিষেধ। বাংলাদেশ দূতাবাসে আমরা জুমার নামাজের ব্যবস্থা করলেও পরে ভুটান সরকারের নির্দেশে তা বন্ধ করতে হয়।

    ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যাচ কভার করতে থিম্পুতে গিয়ে হোটেল গাসেলের কর্মচারী মইনুলের কাছে জানতে পারি থিম্পুতে বাংলাদেশীরা এক জায়গায় জুমার নামাজ পড়েন। সে স্থানকে মইনুলরা নাম দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ’।

    সময় স্বল্পতায় মইনুল সেখানে নিয়ে যেতে পারেননি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল কভার করতে গিয়ে এই গোশতের দোকান কাম নামাজ ঘরের সন্ধান পাই। কিন্তু আমাকে সেখানে জুমার নামাজ পড়ার অনুমতি প্রথমে দিতে চাইছিলেন না হাজী কাদের। কারণ আমি বিদেশী। এসেছি বাংলাদেশ থেকে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য দিলেন সবুজ সঙ্কেত।

    কিন্তু পরদিন আসরের নামাজ পড়তে গেলে বাধা দেন আবদুল কাদের। শেষ পর্যন্ত অনুরোধের সূরে বললেন, ‘ভাই দয়া করে আপনি আর এখানে নামাজ পড়তে আসবেন না। আজ পড়ে যান। এর পর থেকে আপনার হোটেলেই নামাজ আদায় করে নেবেন।’

    নেপথ্য উল্লেখ করলেন, ‘আপনি বাইরের লোক। আপনি এখানে নামাজ পড়তে আসেন এটা জানাজানি হয়ে গেলে আমি খুব সমস্যায় পড়ে যাবো। বিশেষ অনুমতি নিয়ে আমি এখানে নামাজের ব্যবস্থা করেছি। আমরা কয়েক জনের জন্য।’

    এরপর কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে তার অসহায় আত্মসমর্পণ, জানেন এভাবে কতজনকে যে আমি এখানে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছি। এতে অনেক পাপ হয়েছে আমার। কিন্তু কী করব। আমি যে নিরুপায়। এখন আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করলেই হলো।

    ২০১৭ সালে ভারতের কুচবিহার থেকে আসা ইমাম মুর্শিদে আলমের ইমামতিতে জুমার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছিল। ২০১৮ সালের আগস্টে ইমাম হিসেবে পেয়েছি নজরুল ইসলামকে। অক্টোবরে আর নজরুলকে পাইনি।

    তাকে নতুন করে ভুটানে কাজের অনুমতি দেয়নি ভুটান সরকার। তাই ফিরে গেছেন ভারতে। ৮-৯ বছর আগে নজরুলকে ভুটানি পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল এখানে নামাজ পড়ার জন্য। ফলে এর পর থেকে তারা গোপনে শুধু জুমার নামাজ পড়ে এই গোশতের দোকানে। আগে এখানে খতম তারাবিও হতো। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

    ভুটানে প্রাণী জবাই করা নিষেধ। ফলে কোরবানি দেয়ার জন্য ভারতীয় মুসলমানেরা চলে যান তাদের দেশে। অবশ্য ভুটানে গরু, ছাগল, মহিষ জবাই নিষিদ্ধ হলেও এর গোশত খেতে কোনো সমস্যা নেই। তাই ভারত থেকে জবাই করা এসব প্রাণীর গোশত আমদানি করা হয়। সাধারণ শ্রমিকের কাজও করে না ভুটানিরা। এই শ্রমিকও ভারতের। এতে ভুটানিদের টাকা চলে যায় প্রতিবেশী দেশটিতে। এখন তা বুঝতে পারছে ভুটানিরা।

    কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার দেশ ভুটান। রাস্তায় কোনো গাড়ি হর্ন বাজায় না। জেব্রা ক্রসিংয়ে মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখলে গাড়ির ড্রাইভাররা থামিয়ে দেন গাড়ি। জনগণ নির্বিঘেœ পারাপার করেন রাস্তা।

    কেউ জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হলে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে অর্থদণ্ড দিতে হয়। প্রকাশ্যে ধূমপান নিষেধ। মদপানে বেশ এগিয়ে ভুটানিরা। কিন্তু তা করতে হয় নির্দিষ্ট স্থানে। ভুটানের প্রতিটি দোকানই যেন একটি মিনিবার।

    কোনো চোর ডাকাত নেই। রাস্তায় গাড়ি রেখে রাতে বাড়ি চলে যান স্থানীয়রা। সবাইকে অবশ্য গাড়ি রাখার জন্য পয়সা দিতে হয় সরকারের ভাণ্ডারে। সবার জন্য গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা আছে। থিম্পুর গাসেল হোটেলের মালিক সনম জানান, ‘আমরা ভুটানিরা চোর নই। চুরি চামারির ঘটনা ঘটায় ভারত থেকে আসা লোকেরা।’

    ভুটানিরা যে সৎ এর প্রমাণও মিলল। থিম্পুর চাংলিমাথান স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণায় ব্যাগ রেখে অন্যত্র গিয়ে দেখলাম কেউ আমার ব্যাগটি ছুঁয়েও দেখেনি। এবার সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের ফাইনালের দিন ভুটানে কর্মরত বাংলাদেশী নাশিদ ভুল করে গ্যালারিতে তার ছাতা রেখে চলে চান। এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে নির্দিষ্ট স্থানেই পান তার ছাতাটি। কেউ নেয়নি। মোটামুটি লেখাপড়া জানা সব ভুটানিই ভালো ইংরেজি জানেন। জাতি হিসেবে বেশ ভদ্র।

    ২০০২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছয়বার ভুটান সফরে তাদের এমনই পেয়েছি। তবে এখন দেশটির যুবসমাজ পর্নোগ্রাফি ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যানে তা ধরা পড়েছে। জানান স্থানীয় কুইনসেল পত্রিকার সাংবাদিক সনম ছোডেন। মিডিয়ার অবশ্য কোনো স্বাধীনতা নেই।

    সরকার বা আমলাদের বিরুদ্ধে কোনো নিউজ হলে চাকরি হারাতে হয় ওই সাংবাদিককে। তবে নাগরিকদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা ফ্রি। সরকারি খরচেই তাদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা। ভুটানে ডাক্তারদের প্রাইভেট চিকিৎসা নিষিদ্ধ। সবাইকে কাজ করতে হয় সরকারি হাসপাতালে।

    রাজাকে তারা খুব সম্মান করেন। নীতি ও নিষ্ঠাবান রাজা খুবই জনপ্রিয়। এত নিয়ম মানা দেশে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য কোনো মসজিদ থাকবে না তা মেনে নেয়া কষ্টকর। মূলত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে স্থানীয় মুসলমানের সংখ্যা খুব কম। তারা ভয়ে মুসলমান হিসেবে পরিচয়ও দিতে চান না।

    জানান ভারতীয় মুসলমান মুহাম্মদ হোসেন। পর্যটক হিসেবে আসা মুসলমানদের নামাজ সারতে হয় হোটেলে বা ঘরে। অবশ্য এবার বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর শাবাব বিন আহমেদ জানান, আগে কী হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমরা এখন দূতাবাসে নামাজের ব্যবস্থা করেছি।

    জুমার নামাজও হয় সেখানে। রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী জানান, মাঝে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ছিল বাংলাদেশ দূতাবাসে। তবে এখন যারা নামাজ পড়তে আসেন তাদের গেটে নাম ঠিকানা লিখে এরপর নামাজ পড়তে আসতে হয়।’ গাড়ির গ্যারেজে জুমা ও ঈদের নামাজের ব্যবস্থা।

    দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, নতুন যে স্থানে বাংলাদেশ দূতাবাস নির্মাণ করা হবে সেখানে নামাজের জন্যও নির্দিষ্ট স্থান থাকবে।

    ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয় মুসলমানেরা এখন তাকিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দিকে। বাংলাদেশ দূতাবাস যদি একটি মসজিদ বানায় তাহলে তাদের নিয়মিত নামাজের একটি জায়গা হবে। ভারত থেকে আসা বর্ষীয়ান আবদুল হাকিমের মতে, ভুটান সরকারের সাথে চমৎকার সম্পর্ক বাংলাদেশের।

    এখন বাংলাদেশ সরকার যদি একটু জোর চেষ্টা চালায় তাহলে আমরা ভুটানে একটি মসজিদ পাবো নামাজের জন্য।’ তিনি ও আবদুল কাদের জানালেন, ‘ভুটানের ততীয় রাজা আগে ঈদের নামাজের সময় শুভেচ্ছা জানাতে আসতেন। তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন মসজিদের জন্য জায়গা দেয়ার। পরে তা আর হয়নি।’

    বিশ্বের প্রায় সব দেশের রাজধানীতেই মসজিদ আছে। অথচ ব্যতিক্রম ভুটান। পুরো দেশের কোথাও নামাজের জায়গা নেই। কেন মসিজদ নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় ভুটানিদের মতে, মসজিদ নির্মাণ হলে তা হবে ইসলামের একটি সেন্টার। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভুটানিরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাবে। এ আতঙ্কেই মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়া।

  • কেরালায় বিক্ষোভের মুখে মন্দিরে ঢুকতে পারেননি দুই নারী

    কেরালায় বিক্ষোভের মুখে মন্দিরে ঢুকতে পারেননি দুই নারী

    পাহাড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ বেয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। সোনার তৈরি ধাপটিতে পৌঁছাতে সিঁড়ির আর মাত্র ১৮টি ধাপ বাকি ছিল। দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। এই সোনালি ধাপটুকু পেরোতে পারলেই তাঁরা পৌঁছে যেতেন পবিত্র মন্দিরটিতে। গড়তে পারতেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ভঙ্গের ইতিহাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় উন্মাদনার কাছে হার মানতেই হলো তাঁদের। আইনও তাঁদের এই পবর্তসম ধর্মান্ধতাকে চিরে আলো পৌঁছানোর পথ তৈরি করে দিতে পারল না।

    ভারতের কেরালা রাজ্যে সাবারিমালায় পাহাড়ের ওপর আয়াপ্পা দেবতার মন্দিরে দুই নারীকে প্রবেশ থেকে বিরত রাখতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন পুরোহিতেরা। নারীদের মাসিকের সময় বিবেচনায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। শত শত বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।

    পুরোহিতদের এই বাধার মধ্য দিয়ে যেন আরেকবার প্রমাণ হলো, পুরুষেরাই ধর্মীয় ব্যাপারে নেতৃত্বের অবস্থানে থাকবেন। নারীরা শুধুই পালন করে যাবেন। তা–ও পালন করতে হবে পুরুষের বেঁধে দেওয়া নিয়মের বেষ্টনীর মধ্যে থেকে। ধর্ম নিয়ে নারীরও যে আবেগ প্রকাশের অধিকার আছে, তা যেন উপেক্ষিতই থেকে যাবে। ধর্মপ্রাণ নারীদের যেন তা–ই করতে হবে, যা পুরুষ চায়।
    যে দুই নারী রীতি ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, মন্দিরে পৌঁছানোর আইনি প্রবেশাধিকার তাঁরা সঙ্গে নিয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু আইন তাঁদের রক্ষাকবচ হতে পারেনি।

    এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, শুক্রবার পুলিশি পাহারায় একজন সাংবাদিকসহ দুজন নারী লক্ষ্যে পৌঁছানোর সময় শেষ ধাপে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মন্দিরের পুরোহিতরা। নারী দুজন শেষ আধা কিলোমিটারের সোনালি ধাপ পেরোতে চাইলে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা। সব ধরনের ধর্মীয় প্রথা ও প্রার্থনা বন্ধ করে মন্দির বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
    সাবারিমালা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কানদারারু রাজিভারু বলেন, ‘আমরা মন্দির বন্ধ করে চাবি হস্তান্তর করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ভক্তদের পাশে আছি। আমার কাছে আর কোনো উপায় নেই।আয়াপ্পা দেবতার মন্দিরে নারীদের প্রবেশে বাধা দিতে পথ অবরোধ করে রেখেছেন ভক্তরা। ছবি: এএফপিপুলিশ দুই নারীকে এই বার্তা জানানোর পর তাঁরা ফিরে আসতে রাজি হন। ঘটনাস্থলে পুলিশের দলের নেতৃত্বে থাকা মহাপরিদর্শক (আইজি) এস শ্রিজাত বলেন, ‘আমরা নারীভক্তদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছি, তাঁরা ফিরে যেতে রাজি হয়েছেন। তাই আমরা ফিরে যাচ্ছি। তাঁরা আবার ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন।’

    সকালে বিক্ষোভরত ভক্তদের উদ্দেশে শ্রিজাত বলেন, ‘আমিও একজন আয়াপ্পাভক্ত। এখানে এসেছি সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পালনে। আমি মনে করি, নারীদের মন্দিরের ভেতর প্রবেশের অধিকার রয়েছে।’
    কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি। তাঁরা দুই নারীর মন্দিরে প্রবেশের মুখে বাধা দেন।

    গত মাসে দেবতা আয়াপ্পার মন্দিরে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এই ঐতিহাসিক নির্দেশের পর তিন দিন আগে মন্দিরটির খোলা হয়। অন্য ভক্তদের মতে, আদালত সে ক্ষেত্রে আবেগ ও ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেননি। তাঁদের ভাষায়, আয়াপ্পা একজন কুমার দেবতা এবং নারীদের ঋতুকালীন বয়স ‘বিশুদ্ধ নয়’।

    মন্দিরটি পরিচালনায় থাকা দেবাসম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী কাদাকামপালি সুরেনদ্রান এনডিটিভিকে বলেছেন, যে দুজন নারী মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তাঁরা ভক্ত নন, অধিকারকর্মী। সত্যিকারের কোনো ভক্ত সেখানে যেতে চাইলে সুরক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো অধিকারকর্মীকে সাবারিমালাকে তাঁদের জায়গা হিসেবে প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    হায়দরাবাদের মোজো টিভির সাংবাদিক কবিতা জাক্কাল হলুদ হেলমেট মাথায় বিক্ষোভের মধ্যে মন্দিরে যাচ্ছিলেন। তাঁকে ঘেরাও করে রেখেছিল পুলিশ। ৩০০ পুলিশ ঘেরাও করে নিয়ে যাচ্ছিল তাঁকে। আরেক নারী কালো শাড়ি পরে, দেবতা আয়াপ্পার জন্য রীতি অনুসারে প্রার্থনার সরঞ্জাম মাথায় নিয়ে আলাদাভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী নারী ম্যারি সুইটি ফিরে আসতে রাজি ছিলেন না। তিনি জানান, তিনি গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে গেছেন, আয়াপ্পাও দেখতে চান। সে সময় পুলিশ তাঁকে নিজ দায়িত্বে যেতে বলেন। পাম্বা থেকে তাঁরা ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ বেয়ে উঠেছিলেন।
    বিক্ষোভকারী ভক্তদের দুই দিন ধরে মন্দিরে নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিলাক্কাল ও পাম্বা বেজ ক্যাম্পে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে । সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ক্রমাগত হুমকির মুখে নারীরা ফিরে আসতে বাধ্য হন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও দুজন সাংবাদিক যাঁর একজন ‘নিউইয়র্ক টাইমস’–এর ভারতীয় সাংবাদিক মন্দিরের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে ফিরে আসেন।

  • বরিশালে ৬০১ মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব

    বরিশালে ৬০১ মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব

    ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বরিশালেও শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গত রবিবার সন্ধ্যায় বেল বরণের মধ্য দিয়ে পূঁজা শুরু হলেও সোমবার অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠী বিহিত পূজা। সায়ংকালে শারদীয় দুর্গাদেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এদিন ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন। ভক্তদের আনাগোনায় মন্দিরে মন্দিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এবার পূজা মন্দিরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তায় খুশী সনাতন ধর্মাবলম্বিরা।

    বরিশাল বরিশাল জেলার ১০ উপজেলা এবং মহানগরীতে মোট ৬০১টি সার্বজনীন মন্দিরে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে পূজা উদযাপন কমিটি সূত্র জানিয়েছে।

    বা/মু/প্র// শেখ সুমন ।

  • বরিশালে একশ দুস্থ্য নারীকে বস্ত্র বিতরন

    বরিশালে একশ দুস্থ্য নারীকে বস্ত্র বিতরন

    সাঈদ পান্থ:

    শরতের দিনে সবার ঘরে খুশি পৌছে দিতে বরিশালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দি অডেশাস্ এর আয়োজনে ‘সবার ঘরে শরৎ খুশি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে নগরীর প্রায় একশ দুস্থ নারীর মাঝে বস্ত্র বিতরন, সংগীতা, নৃত্য ও কমেডি শো অনুষ্ঠিত হয়।

    শুক্রবার বিকেলে নগরী এ.কে ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নুরুজ্জামান। দি অডেশাস্ এর সভাপতি সাঈদ পান্থ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা শান্তা।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের ২৭টি সংগঠনের জোট সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ, খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি এ্যাড. নজরুল ইসলাম চুন্নু, এ.কে ইন্সটিটিউট এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ গোলাম মাসউদ বাবুল, পঞ্চসিড়ি গ্রুপ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ও সমাজসেবক অধির খাসকেল। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন অনিরুদ্ধ খাশকেল হিমাদ্রী ও র্দুজয় সিংহ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের বড় বড় আন্দোলনে তরুনদের বড় ধরনে অবদান রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম। এ দেশ সব দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়া স্রোতে দি অডেশাস্ও গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করছে। অনুষ্ঠানে বরিশাল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • আজ শুভ মহালয়া

    আজ শুভ মহালয়া

    আজ শুভ মহালয়া। দেবীপক্ষের শুরু। শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া নামে পরিচিত। মহালয়া শব্দের আক্ষরিক অর্থ আনন্দনিকেতন। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন, এই দিনই মহালয়া। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন, অর্থাৎ পূর্ণিমায়।

    মহালয়া মানে দুর্গাপূজার দিন গণনা। মহালয়ার ছয় দিন পর মহাসপ্তমী। সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী সুর বাজবে আজ থেকে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ছয়টায় মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু হবে। চণ্ডীপাঠ দিয়ে শুরু হবে দেবীর আবাহন।

    সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে মহালয়া উদ্‌যাপনের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে চণ্ডীপাঠ করবেন কলকাতা থেকে আসা পণ্ডিত সুনীল চক্রবর্তী। গীতিনৃত্য আলেখ্য পরিবেশন করবেন বেতার ও টিভির শিল্পীরা।