Category: ধর্ম

  • তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

    তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

    বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের বিষয় নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।

    বৈঠকে তাবলিগ জামাতের অনেক প্রতিনিধির ভেতরে জায়গা না হওয়ায় অনেককেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

    বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে।

    উল্লেখ্য, তাবলিগের দুই পক্ষ এক হওয়ার পর গত ২৪ জানুয়ারি সচিবালয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নিজ দফতরে তাবলিগ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এবারের বিশ্ব ইজতেমা এক পর্বে হবে। তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ মিলে ১৫-১৭ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

    তাবলিগ জামাতের দিল্লির আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য নিয়ে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের তাবলিগ জামাত। আলেমরা সাদবিরোধী ও সাদপন্থী দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এক গ্রুপে রয়েছেন সাদ কান্ধলভিপন্থী বাংলাদেশ তাবলিগের শূরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। অপর গ্রুপে রয়েছেন মাওলানা সাদবিরোধী কওমীপন্থী শূরা সদস্য মাওলানা জুবায়ের আহমেদ।

    এ বিভক্তি চরম আকার ধারণ করে গত বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমার সময় মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার পর। বিরোধীদের বাধার মুখে ইজতেমায় অংশ না নিয়েই মাওলানা সাদকে ওই সময় বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল।

    গত ১ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠে দুই পক্ষের হতাহতের ঘটনাও ঘটে। টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে বিশ্বের মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় সম্মেলন ‘বিশ্ব ইজতেমা’র আয়োজনও করেছিল তাবলিগ জামাত। তবে নির্বাচনের আগে সরকার দুই পক্ষের সঙ্গে সভা করে ইজতেমা স্থগিত করে।

  • মুমিন বান্দার কুরআনি আমল যেমন হবে

    মুমিন বান্দার কুরআনি আমল যেমন হবে

    মুমিন বান্দা আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ইবাদত ও আমলের মাধ্যমে নিজেদের জীবন পরিচালনা করে। তাদের জীবনের প্রতিটি কাজই হয় কুরআন সুন্নাহর নির্দেশক্রমে। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের একাধিক আয়াতে সেসব আমলের বিবরণ দিয়েছেন। আর মুমিন বান্দাও সেসব আমল পালন করে থাকে।

    যারা কুরআন অনুযায়ী আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করে তাদের জীবন ও সম্পদ মহান আল্লাহ তাআলা জান্নাতের বিনিময় খরিদ করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুরআনে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জীবন ও সম্পদের কিনে নিয়েছেন। তারা (মুমিনগণ) আল্লাহর পথে লড়াই করে। অতএব তারা (আল্লাহর পথে) মারে ও মরে। এ সম্পর্কে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে রয়েছে সত্য ওয়াদা।

    আর নিজ ওয়াদা পূরণে আল্লাহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা (আল্লাহর সঙ্গে) যে কেনা-বেচা করেছো, সে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আনন্দি হও। আর সেটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১১১)

    আল্লাহ তাআলা ঘোষিত এ পুরস্কার ও সফলতা সেব মুমিন বান্দার জন্য যারা নিয়মিত কুরআনে ঘোষিত ইবাদত ও আমলে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতে মুমিন বান্দার সেসব আমল ও ইবাদত তুলে ধরেছেন-

    ‘তারা (মুমিনগণ) :
    > তাওবাকারী,
    > ইবাদতকারী,
    > আল্লাহর প্রশংসাকারী,
    > রোজা পালনকারী,
    > রুকু সেজদাকারী,
    > সৎ কাজের নির্দেশদানকারী ও
    > অসৎ কাজের নিষেধকারী এবং
    > আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী।
    আর (হে রাসুল! আপনি) মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১১২)

    প্রত্যেক মুমিন বান্দার উচিত, কুরআনে ঘোষিত আমলগুলো অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। দুনিয়ার জীবনে প্রতিটি আমলই যথাযথ আদায় করা।

    আর এ আমলের মাধ্যমেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এবং বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সুসম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে আল্লাহ তাআলা তখনই বান্দার সঙ্গে করা ওয়াদা পূরণ করবেন। সুতরাং মুমিন বান্দা আল্লাহ ঘোষিত আমলে নিজেদের নিয়োজিত রাখা। তবেই চূড়ান্ত সফলতা লাভ হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ আমল ও ইবাদত করে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তাদের আমলনামায় কোনো গোনাহ থাকবে না

    যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তাদের আমলনামায় কোনো গোনাহ থাকবে না

    দুনিয়ার ভালো-মন্দ কর্মগুলো আখিরাতে পরিমাপ করা হবে। দুনিয়ার যারা বেশি বেশি নেক আমল করবে। তারা কিয়ামতের কঠিন সময়ে সফলকাম হবে। কিয়ামত দিবসে পরিবার-পরিজন কেউ কারো কোনো উপকারে আসবে না। প্রত্যেকে নিজের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সেদিন শুধু দুনিয়ার নেক আমলের ওপর ভরসা করতে হবে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যারা ঈমান এনেছ, আল্লাহ পাককে ভয় করো, প্রত্যেকের উচিত লক্ষ করা যে, আগামীকালের জন্য সে কি পেশ করতে যাচ্ছে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাকো; অবশ্যই তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ পাক তার পূর্ণাঙ্গ খবর রাখেন।’ (সূরা হাশর:১৮)। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব নেয়া হবে। যদি নামাজ ঠিক থাকে তবে অন্যান্য আমলও সঠিক বলে প্রমাণিত হবে। আর যদি নামাজের হিসাবে গড়মিল হয়, অন্যান্য আমলও ক্রুটিযুক্ত হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি-১:২৪৫পৃ.)।

    কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিদের প্রতিদান দেবেন। যারা দুনিয়াতে নামাজ কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে, সেদিন তারা আনন্দ-উল্লাস করতে থাকবে। তাদের জাহান্নামের কোনো ভয় থাকবে না। আর দুনিয়ার বেনামাজিরা, সেদিন হা-হুতাশ করতে থাকবে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত কায়েম কর এবং জাকাত দাও। আর তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।’ (সূরা বাকারা:১১০)। ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করতে পারে যা কখনো ধ্বংস হবে না।’ (সূরা ফাতির:২৯)।

    পরকালে সাফল্যে লাভের চাবিকাঠি হলো নামাজ আদায় করা। পরকালে নাজাত পেতে হলে, দুনিয়ার জিন্দেগিতে নামাজের প্রতি যতœবান হতে হবে। নামাজি ব্যক্তিরাই জান্নাতের স্থায়ী বাসিন্দা হবেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই ওই সব ঈমানদার সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের নামাজে খুশু-খুজুর সাথে আদায় করে।’ (সূরা মুমিনুন:১-২)। ‘যারা নিজেদের সালাতের হেফাজত করে, এরাই আল্লাহর জান্নাতে মর্যাদা সহকারে প্রবেশ করবে।’ (সূরা মা’আরিজ :৩৪-৩৫)। ‘যারা তাদের সালাতসমূহের হিফাজতকারী, মূলত: এরাই হবে জান্নাতুল ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী এবং সেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে।’ (সূরা মুমিনুন: ৯-১১)।

    যারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তাদের আমলনামায় কোনো গোনাহ থাকবে না। নামাজ বান্দার আমলনামা থেকে গোনাহগুলোকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়। হজরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা বলত, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নহর থাকে যাতে সে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তবে তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবারা উত্তরে বললেন: না, কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না। অতঃপর রাসূল সা: বললেন- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দৃষ্টান্ত এমনই। এর বিনিময়ে আল্লাহ পাক নামাজির সব গোনাহ মাফ করে দেন।’ (বোখারি:৫০৩)।

    নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা করলে, আখিরাতে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। হজরত নাওফেল ইবনে মুয়াবিয়া রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘যার এক ওয়াক্ত নামাজ ছুটে গেল তার যেন ঘরবাড়ি, পরিবার-পরিজন ও ধন-দৌলত সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হলো।’ (ইবনে হিব্বান-৪:৩৩০ পৃ.)। নামাজের গুরুত্ব এতটাই যে, মুসলমান ও অন্য ধর্মের লোকদের মধ্যে পার্থক্যই হলো নামাজ। হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘মানুষের শিরক এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্য নামাজ ছেড়ে দেয়া।’ (মুসলিম:২৪৭)। হজরত হানজালা উসাঈদী রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথ পাবন্দির সাথে আদায় করে, উত্তমরূপে অজু করে, সময়ের প্রতি খেয়াল রাখে, রুকু-সিজদা ঠিকমতো আদায় করে এবং এভাবে নামাজ আদায়কে নিজের ওপর আল্লাহ তায়ালার হক মনে করে, তবে জাহান্নামের আগুন তার জন্য হারাম করে দেয়া হবে। ( মুসনাদে আহমাদ-৪: ২৬৭পৃ.)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করার জন্য আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুন।
    সংগৃহীত।

  • হাটহাজারীতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    হাটহাজারীতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    হাটহাজারীতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার ০১ ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটার দিকে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজত আমিরের কার্যালয়ে তিনি এ সাক্ষাত করেন।

    এ সময় মন্ত্রী হেফাজত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। সাক্ষাত শেষে মন্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের জানান,তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য হুজুরের কাছে দোয়া চাইতে এসেছেন।

    হাটহাজারীতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ। ছবিঃ ইত্তেফাক।

    ছবি: সংগ্রহ।

    এ সময় ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও কার্যক্রম সুন্দর এবং নির্বিঘ্নে করার অনুরোধ জানান হেফাজত আমির। ইজতেমাকে সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য হুজুর বিশেষভাবে দোয়াও করেন।

    এর আগে মন্ত্রী নানুপুর ওবাইদিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে যোগ দিয়ে সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। পরে সেখানে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে বিকেল তিনটার দিকে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

    হাটহাজারীতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ। ছবিঃ ইত্তেফাক।

    ছবি: সংগ্রহ।

    এ সময় সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস, ডিআইজি রুকনুদ্দিন, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহি, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরীসহ মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • আল্লাহর অপূর্ব দান ‘আয়াতুল কুরসি’

    আল্লাহর অপূর্ব দান ‘আয়াতুল কুরসি’

    পবিত্র কোরআন মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার বাণী। যা মানুষের প্রয়োজনের জন্য নাজিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আল্লাহ শুরুতেই এর সত্যায়ন করেছেন যে, এ কিতাবে কোনো সন্দেহ সংশয় নেই।

    কোরআনের মধ্যে এমন কোনো কিছু নেই যা মানবজাতির কল্যাণে লিপিবদ্ধ হয়নি। এ জন্যই আল্লাহ এ কোরআনকে মানব জাতির হিদায়াত ও জীবন বিধান হিসেবে নাজিল করেছেন।

    পাঠকদের জন্য আজ আয়াতুল কুরসির ফজিলত তুলে ধরা হলো-

    আয়াতুল কুরসি কোরআনুল কারিমের সবচেয়ে বড় সূরা ‘সূরা আল-বাক্বারার ২৫৫ তম আয়াত’। যা সমগ্র কোরআনের সবচেয়ে বড় আয়াতও বটে। এ সূরার রয়েছে অনেক ফজিলত।

    এর ফজিলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ওবাই ইবনে কা’বকে জিজ্ঞাস করলেন সবচেয়ে ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ আয়াত কোনটি? ওবাই ইবনে কা’ব আরজ করলেন, সেটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সমর্থন করলেন এবং বললেন, হে আবুল মানজার! তোমাকে এ উত্তম জ্ঞানের জন্য ধন্যবাদ। (মুসনাদে আহমদ)

    আয়াতুল কুরসির ফজিলত:

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক ফরজ সালাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোনো বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতিত। (নাসাঈ)

    শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে। (বুখারি)

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আয়াতুল কুরসি কোরআনের অন্যসব আয়াতের সর্দার বা নেতা। আয়াতটি যে ঘরে পড়া হবে, সে ঘর থেকে শয়তান বের হয়ে যাবে।

    যে লোক প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের একমাত্র বাধা হচ্ছে মৃত্যু। অর্থাৎ সে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বেহেশতের ফলাফল ও আরাম আয়েশ ভোগ করতে থাকবে।

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন দেখতে পেলেন একজন আগন্তুক সদকার মাল চুরি করতেছে তখন তিনি আগন্তুকের হাত ধরে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব’। তখন আগন্তুক বলে যে সে খুব অভাবি আর তার অনেক প্রয়োজন। তাই দয়া করে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে দিলেন।

    পরদিন সকালে রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘গতকাল তোমার অপরাধী কী করছে?’ হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যি সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।

    পরদিন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অপেক্ষায়, যখন সে আবারো চুরি করতে আসল তখন তিন তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেল, ‘এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব।’ এবারও সেই বলে যে- সে খুব অভাবি আর তার অনেক প্রয়োজন আর শপথ করে যে আর আসবে না। পরদিন আবারো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই জবাব দেন আর তখন তিনি বলেন, ‘আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।

    পরদিনও আবার হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবারো চুরি করতে আসল তখন তিনি তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন ‘এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। তুমি বার বার শপথ করো আর চুরি করতে আসো।’ সে যখন দেখল এবার সে সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে যাবে তখন অবস্থা বেগতিক দেখে সে বলে, ‘আমাকে মাফ কর।

    আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটা জানতে চাইলে চোর বলে, ‘যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহাড়াদার নিযুক্ত করবে, যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারবে না।’ এটা শুনে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে দিলেন।

    পরদিন রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহু আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে’। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, ‘তুমি কি জানো সে কে?’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন,‘না’। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন , ‘সে হচ্ছে শয়তান।’ (বুখারি)

    আয়তুল কুরসী: اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-

    বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম। (সূরা আল-বাক্বারা আয়াত-২৫৫)

    অর্থ: আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনো তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন।

    তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতিত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’।

    আয়াতের মর্যাদার কারণ: এ আয়াতটিতে ১০টি বাক্য রয়েছে। যার প্রত্যেকটি আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি, গুনাবলি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে-

    ১. তিনিই আল্লাহ যিনি ব্যতিত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো ইলাহ নেই। ২. আলহাইয়্যুল কাইয়্যুম- তিনি সদা জীবিত এবং বিদ্যমান। ৩. লা তা’খুজুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম- আল্লাহ তায়ালা তন্দ্রা ও নিন্দ্রা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

    ৪. লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি- আকাশ এবং জমিনের যা কিছু রয়েছে তার সবাই আল্লাহর মালিকানাধীন ৫. মানজাল্লাজি…বিইজনিহি- সৃষ্টি কোনো বস্তুই আল্লাহর চেয়ে বড় নয় বিধায় এমন কে আছে যে তাঁর সামনে তাঁর অনুমতি ব্যতিত সুপারিশ করতে পারে?

    ৬. ইয়া’লামু… খালফাহুম- মানুষের জন্মের পূর্বে এবং জন্মের পরের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা জানেন। ৭. ওয়ালা ইউহিতুনা…বিমাশা আ- সমস্ত সৃষ্টির জ্ঞান মিলে একত্রিত হয়ে আল্লাহর জ্ঞানের কোনো একটি অংশ বিশেষকেও পরিবেষ্টিত করতে পারে না।

    ৮. ওয়াসিআ’… ওয়াল আরদ্বি- তাঁর কুরসি এতো বড় যে, সাত আসমান ও সাত জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে।

    ৯. ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা- আল্লাহর নিকট এত বৃহৎ দুইটি সৃষ্টি আসমান-জমিনের হেফাজত করা কোনো কঠিন কাজ নয়।

    ১০. ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম- তিনি অতি উচ্চ এবং অতি মহান। এই পুরো আয়াতটিই আল্লাহর একত্ববাদ ও মর্যাদার গুণগান বিধায় আল্লাহ এ আয়াতের মধ্যে অনেক ফজিলত রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আয়াতুল কুরসির আমল করার এবং কোরআন অনুযায়ী জীব্ন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

  • জিকির ও ইবাদতের সামর্থ লাভের দোয়া

    জিকির ও ইবাদতের সামর্থ লাভের দোয়া

    সাহাবায়ে কেরামের প্রতি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন সময় ইবাদত ও আমলের দিক-নির্দেশনা দিতেন। প্রিয়নবির সেসব দিক-নির্দেশনা মুসলিম উম্মাহর জন্য এখনও সংরক্ষিত।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সাহাবি হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সার্বক্ষণিক জিকিরের সাওয়াব পাওয়ার একটি আমলের দিক-নির্দেশনা দিয়ে অসিয়ত করেন। যাতে তিনি প্রত্যেক নামাজের পর এ দোয়াটি পাঠ করেন-

    اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكِ وَحُسْنِ عِبَادَتِكِ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক। ‘ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ, আবু দাউদ, মিশকাত)

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সাহায্য কর- যেন আমি তোমাকে স্মরণ করতে পারি, তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞপন করতে পারি এবং একনিষ্ঠিভাবে তোমার ইবাদত-বন্দেগি করতে পারি।

    মনে রাখতে হবে
    সব মানুষই চায় সে যেন সঠিক ও গ্রহণযোগ্য ইবাদাত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে পারে। সব আমল-ইবাদাত যেন আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয়।

    সুতরাং প্রিয়নবি ঘোষিত এ দোয়ার ফলে মানুষ সব সময় আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে নিয়োজিত রাখতে সক্ষম হবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব মানুষের শিক্ষা গ্রহণের জন্য হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এ নিয়মিত নামাজের পর এ দোয়া পড়ার দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

    ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া খ্যাত আলেমগণও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক ইবাদত ও আমলগুলো যথাযথ পালন করতে কিংবা আল্লাহর স্মরণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সে হাদিসেরই দিক-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। সে অনুযায়ী ইবাদত ও আমল করা মুসলিম উম্মাহর একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নির্ধারিত ফরজ ইবাদতগুলো সময়মতো আদায় করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত আমলগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • খ্রিষ্টধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ইতালির তরুনী এমপি

    খ্রিষ্টধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ইতালির তরুনী এমপি

    গোটা ইউরোপে যখন ইসলাম আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে তখন ইসলাম গ্রহনের হার কমেনি। সম্প্রতি ইউরোপে ইসলাম সর্ম্পকে মানুষের জানার আগ্রহ বাড়ছে। বাড়ছে ইসলাম গ্রহনকারীর সংখ্যা। ইতালির সাবেক একজন পার্লামেন্ট সদস্যর মেয়ের ইসলাম গ্রহন নিয়ে দেশটিতে এখন চলছে তোলপাড়। ম্যানুয়েলা ফ্রাংকো বারবাতো নামের এই তরুনীর এখন নতুন নাম আয়েশা।

    ইসলাম গ্রহনের পর ইসলামের অনুশাসন তিনি মানছেন। পূর্ণাঙ্গ হিজাবী এই নারী ইতালির এক সাবেক এমপি ফ্রাংকো বারবাতোর মেয়ে। তিনি তার বাবার খ্রিষ্টধর্ম থেকে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন।

    ম্যানুয়েলার এই ইসলাম গ্রহণের ঘটনা এখন ইতালিতে আলোচনার বিষয়। খ্রিষ্টান উগ্রপন্থীরা কঠোরভাবে সমালোচনা করছেন তার। সমালোচনা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না তার বাবাও। ফ্রাংকো বারবাতোকে হাফিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার মেয়ে তো মুসলমান হয়ে গেল, এখন আপনার কেমন লাগছে?

    তার উত্তর ছিল, ‘শুধু খারাপ না, খুবই খারাপ লাগছে। কারণ এটি একটি অত্যন্ত কঠোর ধর্ম, খুবই চরমপন্থী, একদম সেকেলে! এই ধর্মটি মৌলবাদী। আমার মেয়ে আমার সাথে থাকাবস্থায় আমি নিজে দেখেছি। প্রতিদিন দেখেছি নামাজের সময় হলে সে সন্তানের কথাও ভুলে যায়! এজন্য আমি তার প্রতি রাগ করতাম। সে যা নিজের জন্য পছন্দ করেছে আমি তাতে খুবই ব্যাথিত।

    তবে আয়েশা ইসলাম গ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত, সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমার আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য আমি গর্বিত। এসব আল্লাহর নিয়ম, আমার অভিযোগ করার কী আছে?’ নিজের হিজাব পরিধান নিয়ে চারপাশে যত কথা। তার উত্তরে আয়েশা বলেন, ‘হিজাব আমার জীবনের অংশ, যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করে দিয়েছেন।

    আয়েশা আগে বাবার সাথে থাকলেও প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পর তার স্বামীকে নিয়ে ভারতে চলে গেছেন। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের গ্রাজুয়েশন করছেন। বিবাহিত জীবনে তার দুই শিশু সন্তান রয়েছে।

    ইতালিতে ১৭ লাখ মুসলমানের বসবাস। ইতালীর সরকারী সংস্থার হিসাবে দেশটিতে প্রায় বিশ হাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইতালির এই চিত্র প্রমান করে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ধর্ম হিসাবে ইসলামের প্রসার ঘটছে।

  • বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে কাকরাইল মারকাজের ১০ নির্দেশনা

    বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে কাকরাইল মারকাজের ১০ নির্দেশনা

    বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯ সফলভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তাবলিগের সাথীদের উদ্দেশ্যে কাকরাইল মারকাজের আহলে শুরার সদস্যরা ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন।

    তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য মাওলানা হুসাইন আহমদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। কাকরাইল মারকাজের শুরা সদস্যদের গৃহীত ১০ নির্দেশনার চিঠিটিু হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ইজতেমার জন্য করণীয় বিষয়াবলী-

    ১. আগামী টঙ্গী ইজতেমা ১৫, ১৬ ও ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ (শুক্র, শনি ও রোববার)।

    ২. যে সমস্ত সাথীগণ বিদেশী মেহমানগণের সাথে জুড়বেন তারা রিজার্ভ তাশকিলের কামড়ায় প্রথম থেকেই আলাদাভাবে থাকলে ভাল হয়।

    ৩. এখন থেকেই ৭/১০ দিনের জামাত বের করে ইজতেমার নগদ খুরুজের জন্য জোড় মেহনত করলে ভাল হয়।

    ৪. আজায়েম অনুসারে, নগদ জমাতের লিষ্ট বানিয়ে উছুলের ব্যবস্থা করলে ভাল হয়।

    ৫. মাস্তুরাতগণকেও দোয়া, নামাজ ইত্যাদিতে মশগুল হয়ে ইজতেমার কামীয়াবীর জন্য ফিকির করলে ভাল হয়।

    ৬. টঙ্গী ময়দানের কাজ শুরু হওয়ার অনুমতি প্রাপ্তির পরে পরেই আমাদের পক্ষ থেকে যখন জানানা হবে তখন মেহেরবানী করে আপনার জিলা থেকে কাজের জন্য যোগ্য সাথীগণকে পাঠালে ভাল হয়।

    ৭. হার তবকাওয়ারী মেহনত (যেমন ছাত্র, শিক্ষক, খাওয়াছ, ব্যাবসায়ী, মজদুর, গোরাবা ইত্যাদি)। ইজতেমার পূর্বেই আঞ্জাম দিলে ভাল হয়।

    ৮. ইজতেমার সকল তাকাজায় হাযারাত ওলামায়েকেরামগণকে সাথে নিয়ে আঞ্জাম দিলে ভাল হয়।

    ৯. প্রত্যেক জেলা ও হালকার বড় বড় ওলামা হাজারাত ও পীর মাশায়েখগণের নিকট হাজিরি দিয়ে দোয়া চাওয়া এবং উনাদেরকে ইজতেমায় শিরকত করার জন্য মাকুল ইন্তেজাম করা।

    ১০। বড়দের বাতানো তরিকা অনুসারে পূর্বের ন্যায় আমরা জানতোড় মেহনত করব ইনশাআল্লাহ।

    ওয়াসসালাম
    আহলে শুরার পক্ষে
    (আরবি স্বাক্ষর) মুহাম্মদ হুসাইন

  • ৪৯ দিনে কোরআনের হাফেজ কুমিল্লার আট বছরের রাফসান

    ৪৯ দিনে কোরআনের হাফেজ কুমিল্লার আট বছরের রাফসান

    অনলাইন ডেস্ক:

    যে শিশুটি এ কীর্তি গড়েছে তার নাম রাফসান মাহমুদ জিসান। বয়স ৮ বছর। কুমিল্লা শহরের ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিফজ বিভাগ থেকে এই সম্মান অর্জন করেন তিনি। রাফসান কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের প্রবাসী বাহার উদ্দিনের ছেলে।

    প্রতিষ্ঠানটির হিফজ বিভাগের শিক্ষক আবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালের শেষ দিকে নুরানি পড়া শুরু করে রাফসান। ২০১৮ সালের নভেম্বরের আগে নাজেরা শেষ করে। এরপর নভেম্বরের ৪ তারিখে কোরআন শরিফ হেফজ করতে দেওয়া হয় তাকে। এদিন ৩০তম পারা শুরু করে সে। অবাক করার বিষয় হলো যে, দুই দিনে সে ৩০তম পারাটি পুরো মুখস্থ শুনিয়ে দেয়।

    শিক্ষক আরো বলেন, আমরা মনে করি রাফসানের এই পারাটি আগে মুখস্থ ছিল। তাই সে দুই দিনেই পড়া শুনিয়ে দিতে পেরেছে। পরের দিন আমরা তাকে কোরআনের প্রথম পারা মুখস্থ করতে দেই। এবার সে পুরো পারাটি দুই দিনে মুখস্থ করে শুনিয়ে দেয়। এভাবে সে দুই দিনে এক পারা করে মুখস্থ করতে থাকে। ১০ পারা পর্যন্ত এভাবে চলে তার।

    তিনি আরো বলেন, এতে আমরা নিশ্চিত হই যে, রাফসান আর চার-পাঁচটা শিশুর মত নয়। সে অন্যদের থেকে আলাদা। তার মুখস্থ শক্তি প্রখর।

    এরপর রাফসান ১৪ দিনে ১১ পারা থেকে নিয়ে ২৫তম পারা পর্যন্ত মুখস্থ করে। আর বাকি পারা ৪ দিনে মুখস্থ করে।

    ৪৯ দিনে কোরআনের হাফেজ কুমিল্লার আট বছরের রাফসান

    শিক্ষকদের সঙ্গে রাফসান। ছবি: ফেসবুক

    রাফসানের শিক্ষক বলেন, আমরা দেখলাম রাফসান ৪৯ দিনে কোরআন শরিফের পুরো ৩০ পারা হেফজ করেছে। সে এখন পুরো কোরআন শোনাচ্ছে।

    প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, রাফসান দেশের বিস্ময় বালক। তার মেধা সাধারণের চাইতে অনেক বেশি।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২৯ দিনে কোরআন মুখস্থ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন পাকিস্তানি তরুণী জুয়াইরিয়া।

  • ইসলামের প্রথম যুগের মুয়াজ্জিন ছিলেন যারা

    ইসলামের প্রথম যুগের মুয়াজ্জিন ছিলেন যারা

    মুয়াজ্জিনের মর্যাদা অনেক বেশি। ইসলামের প্রথম যুগে কাবা শরিফ কিংবা মদিনার মুয়াজ্জিন ছিলেন কারা? তাদের মুয়াজ্জিন হওয়ার পেছনের কারণই বা কি? কে তাদেরকে মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন? আসুন জেনে নিই কেনইবা ইসলামের ইতিহাসে এদের নাম লেখা রয়েছে স্বর্ণাক্ষরে।

    ‘মুয়াজ্জিনুর রাসুল’ বা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়োগ দেয়া মুয়াজ্জিন ছিলেন ৪ জন। তাঁদের হৃদয়ে যেমন ছিল ইসলামের প্রতি ভালোবাসা তেমনি ছিল প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বত। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁদের অনেক ভালোবাসতেন। তারা হলেন-

    কাবার মুয়াজ্জিন : আবু মাহজুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
    অল্প বয়সী গোফ না ওঠা সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী ছোট্ট বালক আবু মাহজুরা। পবিত্র নগরী মক্কার অধিবাসী। মক্কা বিজয়ের পরে মক্কার কোনো এক উপত্যকায় হজরত বেলালের আজানের পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। যে সূর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়কে আকৃষ্ট করে তোলে। যদি আবু মাহজুরার সে আজানের পুনরাবৃত্তি ছিল ঠাট্টামূলক।

    আজান শেষে প্রিয়নবি উপত্যকায় অবস্থানরত বালকদের ডেকে পাঠালো। আজানের পুনরাবৃত্তিকার কে জানতে চাইলেন। যেহেতু আবু মাহজুরা ঠাট্টাচ্ছলে আজানের পুনরাবৃত্তি করেছিল, সে জন্য কেউ কথা না বলে চুপ থাকলো।

    প্রিয়নবি একে একে সবার আজান শুনলেন। সবার শেষে আজান শুনলেন ছোট্ট বালক আবু মাহজুরার। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি আজান দিয়েছ? সে বলল ‘হ্যাঁ’। তখনও তাঁর গোফ ওঠেনি।

    প্রিয়নবি আবু মাহজুরার মাথার পাগড়ি খুলে তার মাথায় হাত রেখে এ দোয়া করলেন-
    ‘আল্লাহুম্মা বারিক ফিহি, ওয়াহদিহি ইলাল ইসলাম।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি তাকে (আবু মাহজুরা) বরকত দাও এবং তাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দাও।

    প্রিয়নবির হাতের স্পর্শে আবু মাহজুরার ভাগ্য খুলে গেল। সে তখনি বলে ওঠলো-
    ‘আশহাদু আললা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আন্নাকা রাসুলুল্লাহ।’ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতিত সত্য মাবুদ নেই, আর নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসুল।

    বিশ্বনবিও তখন আবু মাহজুরাকে মক্কাবাসীর জন্য বায়তুল্লাহর মুয়াজ্জিন নির্ধারণ করলেন। তখন প্রায় ৩০০ বছর ধরে আবু মাহজুরার বংশধর পবিত্র কাবা শরিফের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন।

    মসজিদে নববির মুয়াজ্জিন : বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু
    ইসলামের চরম অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু। এমন কোনো বর্বর নির্যাতন ছিল না যা তার মনিব উমাইয়া ইবনে খালফ তাকে দেয়নি। শত নির্যাতনেও তাকে ইসলাম থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি।

    হজরত বেলালকে চরম নির্যাতনের হাত থেকে মুক্ত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছেন হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। হজরত বেলাল স্বাধীন। মদিনায় হিজরত করলেন।

    হিজরতের পর মসজিদে নববি নির্মাণ হলে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মসজিদে নববির মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেন। আজানের প্রচলন হওয়ার পর থেকে নিয়মিত হজরত বেলালের সুললিত কণ্ঠে প্রচারিত হতো মসজিদে নববির আজান।

    মসজিদে নববির মুয়াজ্জিন : আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু
    হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন মসজিদে নববির প্রথম ও প্রধান মুয়াজ্জিন। তিনি ছাড়াও আরো একজন মুয়াজ্জিন ছিলেন। তার নাম হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ছিলেন অন্ধ সাহাবি।

    বাহ্যিকভাবে অন্ধ হলেও তাঁর অন্তর ছিলো ইসলামের আলোয় আলোকিত। চরম অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম ছিলেন মদিনায় হিজরতকারী প্রথম দু’জনের একজন। মদিনায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা কুরআনের বাণী শুনাতেন।

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বেলাল ও আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে মদিনার মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেন। তারা উভয়ে মসজিদে নববিতে আজান দিতেন। একজন আজান দিলে অন্য জন ইকামত দিতেন।

    রমজান মাসে হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহরির আজান দিতেন আর হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম ফজরের আজান দিতেন। হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো কাজে মদিনার বাইরে যেতেন, তখন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম তার প্রতিনিধি করে যেতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুপস্থিতিতে শত শত সাহাবি তার পেছনেই নামাজ পড়তেন।

    মসজিদে নববি থেকে তার বাড়ি দূরে হওয়ার পর দৃষ্টিহীন সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম নিয়মিত জামাআতে নামাজ আদায় করতেন। কখনো জামাআত ত্যাগ করতেন না।

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো- তিনি পবিত্র কুরআনের হাফেজ ছিলেন।

    ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সময়ে কাদেসিয়ার যুদ্ধে তিনি ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখতে গিয়ে কাফেরদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন। যখন তার হাতে পতাকা দেয়া হয়, তখনই তিনি বলেছেন, এ পতাকা সমুন্নত রাখব, না হয় শাহাদতের অমীয় সুধা পান করব।

    মসজিদে কুবার মুয়াজ্জিন : সাদ আল কুরজি রাদিয়াল্লাহু আনহু
    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ব প্রথম মদিনায় হিজরত করে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। সেটি হলো মসজিদে কুবা। এ মসজিদে কুবার প্রথম মুয়াজ্জিন ছিলেন হজরত সাদ আল কুরজি রাদিয়াল্লাহু আনহু।

    হাদিসে এসেছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি মদিনা থেকে ওজু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে ২ রাকাআত নামাজ আদায় করে তবে এক ওমরার সাওয়াব পাবেন।

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুবায় প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। অতঃপর মসজিদে নববি নির্মাণ করেন। প্রিয়নবি মাঝে মাঝে মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ আদায় করতেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ৪ জন ব্যক্তিকে ইসলামের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেন, এদের মধ্যে হজরত সাদ আল কুরজি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মসজিদে কুবার মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

    এ কারণেই এ ৪জনকে ইসলামের ইতিহাসে ‘মুয়াজ্জিনুর রাসুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।