Category: ধর্ম
-

যে কারণে মানুষ সৃষ্টি করলেন আল্লাহ
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। যেখানে মহান আল্লাহতায়ালা মানব জাতীর সব সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতিসহ সকল কিছুর সমাধান রয়েছে এখানে। সৃষ্টিকুল কিভাবে পরিচালিত হবে, কিসে তাদের কল্যাণ তা স্রষ্টার চেয়ে বেশি কেউ জানে না। বিশ্ব পরিচালক মহান স্রষ্টা পৃথিবীর মানব ম-লীকে জানিয়ে দিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মনোনীত জীবনব্যবস্থা হলো একমাত্র ইসলাম।-সুরা : আল ইমরান : ১৯আল্লাহর নিকট যে আত্মসমর্পণ করেছে সে মুসলমান হয়েছে এবং তিনি আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে প্রবেশ করেছে। দ্বীন অর্থ জীবনব্যবস্থা, আল্লাহর মনোনীত জীবনব্যবস্থাটির নাম হলো ইসলাম। আল্লাহপাক সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেছেন : আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের (দ্বীন) জীবনব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।- সুরা মায়েদা : ৩মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকে শান্তির হাজারও পরিকল্পনা করেছে। তৈরি করেছে বহু মত ও পথ। এক একটি মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ধ্বংস হয়েছে হাজারও জনপদ। হত্যা করেছে লাখ লাখ বনি আদম। কিন্তু তার পরেও তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। পারেনি মানুষের মৌলিক কোনো অধিকার আদায় করতে। ফিরিয়ে দিতে পারেনি বঞ্চিত মানবতার সামান্য অধিকার। উল্টো মতবাদ প্রতিষ্ঠাকারীরা লুটে নিয়েছে মানুষের সম্পদ, অধিকার। সাধারণ জনগণের ওপর চালিয়েছে জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদি।আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা। অর্থাৎ আশরাফুল মাখলুকাত। দিয়েছেন বিবেক বুদ্ধির ন্যায় অমূল্য সম্পদ। যার সাহায্যে তারা প্রতিষ্ঠা করবে পৃথিবীতে আল্লাহর খেলাফত তথা কুরআনের রাজ। যার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।মহান আল্লাহ মানব সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাদের ডেকে বললেন আমি ধরাপৃষ্ঠে, আমার জমিনে তথা পৃথিবীতে খলিফা প্রেরণ করতে যাচ্ছি। তখন ফেরাশতারা বললেন হে প্রভু! এমন জাতি কেন সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। মহান আল্লাহ তাদের বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জান না।- সুরা বাকারা : ৩০সুতারাং আল্লাহর রাজত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য মানব সৃষ্টির উৎস। কারণ জৈবিক শক্তি এবং নৈতিক শক্তি দিয়ে মানুষকে করেছেন নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন বিবেকবান শ্রেষ্ঠজীব। এই শ্রেষ্ঠ মানুষরাই প্রতিষ্ঠা করবে পৃথিবীর বুকে আল্লাহর মনোনীত জীবনব্যবস্থা আল ইসলাম। আল্লাহর মনোনীত দ্বীন তথা ইসলাম মানব মন্ডলীর জন্য এক বিরাট নেয়ামত। সর্বত্র প্রতিষ্ঠা হলে পৃথিবীটা হবে শান্তি দায়ক, জান্নাতের টুকরা। -

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার উত্তম সময়
আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে অন্যতম তাওবা ইসতেগফার করা। তাওবা ইসতেগফার অন্যতম ইবাদত হওয়ার কারণ হলো ইসতেগফারের কারণে গোনাহ মাফ হয়; বৃষ্টি বর্ষণ হয়; সন্তান ও সম্পদ দ্বারা উপকার পাওয়া যায়। সর্বপরি পরকালীন জীবনে চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিকারী হওয়া যায়।
আল্লাহ তাআলা সুরা নুহ-এ মানুষকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আর (নুহকে) বলছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষন করবেন। আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য দেবেন বাগ-বাগিচা তথা জান্নাত এবং তোমাদের জন্য তৈরি করবেন নদী-নালা। (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)
মানুষ ভুল-ত্রুটিমুক্ত নয়। যে কোনো কাজেই ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। কাজেই সব সময় ভুল-ত্রুটি থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করাই উত্তম। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে ধাবমান হও; যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ন্যায়। যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকি তথা আল্লাহ ভিরুদের জন্য। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা রাগ সংবরণকারী আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ নেককারদেরকে ভালবাসেন। (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩৩-১৩৪)
আল্লাহ তাআলা সব-নবি রাসুল ও তাঁদের অনুসারিদেরকে ইসতেগফারের নির্দেশ দিয়েছেন। আর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ ও অনুকরণ করার অন্যতম মাধ্যমও তাওবা ইসতেগফার করা। কারণ প্রিয়নবী (সা:) বেগোনাহ মা’ছুম তথা নিষ্পাপ হওয়া সত্বেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তাওবা করতেন।
তাওবা ও ইসতেগফারের সময়:
আল্লাহ তাআলার কাছে সব সময়ই ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। তবে গোনাহের কোনো
কাজ করে ফেললে তখন সঙ্গে সঙ্গে তাওবা-ইসতেগফার
তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক।আবার নেক আমল বা ভালো কাজ করার পর ইসতেগফার তথা
ক্ষমা প্রার্থনা করা মোস্তাহাব।যেমন- প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সালাম ফেরানোর পরআল্লাহর প্রশংসা ও ইসতেগফার করা; হজ সম্পাদনের পর হামদা ও ইসতেগফার করা।
ইসতেগফারের ফজিলতপূর্ণ সময়:
গভীর রাতে যখন মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন তখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা
কান্নাকাটি করায় অনেক ফজিলত রয়েছে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকারী বান্দারা
অধিকাংশই রাতের বেলায় নামাজ ও ইসতেগফারের মাধ্যমেই অতিবাহিত করে।
আবার সেহরির সময় ইসতেগফার করা ফজিলত বেশি এবং তা মোস্তাহাব।
কারণ আল্লাহ তাআলা এ সময় ইসতেগফারকারীদের প্রশংসা করেছেন। -

বিশৃঙ্খলা হলে তাবলিগের মুরুব্বিদেরই দায় নিতে হবে: বেনজীর আহমেদ
বিশ্ব ইজতেমায় আসা তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিদের বা তাদের কোনো গ্রুপের ভুলের কারণে যদি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে তার দায় তাদেরই নিতে হবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তার বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তাবলিগের মুরুব্বি ও মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, যেভাবে সরকারের সঙ্গে আপনাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে সেভাবেই সবাই নিয়ম মেনে চলবেন। প্রথম গ্রুপ ইজতেমা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে প্রস্থান করবেন, পরে আরেক গ্রুপ প্রবেশ করবেন। আমরা আশা করবো ইজতেমার দায়িত্বশীলরা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে রাষ্ট্র কিংবা ইসলামের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। কারও ব্যর্থতা বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ইজতেমা নিয়ে গত এক বছরে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক আলাপ-আলোচনা এবং দেনদরবারের পর মতভেদ দূর হয়েছে। তাই এবারের ইজতেমায় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বেশি। প্রতি বছর ইজতেমা ঘিরে যে ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে এর সঙ্গে এবার বাড়তি কিছু যুক্ত হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হলে মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখে এবার সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ইজতেমা ঘিরে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তাই বলতে পারি, এই মহাসমাবেশকে শান্তিপূর্ণ করতে আমাদের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত। কোনো ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। ইজতেমা ময়দানের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী র্যাবের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের হেলিকপ্টার টহল থাকবে, মাঠে ড্রোন থাকবে। ইলেকট্রনিক ইক্যুইপমেন্ট দিয়ে ময়দান সুইপিং করা হবে এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুপক্ষের দ্বন্দ্বের সুযোগে কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন সুযোগ নিতে পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সতর্ক থাকবো, তারপরও কেউ যদি এ ধরনের অপচেষ্টা করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা তাদের সমূলে বিনষ্ট করতে সক্ষম হবো।
উল্লেখ্য, আগামীকাল শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হতে যাচ্ছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে এবার ৫৪তম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোপূর্বে ইজতেমা তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলেও এবার মুসল্লিদের মতভেদের কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় তা চারদিন নির্ধারণ করেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মাধ্যমে প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা যোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। আখেরি মোনাজাত শেষে যোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা শনিবার রাতের মধ্যেই ইজতেমা মাঠ ছেড়ে যাবেন।
এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর (ওয়াসিফুল ইসলামের) অনুসারীরা। এ পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)।
-

তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল
টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ সম্মিলন ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম বারের মতো এবার চারদিনের ইজতেমা তাবলিগের দুটি পক্ষ দুদিন করে পৃথকভাবে পরিচালনা করবে। এরই মধ্যে ইজতেমাকে ঘিরে টঙ্গীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। দলে দলে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। তুরাগ তীরে ঢল নেমেছে মুসল্লিদের।
ইতোমধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। শুক্রবার দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে।
শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুসলিমের অন্যতম বৃহৎ এ ধর্মীয় জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে। শনিবার দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এক পক্ষের (মাওলানা জোবায়ের পন্থীদের) পরিচালনায় ইজতেমা। তারা ইজতেমা ময়দান বুঝিয়ে দেবেন দ্বিতীয় পক্ষের (সা’দ পন্থীদের) কাছে। তাদের পরিচালনায় ইজতেমা শুরু হবে রোববার ভোরে। সোমবার আখেরি মোনাজাত শেষে এবারের ইজতেমার পরিসমাপ্তি হবে। তারাও (সা’দ পন্থী) ইজতেমার মালামাল বুঝিয়ে দেবেন প্রশাসনের কাছে।

বৃহস্পতিবার ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, পুরো ইজতেমা ময়দানকে ৫০টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা এ ৫০টি খিত্তায় অবস্থান নেবেন। ইজতেমায় অংশ নিতে বুধবার থেকেই মুসল্লিরা তুরাগ তীরে আসতে শুরু করেন। ট্রেন, নৌকা, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে হাজারো মুসল্লি ইজতেমা মাঠে সমবেত হচ্ছেন।
ইজতেমায় মুসল্লিদের সেবায় নিয়োজিতে বিভিন্ন সংস্থার লোকজন মাঠ সমতল, মাইক ও ইলেকট্রিক সংযোগ দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ তাদের থাকার জায়গা তৈরি করা হয়েছে।
পটুয়াখালী থেকে আসা মুসল্লি ইসলাম উদ্দিন (৬০) জানান, তিনি প্রথম দুদিনের ইজতেমায় এসেছেন। তার সঙ্গে এসেছেন ২০ জন মুসল্লি। তারা সবাই দ্বীনে খেদমতের জন্য রাসুল (সাঃ) এর দেখানো পথে নিজেদের আরও পরিশুদ্ধ করতে এসেছেন।

তিনি বলেন, নিজেদের ঈমানকে মজবুত করতে দ্বীনের পথে সময় লাগাতে হবে। তাই তারা ঈমানি দায়িত্ববোধ থেকেই ইজতেমায় এসেছেন।
আয়োজকরা জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে সভাপতিহীন বিশ্ব ইজতেমার এতো বড় আয়োজন প্রতি বছরই অত্যন্ত সু-শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এজন্য আমাদের কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। পুরো ইজতেমা ময়দানকে মুরুব্বিদের পরামর্শে সাজানো হয়। ময়দানে জেলাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান, রান্না-বান্না করার স্থান, টয়লেট, অজুখানা, গোসলখানা সবই সুনির্দিষ্ট করা থাকে।
১৯৬৭ সাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংঙ্কুলান না হওয়ায় ২০১১সাল থেকে টঙ্গীতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বছর যারা (যে ৩২ জেলার মুসল্লি) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতেন তারা পরবর্তী বছর সেখানে যেতেন না। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার পাশাপাশি জেলায় জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ বছর ইজতেমার মুসল্লিদের দুটি পক্ষের সংঘর্ষ ও মতবিরোধের কারণে আলাদাভাবে চারদিন ব্যাপী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের মধ্যস্থতায় সমঝোতার পর ১০টি শর্তে দুই পক্ষ পৃথকভাবে দুদিন করে ইজতেমা পরিচালনার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।সে প্রেক্ষিতে ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দুদিন মাওলানা জোবায়ের পন্থীরা এবং পরের দুদিন ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সা’দ পন্থীরা ইজতেমা পরিচালনা করবেন।
-

যে শর্ত মেনে নিলে তাওবা কবুল হয়
তাওবা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উপায়। এ তাওবার মাধ্যমেই মানুষ নিজেকে সব অন্যায় অপরাধ থেকে মুক্ত রাখে। এ কারণেই ইলমের অধিকারী আলেমগণ বলেন, ‘(মানুষের) প্রতিটি গোনাহ থেকে তাওবা করা আবশ্যক কর্তব্য (ওয়াজিব)।
মানুষের কোনো গোনাহ বা অপরাধ যদি আল্লাহর সঙ্গে হয়ে থাকে এবং বান্দার কোনো হক বা অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়, তবে সে কাজের গোনাহ থেকে মুক্ত থাকতে ৩টি শর্ত পালন জরুরি। শর্ত ৩টি হলো-
প্রথম শর্ত : বান্দা সব সময় গোনাহ থেকে বিরত থাকবে এ চিন্তা স্থির করা।
দ্বিতীয় শর্ত : যে গোনাহের জন্য তাওবা করা, সে গোনাহ সংঘটিত হওয়ার কারণে অন্তর থেকে অনুতপ্ত বা দুঃখ প্রকাশ করা।
তৃতীয় শর্ত : এ গোনাহটি যেন পুনরায় করা না হয় সে ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।যদি কোনো মানুষের মনে উল্লেখিত ৩টি শর্তের কোনোটি অপূর্ণ থাকে, তবে তার তাওবা শুদ্ধ হবে না।
কিন্তু মানুষের কোনো গোনাহ বা অপরাধ যদি আল্লাহর সঙ্গে না হয়ে অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে সেক্ষেত্রে উল্লেখিত তিনটি শর্তের সঙ্গে অপরাধী বা গোনাহগার ব্যাক্তিকে আরো একটি শর্ত যুক্ত করে তা পালন করতে হবে। আর তাহলো-
চতুর্থ শর্ত : সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে (যার সঙ্গে অপরাধ বা গোনাহটি জড়িত) ক্ষমা প্রার্থনা করা। যেমন- কোনো ব্যক্তি ধন-সম্পদ বা কোনো জিনিস অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয় তবে তাকে তা ফেরত দিতে হবে। অনুরূপভাবে যদি কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয় তবে অপরাধীকে নির্ধারিত শাস্তি (হদ) ভোগ করতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে
সব গোনাহের কাজ থেকেই তাওবা করতে হবে। আর তাওবার ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, তাহলে তোমরা কল্যাণ লাভ করবে।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘তোমরা আপন প্রভুর কাছে ক্ষমা চাও, অতঃপর তার কাছে তাওবা কর।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৩১)
খাঁটি বা একনিষ্ঠতার সঙ্গে উল্লেখিত শর্তগুলোর সঙ্গে তাওবা করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন-
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তাওবা (তাওবাতুন নাসুহা) কর।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৮)
আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে আয়াত নাজিল করে প্রিয়নবির আগের-পরের সব গোনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন নিষ্পাপ। তারপরও উম্মতের শিক্ষার জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন সত্তর বারেরও বেশি তাওবা করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।’ (বুখারি)
সুতরাং গোনাহমুক্ত জীবন লাভে তাওবার বিকল্প নেই। গোনাহ হোক আর না হোক তারপরও বারবার অনাকাঙ্খিত অন্যায়ের কাজের জন্য সব সময় তাওবা করা একান্ত আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় তাওবায়ে নাসুহা করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর হুকুম যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
-

কাবা শরিফ পরিদর্শন করলেন সৌদি যুবরাজ
পবিত্র কাবা শরিফ পরিদর্শন করলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমান।
মঙ্গলবার হঠাৎ করেই তিনি কাবা শরিফে আসনে।
সিএনএন জানিয়েছে, পবিত্র কাবা শরিফের পুনঃসংস্কারের পর সম্প্রসারিত প্রকল্পগুলো দেখার জন্য বিন সালমান মক্কায় সফর করেন।তবে দিনের কোন সময় তিনি কাবা শরিফে আসেন সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি সিএনএন।

কাবা শরিফ সফরকালে প্রিন্সকে স্বাগত জানান খতিব শায়েখ আব্দুর রহমান আস-সুদাইসসহ সরকারি কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার সকালে মোহাম্মাদ বিন সালমানের ছবিগুলো টুইটারে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোর প্রতি মানুষ যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
-

দান-সাদকা পাওয়ার প্রথম হকদার কে?
দান-সাদকা অনেক বড় ইবাদত। দান-সাদকার ক্ষেত্রে কুরআন এবং হাদিসে অনেক খাত বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু দান-সাদকা পাওয়ার প্রথম হকদার কে? দান-সাদকা শুরু করতে হবে কাকে দিয়ে? কুরআন এবং হাদিসেও এর বিবরণ রয়েছে। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি বর্ণনা করেন-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘উত্তম সাদকা হলো তা, যা দান করার পর মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে (মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা থাকে না)।
নিচের হাত থেকে উপরের হাত উত্তম। (তিনি আরো বলেন) যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে আছে তাদের আগে দাও।
(কেননা) স্ত্রী বলবে, হয় আমাকে খাবার দাও, নতুবা তালাক দাও। গোলাম বলবে, খাবার দাও এবং কাজ করাও। ছেলে বলবে আমাকে খাবার দাও। আমাকে তুমি কার কাছে ছেড়ে যাচ্ছ?লোকেরা জিজ্ঞাসা করল হে আবু হুরায়রা! এ হাদিস আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন?
তিনি উত্তরে বললেন, এটি (হাদিসটি) আবু হুরায়রার থলে থেকে (পাওয়া) নয়, (বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে)।’ (বুখারি)অন্য একটি হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, উত্তম দান তা, যা দিয়ে মানুষ অভাবমুক্ত থাকে। আর যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে তাদের থেকে (দান করা) শুরু কর। (বুখারি)
সুতরাং দান করতে হবে পরিবার থেকে। প্রথমেই বাবা-মাকে দান করতে হবে। অতঃপর স্ত্রী-পুত্রকে। দাস-দাসি ও আত্মীয়-স্বজনকে। এভাবে পাড়া-প্রতিবেশি এভাবে পর্যায়ক্রমে দূরত্বে দান করতে হবে। এভাবে দান করার কথাই বর্ণিত হয়েছে আল্লাহর কুরআন এবং প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে। যা পালন করা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য একান্ত কর্তব্য।
হাদিসের শিক্ষা
দায়িত্বশীল ব্যক্তির উচিত প্রথমে পরিবার-পরিজনের চাহিদা মেটানো। যাতে তারা সর্বদা অভাবমুক্ত থাকে। যা কর্তা ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব।
মৃত্যুর সময় ওয়ারিশদেরকে স্বচ্চল অবস্থায় রেখে যাওয়া। যাতে করে অভিভাবকের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ (ছেলে-সন্তান, স্ত্রী ও বাবা-মা) কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়।
প্রতিটি দানই সাদকার সাওয়াব লাভ করবে।
সর্বোত্তম দানের পরিমান হলো সেটি, যে দান পেলে স্বাভাবিক প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের শিক্ষা নিজেদের বাস্তব জীবনে আমল করার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি দান-সাদকা করার তাওফিক দান করুন। নিজেদের বাবা-মা, সন্তান, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য ব্যয়ের মাধ্যমে দান শুরু করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
-

সুরা আর-রহমান বাজিয়ে অপারেশন, নিশ্চিত মৃত্যু হতে রক্ষা
তীব্র বিষাক্ত পিল খেয়ে ফেলেছিলেন ২২ বছর বয়সী হাফিজ আব্বাস। তাকে নেয়া হয় লাহোরের সার্ভিসেস হাসপাতালের আইসিইউতে। অবস্থা দেখে ডাক্তার অপর ডাক্তারের কাছে মন্তব্য করলেন, ‘তেমন আশা নেই, বাঁচার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও কম।
পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম ডন জানিয়েছে, এরপর মাত্র তিন দিনের মাথায়ই সুস্থ হয়ে হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন হাফিজ। অথচ আইসিইউতে ১৫০ বার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো তার!
কিভাবে বাঁচলেন হাফিজ? জানাচ্ছেন তার ডাক্তার মোহাম্মদ জাবেদ। তার ভাষায়, ‘৬ ঘণ্টার চেষ্টায় তার হার্ট সচল রাখতে ১৫০ বার ইলেকট্রিক শক দিতে হয়। বারবার তার কিডনি ও পাকস্থলি পরিষ্কার করা হয়। এবং অবশেষে তার চেতনা ফিরে আসে।
তিনি বলেন, ‘আমি জীবনেও শুনিনি ১৫০ বার হৃদযন্ত্র বন্ধ হওয়া কোন রুগী বেঁচে ফিরেছে।

ডাক্তার জাবেদ নিশ্চিত, আইসিইউতে হাফিজের বিছানার পাশে অনবরত কুরআন তেলাওয়াত বাজানোর কারণেই জীবন রক্ষা হয়েছে তার। কুরআনের আয়াতই অলৌকিকভাবে রক্ষা করেছে হাফিজকে।
ডা. জাবেদ বলেন, ‘হাফিজের চিকিৎসা চলাকালে আমি অনবরত সুরা আর-রহমান বাজাতে থাকি। কোন ওষুধ বা চিকিৎসা নয়, মহিমাময় এই সুরাটির কারণেই রক্ষা পেয়েছে সে।
এর তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পান হাফিজ। তার প্রেসক্রিপশনে সবার ওপরে ডাক্তার জাবেদ লেখেন, ‘সুরা আর-রহমান ১-১-১’, অর্থাৎ প্রতিদিন তিনবার সুরাটি তেলাওয়াত করতে হবে রোগীকে।
-

জুমআর দিন মুসল্লিরা যে সাধারণ ভুলগুলো করে থাকে
মুসলমানের জন্য জুমআ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। জুমআর দিন মুমিন মুসলমান এমন কিছু ভুল করেন, যাতে একটু সতর্ক থাকলেই তা হয় না। অথচ সাধারণ এ ভুলগুলো না হলে অনেক সহজেই সাওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী হওয়া যায়। জুমআর দিনের মুসল্লিরা ইচ্ছাকৃতভাবে ৫টি ভুল করে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাধারণ এ ভুলগুলো থেকে বাঁচতে প্রত্যেককেই সতর্ক থাকা জরুরি। জুমআর দিনের সাধারণ ৫টি ভুল হলো-
> খুতবার সময় কথা
জুমআর নামাজের খুতবার সময় কথা বলা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষিদ্ধ করেছেন। কথা বলার দ্বারা অন্যকে খুতবা শুনতে বাধাগ্রস্ত করায়ও অনুমতি নেই। খুতবার সময় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে চুপ থাকতে বলেছেন।সুতরাং ইমাম যখন খুতবা দেয় তখন চুপ থাকা উচিত। সাপ্তাহিক জুমআর খুতবা সব মুসলিমের জন্য অনেক উপকারি। কারণ জুমআর খুতবায় দ্বীন ও দৈনন্দিন অনেক বিষয়ে বয়ান পেশ করা হয়। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইমাম যখন জুমআর খুতবা দেয়, তখন তুমি তোমার কোনো সাথীকে চুপ থাকতে এবং খুতবার শোনার আহ্বান কর তবে নিঃসন্দেহে এটাও (চুপ থাকা ও খুতবা শোনার কথা বলা) শয়তানের কাজ। (বুখারি)
খুতবা না শোনা
মুসল্লিদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে খুতবা শোনে না কিংবা খুতবার সময় কথাবার্তায় সময় অতিবাহিত করে, সে ব্যক্তি জুমআর নামাজ থেকেও অনুপস্থিত থাকে। যারা মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনে না, তারা পুরস্কারও পাবে না। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা।হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (ইমামের) খুতবার সময় নিজেকে কথা বলা থেকে বিরত না রাখবে সে জুমআর পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে।’ (মুসলিম)
শুক্রবার নামাজের সময় কাজ করা
জুমআর দিন নামাজের সময় যে কোনো কাজ করা নিষিদ্ধ। তারপরও মানুষ এ দিন নামাজ বাদ দিয়ে কাজে ব্যস্ত থাকে। শুক্রবার যখনই জুমআর নামাজের আজান হবে তখনই সব কাজ রেখে মসজিদের দিকে ছুটে যেতে হবে। আল্লাহ তাআলা জুমআর নামাজের নির্দেশ দিয়ে বলেন-
‘হে মুমিনগণ! যখন জুমআর দিন নামাজের জন্য (আজান) আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)জুমআর নামাজে দেরিতে যাওয়া
সব সময় শুক্রবার জুমআর নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কোনো অজুহাতে জুমআর নামাজে দেরি করে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শুক্রবার তাড়াতাড়ি জুমআর উদ্দেশ্যে গোসল করে মসজিদের দিকে যাওয়ার জন্য রয়েছে পুরস্কার। হাদিসে এসেছে-হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক জুমআর দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতা অবস্থান করেন। ক্রমানুসারে মসজিদে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে তার জন্য মোটাতাজা উট কুরবানির সাওয়াব লেখেন। তারপর যে আসে তার জন্য গাভী কুরবানির সাওয়াব লেখেন। তারপর আগমনকারীর জন্য মুরগি দানের সাওয়াব লেখেন। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি ডিম দানকারীর সাওয়াব পাবে। অতঃপর ইমাম যখন মিম্বারে আরোহন করেন তখন ফেরেশতা (সাওয়াব লেখার) খাতা বন্ধ করে মনোযোগ সহকারে ইমামের খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি)
অপরিস্কার কাপড় পরিধান
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমআর নামাজের জন্য ভালো পোশাক পরিধান করতে বলেছেন। তিনি নিজেও শুক্রবার সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। জুমআর নামাজের জন্য অতিরিক্ত এক জোড়া পোশাক তৈরির তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কারো ওপর দোষ আসবে না , যদি সে নিজের প্রয়োজনীয় কাপড় ছাড়াও সামর্থ্য থাকলে আরো দু’টি কাপড় জুমআর নামাজের জন্য বানিয়ে নেয়া।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)
মূল কথা
জুমআর দিন ইচ্ছা করলেই প্রিয়নবি ঘোষিত সুন্নাতগুলো যথাযথ পালন করা যায়। বিনিময়ে লাভ করা যায় অনেক সাওয়াব ও কল্যাণ। অথচ মানুষ ইচ্ছা করে-
– খুতবার সময় কথা বলে।
– ইমামের খুতবা শোনা থেকে বিরত থাকে।
– জুমআর নামাজের সময় হওয়া সত্ত্বেও কাজে ব্যস্ত থাকে।
– জুমআর নামাজে দেরি আসে এবং
– অবহেলা বশতঃ অপরিস্কার, পুরাতন কাপড় পরিধান করে।সুতরাং জুমআর দিনের এ সাধারণ ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে এসে হাদিসের নিদের্শনা অনুযায়ী, খুতবার সময় হট্টগোল না করে খুতবা শোনা, আজান হওয়ার নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করে তাড়াতাড়ি মসজিদের দিকে ছুটে যাওয়া এবং জুমআর দিন সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করা।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জুমআর দিনের এ সাধারণ ভুলগুলো থেকে হেফাজত থাকার এবং জুমআর দিনের করণীয় কাজগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
-

ইজতেমার কারণে পেছাল এসএসসির ৩ বিষয়ের পরীক্ষা
অনিবার্য কারণে’ ১৬, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় চলতি মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। মূলত বিশ্ব ইজতেমার কারণে এই তিন দিনের পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
পরীক্ষা পেছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ তপন কুমার সরকার।
তপন কুমার সরকার বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীন ১৬ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৭ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষাটি হবে ২ মার্চ। এর ফলে ব্যবহারির পরীক্ষার সময়ও পিছিয়ে যাবে। এখন ২৬ ফেব্রুয়ারি সংগীত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ৩ মার্চ। আর ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ অনুষ্ঠেয় অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক ৪ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে।
এ বছর তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা এক পর্বে চার দিনে হবে। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।