Category: ধর্ম

  • যে ৪ গুণে নিজেকে বিশেষ বান্দায় পরিণত করবেন

    যে ৪ গুণে নিজেকে বিশেষ বান্দায় পরিণত করবেন

    আল্লাহর নির্দেশ পালনে মুখলিস তথা একনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি যে গোপনে আল্লাহর বিধান পালনের মাধ্যমে ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করে। ব্যক্তি জীবনে বিলাসিতা বর্জন করে। ধন-সম্পদের অহমিকা থেকে দূরে থাকে।

    আল্লাহর মুখলিস তথা পছন্দনীয় ব্যক্তি হতে হলে চারটি কাজ করা জরুরি। হজরত জুন্নুন মিসরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সে চারটি গুণ গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেছেন। আর তাহলো-

    > যারা ইবাদত-বন্দেগি তথা আল্লাহর বিধান পালনে দুনিয়ার জীবনের আরাম আয়েশ থেকে নিজেদের বিরত রাখে।
    > নিজের কাছে গচ্ছিত কিংবা নিজের উপার্জিত ধন-সম্পদ কম-বেশি যা-ই থাকুক না কেন, তা থেকে কিছু অংশ আল্লাহর রাস্তায় দান করে।
    > দুনিয়ার কোনো কারণে নিজের সম্মান ও মর্যাদা বিনষ্ট হলে তাতে অসন্তুষ্ট না হয়ে খুশি থাকে।
    > নিজের ব্যাপারে মানুষের প্রশংসা কিংবা তিরস্কার সবই যার কাছে সমান।

    কোনো ব্যক্তির দুনিয়া ও পরকালের জীবন সুন্দর এবং নিরাপদ করার জন্য উল্লেখিত গুণগুলোর বিকল্প নেই। সুতরাং আরাম-আয়েশ থেকে বিরত থেকে অহংকারহীন সাধারণ জীবন-যাপনের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ বান্দায় নিজেকে তৈরি করা জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাধারণ জীবন-যাপনের মাধ্যমে দুনিয়ার স্বচ্ছতা ও পরকালের সফলতা দান করুন।

    আমিন।

  • রমজানের প্রস্তুতিতে রজব মাস

    রমজানের প্রস্তুতিতে রজব মাস

    আরবি সাল গননায় সপ্তম মাস রজব। মুমিন মুসলমানের অন্তরে পূণ্যের বীজ বুনে দেয় এ মাস। কেননা এ মাস থেকেই রমজান পাওয়ার আবদার করার কথা বলেছেন প্রিয় নবি। রমজানের রহমত বরকত ও মাগফেরাত কামনায় এ মাস থেকেই প্রস্তুতি নেয় মুসলিম উম্মাহ।

    আল্লাহর ঘোষণায় হারাম মাসের অন্তর্ভূক্ত ‘রজব মাস’। ইসলামে এ মাসের গুরুত্ব এ কারণে বেশি যে, এ মাসে সব ধরণের অন্যায় ও রক্তপাত থেকে মুক্ত থাকার নিদের্শ এসেছে কুরআনে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারোটি। এর মধ্যে চারটি হচ্ছে (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য নিষিদ্ধ) সম্মানিত। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ৩৬)

    তাছাড়া রজব মাস প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশান্তি লাভের মাস। এ মাস প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ‘রাইসুল রাসুল’ হয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভের মাস। এ মাস উম্মতে মুহাম্মাদির শ্রেষ্ঠ উপহার ‘নামাজ’ লাভের মাস।

    রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি

    রমজানের সিয়াম-সাধনায় নিজেদেরকে শারীরিক আত্মিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতির জন্য দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রজব মাস আসলেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। ইবাদত-বন্দেগিসহ সব কাজেই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হতো।

    রজব মাস আসলেই প্রিয় নবি নিজে দোয়া করতে অন্যদেরকেও এ দোয়া করতে বলতেন-

    اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের জন্য বরকত দান করুন আর রমজান পর্যন্ত আমাদের জীবিত রাখুন।’ (বায়হাকি, মুসনাদে আহমদ)

    হাদিসে বর্ণিত এ দোয়ার ব্যাখ্যায় আল্লামা মোল্লা আলী কারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার বিখ্যাত গ্রন্থ মেরকাতে উল্লেখ করেন-

    ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের ইবাদত-বন্দেগিতে বরকত দান করুন এবং রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিয়াম-কিয়াম তথা রোজা ও নামাজ (তারাবিহ/তাহাজ্জুদ) যথাযথ আদায়ের তাওফিক দান করুন।’
    ৭২৭৬৭

    তবে রজব মাসে বিশেষ দিন বা বিশেষ পদ্ধতির নির্ধারিত রোজা ও নামাজসহ কোনো আমল নেই। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে হারাম মাসের (রজব) আমল সম্পর্কে বলেন- ‘হারাম মাসগুলোতে রোজা রাখো এবং রোজা ভাঙ্গও।’ (আবু দাউদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রজব মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • জানাযার পর মৃতব্যক্তিকে কাঁধে নিয়ে ৪০ কদম হাঁটলে কী হয়?

    জানাযার পর মৃতব্যক্তিকে কাঁধে নিয়ে ৪০ কদম হাঁটলে কী হয়?

    জানাযার সঙ্গে ইসলামের অনেক বিষয় জড়িত। প্রথমমত একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের ৬টি হক আছে। তন্মধ্যে একটি হলো কেউ মারা গেলে তার জানাযায় উপস্থিত হওয়া।

    জানাযায় উপস্থিত হলে পাওয়া যাবে এক ক্বিরাত সাওয়াব। তাছাড়া জানাযার পর মৃতব্যক্তির দাফন পর্যন্ত থাকলে পাওয়া যাবে দুই ক্বিরাত সাওয়াব।

    মৃতব্যক্তির জানাযার পর যদি কেউ ৪০ কদম হাঁটে তার ৪০টি কবিরা গোনাহ ক্ষমা করে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    মৃতব্যক্তিকে কাঁধে নিয়ে ৪০ কদম হাঁটার মুস্তাহাব পদ্ধতি হলো-

    মৃতব্যক্তির খাঁট বহনকারী খাঁটের হাতল ডান কাঁধে নিয়ে ১০ কদম চলবে। অতপর সামনের ডানের লোক বাম পাশে চলে আসবে। পেছনের ডান পাশের লোক সামনের ডান পাশে চলে আসবে। এভবাবে প্রত্যেকেই তাদের স্থান পরিবর্তন করে আবার ১০ কদম হাটবে। এভাবে প্রান্ত বদল করে ৪ বারে ৪০ কদম হাটবে। অতঃপর প্রত্যেকেই যার যার অবস্থানে এসে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মৃতব্যক্তিকে দাফনের জন্য নিয়ে যাবে।

    যারা ৪ বারে ১০ কদম করে ৪০ কদম অতিবাহিত করবে, তাদের ৪০টি কবিরা গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

    হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাযা (জানাযার পর মৃত ব্যক্তির লাশ) কাঁধে নিয়ে ৪০ কদম যাবে। তার ৪০টি কবিরো (বড়) গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

    সুতরাং জানাযা নামাজ আদায় ও তাতে অংশগ্রহণে রয়েছে ব্যাপক সাওয়াব ও কল্যাণের কাজ-

    – প্রথমত জানাযায় অংশগ্রহণেই প্রিয়নবির সুন্নাতের অনুসরণে মুসলমানের একটি হক আদায় হয়।
    – দ্বিতীয় জানাযায় অংশগ্রহণে ১ ক্বিরাত সাওয়াব মেলে।
    – তৃতীয়ত কেউ যদি দাফনের উদ্দেশ্যে মৃতব্যক্তির খাঁট নিয়ে ৪০ কদম হাটে তার ৪০টি কবিরা গোনাহ মাফ করে দেয়া। আর
    – দাফন পর্যন্ত থাকলে আরো ১ ক্বিরাত সাওয়াব দেয়া হয়।

    সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য জানাযায় অংশগ্রহণ অনেক সাওয়াবের কাজ। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত কেউ মারা গেলে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করা এবং উল্লেখিত সাওয়াব ও গোনাহ মাফের সুযোগ নেয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জানাযায় অংশগ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত সাওয়াব লাভে ও গোনাহ থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • জানাযার দোয়া না জানলে কী পড়বেন?

    জানাযার দোয়া না জানলে কী পড়বেন?

    জানাযা নামাজ ফরজে কেফায়া। জানাযা নামাজ পড়ায় রয়েছে অনেক সাওয়াব। কিন্তু অনেকেই জানাযার দোয়া না জানার কারণে তাতে অংশগ্রহণ করে না।

    অনেকেই আবার জানাযায় অংশগ্রহণ করতে বিব্রতবোধ করেন। অথচ দোয়া না জানলেও জানাযায় তাকবির বলে অংশগ্রহণ করলে জানাযা আদায় হয়ে যায়।

    তবে প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত জানাযার দোয়াগুলো জেনে নেয়া। যাদের জানাযার দোয়াগুলো জানা নেই, তাদের জন্য রয়েছে সহজ ও ছোট্ট একটি দোয়া-

    اَللهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِيْنَ وَ الْمُؤْمِنَاتِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগফির লিলমু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাতি।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি মুমিন নারী-পুরষকে ক্ষমা করে দাও।’

    যদি কেউ কোনো দোয়াই না জানে তবে ইমামের সঙ্গে শুধু তাকবির (اَللهُ اَكْبَر) বললেই জানাযা আদায় হয়ে যাবে। যেহেতু জানাযা নামাজের রুকু ও সেজদা নেই। শুধু ইমামের অনুসরণ করলে তা আদায় হয়ে যাবে।

    উল্লেখ্য যে, জানাযায় অংশগ্রহণ করলে রয়েছে অনেক সাওয়াব। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত মুসলিম ব্যক্তির জানাযায় ঈমান সহকারে ও ছাওয়াবের আশায় শরিক হয় এবং জানাযা ও সমাধি পর্যন্ত থাকে সে দুই কিরাত নেকি পাবে। প্রতি কিরাত হচ্ছে ওহুদ পাহাড়ের সমান। আর জানাযা পড়ে দাফনের পূর্বে ফিরে যাবে সে এক কিরাত নেকি নিয়ে ফিরবে। (বুখারি, মুসলিম)

    সুতরাং দোয়া না জানলেও জানাযা ও দাফনে শরিক হওয়া উত্তম। জানাযার এ বিশাল সাওয়াব লাভে জানাযার দোয়াগুলোও শিখে নেয়া উত্তম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জানাযা ও দাফনে উপস্থিত হয়ে ফরজে কেফায়া নামাজ আদায় ও সাওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • রাশেদ খান মেনন গংরা জাতির বিষফোঁড়া: পীর চরমোনাই

    রাশেদ খান মেনন গংরা জাতির বিষফোঁড়া: পীর চরমোনাই

    অনলাইন ডেস্ক:

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই বলেছেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কওমী শিক্ষাকে বিষবৃক্ষ, ইসলামী শাসনকে মোল্লাতন্ত্র, ওলামা-মাশায়েখের উস্তাদ আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে জড়িয়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্য সমগ্র ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ ও মাদরাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য চরম অবমাননাকর।

    অবিলম্বে তার ধৃষ্টতা ও প্রলাপপূর্ণ বক্তব্যের জন্য তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ধর্মপ্রাণ জনগণ রাশেদ খান মেননকে উপযুক্ত জবাব দেবে বলে জানান তিনি।

    শনিবার জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে জাতীয় ওলামা- আয়োজিত বিশাল ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

    জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ ও আইম্মা পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ড. আল্লামা জসিম উদ্দীন নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাই উপমহাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। দু’শ বছর ধরে যারা উপমহাদেশের মানুষকে গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ করেছিল আজকের মেননরা সেই ব্রিটিশ ও পশ্চিমা সভ্যতার উচ্ছিষ্টভোগী। মাদরাসা নয়, এই মেননরাই দেশ ও জাতির জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুফতী হাফেজ আহমদুল্লাহ, আল্লামা ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন, আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আল্লামা হাবিবুর রহমান কাসেমী, প্রফেসর ড. বেলাল নুর আজীজ, মাওলানা হাফেজ ওবাইদুল্লাহ হামজা, আল্লামা ফরিদ আহমদ আনসারী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণসংযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শহীদুল হক, শায়খুল হাদীস আল্লামা মুহাম্মদ আলী উসমান, মাওলানা মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা মুফতি হাসান মুরাদাবাদী, গোলাম কিবরিয়া শরীফী ও মাওলানা আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।

  • যে কারণে মানুষের নেক আমলও নিষ্ফল

    যে কারণে মানুষের নেক আমলও নিষ্ফল

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যে মানুষ আল্লাহ পথে ও মতে চলে আল্লাহ তাআলা তার দুনিয়া ও পরকালের সব চাহিদা পূরণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৬৯)

    নেক আমলকারীকে সাহায্য করা কিংবা সঠিক পথে পরিচালনা করা আল্লাহ তাআলার ওয়াদা। আল্লাহ তাআলা ওয়াদা পালনে একনিষ্ঠ।

    আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন অনেক মানুষ আছে যারা নেক আমল করে ঠিকই কিন্তু সামান্য ভুলের কারণে তাদের সে নেক আমল নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে মানুষের নেক আমল নষ্ট হয়ে যায়, তার ধরণগুলো এরকম-

    > পাপকাজ জারি রেখে ভালো কাজের দাবি
    মানুষ আল্লাহকে ভয় করা অনেক উত্তম গুণ। কিন্তু আল্লাহকে ভয় করার দাবি করা সত্ত্বেও পাপ কাজে জড়িত থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে ভালো এ দাবি তখন নিষ্ফল হয়ে যায়। আল্লাহকে ভয় করার দাবি তখনই কার্যকারিতা পাবে যখন মানুষ পাপ কাজ ছেড়ে দেবে।

    > নেক কাজ ছাড়া সাওয়াবের আশা
    মানুষ আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান আশা করে অথচ বাস্তবে উত্তম প্রতিদান লাভে নেক কাজ করে না। সাওয়াব লাভ করতে হলে অবশ্যই নেকে কাজ করতে হবে।

    যদিও আল্লাহ তাআলা মানুষকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেন কিংবা নেক আমল ছাড়াও উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন কিন্তু আল্লাহর সাধারণ রীতি হলো আল্লাহকে প্রকৃত ভয়কারীরাই পাপ থেকে বিরত থাকবে এবং নেক আমলকারীরাই উত্তম প্রতিদান লাভ করবে।

    > ভালো কাজের নিয়তে গড়মিল
    নেক কাজ করার ইচ্ছা আছে ঠিকই বাস্তবে নেক আমল করার একনিষ্ঠ নিয়ত নেই। নিয়তের এমন গড়মিল হলে কোনো কাজেই সফলতা আসবে না।

    > অপরাধের কারণে লজ্জিত না হওয়া
    আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া অনেক বড় ভালো গুণ। কিন্তু অপরাধ করার পর তাতে লজ্জিত না হয়ে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ায় কোনো লাভ নেই। অর্থাৎ মুখে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় অথচ অন্তরে লজ্জা অনুভব করে না। আর এরূপ ক্ষমা প্রার্থনায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।

    > সংশোধনের চেষ্টা না থাকা
    নিজেকে সংশোধন করার একান্ত ইচ্ছা ছাড়া শুধু বাহ্যিক লোক দেখানো নেককাজ পুরোপুরি অর্থহীন। যা কোনো কাজেই আসবে না। তাই নেক কাজের পাশাপাশি নিজের সংশোধনের চেষ্টা থাকা জরুরি।

    > মেহনত ব্যতিত দোয়া
    যে ব্যক্তি শুধু দোয়া করেই জীবনে সব চাওয়াগুলো পেতে চায় কিন্তু আমলের মাধ্যমে মোটেও নেককার হওয়ার চেষ্টা করে না। সে ব্যক্তি বঞ্চিতই থাকবে।

    যে ব্যক্তি শুধু দোয়ার ওপর নির্ভর না করে ভালো কাজের মেহনত বা চেষ্টা করে সে ব্যক্তিই তাওফিক লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আমার জন্য পরিশ্রম করে আমি অবশ্যই তাদেরকে সঠিক পথ দেখাব।’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৬৯)

    > ইখলাসবিহীন আমল
    ইখলাস ব্যতিত মানুষের যে কোনো ভালো কাজের প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে। কারণ ইখলাসবিহীন আমল একেবারেই মূল্যহীন।

    সুতরাং মানুষের উচিত শুধু মুখে মুখে ভালো কাজের কথা না বলে বাস্তবে একনিষ্ঠ নিয়তে ভালো কাজ করা। আল্লাহকে বেশি বেশি ভয় করা। ভালো কাজে মেহনত করা। নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করা। নিজের অপরাধে লজ্জিত হওয়া। গোনাহের কাজ ছেড়ে দেয়া এবং একনিষ্ঠতার সঙ্গে সব কাজ করার চেষ্টা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুখে মুখে নেক কাজের উপদেশ নয় বরং তা কাজে বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • মেননকে সংসদ থেকে বের করা না হলে আলেমরা কঠোর অবস্থানে যাবে

    মেননকে সংসদ থেকে বের করা না হলে আলেমরা কঠোর অবস্থানে যাবে

    রাশেদ খান মেননকে সংসদ থেকে বের করা না হলে আলেমরা কঠোর অবস্থানে যাবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

    আজ জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ হুশিয়ারি দেন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

    প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং রাশেদ খান মেননের কওমি মাদ্রাসা নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

    জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের, তাদের যারা কাফের মনে করে না তারাও কাফের। রাশেদ খান মেনন তাদের পক্ষ নিয়ে কওমি মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলেছে, তারাও তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত।

    তিনি বলেন, এ দেশে কওমি মাদ্রাসা সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনের বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং অন্যায়মুক্ত দেশ গড়তে অবদান রাখছে আলেমরা। তাদের নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানো সাহস তারা কীভাবে পায়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা তার বক্তব্য ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করছি। না হলে এ দেশের তাওহিদি জনতা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, শাহরিয়ার কবিরসহ মেননের মতো আরও যারা নাস্তিক রয়েছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। মেননকে সংসদ থেকে বের করা না হলে ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি জনতা কঠোর অবস্থানে যাবে। তিনি আরও বলেন, রাশেদ খান মেনন মারা গেলে তার জানাজা ও মুসলমানের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। মেনন-ইনুদেরকে এ দেশের মাটি গ্রহণ করবে না।

    কাদিয়ানীদের অমুসলিম দাবি হেফাজত মহাসচিব বলেন, কাদিয়ানীরা ইসলামি পরিভাষা ব্যবহার করতে পারবে না। তারা তাদের ইবাদত খানাকে মসজিদ বলতে পারবে না। এ দেশে হিন্দু, খ্রিস্টান বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম নিয়ে নিরাপদে আছে। কাদিয়ানীরাও আলাদা ধর্ম হিসেবে থাকবে। কিন্তু মুসলিম হিসেবে থাকতে পারবে না। আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত রক্ষা করতে বুকের তাজা রক্ত দিতে হলেও আমরা দেব।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা রাশেদ খান মেননের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। ইসলাম ও ওলামাবিদ্বেষী মেনন ও ইনুদের এবারের মন্ত্রিপরিষদে না রাখায় সরকারকে স্বাগত জানানো হয় সমাবেশ থেকে।

  • নারীর যে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম

    নারীর যে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম

    আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে নারীদের অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের মর্যাদায় অনেক নসিহত করেছেন। নারীদের পরিপূর্ণ আত্মমর্যাদা দিয়ে ইসলাম যে বিশেষ দিক-নির্দেশনা তুলে ধরেছে, তার কিছু তুলে ধরা হলো-

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে নারী দুনিয়াতে ৪টি কাজ যথাযথভাবে আদায় করবে, সে নারীর জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই খোলা থাকবে। কাজ ৪টি হলো-

    – পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে।
    – রমজানের রোজা রাখবে।
    – স্বামীর আনুগত্য করবে। এবং
    – লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।

    নারীর জন্য সতর্কবাণী

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের জন্য বিশেষ সর্তকর্তা বর্ণনা করেছেন-
    – যেসব নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে রাস্তায় বের হবে, কেয়ামতের দিন তাদেরকে জেনাকারীর কাতারে দাঁড় করানো হবে।

    – আবার নারীদের পরচুলা (আলগা চুল) ব্যবহার এবং ব্রু প্ল্যাক করতেও নিষেধ করেছেন । ব্রু প্ল্যাক করলে নারীদের দৃষ্টি শক্তি লোপ পায়। পুরুষের জন্যও পরচুলা ও ব্রু প্ল্যাক করা নিষেধ।

    নারীর পোশাক যেমন হবে

    ইসলাম নারীদের জন্য শালীন ও মার্জিত রুচির পোশাক পরার দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন কোনো পোশাক পরা যাবে না, যা পরলে কার্যত উলঙ্গই মনে হয়। পোশাকের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি। তাহলো-

    – পুরো শরীর ঢেকে রাখা

    নারীর সারা শরীর কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে। যদি কোনো নারী চেহারা খুলে রাখে তবে পর্দা হয়নি এ কথা বলা যাবে না। কেননা চেহারা ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত খোলা রাখার বিধান রয়েছে ইসলামে। তবে চেহারাও ঢেকে রাখা উত্তম। কেননা চেহারা হচ্ছে সৌন্দর্যের রাজধানী। চেহারা দেখলেই নারী সুন্দরী কিনা তা বুঝা যায়।

    তবে বাইরে বের হলে কখনো পা উন্মুক্ত রাখা যাবে না। কেননা পা পর্দার অন্তর্ভূক্ত। নারীদের পা যেন দেখা না যায় স জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পায়ের নিচের দিকে এক হাত প্রয়োজন দুই হাত পর্যন্ত কাপড় ঝুলিয়ে রাখতে বলেছেন।

    তবে ঘরে অবস্থানকালে নারী যে শালিন ও মার্জিত পোশাক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সে পোশাকই পরবেন।

    – নারীদের পোশাক হবে ঢিলেঢালা

    পোশাক এমন ঢিলেঢালা হবে, যাতে নারীদের শরীরের কোনো আকৃতি প্রকাশ হয়ে না যায়। পোশাক হতে হবে শালীন ও নিরাপদ।

    – পোশাক হবে মোটা কাপড়ের

    এমন মোটা কাপড় পরা উচিত, যাতে কোনোভাবেই শরীর স্পষ্ট না হয়। অর্থাৎ কাপড়ের ভেতর দিয়ে শরীর, পশম কিংবা কোনো গোপনাঙ্গ বা আকৃতি প্রকাশ হয়ে না যায়।

    – পুরুষের পোশাক হতে পারবে না

    নারীরা তাদের জন্য নির্ধারিত পোশাক (ঢিলেঢালা সালোয়ার-কামিজ) পরবে। কোনোভাবেই শাড়ি কাপড় পরবে না। কারণ শাড়ি কাপড় পরলে তাতে সালোয়ার-কামিজের ন্যায় পর্দা রক্ষা হয় না।

    বিশেষ করে পুরুষের অনুকরণে পুরুষের পোশাক পরা যাবে না। আবার পুরুষরাও নারীদের অনুকরণে পোশাক পরতে পারবে না।

    নারীরা যেভাবে পরিবারের জন্য বরকতময়

    ইসলাম নারীদের যে অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে দুনিয়ার অন্য কোনো ধর্ম এ অধিকার দেয়নি। ইসলামে কন্যা সন্তানের জন্মকে সবচেয়ে বড় বরকতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
    – কোনো ব্যক্তির যদি প্রথম সন্তান কন্যা হয় তবে বুঝতে হবে এ মেয়ে পরিবারের জন্য বরকতওয়ালা মেয়ে।
    – কন্যা সন্তান যখন বড় হতে শুরু করে তখন এ কন্যা সন্তান তার ভাইয়ের জন্য বরকতময়।
    – কন্যা যখন বিয়ের উপযুক্ত হয় তখন সে বাবার জন্য বরকতময়। কেননা বিশ্বনবি বলেছেন, দুই মেয়ের বাবা মানেই ২ জান্নাতের অধিকারী। আবার যদি তিন মেয়ে সন্তান জন্ম নেয় তবে সে ৩ জান্নাতের অধিকারী।

    – বিয়ের পরে নারী যখন স্বামী কাছে যায় তখন সে স্বামীর জন্য বরকতময়। ওই স্বামী মহান আল্লাহর কাছে সেরা যে স্বামী তার স্ত্রীর কাছে সেরা। স্ত্রী যদি স্বামীকে ভালো বলে তবে স্বামী আল্লাহর কাছে ভালো হিসেবে পরিগণিত হয়। আর স্ত্রী যদি খারাপ বলে তবে সে ব্যক্তি আল্লাহর কাছেও খারাপ হিসেবে পরিগণিত হবে।

    – স্বামী যদি স্ত্রীর হাতে হাত রাখে তবে তাদের উভয়ের হাতে সগিরা গোনাহ মাফ হয়ে যায়। আবার তারা যদি এক অপরের প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায় তবে তাদের চোখের সগিরা গোনাহ মাফ হয়ে যায়।

    – স্বামী তার স্ত্রীর জন্য যেসব খরচ তার সবই আল্লাহর দরবারে তা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়ে যায়।

    – আবার কেনো নারী যখন গর্ভধারণ করে আর সুস্থভাবে সন্তান প্রসব করে তবে তার পায়ের নিচে তৈরি হয় সন্তানের জন্য বেহেশত। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সন্তানের কাছে মায়ের মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দেন।

    – আবার কোনো নারী যখন গর্ভধারণ করে। অতঃপর সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যান, তখন সে নারী মৃত্যু আল্লাহর দরবারে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করে।

    – আর নারী যখন মা হয়ে যায় তখন তার মর্যাদাও অনেক গুণে বেড়ে যায়। কেননা ইসলাম মায়ের মর্যাদা বাবার চেয়ে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রমাণ হলো-

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবি মায়ের খেদমতের কথা তিন বার বলেছেন আর ৪র্থ বার বলেছেন বাবার খেদমতের কথা। তাইতো গীতিকার আপন মনে গেয়ে ওঠেন-

    ‘ওগো মা, তুমি এ ধরণীর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
    তোমারই পদতলে রয়েছে জান্নাত।’

    এ সব কারণেই নারী জাতির সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে হবে। আবার নারী জাতিকে উত্তম আচরণ শিক্ষা দিতে হবে। কেননা দুনিয়ার প্রতিটি নারীই তার সন্তানের জন্য প্রথম ও সার্বক্ষনিক বিশ্ববিদ্যালয়। নারী কাছেই সন্তান শিখে উত্তম আচরণ।

    ইসলামের বিরুদ্ধে এ কথা ঠিক নয় যে-

    ইসলাম নারীকে সঠিক মর্যাদা দেয়নি বরং ঠকিয়েছে। ইসলামের বিরুদ্ধে এ অপবাদের জবাব তাদের মাঝেই রয়েছে যারা এ অপবাদ দেয়।

    ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা অনুধাব করতে হলে অতিতের ইউনানী সমাজে, রুমান সমাজে, ইয়াহুদি সমাজে, খ্রিস্টান সমাজে, বৌদ্ধ সমাজ, আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে তথা হিন্দু সমাজে নারী অবস্থানের দিকে তাকাতে হবে।

    আর তখনই নারীর অধিকারের বিষয়ে ইসলাম যে পরিপূর্ণ মর্যাদা দিয়েছে তা ফুটে ওঠবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে কুরআন-সুন্নাহর বিধান মেনে নিজেদের জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ছেলে-মেয়েদের অবৈধ সম্পর্ক : ইসলাম কী বলে?

    ছেলে-মেয়েদের অবৈধ সম্পর্ক : ইসলাম কী বলে?

    পরনারীর প্রতি আসক্তি মানুষের বিকৃত মানসিকতা ও মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ। মানবতা ও বিশুদ্ধতার একমাত্র জীবন ব্যবস্থা দিয়েছে ইসলাম। কোনো গর্হিত কাজই ইসলাম অনুমোদন দেয় না। আর বিবাহবহির্ভূত নারী-পুরুষের আসক্তি কিংবা সম্পর্ক সবচেয়ে গর্হিত নিষিদ্ধ কাজ।

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর জন্য ‘ঘনিষ্ঠ আত্মীয়’ দেবরকে (স্বামীর ভাইকে স্ত্রীর জন্য) মৃত্যুর সমতুল্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ঠিক স্বামীর জন্য স্ত্রীর বোনও (শ্যালিকাও) অনুরূপ।

    স্ত্রীর জন্য দেবর আর স্বামীর জন্য শ্যালিকা মৃত্যুর সমতুল্য মানেই হলো একে-অপরের সঙ্গে অবাধ দেখা-সাক্ষাৎ এবং আসক্তিমূলক সম্পর্ক হারাম বা নিষিদ্ধ। ইসলামে এ সবের শাস্তিও খুব ভয়াবহ।

    দেবর কিংবা শ্যালিকার ব্যাপারে যদি ইসলামের এ রকম কঠোর নির্দেশনা আসে তবে পরনারী কিংবা পরপুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিধান কেমন হতে পারে? তা বিবেকবানদের জন্য অনুমেয়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ওই নারীকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল, যে নারী তার জন্য হালাল নয়।’ (তাবারানি)

    ইসলামে বিবাহবিহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক, আসক্তিমূলক আচরণ, সামাজিকতার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাহেশা কথা-বার্তা বা চ্যাটিং সবই হারাম তথা নিষেধ।

    যৌন সম্পর্ক, অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা তো দূরের কথা, বিবাহবহির্ভূত নারী-পুরুষরা কোমল বা নরম ভাষায় সরাসরি, মোবাইলে কিংবা চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে আসক্তিমূলক কথা-বার্তাও বলা যাবে না। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন-

    ‘হে নবি পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না। যার ফলে সে ব্যক্তির কুবাসনা সৃষ্টি হয়, যার অন্তরে আসক্তি আছে। তোমরা উত্তম (সংযত) কথাবার্তা বলো।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ৩২)

    আবার নারী-পুরুষ পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি বিনিময়েও রয়েছে সুস্পষ্ট হুকুম। এ প্রসঙ্গে কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছেন।

    > পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

    ‘(হে রাসুল! আপনি) মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তাআলা সে ব্যাপারে খবর রাখেন।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩০)

    > আবার নারীদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

    ‘(হে রাসুল! আপনি) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। সাধারণতঃ প্রকাশমান ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বুকের ওপরে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, স্ত্রীলোক অধিকারভূক্ত বাদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও (এমন) বালক- যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতিত অন্য কারো সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। (এমনকি) তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

    কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা হলো, মুসলিম নারী-পুরুষ উভয়ে অবৈধ সংস্পর্শ, কথা-বার্তা ও দেখা-সাক্ষাৎ, আসক্তি ও সাজ-সজ্জা থেকে বেঁচে থাকা। নিজেদের দ্বীন ও আত্মসম্মান রক্ষা করা।

    সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই ছোট হাদিসটির ওপর আমল করা জরুরি। যার বাস্তবায়নে তিনি মুসলিম উম্মাহকে দিয়েছেন জান্নাতের গ্যারান্টি। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজত করবে; আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবো।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর নারী-পুরুষ উভয়কে অবৈধ আসক্তি, সম্পর্ক, দেখা-সাক্ষাৎ, কথা-বার্তা ও যৌন লালসা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • বান্দার সঙ্গে আল্লাহর ওয়াদা: চাওয়ার ধরণ ও বাস্তবায়ন

    বান্দার সঙ্গে আল্লাহর ওয়াদা: চাওয়ার ধরণ ও বাস্তবায়ন

    দুনিয়ার এ ক্ষনস্থায়ী জীবনে যারা ভোগ-বিলাস, ধন-সম্পদে আকৃষ্ট না হয়ে পরকালের জীবনকে স্মরণ করে তাদের জন্য চিরস্থায়ী ভোগ-বিলাসের ব্যবস্থা রয়েছে। আর যারা এ জগতের ভোগ-বিলাসে মাতোয়ারা তাদের জন্য রয়েছে সীমাহীন শাস্তি ও আজাব।

    কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা এসব ঘোষণা তুলে ধরে মানুষকে সত্যের পথে ও মতে জীবন পরিচালনার আহ্বান করেছেন। সব মানুষকেই আল্লাহ তাআলা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বুঝার যোগ্যতা দান করেছেন।

    উভয় কাজের জন্যই আল্লাহ তাআলা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। নেককার ব্যক্তি যাবে জান্নাতে আর পাপী ব্যক্তি যাবে জাহান্নামে। এটা আল্লাহ পাকে ওয়াদা। আল্লাহ তাআলা তার ওয়াদা পূরণে বদ্ধপরিকর। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে ঘোষণা করেন-

    Quran-1

    আয়াতের অনুবাদ

    Quran-2

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ

    সুরা আল-ইমরানের ১৬নং আয়াতে আল্লাহ সেসব বান্দার কথা তুলে ধরেছেন, যারা ঈমানের স্বীকৃতি ও নিজেদের গোনাহ মাফের আবেদন করেছেন আল্লাহর কারছে। মুক্তি চেয়েছেন জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে।

    আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে ওয়াদা দিয়েছেন, যারা আল্লাহর কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস প্রার্থনা করে আল্লাহ তা তাদের দেবেন। শুধু দেবেন তা-ই নয়, তিনি প্রতি রাতে মুমিন বান্দাকে তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য আহ্বান করেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের যখন শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার কাছের আসমানে আসেন এবং আহ্বান করেন, আমি সবচেয়ে ক্ষমতাবান। কোনো দানপ্রার্থী আছে কি, আমি যাকে দান করবো? আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী, যাকে আমি ক্ষমা করবো?’ (বুখারি ও মুসলিম)

    উল্লেখিত আয়াতে সেসব বান্দার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা ঈমান এনেছি, আর এই ঈমানের বরকতে আমাদের গোনাহ মাফ করে দিন। আর দোজখের আজাব থেকেও আমাদের রক্ষা করুন।’

    মুমিন বান্দারাও আল্লাহর শেখানো ভাষায় তার কাছে প্রার্থনা করেন। যেখাবে প্রার্থনা করেছেন সাহাবায়ে কেরাম।

    হজরত হাতেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাতের শেষ দিকে আমি শুনতে পেলাম, কোনো এক ব্যক্তি মসজিদের কোণে প্রার্থনা করে বলছে- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা আদেশ করেছ আমি তা পালন করেছি, আমাকে ক্ষমা কর। আমি দেখলাম তিনি হলেন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

    আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি কুরআনে পাকে মুমিন বান্দার বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। আর তা বাস্তবায়নের ওয়াদাও তিনি করেছেন। যারা তার নিয়মানুযায়ী চাহিদা পেশ করতে পারবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সে ব্যক্তির চাহিদা ওয়াদামতো পূরণ করে দেবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার সব চাহিদা পূরণে এবং আখেরাতের সফলতায় তার ঘোষণা অনুযাযী প্রার্থনার মাধ্যমে অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।