Category: ধর্ম

  • পবিত্র শবে বরাত ২১ এপ্রিল

    পবিত্র শবে বরাত ২১ এপ্রিল

    দেশের কোনো জেলায় শনিবার সন্ধ্যায় শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রবিবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।  আগামী সোমবার থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। আর আগামী ২১ এপ্রিল রবিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

    শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভা কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি এ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। শবে বরাতের ১৪-১৫ দিন পর রমজান মাসের চাঁদ ওঠে। সে হিসাবে ৫ বা ৬ মে রোজা শুরু হতে পারে।

    মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে লাইলাতুল বরাত বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পবিত্র শবে বরাতের রাতকে বলা হয় ভাগ্য নির্ধারণের রাত। অতীতের পাপাচার থেকে মুক্তি এবং আগামী বছরে সুখ-সমৃদ্ধির জন্য এই রাতে সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া প্রার্থণা করেন মুসল্লিরা।

  • দ্বীনের দাওয়াত প্রসঙ্গে বিশ্বনবির প্রতি আল্লাহর নির্দেশ

    দ্বীনের দাওয়াত প্রসঙ্গে বিশ্বনবির প্রতি আল্লাহর নির্দেশ

    নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা।’ আল্লাহ তাআলা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীনকেই জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেন না। আর এ ইসলাম মানেই হলো আত্মসমর্পণ।

    তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের কাছ থেকে যে দ্বীন গ্রহণ করেন, তা শুধু মস্তিষ্ক দ্বারা কোনো কিছু চিন্তা করা নয় এবং মন দ্বারা কোনো কিছুকে সত্য বলে মানাও নয় বরং তা হচ্ছে মস্তিষ্কের এ চিন্তা ও মনের স্বীকৃতিকে বাস্তবে রূপদান করা।

    মানুষ দুনিয়ার জীবনের সব কাজে আল্লাহর বিধানকে কর্যকর করবে, নির্বিঘ্নে তাঁর আইন নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা অনুসরণ করবে, এটাই হলো ইসলাম বা আত্মসমর্পণ।

    আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আহলে কিতাবের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে ইসলামের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে তাঁর ও উম্মতের বিষয়ে সুস্পষ্ট মনোভাব তুলে ধরার নির্দেশ দিয়ে বলেন-

    Quran
    আয়াতের অনুবাদ
    Quran

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ
    এ সুরার ১৯ নং আয়াতে প্রিয় নবি আহলে কিতাবের অনুসারীদের কাছে তাঁর ও উম্মতে মুহাম্মাদির ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। আর আহলে কিতাবের অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা ইসলামে প্রবেশ করবে তারা সত্য ও ন্যয়ের পথ লাভ করবে বলে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দেন।

    এ কথা ঘোষণা দেন যে, ‘আমি ও আমার অনুসারীরা তো সেই নির্ভেজাল ইসলামের স্বীকৃতি দিয়েছি, যেটি আল্লাহর প্রকৃত দ্বীন ও জীবন বিধান।’

    আর আহলে কিতাবের অনুসারীদের কাছে প্রিয় নবির জিজ্ঞাসা হলো এমন যে, ‘তোমরা বলো, তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষ দ্বীনের মধ্যে যে পরিবর্তন করেছো তা বাদ দিয়ে আল্লাহর প্রকৃত দ্বীন ও জীবন বিধানের দিকে কি ফিরে আসবে?

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ জিজ্ঞাসা শুধু আহলে কিতাবের অনুসারীদের প্রতিই ছিল না বরং তা আরবের মুশরিকদের কাছেও ছিল। তারা আহলে কিতাবের অনুসারীদের তুলনায় সাধারণভাবে নিরক্ষর ছিল।

    আল্লাহ তাআলা সে সময়কার আহলে কিতাবের অনুসারীদের আচরণকে জনসম্মুখে তুলে ধরেন। আহলে কিতাবের অনুসারীরা নিজেদের আল্লাহর দ্বীনের অনুসারী বলে দাবি করতো।

    অথচ যখনই তাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার-ফয়সালার আহ্বান জানানো হতো, তখনই তাদের একদল তা প্রত্যাখ্যান করতো। যা ছিল তাদের দাবির পরিপন্থী বিষয়।

    এ কারণেই আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ কথা ঘোষণার নির্দেশ দেন যে,
    ‘হে রাসুল! যদি কাফেররা আপনার সঙ্গে দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা নিয়ে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হয় তবে আপনি তাদের বলে দিন, আমি ও আমার অনুসারীরা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমরা তাঁর বাধ্যগত।
    আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে সেসব আহলে কিতাবের অনুসারী ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের এবং নিরক্ষরদের তথা আরবের মুশরিকদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় না জড়িয়ে শুধু বলুন, তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ (আত্মসমর্পণ) করেছ?
    যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তবে তারা পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত পাবে। আর যদি তারা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনার দায়িত্ব হলো শুধু দ্বীনের আহ্বান তথা রেসালাতের বাণী প্রচার করা। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দার সব কাজ দেখেন এবং এর প্রতিফল দান করেন।

    মুমিন মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি বিষয়ে দ্বীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকা। ইসলামের বিষয়ে কারো সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় না জড়িয়ে ইসলামের সৌন্দর্য ও বিধানগুলো সবার কাছে তুলে ধরা। যারা ইসলামের এ আহ্বান গ্রহণ করবে তারাই হবে সফলকাম।

    উল্লেখ্য যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে যুদ্ধ তথা জিহাদের আয়াত নাজিল হওয়ার আগে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি নির্দেশ ছিলো এমন যে, ইসলাম নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো বাক-বিতণ্ডার প্রয়োজন নেই। আপনার কাজ হলো শুধু দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে যাওয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়ার মাধ্যমে জীবনের সব কাজ ইসলামের আলোকে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে ৭ কাজে রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার

    যে ৭ কাজে রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার

    দুনিয়াতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা দুনিয়াকে ভালোবাসে এবং পরকালকে অবহেলা করে।ফলে সে দুনিয়া ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দুনিয়াকেও ভালোবাসতে হবে, এ ভালোবাসা হবে পরকালের সফলতার জন্য।

    দুনিয়ার সময়কে গুরুত্ব দিয়ে ভালোবাসার সঙ্গে আল্লাহর বিধান পালন করতে হবে। কেননা দুনিয়া হচ্ছে পরকালের সফলতা লাভের কর্মক্ষেত্র।

    যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা দুনিয়ার সব সুযোগ-সুবিধাকে পরকালের সফলতা লাভের জন্যই ব্যবহার করে। কেননা মুমিনের কাছে পরকাল অপেক্ষা উত্তম কোনা কোনো কিছুই হতে পারে না।

    যে সব মুমিন বান্দা পরকালের সফলতা লাভে দুনিয়াকে ভালোবাসে এবং দুনিয়াতে আল্লাহর দেয়া বিধান যথাযথ বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করে তারা ৭ শ্রেণিতে বিভক্ত। সেই ৭ শ্রেণির লোকেরা হলেন-

    > যারা গুরুত্বর পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে।
    > যারা কোনো কাজে অন্যের প্রতি প্রচণ্ড রাগের সময়ও তাকে ক্ষমা করে দেয়।
    > যারা আল্লাহর নির্দেশ ও আহ্বানে সাড়া দেয়।
    > যারা আল্লাহর নির্দেশতি পন্থায় নামাজ প্রতিষ্ঠা করে।
    > যারা যে কোনো কাজ নিজেদের মধ্যে পরামর্শের আলোকে সম্পাদন করে।
    > যারা আল্লাহর দেয়া জীবিকা থেকে তার পথে ব্যয় করে।
    > যারা কারো দ্বারা জুলুম বা অত্যাচারের শিকার হলে
    – হয় সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে নতুবা
    – প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দেয় অথবা
    – অত্যাচারের পরিমাণ অনুযায়ী আপোশ-মীমাংশায় সম্মত হয়।

    আল্লাহ তাআলা উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন। এগুলো হলো মুমিন বান্দার গুণ। যা সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেই সম্পাদন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যা আছে তা সর্বোত্তম ও স্থায়ী, যারা মারাত্মক পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, রাগ হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমা করে, প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দেয়, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, নিজেদের মধ্যে পরামর্শের আলোকে কর্ম সম্পাদন করে, তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, অত্যাচারিত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ, তবে যে ক্ষমা করে দেয় ও আপোষ নিষ্পত্তি করে- আল্লাহর কাছে তার পুরস্কার রয়েছে।’ (সুরা শুরা : আয়াত ৩৬-৪০)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের নির্দেশের আলোকে উল্লেখিত গুণগুলো নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। পরকালের স্থায়ী ও সর্বোত্তম পুরস্কার মহা সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • পরকালে শাফায়াত পেতে বিশ্বনবির সতর্কবার্তা

    পরকালে শাফায়াত পেতে বিশ্বনবির সতর্কবার্তা

    পরকালে যার আমলনামা ভালো হবে সে মুক্তি পাবে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ ও শাফায়াত পেতে উম্মতের শিক্ষা লাভে তাঁর পরিবার, আপনজনসহ বংশধরদের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ঘোষণা করেছেন।

    আল্লাহ তাআলা কুরআনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, (হে রাসুল) আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।

    আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ পরিবার, বংশ ও আত্মীয়-স্বজনকে এ মর্মে সতর্ক করেন যে, ‘কেয়ামতের দিন আমি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারবো না।’ হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যখন সুরা শুআরার ২১৪নং আয়াত নাজিল হয়- ‘(হে রাসুল!) আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।

    তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে (ধারাবাহিকভাবে নাম ডেকে) ঘোষণা করলেন-
    > হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর (একত্ববাদ ও ইবাদতের) জন্য নিজেদের প্রস্তুত কর। আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে বনি আবদে মানাফ! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে রাসুলের ফুফু সাফিয়্যাহ! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না।
    > হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যা ফাতেমা! তুমি আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা নিয়ে নাও। আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো বিষয়ে কাজে আসতে পারবো না। (বুখারি)

    অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ ঘোষণা দিতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আয়াত নাজিল করেন-
    ‘আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তোমার বাহুকে অবনত কর। তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বল, তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালু (আল্লাহর) ওপর ভরসা কর। যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাজে) দণ্ডায়মান হও এবং সেজদাকারীদের মধ্যে তোমার ওঠা-বসা। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ২১৫-২২০)

    এ কারণেই মানুষের উচিত দুনিয়ার সব কাজ মহান আল্লাহর জন্য সম্পাদন করা। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। আল্লাহ নির্দেশ দেন-
    ‘(হে রাসুল!) আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি (সব ইবাদত), আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৬২)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তার বংশধর, চাচা, ফুফু, কন্যার ব্যাপারে এত কঠোর সতর্ক বার্তা দিতে পারেন তবে মুসলিম উম্মাহর জীবন-যাপন কেমন হওয়া উচিত।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদতের ব্যাপারে গুরুত্ব বুঝাতেই নিজ বংশধর, চাচা, ফুফু, মেয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

    সুতরাং মুসলমানের উচিত আল্লাহর নাফরমানি না করে শিরকমুক্ত ঈমানের সঙ্গে নেক আমল ও ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়া। তবেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ উম্মতে কাজে আসবে। তিনিও তার উম্মতের জন্য শাফায়াত করবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শিরকমুক্ত ঈমান লাভ ও তার ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত করার তাওফিক দান করুন। হাশরের ময়দানে হাদিসে ঘোষিত সব ধরনের শাফায়াত লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • তাহাজ্জুদ নামাজে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    তাহাজ্জুদ নামাজে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    রাতের নামাজ তাহজ্জুদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এ নামাজ পড়া আবশ্যক ছিল। তিনি রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবিকে তাহাজ্জুদ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। আর আবেগঘন কণ্ঠে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সে প্রশংসা ওঠে এসেছে। আর তাহলো-

    হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশে যখন দাঁড়াতেন,ম তখন (এ) দোয়া পড়তেন-

    اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ، لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ،
    وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ،
    وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ ـ أَوْ لاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আংতা কায়্যিমুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না ওয়া লাকালহামদু। লাকা মুলকুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না। ওয়া লাকাল হামদু আংতা নুরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া লাকাল হামদু আংতাল হাক্কু। ওয়া ওয়া’দুকাল হাক্কু। ওয়া লিক্বাউকা হাক্কু। ওয়াল ঝান্নাতু হাক্কু। ওয়ান নারু হাক্কু। ওয়ান নাবিয়্যুনা হাক্কু। ওয়া মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা হাক্কু। ওয়াস সাআতু হাক্কু। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু। ওয়াবিকা আমাংতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু। ওয়া ইলাইকা আনাবতু। ওয়া বিকা খাসামতু। ওয়া ইলাইকা হাকামতু। ফাগফিরলি মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু। ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ’লাংতু। আংতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আংতাল মুআখ্খিরু। লা ইলাহা ইল্লা আংতা। লা ইলাহা গাইরুকা।’ (বুখারি)

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! সব প্রশংসা আপনারই, আপনিই আসমান-জমিন ও উভয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান-জমিন এবং এর মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের নুর। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের মালিক, আপনারই জন্য সব প্রশংসা।

    আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য। (পরকালে) আপনার সাক্ষাৎ সত্য। আপনার বাণী সত্য। আপনার জান্নাত সত্য। আপনার জাহান্নাম সত্য। আপনার (প্রেরিত) নবিগণ সত্য। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য, কেয়ামত সত্য।

    হে আল্লাহ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম, আপনার ওপর ঈমান আনলাম, আপনার ওপরই ভরসা করলাম, আপনার দিকেই রুজু করলাম, আপনার (সন্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার আগের-পরের প্রকাশ্য ও গোপন সব পাপ/অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই শুরু এবং আপনিই শেষ মালিক। আপনি ব্যতিত সত্য কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই অথবা আপনি ব্যতিত (ইবাদতের উপযুক্ত) অন্য কেউ নেই।

    তাহাজ্জুদ নামাজ যেমন বান্দার সঙ্গে আল্লাহর গভীর সম্পর্ক তৈরির সেতুবন্ধ। ঠিক তেমনি এ দোয়াও আল্লাহ এবং বান্দার মাঝে একান্ত সুসম্পর্ক তৈরির আবেগঘন কথপোকথন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ নামাজে আল্লাহর সঙ্গে এ আবেগঘন বাক্য বিনিময় করতেন।

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গভীর রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য ওঠে কুরআনের এ আয়াতসহ-

    رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ – رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ – رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلإِيمَانِ أَنْ آمِنُواْ بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ

    উচ্চারণ : রাব্বানা মা খালাক্বতা হাজা বাত্বিলান, সুবহানাকা ফাক্বিনা ‘আজাবান্নার। রাব্বানা ইন্নাকা মাং তুদখিলিন্নারা ফাক্বাদ্ আখঝাইতাহু, ওয়া মা লিজজ্বালিমিনা মিন্ আংছার।

    রাব্বানা ইন্নানা সামি’না মুনাদিআই ইউনাদি লিল ইমানি আন আমিনু বিরাব্বিকুম ফাআমান্না; রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফ্‌ফির আন্না সাইয়্যেআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মাআ’ল আবরার।’

    সুরা আল-ইমরানের শেষ পর্যন্ত পড়তেন। যা পড়া সুন্নাত। (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

    উম্মতে মুহাম্মাদির উচিত, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবেগঘন এ কথাগুলো এবং কুরআন তেলাওয়াতের এ আমল নিজেদের রাতের তাহাজ্জুদ নামাজে পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে এগিয়ে যাওয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাহাজ্জুদ নামাজে এ দোয়া পড়ার এবং নৈকট্য অর্জনে একনিষ্ঠ হওয়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • কাল বুধবার পবিত্র শবে মেরাজ

    কাল বুধবার পবিত্র শবে মেরাজ

    যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আগামীকাল বুধবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপিত হবে। আজ মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল বাদ আসর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    সেখানে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে জ্ঞানগর্ব আলোচনা করবেন। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করবেন ।

    বুধবার দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক, অসামান্য, মহাপুণ্যে ঘেরাে এ রজনী।

    মহাপবিত্রতম রজনীগুলোর মধ্যে একটি লাইলাতুল মেরাজের। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নবুওয়াতের একাদশ বর্ষের ২৬ রজবের দিবাগত গভীর নিশিথে মহান আল্লাহর খাস রহমতে হযরত জিব্রাঈলের (আঃ) সাথে পবিত্র কাবা হতে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরে ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা, অতঃপর সত্তর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। মেরাজকালে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর রহস্য অবলোকন করেন।

    এ রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহ তায়ালার অফুরান রহমত-বরকত-মাগফিরাতে সমৃদ্ধ। আরবী শব্দ মেরাজ অর্থ উর্দ্ধারোহন। মেরাজের বড়দাগের অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা তার চেয়ে কম দূরত্বে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ।

    হাদিস শরীফে শবে মেরাজের ইবাদত সম্পর্কে উল্লেখ আছে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) ও সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত, নিঃসন্দেহে রজব মাসে এমন একটি মহান দিন ও রাত রয়েছে, কোন মোমিন যদি ঐদিনে রোযা রাখে ও রাতে নামাজে মশগুল থাকে, তার প্রতিদান হবে যেন সে একশ বছর দিনে নফল রোযা ও রাতে নফল নামাজ পড়েছে। সেই মহান রাতটি হলো রজবের সাতাশতম রাত। (গুনিয়াতুত্বালিবীন)। তবে এ রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা, আতশবাজি, আলোক সজ্জা ইত্যাদি সবই বিদআতের পর্যায়ভুক্ত বলে মত দেন উলামারা।

    মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরা নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা বলে মনে করা হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া অন্য কোন নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। আর এ কারণেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সর্ব শ্রেষ্ঠ নবী।

  • নারীদের জন্য কখন হজ ফরজ?

    নারীদের জন্য কখন হজ ফরজ?

    হজ আর্থিক এবং শারীরিক ইবাদত। হজ করার আর্থিক ক্ষমতা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হজ করা জরুরি। কেননা হজের সামর্থ্য হওয়ার পর যদি কোনো লোক পরবর্তীতে সম্পদহীন হয়ে যায় তবে তার ওপর হজের ফরজিয়ত থেকে যাবে। গরীব হয়ে যাওয়ার কারণে হজের শর্ত ছুটে যাবে না।

    আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা থাকলেই পুরুষের জন্য যেমন হজ ফরজ হয়, নারীদের ক্ষেত্রে তেমনটি নয় বরং নারীর জন্য হজ ফরজ হতে পুরুষদের চেয়ে কিছু অতিরিক্ত আর্থিক যোগ্যতা, সক্ষমতা এবং অনুমতি থাকা আবশ্যক হয়। যা জানা মুসলিম নারীদের জন্য আবশ্যক। এসব ক্ষেত্রে অনেক নারীই সন্দেহ-সংশয়ে থাকে।

    যাদের ওপর হজ ফরজ

    আকল বা জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে।

    > প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
    > স্বাধীন হতে হবে।
    > পূর্ণ সুস্থ এবং সবল থাকা।
    > হজে মৌসুম হতে হবে।
    > হজের রাস্তা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হওয়া।
    > হজের পূর্ণ খরচ বহন করার সক্ষমতা থাকা।

    নারীদের জন্য অতিরিক্ত যে বিষয়গুলো জরুরি-

    > বিবাহিত হলে স্বামীর অনুমতি থাকতে হবে।
    > তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা হলে (পরবর্তী ৩ মাস) ইদ্দত পরিপূর্ণ করতে হবে।
    > অবশ্যই হজের সফরে মাহরাম বা বৈধ দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকতে হবে।
    > যে নারী হজ করার ইচ্ছা পোষণ করবে, তাকে অবশ্যই হজের খরচ নির্বাহ করার আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হবে।

    নারীদের অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা-

    যে নারী হজ করার ইচ্ছা পোষণ করবে কিন্তু হজের সফরের জন্য কোনো মাহরাম না থাকে। তবে সে নারী নিজ খরচের সঙ্গে মাহরামের হজের খরচ সম্পন্ন করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

    আর কোনো নারীর বৈধ মাহরাম যদি তার ফরজ হজ আদায় করতে যায়, তার সঙ্গে হজ ফরজ হওয়া কোনো নারী যেতে চাইলে যেতে পারবে, সে ক্ষেত্রে পুরুষ মাহরামের খরচ দেয়ার প্রয়োজন হবে না।

    সুতরাং যে নারীর নিজ খরচ এবং মাহরামের খরচ মেটানোর আর্থিক সক্ষমতা থাকে তবে অন্যান্য শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে তাদের জন্য হজ করা ফরজ। শুধু হজই নয় বরং নারীর জন্য ওমরার ক্ষেত্রেও এ শর্তগুলো প্রযোজ্য।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে হজের সামর্থ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • কুরআনের আলোকে তৈরি হলো যে পার্ক

    কুরআনের আলোকে তৈরি হলো যে পার্ক

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। উন্নত জীবনমান ও সৌন্দর্যের জন্য দেশটি বিখ্যাত। দেশটির প্রধান ও বিশ্বব্যাপী পরিচিত নাম দুবাই। দুবাই প্রদেশের আল-খাওয়ানিজ অঞ্চলে ৬৪ হেক্টর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে কুরআনিক গার্ডেন ‘হলি কুরআন পার্ক’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ২৯ মার্চ এ কুরআনিক পার্কের উদ্বোধন করা হয়।

    কুরআনিক পার্ক গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির সেতুবন্ধ। কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন সৃষ্টি, উদ্ভিদ ও ঘটনার সঙ্গে মিল রেখেই তৈরি করা হয়েছে এ কুরআনিক গার্ডেন।

    park

    এ কুরআনিক গার্ডেনে রয়েছে মূল প্রবেশদ্বার, প্রশাসনিক ভবন, ইসলামিক বাগান, শিশুদের খেলার স্থান, দর্শনীয় স্থান, উন্মুক্ত আঙ্গিনা এবং কুরআনের অলৌকিক ঘটনার বর্ণনাসমৃদ্ধ এলাকা।

    Park

    কুরআনে বর্ণিত ঘটনার কোনো বর্ণনার চিত্রায়ন ও সাজসজ্জা বাদ যায়নি এ পার্কে। এ পার্কে রয়েছে মরুদ্যান, পাম বাগান, নয়নাভিরাম লেক, চলমান রাস্তা এবং সাইক্লিনিং ট্র্যাক ও হাঁটার রাস্তা।

    দুবাই সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ পার্কটি উদ্বোধনের দিন সব দর্শনার্থীর জন্য প্রবেশ ছিল উন্মুক্ত।

    Park

    কুরআনে বর্ণিত দারুচিনি, জলপাই, মরিচ, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, গম, আদা, কুমড়া, তরমুজ, তেঁতুল, আঙ্গুর, কলা, ডুমুর, ডাল, ভুট্টা, বার্লি, শসা, আম, কাছিড়, তুঁত এবং বিভিন্ন মসলার উদ্ভিদ দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে এ কুরআনিক পার্ক।

    তাছাড়া কুরআনিক গার্ডেনে এমন কিছু উদ্ভিদের বাগান রয়েছে, যা দ্বারা ভেষজ চিকিৎসা করা যায়।

    এছাড়া রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণ দৃষ্টিনন্দন ঝরনা। গ্লাস নির্মিত স্বচ্ছ ভবন। কুরআনের বর্ণনায় একটি গুহার আবহও তৈরি করা হয়েছে।

    Park

    পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ৫৪ প্রজাতির মধ্যে ৩৫টি পার্কের অভ্যন্তরে প্রদর্শিত হবে। অবশিষ্ট ১৫টি গ্রিন হাউজে প্রদর্শিত হবে এবং আরো ২০টি প্রজাতি পার্কের বাইরে প্রদর্শিত হবে।

    পার্কে একটি টানেল থাকবে, যা অলৌকিক ঘটনার অডিওসহ চিত্র তুরে ধরা হবে। পর্যাপ্ত খোলা জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এ কুরআনিক পার্কে। প্রকল্পটি নির্মাণে দুবাই মুদ্রায় ২৭ মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

  • যে ৪ কাজ আল্লাহ পছন্দ করেন না

    যে ৪ কাজ আল্লাহ পছন্দ করেন না

    কুরআন মানুষের জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। এতে রয়েছে মানুষের জীবনে হালাল-হারাম, ইতিবাচক-নেতিবাচক সব বিষয়ের বিশদ বর্ণনা। যথাসময়ে নামাজ, রমজানের রোজা, কুরআন অনুযায়ী জীবন-যাপনসহ, মৃত্যুর স্মরণ আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয় বিষয়।

    আল্লাহ তাআলা নামাজ, রোজা, জীবন-মৃত্যুসহ দুনিয়ায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জোর তাগিদ ও নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ মানুষ এসব নির্দেশের চরম অবহেলা করে।

    আল্লাহর নির্দেশের মধ্যে ৪টি কাজে অবহেলা করা আল্লাহর কাছে শুধু অপছন্দনীয়ই নয় বরং আল্লাহ তাআলার বিধানের চরম লঙ্ঘন। আর তাহলো-

    > নামাজ না পড়া কিংবা নামাজে অবহেলা করা। নামাজ না পড়লে তা যথযথ আদায় করা এবং নামাজের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে তা আদায় করা।

    > কুরআন তেলাওয়াতের সময় তা না শোনা। কুরআন তেলাওয়াতের সময় চুপচাপ থেকে তা মনোযোগের সঙ্গে শোনা এবং সে সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা না বলা। কুরআন তেলাওয়াত করা। অযথা সময় নষ্ট না করে কুরআনি জীবন গড়ে তোলা।

    > রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা। রমজানসহ অন্যান্য রোজা রাখার সময় স্ত্রী সহবাস করা যাবে না। কারণ রোজা অবস্থায় দিনের বেলা স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। আর তা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় কাজ।

    > কবরস্থানে বসে হাসাহাসি করা। কবরস্থান মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ মৃত্যুর কথা স্মরণ না করে কবরস্থানে বসে হাসাহাসি করা আল্লাহর কাছে চরম অপছন্দনীয় কাজ। তাই কবরস্থানের কাছে হাসাহাসি না করে মৃত্যু কথা স্মরণ করাই উত্তম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাআত?

    তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাআত?

    বিনা হিসেবে জান্নাতে যেতে যাদের বাধা থাকবে না, তাদের হলেন রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী বান্দা। আর এটা মুমিন বান্দার জন্য মহা সফলতা। এ কারণেই ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান গভীর রাতে তাহাজ্জুদের নফল নামাজ আদায়ে নিয়োজিত হন। কিন্তু তাহাজ্জুদের জন্য কি রাকাআত নির্ধারিত আছে?

    মুমিন বান্দা তাহাজ্জুদের এ নামাজ কত রাকাআত পড়বেন? হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উত্তর থেকেই এ সমাধান পাওয়া যায়-

    হজরত আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, রমজানে প্রিয় নবির নামাজ কেমন হতো? তিনি উত্তরে বলেন-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানে এবং রমজানের বাইরে ১১ রাকাআতের বেশি পড়তেন না।
    > প্রথমে ৪ রাকাআত পড়তেন; যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না।
    > তারপর আরও ৪ রাকাআত পড়তেন; যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য।
    > তারপর ৩ রাকাআত (বিতর) পড়তেন।’ (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)

    অন্য হাদিসে এসেছে-
    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাইস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, প্রিয় নবি বিতরে কত রাকাআত নামাজ পড়তেন? তিনি উত্তরে বলেন-
    > চার এবং তিন।
    > ছয় এবং তিন।
    > আট এবং তিন।
    > দশ এবং তিন। তিনি বিতরে ৭ রাকাআতের কম এবং ১৩ রাকাআতের অধিক পড়তেন না।’ (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)

    হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন, তা কখনো ৪ রাকাআত, কখনো ৬ রাকাআত, কখনো ৮ রাকাআত এবং সর্বোচ্চ ১০ রাকাআত পড়তেন। অতঃপর ৩ রাকাআত বিতর নামাজ পড়তেন।

    নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারীর জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে কল্পনাতীত দামি পুরস্কার রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমন করেন, তখন আমি সর্বপ্রথম তাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, হে লোকেরা! তোমরা নামাজের প্রসার করো, খাদ্য দান করো, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখো এবং রাতে নামাজ (তাহাজ্জুদ) আদায় করো যখন মানুষেরা ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

    রাতের এ তাহাজ্জুদ নামাজ নফল ইবাদত। নফল নামাজে রাকাআত নির্ধারিত নেই। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত নির্ধারিত রাকাআতও আদায় করেননি। তাই যারা সক্ষম তারা যেমন আরো বেশি নফল (তাহাজ্জুদ) আদায় করতে পারবেন। তেমনি যারা দুর্বল বা অক্ষম তারা চাইলে ন্যূনতম ২ রাকাআতও আদায় করতে পারবেন।

    নফল ইবাদত যে যত বেশি করবে, সে তত বেশি সাওয়াব পাবে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে এগিয়ে যাবে। নফল নামাজ ৪-৪ রাকাআত করে যেমন পড়া যায়, আবার ২-২ রাকাআত করেও পড়া যায়। ৪-৪ কিংবা ২-২ রাকাআত করে নফল নামাজ পড়লে কোনো সমস্যা নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সর্বোচ্চ নেয়ামত বিনা হিসাবে সফলতা ও জান্নাত লাভে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজসহ নফল ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।