Category: ধর্ম

  • যে ৪ আমলে রমজান মাস সাজাতে বলেছেন বিশ্বনবি

    যে ৪ আমলে রমজান মাস সাজাতে বলেছেন বিশ্বনবি

    রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান। এ মাস মানুষকে দুনিয়া ও পরকালের জন্য সব নেয়ামত আহরণের প্রতি আহ্বান করে। মুমিন মুসলমান যদি রমজান মাস জুড়ে আল্লাহর কাছে ৪টি কাজ করে তবে তার দুনিয়া ও পরকাল হবে সফলকাম।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এই রোজার মাসে তোমরা ৪টি কাজ বেশি বেশি কর-
    – ২টি কাজ তোমাদের প্রতিপালকের জন্য করবে। এ ২ কাজে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে।
    – ২টি কাজ নিজেদের জন্য করবে। এ কাজ দুটি এমন যে, তা না করে তোমাদের কোনো উপায় নেই।

    প্রতিপালকের জন্য ২ কাজ
    – বেশি বেশি কালেমা শাহাদাত ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়া। আর
    – আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইসতেগফার করা।

    আর নিজেদের জন্য যে ২ কাজ করতে হবে
    – আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা। আর
    – জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাওয়া।

    কালেমা পাঠের কারণ
    শাহাদাতের এ কালেমা মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে ধাবিত করবে। মানুষ একত্ববাদের গোলাম। আর একত্ববাদের প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। রমজান মাস দান করেছেন। পবিত্র কুরআন দান করেছেন। সব আম্বিয়া কেরামকে একত্ববাদের প্রতিষ্ঠার জন্য পাঠিয়েছেন।
    তাই কুরআন নাজিলের মাসে মহান আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি বেশি বেশি দেয়ার মাধ্যমে একত্ববাদের দিকে নিজেকে একনিষ্ঠ করে তোলা।

    ইসতেগফারের কারণ
    আল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইসতেগফার কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।’ ইসতেগফারের কারণে আল্লাহ তাআলা অনেক কঠিন অবস্থা থেকে মানুষকে হেফাজত করবেন।
    – দেশ যদি খড়া কবলিত হয় তবে- আকাশ থেকে মেঘ বর্ষণ করবেন। দেশ মরুভূমি হবে না।
    – নিজেদের আয় রোজগার বেড়ে যাবে। কখনো অভাব আসবে না।
    – সন্তান-সন্তুতি না থাকলে আল্লাহ সন্তান-সন্তুতি দান করবেন।
    – পরিবেশেকে সবুজময় করে দেবেন।
    – পরিবেশকে সুন্দর করতে নদি-নালা প্রবাহিত করবেন।

    জান্নাত চাওয়ার কারণ
    মুমিন মুসলমানের আদি নিবাস জান্নাত লাভের আবেদন করা। যেটা দুনিয়ার কোনো বাড়ি নয়। যে বাড়িতে অবস্থানকারী ব্যক্তি কখনো বৃদ্ধ হবে না। পরিধানের জামা-কাপড় হবে পুরনো।
    যেখানে বিরাজমান থাকবে মধু প্রবাহিত নদী। মদের নদী । যে মদ মানুষকে কখনো নেশাগ্রস্ত করবে না। যে বাড়িতে মানুষ কখনো বুড়ো হবে না। না শেষ হবে তার যৌবন।
    এ জান্নাত আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চায় না আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রাগান্বিত হন।’ তাই জান্নাত লাভে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, আকুতি জানাতে হবে।

    জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া
    পরকালের চিরস্থায়ী জীবন যেন আল্লাহর ভয়াবহ আজাবে পরিণত না হয় সে জন্যেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহর কোনো বান্দা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে, এটা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন না। যার প্রমাণ কুরআন এবং হাদিসের সব নসিহত। সব স্থানেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে জাহান্নামের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আর তা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান জুড়ে এ ৪টি কাজ যথাযথ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • শবে বরাতে ইবাদত রোজা ও কবর জিয়ারত

    শবে বরাতে ইবাদত রোজা ও কবর জিয়ারত

    হিজরি অষ্টম মাস শাবানের ‘লাইলাতুম মিন নিসফি শাবান’ খ্যাত ১৪তম রাতকে বলা হয় শবে বরাত। ভারতীয় উপমহাদেশে ধুমধামের সঙ্গে অর্ধ কিংবা রাতজুড়ে ইবাদত, হালুয়া-রুটি বিতরণ, গোনাহ মাফে গোসল, কবর জিয়ারতসহ আলোক সজ্জার মাধ্যমে পালিত হয় শবে বরাত।

    শবে বরাত নিয়ে রয়েছে নানা মতপার্থক্য। শবে বরাত নিয়ে কেউ কেউ একেবারেই অতিরঞ্জিত করেন আবার কেউ কেউ একে একেবারেই ছেড়ে দেন, যা সাধারণ মানুষকে চরম বিভ্রান্তিতে ফেলে।

    হাদিসের সনদ দুর্বল হোক আর মজবুত হোক এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে রয়েছে হাদিসের বর্ণনা। তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করে নফল ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করেছেন। এক হাদিসে এসেছে-

    হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান)

    উল্লেখিত হাদিসের আলোকে এ রাতে শিরকমুক্ত থেকে পরস্পরের ঝগড়া-বিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ এসেছে। তাতে আল্লাহ তাআলা এ রাতে বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেবেন। শায়খ আলবানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।

    এ রাতের রোজা
    শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে ইবাদত বন্দেগির পর রোজা পালন প্রসঙ্গে এক হাদিসে এসেছে-
    হজরত আলি ইবনে আবু তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পনের শাবানের রাতে (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখ। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। আছে কি কোনো রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব। এভাবে সুবহে সাদেক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা ডাকতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ)

    হাদিসটিকে কেউ কেউ জয়ীফ বা দুর্বল বলেছেন আবার কেউ কেউ এটিকে মওজু (চরম দুর্বল বা ভ্রান্ত) বলেছেন। অনেক ইসলামিক স্কলার এ দিন রোজা রাখাকে মাসনুন বলেছেন আবার অনেকেই মোস্তাহাব বলেছেন।

    উল্লেখ্য যে, অনেকে আবার এ দিন উপলক্ষে রোজা পালনকে সুন্নত বলেন। প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার আল্লামা তকি ওসমানির ইসলাহি খুতবায় এ হাদিসকে জয়ীফ বলা হয়েছে আর এ দিনের রোজাকে ‘সুন্নাত’ মনে করাকে ভুল বলা হয়েছে।

    রোজা সম্পর্কিত হাদিসটির সনদ দুর্বল হোক আর অতি দুর্বল হোক কিংবা ভ্রান্ত হোক, যারা আইয়ামে বীজের রোজা পালন করেন অর্থাৎ প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখেন তাদের রোজা রাখতে বাধা নেই।

    এ রাতে কবর জিয়ারত
    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত কোনো এক রাতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে না পেয়ে খোঁজ নিতে বের হলাম এবং (জান্নাতুল) বাকিতে গিয়ে তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম। তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করছিলেন।

    তিনি আমাকে বললেন, হে আয়েশা! তোমার মনে কি ভয় হচ্ছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমার প্রতি জুলুম করবেন?
    আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি মনে করেছিলাম আপনি হয়তো অন্য কোনো বিবির ঘরে তাশরিফ নিয়েছেন।
    তখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শাবান মাসের মধ্য রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাতে) দুনিয়ার আসমানে আসেন এবং বনি-কলবের (কলব গোত্রের) বকরিগুলো পশমের চেয়েও বেশি গোনাহগারকে ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

    এ হাদিসটিকেও সনদের ব্যাপারে দুর্বল বলা হয়েছে। অনেকে একে ভ্রান্ত বলেছেন। একান্তই যদি কেউ এ রাতে কবর জিয়ারত করতে চায় তার উচিত একাকি জিয়ারত করা। কেননা প্রিয় নবি একাকি কবর জিয়ারতে গিয়েছেন বলেই হাদিসে উল্লেখ হয়েছে।

    আবার অন্য হাদিসে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘জিবরিল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছিলেন এবং বললেন, আপনার প্রভু আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন (জান্নাতুল) বাকিতে যাওয়ার জন্য এবং তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য।’ (মুসলিম)

    সুতরাং শবে বরাতে রোজা ও কবর জিয়ারতসহ নানা বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি করে ফেতনা ছড়ানো একেবারেই অবান্তর। নিসফা শাবান যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ রাত। সেহেতু এ রাতে আয়োজন ছাড়া একাকি ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ, জিকির-আজকার- এর মাধ্যমে অতিবাহিত করাই শ্রেয়। তাই-

    > আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া (নিজ ঘরে) রাত জেগে ইবাদাত করা। তা হতে পারে- নফল নামাজ, জিকির-আজকার, কুরআন তেলাওয়াত ও তাওবা-ইস্তিগফার ইত্যাদি। রোজা ও কবর জিয়ারত ছাড়াও হাদিসে এসেছে-
    ‘এ রাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং ফজর পর্যন্ত মানুষকে তাঁর কাছে ক্ষমা, রোগ মুক্তি, জাহান্নাম থেকে মুক্তি, রিজিকসহ ইত্যাদি বৈধ প্রয়োজনীয় চাহিদার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে আহ্বান করতে থাকেন।’

    > যারা বর্ণিত হাদিসগুলোকে (জয়ীফ) দুর্বল কিংবা (মওজু) অতি দুর্বল বা ভ্রান্ত মনে করেন, তারা রোজা না রাখলেও যারা নিয়মিত আরবি মাসের আইয়ামে বীজের রোজা পালন করেন তারা যথারীতি রোজা পালন করবেন।

    > আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই একাকি জাঁকজমকবিহীন কবর জিয়ারত করা যেতে পারে। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাউকে না জানিয়ে একাকি জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে কবর জিয়ারাত করেছিলেন। এমনকি যা তিনি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকেও জানাননি।

    কবর জিয়ারতের হাদিসটি জয়ীফ কিংবা মওজু যা-ই হোক; যারা যে বিশ্বাস লালন করেন, সেভাবে আমল করেন। কিন্তু কবর জিয়ারত করাই যাবে না কিংবা করতেই হবে এর কোনোটিই ফেতনা ছাড়া ইসলামের জন্য কল্যাণজনক নয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শবে বরাত নিয়ে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে হেফাজত করুন। হালুয়া-রুটি, গোসল করা, আলোক সজ্জাসহ সব ধরনের রুসম রেওয়াজ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। পক্ষে-বিপক্ষে সব ধরনের বিতর্ক থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

    ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

    ঘুমের মাধ্যমেই মানুষ শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি লাভ করে। ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারলে মানুষ তার স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করতে পারে না। সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততার পর মানুষ ঘুমাতে গেলে অনেক সময় দিনের সে সব কাজকর্ম স্বপ্নেও করতে থাকে।

    আবার অনেকে ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে। আর তা দেখে অনেকেই ভয় পেয়ে যায়। কেউ আবার হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠে। কেউবা চিৎকার চেঁচামেচি করে। তাতে মানুষের মাঝে ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়, যা মানুষকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলে।

    ঘুমে ভয় পাওয়ার ফলে অনেকে আর স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারে না। এ ভয়ে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে হাদিসে নির্দেশিত দোয়া পড়া জরুরি।

    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যখন কোনো মানুষ ঘুমের মধ্যে ভয় পায় তখন যেন সে বলে-
    أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَّحْضُرُوْن
    উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আই-ইয়াহদুরুন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)
    অর্থ : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমার উছিলায় তাঁর ক্রোধ, শাস্তি এবং তাঁর বান্দাদের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ও তার উপস্থিতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের পরিপূর্ণ জীবন বিধান পালনে এবং হাদিসে শেখানো দোয়াগুলোর মাধ্যমে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর জীবন যাপনের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ

    নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ

    মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববির পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এক বিশাল মসজিদ নির্মাণ করছে পাকিস্তানের বাহরিয়া টাউন। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এ বিশাল মসজিদটি বর্তমানে নির্মাণাধীন।

    পাকিস্তানের করাচি শহরের ‘বাহরিয়া টাউন’-এ নির্মিত হচ্ছে এ মসজিদ। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির পর এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এখানে এক সঙ্গে ৮ লাখ লোক নামাজ আদায় করতে পারবে।

    ‘বাহরিয়া টাউন’ রিয়াল স্টেট কোম্পানি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে-
    ‘মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববিই হলো বিশ্বের প্রথম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। আর সম্মান ও মর্যাদায় বিশ্বের অন্য কোনো মসজিদই এ দুই পবিত্র মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির সমকক্ষ নয়। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পবিত্র দুই মসজিদের পর পাকিস্তানের করাচির ‘বাহরিয়া টাউন’-এ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ নির্মাণ করছি।’

    করাচির ‘বাহরিয়া টাউন’-এ নির্মিত এ বিশাল মসজিদের সঙ্গে থাকবে আন্তর্জাতিক ইসলামি ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক সেন্টার, মিউজিয়াম এবং গবেষণা কেন্দ্র।

    বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোরের ‘বাহরিয়া টাউন’-এ বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম মসজিদ অবস্থিত। এ মসজিদে এক সঙ্গে ৭০ হাজার লোক নামাজ আদায় করতে পারে। এটি পাকিস্তানের বড় মসজিদগুলোর একটি।

    Mosque-1

    করাচিতে নির্মিতব্য মসজিদটি মোঘল ও ইসলামি স্থাপত্যের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এ মসজিদের ডিজাইন করতে গিয়ে ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মসজিদগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    এ মসজিদের অভ্যন্তরে নির্মিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে থাকবে উন্নত মানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি নিজস্ব তাপ-বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পও বিদ্যমান থাকবে।

    উল্লেখ্য যে, ‘বাহরিয়া টাউন’ মূলত পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট রিয়েল স্টেট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রধান প্রধান শহরে ‘বাহরিয়া টাউন’ নামে তাদের আবাসন রয়েছে।

    করাচির বাহরিয়া আবাসিক এলাকায় বিশ্বের তৃতীয় এ বৃহত্তম মসজিদটি নির্মাণ করছে তারা। বাহরিয়া টাউন প্রাইভেট লিমিটেড রিয়েল স্টেট কোম্পানির এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

  • যে ৪ আমলে রমজান মাস সাজাতে বলেছেন বিশ্বনবি

    যে ৪ আমলে রমজান মাস সাজাতে বলেছেন বিশ্বনবি

    রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান। এ মাস মানুষকে দুনিয়া ও পরকালের জন্য সব নেয়ামত আহরণের প্রতি আহ্বান করে। মুমিন মুসলমান যদি রমজান মাস জুড়ে আল্লাহর কাছে ৪টি কাজ করে তবে তার দুনিয়া ও পরকাল হবে সফলকাম।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এই রোজার মাসে তোমরা ৪টি কাজ বেশি বেশি কর-
    – ২টি কাজ তোমাদের প্রতিপালকের জন্য করবে। এ ২ কাজে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে।
    – ২টি কাজ নিজেদের জন্য করবে। এ কাজ দুটি এমন যে, তা না করে তোমাদের কোনো উপায় নেই।

    প্রতিপালকের জন্য ২ কাজ
    – বেশি বেশি কালেমা শাহাদাত ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়া। আর
    – আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইসতেগফার করা।

    আর নিজেদের জন্য যে ২ কাজ করতে হবে
    – আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা। আর
    – জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাওয়া।

    কালেমা পাঠের কারণ
    শাহাদাতের এ কালেমা মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে ধাবিত করবে। মানুষ একত্ববাদের গোলাম। আর একত্ববাদের প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। রমজান মাস দান করেছেন। পবিত্র কুরআন দান করেছেন। সব আম্বিয়া কেরামকে একত্ববাদের প্রতিষ্ঠার জন্য পাঠিয়েছেন।
    তাই কুরআন নাজিলের মাসে মহান আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি বেশি বেশি দেয়ার মাধ্যমে একত্ববাদের দিকে নিজেকে একনিষ্ঠ করে তোলা।

    ইসতেগফারের কারণ
    আল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইসতেগফার কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।’ ইসতেগফারের কারণে আল্লাহ তাআলা অনেক কঠিন অবস্থা থেকে মানুষকে হেফাজত করবেন।
    – দেশ যদি খড়া কবলিত হয় তবে- আকাশ থেকে মেঘ বর্ষণ করবেন। দেশ মরুভূমি হবে না।
    – নিজেদের আয় রোজগার বেড়ে যাবে। কখনো অভাব আসবে না।
    – সন্তান-সন্তুতি না থাকলে আল্লাহ সন্তান-সন্তুতি দান করবেন।
    – পরিবেশেকে সবুজময় করে দেবেন।
    – পরিবেশকে সুন্দর করতে নদি-নালা প্রবাহিত করবেন।

    জান্নাত চাওয়ার কারণ
    মুমিন মুসলমানের আদি নিবাস জান্নাত লাভের আবেদন করা। যেটা দুনিয়ার কোনো বাড়ি নয়। যে বাড়িতে অবস্থানকারী ব্যক্তি কখনো বৃদ্ধ হবে না। পরিধানের জামা-কাপড় হবে পুরনো।
    যেখানে বিরাজমান থাকবে মধু প্রবাহিত নদী। মদের নদী । যে মদ মানুষকে কখনো নেশাগ্রস্ত করবে না। যে বাড়িতে মানুষ কখনো বুড়ো হবে না। না শেষ হবে তার যৌবন।
    এ জান্নাত আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চায় না আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রাগান্বিত হন।’ তাই জান্নাত লাভে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, আকুতি জানাতে হবে।

    জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া
    পরকালের চিরস্থায়ী জীবন যেন আল্লাহর ভয়াবহ আজাবে পরিণত না হয় সে জন্যেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহর কোনো বান্দা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে, এটা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন না। যার প্রমাণ কুরআন এবং হাদিসের সব নসিহত। সব স্থানেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে জাহান্নামের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আর তা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান জুড়ে এ ৪টি কাজ যথাযথ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    বর্ষা মৌসুমে প্রায় দিনই প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে তেড়ে আসে বজ্রপাত। এ বজ্রপাতে প্রতিবছরই অনেক মানুষ মারা যায়।

    বজ্রপাত হচ্ছে আসমানি দুর্যোগ। মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার সতর্কবার্তা। এ বজ্রপাত আল্লাহ তাআলা শক্তিমত্তার এক মহা নিদর্শন। তিনি ইচ্ছা করলেই যে কাউকেই এ বজ্রপাতের মাধ্যমে শাস্তি দিতে পারেন। আবার মানুষও এ বজ্রপাত থেকে সর্বোত্তম শিক্ষা নিতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা বজ্রপাত নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করেন। সে সুরায় বজ্রপাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর প্রশংসা কর বজ্র এবং ফেরেশতারাও তার ভয়ে (তাসবিহরত)। তিনি বজ্রপাত করেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি তা (বজ্রপাত) দ্বারা আঘাত করেন। এরপরও তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১৩)

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে আসমানি দুর্যোগ বজ্রপাত থেকে বেঁচে থাকতে শিখিয়েছেন দোয়া। যারা এ দোয়া পড়বে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বজ্রপাতের ক্ষতি থেকে হেফাজত করবেন। হাদিসে এসেছে-

    >> হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বজ্রের শব্দ শুনতেন বা বিদ্যুতের চমক দেখতেন তখন সঙ্গে সঙ্গে বলতেন-
    اَللَّهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَ لَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَ عَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাদাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বিআজাবিকা, ওয়া আ’ফিনা ক্ববলা জালিকা।’ (তিরমিজি)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! তোমার ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমাদের মেরে ফেলো না আর তোমার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না। বরং এর আগেই আমাদেরকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করো।’

    >> মুসান্নেফে আবি শায়বায় বজ্রের আক্রমণে মৃত্যু থেকে বাঁচতে ছোট্ট একটি তাসবিহ পড়ার কথা বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি এ তাসবিহ পড়বে-
    سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ
    উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।’ সে বজ্রপাতের আঘাত থেকে মুক্ত থাকবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আসমানি দুর্যোগ বজ্রপাত থেকে মুক্ত থাকতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া পড়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • কুরআন মুখস্থ করলো ৩ বছরের জাহরা

    কুরআন মুখস্থ করলো ৩ বছরের জাহরা

    কুরআন আল্লাহর কিতাব। এ কিতাবের সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা তা মানুষের হৃদয়ে সংরক্ষণ করেছেন। যা ইচ্ছা করলেও কেউ হৃদয় থেকে মুছে দিতে পারবে না। যার প্রমাণ আজারবাইজানের ৩ বছরের ফুটফুটে জাহরা। এ বয়সেই সে মুখস্থ করেছে পবিত্র কুরআন।

    জাহরা হোসাইন। বয়স মাত্র ৩ বছর। এ বয়সে কুরআন মুখস্থ করে সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে সে। আর তাতেই সে দেশটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ হাফেজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বসবাসকারী কনিষ্ঠ হাফেজ জাহরার মা জানান, ‘জাহরা যখন তার গর্ভে তখন তিনি বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতেন। উচ্চস্বরের কুরআনের তেলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শুনতেন।

    জাহরার জন্মের পর ছড়া কিংবা কবিতার পরিবর্তে জাহরাকে ঘুম পাড়াতে কুরআনের ছোট ছোট সুরাগুলো তেলাওয়াত করতেন।

    জাহরার বয়স যখন ১ বছর তখন থেকেই তার মা লক্ষ্য করেন যে, জাহরা তার তেলাওয়াত করা ছোট ছোট সুরাগুলো তার সাথে তেলাওয়াতের চেষ্টা করছে। মেয়ের এ আগ্রহ দেখে সে কুরআন তেলাওয়াত বাড়িয়ে দেন। আর এভাবেই ৩ বছর বয়সে কোনো শিক্ষক ছাড়াই মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে জাহরা পবিত্র কুরআনের ৩৭টি সুরা মুখস্থ করে ফেলেছে।

    জাহরার কুরআন মুখস্থে তার মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কারণ তার জন্মের আগে থেকে মায়ের নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত এবং জন্মের পর ঘুম লাগানোর সময় কুরআনের অবিরাম তেলাওয়াতই জাহরাকে কুরআনের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।

    আল্লাহ তাআলা ৩ বছরের ছোট্ট জাহরা হোসাইনকে কুরআনের পাখি হিসেবে কবুল করুন। জাহরার মতো সব শিশুকেই কুরআনের আবহে বেড়ে ওঠার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ২১ এপ্রিলই পবিত্র শবে বরাত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    ২১ এপ্রিলই পবিত্র শবে বরাত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    পূর্বের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতেই পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এ সিদ্ধান্তে কথা জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ।

    এর আগে গত ৬ এপ্রিল বৈঠকের পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, ওই দিন দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৮ এপ্রিল থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

    এ সংক্রান্ত ঘোষণা প্রচারিত হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়, ৬ এপ্রিলই শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই হিসাবে ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বরাত অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    এর প্রেক্ষিতে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্কের অবসানে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার।

    জানানো হয় এ কমিটি ১৭ এপ্রিলের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।১৬ এপ্রিলই কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত জানালেন।

    এছাড়া পবিত্র শবে বরাত কবে, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করতে গিয়েছিলেন ১০ আলেম। আদালত তা গ্রহণ না করে, তাদের লিখিত আবেদনটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জমা দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    একইসঙ্গে ওই আবেদন যেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন গ্রহণ করে, সে বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দেখতে বলেন আদালত।

  • যাদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক

    যাদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক

    রোজা পালন করা মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ফরজ। আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদেরকে লক্ষ্য করে বলে দিয়েছেন যে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

    রোজা রাখার এ ফরজ বিধান কাদের জন্য? সেসব মুসলিম নারী-পুরুষ কারা? যাদের ওপর বাধ্যতামূলক রমজান মাসের রোজা পালন করাকে ফরজ করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছে।

    যাদের জন্য রোজা পালন বাধ্যতামূলক। তারা হলো-
    >> মুসলমান হতে হবে।
    অমুসলিমদের জন্য ইসলামে রোজা রাখার কোনো হুকুম নেই।

    >> প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
    মুসলিম ছেলে-মেয়ের বয়স ৭ বছর হলেই রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া। যদি তারা রোজা পালনে সক্ষম হয়। তবে আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ নামাজের সঙ্গে তুলনা করে ১০ বছর বয়সে রোজা না রাখলে দৈহিক শাস্তির কথা বলেছেন।

    ৭ বছর বয়স থেকে ছেলে-মেয়ে রোজা রাখলে তারা সাওয়াব পাবে। আর ভালো কাজে উৎসাহিত করার কারণে উৎসাহ দাতা বা বাবা-মাও সাওয়াব পাবেন। হাদিসে এসেছে-

    যখন আশুরার রোজা ফরজ ছিল তখন আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে রোজা রাখাতাম। আর খাবারের জন্য কান্না করলে তাদেরকে তুলা দিয়ে তৈরি আকর্ষণীয় খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আমরা এটা করতাম ইফতারের সময় পর্যন্ত।’ (বুখারি)

    >> নিজ ঘরে অবস্থানকারী হতে হবে।
    কোনো ব্যক্তি যদি সফরে বের না হয়, তবে তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। যদি কেউ দীর্ঘ সফরে বের হয় তবে তার জন্য রোজার বিধানকে সহজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ কিংবা সফরে থাকে তবে সে অন্য সময় তা পালন করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)

    >> শারীরিকভাবে রোজা রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয় কিংবা রোজা রাখলে জীবন নাশ হতে পারে এ পরিস্থিতি হয় তবে তার জন্যও রোজা বিধান সহজ। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ কিংবা সফরে থাকে তবে সে অন্য সময় তা পালন করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)

    >> নারীদের হায়েজ ও নেফাস থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
    – নারীদের মাসিক ঋতুস্রাবকে কে হায়েজ বলা হয়। হায়েজ অবস্থায় নারীরা অপবিত্র থাকে। এ সময় তাদের জন্য রোজা রাখার হুকুম নেই।
    – আর সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর নারীদের প্রথম ৪০ দিন হলো নেফাসের সময়। এ দুই সময়ে নারীদের রোজা বিধান থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে।

    >> দিনের বেলায় যদি কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে।
    >> রোজার সময় দিনের বেলায় যদি কোনো ছেলে-মেয়ে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়।
    >> রোজার সময় যদি কোনো পাগল ভালো হয়ে যায়।

    তবে তারা রোজা হুকুমের আওতায় এসে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে ইফতারের সময় পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ইসলাম গ্রহণকারী, বালেগ হওয়া ছেলে-মেয়ে কিংবা পাগলের আগের রোজা আদায় তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কেননা আগের রোজাগুলো অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের ওপর আবশ্যক ছিল না।

    >> যারা মাঝে মাঝে পাগল হয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে ভালো হয়ে যায় তবে ভালো থাকার সময় তাদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। রোজা অবস্থায় যদি কেউ পাগল হয়ে যায় কিংবা অজ্ঞান হয়ে যায় তবে তাদের জন্য রোজা হুকুম বাতিল হবে না।

    >> রমজান মাসে কোনো মানুষ মারা গেলে অবশিষ্ট রোজা রাখায় তাদের জন্য কোনো হুকুম নেই। আত্মীয়দের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির রোজা রাখায়ও বাধ্যবাধকতা নেই।

    >> যদি কেউ রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞতায় থেকে রোজা না রাখে, তবে কোনো কোনো আলেমের মতে সে ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হবে না। রোজা ফরজ হওয়ার বিষয়টি জানার পরপর তার ওপর রোজা রাখা বধ্যতামূলক।

    >> আবার কেউ যদি রমজান মাসের দিনের বেলায় অজ্ঞতাবশত হারাম না জানার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে যৌনতা তথা সহবাসে মিলিত হয় তবে অধিকাংশ আলেমের মতে সে দোষী সাব্যস্ত হবে না।

    মনে রাখতে হবে, মুসলিম এলাকায় বসবাস করে রোজা ফরজ কিনা কিংবা সহবাস হারাম কিনা এ বিষয়ে জানা নেই বললে এ ওজর গ্রহণযোগ্য নয়।

    রোজা ফরজ হওয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো যারা জানে তাদের কাছ থেকে জেনে নেয়া সবার জন্য আবশ্যক।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের ফরজ রোজা পালনে এর হুকুম-আহকাম জেনে নেয়ার তাওফিক দান করুন। রমজানের ফরজ রোজা যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • রমজানের রোজার পরিচয় ও হুকুম

    রমজানের রোজার পরিচয় ও হুকুম

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে কল্যাণের জন্য ভালো কাজের একটি মৌসুম উপহার দিয়েছেন। যে মৌসুমে মানুষের ভালো কাজের প্রাপ্তি বেড়ে যায় আবার মন্দ কাজের প্রভাব একেবারেই কমে যায়। বান্দার সম্মান ও মর্যাদা বেড়ে যায়।

    ভালো কাজের এ পবিত্র মৌসুমে মুমিন মুসলমানের অন্তর শুধুমাত্র আল্লাহর তাআলার দিকে ঝুঁকে যায়। ভালো কাজের অন্যতম এ মৌসুমটি হলো পবিত্র রমজান মাস। যে মাসে মুমিন বান্দা দিনের বেলা রোজা পালন করে আর রাতে নামাজে অতিবাহিত করে।

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে সেই মহা সম্মানিত মাস রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে তাকওয়া ও পরহেজগারী অর্জনের নির্দেশ দেন-
    ‘তোমাদের ওপর (ভালো কাজের মৌসুম রমজান মাসের) সাওম তথা রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে এ রোজা তোমাদের আগের জাতির প্রতি ফরজ করা হয়েছিল। আশা করা যায় তোমরা (রমজান মাসে রোজা পালনের মাধ্যমে) তাকওয়া-পরহেজগারী অর্জন করতে সক্ষম হবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

    আল্লাহ তাআলার ঘোষণায় রমজানের রোজা মুসলিম উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার ইবাদত। তাই রোজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হুকুম আহকাম জেনে নেয়া সব মুমিন মুসলমানের একান্ত দায়িত্ব কর্তব্য।

    মুমিন মুসলমানের উচিত, পবিত্র রমজান মাসে ফরজ ওয়াজিব সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন ও পালনের পাশাপাশি সুন্নাত ও মোস্তাহাব আমলগুলো যথাযথ পালনে একনিষ্ঠ হওয়া। আর তাতেই ভালো কাজগুলোর প্রাপ্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দ কাজের পরিণতিও কমে যাবে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৭ কিংবা ৮ মে শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান শুরু দুই মাস আগে তথা রজব মাস থেকেই রমজানের ইবাদত-বন্দেগি ও হুকুম-আহকাম পালনে নিজেকে তৈরি করতেন। সাহাবায়ে কেরামকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলতেন।

    সে আলোকে পবিত্র রমজান মাসের বিভিন্ন বিষয়সহ ফজিলত, উপকারিতা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।

    রমজান ও রোজার পরিচয়
    রমজান ও রোজা এক সুতোয় গাঁথা। রমজান হলো আরবি হিজরি সনের নবম মাসের নাম। আর এ মাস জুড়ে দিনের বেলায় পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা মহান আল্লাহর বিধান।

    দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকাকে আরবিতে ‘সিয়াম’ বলা হয়। মুমিন মুসলমান যাকে রোজা হিসেবে জানে।

    রমজান মাসের ১ম দিন থেকে দিনের বেলা খাওয়া-দাওয়া, পান করাসহ যাবতীয় অনাচার থেকে নিজেকে বিরত রাখার পাশাপাশি ভালো কাজে নিজেকে আবদ্ধ রাখা ফরজ ইবাদত।

    সুতরাং নিয়তের সঙ্গে সুবহে সাদেক (ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া আগে) থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের রোজা ভঙ্গকারী তথা পানাহার, জৈবিক ও শারীরিক যে কোনো বিষয় ভোগ করা থেকে বিরত থাকা। আর এটাই হলো রোজা।

    রোজার শরিয়ী হুকুম
    ইসলামি শরিয়তে রমজান মাসের রোজা ফরজ। এ মাসের রোজা ফরজ হওয়ার ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সমগ্র উম্মত একমত। এ মাস জুড়ে রোজা পালনে কোনো মুসলিমের মতবিরোধ নেই। আর এটি ইসলামের চতুর্থ রোকন বা স্তম্ভ। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ-
    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। আশা করা যায়, তোমরা (রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে) তাকওয়া-পরহেজগারী অর্জন করতে পারবে।’ (সুরা আল-বাকারা : আয়াত ১৮৩)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও যথাযথভাবে রোজা পালনের মাধ্যমে ভালো মৌসুমের প্রাপ্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও তাকওয়া অর্জনের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।