Category: নারী ও শিশু

  • ফুচকা বিক্রেতা শারমিনের কাছ থেকে পুলিশ দৈনিক চাঁদা নেয় ২৫০ টাকা

    ফুচকা বিক্রেতা শারমিনের কাছ থেকে পুলিশ দৈনিক চাঁদা নেয় ২৫০ টাকা

    ব্যবসায় লাভ হোক আর না হোক; ফুচকা বিক্রেতা শারমিনকে প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয় ২৫০ টাকা। লাইনম্যানের মাধ্যমে এই চাঁদার টাকা চলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশের কাছে।

    শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফুটপাতে দোকানে দাঁড়িয়েই পুলিশকে চাঁদা দেয়ার কথায় জানান শারমিন। তিনি বলেন, ‘চাঁদা না দিলে রাস্তায় এভাবে দাঁড়িয়ে ব্যবসা করতে পারি? কে কোথায় দোকান বসাবে, কতক্ষণ থাকবে-তার সবই হয় পুলিশের ছকে। চাঁদা দিয়ে দোকান করি, এটি ঢাকা শহরের একটি কাকও জানে।’

    গল্পচ্ছলে জীবন-জীবিকার কথা শোনান শারমিন। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। স্বামী শাহজালাল শৈশব থেকেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফেরি করে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। ১১ বছর আগে বিয়ে হয় তাদের। ৮ বছর বছর বয়সী মেয়ে ধানমন্ডির একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলের বয়স দুই বছর।

    আগে শুধু ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও এখন সঙ্গে বুট আর ফুচকাও বিক্রি করেন এই দম্পতি। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ব্যবসায় যোগান দিয়ে আসছেন তিনি। আগের জায়গা থেকে সরে মিরপুর সড়কের এই জায়গায় দোকান করেছেন এক বছর হলো। ৩২ নম্বরে থাকাকালে প্রতিদিন চাঁদা দিতেন ১২০ টাকা করে। নতুন জায়গায় আসার পর তা বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

    প্রধান সড়কের পাশে এভাবে দোকান করা ঠিক কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে শারমিন বলেন, ‘অবশ্যই ঠিক না। জানি, মানুষের চলাফেরায় কষ্ট হয়। কিন্তু উপায় কী! কাজ করে তো খাচ্ছি। পুলিশ চাঁদা নিয়ে দোকান করার জায়গা দিয়েছে। দৈনিক ২৫০ টাকা চাঁদা দিতে কষ্ট হয়। তবে ব্যবসাও এখন ভালো হয়। আর চাঁদার টাকা তো পকেট থেকে দিই না। আগে যে মুড়ি বিক্রি করতাম ১০ টাকায়, এখন তা বিক্রি করছি ১৫ টাকায়। এই অতিরিক্ত ৫ টাকা থেকেই চাঁদা দিই।’

    ব্যবসার লাভ-লোকসান বিষয়ে বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যবসা করি। স্বামী-স্ত্রী শিফট করে দোকান করি। দিনে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয়। বিক্রি ভালো হলে লাভ থাকে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা। তবে পণ্যের দাম কম থাকলে আরও লাভ হতো।’

  • ১৩ বছরের প্রেম, বিষ নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা!

    ১৩ বছরের প্রেম, বিষ নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা!

    অনলাইন ডেস্ক ::

    মাগুরায় বিয়ের দাবিতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছে এক প্রমিকা। তাকে একা পেয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    একই দাবিতে এর আগেও ওই প্রেমিক মাগুরা মহাম্মাদপুর উপজেলার বালিদিয়া গ্রামের রফিকুলের বাড়িতে আরেক মেয়ে বিয়ের দাবি নিয়ে উঠেছিল। পরে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে সেটা মীমাংসা করে দেয়া হয়।

    অনশনরত ওই মেয়েটি বলেন, প্রেমিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে আমার দীর্ঘ ১৩ বছরের সম্পর্ক। আমার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাবার পরও সে আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। সে আমার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন কুৎসা রটায়। এজন্য আমার স্বামী এবং শাশুড়ি আমাকে মারধর করে। বিয়ের কিছুদিন পরেই আমি তার প্ররোচনায় পড়ে সেই স্বামীকে তালাক দেই।

    এরপর আমি পড়ালেখা চালিয়ে যাই। একপর্যায়ে সে আমাকে ঢাকায় নিয়ে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি দেয়। দুইজন ভিন্ন বাসায় থাকলেও দুজনের যাওয়া আসা ছিল। তখন সে আমাকে ১০ বছর পর বিয়ে করবে বলে কথা দেয়। আমিও অপেক্ষা করতে থাকি। কিন্তু ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও সে নানা টালবাহানা করে বিয়ের বিষয় এড়িয়ে যায়। এর একপর্যায়ে সে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

    বিয়ের কথা বললে সে আমাকে পাগলা হইছো বলে আখ্যা দেয়। এখন আমি নিরুপায় হয়ে বিষের বোতল সঙ্গে নিয়ে প্রেমিক রফিকুলের বাড়িতে এসেছি। সে আমাকে বিবাহ করে গ্রহন না করলে আমি মারা যাব। কারণ এ ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই। তার কারণে আমি ঘর সংসার ত্যাগ করে এতদিন অপেক্ষা করছি।

    প্রেমিক রফিকুলের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানান, পড়ালেখার সুবাদে ওই মেয়ের সঙ্গে আমার ভালো বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক ছিল। বিয়ের দাবি নিয়ে অনশন করে সে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

    বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম ফুল মিয়া বলেন, ঘটনা জানার পর ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। দু’পক্ষকে নিয়ে আমি সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

  • বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে দেড় বছরের শিশু ধর্ষণকারী গ্রেফতার

    বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে দেড় বছরের শিশু ধর্ষণকারী গ্রেফতার

    বরিশাল র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব ৮) এর অভিযানে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা এলাকা থেকে চাঞ্চল্যকর দেড় বছরের শিশু ধর্ষণকারী প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

    আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় এ সম্পর্কিত বিশদ মিডিয়া ব্রিফিং করবেন অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম, বিপিএম। র‌্যাব-৮ এর ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার এ মিডিয়া রুমে অনুষ্টিত হবে। এ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি থাকার আহ্বান করেছে র‌্যাব।

  • বরিশালে বিধবা বৃদ্ধাকে পেটানো সেই ওসি-কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

    বরিশালে বিধবা বৃদ্ধাকে পেটানো সেই ওসি-কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার মধ্যে প্রকাশ্যে বিধবা বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ ওঠা ওসি শিশির কুমার পাল ও পুলিশ সদস্য জাহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এ ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশ সুপার তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুর হককে সভাপতি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (বাকেরগঞ্জ) ও বরিশাল জেলা পুলিশের ইনেসটেক্টর (প্রশিক্ষক) মাসুম বিশ্বাসকে সদস্য করা হয়েছে।

    এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুর হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়দের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুর হক জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’

    এদিকে বুধবার সন্ধ্যার ওই ঘটনার পরপরই নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মহিলা থানা সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়লে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবক ও বরিশালের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বরিশাল টাইমস২৪ ডট কমসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে ভাইরাল হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বরিশাল জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেন।

    এর আগে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পালের বিরুদ্ধে গত চারদিন আগে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কাছে নালিশ দেওয়ার অপরাধে গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদশর্কের (এএসআই) বিধবা স্ত্রী রাশিদা বেগম (৬২) নামের এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ওই নারীর অভিযোগ প্রথমে কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম একটি চায়ের দোকানের মধ্যে মারধর করে গালে সিগারেটের আগুন চেপে ধরে ঝলসে দেন এবং ওয়ালে মাথা ঠুকেন। পরে তিনি ওসি শিশির কুমার পালের কাছে অভিযোগ দিতে থানায় গেলে ওসি নিজে তার কক্ষে ওই নারীকে মারধর করে থানা থেকে বের করে দেন।

    মাদারীপুর সদর উপজেলার পানিচত্বর এলাকার স্বামী মৃত মোঃ মঈন উদ্দিন মাতবরের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৬২) জানান, তার স্বামী মোঃ মঈন উদ্দিন মাতবর বাংলাদেশ পুলিশের একজন সহকারী উপ-পরিদশর্কের (এএসআই) ছিলেন। ২০০৩ সালে দায়িত্ব পালনকালে হরতাল-অবরোধে পরে সন্ত্রাসীদের হাতে গুলি খেয়ে মারা যান।

    স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন পরে তার দুই ছেলে মারা যায়। পরবর্তিতে ছেলে আল আমিন (২১) ও মেয়ে (১১) তাদের বাবার বাড়ি মাদারীপুরে থাকেন। রাশিদা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইচলাদি গ্রামের আবুল কালামের ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। গত আগস্ট মাসে তার সপ্তম শ্রেনি পড়ুয়া মেয়ে (১১) তার কাছে (মায়ের) উজিরপুরের ইচলাদি বাসায় বেড়াতে আসে।

    আগস্ট মাসের ১৩ তারিখে মেয়েকে বাসায় রেখে সে বরিশাল গেলে উজিরপুরের ইচলাদি গ্রামের মৃত রহম অলীর ছেলে বখাটে শুক্কুর আলী (৩২) নেতৃত্বে তার সহযোগী বোরহান হোসেন (৩২), আনিচুর রহমান (৩৮), কালাম হাওলাদার (৪০)সহ ৫/৬ জন বখাটে তার মেয়েকে অপহরন করে নিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় পরের দিন ১৪ আগষ্ট তিনি বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরের জন্য লিখিত অভিযোগ জমা দিলে ওসি শিশির কুমার পাল মামলা রুজু না করে অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ আগষ্ট মেয়েকে উদ্ধার করে তাকে (রাশিদাকে) থানায় ডেকে নিয়ে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।

    মেয়েকে হাতে পেয়ে অপহরনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে বললে ওসি রাশিদাকে বলেন আপনার মেয়েকে ফিরে পেয়েছেন মামলার দরকার নেই চলে যান। তিনি থানা থেকে বের হয়ে মেয়েকে নিয়ে বাসায় আসার পথে পূর্বের অপহরনকারী পুনরায় মেয়েকে অপহরন করে নিয়ে যায়।

    ওই রাতেই থানার ফিরে এসে পুনরায় অপহরনের কথা ওসিকে জানালে ওসি নতুন করে অভিযোগ করতে বললে সে নতুন করে অভিযোগ লিখে জমা দেন। ওই অভিযোগ পছন্দ না হওয়ায় ওসি তা ছিঁড়ে ফেলে আবার নুতন করে অভিযোগ লিখে দিতে বলেন। এভাবে তিনবার অভিযোগ নেন এবং ছিড়ে ফেলেন ওসি।

    এদিকে আগস্ট মাসের শেষের দিকে অপহরনকারী ও তাদের প্রভাবশালী স্বজনরা রাশিদা বেগমের বাসায় তালা লাগিয়ে দেন। ২/৩ দিন আগে রাশিদা বেগম বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির সাথে সাক্ষাত করে তাকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন এবং ওসি শিশিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

    অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক রেঞ্জ ডিআইজি উজিরপুর থানার ওসি শিশিরকে রাশিদা বেগমকে আইনি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি তার ভাড়া বাসা থেকে মালামাল উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

    রাশিদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ডিআইজি স্যারের কাছে যাওয়ার ২/৩ দিন পরে বুধবার (১১ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যায় ওসি আমাকে থানায় ডেকে পাঠান। সন্ধ্যায় আমি থানায় ওসির সাথে দেখা করতে রুমে গেলে তিনি বলেন, আপনি একটু পরে আসেন, আপাতত থানার বাহিরে কোন চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন।

    ওসির কথামত আমি থানার সামনে বাচ্চু মিয়ার চায়ের দোকানে গিয়ে বসলে থানার কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম আমাকে ধমকের সুরে বাড়ি কোথায়? এখানে কেন এসেছি? জানতে চান। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্য জাহিদ আমাকে থাপ্পর-ঘুষিসহ মারধর করে এবং গালে সিগারেটের আগুন চেপে ধরে পুড়িয়ে দেয়।

    ওই সময় চায়ের দোকানে উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশ কিনা জানিনা তবে সিভিল পোষাকের এক লোক মহিলাকে মা বোনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বেদমভাবে মারধর করেছে। তারা এগিয়ে রক্ষা না করলে মহিলার অবস্থা খারাপ হতো বলেও জানান।

    অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কল রিসিপ করে বলেন, আমি চা খেতে বাচ্চুর চায়ের দোকানের ভেতরে গিয়ে দেখি এক মহিলা ওসিকে স্যারকে গালাগাল করছে। আমি গালাগালের প্রতিবাদ করি। এক পর্যায়ে মহিলাকে সেখান থেকে তাড়ানোর জন্য আমি গালাগাল করি ও মারধরের ভয় দেখাই।

    রাশিদা বেগম আরো বলেন, জাহিদুল ইসলাম নামের পুলিশের হাতে মার খেয়ে আমি থানায় ওসি শিশির কুমার পালের রুমে যাই এবং ঘটনাটি তাকে জানাই। এতে ওসি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে আমাকে গালি দিতে দিতে বলে, ‘শালির ঝি শালি থানা থেকে বের হ, এখানে আসছো কেনো।’ এরপর শুরু করে দুই গালে থাপ্পড়। এক পর্যায়ে ওসি থাপ্পড় দিতে দিতে তার রুম থেকে আমাকে বের করে দেন

    অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, ‘ওই মহিলা একটা খারাপ লোক ও মামলাবাজ। তার স্বামী প্রসঙ্গে বলেন, তার স্বামীর হিসেবের কোন শেষ নেই। ছেলে গাড়ির হেলপার মাদারীপুরের একটি ডাকাতি মামলার আসামি। মেয়ে অপরহরন প্রসঙ্গে বলেন, তার মেয়ে অপহরনের কোন ঘটনা নাই। আমি কোন মেয়ে উদ্ধার করে দেই নাই।

    বুধবার সন্ধ্যায় থানায় ডেকে আনা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তার মালামাল উদ্ধার করে ফেরত দেয়ার জন্য থানায় ডেকে এনেছি। ডিআইজি স্যারের নির্দেশে মালামাল উদ্ধার করেছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাড়ির মালিক ঘর ভাড়া পাওনা বাবত মাল আটকে রাখে। আমি এক পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে সেই মালামাল উদ্ধার করে ফেরত দিতে থানায় ডেকেছি।’

    রাশিদার ছেলে পরিবহন শ্রমিক বাবু ওরফে আল-আমিন মুঠোফোনে জানায়, তার মা’কে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ওসি ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    সে আরও জানায়, ঘটনার পরে উজিরপুর থানার সামনে তার আহত মা সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দেয়ার পরপরই ওসি শিশির সেখান থেকে তাকেসহ তার মা রাশিদাকে থানায় আটকে নির্যাতনের ঘটনা মিথ্যা এই মর্মে মোবাইল ফোনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়।

    বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম (বিপিএম) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম (পিপিএম) এর সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলে তিনি ধরেননি।

  • আ.লীগ নেতার স্ত্রীর গলা কেটে দিলেন বাড়ির দুই কেয়ারটেকার

    আ.লীগ নেতার স্ত্রীর গলা কেটে দিলেন বাড়ির দুই কেয়ারটেকার

    অনলাইন  ডেস্ক ::

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক আওয়ামী লীগ স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে বাড়ির দুই কেয়ারটেকার। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম হিটলার চৌধুরী ভলু। তিনি পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র।

    শুক্রবার ভোর তিনটার দিকে সৈয়দপুর পৌর শহরের গোলাহাট মহল্লায় ওই নেতার বাসভবনে তার স্ত্রী সুরভী ইসলাম চৌধুরী পপিকে (৩৫) হত্যার চেষ্টা করে তারা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে পরে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

    চিকিৎসাধীন পপির গলায় ও হাতে চিকিৎসকরা ৪০টির অধিক সেলাই করেছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে। সুরভী ইসলাম চৌধুরী পপি হিটলার চৌধুরী ভলুর দ্বিতীয় স্ত্রী।

    জানা যায়, হিটলার চৌধুরী ভলুর শহরে দুইটি বাড়ি। পাওয়ার হাউস এলাকায় একটি ও গোলাহাট মহল্লায় আরেকটি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পপির ছোট মেয়ে তাসফিয়া লাবিবা চৌধুরী অদ্রি (৭) সাংবাদিকদের জানায়, তার বাবার কাজের জন্য রাখা দুই কেয়ারটেকার জীবন (২১) ও রাজা (১৭) গভীর রাতে এসে ডাকাডাকি করলে মা দরজা খুলে দেয়। ওই সময় বাবা পাওয়ার হাউস এলাকার ছিলেন। ঘরে ঢুকে কেয়ারটেকার দুইজন হঠাৎ চাকু বের করে আম্মুর গলা কাটতে থাকে। আম্মু নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলে হাত কেটে যায়। এ সময় আমি ও আম্মু চিৎকার করতে থাকলে জীবন ও রাজা পালিয়ে যায়।

    এলাকাবাসী জানায়, জীবন গোলাহাট মহল্লার মহম্মদ মুন্না এবং রাজা একই এলাকার মৃত সাগির হোসেনের ছেলে। এ ঘটনার পর তাদের এলাকায় আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকার সকলে জীবন ও রাজাকে ভলু চৌধুরীর বিশ্বস্ত বলে জানায়। তারা তার বাড়ির নিজের ছেলের মতো থাকতো।

    এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা হিটলার চৌধুরী ভলু জানান, ঘটনার সময় তিনি পাওয়ার হাউস এলাকায় ছিলেন। খবর পেয়ে বাড়ি ছুটে আসেন এবং স্ত্রীকে প্রথমে সৈয়দপুর হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেন।

    তিনি জানান, যে ছেলে দুটো এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আমারই সঙ্গে থাকে। কেন বা কি কারণে তারা এমনটা ঘটালো বুঝতে পারছি না। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করবো।

    এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আবুল হাসনাত ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জীবনের বাবা মুন্নাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

  • বরিশালে শিকলবন্দি ধর্ষিতা কিশোরী, ৩ হাজার টাকায় রফা

    বরিশালে শিকলবন্দি ধর্ষিতা কিশোরী, ৩ হাজার টাকায় রফা

    জ্বীনে আসর করেছে আখ্যা দিয়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার কেশবকাঠী গ্রামের ১৪ বছর বয়সের ধর্ষিতা এক কিশোরীকে শিকলবন্দি করে রেখেছে তার পরিবারের সদস্যরা।

    শুক্রবার দুপুরে নিজবাড়িতে শিকলবন্দি অবস্থায় ওই কিশোরী স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানায়, তাকে নাকি জ্বীনে আসর করেছে এজন্য তার বাবা-মা তাকে শিকল বন্দি করে রাখে। মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের অজান্তে সে (কিশোরী) শিকলের তালা খুলে বাড়ি থেকে বের হয়। একইদিন সন্ধ্যায় জামবাড়ী-মশাং সড়কের নির্জনস্থানে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক এক ভ্যান চালক ধর্ষন করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে কেশবকাঠী এলাকার বাসিন্দা গিয়াস মৃধা ও কবির মৃধা জামবাড়ী-মশাং সড়কের নির্জনস্থান থেকে একই এলাকার রবি শাহারুর পুত্র এক সন্তানের জনক ভ্যানচালক সঞ্জিত শাহারু ও কিশোরীকে একত্রে দেখে তাকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীসহ ভ্যান চালক সঞ্জিতকে উদ্ধার করে হাবিবপুর কলেজ মাঠে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে উভয়কে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য গিয়াস ও কবিরকে অনুরোধ করেন। এরইমধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের পুত্র রাসেল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে সঞ্জিতকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং ওই কিশোরীকে গিয়াস ও কবির মৃধার জিম্মায় রাখে।

    তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে হাবিবপুর বাজারে বসে ওই কিশোরীর পরিবারকে না ডেকে কিংবা ওই কিশোরীর কোন বক্তব্য না শুনেই স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, শাজাহান হাওলাদার, গিয়াস মৃধা, কবির মৃধা ও জুয়েল মৃধা কথিত সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সঞ্জিতকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করে।

    ধর্ষিতা ওই কিশোরীর পিতা জানান, কথিত সালিশ বৈঠকে জরিমানা করার কথা তিনি শুনেছেন। তবে সালিশ বৈঠকে তাদেরকে ডাকা হয়নি। তিনি আরও জানান, তার কন্যার উপর মাঝে মধ্যেই বদ জ্বীন আসর করে। যার ফলে প্রায়ই তাকে শিকলবন্দি করে রাখা হয়।

    সালিশকারী কবির মৃধা ও জুয়েল মৃধা জানান, তারা কেউই সালিশিতে ছিলেন না বরং মোস্তাফিজুর নিজেই সালিশে ছিলেন। উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বরিশাল শেবাচিমে মানবসেবার ব্রত নিয়ে এক ঝাঁক পরী

    বরিশাল শেবাচিমে মানবসেবার ব্রত নিয়ে এক ঝাঁক পরী

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন ::

    মানবসেবার ব্রত নিয়ে তাঁরা বেছে নিয়েছেন নার্সিং পেশাকে। বর্তমান সময়ে ঠিক যেন স্রোতের বিপরীতে তাদের অবস্থান। নার্সিং পেশাটি যে মহান তা তাঁরা প্রমাণ করতে চান ধর্ম-বর্ন-নির্বিশেষে সকল মানুষকে সেবা করে। রোগীদের কাছ থেকে কোনো উৎকোচ তো নেনই না উপরন্তু অনেক সময় চাঁদা তুলে তাদের লাশ গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছে দেন।

    এছাড়া বর্তমান সময়ে প্যাথলজি বা কিনিকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নার্সদের যে অফার দেয় সেটাও তাঁরা গ্রহণ করেন না। সরকার নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত করার কারণে দেশের বিরাটসংখ্যক শিক্ষার্থী সম্প্রতি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দেশে বর্তমানে রেজিস্টার্ড নার্স- মিডওয়াইফারি রয়েছে ৫৬ হাজার ৭৩৩ জন। সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অধীনে নার্স প্রায় ৩০ হাজারজন। মিডওয়াইফারি প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। বাংলাদেশে ৪৩টি সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট রয়েছে । যার মধ্যে বেসরকারি রয়েছে ১২০টি।

    সরকারি নার্সিং কলেজ ১৭টি ও বেসরকারি কলজে ৬০টি। এতগুলো নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজ থাকার পরও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিার্থীদের প্রবল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ভর্তি হতে হয়। পাশাপাশি নার্সিং পাশ করে চাকুরীস্থলে রোগীর মৃত্যু কেন্দ্র করে অনেক সময় নার্সদের লাঞ্চিতও করা হয়। তবে মানবসেবার ব্রত নিয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছরে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়(শেবাচিম) হাসপাতালে এক ঝাঁক পরী গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশাল নগরীর বাসিন্দা অঞ্জলী রাণী সরকার।

    ১৯৭০ সালের দিকে নার্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেবিকা হিসেবে যোগদান করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখন থেকেই নিবেদিত প্রাণ একজন সেবিকা হিসেবে সুনাম গড়ে ওঠে তার। চাকুরীর ৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে বদলী হয়ে আসেন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে। এর পরেই ১৯৮৫ সালে তিনি অভিজ্ঞতার আলোকে শেবাচিম হাসপাতালে সেবা তত্ত্বাবধায়কের চলতি দায়িত্ব পালন করেন।

    অঞ্জলী রাণী সরকারের বয়স প্রায় ৬৫ বছর। তিনি ভাল আছেন। কিন্তু বয়সের ভারে অনেকটাই বেশি নুয়ে গেছেন। তিনি শ্রবন শক্তিও কিছুটা হারিয়ে ফেলেছেন। অঞ্জলী রাণী সরকার আজকের বার্তাকে জানান,“দীর্ঘ জীবনে আমি রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। ভালই লেগেছে নার্সিং পেশায়। আমি নিজেই উৎসাহিত হয়ে নার্সিং পেশায় এসেছিলাম।”

    ক্রমান্বয়ে এই হাসপাতালে রোগীদের সেবায় ১৯৯৭ সালে রোজল্যান্ড বিভা বাড়ৈ, ২০০৩ সালে তেরেজা গোমেজ, ২০০৪ সালে কুসুম গোপ, ২০০৫ সালে মঞ্জুয়ারা বেগম ও একই বছরে আলেয়া পারভীন, ২০০৭ সালে সাহালিয়া খানম, ২০১৪ সালে মিরা সরকার ও একই বছরে হোসনে আরা খানম, ২০১৬ সালে আলেয়া বেগম ও একই বছরে মমতাজ বেগম, ২০১৭ সালে গায়ত্রী সমদ্দার, ২০১৮ সালে সেলিনা আক্তার(ভারপ্রাপ্ত) ও একই বছরে মোসাম্মত রাশিদা বেগম, ২০১৯ সালে উপ সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদে দায়িত্ব পালন করেন আরতী রানী সমাদ্দার।

    শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমানে সেবা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেলিনা আক্তার।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ও রোগী-স্বজনদের প্রার্থনায় এক ঝাঁক পরী দুনিয়াতে এখনও বেঁচে আছেন। তাঁরা সবাই পরিবারের সদস্যেদের সঙ্গে থেকেই সময় পার করছেন। হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদে ছিলেন রাশিদা বেগম। কথা হয় তার সঙ্গে।

    রাশিদা বেগম বলেন,‘নার্সেরা সমাজের সবচেয়ে টাচি বিষয়ে সেবা দিয়ে থাকেন। তারা মানবসেবার অনন্য উদাহরণ। এ পেশার মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে কোন রোগী বা ব্যক্তির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করে সেবিকা বা নার্স। রাশিদা বেগম বলেন নার্সিং পেশায় আসার লক্ষ্যে মা-বাবা কখনও হ্যা/না কিছুই বলেননি। তবে আমারবোনজামাই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছেন।

    আগে রোগীরা যখন খারাপ আচরণ করতো তখন আমরা তাদের অসুস্থ্য শরীরের কথা চিন্তে করে সবকিছু সহ্য করতাম।কিন্তু আগের তুলনায় এখন কতিপয় রোগী ও স্বজনরা নার্সদের সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করে।” ইউরোপের দেশ স্পেন জন্মেছিলেন কারমেন কিলমার্টিন। রোগীর সেবা করতে গিয়ে কারমেন কিলমার্টিন বলেছিলেন,“সেই সময় আমার নিজেকে সামান্য একটা ‘ক্ষত বাঁধার গজ’ বলে মনে হয়।

    এই কথা শুনে কারমেন কিলমার্টিনের বান্ধবী তাকে বলেছিল: ‘এক মূল্যবান “ক্ষত বাঁধার গজ” কারণ একজন লোকের যখন অসুখ হয় তখন অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে তোমার মতো একজন সহানুভূতিশীল নার্সকে তার সবচেয়ে বেশি দরকার।’”“ডাক্তার রোগ সারান কিন্তু নার্স রোগীর দেখাশোনা করেন। এই জন্য নার্সদের প্রায়ই মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়া সেই সমস্ত রোগীদের গড়ে তুলতে হয়, যারা জানতে পারে যে তাদের এক দীর্ঘস্থায়ী রোগ হয়েছে বা খুব শীঘ্রই মারা যাবে। আপনাকে একজন রোগীর মায়ের ভূমিকা নিতে হবে।”

    হাসপাতালটিতে একজনই উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি হলেন আরতী রাণী সমাদ্দার।

    সাক্ষাতে কথা হলে আরতী রাণী সমাদ্দার বলেন,“নার্সিং পেশায় আসতে আমার পরিবারের সকলে সহায়তা করেছেন। প্রতিদিন আমার ভাই আমাকে কলেজে পৌঁছে দিয়ে গেছেন।তাছাড়া রোগীদের সেবা করতে ভালই লেগেছে। রোগীদের বিছানা ঠিক করে দেওয়াসহ সকল কাজ করতাম আমরা। আরতী রাণী সমাদ্দার আরও বলেন পূর্বে নার্সের সংখ্যা কম থাকায় রোগীদের নিয়ে ঝামেলা কম হতো।

    কিন্তু বর্তমানে নার্সও বেশি ঝামেলাও বেশি পোহাতে হয়।” শেবাচিম হাসপাতালের বর্তমান সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার বলেন,“মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছি। একটু ভালো কাজ করতে না পারলে এ জন্মের সার্থকতা কিসে। তাই ধর্ম-বর্ন-নির্বিশেষে সকল মানুষকে সেবা দিয়ে আমি এক ধরনের শান্তি অনুভব করি। জীবনে ভালো কাজ করলে ফলটাও ভালো পাওয়া যায়।

    তিনি বলেন, আমার এখানে এমন রোগীও আসে যারা কখনও ভাবতেও পারেনা যে একজন সেবিকার কাছে গিয়ে এতোটা সেবা পাবে। আমি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তার সেবা করছি। তাছাড়া সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সারাজীবন আমি সকল মানুষের সেবা করে যেতে চাই। সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার বলেন কলেজে যখন অধ্যায়নরত ছিলাম তখন থাকা-খাওয়ার খুবই কষ্ট ছিল। যেকারনে কাপড়-চোপড় নিয়ে কলেজ থেকে পালিয়াছিলাম। কিন্তু কলেজের গেইট দাড়োয়ান আমাকে ধরে প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে নিয়ে যায়। তখন প্রিন্সিপাল স্যারের পরামর্শক্রমে ফের অধ্যায়নে মনোযোগী হই।”

  • ঝালকাঠিতে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার  লক্ষে হামলায় শিশুসহ আহত-৩, আটক-১

    ঝালকাঠিতে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার লক্ষে হামলায় শিশুসহ আহত-৩, আটক-১

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
    ঝালকাঠির রাজাপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য দুবোন ও বোনের শিশু পুত্রের উপর সৎ ভাইসহ তাদের সহযোগীরা হামলা চালিয়ে বেধরক মারধর ও বসতঘর গুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার পর স্থানীয়রা উদ্ধার করে গুরুত্বর আহত উম্মে আসমা সুখীকে বরিশাল শেবাচিত হাসপাতালে ও ছোট বোন আহত কামরুন্নাহার তুলিকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করা হয়েছে।
    এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে রাজাপুর থানায় আহত উম্মে আসমা সুখী বাদী হয়ে দুই সৎভাই ও তাদের সহযোগী ৪/৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
    পরে সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রধান আসামী খিজির হায়াত হোসেন বাদশা (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে প্রভাবশালী আসামীরা উচ্চ মহলে তদবীরের মাধ্যমে আহত বোনদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়েরের প্রচেষ্টা চালানোর কারনে বর্তমানে তারা আতংকে দিন কাটাচ্ছে। তাছাড়া হামলা চলাকালে বাদী আহতাবস্থায় দৌড়ে রাজাপুর থানায় ডুকলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে আহতরা জানিয়েছে।
    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুরের সেটেলমেন্ট অফিস সংলগ্ন পোষ্টমার বাড়ীর মৃত আঃ করিম হাংয়ের সহায়সম্পত্তী তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলেরা ভোগ দখল করলেও তারা তৃতীয় স্ত্রীর ঘরের সন্তানদের সম্পত্তিতে থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এনিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১২সেপ্টেম্ভর সকাল ৭টায়  আসামী সৎভাই  খিজির হায়াত হোসেন বাদশা, আলী হায়দার হোসেন মহারাজ ও  রিয়াদুল হোসেন স¤্রাটসহ তাদের সহযোগীরা বাদী উম্মে আসমা সুখীর বাসায় হামলা চালায়। এসময় ধাড়ালো অস্ত্র, রড ও লাঠিসোটা নিয়ে সৎবোন সুখী, তুলি ও সুখী বেগমের শিশু পুত্র আলআবিদ (৮) কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। এমন কি তাদের বসত ঘরটি ভেয়ে গুড়িয়ে মাটির সাথ মিশিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও আহতরা জানিয়েছে।
    এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার ওসি মোঃ জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই ঘটনা একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে প্রধান আসামী বাদশাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
  • টয়লেট সারতে গিয়ে ট্যাঙ্কিতে পড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    টয়লেট সারতে গিয়ে ট্যাঙ্কিতে পড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক ::

    খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে টয়লেটের স্লাব ভেঙে ট্যাঙ্কিতে পড়ে মো. এমরান হোসেন বাবু (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকছড়ির কুমারী এলাকার বড়টিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্র এমরান হোসেন বাবু ওই এলাকার মো. শাহ আলমের ছেলে। সে বড়টিলা আবদুল জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এমরান হোসেন বাবু প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে গেলে পরিত্যক্ত টয়লেটের স্লাব ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তার মামা মো. আল-আমিন তাকে উদ্ধার করতে টয়লেটের ট্যাঙ্কিতে নেমে তিনিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

    এ অবস্থায় স্বজনদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে দু’জনকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্কুল ছাত্র মো. এমরান হোসেন বাবুকে মৃত ঘোষণা করে। তবে তার মামা মো. আল-আমিন প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছে।

    মানিকছড়ি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • চুমু খেতে বাধ্য করা সৌদি রাজকন্যার ১০ মাসের কারাদণ্ড

    চুমু খেতে বাধ্য করা সৌদি রাজকন্যার ১০ মাসের কারাদণ্ড

    সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের মেয়ে হাসা বিনতে সালমানকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফ্রান্সের একটি আদালত। ২০১৬ সালে প্যারিসের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে কাজ করতে আসা এক মিস্ত্রিকে পায়ে চুমু খেতে বাধ্য করা ও মারধরের অভিযোগে তাকে দণ্ড দেয়া হলো।

    হাসা বিনতে সালমান প্যারিসের বিলাসবহুল একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। সেখানে পাইপ ঠিক করতে এসেছিলেন ওই মিস্ত্রি। তাকে আটকে রেখে মারধর করেন সৌদি রাজকন্যা ও তার দেহরক্ষী। তারপর ওই মিস্ত্রিকে রাজকন্যার পায়ে চুমু দিতে বাধ্য করেন।

    দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নারী অধিকারের পক্ষে কাজ করা ৪৩ বছর বয়সী সৌদি রজকন্যার এমন কারাদণ্ডাদেশের খবর জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার যখন রায় ঘোষণা করা হয় তখন আদালতে উপস্থিত ছিলেন সৌদির ডি-ফ্যাক্টো নেতা যুবরাজ সালমানের এই বোন।

    শুধু দশ মাসের কারাদণ্ড নয় হাসা বিনতে সালমানকে মিস্ত্রিকে মারধর ও অপহরণের অভিযোগে ১০ হাজার ইউরো জরিমানা করেছেন আদালত। বিবিসি বলছে, হাসার দেহরক্ষী রানি সাইদিকেও ৮ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।

    মামলাটি দায়ের করেছিলেন ঘটনার শিকার মিস্ত্রি আশরাফ ইদ। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারিসের অ্যাভেনিউ ফস নামের বিলাসবহুল ওই অ্যপার্টমেন্টে কাজ করতে যান তিনি। তারপর তাকে হাসার পায়ে চুমু খেতে বাধ্য করা হয়।

    রাজকন্যার নির্দেশে তার দেহরক্ষী সাইদি মিস্ত্রিকে মারধর ও কয়েক ঘণ্টা বেঁধে রাখেন। ঘটনার পরপরই সৌদি রাজকন্যা হাসা ও তার দেহরক্ষী ফ্রান্স ছেড়ে চলে যান। ২০১৮ সালের মার্চে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর চলতি বছরের ৯ জুলাই ফ্রান্সের আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়।