Category: নারী ও শিশু

  • পটুয়াখালীতে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

    পটুয়াখালীতে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনষাতলী গ্রাম থেকে কলেজ ছাত্র তৌফিক হাওলাদারে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।

    শনিবার সকালে পুলিশ মৃতদেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করেছে।

    মৃত তৌফিক মনষাতলী গ্রামের ইরিয়াশ হাওলাদারের ছেলে ও মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলো। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্না মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ্যতার কারনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে তৌফিক। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাবা-মায়ের সাথেই ঘুমিয়ে ছিলো সে। মাঝ রাতে হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার ভোরে বাড়ির পিছনের একটি গাছের সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়।

    পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

  • রিফাত হত্যা: ৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬ মামলা

    রিফাত হত্যা: ৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬ মামলা

    বরগুনা প্রতিনিধি ::

    আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় একটি রিকশাসহ ১৮ ধরনের আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি রিকশা ব্যতীত বাকি ১৭ ধরণের আলামত আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। এছাড়াও এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৭৫ জনকে। এদের মধ্যে নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ স্বজনসহ পুলিশ, চিকিৎসক এবং এলাকাবাসী রয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত ২৪ জনের মধ্যে আট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক, হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    এ মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. হামায়ুন কবির চার্জশিটে উল্লেখ করেন, মামলার এজহার ও তদন্তে যাওয়া অভিযুক্তদের বয়সের বিবেচনায় দুভাগে ভাগ করে চার্জশিটটি দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিতে মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ১০ জন আর অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটে মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ১৪ জন।

    চার্জশিট থেকে জানা গেছে, রিফাত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে আগেও মোট ১৬টি মামলা ছিল। এসব মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মারধর, মাদক, হত্যাচেষ্টা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আরও জানা গেছে, এ মামলার প্রাপ্তবয়ষ্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটে এক নম্বর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে, মাদক, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় মোট চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময় তিনি গ্রেফতারও হয়েছেন। এ চার্জশিটের তিন নম্বর ও চার নম্বর অভিযুক্ত মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত এবং মো. রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়ের বিরুদ্ধেও মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

    প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের মধ্যে দুটি করে মামলা রয়েছে ছয় ও নয় নম্বর অভিযুক্ত মো. মুছা ও মো. সাগরের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মুছার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি মাদকের মামলা এবং সাগরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটির মধ্যে একটি নারী নির্যাতন ও অপরটি হত্যাচেষ্টা মামলা।

    এছাড়াও এ মামলার কিশোরদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটের এক নম্বর অভিযুক্ত মো. রাশেদুল হাসান ওরফে রিশান ফরাজী ও মো. তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধেও একটি করে হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা রয়েছে। এছাড়া মো. ওয়ালিউল্লাহ অলি নামে চার নম্বর কিশোর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি মাদক এবং একটি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।

    রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে জানা গেছে, তিনটি পেনড্রাইভ, একটি ডিভিডি, রিফাতের ওপর হামলার স্থানে রক্তমাখা রাস্তার পিচের অংশ বিশেষ, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা, একটি রক্তমাখা অফহোয়াইট শার্ট, একটি স্টিলের চামচ, একটি কালো রংয়ের নারীদের জামা, একটি চিরুনি, মিন্নির বাঁধাই করা একটি ছবি, খোদাই করে নয়ন+মিন্নি লেখা একটি শামুক, সিম-মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের ছয়টি মোবাইল ফোন, রক্তমাখা কালো রংয়ের একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি রামদা মামলার আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    এসবের মধ্যে তিনটি পেনড্রাইভ একটি ডিভিডিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ বন্ড ০০৭ গ্রুপের সকল তথ্য ডাইনলোড করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্ক্রিনশটসহ নয়ন বন্ডের জন্মদিনে মিন্নির উপস্থিতির ভিডিও দেয়া হয়েছে একটি পেনড্রাইভে। এছাড়া এ মামলার আলামত হিসেবে দেখানো রিকশাটি মূলত আহত রিফাত শরীফকে নিয়ে কলেজের সামনে থেকে হাসপাতালে গিয়েছিল। শুধুমাত্র এই রিকশাটি মালিকের জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বাকি সব আলামত আদালতে দেয়া হয়েছে।

    পেনড্রাইভ ও ডিভিডিতে থাকা সকল ভিডিও ফুটেজ এবং স্ক্রিনশট পুলিশের পুলিশের সাইবার ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হয়েছে। এসব ডিভাইসে থাকা ভিডিও ফুটেজ এবং স্ক্রিনশট কোনো প্রকার এডিটিং করা হয়নি, বিশেষজ্ঞদের দেয়া এমন সাইবার ফরেনসিক মতামত চার্জশিটে যুক্ত করা আছে। এছাড়া জব্দ করা ছয়টি মোবাইলের মধ্যে চারটি মোবাইলের বিষয়েও নেয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতামত।

    আলোচিত রিফাত হত্যা মামলায় মোট ৭৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিহত রিফাতের বাবা-মাসহ নিকটাত্মীয় ও বন্ধুরাও রয়েছেন। রয়েছেন পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শীরাও। এদের মধ্যে ১২ জন পুলিশ সদস্য, চারজন চিকিৎসক এবং বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর নামও রয়েছে সাক্ষীদের তালিকায়। এছাড়াও নয়ন বন্ডের বাসার ভাড়াটিয়ারাও সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন।

    মামলায় এক নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে নিহত রিফাতের বাবা মো. দুলাল শরীফকে। ২৬ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে হেলাল সিকদারকে। এই হেলালের মোবাইলকে কেন্দ্র করেই করেই রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। ৩০ ও ৩৫ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে নয়ন বন্ড ও মিন্নির বিয়ের কাজী মো. আনিচুর রহমান এবং এবং বিয়েতে মিন্নির উকিল বাবা মো. রাইয়ানুল ইসলাম শাওনকে।

    এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবরী বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ড একটি আলোচিত ঘটনা। মামলাটি তদন্তের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে পুলিশ। সততা, নিরপেক্ষতা এবং সচেতনতার সঙ্গেই এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • বরগুনায় প্যান্ট সেলাইয়ের কথা বলে দর্জির মেয়েকে ধর্ষণ করলেন চেয়ারম্যানের ভাগনে

    বরগুনায় প্যান্ট সেলাইয়ের কথা বলে দর্জির মেয়েকে ধর্ষণ করলেন চেয়ারম্যানের ভাগনে

    বরগুনা প্রতিনিধি ::

    বরগুনা সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের আজগর কাঠি গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ধর্ষক নলটোনা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীরের ভাগনে বলে জানা গেছে। তার নাম আল আমিন (২১)।আজগরকাঠি গ্রামের ওয়ারেচ হাওলাদারের ছেলে তিনি।

    নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মেয়েটি।

    নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী জানায়, তার মায়ের একটি কাপড় সেলাইয়ের দোকান রয়েছে। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে তার মা দোকানে ছিল না। এ সময় আল আমিন একটি প্যান্ট সেলাইয়ের কথা বলে তাদের ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ডাক চিৎকার করলে ঘটনাস্থলে তার মা ছুটে এলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যায় আল আমিন

    এ বিষয়ে ১০ নং নলটোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, আল আমিন তার আপন ভাগনে নয়। ঘটনা শোনার সাথে সাথে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেছেন। ধর্ষক আল আমিনকে আটক করে থানায় হস্তান্তরের জন্য তার সকল গ্রাম পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দায়েরের জন্য বলা হয়েছে।

  • এবার ঢাকায় আসছেন মিন্নি

    এবার ঢাকায় আসছেন মিন্নি

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবার ঢাকায় আসছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করতে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আসবেন তিনি। মিন্নির আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আইনজীবীরা জানান, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে আইনি পরামর্শের জন্যই মূলত ঢাকায় আসছেন তিনি।

    মিন্নির একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সুপ্রিম কোর্টে এসে মিন্নি তার প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে অন্য সব আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে আদালতের নিষেধ থাকায় মিডিয়ার সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না

    এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মিন্নিকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত বহাল রাখায় কারাগার থেকে মুক্তি পান মিন্নি। আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দীন।

    গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে জামিনে থাকাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না বলে শর্ত দেন আদালত।

    হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। তবে ওই আবেদনে কোনো সাড়া না পেয়ে নিয়মিত আবেদনের সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় রিফাত শরীফকে। স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে পারেননি। গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত শরিফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    পরে ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টায় মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইন্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    পরদিন (১৭ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির।

  • খুলনায় বায়োমিল দুধ খেয়ে যমজ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

    খুলনায় বায়োমিল দুধ খেয়ে যমজ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

    খুলনা প্রতিনিধি/জান্নাতুল ফেরদৌস :

    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া গ্রামে বায়োমিল দুধ খেয়ে ঘুমানের পর ১০ মাস বয়সী যমজ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিছানায় তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বায়োমিল দুধ খেয়ে শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। মৃতরা হচ্ছে- উপজেলার গুটুদিয়া গ্রামের ফারুক গোলদারের দুই যমজ মেয়ে মারিয়া ও ফারিয়া। শিশু দুটির বাবা ফারুক গোলদার বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে ফিডারের দুধ খেয়ে বাচ্চা দুটি ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে বাচ্চা দুটি আর ঘুম থেকে জেগে ওঠেনি। ঘুমানোর আগে তাদেরকে বায়োমিল-২ দুধ খাওয়ানো হয়েছিল। সকালে মৃত অবস্থায় তাদের নাক ও মুখ থেকে দুধ বের হচ্ছিল। এদিকে এ ঘটনা জানতে পেরে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহানাজ বেগম মৃত দুই শিশুকে দেখতে যান। তিনি জানান, দুধে কোনো বিষক্রিয়া আছে কি-না তা পরীক্ষা করা হবে।

  • মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপিতে ভয়াবহ বর্ণনা

    মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপিতে ভয়াবহ বর্ণনা

    রিফাত হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গ্রেফতার হন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গ্রেফতারের পরই মিন্নি প্রধান সাক্ষী থেকে হন আসামি। পাঁচ দিনের রিমান্ডের দু’দিন শেষ হতেই রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

    রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া মিন্নির সেই স্বীকারোক্তি হুবহু  পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হলো।

    আমি বরগুনা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি। ২০১৮ সালে বরগুনা আইডিয়াল কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করি। আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করাকালীন ২০১৭ সালে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সময় রিফাত শরীফ বামনা ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিল। রিফাত শরীফ আমাকে তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পরিচয় করে দেয় তার মধ্যে নয়ন বন্ড একজন। কলেজে যাওয়া আসার পথে নয়ন বন্ড আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে জ্বালাতন করতো। আমি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সে আমার বাবা ও ছোট ভাইকে ক্ষতি করার ভয় দেখাতো। বিষয়টি আমি রিফাত শরীফকে জানাইনি।

    আমি রিফাত শরীফকে ভালোবাসতাম। কিন্তু রিফাত শরীফ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করার কিছু বিষয় আমি লক্ষ্য করি এবং এ কারণে রিফাতের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে এবং আমি ধীরে ধীরে নয়ন বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ি এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    আমি নয়নের মোবাইল নম্বরে আমার মায়ের মোবাইল নম্বর এবং নয়নের দেয়া নম্বর শেষে ৬১১৩ ও একটি নম্বর শেষে ৪৫ দিয়ে নয়নকে কল, ম্যাসেজ এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিতাম। বরগুনা সরকারি কলেজে পড়াকালীন ধীরে ধীরে রিফাত ফরাজী, রিফাত হাওলাদার ও রাব্বি আকনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সম্পর্কের কারণে নয়ন বন্ডের বাসায় আমার যাতায়াত ছিল। নয়নের বাসায় দুজনের শারীরিক সম্পর্কের কিছু ছবি ও ভিডিও নয়ন গোপনে ধারণ করে। যা আমি প্রথমে জানতাম না।

    নয়নের বাসায় আমি প্রায়ই যেতাম এবং আমাদের শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে। এরপর গত ১৫/১০/১৮ আমি রোজী অ্যান্টির বাসায় যাওয়ার পথে বিকেল বেলা ব্যাংক কলোনি থেকে নয়ন বন্ড রিকশাযোগে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়।

    নয়নের বাসায় গিয়ে আমি শাওন, রাজু, রিফাত ফরাজী এবং আরও ৭/৮ জনকে দেখি। শাওন বাইরে গিয়ে কাজী ডেকে আনে এবং নয়নের বাসায় আমার ও নয়নের বিয়ে হয়। তারপর আমি বাসায় চলে যাই। বাসায় গিয়ে নয়নকে ফোন করে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলি। তখন নয়ন বলে- ওইটা বালামে ওঠে নাই। বালামে না ওঠলে বিয়ে হয় না।

    এরপরও আমি নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখি। নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারের কেউ জানে না। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে কলেজ থেকে পিকনিকে কুয়াকাটা যাওয়ার বাস আমি মিস করি। তখন নয়নের মোটরসাইকেলে আমি কুয়াকাটা যাই এবং নয়নের সঙ্গে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করি।

    আমি নয়নের বাসায় আসা যাওয়া কালে জানতে পারি নয়ন মাদকসেবী, ছিনতাই করে এবং তার নামে থানায় অনেক মামলা আছে। এ কারণে নয়নের সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয় এবং রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার পূর্বের ভালোবাসার সম্পর্ক আবার শুরু হয়। গত ২৬ এপ্রিল পারিবারিকভাবে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ শারীরিক সম্পর্ক, মোবাইলে কথা-বার্তা, ম্যাসেজ এবং ফেসবুকের মেসেঞ্জারে যোগাযোগ-সবই চলতো।

    বিয়ের পর জানতে পারি রিফাত শরীফও মাদকসেবী। সে মাদকসহ পুলিশের কাছে ধরা খায়। বিষয়টি জানতে পেরে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। আমি রিফাতসহ আমার বাবার বাসায় থাকতাম। মাঝে মাঝে তাদের বাসায় যেতাম। নয়ন বন্ডের বিষয় নিয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে কথা কাটাকাটি হতো এবং রিফাত শরীফ আমার গায়ে হাত তুলতো।

    গত ২৪ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তোর স্বামী, হেলালের ফোন ছিনাইয়া নিয়েছে। পরে রিফাত ফরাজীও আমাকে ফোন দিয়ে বলে, হেলালের মোবাইলটি রিফাতের কাছ থেকে নিয়ে হেলালকে ফেরত দিতে। আমি রিফাত শরীফকে হেলালের ফোন ফেরত দিতে বললে রিফাত শরীফ আমাকে চড় থাপ্পড় মারে এবং তলপেটে লাথি মারে। রাতে মোবাইল ফোনে নয়নকে জানাই এবং কান্না করি।

    পরদিন ২৫ এপ্রিল আমি কলেজে গিয়ে নয়নের বাসায় যাই। রিফাত শরীফকে একটা শিক্ষা দিতে হবে এ কথা নয়নকে বললে নয়ন বলে, হেলালের ফোন নিয়ে যে ঘটনা তাতে রিফাত ফরাজী তাকে মারবে। তারপর আমি বাসায় চলে আসি এবং এ বিষয়ে কয়েক বার আমার নয়ন বন্ডের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার স্বামী রিফাত শরীফকে মাইর দিয়া শিক্ষা দিতে হবে, এ পরিকল্পনা করি।

    ২৬ এপ্রিল আমি কলেজে যাই এবং সায়েন্স বিল্ডিং এর পাশের বেঞ্চের উপর রিফাত ফরাজী রাব্বি আকনকে বসা পাই। রিফাত হাওলাদার পাশে দাঁড়ানো ছিল। তখন আমি রিফাত ফরাজীর পাশে বসি এবং রিফাত ফরাজীকে বলি, ওকি ভাইটু খালী হাতে আসছ কেন, এ কথার জবাবে রিফাত হাওলাদার বলে, ওকে মারার জন্য খালি হাত যথেষ্ট।

    এরপর রিফাত ফরাজীকে জিজ্ঞাসা করি, নয়ন বন্ড ও রিফাত শরীফ কলেজে এসেছে কীনা? তখন নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দেয়। সে কোথায় জানতে চাইলে নতুন ভবনের দিকে যেতে বলে এবং ওই সময় নয়ন নতুন ভবনের পাশের দেয়াল টপকায়ে ভেতরে আসে। আমি হেঁটে নতুন ভবনের দিকে যাই এবং নয়নের সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারপিটের বিষয়ে কথা বলি। এরপর রিফাত শরীফ কলেজের ভেতরে আসে এবং আমাকে নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য কলেজ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলের কাছে নিয়ে আসে।

    কিন্তু আমি মোটরসাইকেলে না উঠে সময় ক্ষেপণ করার জন্য পুনরায় কলেজ গেটে ফিরে আসি। রিফাত শরীফ আমার পেছন পেছন ফিরে আসে। তখন রিশান ফরাজী কিছু পোলাপানসহ আসে এবং রিশান ফরাজী জিজ্ঞাসা করে, তুমি আমার বাবা-মাকে গালি দিয়েছো কেন? রিফাত শরীফ বলে, আমি গালি দেই নায়। ওই সময় রিফাত ফরাজী জামার কলার ধরে এবং রিশান ফরাজী রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে। রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয়, রিশান ফরাজীসহ রিফাত হাওলাদার এবং আরও অনেকে রিফাত শরীফকে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মারধর করতে করতে এবং টেনে হেঁচড়ে ক্যালিক্সের দিকে নিয়ে যায়।

    ক্যালিক্সের সামনে তারা রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। আমি তখন সবার পেছনে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ওই সময় নয়ন বন্ড ক্যালিক্সের সামনে এসে রিফাত শরীফকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। মারপিটের মধ্যেই রিফাত ফরাজী টিকটক হৃদয় ও রিফাত হাওলাদার দৌড়ে যায় এবং রিফাত ফরাজী দুটি দা ও টিকটক হৃদয় এবং রিফাত হাওলাদার লাঠি নিয়ে আসে।

    একটি দা দিয়ে নয়ন বন্ড ও ১টি দা দিয়ে রিফাত ফরাজী রিফাত শরীফকে কোপাচ্ছিল। রিশান ফরাজী রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রাখে যাতে রিফাত শরীফ পালাতে না পারে। রিফাত শরীফকে কোপাইতে দেখে আমি নয়ন বন্ডকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। দায়ের কোপের আঘাতে রিফাত শরীফ রক্তাক্ত হয়। সে রক্তাক্ত অবস্থায় পূর্ব দিকে হেঁটে যায় এবং আমি রাস্তায় পড়ে থাকা জুতা পরি এবং উপস্থিত একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দিলে আমি রিকশা করে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি।

    এরপর আমার বাবাকে ফোন করি। আমার বাবা ও চাচা হাসপাতলে আসে। এরপর রিফাত শরীফকে বরিশাল পাঠানো হয়। আমার কাপড়-চোপড়ের রক্ত লেগে থাকায় আমি বাসায় চলে যাই। পরে আমি জানতে পারি রিফাতের অবস্থা খারাপ। এরপর নয়নকে ফোনে বলি তোমরা ওকে যেভাবে কোপাইছো তাতে তো ও মারা যাবে এবং তুমি আসামি হবা। তারপর ওর অবস্থান জানতে চাই এবং পালাতে বলি। দুপুরের পর খবর পাই রিফাত শরীফ মারা গেছে।

  • অবশেষে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    অবশেষে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    অনলাইন ডেস্ক ::

    গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আইন বিভাগের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের জের ধরে গত ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বহিষ্কার করা হয়। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

    এর আগে ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বহিষ্কার নিয়ে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী?’ এমন পোস্ট দেয়ার কারণে বহিষ্কারের প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুশেমুরবিপ্রবি) বিতর্কিত উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দীনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

    জিনিয়াকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিগুলো নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে আল্টিমেটাম দেয়। এ অবস্থায় জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    gopalgonj1

    বশেমুরবিপ্রবি রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি ও প্রশাসনকে বিব্রত করার জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আইন বিভাগের সব শিক্ষার্থী ক্ষমা চেয়ে আবেদন এবং বিভাগের সব শিক্ষক ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় জিনিয়া তার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত বিবেচনায় এনে এবং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবেদন আমলে নিয়ে ফাতেজা তুজ জিনিয়ার বিরুদ্ধে যে বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হলো।

    বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে ফাতেমা তুজ জিনিয়া বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার অবশ্যই ভালো বিষয়। কিন্তু আমি এভাবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাইনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে কিন্তু আমি কোনো অপরাধ করিনি সেহেতু ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

    এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফাতেমা তুজ জিনিয়া বলেন, যোগাযোগ করেনি। আমর বন্ধুরা একটি নোটিস আমাকে পাঠিয়েছে।

    গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে এক সেমিস্টারের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের মতামত জানান ভিসি নাসির উদ্দিন।

  • ভোলায় প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

    ভোলায় প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

    ভোলা প্রতিনিধি//মো:নিসাত:

    ভোলার লালমোহন প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী(৬)কে ধর্ষণের দায়ে ইউনুছ(৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে ওই ছাত্রী ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
    বুধবার(১৮সেপ্টম্বর) দুপুরের ১টা দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে।

    মঙ্গলবার সকালে ভোলার লালমোহন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর ফুফু বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ওমান প্রবাসী মোঃ বশির এর মেয়ে স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী স্কুল ছুটি দিলে বাড়ি যাওয়ার পথে স্থানীয় আব্দুল জলিল সর্দারের ছেলে মোঃ ইউনুছ চকলেটের লোভ দেখিয়ে পাশ্ববর্তী নির্ঝন যায়গায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় ছাত্রীর আত্মচিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে লম্পট ইউনুছ পালিয়ে যায়।
    স্থানীয়রা ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন হাসপাতাল, পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর খায়রুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার ওই ছাত্রীর ফুফু বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুপুরের দিকে আসামী ইউনুছকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।

  • ৯৯৯-এ কল দিয়ে বোনকে ধর্ষণ থেকে বাঁচালেন ভাই

    ৯৯৯-এ কল দিয়ে বোনকে ধর্ষণ থেকে বাঁচালেন ভাই

    অনলাইন ডেস্ক ::

    ভৈরবে জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করেছেন ভাই। এ সময় ধর্ষণের চেষ্টায় অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া (২৩) নামে এক বখাটেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    অপরদিকে হৃদয় মিয়ার বাড়ি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের টানকৃষ্ননগর গ্রামে, বাবার নাম কাজল মিয়া।

    এ ঘটনায় ভৈরব থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয়েছে। গ্রেফতার যুবককে বুধবার কিশোরগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, ওই কলেজছাত্রীর মা-বাবা মারা গেছেন, ভাই থাকেন ঢাকায়। এ অবস্থায় পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পাশের বাড়ির বখাটে হৃদয় মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করে আসছিল। কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই অশ্লীল কথাবার্তাসহ বিরক্ত করত। এ নিয়ে ছাত্রীটি বখাটের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার নালিশ করেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে কয়েক মাস আগে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে কিছুদিন চুপচাপ ছিল হৃদয়।

    সম্প্রতি ফের উত্যক্ত করা শুরু করলে ছাত্রীটি ভৈরব থানায় একটি জিডি করেন। এরপর মঙ্গলবার তাকে বাসায় একা পেয়ে হৃদয় ভিতরে ঢুকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে মোবাইলে ঢাকায় তার ভাইকে জানায়। তার ভাই ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা চান। ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে হৃদয়কে গ্রেফতার করে।

    ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ‘৯৯৯’ থেকে থানায় ডিউটিরত পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়। থানা থেকে বিষয়টি আমাকে জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই বখাটেকে গ্রেফতার করি।

    তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চরকাউয়া খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনিতে জন্ম নেয়া শিশু হাসান ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে

    চরকাউয়া খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনিতে জন্ম নেয়া শিশু হাসান ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    বরিশাল নগরের চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকার যাত্রী ছাউনিতে জন্ম নেয়া ছেলে সন্তানটিকে তার মায়ের সাথে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছেন।

    বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের তত্ত্বাবধায়নে নিরাপত্তাজনিত কারনে শিশুটিকে তার মায়ের সাথে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে।

    সেখানে তাদের দেখভাল করার জন্য নারী পুলিশ সদস্যদের সার্বোক্ষনিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর পুলিশের নারী সদস্য রিপা আক্তারসহ সকলেই বেশ ব্যস্ত সময় পাড় করছেন শিশুটি ও তার মায়ের দেখভালের মধ্যদিয়ে।

    বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) শিশুটির শারিরীক অসুস্থতা দেখা দিলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে আসা হয়। তবে সার্বিকভাবে ৭ দিন বয়সী এই শিশুটি ভালো রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    শিশুটির সাথে আসা এসআই আকলিমা জানান, ৭ দিন বয়সী এই ছেলে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে হাসান। তার মা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন, তাই তার মা ও শিশুটিকে কোতোয়ালি মডেল থানার পাশে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। যেখানে আমাদের নারী সদস্যরা শিশুটি ও তার মায়ের দেখভাল করছে।

    এদিকে হাসপাতালে দায়িত্বরত এসআই নাজমুল হুদা জানান, ওই নারীর স্বজনদের খোজা হচ্ছে, পাশাপাশি তিনি যাতে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন সে দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরের চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকার যাত্রী ছাউনিতে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী ফুটফুটে একটি বাচ্চা প্রসব করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম-পিপিএম মানসিক ভারসাম্যহী ওই নারীসহ শিশুটির খোজ-খবর নিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

    এসময় তিনি বাচ্চা ও মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগলী) মায়ের চিকিৎসার খোজ খবর নেন। পাশাপাশি বাচ্চা ও মায়ের সার্বাধিক চিকিৎসা সেবা দিতে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সংশ্লীষ্টদের সাথে কথা বলেন। একইসাথে শিশুটি ও তার মায়ের নিরাপত্তার স্বার্থে মহিলা পুলিশ নিযুক্ত করেন। চিকিৎসা শেষে তাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়।