Category: নারী ও শিশু

  • বরিশালে পাহারা লোক বসিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ!

    বরিশালে পাহারা লোক বসিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ!

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের হিজলা উপজেলার খাগেড়চর এলাকায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে পাহারা লোক বসিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার জানান, ওই এলাকার কিশোরী কন্যাকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে একই এলাকার মানিক মাতুব্বর প্রতিবেশী ছালেহা বেগমের নির্মাণাধীণ ভবনে ডেকে নেয়। পরে ভবনের ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ধর্ষক মানিকের সহযোগি সজিব হাওলাদার ভবনের বাহিরে পাহারা দিচ্ছিলো। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে হিজলা থানায় মামলা দায়েরের পর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

    হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার জানান, অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

  • পটুয়াখালীতে বাড়িতে একা পেয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করল দুই লম্পট

    পটুয়াখালীতে বাড়িতে একা পেয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করল দুই লম্পট

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক গৃহবধূকে (৩২) বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

    স্বজনরা জানান, স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে ওই নারী ঢাকায় বসবাস করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে একাই আগেভাগে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঘরের দরজা খোলা রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হন। এ সুযোগে পার্শ্ববর্তী বাড়ির নিজাম ও কালিপদ দাস তার ঘরের মধ্যে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। এরপর গভীর রাতে তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড় ও খামচে রক্তাক্ত জখম ও ব্যাপক মারধর করে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সকালে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন।

    তারা আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক লোক হাসপাতালে এসেছে। তারা ভিকটিমের কাছ থেকে ঘটনা শুনেছেন। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলা করা হবে।

    পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সেলিনা রহমান জানান, ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টি বলা যাবে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

    গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তার মোর্শেদ জানান, মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে গৃহবধূর জবানবন্দী গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

  • ঘুষ নেয়ায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে পেটালেন নারীরা

    ঘুষ নেয়ায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে পেটালেন নারীরা

    বয়স্ক ও বিধবাভাতা দেয়ার নাম করে অসহায় নারীদের কাছে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এক দল বিক্ষুব্ধ নারীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার।

    বুধবার বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শিবগঞ্জ উপজেলার গড়মহাস্থান গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম, হাবিবর রহমানের স্ত্রী ছালেহা বেগম, মিলন রহমানের স্ত্রী সেলিনা আক্তারসহ ১৫ জন নারী অভিযোগ করেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার সম্প্রতি গড়মহাস্থান গ্রামে গিয়ে মাটি কাটার কাজ, বয়স্ক, বিধবাভাতার কার্ড ও মহিলা অধিদপ্তরের সেলাই প্রশিক্ষণের কাজ দেয়ার নামে ১৫-২০ জন নারীর কাছ থেকে ৭-৮ হাজার করে টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদেরকে কাজ ও কার্ডের ব্যবস্থা করে না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ভুক্তভোগী নারীরা।

    বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারীরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তারের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চান।

    ভাইস চেয়ারম্যান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নারীরা ভাইস চেয়ারম্যানকে গণপিটুনি দেন। রাতেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।

    তবে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের লেলিয়ে দেয়া কিছু নারী আমাকে মারপিট করে আহত করেছে। বর্তমানে আমি বগুড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমাকে সামাজিকভাবে অপমান করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে একটি মহল।

    এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু বলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। মাটি কাটার কাজ, বিধবা ও বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়া ও সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলে সাধারণ নারীদের কাছ থেকে ৭-৮ হাজার করে টাকা ঘুষ নিয়ে কার্ড করে দেননি। সেই কারণে বিক্ষুব্ধ নারীরা টাকা ফেরত চেয়ে না পেয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য সঠিক তদন্তের দাবি জানাই আমি।

  • বরিশালে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বখাটে গ্রেফতার

    বরিশালে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বখাটে গ্রেফতার

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশালের গৌরনদীতে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির অভিযোগে এনামুল শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেফতার করা হয়। এনামুল উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরোয়ার শেখের ছেলে।

    জানা যায়, অভিযুক্ত এনামুল কয়েক মাস ধরে চন্দ্রহার আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) উত্ত্যক্ত করে আসছিল। প্রায়ই মেয়েটির পথরোধ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলে হয়রানি করতো সে।

    পরে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা এ ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করলেও গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেয়েটি পরীক্ষা দিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রহার পল্লীবিদ্যুৎ সাব-ষ্টেশনের কাছে বখাটে এনামুল শেখ তার পথরোধ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলে ও কু-প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি এর প্রতিবাদ করলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জেনে মেয়েটির বাবা বখাটের অভিভাবকের কাছে বিচার দাবি করেন। এতে বখাটে এনামুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও হুমকি দেয়।

    গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, উত্ত্যক্তের ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) এনামুল শেখকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে, এনামুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    চন্দ্রহার আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এনামুল বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নষ্ট করতো। তাকে একাধিকবার ভালো হওয়ার সুযোগ দিলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে, গত বছর তাকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়।

  • বরিশালে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও এক নারীর

    বরিশালে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও এক নারীর

     শেবাচিম প্রতিনিধি:

    বরিশালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাধনা রানি (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৬টার বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    সাধনা রানি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার জোয়ার করুনা গ্রামের বাবুল চন্দ্র হালাদারের স্ত্রী।

    শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাধনা রানি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়।

    তিনি আরও জানান, এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে চলতি বছরের ১৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ১১ জন রোগীর মৃত্যু হলো। উল্লেখিত সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রন্ত হয়ে এই হাসপাতালে ২ হাজার ৫১০ জন রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে দুই হাজার ৪৩৭ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬২ জন।

  • বরিশালের যুবক বিয়ে করে রোহিঙ্গা তরুণীকে, অতঃপর…

    বরিশালের যুবক বিয়ে করে রোহিঙ্গা তরুণীকে, অতঃপর…

    অনলাইন ডেস্ক ::

    মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এক তরুণীকে আইনের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করেছেন গাজীপুরের টঙ্গীতে বসবাসরত এক যুবক। তার নাম সাইফুল ইসলাম (২৬)। সে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার চরমোদ্দি ইউনিয়নের সাদেক আলীর ছেলে।
    গত শুক্রবার রাতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের স্বাক্ষর সম্বলিত জন্ম সনদ দিয়ে রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    গেল কয়েক মাস পূর্বে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাইফুল ইসলাম ও ১৯ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নববধূ ফাতেমা আক্তার টঙ্গীর মাছিমপুর এলাকায় বসবাস করে আসছেন। মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের বিয়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিয়ে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকার।

    জানা যায়, রোহিঙ্গা আশ্রয়স্থল থেকে পালিয়ে কয়েক মাস আগে ফাতেমাকে নিয়ে টঙ্গী মিল গেইট এলাকায় পাড়ি জমায় পরিবারটি। এরই মধ্যে ফাতেমা ও তার ভাই আজগর আলী স্থানীয় ঝুটের গোডাউনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তবে তাৎক্ষণিক পরিবারের কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি। জন্মসনদটিতে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই এলাকা উল্লেখ করে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম চলতি বছরের মে মাসে জন্মসনদ প্রদান করলে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

    গাসিক ৫৫ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম বলেন, এরা এ নম্বর এলাকার না। এক সময় রোহিঙ্গা ছিল। তবে দীর্ঘদিন যাবত এ এলাকায় বসবাস করছে বলে আমার জানা। তবে ভুল করে আমার অফিস থেকে গিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

  • বরিশালে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কারখানা শ্রমিককে মেশিনে ফেলে হত্যাচেষ্টা

    বরিশালে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কারখানা শ্রমিককে মেশিনে ফেলে হত্যাচেষ্টা

     বরিশাল নগরের কাশিপুরে প্লাষ্টিক কারখানার এক নারী শ্রমিককে মেশিনে ফেলে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহতের নাম প্রিয়া আক্তার(১৯)।

    প্রিয়া কাশিপুর বাঘিয়া ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত এ.আর.টি.পেট.ট্রেডিং রিসাইকেল কারখানার শ্রমিক ছিলেন।এ ঘটনায় বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ওই নারী শ্রমিকের গোপনে চিকিৎসা চলছে

    এলাকাবাসী জানায়, বরিশাল নগরের হাটখোলা এলাকার ভাড়াটিয়া কামাল হাওলাদারের মেয়ে প্রিয়া আক্তার পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার (২৬সেপ্টেম্বর) কাজে যোগ দেয়ার জন্য প্রিয়া আক্তার ওই কারখানায় যায়। প্রতিদিনের মত প্লাষ্টিক কারখানায় নিজের মত করে কাজ করছিলেন প্রিয়া আক্তার। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কতিপয় শ্রমিক তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে কারখানার এক কোণে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় প্রিয়া বাধা দিয়ে চিৎকার শুরু করেন। এতে শ্রমিকরা তাকে বোতল কাটা চলন্ত মেশিনের মধ্যে মাথা চেপে ধরে। মুমূর্ষু অবস্থায় এলাকাবাসী উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানতে চায় প্রিয়ার কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে ? সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে বলা হয়েছে প্রিয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে,প্রিয়া আক্তারের মাথার খুলী’র চামড়াসহ সমস্ত চুল উঠে গেছে। এসময় কারখানার আরেক নারী শ্রমিক নাসিমা বেগম ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেন মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বলেন,“প্রিয়া আমাদের মেয়ে।সে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তাছাড়া এসব কথা বলে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চালায় নাসিমা ও আনোয়ার”।

    শনিবার ওই প্লাষ্টিক কারখানায় গিয়ে দেখা যায় তা বন্ধ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা জানিয়েছেন এ ঘটনার পর থেকে কারখানাটি ২দিন বন্ধ রয়েছে।

    আহত প্রিয়ার প্রকৃত বাবা কামাল হাওলাদার জানান,“সংসারের অভাবের তাড়নায় প্রিয়া প্লাষ্টিক কারখানায় কাজ করত ।কারখানা মালিক আমাকে মোবাইল করে জানিয়েছেন মেশিন পরিস্কার করতে গিয়ে প্রিয়া দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে”।

    এসময় প্রিয়া আক্তারের মা নাসিমা বেগম বলেন,“কারখানা মালিক আমার মেয়ের চিকিৎসার সকল খরচ বহন করছে।আমরা কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবো না”। তবে প্রিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় থাকার কারনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে সে কোনরকম কথা বলতে পারেনি।

    বরিশাল নগরের পলাশপুর এ.করীম আইডিয়াল কলেজ এলাকার বাসিন্দা ও কাশিপুর বাঘিয়া ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত এ.আর.টি.পেট.ট্রেডিং রিসাইকেল কারখানার মালিক কবির হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাতে কথা হলে তিনি বলেন, মেশিন পরিস্কার করতে গিয়ে প্রিয়া আহত হয়েছে।

    বিষয়টি দুর্ঘটনা হলে কারখানা কেন বন্ধ রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে কবির বলেন, শ্রমিকরা ভয় পেয়েছে, যে কারনে কারখানা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া প্লাষ্টিক কারখানার কোন বৈধ কাজপত্র আছে কিনা তারও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। পরে টাকার বিনিময়ে দু’দফা এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়েছে কারখানা মালিক কবির।

    বিমান বন্দর থানার ওসি জাহিদ-বিন-আলম বলেন, বিষয়টি ভালভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বরিশালে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের সনদ দিয়ে বহিস্কার!

    বরিশালে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের সনদ দিয়ে বহিস্কার!

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    বরিশালের মুলাদীতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর চারিত্রিক অবক্ষয়ের অভিযোগের সনদ দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছেন প্রধান শিক্ষক। ফলে ওই ছাত্রী কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারায় ১ বছর ধরে লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে।

    উপজেলার চরকালেখান আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম জাহাঙ্গীর আলম তার বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের সনদ দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন।

    ভুক্তভোগী ছাত্রী পড়ালেখা করতে না পেরে ক্ষোভে-দুঃখে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

    ওই ছাত্রীর পিতা চরকালেখান গ্রামের আলতাফ সরদার জানান, তার মেয়ে ২০১৭ সালের পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় পাস করে ২০১৮ সালে চরকালেখান আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম জাহাঙ্গীর আলম ওই মেয়ের চারিত্রিক অবক্ষয় হয়েছে বলে একটি ভুয়া অভিযোগ এনে বিদ্যালয় থেকে স্থানান্তর প্রত্যয়নপত্র দেন।

    কিন্তু স্থানান্তরপত্রে বিদ্যালয় পরিত্যাগের কারণ হিসেবে চারিত্রিক অবক্ষয়ের জন্য শব্দটি উল্লেখ থাকায় ওই ছাত্রীকে কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করা যাচ্ছে না। ছাত্রী কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারায় ক্ষোভে-দুঃখে ৩-৪বার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা।

    অপরদিকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর চরিত্রিক অবক্ষয়ের অভিযোগ করায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

    ছাত্রীকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কাছে অনুরোধ জানালে তিনি কোনো কর্ণপাত না করায় ছাত্রীর পিতা ও স্থানীয় আমিনুল ইসলাম সবুজ মৃধা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেন।

    জেলা প্রশাসক তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিটন ঢালী তদন্ত কাজ শুরু করে। বিয়ষটি তদন্তাধীন থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা লিটন ঢালীর বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।

    এ ব্যাপারে চরকালেখান আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের সনদ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ওই ছাত্রী শ্রেণি কক্ষে এক সহপাঠীকে জড়িয়ে ধরে কিস করায় (চুমু দেয়ায়) বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তবে ওই ছাত্রী বর্তমানে লেখাপড়া বন্ধ করে গার্মেন্টেসে চাকরি নিয়েছে।

    বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার জানান, কোনো ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের জন্য বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।

  • বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে ধরা খেলেন ২ সন্তানের জনক

    বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে ধরা খেলেন ২ সন্তানের জনক

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেলেন ২ সন্তানের জনক জাকির খান নামে এক ব্যক্তি। উপজেলার অম্বিকাপুরের এই ঘটনাটি নিয়ে এখন রীতিমত তোলপাড় চলছে।

    অবশ্য অভিযোগ উঠেছে- একটি প্রভাবশালী মহল এই ঘটনাটি আড়াল করতে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছে। এমনকি মহল বিশেষকে অর্থ সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে চেপে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনাটি কমবেশি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে।

    জানা গেছে- অম্বিকাপুর গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী ২ সন্তানের জননীর সাথে একই গ্রামের রহম আলী খানের প্রবাসী ছেলে জাকির খানের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। গত মঙ্গলবার রাতে তাদেরকে প্রবাসীর স্ত্রীর বাসা থেকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা।

    যদিও আটক হওয়ার পরে প্রবাসীর স্ত্রী দাবি করেছেন- তাকে প্রবাসী জাকির দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাতে টিউবওয়েলে পানি আনতে গেলে সে জোর করে ঘরে ঢুকে পড়েছে।

    তবে একটি সুত্র জানিয়েছে- তাদের উভয়ের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এবং প্রায়শই তারা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতেন। মঙ্গলবার রাতেও একই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আসেন জাকির। কিন্তু বিষয়টি এখন আড়াল করতে তার ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা কবির খান দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এমনকি এই ঘটনায় সংবাদকর্মীদেরও তিনি হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন।

    এদিকে এই ঘটনাটি সম্পর্কে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ অবহিত থাকলেও আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বরং রয়েছে নিশ্চুপ।

    তবে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবিদুর রহমান সংবাদকর্মীদের বলছেন- বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন। কিন্তু কেউ অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

  • বরিশালে টাইগারের সাথে ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ৪ শিক্ষার্থী

    বরিশালে টাইগারের সাথে ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ৪ শিক্ষার্থী

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ধামসর গ্রামে কোমল পানীয় টাইগারের সাথে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খেয়ে চার শিশু শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়েছে।

    শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলে অসুস্থ ওই চার শিক্ষার্থীকে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকেলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ধামসর গ্রামের ধামসর অক্সফোর্ড মিশনে শুক্রবার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে গ্রামের পুরুষ, শিশু ও নারীসহ সকলেই যোগদান করেন।

    পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধামসর গ্রামের মিন্টু মন্ডলের কন্যা ও সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ন্যান্সি মন্ডল (১৩) একই গ্রামের মিন্টু হালদারের ছেলে দ্বীপ হালদার (৭), নির্মল হালদারের মেয়ে ঐশি হালদার (১১) ও সন্তু অধিকারীর মেয়ে অর্পিতা অধীকারীকে (৯) ডেকে নিয়ে পাশ্ববর্তী দোকানে যান।

    সেখান থেকে তারা কয়েকটি কোমল পানীয় (টাইগার) কিনে ন্যান্সির বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়িতে ন্যান্সির বাবা-মা ছিলো না।

    ন্যান্সির মামা মাইকেল পান্ডে (৪৫) জানান, ভাগ্নে ন্যান্সি কয়েকটি (কোমল পানীয়) টাইগারের মধ্যে ঘরে থাকা একাধিক মাইলন ট্যাবলেট (ঘুমের ওষুধ ৭.৫) মিশিয়ে তারা সকলে পান করে। পানীয় পান করার কিছু সময়ের মধ্যে ন্যান্সি ব্যতীত অন্য তিন শিশু শিক্ষার্থীরা বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যায়। তখন ভাগ্নি ন্যান্সি তাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে তিনি (মাইকেল) এসে ন্যান্সিসহ অন্যান্যদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোঃ মাকসুদুর রহমান জানান, ‘কোমল পানীয়র সঙ্গে মেশানো ঘুমের ওষুধ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় ওই চার শিক্ষার্থী দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ঐশি হালদার ও দ্বীপ হালদারের অবস্থা খুবই আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে প্রথমেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী অর্পিতা ও ন্যান্সিকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানে পাঠানো হয়।

    চিকিৎসক মাকসুদুর রহমান অসুস্থ শিক্ষার্থী ন্যান্সির বরাত দিয়ে জানান, ‘ন্যান্সিসহ ওই চার শিশু শিক্ষার্থী আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নেশার জন্য প্রত্যেকটি কোমল পানীয় (টাইগার) এর সাথে ৫ থেকে ৬টি করে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘুমের ওষুধ টাইগারের সাথে মিশিয়ে ন্যান্সি পান করেছে বলে তাকে জানিয়েছে। ঘুমের ওষুধগুলো ন্যান্সির ঘরেই ছিলো এবং সেগুলো তার মা নিয়মিত সেবন করতেন।’