Category: নারী ও শিশু

  • বরিশালে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বরিশালে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাটে পুকুরের পানিতে ডুবে বায়েজিদ হাওলাদার নামে ৫ বছর এক প্রতিবন্ধি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে কাজীরহাট থানার জয়নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত বায়েজিদ হাওলাদার ওই এলাকার রহমান হাওলাদারের ছেলে।

    দুপুরে সবার অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় বায়েজিদ। অনেক খোজাখুজির পর বায়েজিদকে উদ্ধার করে পার্শবর্তী মুলাদী উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

  • পটুয়াখালীতে মাদরাসা ছাত্রীদের যৌণ হয়রাণী, বৃদ্ধ গ্রেফতার

    পটুয়াখালীতে মাদরাসা ছাত্রীদের যৌণ হয়রাণী, বৃদ্ধ গ্রেফতার

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একাধিক মাদরাসা ছাত্রীকে যৌণ হয়রাণীর অভিযোগে আব্দুল মালেক (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে কলাপাড়া থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাত ১০টার সময় পৌর শহরের সিকদার বাড়ি সড়ক থেকে স্থানীয়দের সহায়তার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় রাতেই তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে যৌণ হয়রানীর শিকার এক কিশোরীর পিতা।

    পুলিশ ও অভিভাবকরা জানান, কলাপাড়া পৌরসভার সাত নং ওয়ার্ডের শিকদার বাড়ি সড়কের দারুল এহসান মডেল মাদ্রাসা সংলগ্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসার আট থেকে ১০ বছরের শিশুদের দোকানের মধ্যে বিস্কুট ও চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ১০ শিশুকে যৌণ হয়রাণী করে। বিষয়টি শিশুরা তাঁদের অভিভাবকদের জানালে শুক্রবার রাতে কয়েকজন অভিভাবক বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযান চালিয়ে মালেককে গ্রেফতার করে।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, দোকানের মধ্যে আটকে মালেক শিশুদের শরীরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়াসহ তাদের পশ্চাৎদেশে তেল মেখে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করতো। বিষয়টি শিশুরা অভিভাবকদের জানালে ক্ষিপ্ত অভিভাবকরা বিষয়টি থানায় অবহিত করেন।

    কলাপাড়া থানার এস আই বিপ্লব মিস্ত্রি জানান, অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই আব্দুল মালেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এ কিশোরীর অভিভাবক থানায় মামলা দায়ের করেছে। শনিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • বরিশালে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রীকে অপহরণ

    বরিশালে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রীকে অপহরণ

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ডিগ্রি কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক ছাত্রী (১৭)কে অপহরণের ঘটনায় কলেজের এক শিক্ষকসহ ২ জনের নামোল্লেখ করে ৬ জনকে আসামি করে গৌরনদী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ বাউরগাতি গ্রামের অপহৃতার বাবা বাদি হয়ে এ অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলো- কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল গ্রামের বাসিন্দা বার্থী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ললিত কুমার চন্দ ও তার বখাটে পুত্র অনার্সের ছাত্র দিপক চন্দ (২৩) ।

    মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে গৌরনদী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোঃ তৌহিদুজ্জামান জানান, গত এক বছর ধরে বার্থী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ললিত কুমার চন্দ’র বখাটে পুত্র দিপক কুমার চন্দ ওই কলেজে যাওয়া আসার পথে ওই ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করে প্রেম নিবেদনসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বখাটে দিপক নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে অপহরণের হুমকি দেয়। বিষয়টি ছাত্রীর বাবা কলেজের গনিত শিক্ষক ললিত কুমার চন্দকে জানালে সে তার ছেলেকে ইন্দন জোগায়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ওই ছাত্রী বাড়ির পাশের রাস্তায় দিয়ে একই গ্রামের নিকট এক আত্মীয়র বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় দিপক কুমার চন্দের নেতৃত্বে ৩/৪ জনে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক মোটর সাইকেলে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অপহৃতার বাবা বাদি হয়ে বাথী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ললিত কুমার চন্দ ও তার ছেলে দিপক কুমার চন্দ’র নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার রাতে থানায় একটি অপহরণ মামলা (যার নং-১৪/১৮-১০-২০১৯ইং) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন থানার এসআই মোঃ আনিসুজ্জামান।

    মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও অপহৃতাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে এসআই ত্যেহিদুজ্জামান জানান, বার্থী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস ছালাম জানান, তার কলেজ থেকে ওই ছাত্রী এবার এইচএসসি পাস ও দিপক কুমার চন্দ গত বছর এইচএসসি পাস করে গেছে।

  • পটুয়াখালীতে শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা

    পটুয়াখালীতে শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা

    পটুয়াখালীতে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার ১৫ দিন পর স্বামী ইলিয়াছ হোসেনকে (৩৫) গলাকেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী তানিয়া বেগমসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইলিয়াছকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের পল্লীবিদ্যুৎ সংলগ্ন স্বাধীনতা সড়ক এলাকার হাফেজ হাওলাদারের মেয়ে তানিয়া বেগমের সঙ্গে সদর উপজেলার টাউন জৈনকাঠির সেহাকাঠি গ্রামের নুরুল ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে ইলিয়াছের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। ইলিয়াস স্থানীয় বুড়িয়ার খেয়াঘাট এলাকায় মোবাইল ফোন সার্ভিসিং করেন।

    আহতের নিকটাত্মীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন জানান, ১৫দিন আগে মোবাইল ফোনে ছবি দেখাকে কেন্দ্র করে ইলিয়াছ ও তানিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তানিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের সন্তানকে থাপ্পর দিলে স্বামী রেগে তানিয়াকে মারধর করেন। বাড়ির লোকজন তাদের বুঝালেও তানিয়া রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যান। বৃহস্পতিবার সকালে ইলিয়াস তানিয়াকে আনতে শ্বশুরবাড়ি যান।

    ইলিয়াসের বরাত দিয়ে তার বড় বোন মাকসুদা বেগম জানান, দুপরের খাবার শেষে ঘুমন্ত অবস্থায় ইলিয়াছকে হত্যার জন্য স্ত্রী তানিয়া বেগম, শ্যালক মেহেদি, তানিয়ার বোন রানিসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন গলায় ছুড়ি দিয়ে পোচ দেয়। এ সময় চিৎকার দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বেরে হলে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অনিদ্র দাস গুপ্ত জানান, ইলিয়াছকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

    এদিকে স্ত্রী তানিয়া বেগম ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রাতে ইলিয়াসের বড় বোন মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • আল্লাহর দোহাই আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না : রাসেল

    আল্লাহর দোহাই আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না : রাসেল

    অনলাইন ডেস্ক:

    আল্লাহর দোহাই দিয়ে না মারার জন্য খুনিদের কাছে আর্তি জানিয়েছিলেন শেখ রাসেল। চিৎকার করে তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহর দোহাই আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না। বড় হয়ে আমি আপনাদের বাসায় কাজের ছেলে হিসেবে থাকবো। আমার হাসু আপা দুলাভাইয়ের সঙ্গে জার্মানিতে আছেন। আমি আপনাদের পায়ে পড়ি, দয়া করে আপনারা আমাকে জার্মানীতে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।’

    তবে সেদিন রাসেলের এই আর্তচিৎকারে খোদার আরশ কেঁপে উঠলেও টলাতে পারেনি খুনি পাষাণদের মন। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মত এই নিষ্পাপ শিশুকেও পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল।

    ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থে রাসেলকে এভাবেই নৃশংস হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন।

    তিনি তার গ্রন্থে লেখেন বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হত্যার পর রাসেল দৌড়ে নিচে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো বাড়ির কাজের লোকজনের কাছে আশ্রয় নেয়। রাসেলের দীর্ঘকাল দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা আবদুর রহমান রমা তখন রাসেলের হাত ধরে রেখেছিলেন।

    আবদুর রহমান শেখ রমা ঊনসত্তর সাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর পরিবারে কাজ করতেন, একাত্তরের ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার দায়ে যে মামলা করা হয় তার দ্বিতীয় সাক্ষী এই রমা।

    ওয়াজেদ মিয়া লেখেন, একটু পরেই একজন সৈন্য রাসেলকে বাড়ির বাইরে পাঠানোর কথা বলে রমার কাছ থেকে তাকে নিয়ে নেয়। রাসেল তখন ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে তাকে না মারার জন্য আল্লাহ’র দোহাই দেয়।

    রাসেলের এই মর্মস্পর্শী আর্তিতে একজন সৈন্যের মন গলায় সে তাকে বাড়ির গেটে সেন্ট্রিবক্সে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এর প্রায় আধ ঘণ্টা পর একজন মেজর সেখানে রাসেলকে দেখতে পেয়ে তাকে দোতলায় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় রিভলবারের গুলিতে হত্যা করে।

    পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালো রাতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় অবস্থান করা তার ব্যক্তিগত সহকারি আব্দুর রহমান শেখ রমাও তার সাক্ষ্যতে এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন রাসেল হত্যার। ভোররাতে ধানমন্ডির বাড়িটি আক্রান্ত হওয়ার দিনে যে ঘরে বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার বাইরের বারান্দায় ঘুমিয়েছিলেন শেখ রমা।

    শেখ রমা জানান, দোতলায় হত্যাযজ্ঞ শেষে শেখ রাসেল এবং তাকে যখন নীচে নিয়ে আসা হয়। তখন রাসেল বলছিলো: ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো? এরকম শিশুকে নিশ্চয়ই খুনিরা মারবে না আশায় মুহিতুল ইসলাম তাকে জড়িয়ে ধরে বলছিলেন: ‘না, ভাইয়া, তোমাকে মারবে না’। পরে রাসেল বলে, ‘আমি মায়ের কাছে যাবো।’

    পরে এক হাবিলদার শেখ রাসেলকে তার হাত ধরে দোতলায় নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর দোতলায় গুলি এবং সেখান থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ পাওয়া যায়। আর ওই হাবিলদার নীচে গেটের কাছে এসে মেজর আজিজ পাশাকে বলে: ‘স্যার, সব শেষ।’

    এর আগে আজিজ পাশা এবং রিসালদার মোসলেমউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর বেডরুমে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ জামাল, শেখ জামালের স্ত্রী এবং শেখ কামালের স্ত্রীকে হত্যা করে।

    শেখ রাসেলকে হত্যার আগে ঘাতকরা একে একে পরিবারের অন্য সদস্য বড় ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল, মা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব এবং বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু রহমানকে হত্যা করে।

    ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র দুরন্তপ্রাণ শেখ রাসেল এমন সময়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন যখন তার পিতার রাজনৈতিক জীবনকে দেখতে শুরু করেছিলেন মাত্র।

    ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

  • ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ঝালকাঠী প্রতিনিধি:

    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আরমান হোসেন (৭) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চেঁচরীরামপুর আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের সামনে দুর্ঘটনা ঘটে।

    আরমান কৈখালী বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফোরকান হাওলাদারের ছেলে। সে ওই কিন্ডারগার্টেনের প্রথম (নার্সারি) শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    ফোরকান হাওলাদার বলেন, সকালে মা আকলিয়া বেগমের সঙ্গে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় আরমান। স্কুলের সামনে পৌঁছার পর কৈখালী বাজার থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক তাকে চাপা দেয়। এতে মাথা ও বুকে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয় সে।

    তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরমানকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতেই ছাড়পত্র নিয়েছে আবরারের ভাই

    অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতেই ছাড়পত্র নিয়েছে আবরারের ভাই

     অনলাইন ডেস্ক:

    বড় ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর শোকে অসুস্থ হওয়া মায়ের পাশে থাকার জন্য

    কলেজ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ।

    মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা কলেজ থেকে ছাড়পত্র নেয়ার আগে করা আবেদনপত্রে কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করেন তিনি।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লেখা ছাড়পত্রের আবেদনে তিনি লেখেন, ‘যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক জানাচ্ছি যে, আমার ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর শোকে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আম্মুর পাশে থাকার জন্য আমার কলেজ থেকে ছাড়পত্রের প্রয়োজন। অতএব জনাবের নিকট বিনীত অনুরোধ আমাকে ছাড়পত্র প্রদান করে বাধিত করবেন।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য গঠিত নিবিড় পর্যবেক্ষণ কমিটির (নিপক) প্রধান সমন্বয়কারী ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর পুরঞ্জয় বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সহায়তার আশ্বাসের পরও শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্তের কারণে সে ছাড়পত্র নিয়েছে।’

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা কলেজ প্রশাসন আবরার ফাইয়াজের ব্যাপারে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। আমরা তার নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত ছিলাম। সে বাইরে থেকে ক্যাম্পাসে ক্লাসে আসতো। আমি তাকে হলে সিটের ব্যবস্থা করে দিতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকে সে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পড়ালেখা চালাতে পারতো। একপর্যায়ে সে ঢাকা কলেজেই পড়বে বলে কিছুটা মন স্থির করলেও পরে তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ছাড়পত্র নেয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।’

    যেকোনো ছাত্রের জন্য ঢাকা কলেজের পরিবেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ উল্লেখ করে অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘সে কুষ্টিয়ায় পড়ালেখা করলেও যে কোনো ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য তাকে আশ্বস্ত করেছি।’

    উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা কলেজে আসেন আবরার ফাইয়াজ। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বড় ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবার মুষড়ে পড়েছে। বাবা-মা চান না আমি তাদের ছেড়ে থাকি। তাই ঢাকা কলেজ ছাড়লাম। আবরার ফাইয়াজ ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন।

  • পটুয়াখালীতে নেশার টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী‌র মাথা ন্যাড়া করলো স্বামী

    পটুয়াখালীতে নেশার টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী‌র মাথা ন্যাড়া করলো স্বামী

    নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ঘ‌রে ঢু‌কে বকা দেয়ার প্র‌তিবাদ করায় তিনমা‌সের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী‌ প্রিয়াংকা কর্মকা‌রের হাত পা বেঁধে বেধড়ক মারধর ক‌রে‌ছে মাদকাসক্ত স্বামী তাপস হাওলাদার। এক পর্যা‌য়ে ঘ‌রের খু‌টির সা‌থে বেঁধে ধারাল বটি দি‌য়ে স্ত্রীর মাথার চুল কে‌টে দেয়। প‌রে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দে‌খি‌য়ে বাড়ীর পা‌শের সেলু‌নের দোকান থে‌কে লোক নি‌য়ে গোটা মাথার চুল কে‌টে দেয় পাষণ্ড স্বামী। এরপর ওই অবস্থায় স্ত্রী‌কে ঘরবন্দি ক‌রে রে‌খে পা‌লি‌য়ে যায় স্বামী তাপস।

    ঘটনার ৩০ঘন্টা পর বাড়ীর অন্য লোকজ‌নের সহায়তায় আজ বিকা‌লে স্ত্রী প্রিয়াংকা সেখান থে‌কে পা‌লি‌য়ে চ‌লে যায় উপ‌জেলার আদাব‌াড়িয়া ইউনিয়নের হা‌জির হাট এলাকার বা‌পের বাড়ী। পরবর্তীতে প্রিয়াংকার বাবা স্থানীয় জনপ্রতি‌নি‌ধি‌দের বিষয়‌টি জানা‌লে প্রকাশ পায় এ ঘটনা।

    ঘটনা‌টি ঘ‌টে‌ছে পটুয়াখালীর বাউফল উপ‌জেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। এব্যপা‌রে নির্যা‌তিত প্রিয়াংকার বাবা বাদী হ‌য়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নি‌চ্ছে ব‌লে জানা গে‌ছে। বর্তমা‌নে তারা থানায় অবস্থান কর‌ছেন।

    নির্যাত‌নের শিকার প্রিয়াংকার বাবা সু‌নিল কর্মকার জানান, ২০১২সা‌লের বৈশাখ মা‌সে উভয়প‌ক্ষের সম্মতি‌তে কালাইয়া এলাকার প্রিয়লাল মণ্ডলের ছে‌লে তাপ‌সের সা‌থে তার মে‌য়ে প্রিয়াংকার বি‌য়ে হয়। বি‌য়ের সময় রী‌তি‌রেওয়াজ অনুযায়ী যা যা দেয়ার তা সবই দেয়া হ‌য়ে‌ছিল তাপস‌কে। তি‌নি জানান, বি‌য়ের পর বেসরকারি এক‌টি প্রতিষ্ঠানে ‌কোমল পানিয় বিক্রয় প্র‌তি‌নি‌ধি হিসা‌বে চাকুরি ক‌রে আস‌ছি‌লেন। এরপর গত ছয়মাস ধ‌রে তাপস নেশাগ্রস্থ হ‌য়ে পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য প্রিয়াংকাকে মারধর করা শুরু হয়। প‌রে তাপস‌কে ক‌য়েক হাজার টাকাও দেয়া হ‌য়ে‌ছিল জানান সু‌নিল কর্মকার।

    প্রিয়াংকা জানান, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দি‌কে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ঘ‌রে ঢু‌কে অকথ্য ভাষায় গা‌লিগালাজ শুরু ক‌রে তার বাবার কাছ থে‌কে টাকা কেন আনা হয়‌নি তা নি‌য়ে শুরু ক‌রে উল্টাপাল্টা আচরণ। এতে প্র‌তিবাদ কর‌লে প্রিয়াংকার উপর মারধর শুরু ক‌রে। এক পর্যা‌য়ে হাত পা বেঁধে মারধর করে তার মাথার চুল বটি দি‌য়ে কে‌টে দেয়। প‌রে সেলুন থে‌কে লোক নি‌য়ে এসে মাথা কা‌মি‌য়ে দেয়।

    প্রিয়াংকা জানায়, টাকা না আনা পর্যন্ত এ অবস্থায় তা‌কে থাক‌তে ব‌লে হাত বাধা অবস্থায় ঘরবন্দি ক‌রে চ‌লে যায়। পরে আজ বিকা‌লে বাড়ীর অন্য লোকজন ঘ‌রে কৌশ‌লে ঘ‌রে ঢু‌কে প্রিয়াংকার হা‌তের বাধন খু‌লে দি‌লে সেখান থে‌কে পা‌লি‌য়ে আদাবা‌ড়িয়ার হা‌জিরহাট এলাকার বা‌পের বাড়ী চ‌লে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্র‌তি‌নি‌ধির কা‌ছে বিচার চে‌য়ে পু‌রো ঘটনা‌টি বর্ণনা ক‌রেন।
    এব্যাপারে জান‌তে চাইলে বাউফল থানার ওসি খোন্দকার মোস্তা‌ফিজুর রহমান জানান, অভিযুক্ত তাপস‌কে গ্রেপ্তারে সাড়াশি অভিযান চল‌ছে। খুব স্বল্প সম‌য়ের ম‌ধ্যেই তা‌কে গ্রেপ্তার কর‌তে সক্ষম হ‌বো

  • ২৫ হাজার টাকায় ধর্ষণ ধামাচাপা দিলেন বাবুগঞ্জের ওসি ও মেম্বাররা!

    ২৫ হাজার টাকায় ধর্ষণ ধামাচাপা দিলেন বাবুগঞ্জের ওসি ও মেম্বাররা!

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। যা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার এবং বিচার বিভাগ। কিন্তু সেই মুহুর্তে সালিশ মিমাংসার নামে ধামা চাপা দেয়া হয়েছে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা। থানা পুলিশ এবং স্থানীয় মেম্বাররা মিলে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে দুই সন্তানের জনক কর্তৃক ধর্ষিত অসহায় কিশোরীর ইজ্জত।

    ঘটনাটি প্রায় এক মাস পূর্বে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বুসারের পিঠ নামক গ্রামের জনবিচ্ছিন্ন এক চরে ঘটেছে। যা নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছে না এলাকার অসহায় মানুষগুলো। কেননা ধর্ষণের ঘটনা ধামা চাপা দেয়ার পেছনে খোদ থানার ওসি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ও বর্তমান তিন মেম্বারের সম্পৃক্ততার কারণে মুখ বুজে আছে গ্রামবাসি। তাছাড়া সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা এক যুবককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে।

    কিন্তু মেয়ে এবং তার পরিবারের অভিযোগ ও প্রকাশ্যে এতসব ঘটার পরেও কিছুই জানেন না বলে দাবী করেছেন অভিযুক্ত বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান। তার দাবী মেম্বাররা নিজেরা বাঁচতে পুলিশকে জড়াচ্ছে। আর অভিযুক্ত মেম্বাররা বলছেন যা কিছুই হয়েছে তার সব কিছু পুলিশের উপস্থিতিতেই হয়েছে।

    ধর্ষিতা ১৩ বছরের কিশোরী জানায়, ‘গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যে কোন বুধবার দুপুর দুইটার দিকের ঘটনা। কলস নিয়ে পানি আনতে ঘর থেকে বের হন কিশোরী। পথিমধ্যে ধান খেতে হালচাষে ব্যস্ত থাকা মুলাদী উপজেলার কাজীরচর এলাকার বাসিন্দা মৃত আর্শেদ হাওলাদারের ছেলে দুই সন্তানের জনক দুলাল হাওলাদার পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে তার পথরোধ করে।

    কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, ‘দুলাল পথরোধ করে পাশের পাট খেতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাত ধরে টানা হেচড়া করে। যেতে না চাইলে জোর করে কোলে তুলে পাঠ খেতের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। তখন কিশোরী চিৎকার দিলে পাশর্^বর্তী দুই যুবক ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে উদ্ধার করে।

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পরেই শুরু হয় ধামা চাপা দেয়ার প্রক্রিয়া। তবে মেয়ের অসহায় পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এমনকি বিচারের দাবি নিয়ে মেয়ের মা ওই দিন মেয়েকে নিয়ে বাবুগঞ্জ থানায়ও যান। সেখানে হাজির হন বাবুগঞ্জের রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বিএনপি নেতা জামাল হোসেন পুতুল, মুলাদীর কাজীরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর সেলিম হাওলাদার, তার মেয়ে জামাই বর্তমান মেম্বর ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম খান, মেয়ের চাচাত ভাই সেলিম হাওলাদার, স্থানীয় হারুন মাল ও নাসিরসহ বেশ কয়েকজন।

    মেয়ের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেনি। বরং আমাদের বিভিন্নভাবে ভয় ভিতি প্রদর্শন করে। ‘মামলা করলে কে চালাবে ? মামলা করলে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতাকেও জেলে যেতে হবে’ এ ধরনের অসংলগ্ন কথা বলেন ওসি এবং মেম্বাররা। তাদের এসব কথা শুনে আমরা ভিতু হয়ে পড়ি।

    এক পর্যায় বাবুগঞ্জ থানার ওসি ঘটনাটি ক্ষতিপূরনের মাধ্যমে মিমাংসা করে দিতে মেম্বার সহ স্থানীয়দের নির্দেশ দেন। এমনকি ক্ষতিপূরন বাবদ মেয়েকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে দেয়ার জন্যও মেম্বারদের নির্দেশনা দেন ওসি। কিন্তু ওসি’র বলে দেয়া ৫০ হাজার টাকা আমরা পাইনি। ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরন দিয়েছে। এমনকি তা ইসলামী ব্যাংক রহমতপুর শাখায় মেয়ের নামে একটি এফডিআর করে জমা দেয়া হয়েছে।

    মেয়ের বাবা-মা বলেন, ‘যে টাকা দিছে তা আমরা আমাদের হাত দিয়েও ধরিনি। যা করার মেম্বার এবং উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরাই করেছে। কিন্তু আমরা এই ক্ষতিপুরন চাইনি। আমরা চেয়েছি বিচার। এমনকি ক্ষতিপূরণ নয় বরং এই ঘটনায় আইনি বিচার দাবি করেছেন ধর্ষিতা কিশোরী।

    খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ধর্ষক দুলাল হাওলাদার মুলাদীর কাজীরচর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক এর ভায়রা। সেই সুবাদে আব্দুল মালেকের মেয়ে জামাই বর্তমান মেম্বার শামীম খানও ধর্ষকের আত্বীয়। তারা দু’জন বাবুগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জামাল হোসেন পুতুলকে সাথে নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামা চাপা দেন।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, ‘ঘটনাটি মাত্র ১০ হাজার টাকায় মিমাংসার চেষ্টা চলছিলো। কিন্তু আমি জানার পরে ক্ষতিপুরনের পরিমান ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি। এমনকি ওই টাকা মেয়ের নামে ৩ বছরের একটি এফডিআর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছি। এফডিআর’র জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে তাও আমার নিজের পকেট থেকে দিয়েছি।

    ধর্ষণ সালিশ যোগ্য অপরাধ নয় এমনটি স্বীকার করে পুতুল মেম্বার বলেন, ‘সালিশের বিষয়টি থানায় বসেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওসি সাহেব সব নিজেই বলেছেন এটি সামাধান করে দিতে। কিন্তু তিনি যে ক্ষতিপুরনের কথা বলেছেন সেটা আদায় করে দেয়া সম্ভব হতো না। কারন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে নিজেও গরিব। তাছাড়া মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আমি ধর্ষণের ঘটনার সালিশ করেছি। এটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আপনারা পারলে আমায় ধরেন।

    এদিকে ধর্ষক দুলালের ভায়রা সাবেক মেম্বার আব্দুল খালেক বলেন, ‘ওই ঘটনার কোন সালিশ হয়নি। এটি কোন ধর্ষণের ঘটনা না। দুলাল ধান খেতে চাষ করতে ছিলো। দুই ব্যক্তি তাকে ধান খেত থেকে ডেকে এনে মেয়ের পাশে দাড় করিয়ে ছবি তুলে মিথ্যা অপবাদ দেয়। এ খবর পেয়েই আমি সেখানে যাই।

    তিনি বলেন, আমি কোন অপরাধের পক্ষে নই। আমি ন্যায়ের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেছি সব সময়। তবে ধর্ষণের ঘটনাটি কেন টাকার বিনিময়ে ধামা চাপা দেয়া হলো এমন প্রশ্ন করা হলে কোন উত্তর না দিয়ে ব্যস্ততার কথা বলে পড়ে ফোন করবেন বলে এড়িয়ে যান সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক।

    অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি এই থানায় নতুন এসেছি। এলাকা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সবকিছু জানতেও পারিনি। তাছাড়া যে ধর্ষণের ঘটনার নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে ধরনের কোন অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। আর আসলে অবশ্যই আমি মামলা নিতাম। কেননা ধর্ষণ বড় অপরাধ। এখানে সালিশ মিমাংসার কোন সুযোগ নেই।

    মেম্বার পুতুলের দেয়া বক্তব্যের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ওসি বলেন, ‘হতে পারে মেম্বাররাই সালিশ করে ধামা চাপা দিয়েছে। এখন নিজেরা বাঁচতে পুলিশের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। কেননা আমি এই ঘটনা আদৌ শুনিনি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

    বাবুগঞ্জ থানা সূত্রে জানাগেছে, ‘বর্তমান অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বাবুগঞ্জ থানায় যোগদান করেছেন গত ২ সেপ্টেম্বর। আর ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তিনি যোগদানের কয়েক দিনের মাথায় ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। তাই ঘটনাটি অস্বীকার করার পেছনে ওসি’র ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে ওসি’র বক্তব্য নেয়ার পর পরই নিউজ থামাতে শুরু হয় লবিং-তদবির। বাবুগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিউজ না করার জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ান ওসি মিজানুর রহমান।

    এ বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই তার বিচার হবে। পুরো বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

  • বরিশালে বঙ্গবন্ধু কলোনি থেকে ১২ বছরের ছেলে নিখোজ

    বরিশালে বঙ্গবন্ধু কলোনি থেকে ১২ বছরের ছেলে নিখোজ

    তানজিম হোসাইন রাকিব:

    গতকাল (শুক্রবার) ১২ অক্টোবর চাদমারী মাদ্রাসা সড়ক বঙ্গবন্ধু কলোনি থেকে রাত ৮.৩০ মিনিটে ১২ বছরের এক শিশু নিখোজ হয়।

    শিশুটির নাম রিয়াজ হাওলাদার। পিতার নাম মনির হাওলাদার। মাতার নাম নাসিমা বেগম।

    নিখোজের সময় শিশুটির গায়ে ছিল নীল রং এর একটি শার্ট এবং কমলা কালারের একটি প্যান্ট। যদি কোনো ব্যাক্তি শিশুটির খোজ দিতে পারেন তাহলে তাকে পুরুষ্কিত করা হবে।

    যোগাযোগের ঠিকানা: চাদমারি মাদ্রাসা সড়ক, বঙ্গবন্ধু কলোনি, ১১ নং ওয়ার্ড, বিসিসি বরিশাল।

    মোবাইল: ০১৭৩৪-৫১০২৪৭