Category: নারী ও শিশু

  • বরিশালে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রবাসী নারীর মৃত্যু

    বরিশালে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রবাসী নারীর মৃত্যু

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশালে দুর্ঘটনায় কাতার প্রবাসী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বরিশাল নগরীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অটো রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লেগে কেয়া আক্তার (২১) নামের কাতার প্রবাসী ওই নারীর মৃত্যু হয়। নিহত নারী উপজেলার বাঘমারা গ্রামের সিদ্দিক বেপারীর কন্যা।

    নিহতের চাচি নুরজাহান বেগম জানান, কাতার প্রবাসী কেয়া আক্তার গত দেড় মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে সাতটার দিকে কেয়া তার খালার বাড়ি বাউরগাতী থেকে অটো রিকশাযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে অটো রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে তার গলায় ফাঁস লাগে।

    স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত আটটার দিকে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেওয়ান আব্দুস সালাম তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে ওই প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • পটুয়াখালী যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে দেওয়া হলো ‘বিক্রেতা’র জিম্মায়!

    পটুয়াখালী যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে দেওয়া হলো ‘বিক্রেতা’র জিম্মায়!

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::

    তখন বয়স ১১ বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। খালা একটি যৌনপল্লীতে বেচে দেন। প্রতি মাসে এসে বাবা টাকা নিয়ে যেতেন। গত মঙ্গলবার পালিয়ে উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ বাবার হাতেই তাকে তুলে দিয়েছে। কোনো মামলা হয়নি।

    ১৭ বছরের মেয়েটি জানায়, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় খালা কলাপাড়ার বাড়ি থেকে পটুয়াখালী শহরে নিয়ে আসেন। এখানে খালার ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল; কিন্তু মেয়েটিকে বেচে সদর রোডের পতিতাপল্লীর পাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এরপর দালাল এসে ওকে খালার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। দালাল পৌঁছে দেয় পল্লীর সর্দার লিপি বেগমের কাছে। শিশু অবস্থায়ই তাকে যৌন কর্মে বাধ্য করেন তিনি। এক বছর পর মেয়েটি পালিয়ে বাড়ি চলে যায়। তারপর মা-বাবা ওকে বিয়ে দেন। এক বছর স্বামীর সংসার করে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করলে বাবার বাড়ি ফিরে যেতে চায়; কিন্তু ওখানে ঠাঁই পায়নি। একপর্যায়ে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হতাশ হয়ে আবার পল্লীতে ফিরে আসে।

    এদিকে মেয়ে পল্লীতে চলে গেছে—এ খবর পেয়ে ওর বাবা প্রতি মাসে এসে ওর কাছ থেকে আট থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যেতেন। এদিকে এই কাজে চরম অনীহা চলে আসে মেয়েটির। গত মঙ্গলবার রাতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেখতে যাবে বলে পল্লী থেকে বের হয়। সর্দারনি ওর সঙ্গে একজন রক্ষী দিয়ে দেন। সুযোগ বুঝে সে রাত ৯টায় লঞ্চঘাটের উদ্দেশে একটি রিকশা নিয়ে চলে যায়।

    এদিকে ওকে না পেয়ে রক্ষী তাকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায় গিয়ে তাকে ধরে ফেলে। আর পল্লীতে ফিরবে না বলে রক্ষীকে জানায়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। লোকজন এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ওর খালা, বাবা কিংবা ওই সর্দারনির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি, বরং পরিবারকে খবর দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাবা ও চাচার হাতে তুলে দেয়।

    পটুয়াখালী সদর থানার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ওকে পল্লীতে বিক্রির জন্য যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পরিবার ব্যবস্থা নেবে কি না, সে ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে আইনের সহায়তা চাইলে আমরা দেব।’

  • বরগুনায় মাকে রক্ত দেয়ার কথা বলে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ

    বরগুনায় মাকে রক্ত দেয়ার কথা বলে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ

    বরগুনা প্রতিনিধি ::

    বরগুনা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক ছাত্রীকে মাকে রক্ত দেয়ার কথা বলে বরিশালে আবাসিক হোটেল কক্ষে একাধিকবার ধর্ষণ করে জসিম নামের এক যুবক। ধর্ষণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই ধর্ষকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন।

    বৃহস্পতিবার ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ হাফিজুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে এজাহার রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আসামি হল বরগুনা জেলাধীন পাথরঘাটা উপজেলার বটতলা নাচনাপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ওই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন। তার মেয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে লেখাপড়া করে। কলেজে যাওয়া-আসার পথে ওই আসামি জসিমের সঙ্গে পরিচয় হয়ে প্রেমের সম্পর্ক হয়। জসিম তার মেয়েকে বলে তার মা (জসিমের মা) বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তাকে এখনই রক্ত দিতে হবে। জসিম তার মেয়ের কাছে রক্তের গ্রুপ জানতে চায়। জসিম তার মেয়েকে বলে তোমার এবং আমার মায়ের রক্তের গ্রুপ এক। বরিশাল কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। জসিম বাদীর মেয়েকে বলে তার মাকে বাঁচাতে হলে এখনই বরিশাল যেতে হবে। জসিম বাদীর মেয়েকে নিয়ে ২ আগস্ট বরিশাল যায়। জসিম তার মেয়েকে নিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য প্রথমে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠে। ওই দিন জসিম একাধিকবার ধর্ষণ করে।

  • ঝালকাঠিতে যুবতীর মাথাকাঁটা লাশ উদ্ধার

    ঝালকাঠিতে যুবতীর মাথাকাঁটা লাশ উদ্ধার

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::

    ঝালকাঠির নলছিটিতে অজ্ঞাত এক যুবতীর (২০) মাথা কাঁটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার বহরমপুর এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    জানা গেছে, স্থানীয় এক যুবক নদীতে লাশটি ভাসতে দেখে ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    এ বিষয়ে নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল হালিম তালুকদার জানান, ১০-১২ দিন আগে এই যুবতীর মাথা কেটে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পায়ে একটি নুপুর রয়েছে।

    লাশটি উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে বলেও জানান তিনি।

  • আবরারের ভাবিকে টানাহেঁচড়া ও পিটিয়ে জখম করল পুলিশ

    আবরারের ভাবিকে টানাহেঁচড়া ও পিটিয়ে জখম করল পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক :

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজকে

    পুলিশ মারধর করে এবং আবরারের মামাতো ভাবি তমাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ করে আবরারের পরিবার। তাকে কুমারখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ সব ঘটনা ঘটে।

    আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ বলেন, পুলিশ আমার গায়ে হাত দিয়েছে। বুকে গুতো মেরেছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান নিজে আমাকে মেরেছে। আমার এক ভাইকে পিটিয়ে মেরেছে, এবার পুলিশ কী আমাকে মারবে?

    আহত অবস্থায় ফাইয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, আমি ভিসি স্যারের নিকট জানতে চাইলাম আমার ভাইয়ার খুনিদের এখনও কেন বহিষ্কার করা হয়নি। এ সময় তিনি নীরব ছিলেন, আমি আমার ভাইয়ের হত্যা সম্পর্কে আরও প্রশ্ন করতেই তিনি কোনো জবাব না দিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যাওয়ার মুহূর্তে অতিরিক্ত পুলিশ সপুার মোস্তাফিজুর রহমান আমার বুকের উপর হাত দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন। এতে আমি মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছি।

    তিনি বলেন, আমার মামাতো ভাবিকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং এলাকাবাসীকে ধরপাকর করা হবে বলে পুলিশ হুমকি প্রদর্শন করায় আমরা আতংকে আছি।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ফাইয়াজ বলেন, আমার ভাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে আর আমাদের পুলিশ হুমকি দিচ্ছে। প্রয়োজনে আমিও জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

    অন্যদিকে বুয়েটের ভিসি কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নিহত আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ।তিনি বলেন, ভিসি মহোদয় সম্মানীয় ব্যক্তি তিনি আমার বাড়ির দরজায় এসে ঘরে না ঢুকে কেন চলে গেলেন। তিনি কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আমার ছেলের লাশ দেখাতো দূরের কথা ছেলের জানাজা নামাজেও শরীক না হয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, আমরা এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ। ভিসি মহোদয় বাড়িতে আসবেন শুনে এলাকাবাসী দারুন খুশি হয়েছিল। এলাকাবাসী ভিসির নিকট ফাহাদের খুনিদের শাস্তির দাবি জানাতে বাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। সেখানে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিল তার পরও তিনি আমার সঙ্গে ও ফাহাদের মায়ের সঙ্গে দেখা না করে চলে গেলেন এতে আমার পরিবার দারুণভাবে মর্মাহত।

    ফাহাদের পিতা বলেন, ভিসি চলে যাওয়ার পর কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আমার ছেলে আবরার ফাইয়াজের বুকে আঘাত করেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ফাহাদের মামাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে পুলিশ নির্দয়ভাবে প্রহার করে আহত করেছে।

  • বরিশাল-ঢাকা রুটে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটের টিকিট কেটেও সিট পেল না শিশু

    বরিশাল-ঢাকা রুটে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটের টিকিট কেটেও সিট পেল না শিশু

    অনলাইন ডেস্ক ::

    ফ্লাইটের টিকিট কাটার পরও আসন না দেওয়ায় একটি শিশুকে কোলে করে ঢাকা পর্যন্ত আসতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা-বরিশাল রুটে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে।

    এ ঘটনায় রবিবার (৬ অক্টোবর) শিশুটির নানা তৈয়বুর রহমান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    তৈয়বুর রহমান বলেন, ৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে বরিশাল আসেন। তার ও মেয়ের টিকিট ভাড়া নেওয়া হয় ২৭০০ করে এবং নাতি আয়ানের ভাড়া নেয় ২১০০ টাকা। কিন্তু টিকিট নেওয়া হলেও তার নাতিকে কোনো সিট দেওয়া হয়নি। এ কারণে পুরো পথ তাকে কোলে করে আনতে হয়েছে।

    লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক শাহ সোয়াইব হোসেন।

    এ ব্যাপারে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বরিশাল অফিস প্রধান (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) রিয়াদ হোসেন বলেন, শিশুটির সিট পাওয়ার কথা ছিল। কেন তাকে সিট দেওয়া হয়নি না কি সিট দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে বসেনি বিষয়টি ওই ফ্লাইটের সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবেন। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে যাত্রীর উচিত ছিল ফ্লাইট থেকে নেমেই তাদের এয়ারপোর্ট কার্যালয়ে অবহিত করা।

  • বরিশালে শিশু দিবস উদযাপন

    বরিশালে শিশু দিবস উদযাপন

    রাতুল হোসাইন রায়হান:

    জন্ম সনদ শিশুর অধিকার বাস্তবায়নে দায়িত্ব সবার এই শ্লোগান নিয়ে আজ ৭ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯ টায় বরিশাল জেলা প্রশাসন বরিশাল ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বরিশাল শাখার আয়োজনে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) সহযোগিতায় দিবসটি উদযাপন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে নগরীর সার্কিট হাউজ চত্বরে জেলা প্রশাসক এস.এম.অজিয়র রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে বিশ্ব শিশু দিবস ২০১৯ উপলক্ষে শিশু শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন। সেখান থেকে বর্ণাঢ্য এক র‌্যালি বের হযে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়।

    শিশু শোভাযাত্রার উদ্বোধক ছিলেন জেলা প্রশাসক এস.এম.অজিয়র রহমান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌইিদুজ্জামান পাভেল, বরিশাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নাইমুল হক, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা পঙ্কজ রায় চৌধুরী, বরিশাল ইউনিসেফের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী তৌফিক আহমেদ, বরিশাল আ’লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ হোসেন চৌধুরী, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজসহ এনসিটিএফ বরিশাল এর সদস্যরা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সুধীজন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পেছালো রিশা হত্যা মামলার রায়

    পেছালো রিশা হত্যা মামলার রায়

    রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল আজ। কিন্তু একমাত্র আসামি ওবায়দুল হককে (৩০) পুলিশ আদালতে হাজির করতে না পারায় আগামী ১০ অক্টোবর নতুন তারিখ ঘোষণা করেছেন আদালত।

    ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ তারিখ ধার্য করেন বলে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
    তিনি বলেন, রোববার (৬ অক্টোবর) রিশা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন ছিল। কিন্তু পুলিশ আসামি ওবায়দুলকে আদালতে হাজির না করায় বিচারক পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

    এর আগে দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর আজ (৬ অক্টোবর) রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। আসামির উপস্থিতে এ রায় ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল।

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুরে রিশাকে স্কুলের সামনের ওভার ব্রিজে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় খুনি ওবায়দুল। পরে রিশাকে হাসপাতালে নিলে চারদিন পর তার মৃত্যু হয়। রিশা ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো।

    পরে রিশার মা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুল হককে (৩০) নীলফামারি থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি রাজধানীর রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লিকা শপিংমলে বৈশাখী টেইলার্স নামের একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সে পোশাক বানাতে দেয় রিশা। ওই টেইলার্সের রসিদে বাসার ঠিকানা ও তার মায়ের মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। সেখান থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল খান (২৯) রিশাকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। পরে ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দিলে স্কুলে যাওয়ার পথে রিশাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে সে। এ নিয়ে অনেকবার রিশার মা ওবায়দুলকে সতর্ক করে। কিন্তু, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল।

    মামলার তদন্ত শেষে রমনা থানার পরিদর্শক আলী হোসেন ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে রিশার চারজন সহপাঠীসহ ২৬ জনকে স্বাক্ষী করা হয়।

    ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল আদালত অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। বাদীপক্ষের ২৬ স্বাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর মামলার দিন ধার্য করেন আদালত।

  • ঢাবিতে চান্স পাওয়া সেই যমজ ২ বোনের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

    ঢাবিতে চান্স পাওয়া সেই যমজ ২ বোনের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

    অনলাইন ডেস্ক ::

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চান্স পাওয়া যমজ দুই বোন সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়ার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশীদ।

    শনিবার দুপুরে সার্কিট হাউসে মেধাবী ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলে পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দেন ডিসি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, মোহাম্মাদ শাহজাহান, রাহাত উজ্জামান, শিক্ষার্থীদের মা শাহিদা বেগম ও কাউন্সিলর মোল্লা নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

    একই সঙ্গে ওই দুই শিক্ষার্থীকে দুটি মোবাইল ফোন উপহার দিয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন।

    সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, বাগেরহাটে এরকম দুই মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে বিষয়টি জানতে পেরে সকালেই তাদের বাড়ি যাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়কে বিষয়টি জানাই। দুই শিক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে বলেছেন এমপি তন্ময়।

    দুই শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষও মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। তাই দুই শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য আমরা জেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করব। পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হবে তারা।

    দুই শিক্ষার্থীর মা শাহিদা বেগম বলেন, অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যে দুই মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওরা পড়ালেখা করতে চায়। ওরা সুযোগ পেয়েছে আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যাক। তবে আমার যে সামর্থ্য তাতে দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো অনেক কষ্টের। দুই মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর অনেক চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় এখন একটু ভারমুক্ত হয়েছি।

    সুমাইয়া বলেন, শৈশব থেকেই দরিদ্রতার মধ্যে বেড়ে উঠেছি আমরা। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত আমরা টিউশনি করিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছি। স্বপ্ন দেখেছি যেন আমরা দুই বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারি। সে স্বপ্ন আমাদের পূরণ হয়েছে।

    সুরাইয়া বলেন, ঢাবিতে সুযোগ পাওয়ার পর একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল মনের মধ্যে। ডিসি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র মহোদয়সহ অনেকের সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সবার কাছে দোয়া চাই। যাতে ভালো লেখাপড়া করে দেশের সেবা করতে পারি আমরা।

    প্রসঙ্গত, বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিণখানা এলাকার দিনমজুর বাবা মহিদুল হাওলাদারের যমজ মেয়ে সুরাইয়া ও সুমাইয়া। অর্থাভাবে টিউশনি করিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছেন তারা।

    এরপরও মাধ্যমিকে বাণিজ্য বিভাগে সুরাইয়া ৪.৮৬, সুমাইয়া ৪.৯১ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে দুই বোনই গোল্ডেন এ-প্লাস পান। ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় গ-ইউনিটে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (গ-ইউনিট) বাণিজ্য অনুষদে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার মেধাক্রম ১১৬৩। ঢাবিতে তাদের ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

  • ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে চিন্তায় পড়েছেন জমজ দুই বোন

    ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে চিন্তায় পড়েছেন জমজ দুই বোন

    সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া। তারা জমজ বোন। দুজনেই মাধ্যমিকে পেয়েছেন এ প্লাস। উচ্চ মাধ্যমিকে পেয়েছেন গোল্ডেন এ প্লাস। এখন সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে পড়ার।

    দিনমজুর বাবা মহিদুল হাওলাদার আর গৃহিণী মা শাহিদা বেগমের জমজ এ সন্তান প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেলেও ভর্তিসহ পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ নেই তাদের। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ মিললেও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে স্বপ্ন পূরণের। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক সমস্যাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (গ ইউনিট) বাণিজ্য অনুষদে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার মেধাক্রম ১১৬৩। বাগেরহাট জেলা সদরের পৌরসভার হরিণখানা গ্রামে বেড়ে ওঠা তাদের। তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

    সুমাইয়া ও সুরাইয়া বলেন, শৈশব থেকেই দারিদ্রতার মধ্যে বেড়ে উঠেছি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত আমরা টিউশনি করিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছি। স্বপ্ন দেখেছি যেন আমরা দুই বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারি।

    তাদের মা শাহিদা বেগম বলেন, অর্থনৈতিক দৈনদশার মধ্যে দুই মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওরা পড়ালেখা করতে চায়। ওরা সুযোগ পেয়েছে আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যাক। তবে আমার যে সামর্থ্য তাতে দুইজনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো অনেক কষ্ট। তারপরও চেষ্টা করছি সকলের সাহায্য নিয়ে যদি দুজনকে ভর্তি করতে পারি। তাহলে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবে ওরা।

    দুই বোনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে পারছি না আমরা। এ কারণে পরিবারের সবাই চিন্তাই আছি।

    ভর্তি প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেছেন ইউসুফ আলী শিমুল। শিমুল বলেন, ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবার পর তাদের বাড়িতে প্রথম যখন গেছি আমার কান্না পাচ্ছিলোবাড়ির অবস্থা দেখে। ভাবছিলাম এমন অসচ্ছল পরিবার থেকে সৃষ্টিকর্তার রহমত আর ওদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা ছাড়া প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশব্বিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া সম্ভব না।

    আমি অদের কিছুদিন গাইড দেবার সুযোগ পেয়ে নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমার চাওয়া টাকার অভাবে যেন এমন মেধাবীদের স্বপ্ন পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই দুই বোনের স্বপ্ন পূরণ হবে।

    তাদের বিষয়ে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রইস সরদার বলেন, মেয়ে দুটি খুবই মেধাবি। অত্যন্ত গরিব পরিবারের তারা। ওদের বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কেউ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো তারা লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে পারবে।