Category: প্রচ্ছদ

  • মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত মেয়র সাদিক, ইট ভাঙ্গার ভিডিও ভাইরাল

    মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত মেয়র সাদিক, ইট ভাঙ্গার ভিডিও ভাইরাল

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ

    চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনা এবং নদনদীর পানি নগরীর নিম্নঅঞ্চল এলাকা গুলোতে প্রবেশ করলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।দুই মিলে নগর উন্নানয়ন ধমকে ছিলো। করোনার মধ্যেও সড়ক সংস্কারে কাজের মান নিশ্চত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন’র মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ।

    সংস্কার কাজের ঢালাইয়ের আগে তিনি হাতুড়ি দিয়ে লেবারের ভুমিকায় ইট ভাঙ্গতে দেখা যায়। সব ঠিক আছে কিনা সরেজমিনে যাচাই বাচাই করেন।

    ফেসবুক লাইভে মেয়র বলেন, পাঁচ বছরের গ্যারান্টিতে নগরীর সকল রাস্তা সংস্কার করা হবে।অফিসের অযোগ্য কিছু কর্মকর্তার গাফলতি কারনে প্রোজেক্ট নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। অচিরে তার সমস্যা সমাধান হবে তিনি ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরও বলেন, নিজে দুর্নীতি করি না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। এছাড়াও বৃষ্টি কমলে ভাঙ্গাচুরা রাস্তা সংস্কার কাজে হাত দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

    সড়কে হাতুড়ি হাতে ইট ভাঙ্গা দেখে সিটি মেয়রের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যাম ফেসবুকে প্রকাশ হলে নগরবাসীর মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকেই সড়কের কাজের মান নিশ্চিত করতে তার এ সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

    তিনি গতকাল বিকালে বান্দরোড এলাকার সড়কের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন। এবারও সড়কে ব্যবহৃত ইট নিজেই ভেঙে পরীক্ষা করে আলোচনায় আসাসহ যোগাযোগ মাধ্যামেও তাকে নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা ভাসছেন।

    একজন মেয়র হয়ে শ্রমিকদের বেশে হাতুরি দিয়ে ইট ভাঙ্গা শুধু মাত্র একজন সাদিকের দ্বারাই সম্ভব। দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এক একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জনগনের কাছে দিয়ে রাখছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। সত্যি তুমি মহান মেয়র সাদিক।

  • মহানুভবতার অনন্য উদাহারন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

    মহানুভবতার অনন্য উদাহারন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

    মানুষ মানুষের জন্য। যুগে যুগে মানুষের প্রয়োজনে মানুষই পাশে দাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছেন যারা নিজেদের শেষটুকো দিয়ে হলেও মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কোন বাধাই তাদের কে থামাতে পারেনি। তারা সকল বাধা অতিক্রম করে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করেছেন। ফলে আজও তারা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন এবং আজীবন বেঁচে থাকবেন।
    নদীঘেরা এই বরিশাল অঞ্চলেও এমন অনেক মহান মানুষ রয়েছেন যারা পুরোটা জীবন মানুষের পাশে থেকে কাটিয়েছেন।। যখনই কোন মানুষের বিপদের কথা শুনেছেন তখনই তার কাছে ছুটে গিয়েছেন। তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন।

    যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা বিপর্যয়ে এ অঞ্চলের মানুষের অপূরনীয় ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি মোকাবিলা করে উঠে দাড়াতে দাড়াতে আবারো কোন না কোন বিপর্যয় তাদের উপর আঘাত হানে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বছরের বেশীরভাগ সময়ই জীবনযুদ্ধে কেটে যায়। স্বাভাবিক জীবনে টিকে থাকার জন্য অনবরত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। একদিকে যেমন বন্যায় ফসলাদি নষ্ট হয়, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ডুবে যায় অন্যদিকে সাইক্লোন ঘূর্নিঝর বসবাসের জায়গাটুকো কেড়ে নেয়। যুগে যুগে যখনই এই অসহায় দরিদ্র মানুষগুলো কোন বিপদের সম্মুখিন হয়েছে তখনই এ অঞ্চলের কেউ না কেউ তাদের পাশে দাড়িয়েছেন। তাদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন, ঘরবাড়ি তৈরী করার জিনিসপত্র দিয়েছেন, সর্বপরি তাদের উঠে দাড়াতে সাহায্য করেছেন।

    সময়ের পরিবর্তনে বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে পুরো দেশের সাথে সাথে বরিশালের পরিস্থিতিরও অনেক উন্নতি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা সহ সর্বদিকে উন্নতি হয়। বরিশালবাসী নতুন দিনের স্বপ্নে দিন যাপন করছিল। একদিকে পায়রা সমুদ্র বন্দর, রেল লাইন, আইটি পার্ক সবকিছু মিলে নতুন এক বরিশালের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল।

    কিন্তু হঠাৎ করে করোনা ভাইরাসের আক্রমনে সারা বিশ্বের মত এ অঞ্চলের মানুষেরও সাধারন জীবন যাপন থেমে যায়। লকডাউনের কারনে কর্মহীন অবস্থায় ঘরে দিন কাটাতে হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পরে দিনমজুর মানুষগুলো। যাদের সঞ্চয় বলতে প্রতিদিনের কাজই সম্বল। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধাবদি শ্রমদিয়ে মজুরী হিসাবে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালায়। কিন্তু করোনার কারনে তাদের দৈনিক রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকাটাই বড় কঠিন হয়ে পরে।
    এমন দুঃসময়ে শুধু বরিশাল নয় বরং সারা বাংলাদেশের কোন মানুষ যাতে খাদ্যর অভাবে না ভোগে সে জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মহামারীর শুরু থেকেই সারা বাংলাদেশ ব্যাপী অসহায়, দুস্থ মানুষের জন্য বিভিন্ন খাদ্য সহযোগিতা, রেশন কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুসারে ১০ টাকা কেজী ধরে চাল , আর্থিক সহযোগিতা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিত্তবানদের সাধারন মানুষের পাশে দাড়ানেরা জন্য অনুরোধ করেছেন।

    সরকারের আমন্ত্রনে করোনার প্রাদূর্ভাবের প্রথম দিকে কিছু মানুষ সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহযোগিতার হাত বাড়ালেও সময়ের সাথে তাদের অনেকেই থেমে গেছেন। হারিয়ে গেছেন কোন অজানা ঠিকানায়। কিন্তু সবাই থেমে গেলেও সারা বাংলাদেশ ব্যাপী সরকারি খাদ্য সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে। তবে একা সরকারের পক্ষে কোটি কোটি মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তারপরও সরকার তার সাধ্যমত সাহায্য, সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কিন্তু সারা বাংলাদেশের তুলনায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখো গেছে। এখানে করোনা মহামারীর প্রথমদিন থেকেই সরকারের পাশাপাশি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র জননেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অসহায় দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি নিজ উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই খাদ্য সহযোগিতা প্রদান করছেন এবং তিনি ঘোষনা দিয়েছেন, যতদিন কেরানা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন পর্যন্ত তার এই সহযোতিা অব্যহত থাকবে। তাই প্রতি রাতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, মহানগর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিবৃন্দ মেয়রের পাঠানো খাদ্য সহায়তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দিচ্ছেন।

    এরই মধ্যে গত ০৭ জুন, ২০২০ বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পরম প্রিয় মাতা, বরিশাল রাজনৈতিক অঙ্গনের ছায়া, শহীদ জননী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। যার মৃত্যুতে সমস্ত বরিশালে শোকের ছায়া নেমে আসে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেন বিসিসি মেয়র ও তার পরিবার। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। মা হারানোর শোকে নিস্তব্দ হয়ে পরেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কোন অবস্থাতেই তিনি স্বাভাবিক হতে পারছিলেননা। ঘরে বসে একা একা মায়ের জন্য কাদতেন আর বলতেন,“মা তুমি কোথায় গেলে”, বুকের ভিতর এত কষ্ট কেন ???।সবকিছু যেন থমকে গিয়েছিল। কেউই তার এই শোককে স্বাভাবিক করতে পারছেনা। এমন পরিস্থিতিতে তার সহধর্মীনি, বাচ্চারা আমিরিকা থাকায় তাকে কোন ভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিলনা।

    কিন্তু এত শোকের মধ্যেও তিনি তার বরিশালবাসীর কথা ভুলে যাননি। ভুলে যাননি করোনায় অসহায় মানুষগুলোর কথা। ফলে যারা মেয়রের খাদ্য সহযোগিতা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনভাবেই যেন একদিনের জন্যও এই খাদ্য সহযোগিতা থেমে না থাকে। যেভাবে প্রতিদিন ট্রাকে ভরে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে খাদ্য সহায়তা পৌছে যেত ঠিক একই ভাবে যেন চলমান থাকে। ফলে বর্তমানে প্রায় সবার সহযোগিতা থেমে গেলেও আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি মেয়রের খাদ্য সহায়তা । আজও প্রতি রাতে ট্রাক ভরে ভরে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেয়রের খাদ্য সহায়তা পৌছে যাচ্ছে।

    গতকাল বিসিসি মেয়রের বাসায় গিয়ে দেখাযায় পাঁচ হাজার ব্যাগ খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আরো নতুন করে চাল, ডাল, আলু,পিয়াজ, সাবান ইত্যাদি আনা হচ্ছে। বিসিসি মেয়রের বিশ্বস্ত সূত্রমতে, ইতোমধ্যে পঁচাশী হাজার ব্যাগ খাদ্য সহায়তা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছে দেয়া হয়েছে এবং আরো প্রায় বিশ হাজার ব্যাগ নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তহবিল প্রসঙ্গে বলেন, বিসিসি মেয়র নিজের দুই বছরের সম্মানী ভাতা পয়ত্রিশ লাখ (৩৫,০০,০০০) টাকা, সিটি কর্পোরেশনের তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ, এবং তার নিজ উদ্যোগে গঠিত ত্রান তহবিল থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার খাদ্য সহায়তা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌছে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বরিশালবাসী আমাকে, আমার পরিবার কে যে ভালবাসা দিয়েছে, আমি তার সামান্য প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করছি মাত্র। আমি এই দূর্যোগ মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া এই বরিশাল নগরী এবং বরিশালবাসী যাতে ভাল থাকতে পারে আমি প্রতিনিয় সেই চেষ্টা করছি। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার মা-বাবার জন্য করবেন।

    সত্যিই মা হারানোর মতো এমন বেদনা বুকে নিয়ে সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করা মহানুভবতা অনন্য উধাহারন ব্যতীত আর কিছু নয়। তার এই মহানুভবতা তাকে বরিশালবাসীর হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরকারি সাহায্য এবং মেয়রের সাহায্য ব্যতীত এখন পর্যন্ত তারা আর কারো কোন সহায়তা পাননি। ইতোমধ্যে তারা একাধিকবার মেয়রের খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। তারা মন দিয়ে মেয়রের জন্য দোয়া করেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের খ্রিষ্টান কলোনীর বাসিন্দা রতœা অধীকারী বলেন, সরকারি সাহায্য এবং মেয়রের সাহায্যের কারনে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। না হলে কিভাবে দিন কাটাতাম ভাবতে পারছিনা। সবাই ঘরে বসে আছি, কোন আয় রোজগার নাই। ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, মেয়র ছাড়া আর কেউ তাদের কোন খোজ নেয়নি। ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির হাওলাদার বলেন, বাপ-মা সহ সাত জনের পরিবারে আমি একলা ইনকাম করি। ছোট একটা দোকান দিয়ে চলতাম। কিন্তু করোনায় কারনে আজ তিনমাস দোকান বন্ধ। মেয়রের ত্রান না পেলে না খেয়ে থাকা লাগত। অন্য কারো সহযোগিতা পেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলেন, সহযোগিতা তো দূরের কথা কাউকে চোখেও দেখিনি।

    অন্যদিকে করোনা মহামারীর মধ্যে হঠাৎ করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যন্য জায়গার মত বরিশালেও ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের নিয়ে কয়েকবার জরুরী বৈঠক করেন। নিজে কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে শহড়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছেন। কিন্তু নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় শহড়ের পানি নামতে পারছেনা। তাই জোয়ারের সময় পানি না নেমে উল্টো নদীর পানি শহড়ে ঢুকে শহড় তলিয়ে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় বরিশালবাসীর কাছে নতুন নয়। কিন্তু এই বিপর্যয়ের হাত থেকে শহড় কে বা নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য একজন মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তিনি হলেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এই বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, শহড়ের যে কয়টি পয়েন্ট দিয়ে পানি নদীতে প্রবাহিত হয় সেই পয়েন্টগুলো পরিষ্কার আছে কিন্ তা আমাদের মেয়রমহোদয় নিজে স্পীডবোডে গিয়ে তদারকি করছেন। এছাড়া তিনি রাতের বেলা শহড়ের যে সমস্ত রাস্তা পানিতে ডুবে আছে সেগুলো থেকে কিভাবে পানি অপশারন করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। কিন্তু চ্যানেলগুলো পরিষ্কার থাকলেও নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি নামছেনা। তবে আশাকরি নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে শহড় থেকেও পানি নেমে যাবে। তিনি সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তাদের বন্যার পরিস্থিতি সার্বক্ষনিক তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোন জায়গায় কোন ড্রেন বা খাল কোনভাবে বন্ধ হয়ে আছে কিনা তা পর্যবেক্ষনে নির্দেশ দিয়েছেন।

    এভাবেই নগরবাসীর পাশে সুখে দুখে জড়িয়ে আছেন বিসিসি মেয়র, মহানুভবতার অনন্য উদাহারন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • মহানুভবতার অনন্য উদাহারন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

    মহানুভবতার অনন্য উদাহারন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

    মানুষ মানুষের জন্য। যুগে যুগে মানুষের প্রয়োজনে মানুষই পাশে দাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছেন যারা নিজেদের শেষটুকো দিয়ে হলেও মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কোন বাধাই তাদের কে থামাতে পারেনি। তারা সকল বাধা অতিক্রম করে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করেছেন। ফলে আজও তারা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন এবং আজীবন বেঁচে থাকবেন।
    নদীঘেরা এই বরিশাল অঞ্চলেও এমন অনেক মহান মানুষ রয়েছেন যারা পুরোটা জীবন মানুষের পাশে থেকে কাটিয়েছেন।। যখনই কোন মানুষের বিপদের কথা শুনেছেন তখনই তার কাছে ছুটে গিয়েছেন। তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন।

    যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা বিপর্যয়ে এ অঞ্চলের মানুষের অপূরনীয় ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি মোকাবিলা করে উঠে দাড়াতে দাড়াতে আবারো কোন না কোন বিপর্যয় তাদের উপর আঘাত হানে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বছরের বেশীরভাগ সময়ই জীবনযুদ্ধে কেটে যায়। স্বাভাবিক জীবনে টিকে থাকার জন্য অনবরত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। একদিকে যেমন বন্যায় ফসলাদি নষ্ট হয়, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ডুবে যায় অন্যদিকে সাইক্লোন ঘূর্নিঝর বসবাসের জায়গাটুকো কেড়ে নেয়। যুগে যুগে যখনই এই অসহায় দরিদ্র মানুষগুলো কোন বিপদের সম্মুখিন হয়েছে তখনই এ অঞ্চলের কেউ না কেউ তাদের পাশে দাড়িয়েছেন। তাদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন, ঘরবাড়ি তৈরী করার জিনিসপত্র দিয়েছেন, সর্বপরি তাদের উঠে দাড়াতে সাহায্য করেছেন।

    সময়ের পরিবর্তনে বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে পুরো দেশের সাথে সাথে বরিশালের পরিস্থিতিরও অনেক উন্নতি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা সহ সর্বদিকে উন্নতি হয়। বরিশালবাসী নতুন দিনের স্বপ্নে দিন যাপন করছিল। একদিকে পায়রা সমুদ্র বন্দর, রেল লাইন, আইটি পার্ক সবকিছু মিলে নতুন এক বরিশালের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল।

    কিন্তু হঠাৎ করে করোনা ভাইরাসের আক্রমনে সারা বিশ্বের মত এ অঞ্চলের মানুষেরও সাধারন জীবন যাপন থেমে যায়। লকডাউনের কারনে কর্মহীন অবস্থায় ঘরে দিন কাটাতে হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পরে দিনমজুর মানুষগুলো। যাদের সঞ্চয় বলতে প্রতিদিনের কাজই সম্বল। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধাবদি শ্রমদিয়ে মজুরী হিসাবে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালায়। কিন্তু করোনার কারনে তাদের দৈনিক রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকাটাই বড় কঠিন হয়ে পরে।
    এমন দুঃসময়ে শুধু বরিশাল নয় বরং সারা বাংলাদেশের কোন মানুষ যাতে খাদ্যর অভাবে না ভোগে সে জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মহামারীর শুরু থেকেই সারা বাংলাদেশ ব্যাপী অসহায়, দুস্থ মানুষের জন্য বিভিন্ন খাদ্য সহযোগিতা, রেশন কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুসারে ১০ টাকা কেজী ধরে চাল , আর্থিক সহযোগিতা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিত্তবানদের সাধারন মানুষের পাশে দাড়ানেরা জন্য অনুরোধ করেছেন।

    সরকারের আমন্ত্রনে করোনার প্রাদূর্ভাবের প্রথম দিকে কিছু মানুষ সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহযোগিতার হাত বাড়ালেও সময়ের সাথে তাদের অনেকেই থেমে গেছেন। হারিয়ে গেছেন কোন অজানা ঠিকানায়। কিন্তু সবাই থেমে গেলেও সারা বাংলাদেশ ব্যাপী সরকারি খাদ্য সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে। তবে একা সরকারের পক্ষে কোটি কোটি মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তারপরও সরকার তার সাধ্যমত সাহায্য, সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কিন্তু সারা বাংলাদেশের তুলনায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখো গেছে। এখানে করোনা মহামারীর প্রথমদিন থেকেই সরকারের পাশাপাশি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র জননেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অসহায় দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি নিজ উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই খাদ্য সহযোগিতা প্রদান করছেন এবং তিনি ঘোষনা দিয়েছেন, যতদিন কেরানা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন পর্যন্ত তার এই সহযোতিা অব্যহত থাকবে। তাই প্রতি রাতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, মহানগর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিবৃন্দ মেয়রের পাঠানো খাদ্য সহায়তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দিচ্ছেন।

    এরই মধ্যে গত ০৭ জুন, ২০২০ বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পরম প্রিয় মাতা, বরিশাল রাজনৈতিক অঙ্গনের ছায়া, শহীদ জননী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। যার মৃত্যুতে সমস্ত বরিশালে শোকের ছায়া নেমে আসে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেন বিসিসি মেয়র ও তার পরিবার। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। মা হারানোর শোকে নিস্তব্দ হয়ে পরেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কোন অবস্থাতেই তিনি স্বাভাবিক হতে পারছিলেননা। ঘরে বসে একা একা মায়ের জন্য কাদতেন আর বলতেন,“মা তুমি কোথায় গেলে”, বুকের ভিতর এত কষ্ট কেন ???।সবকিছু যেন থমকে গিয়েছিল। কেউই তার এই শোককে স্বাভাবিক করতে পারছেনা। এমন পরিস্থিতিতে তার সহধর্মীনি, বাচ্চারা আমিরিকা থাকায় তাকে কোন ভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিলনা।

    কিন্তু এত শোকের মধ্যেও তিনি তার বরিশালবাসীর কথা ভুলে যাননি। ভুলে যাননি করোনায় অসহায় মানুষগুলোর কথা। ফলে যারা মেয়রের খাদ্য সহযোগিতা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনভাবেই যেন একদিনের জন্যও এই খাদ্য সহযোগিতা থেমে না থাকে। যেভাবে প্রতিদিন ট্রাকে ভরে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে খাদ্য সহায়তা পৌছে যেত ঠিক একই ভাবে যেন চলমান থাকে। ফলে বর্তমানে প্রায় সবার সহযোগিতা থেমে গেলেও আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি মেয়রের খাদ্য সহায়তা । আজও প্রতি রাতে ট্রাক ভরে ভরে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেয়রের খাদ্য সহায়তা পৌছে যাচ্ছে।

    গতকাল বিসিসি মেয়রের বাসায় গিয়ে দেখাযায় পাঁচ হাজার ব্যাগ খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আরো নতুন করে চাল, ডাল, আলু,পিয়াজ, সাবান ইত্যাদি আনা হচ্ছে। বিসিসি মেয়রের বিশ্বস্ত সূত্রমতে, ইতোমধ্যে পঁচাশী হাজার ব্যাগ খাদ্য সহায়তা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছে দেয়া হয়েছে এবং আরো প্রায় বিশ হাজার ব্যাগ নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তহবিল প্রসঙ্গে বলেন, বিসিসি মেয়র নিজের দুই বছরের সম্মানী ভাতা পয়ত্রিশ লাখ (৩৫,০০,০০০) টাকা, সিটি কর্পোরেশনের তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ, এবং তার নিজ উদ্যোগে গঠিত ত্রান তহবিল থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার খাদ্য সহায়তা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌছে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বরিশালবাসী আমাকে, আমার পরিবার কে যে ভালবাসা দিয়েছে, আমি তার সামান্য প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করছি মাত্র। আমি এই দূর্যোগ মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া এই বরিশাল নগরী এবং বরিশালবাসী যাতে ভাল থাকতে পারে আমি প্রতিনিয় সেই চেষ্টা করছি। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার মা-বাবার জন্য করবেন।

    সত্যিই মা হারানোর মতো এমন বেদনা বুকে নিয়ে সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করা মহানুভবতা অনন্য উধাহারন ব্যতীত আর কিছু নয়। তার এই মহানুভবতা তাকে বরিশালবাসীর হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরকারি সাহায্য এবং মেয়রের সাহায্য ব্যতীত এখন পর্যন্ত তারা আর কারো কোন সহায়তা পাননি। ইতোমধ্যে তারা একাধিকবার মেয়রের খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। তারা মন দিয়ে মেয়রের জন্য দোয়া করেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের খ্রিষ্টান কলোনীর বাসিন্দা রতœা অধীকারী বলেন, সরকারি সাহায্য এবং মেয়রের সাহায্যের কারনে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। না হলে কিভাবে দিন কাটাতাম ভাবতে পারছিনা। সবাই ঘরে বসে আছি, কোন আয় রোজগার নাই। ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, মেয়র ছাড়া আর কেউ তাদের কোন খোজ নেয়নি। ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির হাওলাদার বলেন, বাপ-মা সহ সাত জনের পরিবারে আমি একলা ইনকাম করি। ছোট একটা দোকান দিয়ে চলতাম। কিন্তু করোনায় কারনে আজ তিনমাস দোকান বন্ধ। মেয়রের ত্রান না পেলে না খেয়ে থাকা লাগত। অন্য কারো সহযোগিতা পেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলেন, সহযোগিতা তো দূরের কথা কাউকে চোখেও দেখিনি।

    অন্যদিকে করোনা মহামারীর মধ্যে হঠাৎ করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যন্য জায়গার মত বরিশালেও ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের নিয়ে কয়েকবার জরুরী বৈঠক করেন। নিজে কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে শহড়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছেন। কিন্তু নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় শহড়ের পানি নামতে পারছেনা। তাই জোয়ারের সময় পানি না নেমে উল্টো নদীর পানি শহড়ে ঢুকে শহড় তলিয়ে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় বরিশালবাসীর কাছে নতুন নয়। কিন্তু এই বিপর্যয়ের হাত থেকে শহড় কে বা নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য একজন মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তিনি হলেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এই বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, শহড়ের যে কয়টি পয়েন্ট দিয়ে পানি নদীতে প্রবাহিত হয় সেই পয়েন্টগুলো পরিষ্কার আছে কিন্ তা আমাদের মেয়রমহোদয় নিজে স্পীডবোডে গিয়ে তদারকি করছেন। এছাড়া তিনি রাতের বেলা শহড়ের যে সমস্ত রাস্তা পানিতে ডুবে আছে সেগুলো থেকে কিভাবে পানি অপশারন করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। কিন্তু চ্যানেলগুলো পরিষ্কার থাকলেও নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি নামছেনা। তবে আশাকরি নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে শহড় থেকেও পানি নেমে যাবে। তিনি সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তাদের বন্যার পরিস্থিতি সার্বক্ষনিক তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোন জায়গায় কোন ড্রেন বা খাল কোনভাবে বন্ধ হয়ে আছে কিনা তা পর্যবেক্ষনে নির্দেশ দিয়েছেন।

    এভাবেই নগরবাসীর পাশে সুখে দুখে জড়িয়ে আছেন বিসিসি মেয়র, মহানুভবতার অনন্য উদাহারন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ্’র শোক

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ্’র শোক

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ ১৮ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বশির আহম্মেদ এর বোন সুলতানা রাজিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

    তাঁর মৃত্যুতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

    মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

    ইতিহাসের মহামানব, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে- সেদিনের সেই কালরাতে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যরাসহ যারা ঘাতকের নির্মম বুলেটে প্রাণ হারিয়েছিলেন তাদের সবাইকে বিন¤্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

    শোকাবহ এই দিনটি জাতীয় শোক দিবসরূপে দেশ-বিদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাবগম্ভীর পরিবেশে প্রতিবছর পালিত হয়। কিন্তু এবার ‘করোনা ভাইরাস’ মহামারী আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশও আক্রান্ত। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সতর্কতার অংশ হিসেবে ‘জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ’ তথা ‘মুজিববর্ষ’, ‘গণহত্যা দিবস’, ‘স্বাধীনতা দিবস’, ‘বাংলা নববর্ষ’, ‘মুজিবনগর দিবস’, ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’, ‘৬ দফা দিবস’, ‘আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ এবং ’শেখ কামাল ও বঙ্গমাতার জন্মদিন’ পালন উপলক্ষে গৃহীত রাষ্ট্রীয় ও দলীয় অনুষ্ঠানাদি সীমিতকরণ বা স্থগিত করা হয়েছে। আশা করি সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশাবলি সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন এবং দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

    শোকের মাস আগস্টের ১৫ তারিখে দুনিয়ার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের শ্রেষ্ঠবন্ধু জাতির পিতাকে আমরা হারিয়েছি- যার জন্ম না হলে এই দেশ স্বাধীন হতো না এবং আজও আমরা পাকিস্তানের দাসত্বের নিগড়ে আবদ্ধ থাকতাম। বছর ঘুরে এবারের শোক দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে ফিরে এসেছে ভিন্নরূপে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ তথা ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে জাতির পিতার জীবন ও কর্মের গবেষণালব্ধ বহুবিধ দিক উন্মোচিত হওয়ায় তিনি আজ স্বমহিমায় প্রকাশিত। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে ’৯৬-এর আগে পর্যন্ত স্বৈরশাসকরা দেশে সর্বব্যাপী ভয়ের সংস্কৃতি বলবৎ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিল। সেসব অন্যায় ইতিহাসের সত্যের ¯্রােতে ভেসে গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে ‘আওয়ামী লীগ’, ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘বাংলাদেশ’ যে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত ও সমার্থক, আজ তা সবার কাছে সুস্পষ্ট। বঙ্গবন্ধু রচিত দুটি গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অমূল্য এই গ্রন্থদ্বয় প্রকাশ করায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। ইতিহাসের অনেক অজানা কথা এই বই দুটো থেকে আমরা জানতে পেরেছি।

    বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছি, এই পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য হয় নাই। একদিন বাংলার ভাগ্যনিয়ন্তা বাঙালিদেরই হতে হবে।’ সেই লক্ষ্য সামনে নিয়ে ’৪৮-এর ৪ জানুয়ারি প্রথমে ছাত্রলীগ, পরে ’৪৯-এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ’৪৮ ও ’৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট, ’৫৬-এর শাসনতন্ত্র, ’৬২-এর শিক্ষা ও ’৬৪-তে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ’৬৬-তে স্বায়ত্তশাসন-স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালির মুক্তিসনদ ৬ দফা দাবির ভিত্তিতে দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন। যা পরে ১১ দফা দাবির ভিত্তিতে ’৬৯-এ দেশব্যাপী প্রবল গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে সংগ্রামী ছাত্র-জনতা জাতির জনককে ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত করে এবং কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন। এভাবেই মহান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে বিশ^বাসীর কাছে প্রমাণ করেন তিনিই বাঙালির একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক নেতা। নির্বাচনের পর সামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে টালবাহানা শুরু করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ দলীয় জনপ্রতিনিধিদের আসন্ন সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতিপর্ব শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে ’৭১-এর ৩ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে জনপ্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠান; ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পার্লামেন্টারি পার্টি গঠন ও ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে শহীদ মিনারের পবিত্র বেদিতে দাঁড়িয়ে জনসাধারণকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও আসন্ন সংগ্রামের প্রস্তুতির নির্দেশনা প্রদান করেন। ৩ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১ মার্চ হোটেল পূর্বাণীতে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন প্রশ্নে যখন আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সভা চলছিল, তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের আকস্মিক বেতার ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন একতরফাভাবে স্থগিত ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা করেন। আসে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। যেদিন তিনি ভূবনবিখ্যাত ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। যে ভাষণ আজ বিশ^সভায় মর্যাদার আসনে আসীন। এর পর থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হতে থাকে এবং নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করে জাতীয় মুক্তির মোহনায় দাঁড় করান। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নীলনকশা অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করে বলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।’ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে হাতিয়ার তুলে নিয়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর আমরা মহত্তর বিজয় অর্জন করি এবং ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বিজয়ী বীরের বেশে বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। লন্ডন হয়ে দেশে ফেরার প্রাক্কালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্নে করেছিল, ‘আপনার দেশ তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।’ উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার দেশের মানুষ যদি থাকে, মাটি যদি থাকে, তা হলে এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই একদিন সুজলা, সুফলা, শস্যশ্যামলা সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।’ দুটি লক্ষ্য নিয়ে তিনি রাজনীতি করেছেন। এক. বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দুই. বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা। গর্ব করে বলতেন, ‘আমার বাংলা হবে রূপসী বাংলা, আমার বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলা, আমার বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড।’ আজ তিনি টুঙ্গিপাড়ার কবরে শায়িত। আর কোনোদিন তিনি আসবেন না। সেই দরদি কণ্ঠে বাঙালি জাতিকে ডাকবেন না ‘ভায়েরা আমার’ বলে।

    দেশ স্বাধীনের পর শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করেন। গোলাঘরে চাল নেই, ব্যাংকে টাকা নেই, বৈদেশিক মুদ্রা নেই। রাস্তা-ঘাট-পুল-কালভার্ট, রেল, প্লেন, স্টিমার কিছুই নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত। কিন্তু অতি তাড়াতাড়ি তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করেন। ভৈরব ব্রিজ, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ যেগুলো ধ্বংস করেছিল সেগুলো পুনর্নির্মাণ করেন। বঙ্গবন্ধুর একক প্রচেষ্টায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ’৭২-এর ১২ মার্চ বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ’৭২-এর ৭-৮ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু পুনরায় সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৭২-এর ৪ নভেম্বর মাত্র ৭ মাসে বিশে^র অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণয়ন করেন। জাতীয় সংসদের সফল নির্বাচন করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন। আজ যে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপিত হয়েছে, তারও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন ’৭৫-এ বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে। সেদিন আমি বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী ছিলাম। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করেছেন দু’ভাগে। প্রথম ভাগে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন এবং দ্বিতীয় ভাগে আর্থসামাজিক উন্নয়ন। ’৭৪-৭৫-এ বোরো মৌসুমে ২২ লাখ ৪৯ হাজার টন চাল উৎপাদিত হয়, যা ’৭৩-৭৪-এর চেয়ে ২৯ হাজার টন বেশি। বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডিসেম্বরে ঘোষণা দেবেন দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যে মুহূর্তে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বাভাবিক করলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দিলেন, ঠিক তখনই ঘাতকের নির্মম বুলেটে একাত্তরের পরাজিত শক্তি, বাংলার মীরজাফর বেইমানরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ওই সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান।

    বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বীকৃতি লাভ করে। বিশ্বসভায় বঙ্গবন্ধু শ্রদ্ধার আসনে সমাসীন হন। সে সময় বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে তন্মধ্যে অন্যতম- ‘কমনওয়েলথ অব নেশনস্’, ‘জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন’, ‘ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা’ ও ‘জাতিসংঘ’। এই ৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মেলন ও অধিবেশনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। প্রতিটি সম্মেলন ও অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ’৭২-এর ৬ ফেব্রুয়ারি ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রথম বিদেশ সফর। মুক্তিযুদ্ধের পরম মিত্র প্রতিবেশী ভারতের কলকাতা মহানগরীর ব্রিগেড ময়দানে ২০ লক্ষাধিক মানুষের গণমহাসমুদ্রে তিনি বক্তৃতা করেছিলেন। কলকাতার মানুষ সেদিন বাড়ি-ঘর ছেড়ে জনসভায় ছুটে এসেছিল। সভাশেষে রাজভবনে যখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়, তখন শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার জন্মদিন ১৭ মার্চ। আপনি সেদিন বাংলাদেশ সফরে আসবেন। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সফরের আগেই আমি চাই আপনার সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেবেন। শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী সম্মতি জানিয়েছিলেন। একই বছরের ১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের আরেক মিত্র দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর। মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের সার্বিক সমর্থন জুগিয়েছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। সেদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই কোসিগিন বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন এবং ক্রেমলিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগর্নি, সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল লিওনিদ ইলিচ ব্রেজনেভ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে গ্রোমিকো বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। এটি ছিল এক বিরল ঘটনা। ’৭৩-এর ৩ আগস্ট কানাডার রাজধানী অটোয়াতে ৩২টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় কমনওয়েলথ সম্মেলন। সব নেতার মাঝে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ’৭৪-এর ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের পরদিন তিনি ইসলামিক সম্মেলনে যান। লাহোর বিমানবন্দরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট চৌধুরী ফজলে এলাহী ও প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। সেদিন দেখেছি- যে দেশ মুক্তিযুদ্ধে আমার দেশের নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়ে ৩০ লক্ষাধিক মানুষ হত্যা করেছে- সেই দেশের মানুষ রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে সেøাগান তুলেছে ‘জিয়ে মুজিব জিয়ে মুজিব’, অর্থাৎ মুজিব জিন্দাবাদ, মুজিব জিন্দাবাদ বলে। লাহোরে এই সম্মেলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

    বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয় ’৭৫-এর ১৪ আগস্ট। প্রতিদিনের মতো সকালবেলা ধানম-ির ৩২ নম্বর, সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণভবনে যাই। দিনের কাজ শেষে দুপুরবেলা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একই টেবিলে বসে একসঙ্গে খেয়েছি। বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুর খাবার যেত। পরম শ্রদ্ধেয়া বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব- যিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জীবনসঙ্গী। সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে যিনি বঙ্গবন্ধুকে যতœ করে রাখতেন। নিজ হাতে রান্না করে বঙ্গবন্ধুকে খাওয়াতেন। খাবার শেষে বঙ্গবন্ধু বিশ্রাম নিলেন। এর পর গণভবনে নিজ কক্ষে বসলেন। বঙ্গবন্ধু প্রায় প্রতিদিন বিকালে মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে দৈনন্দিন রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতেন। একসঙ্গে চা পান করতেন। এর পর রাত ৯টায় স্বীয় বাসভবনে ফিরতেন। বঙ্গবন্ধুকে পৌঁছে দিয়ে আমি বাসায় ফিরতাম। যেতামও একসঙ্গে, ফিরতামও একসঙ্গে। সেদিন বঙ্গবন্ধু আমাকে কাছে ডেকে বলেছিলেন, ‘কাল সকালে আমার বাসায় আসবি। আমার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবি।’ আমার আর প্রিয় নেতার সঙ্গে প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়নি।

  • বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

    বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শান্তি সহমর্মিতা ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববােধের শিক্ষা নিয়ে পবিত্র ঈদ-উল আযহা থেকে মর্মবাণী ধারন করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে করোনা কালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে আমরা সকলে সুন্দর সমৃদ্ধ মাদক মুক্ত সমাজ গঠনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ব।

    ও সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ বৈষম্যহীন সন্ত্রাসমুক্ত ও জঙ্গীবাদমুক্ত সমাজ তথা দেশ গঠনের দৃপ্ত শপথ নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। নভেল করোনা ভাইরাসের মহামারিতে বিশ্ব ভরে উঠুক শান্তি সৌন্দর্যে ও সাফল্যে। সমাজে সাম্যের বাণী প্রতিষ্ঠিত করে পবিত্র ঈদ-উল -আযহার প্রকৃত শিক্ষা ও ত্যাগের আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হােক – এই কামনা করি সকলের জন্য।

    পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করার অনুরোধ রইল।

    দেশবাসী ও বরিশালবাসীকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
    ঈদ মোবারক।।

  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৪২৭ কোটি ৬২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৪৫ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যা গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের চেয়ে ১২০ কোটি ৪৮ লাখ ৩ হাজার ৯২ টাকা কম।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বাজেট ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিসিসি ফেসবুক পেইজে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত ওই বাজেট কপি উল্লেখ করা হয়। এটি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এর দ্বিতীয় বাজেট ঘোষণা।

    বাজেট কপিতে দেখা গেছে, সিটির রাস্তা, ড্রেন ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ/উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যবর্ধন কাজের জন্য ১৭০ কোটি ৫ লাখ টাকা; রাস্তা, ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা; ব্রিজ কালভাটের জন্য ৫ কোটি টাকা; শহর রক্ষা বাধের জন্য ১০ কোটি টাকা; খাল সংরক্ষণ খাতে ৫০ কোটি টাকা; এবং পরিবেশ উন্নয়ন ও অন্যান্য খাতে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার বাজেট ধরা হয়েছে।

    আরো দেখা গেছে, ঘোষিত বাজেটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, কল্যাণমূলক ব্যয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অনুদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ মূলক কার্যক্রম, আইসিটি খাত, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ বিভাগে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে নতুন নগর ভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য ৫শ ৪৮ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকা বাজেট ঘোষণা করেছিলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

  • মৃত্যু বেড়ে ৩১১১, শনাক্ত ২ লাখ ৩৭ হাজার

    মৃত্যু বেড়ে ৩১১১, শনাক্ত ২ লাখ ৩৭ হাজার

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ২৮ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মারা গেলেন ৩১১১ জন। নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৭৭২ জন। এপর্যন্ত শনাক্ত হলেন ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬১ জন। আজ সুস্থ হয়েছে ২১৭৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৬ জন।

    ৩১ জুলাই, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৬১৪টি। এদের মধ্যে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৭৭২ জন।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল ৫৪৯ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর ২৯ এপ্রিল ৬৪১ জন, ৩০ এপ্রিল ৫৬৪ জন, ১ মে ৫৭১ জন, ২ মে ৫৫২ জন, ৩ মে ৬৬৫ জন, ৪ মে ৬৮৮ জন, ৫ মে ৭৮৬ জন, ৬ মে ৭৯০ জন, ৭ মে ৭০৬ জন, ৮ মে ৭০৯ জন, ৯ মে ৬৩৬ জন, ১০ মে ৮৮৭ জন, শরীরে ধরা পড়ে কোভিড-১৯ নামের ভাইরাসটি।

    ১১ মে প্রথমবারের মতো দেশে একদিনে সহস্রাধিক করোনারোগী শনাক্ত হয়। সেদিন ১০৩৪ জনের শরীরে ভাইরাসটি ধরা পড়ে। এরপর ১২ মে ৯৬৯ জন, ১৩ মে ১১৬২ জন, ১৪ মে ১৪১ জন, ১৫ মে ১২০২ জন, ১৬ মে ৯৩০ জন, ১৭ মে ১২৭৪ জন, ১৮ মে ১৬০২ জন, ১৯ মে ১২৫১ জন, ২০ মে ১৬১৭ জন, ২১ মে ১৭৭২ জন, ২২ মে ১৬৯৪ জন, ২৩ মে ১৮৭৩ জন, ২৪ মে ১৫৩২ জন, ২৫ মে ১৯৭৫ জন, ২৬ মে ১১৬৩ জন, ২৭ মে ১৫৪১ জন, ২৮ মে ২০২৯ জন, ২৯ মে ২৫২৩ জন, ৩০ মে ১৭৬৪ জন,৩১ মে ২৫৪৫, ১ জুন ২৩৮১, ২ জুন ২৯১১ জন, ৩ জুন ২৬৯৫ জন, ৪ জুন ২৪২৩ জন, ৫ জুন ২৮২৮ জন, ৬ জুন ২৬২৩ জন, ৭ জুন ২৭৪৩ জন, ৮ জুন ২৭৩৫ জন, ৯ জুন ৩১৭১ জন, ১০ জুন ৩১৯০ জন, ১১ জুন ৩১৮৭ জন, ১২ জুন ৩৪৭১ জন, ১৩ জুন ২৮৫৬ জন, ১৪ জুন ৩১৪১ জন, ১৫ জুন ৩০৯৯ জন, ১৬ জুন ৩৮৬২ জন, ১৭ জুন ৪০০৮ জন, ১৮ জুন ৩৮০৩ জন, ১৯ জুন ৩২৪৩ জন, ২০ জুন ৩২৪০ জন, ২১ জুন ৩৫৩১ জন, ২২ জুন ৩৪৮০ জন, ২৩ জুন ৩৪১২ জন, ২৪ জুন ৩৪৬২ জন ২৫ জুন ৩৯৪৬ জন , ২৬ জুন ৩৮৬৮ জন, ২৭ জুন ৩৫০৪ জন, ২৮ জুন ৩৮০৯ জন, ২৯ জুন ৪ ০১৪ জন, ৩০ জুন ৩৬৮২ জন, ১ জুলাই ৩৭৭৫ জন, ২ জুলাই ৪০১৯ জন, ৩ জুলাই ৩১১৪ জন, ৪ জুলাই ৩২৮৮ জন, ৫ জুলাই ২৭৩৮ জন, ৬ জুলাই ৩২০১ জন, ৭ জুলাই ৩০২৭ জন, ৮ জুলাই ৩৪৮৯ জন, ৯ জুলাই ৩৩০৭ জন, ১০ জুলাই ২৯৪৯ জন, ১১ জুলাই ২৬৮৬ জন, ১২ জুলাই ২৬৬৬ জন, ১৩ জুলাই ২৬৮৬ জন, ১৪ জুলাই ৩১৬৩ জন, ১৫ জুলাই ৩৫৩৩ জন, ১৬ জুলাই ২৭৩৩ জন, ১৭ জুলাই ৩০৩৪ জন, ১৮ জুলাই ২৭০৯ জন, ২৪৫৯ জন, ২০ জুলাই ২৯২৮ জন, ২১ জুলাই ৩০৫৭ জন, ২২ জুলাই ২৭৪৪ জন, ২৩ জুলাই ২৮৫৬ জন, ২৪ জুলাই ২৫৪৮ জন, ২৫ জুলাই ২৫২০ জন, ২৬ জুলাই ২২৭৫ জন, ২৭ জুলাই ২৭৭২ জন, ২৮ জুলাই ২৯৬০ জন, ২৯ জুলাই ৩০০৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

    এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটার’র তথ্য মতে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনায় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৭৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৯ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৭ জন।

  • বরিশাল সিটিতে পশু কোরবানির ১৪২টি স্থান নির্ধারণ

    বরিশাল সিটিতে পশু কোরবানির ১৪২টি স্থান নির্ধারণ

    বরিশাল নগরীর ১৪২টি স্থান পশু কোরবানির জন্য নির্ধারণ করেছে সিটি করপোরেশন। নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পশু কোরবানি না করার জন্য নগর ভবন থেকে জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত স্থান থেকে ওইদিন রাত ৮টার মধ্যে নগরীর সকল কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

    সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ও প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, এবার নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে পশু কোরবানির জন্য ১৪২টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোরবানির আগে সংশ্লিষ্টদের মাঝে সিটি করপোরেশন থেকে প্লাস্টিকের বস্তা এবং ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হচ্ছে। গত বছর নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৭ হাজার প্লাস্টিকের বস্তা সরবরাহ করা হলেও এবার নগরীতে পশু কোরবানির সংখ্যা কম হবে বলে তারা ধারণা করছেন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    রবিউল ইসলাম জানান, জনগণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্লাস্টিকের বস্তা এবং ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা নির্ধারিত ১৪২টি স্থানে পশু কোরবানি এবং বর্জ্য ফেলবেন। সিটি করপোরেশনের ৯শ’ পরিচ্ছন্নতা কর্মী ওইদিন দুপুর ২টা থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করবে। একই সাথে ১৪২টি স্থান পানিবাহী গাড়ি দিয়ে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেয়া হবে। কোরবানির রাত ৮টার মধ্যে নগরীর পশু কোরবানীর সকল বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানান বিসিসি’র প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম।

  • দেশে কমেছে মৃত্যু, আক্রান্তের সঙ্গে বাড়ছে সুস্থতা

    দেশে কমেছে মৃত্যু, আক্রান্তের সঙ্গে বাড়ছে সুস্থতা

    বৈশ্বিক মহামারি করোনায় দেশে কমেছে প্রাণহানির ঘটনা। নমুনা পরীক্ষার হার কমলেও আক্রান্তের হার অনেকটা আগের মতোই রয়েছে। তবে, পূর্বের তুলনায় বেড়েছে সুস্থতার হার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার জনের মৃত্যু হলেও সুস্থতার লাভ করেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১৪ জন ভুক্তভোগী। বর্তমানে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা প্রায় ৯৯ হাজার।

    দেশে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ১৩১টি। যেখানে আক্রান্তের হার ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৭১৪টি নমুনা থেকে ২ হাজার ৯৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। যাতে আক্রান্তের হার ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।

    অপরদিকে, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর মৃত্যু হয়েছেন ১ দশমিক ৩১ শতাংশ রোগীর।

    আক্রান্ত ও প্রাণহানিতে এখনও সবার ওপরে রাজধানী ঢাকা। এরপরই চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, ফরিদপুর, কুমিল্লা, খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, কক্সবাজার ও নোয়াখারীর মতো জেলাগুলো। যাদের প্রত্যেকটি তিন হাজারের বেশি করোনা রোগী রয়েছে।

    এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ৫২ হাজার ২০২ জন। এছাড়া, চট্টগ্রামে ১৩ হাজার ৫০৩, নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজার ৮২৫, বগুড়ায় ৪ হাজার ৫৫৫, ফরিদপুরে ৪ হাজার ৫১২, কুমিল্লায় ৪ হাজার ১৬৭, খুলনায় ৪ হাজার ৬৩, গাজীপুরে ৪ হাজার ৩৯, সিলেটে ৩ হাজার ৭৮৭, কক্সবাজারে ৩ হাজার ১৫৮ ও নোয়াখালীতে ৩ হাজার ২৫ জন।

    এদিকে, করোনাক্রান্ত মুমূর্ষ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের আইসিইউতে যুক্ত হয়েছে ২টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা।

    পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে পিপিইসহ করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন দুদকের সাবেক কমিশনার ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

    দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর গত ১৮ মার্চ ভাইরাসটিতে প্রথম প্রাণহানি ঘটে। এরপর থেকে দিনে দিনে এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। শুরুতে বিদেশফেরতদের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ালেও এখন তা প্রকট আকার ধারণ করেছে অবাধ চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে।

    আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানা ও অপ্রয়োজনে বাহিরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।