Category: প্রচ্ছদ

  • সেতু নির্মাণে ভুল নকশা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

    সেতু নির্মাণে ভুল নকশা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

    সেতু নির্মাণে ভুল নকশা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নড়াইল-কালিয়া জেলা মহাসড়কের ২১ কিলোমিটারে কালিয়া নামক স্থানে নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নড়াইলে কালিয়া সেতুতে কিছু কাজ করার পর দেখা গেল আমাদের ভুল হয়েছে। যার মধ্যে দিয়ে নৌকা পার হওয়া যায় না। এটার কারণে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত প্রকাশ করেছেন, এটা সবাই করবে, আমিও করতাম। আসলে এতো এতো কোটি টাকার কাজ হলো ডিজাইন করবো, কনসালটেন্ট আছে, ফিজিবিলিটি আছে, সিনিয়ররা আছেন। তারপরও দেখা যায় এর হাইট কম, যান চলাচল করতে হলে এর হাইট বাড়াতে হবে। জনগণের টাকা গেল, সময় গেল এজন্য তিনি বিরক্ত প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন আগামীতে আরও সাবধান হবেন। ভবিষ্যতে যেকোনো প্রকল্পের নকশা নির্ভুলভাবে তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    এছাড়া সড়ক বা যেকোনো প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আগেভাগেই ওই এলাকার ছবি তুলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে স্থান অধিগ্রহণ করা হবে সেখানে যাতে কেউ হঠাৎ করে বাড়ি, ঘর, বাস বা টিন দিয়ে কিছু নির্মাণ করতে না পারে। এর মাধ্যমে বাড়তি টাকা যাতে কেউ নিতে না পারে। এ ছাড়া সোলার প্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে সঠিক উচ্চতা রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কারণ, সেখানে নিচে যাতে প্রচুর আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। প্যানেলের নিচে যাতে ফসল চাষ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    মন্ত্রী বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করায় একনেকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছি। এসময় অন্যান্য বাকি কাজ যথাসময়ে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • বরিশালে ৬ হাজার ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট সুমন গ্রেফতার

    বরিশালে ৬ হাজার ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট সুমন গ্রেফতার

    বরিশালে বিপুল পরিমানের ইয়াবাসহ চিহ্নিত ‘মাদক সম্রাট’ সাজ্জাদ হোসেন সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুমন নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের বাবুল হাওলাদারের ছেলে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের এপোলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রাকিব হোসাইনের নেতৃত্বে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় সুমনের বাসা থেকে ৬ হাজার ৪০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআই রাকিব হোসাইন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন স্যারের নির্দেশনায় সুমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৪শ’ ২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

    এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামী সুমনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • বরিশালে  ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে কমবে- আশাবাদী চিকিৎসকরা

    বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে কমবে- আশাবাদী চিকিৎসকরা

    বরিশালে ডেঙ্গু ভীতি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশার বিভাগে ৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছে। সবশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় চারজনের।

    এখন পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছে ২৮ জন। তাই বরিশালের হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের আতংক কমেনি।

    তবে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। তাছাড়া চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে বলে আশাবাদী শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।

    বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এর মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৩ হাজার ৬৩৭ জন। আর এই সময়ে মারা গেছেন ৪১ জন।

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মাঝে মাঝে বাড়ছে। তবে সাধ্যমত চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বর্তমান তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় কমে আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

  • শ্রমিক লীগ নেতার বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

    শ্রমিক লীগ নেতার বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

    জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলার আহ্বায়ক সিটি কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এ কে এম মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ কে এম মোস্তফা লিখিত বক্তব্যে বলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরপর পাঁচ বার নির্বাচিত কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এ কে এম মুরতজা আবেদীন। তার ওপর রোববার (০৩ সেপ্টেম্বর) শ্রমিক লীগ বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে মুরতজা আবেদীনের লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনতাই করতে অপপ্রয়াস চালায় যা ভিডিওতে পরিষ্কার।

    মুরতজা আবেদীনের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা করার পরও মান্না মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রশাসনসহ বরিশাল বাসীকে বিভ্রান্ত করেছে।

    মান্নাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় মুরতজা আবেদীন নগরীর পোর্ট রোড সেটেলমেন্ট অফিস থেকে অফিসিয়াল কাজ শেষে রাস্তায় বের হলেই পরিকল্পিতভাবে মান্না তার বাহিনী নিয়ে রাস্তার ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে।

    পরবর্তীতে অতর্কিত হামলা চালায় পেছন থেকে গলা জাপটে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যাচেষ্টা চালায়। সেইসঙ্গে মুরতজার বৈধ লাইসেন্সকৃত পিস্তল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে মান্নাসহ তার ২০/২৫ জন সহযোগী। অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে না পেরে সন্ত্রাসী মান্না ও তার সহযোগীরা মুরতজাকে অস্ত্র ধরে রেখে গুলির নাটক সাজায় এবং পুলিশকে ফোন করে থানায় সোপর্দ করে।

    এ কে এম মোস্তফা বলেন, ওই ঘটনায় অ্যাডভোকেট এ কে এম মুরতজা আবেদীনের মোবাইলসহ পোর্ট রোডের সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই প্রকৃত ঘটনা পাওয়া যাবে। গতকালকের ঘটনায় বরিশালসহ পুরো দেশবাসী এরই মধ্যে সত্যটা জানতে পেরেছে। কিন্তু অপরাধীরা এখনও বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে, এদেরকে প্রতিহত করতে না পারলে মুরতজার মতো আগামীতে আপনি, বা আমরা তাদের শিকার, তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

    তিনি বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয় নেতারা জানতে পেরেছেন। তারা এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আমরা এরই মধ্যে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিয়েছি। কিন্তু গতকাল থানা পুলিশ আমাদের পক্ষ থেকে মামলার কথা বলা হলেও তা নেয়নি।

    মুরতজার ওপর হামলাকারী বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না সহ তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে জাতীয় পার্টি পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে এদের প্রতিহত করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নেতা বশির আহম্মেদ ঝুনু বলেন, পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে কিনা সেটা বলছি না। তবে তারা গতকাল মামলা নেয়নি। এমনকি মুরতজার লাইসেন্স করা পিস্তল রেখে দিয়ে তাকে নিরাপত্তাহীনভাবে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আমরা আশা করেছিলাম তার নিরাপত্তার জন্য বাড়ি পর্যন্ত পুলিশ যাবে। আমরা এখন আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছি।

    সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ বিষয়ে শ্রমিকলীগ বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না বলেন, মুরতজা আবেদীন মিথ্যা কথা বলছে, আমি অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে যাইনি, সে অস্ত্রের টিগারে হাতের আঙুল দেওয়া ছিল যা ছবিতে স্পষ্ট। যদি তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতি হতো তাহলে আমি বলতাম না অস্ত্রটা পুলিশের হাতে দে। যা ওখানে শত শত লোকের মধ্যে বলেছি এবং ভিডিওতেও প্রমাণ রয়েছে।

  • প্রবাসীদের পেশাগত ভুয়া সনদ, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    অনেকেই পেশাগত ভুয়া সনদ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাচ্ছেন। এসব ভুয়া সনদ দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে যারা বিদেশে যাচ্ছেন অনেকেই ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই ভুয়া চিকিৎসক ইঞ্জিনিয়ার- এ ধরনের সার্টিফিকেট নিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, ‘কীভাবে তারা এ ভুয়া সার্টিফিকেট নেয়। এ ভুয়া সার্টিফিকেটসহ তারা যায়, তারা তাদের এ কাজে সহযোগিতা করে। যারা এ কাজটা করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের সহযোগিতা করবে।’

    কেমন সংখ্যক এমন ভুয়া সনদ নিয়েছেন- জানতে চাইলে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সংখ্যাটা নিয়ে আলোচনা হয়নি। অভিযোগ করা হয় যে এমন পাওয়া যাচ্ছে। দেখা গেল একটা ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে বিদেশে গেছে এবং ওই দেশে গিয়ে সে ধরা পড়েছে। তখন একটা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়ে যায়। ওখানে তারা একটা অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যায়। এখন এ বিষয়টাকে শক্ত হাতে হ্যান্ডেল করার জন্য বলা হয়েছে।’

  • বরিশালে শ্রমিক নেতা ও কাউন্সিলরের ধস্তাধস্তি, ভিডিও ভাইরাল

    বরিশালে শ্রমিক নেতা ও কাউন্সিলরের ধস্তাধস্তি, ভিডিও ভাইরাল

    আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শ্রমিক নেতা ও কাউন্সিলরের ধস্তাধস্তি, ভিডিও ভাইরাল পুলিশ বলছে আগ্নেয়াস্ত্রের অনুকূলে প্রদর্শিত কাগজপত্র যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল সদর ভূমি কমিশনার কার্যালয়ের সামনে পোর্টরোড থেকে মর্তুজাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

    ৫৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরিশাল নগরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ কে এম মর্তুজা আবেদীনের হাতে একটি পিস্তল রয়েছে। তিনি যে অটোরিকশার মধ্যে রয়েছেন, সেখানে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্নাসহ আরও এক যুবক রয়েছেন। তারাসহ অটোরিকশার বাইরে থেকে মান্নার অনুসারী কয়েকজন মিলে পিস্তলটি ধরে টানা-হেঁচড়া করছেন।

    ওই ভিডিওর শুরুতে কেউ একজন বলেন ‘ভিডিও ভিডিও কর’। এরপর মান্নাকে কয়েকবার চিৎকার করে বলতো শোনা যায়, ‘আমাকে মারার জন্য অস্ত্র বের করছে দেখ’। আর এ সময় মর্তুজা কয়েকবার চিৎকার করেন ‘দেখ ও দেখ ছেমড়া’ বলতে শোনা যায়। শেষে মান্না ‘অস্ত্রটা নে’ বললে এক যুবক মর্তুজার হাত থেকে অস্ত্রটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ সময় মর্তুজা বলেন, ‘এ অস্ত্রটি আমার লাইসেন্স করা অস্ত্র’। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা গিয়ে ওই যুবকের কাছ থেকে তাদের জিম্মায় আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে নেন।

    স্থানীয় ও প্রতক্ষদর্শীরা জানান, ভূমি অফিস কম্পাউন্ড বা তার মধ্যে কি হয়েছে সেটা বলতে পারবো না। ওই অটোরিকশা ঘিরে আকস্মিক চিৎকার শুনে যখন সবাই সেদিকে ছুটে যায় তখন গিয়ে দেখতে পাই একটি পিস্তল নিয়ে সবাই টানাটানি করছে। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেলে পিস্তলটি ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তাদের জিম্মায় নেয় এবং সেসঙ্গে অ্যাডভোকেট মর্তুজাকে হেফাজতে নেন।

    অ্যাডভোকেট মর্তুজা আবেদীন পিস্তলটি লাইসেন্স করা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এসি ল্যান্ড অফিস থেকে বের হতে অবস্থায় মান্না এসে জিজ্ঞাস করে আমার বউকে মারছো কেন? কিন্তু এ ধরনের কোনো ঘটনাই আমার জীবনে নেই। এ কথা নিয়ে বাকবিতণ্ডার পর তারা কয়েকজনে মিলে আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে আমার কোমড়ে থাকা লাইসেন্স করা রিভলবার থাবা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন কোমর থেকে রিভলবার নিজের হাতে নেই যাতে ওরা নিয়ে যেতে না পারে। এরপর মারতে মারতে আমাকে একটি অটোরিকশার মধ্যে নিয়ে যায়। তখন এক ট্রাফিক পুলিশের সদস্য এলে তাকে পিস্তলটি নিতে বলি, সে নেওয়ার আগেই একটি ছেলে সেটি নিয়ে যায়। তারপর ওই পুলিশ সদস্য ওই ছেলের কাছ থেকে পিস্তলটি নিজের জিম্মায় নেন।

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্না বলেন, ‘আমার বাসার একটি জমি নিয়ে ঝামেলা ছিল, যার কারণে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের সঙ্গে কথা বলতে আজ সেখানে যাই। ভূমি অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাবার জন্য রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। ওই মুহূর্তে পেছন থেকে মর্তুজা এসে আমার পেছনে দাঁড়ায় এবং আমাকে বলেন- ‘তুই এখনও বাইচ্চা আছো- তোর তো বাইচ্চা থাকার কথা না’। তখন আমি বলছি- ‘এ ব্যাডা ক্যা? আমি বাইচ্চা থাকমু না ক্যা-আল্লাহ না মারলে কেউ মারতে পারে’। এ কথায় সেখানে চিল্লাচিল্লি হইছে। এরপরও ওহ (মর্তুজা) একটু সামনের দিকে এগিয়ে গালাগালি করতে থাকেন, আমিও একটু সামনের দিকে আগাইছি। এরপর তিনি হঠাৎ পিস্তল বের করে। এ সময় সেখানে থাকা সাধারণ শ্রমিকরা তাকে আটক করছে। ’

    তিনি বলেন, পিস্তলটি তার কোমরে ছিল। বৈধ না অবৈধ সেটাও বলতে পারবো না। নিজের আত্মরক্ষার্থে সেটা আমি ও ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যও ধরেছি, আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।

    এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, অ্যাডভোকেট মর্তুজা আবেদীনকে নগরের পোর্টরোডের স্বাগতম হোটেলের সামনে জনগণের কাছ থেকে পিস্তলসহ আমাদের হেফাজতে নিয়ে এসেছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, সেসঙ্গে পিস্তলটির কাগজপত্র কি রয়েছে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেসঙ্গে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডে ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মর্তুজা আবেদীন। গত সিটি নির্বাচনে তার এ ওয়ার্ডে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তৎকালীন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্না। কিন্তু প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সেখানে নির্বাচনে মান্নার ভাই মুন্না হাওলাদার অংশগ্রহণ করেন। আর ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

  • সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

    সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

    সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখব। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) নৌপ্রধানের সচিবালয় গ্যালাক্সিতে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৩ এর সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করব না, সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখব। এটি কিন্তু আমরা রাখতে পেরেছ। পৃথিবীর কোনো দেশ এটি পারে কি না, আমি জানি না। আমাদের সঙ্গে কিন্তু প্রতিটি দেশের একটি সুসম্পর্ক আছে।

    সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার কৌশল সম্পর্কে অনেকে প্রশ্ন করেন জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তারা জানতে চায়, আমরা এটি কীভাবে করি। আমি বলি, এটি আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমরা যে নীতিতে বিশ্বাস করি, জাতির পিতা যে নীতি (বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি) দিয়ে গেছেন, সে নীতি নিয়ে আমরা চলি বলে সবার সঙ্গে আমাদের সমানভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য, দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি, তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয় সেটা দেখা, সেটা আমরা দেখি।

    সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশ যত এগিয়ে যাবে, সেই সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিতে পারব।

    সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়ায়। মানুষের কাছে থেকে একটি আস্থা-বিশ্বাস তারা অর্জন করতে পেরেছে।

    নেতৃত্ব নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীতে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তার প্রশংসা করেন তিনি।

    এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে উচ্চ নৈতিক মনোবলের যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা, বিশেষ করে যারা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে কাজ করে সাফল্য অর্জন করতে পারেন, সেই ধরনের নেতৃত্বকে আপনারা বেছে নেবেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এটিই চাই, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, যে আদর্শ, যে লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই আদর্শে যারা দীক্ষিত, যাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ আছে, তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা একান্তভাবে দরকার।

  • ডেঙ্গুতে ১৭ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ১৭ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও দুই হাজার ৩০৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দুই হাজার ৩০৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৮৭৫ জন এবং সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) এক হাজার ৪৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট দুই হাজার ৩৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা সিটির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৯৫০ জন এবং সারা দেশের (ঢাকা সিটি ব্যতীত) বিভিন্ন হাসপাতালে থেকে এক হাজার ৪০৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন ঢাকা সিটিতে এবং একজন সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতিত) মারা যান।

    এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৪৩৮ জন এবং সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) ১৫৫ জন মারা যান।

    চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৮০৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৫৮ হাজার ২১ জন ও সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) ৬৫ হাজার ৭৮৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

    চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট এক লাখ ১৪ হাজার ৮৩৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা সিটির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৫৩ হাজার ৭৬৩ জন এবং সারা দেশের (ঢাকা সিটি ব্যতীত) বিভিন্ন হাসপাতাল ৬১ হাজার ৭১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বর্তমানে সারা দেশে মোট আট হাজার ৩৭৮ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ঢাকা সিটিতে তিন হাজার ৮১৭ জন এবং সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) চার হাজার ৫৬১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

    এতে আরও বলা হয়, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার হার শতকরা ৯৩ শতাংশ। হাসপাতালে ভর্তি থাকার হার ৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ।

    গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সর্বমোট ৬২ হাজার ৩৮২ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮১ জন মারা যান।

  • বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আল্টিমেটাম

    বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আল্টিমেটাম

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে সংবাদ সংগ্রহকালে সাত সাংবাদিকের ওপর চিকিৎসকদের হামলার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউবি)। এ সময় ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেন নেতৃবৃন্দ।

    বুধবার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সদর রোডে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

    সংগঠ‌নের সভাপ‌তি স্বপন খন্দকা‌রের সভাপ‌তি‌ত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ব‌রিশাল প্রেসক্লাবের সা‌বেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহামুদ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপ‌তি নজরুল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মিথুন সাহা, মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক অপূর্ব অপু, কামরুল আহসান প্রমুখ।

    বক্তারা সাংবা‌দিক‌দের ওপর হামলাকারী ডা. প্রবীর কুমার সাহা ও ডা. সৈয়দ বা‌কি বিল্লাহ‌কে বিচা‌রের আওতায় এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়‌কে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। আগামী ৯ সেপ্টেম্ব‌রের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কঠোর কর্মসূচির ডাক দিবে সাংবাদিক ইউনিয়ন।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট দুপু‌রে ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌কেল ক‌লে‌জে সংবাদ সংগ্রহকা‌লে সাতজন সাংবা‌দি‌কের ওপর হামলা চালায় চিকিৎসকরা। মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে বাঁচাতেই এই হামলা বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের।

  • তারেক রহমানের বক্তব্য সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ

    তারেক রহমানের বক্তব্য সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ

    আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য ইউটিউব, ফেসবুকসহ সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে অবিলম্বে ব্লক, অপসারণ বা সরিয়ে ফেলার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি-বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    এক আবেদনের পর সোমবার (২৮ আগস্ট) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    এ আদেশের সময় বিএনপির আইনজীবীরা হট্টগোল করলে বিচারকরা এজলাস ছেড়ে চলে যান।

    আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল ইসলাম, সাঈদ আহমেদ রাজা ও সানজিদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

    পরে আইনজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, নয়াপল্টনের জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্য মাইকে প্রচার করা হয়। ইদানিং খুব বেশি রকমভাবে প্রচারিত হচ্ছে আদালতের আদেশ ভায়েলেট করে। যার জন্য আমরা বিটিআরসির প্রতি একটা নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত আবেদনটি অ্যালাউ করেছেন। বিটিআরসির প্রতি নির্দেশনা দিতে যেন ইউটিউব, সামাজিক সব মাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য, বিবৃতি, ভিডিও-অডিও প্রচার বন্ধে পদক্ষেপ নেয়।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওরা অযাচিতভাবে কোর্টের কার্যকালাপকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা কোনোভাবে পার্টি না (মামলায় পক্ষভুক্ত না)। তারা আজ ন্যাক্কারজনক কাজ করছে।

    গত ১৩ আগস্ট তারেক রহমানের সংশোধিত ঠিকানায় নোটিশ পাঠাতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। ওই নোটিশ জারির পর অনলাইন থেকে তারেক রহমানের বক্তব্য সরাতে আবেদন করেন রিট আবেদনকারী। এরপর সোমবার আদেশ দেন হাইকোর্ট।

    জানা যায়, রুল শুনানির জন্য সেকশন থেকে যে নোটিশ পাঠানো হয় সেখানে তারেক রহমানের ঠিকানা ভুল লেখা হয়েছে। রোড নম্বরের জায়গায় রুম নম্বর হয়েছে। এরপর সংশোধিত ঠিকানা জমা দেন রিটকারীরা।

    এর আগে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিটে কোনো পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার, পুনঃউৎপাদন না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চেয়েছিলেন।

    রিটে বলা হয়, তারেক একজন ফেরারি আসামি। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে ও বেআইনিভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। একজন ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার হতে পারে না। যাকে আদালত খুঁজে পাচ্ছেন না, তার বক্তব্য প্রচারযোগ্য নয়।

    পরদিন রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেকের বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রুল জারি করেন।

    রুলে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচার নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    আদালতে সেই দিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (প্রয়াত), অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম (বর্তমানে মন্ত্রী), অ্যাডভোকেট এস এম মুনীর (বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল), অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম (তৎকালীন এমপি)। সম্প্রতি এ রুল শুনানির জন্য উদ্যোগ নেয় রিটকারী পক্ষ।