বরিশালে সরকারি-বেসরকারি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেখ রাসেল দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয় চত্বরে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পৃথকভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি মেয়রসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ এবং জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসসহ অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন।এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান থেকে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বান্দ রোডের শিল্পকলা একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়।সেখানে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন-উল আহসান, ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান, বিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।পরে শিল্পকলা একাডেমীতে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
Category: প্রচ্ছদ
-

যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন : বিশ্ব নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
যুদ্ধ এবং খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে, সবার কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বের ৮০ কোটির বেশি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যায়, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ’
আজ গণভবন থেকে ইতালির এফএও-এর সদর দফতর রোমে অনুষ্ঠিত এফএও (খাদ্য ও কৃষি সংস্থা) বিশ্ব খাদ্য ফোরাম ২০২২-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ভার্চুয়ালি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যুদ্ধ বন্ধ করতে, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে এবং খাদ্যের অপচয় বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করছি।
পরিবর্তে, খাদ্য ঘাটতি এবং দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করুন। মানুষ হিসেবে, আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, প্রত্যেকেরই খাদ্য নিয়ে বেঁচে থাকার এবং একটি সুন্দর জীবন যাপনের অধিকার রয়েছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে, যদি অস্ত্র তৈরিতে বিনিয়োগ করা অর্থের একটি ভগ্নাংশ খাদ্য উৎপাদন এবং বিতরণে ব্যয় করা হয় তবে এই পৃথিবীতে কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না। ’ভার্চুয়ালি ফোরামে যোগ দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ ফোরাম এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, কোভিড-১৯ মহামারী এবং আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে খরার কারণে বিপর্যস্ত।
-

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হলেন যারা
সারা দেশে ৫৭ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় নির্ধারিত সময়েই ৪৬২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
দেশের তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলায় এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। পরে হাই কোর্টের আদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালীর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।
ভোলা ও ফেনীর সকল পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সোমবার ভোট হচ্ছে ৫৭ জেলা পরিষদে।
যে ২৬ জেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ফেনী, ভোলা, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর, ঝালকাঠী, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, ঢাকা, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল, বাগেরহাট, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জ ও সিলেট জেলা।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।
গাইবান্ধা উপ-নির্বাচনের মতই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকার নির্বাচন ভবনের মনিটরিং সেল থেকে সব জেলার ভোটের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন।
এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। বিকালে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এসব ফলাফল একত্রিত করে পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ জেলাতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন।
-

যার যতটুকু জমি আছে সেখানে কিছু উৎপাদনের চেষ্টা করুন
বিশ্বে খাদ্যপ্রাপ্তির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ সমস্যা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখতে হবে। সেজন্য দেশবাসীকে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, সারাবিশ্বে যে দুর্যোগের ঘনঘটা তা থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষিত করতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে অধিক খাদ্য উৎপাদনের চেষ্টা করুন। যার যে জমি আছে সবাই সেখানে কিছু উৎপাদনের চেষ্টা করুন।সোমবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তাগিদ দেন তিনি। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জায়গা আছে। সেগুলোতে আমরা উৎপাদনের দিকে নজর দেই। খাদ্য গ্রহণেও সাশ্রয়ী হই। যে যা পারি উৎপাদন করি। তাহলে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না। বিশ্বব্যাপী যদি দুর্ভিক্ষ হয়ও, বাংলাদেশ যেন খাদ্যের যোগান দিতে পারে আমাদের এখন সে ব্যবস্থা করতে হবে।তিনি বলেন, পাশাপাশি আমাদের খাদ্যের সাশ্রয় করতে হবে। আবার যেসব খাদ্য এখন বেঁচে যায়, সেগুলো সঠিক সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা উৎপাদন করে যাচ্ছি, কিন্তু সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করতে পারলে অযথাই নষ্ট হবে। সেদিকে এখন নজর দিতে হবে।শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়া দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে আমরা যে সব পণ্য আমদানি করি, সে সব পণ্য ব্যবহারে মনোযোগী হতে হবে। সেগুলোর উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায় সে চেষ্টা করতে হবে। আমি মনে করি সেটা খুব একটা কঠিন হবে না। আমাদের পেঁয়াজের ঘাটতি ছিল, এখন আমরা পেঁয়াজ উৎপাদন করে চাহিদা মেটাচ্ছি। এসময় তেলজাতীয় ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম।জানা গেছে, ১৬ অক্টোবর ছিল বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ উপলক্ষে ১৭অক্টোবর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে খাদ্য নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। ‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়। ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সুরক্ষিত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন’ এ প্রতিপাদ্যে এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে।
-

বরিশালে এনজিওর নামে দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নারী ইউপি সদস্য
বরিশাল ব্যুরো।।
উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি ও রিদু এনজিওর নামে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামী। ঘটনাটি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৩নং দাঁড়িয়াল ইউনিয়নে।
একাধিক ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ১,২,৩ সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রাবেয়া বসরি লিপি ও তার স্বামী লিটন খান সমিতির নামে দুই কোটি টাকা নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় নি:স্ব হয়েছেন বহু পরিবার।
ইউনিয়নের দাঁড়িয়াল গ্রামের মোসলেম আলি খানের ছেলে লিটন খান ও তার স্ত্রী নারী ইউপি সদস্য রাবেয়া বসরি লিপি। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকাপয়সা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন।
ভুক্তভোগী লাল হাওলাদার বলেন, আমার গ্রামের নারী ইউপি সদস্য রাবেয়া বসরি লিপি উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি ও রিদু নামের দুটি এনজিওতে কাজ করেন। আমিসহ ছয়জনের প্রায় একত্রিশ লাখ টাকা তার মাধ্যমে জমা ছিলো। গত কয়েকদিন যাবত সে ও তার স্বামীর খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছেনা মোবাইল ও বন্ধ।
তিনি আরো বলেন, রিদু এনজিওর নামে ৪শ লোকের কাছ থেকেও বিপুল পরিমান টাকা নিয়েছেন । এছাড়াও টিউবওয়েল দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন কয়েকটি পরিবারের। সবমিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে তারা লাপাত্তা হয়েছেন।
উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি মো: শহিদুল বলেন, রাবেয়া বসরি লিপি আগে আমাদের সমিতির সদস্য ছিলেন তবে দীর্ঘদিন হয় তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।এস এন পলাশ
বরিশাল
০১৭১৩৯৬৩৬২৯ -

করোনায় মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ২৯৯, হার ১৩.৬০ শতাংশ
অনলাইন ডেস্ক ::: মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ফলে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৩৮০ জনই রয়েছে। একইসময়ে আরও ২৯৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৯ হাজার ৩১৪ জনে।
শনিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৮৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২ হাজার ১৯৯টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।
এদিকে দেশে একদিনে নতুন করে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৬৯০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪৪ জন।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
-

আজ সাংবাদিক মিন্টু বসু’র ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী
বেলায়েত বাবলু ॥
বরিশালের প্রবীণ সাংবাদিক, সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিন্টু বসুর আজ ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী।২০১৭ সালের ০৩ অক্টোবর তিনি পরলোকগমন করেন।বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে একজন প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত ছিলেন মিন্টু বসু। প্রকাশক, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপন্যাসিক, নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, সংগঠক-বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি বরিশালের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঞ্চলের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আজন্ম প্রতিবাদী এই মানুষটির জন্ম ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বৈচন্ডি গ্রামে ১৯৪৮ সালের ১২ মার্চ। পিতা নরেন্দ্রনাথ বসু ও মাতা শৈলবালা বসু। পিতা-মাতার ৬ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। প্রতিভাবান এই মানুষটি সমাজের একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন। সুদীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সংবাদপত্র ‘বাংলাদেশ’ পত্রিকা থেকেই মিন্টু বসুর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ এই গুণি ব্যক্তির এক হাতে তুলে দিয়েছিল ‘অসি’, অন্য হাতে তিনি তুলে নিয়েছিলেন ‘মসি’। বিপ্লবী বাংলাদেশ ছিল রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের মুখপাত্র। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের কোলকাতায় অবস্থানকালে মিন্টু বসু জানতে পারেন ৯নং সেক্টরের মুখপাত্র ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ পত্রিকায় প্রকাশ শুরু হয়েছে। এ খবর শুনে পত্রিকার সম্পাদক নুরুল আলম ফরিদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বিপ্লবী বাংলাদেশের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মিন্টু বসু।স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত বিপ্লবী বাংলাদেশের দীর্ঘদিন বার্তা সম্পাদক ছিলেন মিন্টু বসু। রণাঙ্গণ নিয়ে মিন্টু বসুর অনেক লেখাই ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দলিল পত্র’ গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে। তিনি দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল ও আজকের বার্তায় বার্তা সম্পাদক, দৈনিক গ্রাম সমাচার পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদ, দৈনিক দেশবাংলা এবং দৈনিক বাংলার বাণীতে বরিশাল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন তিনি একুশে টেলিভিশনেরও বরিশাল প্রতিনিধি ছিলেন।বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছাড়াও বরিশাল প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মিন্টু বসু। লেখক হিসেবে নাটক, উপন্যাস, জীবনীগ্রন্থ ও মুক্তিযুদ্ধের উপর তার ৭৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রথম লেখা উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। ৮০’র দশকে তিনি শিশু সংগঠন চাঁদের হাটের মাধ্যমে বরিশালে শিশু নাট্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। চাঁদের হাটে তিনি দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশের অন্যতম প্রাচীন গ্রুপ থিয়েটার খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ ২০ বছর। তার লেখা নাটকের সংখ্যা ৩৪। এর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ১৪টি। ১৯৯৪ সালে ইতালিতে তার লেখা নাটক ‘বিপ্লবের মৃত্যু নেই’ মঞ্চস্থ হয় এবং বিশেষ এ্যাওয়ার্ড লাভ করে। তার একাধিক নাটক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। ঢাকার নাট্য সংগঠন লোক নাট্যদল মিন্টু বসুকে ১৯৯৩ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্মীর পদকে ভূষিত করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে জীবনের শেষ দিনগুলিতে মিন্টু বসু তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত হয়ে পড়েছিলেন।সৃষ্টিশীল এই মানুষটির মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। -

আজ মহা সপ্তমী
রুপন কর অজিতঃ আজ মহা সপ্তমী। বরিশালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। বরিশালের পুজা মন্ডপগুলোতেও নেওয়া হয়েছে দুর্গোৎসবের জমজমাট প্রস্তুতি। গতকাল সন্ধ্যাবেলায় দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে অকালবোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।এবার মা আসছেন গজে আর চলে যাবেন নৌকায়।
ঢাক-ঢোল আর কাঁসার বাদ্যে শুরু হলো দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। সপ্তমী তিথীতে নবপত্রিকা স্নান ও সিদ্ধিদাতা গণেশের পাশে কলাবউ স্থাপন করা হবে। এইদিনেই প্রাণ সঞ্চার করা হবে দেবীর মৃন্ময়ীতে। সোমবার মহা অষ্টমী তিথিতে সনাতনী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সকলে মিলে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দেবে। এইদিনই হবে সন্ধীপূজা। মাতৃরূপে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হবে ‘কুমারী পূজা’। শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় দেবীর ৬ষ্ঠ রূপ ‘উমা’।
ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত: নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে। ৫ই অক্টোবর দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। আর দেবীর এই আগমনকে ঘিরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের সকল পূজা সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী জানান, এবার বরিশাল জেলা ও মহানগরে মোট ৬৪৫ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে।অধিকাংশ মন্ডপে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও কঠোর নিরাপত্তা । করোনার কারণে গত দুই বছর সীমিত পরিসরে উৎসব হলেও এবারের প্রস্তুতি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ।
ঝাউতলা সার্বজনী পূজা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পদক সুজয় সেন বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে দুর্গাপূজার আনন্দ ভালোভাবে উপভোগ করা যায়নি। এবার প্রকোপ কম থাকায় সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা যাবে। প্রশাসন ও স্বেচ্চাসেবকদের সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপন হবে বলে তিনি মনে করেন।
বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, বরিশাল জেলা পুলিশের থানাগুলোর আওতায় ৫৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে এসব মণ্ডপগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় স্থায়ীভাবে মোট ৬০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। কেউ যদি পূজামণ্ডপে অরাজকতা করার চেষ্টা করে তাহলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, বন্দর ও কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকা মিলিয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ রয়েছে ১১টি। সেই পূজা মণ্ডপগুলোতে ৫ জন করে পুলিশ থাকবে, পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের সহায়তা করবে আনসার সদস্যরাও।
তিনি বলেন, মহানগরের সকল পূজামণ্ডপেই মোবাইল টিম থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছি।
-

প্রকৃতির ‘স্বর্গরাজ্য’ বরিশালের কাশবন
নিউজ ডেস্কঃঃ ঋতুর রাণী শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আর কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। শরতের মেঘহীন নীল আকাশে গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের মন। আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা আর তার নিচে কাশফুলেরীয় নাচানাচি-অজান্তেই মানুষের মনে। নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। তবে আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের শতদল আর মাটিতে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল যে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য ছড়ায় তাতে থাকে শুধুই মুগ্ধতা। তবে কালের আবর্তে শরতকালের সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর তেমনটি চোখে পরে না।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ কাশবন কেটে কৃষি জমি সম্প্রসারণসহ আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছে। এতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিকে অপরূপ শোভাদানকারী কাশফুল। সাহিত্যে কাশফুলের কথা এসেছে নানাভাবে। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন গ্রন্থ ‘কুশজাতক’ কাহিনী অবলম্বন করে ‘শাপমোচন’ নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কাশফুল মনের কালিমা দূর করে, শুভ্রতা অর্থে ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। শুভকাজে কাশফুলের পাতা বা ফুল ব্যবহার করা হয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum. এরা উচ্চতায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদীর তীরে জন্মানো শ্বেতশুভ্র কাশবন দেখতে খুবই সুন্দর। বাংলাদেশের ঋতুরীতি অনুযায়ী শরতের শোভা কাশফুল। তিনি বলেন,এ ফুল ফুটতে দেখেই বোঝা যায় এটা শরতকাল। কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু ঢিবিতে কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়। এর কারণ হল নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশের মূল সহজে সম্প্রসারিত হতে পারে। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং ধবদবে সাদা। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো।
তিনি আরও বলেন, কাশফুলের বেশকিছু ওষুধি গুণ রয়েছে।যেমন-পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পিত্তথলির পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে দুর্গন্ধ দূর হয়। কাশফুলের অন্য একটি প্রজাতির নাম কুশ। এরা দেখতে প্রায় কাশফুলের মতোই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘পুরাণ’-এ কুশের স্থান খুব উঁচুতে। চর্মজাতীয় রোগের চিকিৎসায়ও কাশফুল বেশ উপকারী বলেও তিনি জানান।
-

জেলা পরিষদ নির্বাচন: বরিশালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যানসহ ৫ সদস্য বিজয়ী
আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে বরিশালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীর হোসেনকে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে আইরিন রেজা ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তি রানী দাস, ৮ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে পিয়ারা বেগম (আগৈলঝাড়া), ৯ নম্বর ওয়ার্ডে (গৌরনদী) এইচএম হারুন-অর রশিদ এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডে (উজিরপুর) অশোক কুমার হাওলাদারকে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাতটি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৪ জন এবং দুইটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্ধি নয়জন প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষনা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোঃ জসীম উদ্দীন হায়দার।
অবশিষ্ট সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। চেয়ারম্যান ছাড়াও তিনজন সাধারণ ও দুইজন সংরক্ষিত সদস্য বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত ঘোষনা হওয়ায় এবার ভোট হবে দুইটি সংরক্ষিত ও সাতটি সাধারণ সদস্য পদে। সাত উপজেলার সাতটি কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছে ১২শ’ ৮৭ জন।
নির্বাচিত ঘোষনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বরিশাল জেলা পরিষদের আলো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়াও জেলা পরিষদকে দুর্নীতি মুক্ত করে সত্যিকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার চেষ্টা করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জেলা পরিষদের সবচেয়ে বড় দুর্নাম মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে যাত্রী হয়রানী ও নিগৃহের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন।
