Category: প্রচ্ছদ

  • পদ্মাসেতু চালুর ৯০ দিনে দক্ষিণাঞ্চলে আমূল পরির্বতন

    পদ্মাসেতু চালুর ৯০ দিনে দক্ষিণাঞ্চলে আমূল পরির্বতন

    অনলাইন ডেস্ক ::: গৌরবের পদ্মাসেতু চালুর ৯০ দিন পূর্ণ হলো রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর)। গত ২৫ জুন বাঙালির স্বপ্নের এ সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন থেকে পদ্মাসেতুতে শুরু হয় যানবাহন চলাচল। এই তিন মাসে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মাসেতুর সুফল।

    যোগাযোগের মাইলফলক হিসেবে বরিশাল বিসিকে গড়ে উঠেছে প্রথম পোশাক তৈরির কারখানা, বোতলজাত পানি পরিশোধনাগার ও কমফোর্টারের কারখানা। মাছের রাজা ইলিশ শুধু সারাদেশেই নয়, একদিনের মধ্যে চলে যাচ্ছে কলকাতাতেও।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবক্ষেত্রে ইতিবাচক ব্যাপক পরিবর্তন আসায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি এখন চাঙা।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় প্রথম পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে যাতায়াত ব্যবস্থায়। বিলাসবহুল বাসগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। পদ্মাসেতু চালুর পর নামিদামি ২০-২৫টি কোম্পানির প্রায় ৩০০ বিলাসবহুল বাস সরাসরি যাত্রী পরিবহন করছে। সময় লাগছে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা।

    বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কি‌শোর কুমার দে বলেন, পদ্মাসেতুর কারণে সড়কপথে যাত্রী বেড়েছে। গ্রিন লাইনসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল বাস কোম্পানি এখন বরিশালে তাদের শাখা খুলেছে। আরামদায়ক ভ্রমণ ও যাতায়াত দ্রুত হওয়ায় যাত্রী বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বেকার যুবকদের।

    শিল্প উদ্যোক্তা এস এম জাকির হোসেন বলেন, পদ্মাসেতু আমাদের জন্য আশীর্বাদ। বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে তাদের ব্যবসা স্থাপন করতে শুরু করেছে। আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালমুখী হবে।

    বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, বরিশালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন করে গড়ে উঠছে। অনেকেই জমি কিনছেন। এরই মধ্যে বিসিকে গার্মেন্টসসহ ৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স সবসময় ব্যবসায়ীদের পাশে আছে। আমরা যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করব।

    পদ্মাসেতুকে কেন্দ্র করে দেশের জিডিপিতে দক্ষিণাঞ্চল অবদান রাখবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় বিশ্বাস। তিনি বলেন, পদ্মাসেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি নতুন করে চাঙা হচ্ছে। দেশের জিডিপিতে পর্যায়ক্রমে বড় আকারে ভূমিকা রাখবেন এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া এখানকার বেকারত্বও দূর হবে। বরিশালে পড়াশোনা করে বরিশালেই চাকরি বা ব্যবসা করতে পারবে এ অঞ্চলের যুবসমাজ।

    বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান বলেন, গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে দক্ষিণের জনপদে আমূল পরিবর্তন হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়িক খাতকে বেগবান করতে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহায়তা করবে।

  • পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২

    পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২

    নিউজ ডেস্কঃঃ পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২ জনে।

    সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান দীপঙ্কর রায় জানান, সকালে আরও সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। দুর্ঘটনা তদন্তে আমরা কাজ শুরু করেছি।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপ-পরিচালক শেখ মো. মাহাবুবুল আলম জানান, পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলার ফায়ার সার্ভিসের আট ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়াও রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী থেকে আসা তিনটি দলের ৯ ডুবুরি উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন।

    নিহতদের মধ্যে পলি রানী (১৪), লক্ষ্মী রানী (২৫), অমল চন্দ্র (৩৫), শোভা রানী (২৭), দীপঙ্কর (৫), প্রিয়ান্তা রানী (৫), খুকি রানী (৩৫), প্রলিমা রানী (৫৫), তারা রানী (২৪), শোনেকা রানী (৬০), ফাল্গুনি রানী (৫৫), প্রমিলা রানী (৭০), ধনবালা (৪৭), সুমিত্রা রানী (৫৭), সফলতা রানী (৪০), শিমলা রানী (৩৫), নৌকার মাঝি হাসান আলী (৫২), উশোষী রানী (২), তনুশ্রি রানী (২), শ্রেয়শী রানী (২), বিমল চন্দ্র (৪৫), শ্যামলি রানী (৩৫), জোতিষ চন্দ্র (৫৫) রূপালি রানীর (৩৫) পরিচয় শনাক্ত হয়েছেন।

    এর আগে রোববার দুপুরে উপজেলার বদ্বেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া উৎসবে যোগ দিতে নৌকায় করে যাচ্ছিলেনে দেড় শতাধিক সনাতন ধর্মালম্বী। অতিরিক্ত যাত্রীর বহন করায় নৌকাটি করতোয়া নদী আওলিয়াঘাট এলাকায় ডুবে যায়।

  • বরিশাল নগরীর ৪৫টি পুজামন্ডপে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর আর্থিক অনুদান প্রদান

    বরিশাল নগরীর ৪৫টি পুজামন্ডপে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর আর্থিক অনুদান প্রদান

    বেলায়েত বাবলুঃ
    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন, শুভ মহালয়ার শুভক্ষণে বরিশাল নগরীর পুজামন্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নগরীর ৩৯টি সার্বজনীন ও ৬টি ব্যক্তিগত মন্ডপে অনুদান প্রদান করা হয়। এসময় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্ম মানুষের জন্য, মানুষ ধর্মের জন্য নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে আমরা সকলে বাঙালী -এ শ্লোগানেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন। মেয়র বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতার শ্লোগানে স্বাধীন হওয়া এদেশে যার, যার ধর্ম সে পালন করবেন, এখানে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব শান্তিপূর্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, বরিশালে ভয়ের কোন কারণ নেই। শান্তির নগরী বরিশালে শান্তি বজায় থাকবে। আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং আমৃত্যু আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবো। তাতে মেয়র থাকি আর না থাকি। আমি এক কথার মানুষ, মুখে যা বলি তা করার চেষ্ঠা করি। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক বাতি ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয় উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ষড়যন্ত্র চলছে। আপনারা ভালবাসলেও অনেকেই আছেন তারা আমাকে সরাতে চায়। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি আমাদের কথা যদি জনগন বিশ্বাস না করে তাহলে আস্থার জায়গা থাকলো কই?।এতোদিনের অভিজ্ঞতায় আমি মনে করি কর্মের মাধ্যমে জনগনের মাঝে একটি আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। এজন্য আমি বারবার বলি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে যাবোনা।
    অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বরিশাল মহানগরীর ৩৯টি সার্বজনীন পুজামন্ডপ কর্তৃপক্ষের হাতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে ও মেয়রের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ৬টি ব্যক্তিগত পুজা মন্ডপে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ও মেয়রের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ০৫ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও একক চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, বরিশাল জেলা পুজা উদযাপন কমিটির পক্ষে রাখাল চন্দ্র দে, মানিক মুখার্জী কুডু, বরিশাল মহানগর পুজা কমিটির সভাপতি তমাল মালাকার, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাস পাপ্পাসহ নগরীর সকল মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। অনুদান প্রদান শেষে আগত পুজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। উল্লেখ্য আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে এবছরের পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দূর্গোৎসব শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে। হিন্দু পঞ্জিকামতে, এ বছর দেবীদুর্গা হাতির পিঠে চেড়ে পৃথিবীতে অর্থাৎ বাবার বাড়িতে আসবেন। আর কৈলাসে স্বামীর বাড়িতে ফিরবেন নৌকায়।

  • পঞ্চগড়ে নৌকাডুবে ২৪ জনের মৃত্যু

    পঞ্চগড়ে নৌকাডুবে ২৪ জনের মৃত্যু

    পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ২৪ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়া ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নৌকায় করে মাড়েয়া আউলিয়া ঘাট এলাকায় ফেরার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিষয়টিতে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে ১৬ জনের লাশ রয়েছে। এছাড়া বাকিদের লাশ বোদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে।

  • জি কে শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন

    জি কে শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন

    নিউজ ডেস্কঃঃ অস্ত্র আইনের মামলায় যুবলীগ নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে।

    ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম রায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    রাজধানীর গুলশান থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় রোববার দুপুরে।

    ২০১৯ সালে জি কে শামীমকে গ্রেফতার করার পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার রায় হলো।

    রায়ের সময় জি কে শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    জি কে শামীম ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার দেহরক্ষী দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

    ক্যাসিনোবিরোধী অভিযোগের মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালায় র্যাব। ওই ভবন থেকে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয় অভিযান শেষে।

    তখনই শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করে র‌্যাব।

    এর মধ্যে অস্ত্র ও মুদ্রা পাচার মামলায় সবাইকে আসামি করা হলেও মাদক আইনের মামলায় শুধু শামীমকে আসামি দেখানো হয়। প্রত্যেক মামলাতেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

    রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন শামীম। র্যাব সদর দপ্তর, সচিবালয়ে ও কয়েকটি হাসপাতালের নতুন ভবনসহ অন্তত ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ ছিল শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্সের হাতে রয়েছে। এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চাই

    রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চাই

    নিউজ ডেস্কঃঃ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গণহারে বাংলাদেশে প্রবেশের এরই মধ্যে পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে রোহিঙ্গাদের। মিয়ানমারে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো যায়নি। মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে আরও দুরূহ করে তুলছে। আশাকরি, এ বিষয়ে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং জ্বালানি, খাদ্যসহ নানা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে। এ কারণে, আমাদের মতো অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।

    তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চাই। নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে নারী, শিশুসহ ও গোটা মানবজাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়। এর প্রভাব কেবল একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সব মানুষের জীবন-জীবিকা মহাসংকটে পতিত হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। মানুষ খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে, শিশুরাই বেশি কষ্ট ভোগ করে। তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

  • কৃতজ্ঞচিত্তে সিটি মেয়র সাদিককে শ্রদ্ধা জানালো নরসুন্দর ইউনিয়ন

    কৃতজ্ঞচিত্তে সিটি মেয়র সাদিককে শ্রদ্ধা জানালো নরসুন্দর ইউনিয়ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যাণ ইউনিয়ন। সম্প্রতি নরসুন্দরের এক সদস্যকে চিকিৎসার জন্য বলার তিন ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসার সকল দায়ভার নিয়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় এই কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

    নরসুন্দর কল্যাণ ইউনিয়নের সভাপতি রতন চন্দ্র শীল বলেন, আমরা শ্রদ্ধাবনত চিত্তে মাননীয় মেয়র মহোদয়কে কৃতজ্ঞতা জানাই। এভাবে ইতিপূর্বেও তিনি আমাদের সদস্যদের পাশে দাড়িয়েছেন। মাটি ও মানুষের জন্য রাজনীতি করা এই মানুষটি দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করে আশির্বাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি বরিশালবাসীকে হৃদয়ে ধারন করেন। আমাদের সুযোগ্য অভিভাবক তিনি। তাছাড়া এই সহায়তা প্রদানের পর থেকে প্রতি সেলুনে সেলুনে আলোচনার ঝড় ওঠে।

    নরসুন্দর কল্যাণ ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র শীল বলেন, আমরা কৃতজ্ঞতার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সৃষ্টিকর্তা এই মহান মানুষটির সর্বাঙ্গিন কল্যাণ করুন।

    জানা গেছে, অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করা বরিশাল নগরীর এক নরসুন্দরের পরিবারের আবেদনের তিন ঘন্টার মধ্যেই স্বজনদের কাছে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। গত শনিবার নগরীর সরকারি বরিশাল কলেজ সংলগ্ন রজনীগন্ধ্যা কমিউনিটি সেন্টারে বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যান সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও বিশ্বকর্মা পুজার আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নগরীর সাগরদী গাওসিয়া সড়ক নিবাসী ও একই এলাকার জয় হেয়ার ড্রেসার নামক প্রতিষ্ঠানের নরসুন্দর স্বপন চন্দ্র শীলের স্ত্রী রিতা রানী শীল জানান, তার স্বামী গত একবছর যাবত অসুস্থ্যতায় ভুগছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় স্বপন চন্দ্র শীল যেমন আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তেমনি কর্মস্থলে যেতে না পারায় সংসারের ভরণপোষন ও চালাতে পারছেন না। তিন লাখ টাকা হলে তার স্বামীকে অপারেশন করে সুস্থ করে তোলা সম্ভব বলে জানান রিতা রানী।

    তার এ কথা শুনে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ স্বপন শীলের অপারেশনের পুরো টাকা দেয়ার কথা বলে অনুষ্ঠান শেষে বাসায় দেখা করতে বলেন। পরবর্তীতে রিতা রানী তার পুত্র জয় শীলকে সাথে নিয়ে গতকালই মেয়রের কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনে দেখা করেন।

    এসময় মেয়র তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্বপন শীলের চিকিৎসার জন্য নগদ তিন লাখ টাকা স্ত্রী রিতা রানী শীলের হাতে তুলে দেন।
    আর্থিক সহায়তার অর্থ পেয়ে অশ্রু সংবরণ করতে না পারা রিতা রানী বলেন, তার বিশ্বাস ছিলো মেয়রের সাথে দেখা করে তাদের দূরাবস্থার কথা জানালে মেয়র তাদের ফিরিয়ে দিবেন না। মেয়র তার বিশ্বাসের পুরোটাই বাস্তবায়ন করে চিকিৎসার পুরো টাকাই তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য দিয়েছেন। টাকাগুলো হাতে পেয়ে মেয়রের জন্য রিতা রানী দু’হাত তুলে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন বলেন সৃষ্টিকর্তা যেন মেয়রকে র্দীঘজীবী করে।

  • বিশ্বে করোনায় আরও ১১৭০ মৃত্যু, শনাক্ত সোয়া চার লাখ

    বিশ্বে করোনায় আরও ১১৭০ মৃত্যু, শনাক্ত সোয়া চার লাখ

    নিউজ ডেস্কঃঃ বিশ্বে মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই কমেছে। এসময়ে এক হাজার ১৭০ জনের মৃত্যু এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৪ লাখ ২১ হাজার ৮০৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জাপানে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    মহামারি শুরুর পর থেকে ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫২০ জন এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৬১ কোটি ৯০ লাখ ৯০ লাখ ৬৫ হাজার ১৩১ জন।

    শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    জাপানে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৬১ হাজার ৪৭৮ জন এবং মারা গেছেন ১২০ জন। পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন শনাক্ত এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৪ হাজার ৭১ জনের।

    দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে মারা গেছেন ২২২ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ৫৯৮ জন। করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭২৮ জন শনাক্ত এবং ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৬ জন মারা গেছেন।

    রাশিয়ায় একদিনে সংক্রমিত হয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৭ জন এবং মারা গেছেন ১০৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ২ কোটি ৬ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৯ জন এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৭ জন।

    একদিনে ফ্রান্সে নতুন শনাক্ত ৩৮ হাজার ৪৬৪ জন এবং মারা গেছেন ৩০ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ১৩৩ জন শনাক্ত এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৯৭২ জন এবং মারা গেছেন ৫৯ জন। এসময়ে ফিলিপাইনে শনাক্ত ২ হাজার ৭০২ জন এবং মারা গেছেন ৩৮ জন।

  • বাংলাদেশে বিপুল মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে বিপুল মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিউজ ডেস্কঃঃ বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পেরে বাংলাদেশ সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ওষুধ, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরিতে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সফররত প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান করা হোটেলে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের কাউন্সিল আয়োজিত উচ্চ-স্তরের পলিসি গোলটেবিলে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

    সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা, কর অবকাশ, রয়্যালটির রেমিটেন্স, অনিয়ন্ত্রিত প্রস্থান নীতি এবং পুরোপুরি প্রস্থানের সময় লভ্যাংশ ও মূলধন নিয়ে যাওয়ার সুবিধা।

    বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (এসইজেড) এবং বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৬ লাখেরও বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদার রয়েছে, ফলে, বাংলাদেশ আইটি বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য।

    তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশে একটি অতিরিক্ত সুবিধা। এমনকি যদি প্রয়োজন হয়, আমরা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের’ প্রস্তাব করতে পরলে খুশি হবো।

    তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রগামী এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার অভূতপূর্ব সম্ভাবনা প্রদান করেছে।

    তিনি আরও বলেন, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন মানুষের সম্মিলিত বাজারের মাঝখানে রয়েছে।

    প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন হচ্ছে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে, বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, তৃতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে, চতুর্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনকারী হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিবেশী দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি চালিয়ে যাবে। আমরা ক্রমাগত আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করছি এবং দেশে যোগাযোগ উন্নত করছি।

    ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর সমাপ্তি অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ উভয়ই উন্নত করেছে, যেখানে ঢাকা মেট্রো-রেল প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দ্রুত অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা যোগ করবে’- বলেন শেখ হাসিনা

    বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি মর্যাদা থেকে স্নাতক হতে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বাস্কেট বাড়ানোর জন্য তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জিং প্রচেষ্টায় আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। আইএলও রোডম্যাপ উদ্যোগ মোকাবিলা করার জন্য কর্মের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং সময়রেখা প্রদান করে এবং শ্রম খাতে প্রতিকারের পরামর্শ দেয়।
    তাঁর সরকার এই সেক্টরে ক্রমাগত উন্নতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে পর্যাপ্তভাবে নিযুক্ত রয়েছে। মার্কিন সরকার শ্রম ইস্যুতে ৩+৫+১ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে।

    দ্বিতীয় উচ্চ স্তরের অর্থনৈতিক পরামর্শের ফলোআপ সিদ্ধান্ত হিসাবে একটি ‘সরকার থেকে সরকার’ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এইদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিটি সাফল্য কামনা করেন এবং আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন যে এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে, বলেন, আসুন আমরা আবারও একটি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্বের জন্য আমাদের হাত মেলাই।
    এ বছর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদার এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সামরিক-সামরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসহ বিস্তৃত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের প্রসারের মাধ্যমে পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে দুদেশের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২১-২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একটি শোষণমুক্ত সমাজ এবং পূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে, তিনি আরও বলেন, ‘আমার সরকার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • বকেয়ার জন্য সড়ক বাতি ও পানির সংযোগ বন্ধ করে জনগনকে জিম্মি করা দুঃখজনক নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিসিসি মেয়রের শংকা

    বকেয়ার জন্য সড়ক বাতি ও পানির সংযোগ বন্ধ করে জনগনকে জিম্মি করা দুঃখজনক নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিসিসি মেয়রের শংকা


    বেলায়েত বাবলু ॥
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও চলমান এস.এস.সি পরীক্ষার সময়ে বরিশাল নগরীর সড়ক বাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ঘটনায় নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। মেয়র গতকাল বুধবার রাতে নগরীর কালিবাড়ী রোডের সেরনিয়াবাত ভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ শংকা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সাথে তার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলেছেন। কিভাবে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছে তা সকলেরই জানা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ৬৬ কোটি টাকার উপরে নিজস্ব অর্থায়নে নগরীর উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। বকেয়ার জন্য সড়ক বাতি ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেয়াকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে মেয়র বলেন, তারা বকেয়ার জন্য প্রয়োজনে আমার বাসা, দপ্তর এমনকি সিটি কর্পোরেশন ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারতো। কিন্তু জনগনকে জিম্মি করে তাঁদের ভোগান্তিতে ফেলার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারেনা। মেয়র বলেন, আমি এব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, খুলনা থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, আপনারা সংযোগ দিয়ে নিন। যেহেতু বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে সেখানে আমরা কিভাবে সেখানে হাত দেই? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো ছাড়া আর কিছু করার নেই উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের থেকে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কাছে বেশী বকেয়া থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে আপাতদৃষ্টিতে ষড়যন্ত্র বলেই মনে হচ্ছে। এবিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল বকেয়া বিদ্যুৎ পরিশোধের নিমিত্ত জুম অ্যাপসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয়-এর এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, যেসব পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আছে এবং তা পরিশোধ না করলে সেসব পৌরসভা ও কর্পোরেশনের সড়কবাতি ব্যতিত অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যেতে পারে। সংযোগ পৌরসভাসমূহ ও সিটি কর্পোরেশন সমূহ প্রথমে মূল বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবে। এককালীন পরিশোধ করতে না পারলে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এবং সারচার্জ মওকুফের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা /কোম্পনীর নিকট প্রস্তাব দিতে হবে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সড়কবাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কোনো সুযোগই নেই। মেয়র বলেন, কোন ধরণের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সড়কবাতিসহ ১১টি পানির পাম্পের সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খতিয়ান দিয়ে মেয়র সাংবাদিকদের জানান, তার দায়িত্বপালনকালীন সময়ে মোট ১৫ কোটি ৮ লাখ ৪৮ হাজার পাওনার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সময়ে মোট বকেয়া ছিলো ২০ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৫ টাকা যার বিপরীতে কোন টাকাই পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৯ টাকা সহ মোট বকেয়া দাঁড়ায় মোট ৪২ কোটি ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪ টাকা। এর বিপরীতে সাবেক মেয়র কামাল পরিশোধ করেছিলেন ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। মেয়র তার দেয়া হিসেব বিশ্লেষন করে বলেন, বিগত দুই পরিশোধের সময়ে বকেয়া টাকা যেমন আদায় করা হয়নি তেমনি ওই সময়ে সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। মতবিনিময়কালে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর, বিসিসির প্যানেল মেয়র-১ গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, প্যানেল মেয়র-২ অ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহম্মেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।