Category: প্রচ্ছদ

  • শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

    শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা অন্যকোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি শিল্পকারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

    আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যারাই অন্যায় করছে, তাদের বিচার হচ্ছে। সে হোক শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা অন্যকোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচার হচ্ছে না কথাটা কিন্তু সঠিক নয়। যারা এই অন্যায় করে, দুষ্কর্ম করে তাদের যথাযোগ্য বিচার হচ্ছে। এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচার করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ কিংবা প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি অন্যায় করলেই তার বিচার হচ্ছে। অপরাধ করলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • দেশে করোনাভাইরাসে ৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬১৮

    দেশে করোনাভাইরাসে ৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬১৮

    নিউজ ডেস্কঃ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ২৮৪ জনে। এ সময়ের মধ্যে ৬১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪ হাজার ১৮৮ জনে।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৮৭২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৪০ হাজার ৮৩ জন।

    ৯ হাজার ৩৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ৩৩৮টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

  • বিশ্বে একদিনে করোনা আক্রান্তের শীর্ষে জাপান

    বিশ্বে একদিনে করোনা আক্রান্তের শীর্ষে জাপান

    নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৮৯ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়ালো ৬৪ লাখ ৯ হাজার ৯১২ জনে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৪ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৭ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ জনে।

    বৃহস্পতিবার সকালে করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্স থেকে এ তথ্য মিলেছে।

    ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে জাপানে। এ সময়ে দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ২২৬ জন এবং মারা গেছেন ১০৮ জন।

    যুক্তরাষ্ট্রে গত একদিনে ভাইরাসেটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ জন এবং মারা গেছেন ৩৯২ জন। এ সময়ে ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৬১ জন এবং মারা গেছেন ৩০৮ জন। একই সময়ে ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৬৩৮ জন এবং মারা গেছেন ১০৩ জন। ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ৮৩৭ জন এবং মারা গেছেন ২০৭ জন।

    তাইওয়ানে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ৬৯২ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। এ সময়ে রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ২৭ জন এবং মারা গেছেন ৩৬ জন। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৪ জন এবং মারা গেছেন ৮২ জন। থাইল্যান্ডে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৪৭ জন এবং মারা গেছেন ৩৪ জন। চিলিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৪৪ জন এবং মারা গেছেন ১২ জন।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

  • হেপাটাইটিস প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা বাড়াতে হবে

    হেপাটাইটিস প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা বাড়াতে হবে

    নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বে হেপাটাইটিস ভাইরাস বহনকারী প্রতি ১০ জনের নয়জনই জানে না যে, সে ওই রোগে আক্রান্ত। ব্যাপক গণসচেতনতার মাধ্যমে জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘Hepatitis, Can’t Wait’ অর্থাৎ ‘হেপাটাইটিস, আর অপেক্ষা নয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

    শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা একটি জনমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করেছি ও এই নীতির বাস্তবায়ন করছি। আমরা নতুন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ, নার্সি ইনস্টিটিউট, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছি।

    তিনি আরও বলেন, সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা এবং চিকিৎসাসেবা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউিনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। আমাদের নানামুখী পদক্ষেপে স্বাস্থ্যখাতে যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, বেড়েছে দেশের মানুষের গড় আয়ু।

    ‘আমাদের চিকিৎসক সমাজকে আরও বেশি সেবার মনোভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত এবং আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় তা অর্জন করা সম্ভব। হেপাটাইটিস নির্ণয়ে এখনই পরীক্ষা করতে হবে।’

    ‘দেশে হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি দেশবাসীকে আহ্বান জানাই, আপনারা এ মহামারি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে হেপাটাইটিস প্রতিরোধে আরও সচেতন হোন। আমি বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২২- এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।’

  • সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ গুনতে খরচ ১৫৭৫ কোটি টাকা

    সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ গুনতে খরচ ১৫৭৫ কোটি টাকা

    নিউজ ডেস্কঃ দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ এবং নারী ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী ১২ হাজার ৬২৯ জন। বহুল প্রতীক্ষিত জনশুমারি ও গৃহগণনায় এ তথ্য মিলেছে। আর দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ গুনতে খরচ হয়েছে এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।

    দেশের প্রথম ডিজিটাল এ জনশুমারিতে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কেনা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকা। এছাড়া প্রায় ৪ লাখ গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের সম্মানি বাবদ ৪৫৭ কোটি টাকা খরচ হয়। এসব টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর পরপর দেশের প্রতিটি মানুষকে গণনার আওতায় আনা হয়। এজন্য ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। শুরুতে এ প্রকল্পের খরচ ধরা হয় এক হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। পরে প্রকল্পের সংশোধনীতে ব্যয় কিছুটা কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।

    বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় বিবিএসের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। প্রাথমিক প্রতিবেদনবিষয়ক উপস্থাপনা করেন প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন।

    অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন জানান, স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা করা হয়।

    পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ‘আদমশুমারি’-কে ‘জনশুমারি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১০ বছর পর্যাবৃত্তি অনুসরণ করে ষষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয়। গত ১৫ থেকে ২১ জুন দেশব্যাপী এ শুমারি পরিচালিত হয়।

    প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারিতে ডিজিটাল ডিভাইস ট্যাবলেট ব্যবহার করে কম্পিউটার অ্যাসিটেড পার্সনাল ইন্টারভিউইং পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সহজে ও সুনির্দিষ্টভাবে শুমারির গণনা এলাকা চিহ্নিত করা হয়। কোনো খানা (হোল্ডিং) গণনা থেকে বাদ না পড়া বা একাধিকবার গণনা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতের লক্ষ্যে জিও গ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম সমন্বয় করে ডিজিটাল ম্যাপ প্রস্তুত ও শুমারিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

    ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে গণনাকারীরা নির্ধারিত এলাকার প্রতিটি বাসগৃহ, খানা ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ডিজিটাল এ শুমারি বাস্তবায়নে সারাদেশে একযোগে তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার হয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত ট্যাবসমূহ মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

    এছাড়া মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে স্থাপিত বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) সমৃদ্ধ ডাটা সেন্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

    মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের পাশাপাশি তথ্যের গতিবিধি সরাসরি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছিল, যা তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    সার্বিকভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সহজতর হয়েছে। স্বল্পসময়ে তথা মূল শুমারি সম্পাদনের মাত্র একমাসের মধ্যে শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশও সম্ভব হয়েছে। এটি বিবিএসের সফলতা ও সক্ষমতার প্রমাণ।

  • করোনায় আরো ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬২৬

    করোনায় আরো ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬২৬

    নিউজ ডেস্কঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ২৮০ জনে। এ সময় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬২৬ জন। ফলে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ২০ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ জনে দাঁড়িয়েছে।

    আজ বুধবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ২২৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে আগের কিছুসহ পরীক্ষা করা হয় মোট ৯ হাজার ১৬২টি নমুনা। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৮২ হাজার ২৪০টি। পরীক্ষায় আরো ৬২৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ তিন হাজার ৫৭০ জনে।

    অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুইজন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতদের মধ্যে মোট ১৮ হাজার ৬৮৯ জন পুরুষ ও ১০ হাজার ৫৯১ জন নারী।

  • দুর্নীতির মামলায় প্রদীপের ২০, স্ত্রীর ২১ বছরের কারাদণ্ড

    দুর্নীতির মামলায় প্রদীপের ২০, স্ত্রীর ২১ বছরের কারাদণ্ড

    নিউজ ডেস্কঃ সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার রায়ে প্রদীপ কুমারকে ২০ বছর ও তার স্ত্রী চুমকী কারনকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের সম্পতি বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হয়েছে।

    বুধবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    দুদকের মামলার আইনজীবী চট্টগ্রাম আদালতের পিপি মাহমুদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালতে এই রায় দিয়েছেন।

    পিপি মাহমুদুল হক বলেন, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় চুমকি কারনকে একবছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ টাকা জরিমানা ও একমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ২৭(১) ধারায় প্রদীপ ও চুমকীকে ৮ বছর করে কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এছাড়া মানি লন্ডারিং আইনের ৪(২), (৩) ধারায় প্রদীপ ও চুমকী প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চুমকি ও প্রদীপকে ২ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এই ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব সাজা একসঙ্গে চলবে।

    এছাড়া একইসঙ্গে প্রদীপের ঘুষের টাকায় চুমকির নামে নেওয়া কোটি টাকার বাড়ি, গাড়ি ও ফ্ল্যাট রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় প্রদীপ ও চুমকি দুজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রদীপ ও চুমকিকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রদীপের আইনজীবী সমীর দাশ গুপ্ত ঢাকা পোস্টকে বলেন, রায়ে আমরা সম্পূর্ণভাবে অসন্তুষ্ট। আমরা উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন।

    দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

    এরপর গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদ দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনের মাধ্যমে প্রদীপ এবং তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।

    এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। প্রদীপ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও চলতি বছরের ২৩ মে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। পরে আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠান।

    জানা গেছে, চুমকির ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। বাকি সম্পদ অর্থাৎ ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

    চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে একটি বাড়ি, ৪৫ ভরি স্বর্ণ, একটি কার ও মাইক্রোবাস, কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাটের মালিক প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। প্রদীপের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রী চুমকি এসব সম্পদ অর্জন করেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া চুমকি নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক।

    ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মেরিনড্রাইভ চেক পোস্টে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একই বছরের ৬ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ওসি প্রদীপ। সিনহা হত্যা মামলায় প্রদীপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

  • যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে বেশি ধকল সইতে হচ্ছে

    যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে বেশি ধকল সইতে হচ্ছে

    অনলাইন ডেস্কঃ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি ধকল সইতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার (২৭ জুলাই) ডি-৮ মন্ত্রীদের ২০তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি ধকল সইতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশিরভাগ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সাহসিকতার সঙ্গে এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।

    তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, সংঘাত, খাদ্য এবং জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্ব একটি কঠিন সময় পার করছে। এই সময়ে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা প্রয়োজন এবং বৈশ্বিক সংহতি আগের চেয়ে বেশি মনোযোগের দাবি রাখে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে আমাদের সম্ভবনাগুলোকে কাজে লাগাতে এক সঙ্গে কাজ করি।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে সারা বিশ্বে সৃষ্ট মানবিক সংকট সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে সারা বিশ্ব যখন গভীর সংকটে তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বকে নতুন বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

  • ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বেশি মানুষের বাস, বরিশালে সর্বনিম্ন

    ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বেশি মানুষের বাস, বরিশালে সর্বনিম্ন

    অনলাইন ডেস্কঃ ঢাকা বিভাগের পল্লি এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করে। এ বিভাগের পল্লি এলাকার মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১৬ জন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের পল্লি এলাকায় সবচেয়ে কম মানুষ বসবাস করে। এ বিভাগের পল্লি এলাকায় ৬৮ লাখ ৯ হাজার ৮৪৪ জন মানুষের বাস।

    পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

    জনশুমারির তথ্যানুযায়ী, গত এক দশকে ২ কোটি ১১ লাখ ১৪ হাজার ৯২০ জন বেড়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন, নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠী ১২ হাজার ৬২৯ জন। দেশে মোট ভাসমান জনসংখ্যা ২২ হাজার ১১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৮৪ জন এবং নারীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩৩৫ জন। মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে গ্রামে বাস করেন ১১ কোটি ৬৩ হাজার ৫৯৭ জন এবং শহরে বাস করেন ৫ কোটি ৯ হাজার ৭২ জন।

    খসড়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে পল্লি এলাকার মোট জনসংখ্যার ৫ কোটি ৫১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪২ জন পুরুষ, নারী ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার ৪৬২ জন এবং হিজড়া ৬ হাজার ২৮২ জন। শহর এলাকায় মোট জনসংখ্যার ২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৮২ জন পুরুষ, ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন নারী এবং হিজড়া ৬ হাজার ৩৪৬ জন।

    পল্লি এলাকায় সর্বাধিক জনসংখ্যা ঢাকা বিভাগে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১৬ জন এবং সর্বনিম্ন বরিশালে ৬৮ লাখ ৯ হাজার ৮৪৪ জন। শহর এলাকার সর্বাধিক জনসংখ্যা ঢাকা বিভাগে ২ কোটি ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৩৯ জন এবং সর্বনিম্ন জনসংখ্যা সিলেট বিভাগে ২০ লাখ ৬৫ হাজার ১২৩ জন।

  • মাছ-মাংস-ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

    মাছ-মাংস-ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্কঃ সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার (২৭ জুলাই) ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) ২০২০’ সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) ২০২০’ সম্মাননা প্রদান করতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন এবং যারা এ স্বীকৃতি পাচ্ছেন তাদেরও আন্তরিক অভিনন্দন।

    সরকারপ্রধান বলেন, আমরা দেশব্যাপী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। এতে কৃষিনির্ভর শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে সফল হয়েছি। এ সেতুর মাধ্যমে নদীবিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং সারাদেশে দ্রুত বাজারজাতকরণের ফলে এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবনমান আরও উন্নতি হবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে। ধান, পাট, আম, পেয়ারা, আলু প্রভৃতি ফসল ও ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ৮টি দেশের মধ্যে রয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমে যারা অবদান রাখছেন, তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গকে আজ ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) ২০২০’ হিসেবে ঘোষণা ও সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে দেশে কৃষিপেশার মর্যাদা সমুন্নত হবে এবং কৃষির উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য, বর্তমান প্রয়াসকে আরও গতিশীল করে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম অনুধাবন করেছিলেন, জ্ঞাননির্ভর আধুনিক কৃষিই উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রথম সোপান। তাই তিনি স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

    ‘১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, নতুন করে গড়ে উঠবে এই বাংলা। বাংলার মানুষ হাসবে। বাংলার মানুষ খেলবে। বাংলার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে। বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে। এই আমার জীবনের সাধনা, এই আমার জীবনের কাম্য।’

    শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থার আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফসহ উন্নত কৃষি উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে কৃষির উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগাতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ প্রবর্তনের পাশাপাশি কৃষিবিদদের সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু।

    জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে কৃষির আধুনিকীকরণ ও সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি ও সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আধুনিক কৃষিশিক্ষার প্রসারে নতুন নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করেছি। কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। একই সঙ্গে জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষি বাতায়ন, কৃষকবন্ধু ফোন সেবা (৩৩৩১), কৃষকের জানালা, কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) ইত্যাদির মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। ফলে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভাসমান চাষ, বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন, ট্রান্সজেনিক জাত উদ্ভাবন, পাটের জেনোম সিকুয়েন্স উন্মোচন ও মেধাসত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সার, বীজসহ সব কৃষি উপকরণের মূল্যহ্রাস, কৃষকদের সহজশর্তে ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগসহ তাদের নগদ সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। এসব কর্মসূচির ফলে আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি।

    প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি)’ হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের আবারও অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।