Category: প্রচ্ছদ

  • বরিশালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর শ্রদ্ধাঞ্জলি

    বরিশালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর শ্রদ্ধাঞ্জলি

    বঙ্গবন্ধুর ১০২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ১১ নং ওয়ার্ড,  বরিশাল মহানগর  এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আজ ১৭ই মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্না,বরিশাল জেলা শ্রমিকলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির মোতালেব,বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ বরিশাল মহানগর সভাপতি মুহাঃ পলাশ চৌধুরী ও জাহিদ হোসেন,হাজি সোহেল,সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    এর আগে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাড, একেএম জাহাঙ্গির হোসাইন,সাধারন সম্পাদক বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।এছাড়াও শ্রদ্ধা নিবেদন করে বরিশাল জেলা ও মহানগর শ্রমিক লীগ,কৃষক লীগ,মহিলা আওয়ামী লীগ,বরিশাল আইনজীবী সমিতি,জেলা ও মহানগর যুবলীগ,ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।

    অপরদিকে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার টাউন হল সংলগ্ম বরিশাল সাংস্কৃতি সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃর্তিতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

  • বরিশালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

    বরিশালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

    বরিশালে বিভিন্ন সংগঠনের নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১৭ই) মার্চ সকাল নয়টায় নগরীর শহীদ সোহেল চত্বরে মহানগর ও জেলা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করে জেলা ও নগর আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা। অপরদিকে সকাল দশটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু উদ্যান সম্মুখে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানায়।

    দিবসটি ঘিরে আওয়ামীলীগ আলোচনাসভা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। আর জেলা প্রশাসন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, দোয়া মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি করেছে। এছাড়াও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নানা দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে কর্মসূচির অয়োজন করেছে ।

    পরবর্তীতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাড, একেএম জাহাঙ্গির হোসাইন,সাধারন সম্পাদক বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।এছাড়াও শ্রদ্ধা নিবেদন করে বরিশাল জেলা ও মহানগর শ্রমিক লীগ,কৃষক লীগ,মহিলা আওয়ামী লীগ,বরিশাল আইনজীবী সমিতি,জেলা ও মহানগর যুবলীগ,ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।

    অপরদিকে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার টাউন হল সংলগ্ম বরিশাল সাংস্কৃতি সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃর্তিতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

  • স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী আজ

    স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী আজ

    বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মদিন। স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

    বাংলার রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তিসংগ্রামের অনুপ্রেরণার উৎসও হয়ে ওঠেন তিনি।

    প্রায় দুইশ’ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে স্বাধীনতার জন্য উত্তাল ভারতের অগ্নিগর্ভে জন্ম নেন শেখ মুজিব। পরাধীন ভারতে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিব শৈশব থেকেই জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও নির্যাতন দেখেছেন। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দেখে তাদের মুক্তির সংগ্রামে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

    ব্রিটিশ শাসন-শোষণের হাত থেকে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ মুক্ত হলেও বাঙালির ওপর জেঁকে বসে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন। ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র শুরু থেকেই বাঙালির ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতে থাকে

    অন্যায়ের বিরুদ্ধে তখন থেকেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বাঙালি। ছাত্রজীবন থেকেই বাঙালির মুক্তির আন্দোলনে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করে। ধারাবাহিক পথ পেরিয়ে শেখ মুজিব বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন।

    যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। একাত্তরের ৭ মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়াতে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত থাক, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো…’। বঙ্গবন্ধুর এই চূড়ান্ত নির্দেশই জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে শক্তি ও সাহস জোগায়।


    চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন।

    ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতার বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন তিনি এবং এই কলেজের বেকার হোস্টেলে আবাসন গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে শেখ মুজিব বিএ পাস করেন। তিনি ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি হোসেন সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় শান্তি স্থাপনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অসম সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

    ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন শেখ মুজিব।

    ভ্রান্ত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্না উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ তথা বাঙালি জাতি প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নেমে আসে জেল-জুলুম নির্যাতন।

    রাজনৈতিক জীবনে এক যুগেরও অধিককাল তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। দুইবার তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, ১৮ বার কারাবরণ করেছেন। পাকিস্তাানি শাসক চক্রের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য তৈরি করেছেন। ’৫২, ’৫৪, ’৬২, ’৬৬- এর আন্দোলন আর ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ’৭০-এর নির্বাচনে বিজয় সবই জাতির সংগ্রামী ইতিহাসের একেকটি মাইলফলক। আর এই সংগ্রামের নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৬৯- এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হন।

    স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন। তিনি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি অর্থাৎ দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় মানবতার শত্রু, স্বাধীনতা বিরোধী, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ঘাতক চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

  • মির্জাগঞ্জ মরহুম হজরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা মাজার জিয়ারতে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ

    মির্জাগঞ্জ মরহুম হজরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা মাজার জিয়ারতে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ

    মির্জাগঞ্জ মরহুম হজরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা ছাহেব (রঃ) এর মাজার জিয়ারত এবং দোয়া মোনাজাত করেন পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির আহবায়ক(মন্ত্রী),বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

    এসময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক সেরনিয়াবাত মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ, গৌরনদী, উজিরপুর মেয়র, বানারীপাড়া, উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যন সহ নেতৃবৃন্দ তার সাথে ছিলেন।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে পাঠদান শুরু, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে পাঠদান শুরু, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

    করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পুরোদমে পাঠদান শুরু হয়েছে। দুই বছর পর এদিন থেকে প্রাক-প্রাথমিকেও শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরু হয়।

    নিয়মিত তথা পুরোদমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর দিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আর সব শ্রেণির ক্লাস উপলক্ষে স্কুলগুলোও যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে ক্লাস শুরু করতে সোমবার (১৪ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার কমে যাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ বিভাগের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ১৫ মার্চ থেকে অব্যাহত থাকবে।

    চলতি বছরের শুরুতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় ২১ জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়।

    প্রথমে প্রতিটি শ্রেণিতে প্রতিদিন দুটি ক্লাস নেওয়া শুরু হয়। এরপর করোনা সক্রমণ কমে গেলে প্রতিদিন একটি শ্রেণির চারটি ক্লাস নেওয়ার রুটিন প্রকাশ করে সরকার।

    আর মাধ্যমিকে গত বছরের নির্ধারিত সর্বশেষ সূচিতে প্রতিদিন প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চারটি ক্লাস ছিল। সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় ২২ মার্চ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। সেদিন থেকে সীমিত সংখ্যক ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

    তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশরীর ক্লাস শুরু হয় গত ২ মার্চ। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস শুরু হয়। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয় গত ২ মার্চ।

    শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সকাল ৮টায় ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

  • বরিশাল সিটি মেয়রের সাথে পৌর মেয়রদের মতবিনিময়

    বরিশাল সিটি মেয়রের সাথে পৌর মেয়রদের মতবিনিময়

    মহান স্বাধীনতা দিবস-২০২২ উপলক্ষে বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন বিভাগের সকল পৌরসভার মেয়র।

    সোমবার বিকেলে নগরীর কালিবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয। সভায় পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ, মোঃ শফিকউজ্জামান রুবেল, মোঃ জিয়াউল হক জুয়েল, এমদাদুল ইসলাম তুহিন, গোলাম কবির, মতিউর রহমান, আনোয়ার হাওলাদার, বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, এ.বি.এম. গোলাম কবির, কামাল উদ্দিন খান, মোঃ আঃ হাই হাওলাদার, সুভাষ চন্দ্র শীল, মোঃ আনোয়ার হোসেন আকন, আহসানুল হক তুহিন এবং প্যানেল মেয়র আঃ ওয়াহেদ খান সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ পৌর মেয়রদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন করে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার আহবান জানান। আওয়ামী নেতৃত্ব, নৌকা ও প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানীত করার জন্য সকলকে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার জন্য পৌর মেয়রদের পরামর্শ দেন মেয়র সাদিক।

  • করোনা শনাক্ত ৪৬ কোটি ছাড়ালো

    করোনা শনাক্ত ৪৬ কোটি ছাড়ালো

    করোনাভাইরাসে মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৩ জনে এবং শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৮১ জনে। এছাড়া করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৩৯ কোটি ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৪ জন।

    আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি ৫৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে রাশিয়ায়। তবে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৯ হাজার ৭৬৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।

    করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ২৬৪ জনের। এ সময়ে দেশটিতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩২৬ জনের।

    এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ভিয়েতনামে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৬২, জার্মানিতে ১ লাখ ১ হাজার ৮৭২, জাপানে ৫২ হাজার ২, নেদারল্যান্ডে ৪৫ হাজার ৮৯২, যুক্তরাজ্যে ৪৭ হাজার ১৮১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

    অন্যদিকে এ সময়ে ব্রাজিলে ১৮৭, ফ্রান্সে ১৮৫, জার্মানিতে ১৩৬, তুরস্কে ১৩৩, ইতালিতে ১২৯, ইরানে ১১৪, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০০, ইন্দোনেশিয়ায় ২৭১, জাপানে ১২৫, চিলিতে ১২৬ এবং হংকংয়ে ২৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১ জনের এবং করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩৯ জনের। এ নিয়ে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৫ জনে এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১১২ জনে।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর পর নানান ধাপে তা বাড়ে-কমে। বিশেষ করে করোনার ডেল্টা ধরনে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে কিছুটা বাড়লেও এরপর থেকে করোনা নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে।

  • হাদিসুরের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল; স্বজনদের আহজারি

    হাদিসুরের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল; স্বজনদের আহজারি

    ইউক্রেনে রকেট হামলায় নিহত ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের (৩৩) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় হাদিসুরের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সকাল দশটায় বাড়ির পাশের মাঠে হাদিসুরের জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে তাকে বাড়ির সামনে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বেতাগী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুহৃদ সালেহীন, উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকানসহ নৌ মন্ত্রণালয়, র্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা।

    এর আগে সোমবার দুপুরে তার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে রোমানিয়া থেকে হাদিসুর রহমানের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। এরপর বিমানবন্দর থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত পৌনে ১০টায় মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যানে করে তার কফিনবন্দি মরদেহ পৌঁছায় নিজ বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে।

    চলতি মাসের ২ তারিখে ইউক্রেনে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে রকেট হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হন। ৩ মার্চ অক্ষত অবস্থায় জাহাজটি থেকে ২৮ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদ বাঙ্কারে রাখা হয়। সেখান থেকে তাদের প্রথমে মলদোভা, পরে রোমানিয়া নিয়ে আসা হয়।

    গত ৯ মার্চ ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ইউক্রেন থেকে ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও তখন হাদিসুর রহমানের মরদেহ আনা সম্ভব হয়নি। তার মরদেহ ইউক্রেনে ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছিল।

    ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে ২৮ জন নাবিক নিয়ে আটকা পড়েছিল ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এই জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটি ইউক্রেন থেকে সিরামিকের কাঁচামাল নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার কথা ছিল।

  • জয় বাংলা’ আমাদের মাথা উঁচু করে চলার স্লোগান: প্রধানমন্ত্রী

    জয় বাংলা’ আমাদের মাথা উঁচু করে চলার স্লোগান: প্রধানমন্ত্রী

    জয় বাংলা’ বিজয়ী জাতির, বাঙালি জাতির মাথা উঁচু করে চলার স্লোগান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, দেশের সব অর্জনের মূলে থাকা ‘জয় বাংলা’কে তার সরকার জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে আমরা এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছি যে, বাঙালি মাথা নিচু করে নয় বরং মাথা উঁচু করেই চলবে।

    সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে ‘জয় বাংলা উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দীপক স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    শেখ হাসিনা বলেন, এই জয় বাংলা স্লোগানটা আজ সবার হয়েছে এবং এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা এটাই বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই- আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা বিজয় অর্জন করেছি। মাথা নত করে আমরা চলি না, মাথা নত করে চলবো না। বিশ্ব দরবারে বাঙালি মাথা উঁচু করেই চলবে।

    প্রধানমন্ত্রী তার একমাত্র ছোটবোন শেখ রেহানার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা দুজনেই আজ সব থেকে বেশি খুশি। কারণ এই জয় বাংলা স্লোগান এদেশের মানুষকে নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়ে দেশকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। যে স্লোগান দিয়ে এদেশের মানুষ রক্তের অক্ষরে লিখে গেছে- আমি বিজয় আনতে চাই। বাংলাদেশের জয় হবে। আজ সেই জয় বাংলা আমাদের সবার, এদেশের মানুষের। বিজয়ী জাতির-বাঙালি জাতির, আমাদের মাথা উঁচু করে চলার এ স্লোগান।

    এই স্লোগান ধারণে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো ত্যাগ যে বৃথা যায় না আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বিএবি চেয়ারম্যার মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিদাতা শেখ মুজিব’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত তার ঐতিহাসিক কালোত্তীর্ণ ভাষণ সমাপ্ত করেছিলেন ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করে। সেই থেকে এটি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী কোটি কোটি জনতার প্রাণের স্লোগানে পরিণত হয়। নিরস্ত্র বাঙালি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনার অনুপ্রেরণা হয়ে যায় ‘জয় বাংলা’।

    বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকেই বঙ্গবন্ধু এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি নিয়েছিলেন।

    এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১০ মার্চ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে ২০২২ সালের ২ মার্চ ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জয় বাংলা স্লোগান এক সময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে, হ্যাঁ আমরা আওয়ামী লীগ যারা করি আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা ধরে রেখেছি, যারা এদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে এবং মুক্তিযোদ্ধারা- তারা এটা ধরে রেখেছিলেন। বাধা এসেছে, অনেক সময় অনেক কটুক্তি -সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু তারপরেও আমরা এই সত্যটাকে ধরে রাখতে পেরেছিলাম বলেই আজ এটা জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

    তিনি বলেন, জয় বাংলা স্লোগান আমাদের মুক্তি সংগ্রামের স্লোগান। জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। জয় বাংলা আত্মত্যাগের স্লোগান। জয় বাংলা আমাদের অর্জনের স্লোগান। যে স্লোগানের মধ্যদিয়েই আমরা বিজয় অর্জন করেছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। যে মানুষগুলো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল।

    তিনি বলেন, জাতির পিতা যখন ৬ দফা দিলেন ঠিক তার আগেই ছাত্রলীগকে এই জয়বাংলা স্লোগানটাকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর অন্তর্নিহিত অর্থ একটাই ছিল- সংগ্রামের মধ্যদিয়ে মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনাটা জাগ্রত করা। এই স্লোগানের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এবং সবশেষে বিজয় অর্জন। যার প্রতিটি পদক্ষেপ জাতির পিতা নিয়েছিলেন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে।

    স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের যে ভাষণ, সেই ভাষণও তিনি শেষ করেন ‘জয় বাংলা’ বলে। অর্থাৎ বাঙালির যে বিজয় হবে সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুর মোকাবিলা করতো এই জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে। এই স্লোগান প্রতিটি মুক্তকামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করতো।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন। সে সময়ে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে তিনি গড়ে তুলে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে এনে রেখে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সময় যে অপপ্রচার ছিল স্বাধীনতা অর্জনের পরও সেটা থেমে থাকেনি। অর্থাৎ স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত সবসময় ছিল। যখন অনেক ষড়যন্ত্র করেও মানুষের হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে পারেনি তখনই চরম আঘাত এলো ৭৫ এর ১৫ আগস্ট।

    তিনি বলেন, যে স্লোগান একদিন এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, একটি গেরিলা যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিল, পাকিস্তানিদের বর্বর নির্যাতনও যে স্লোগানকে একদিন থামাতে পারেনি; সেই স্লোগান নিষিদ্ধ হয়ে গেল। ১৫ আগস্ট আমরা আপনজন হারিয়েছি, আর দেশের জনগণ তাদের সব সম্ভাবনাকেই হারিয়ে ফেললো।

    সরকার প্রধান বলেন, আমাদের কাজটা হচ্ছে জনগণের সেবা করা। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প সবকিছু যেন সহজভাবে চলতে পারে সে সুযোগটা করে দেওয়া, সেটাই আমরা করে দিচ্ছি। আমরা ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি যেখানে দেশি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এতে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও মজবুত হয়ে উঠবে এবং মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বাড়বে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার তৃণমূলকে লক্ষ্য ধরেই দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা যত বাড়বে ততই আপনাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত হবে।

    এ সময় বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করতে তার সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আমাকে বলেছিল এতগুলো বেসরকারি ব্যাংক দিয়ে কী হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতো খুব ছোট। কিন্তু এটা ছোট থাকবে না বরং একদিন যে বড় হবে সে আশাবাদই আমি তখন ব্যক্ত করেছিলাম।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেসরকারি ব্যাংকের আর শাখা খোলার সুযোগ না দিয়ে সরকারি ব্যাংকের অনেক শাখা বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আমাদের সরকারি বাস চলাচল করবে সেখানেও বাধা দেওয়া এবং সেটাও বন্ধ করার প্রচেষ্টা হয়েছিল।

    শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো এতই দুর্বল ছিল যে আন্তর্জাতিক সংস্থা যে পরামর্শ দিতো তাই তারা মেনে চলতো। নিজেদের কোনো চিন্তা-চেতনা বা পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু আমি সরকারে আসার পর থেকে ওইসব পরামর্শ শুনি নাই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলেছি, এই দেশ আমাদের। আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। এদেশের মানুষের মঙ্গল কিসে হবে আমরাই তা সবথেকে ভালো জানি। যেটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক সেটাই আমরা করবো।

    শেখ হাসিনা বলেন, আজকে ব্যাংক, বিমা থেকে শুরু করে বেসরকারি টেলিভিশন, বেসরকারি রেডিও, সবার হাতে মোবাইল ফোন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দেওয়া সহ ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে সক্ষম হয়েছি।

    ব্যাংক ব্যবস্থাকে তৃণমূলে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ মাত্র ১০ টাকায় একজন কৃষক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। ভতুর্কির টাকাটাও ব্যাংকের মাধ্যমেই তাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য কোনো মানুষ ক্ষুধার্ত বা গৃহহীন আর থাকবে না।

  • হঠাৎ অসুস্থ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হাসপাতালে ভর্তি

    হঠাৎ অসুস্থ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হাসপাতালে ভর্তি

    হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।

    রোববার (১৩ মার্চ) তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আসার পথে প্লেনের ভেতর তিনি অসুস্থবোধ করেন।

    পরে বিকেল তিনটার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্প্রতি ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম ২০২২-এ যোগ দিতে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন ড. মোমেন।


    গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল বলেন, তুরস্ক থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর তাকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, তুরস্ক থেকে আসার পথে ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার নিয়মিত ঘুম হয়নি। তুরস্কে ঠাণ্ডা ছিল, দুবাইয়ে তাপমাত্রা বেশি ছিল, এসব কারণে তিনি অসুস্থবোধ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাভাবিক আছেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন বলে জানান তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাই পল্লী শিশু ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ঢাকা ডেল্টা হসপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ এস এ মুয়িয সুজন জানান, ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন চিকিৎসকরা। তবে বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

    শারীরিক সুস্থতার জন্য সিলেটবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

    সেখান থেকে তুরস্কে দ্বিতীয় আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে শুক্রবার আমিরাত থেকে আঙ্কারায় পৌঁছান ড. মোমেন।