Category: প্রচ্ছদ

  • বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতির পিতার ম্যুরাল উম্মোচন

    বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতির পিতার ম্যুরাল উম্মোচন

    স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির (বিআরইউ) দুইদশক পূর্তি উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুর‌্যাল উন্মোচন করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয় ভবনে এ ম্যুর‌্যাল উম্মোচন করেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এসময় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে শহীদ জননী সাহান আরা বেগম স্মৃতি মিলনায়তনেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

    পরে অনুষ্ঠিত সভায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মিথুন সাহার সঞ্চালনায় এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক-বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা পুতুল ঘোষ , বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স. ম ইমানুল হাকিম, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপন, বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক আলম রায়হান, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনিরুল আলম স্বপন খন্দকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহফুজ খান।

    বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল ঘোষ, শিশু সংগঠক পঙ্কজ রায় চৌধুরী, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, বর্তমান সহ-সভাপতি গাজী শাহরিয়াজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ প্রমুখ।

    এরআগে সভার শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জননী সাহান আরা বেগম এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য অনিমেষ সাহা লিটু।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু, গোলাম সরোয়ার রাজিব, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আলী খান জসিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল মাসুদুর রহমান, বাপ্পী মজুমদার, কামরুল আহসান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক মুশফিক সৌরভ, সাবেক কোষাধাক্ষ্য আরিফ সুমন, কোষাধাক্ষ্য বশির আহম্মেদ, সাবেক দপ্তর সম্পাদক অলিউল ইসলাম, আলামিন জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক রাসেল হোসেনসহ সকল সদস্যবৃন্দ।

  • Untitled post 62853


    যুবসমাজকে নিজের পায়ে দাড়াতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
    বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল: পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি বলেছেন, আমি নেতাদের মতো সুন্দর বক্তব্য দিতে পারিনা, আমি কাজে বিশ্বাসী তাই কাজ করতে পছন্দ করি।আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে,একপ্রাপ্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াই। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে দুঃখী মানুষের পাশে দাড়ানোর। আর তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
    রবিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়ায় তেতুলিয়া নদীর ভাঙ্গন হতে ধুলিয়া লঞ্চঘাট হতে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা রক্ষা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
    এসময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। দেশের যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই দেখবেন একতীর ভাঙ্গছে অন্যতীর গড়ছে। এটাই হলো বাংলাদেশের চিরচায়িত চিত্র। অতীতেও আমাদের বাবা-দাদারা নদীর ভাঙ্গন দেখে এসেছে, এখন আমরা দেখছি, ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মরা দেখবে। এটা বন্ধ করা যাবে না।কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ভাঙ্গনকে একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।অতীতের সরকারগুলো নদী ভাঙ্গন রোধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
    বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস হচ্ছে। এসব কারণে নদী ভাঙ্গন বেড়ে গিয়েছে।তারপরও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডেল্টা প্লানের কারনে আজ আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে আসতে পেরেছি। ২০৩০ সালের ভেতরে আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা সমৃদ্ধশালী দেশে পৌছাবো।
    আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পায়রা নদীর ওপর “পায়রা সেতু”র উদ্বোধন করেছেন। এরফলে বরিশাল থেকে পায়রা বন্দর ও সাগরকন্যা কুয়াকাটায় যেতে কোন বিঘ্নতার সৃষ্টি হবে না, ফেরির প্রয়োজন হবে না।কিন্তু একসময় ৫ থেকে ৭ টি ফেরি পার হতে হতো।শুধু এখানেই নয়, গোটা বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে সেটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। আগামী বছর মাঝামাঝি সময়ের ভেতরে পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু করবে এবং ট্রেন চলাচলও করবে।ইতিমধ্যে পায়রা বন্দর পর্যন্ত চারলেনের কাজ শুরু হয়েছে, রেললাইনও হবে। এগুলো সবকিছু হলে আমরা আর পিছিয়ে থাকবো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখন সরকার গঠন হয় তখন দক্ষিনাঞ্চলের কিন্তু উন্নয়ন হয়।সেটার প্রমান আপনারা ইতিমধ্যে পেয়েছেনও ।
    পায়রা বন্দরের কারনে বরিশালের বিভিন্ন জায়গায় অফিস হবে, শিল্প কারখানা হবে।সুতরাং যুবসমাজের চাকুরির কর্মসংস্থান হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিনাঞ্চলের মানুষকে যে সুবিধা দিচ্ছে তা যদি আপনারা ভোগ- উপভোগ করতে চান। তাহলে যুবসমাজকে নিজের পায়ে দাড়াতে হবে, লেখাপড়া করতে হবে, চরিত্রগতভাবে তাদেরকে ভালো করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ভালো শিক্ষা দিতে হবে।আপনার সন্তানকে যদি ভালো শিক্ষা দিতে পারেন তাহলে বরিশালে যখন উন্নয়নকাজগুলো হবে সেখানে আপনারা ছেলে-মেয়েরাই চাকুরি পাবে। আর যদি তাদের ভালোভাবে প্রস্তুত করতে না পারেন তাহলে অন্য জায়গার ছেলে-মেয়েরা এসে চাকুরি করবে।
    আমি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী। আমার মন্ত্রনালয়ে কিছুদিন আগে উপ সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকুরি দেয়া হয়েছে। বরিশাল থেকে ৩৯ জন লোক আবেদন করেছিলো।লিখিত পরীক্ষায় ৩৯ জনের একজনও পাশ করেনি।তখন পাশ না করার কারন খুজতে গিয়ে দেখলাম কেউ শূণ্য পেয়েছে, কেউ ১ পেয়েছে, কেউ তিন পেয়েছে।আর সবথেকে যে ভালো করছে সে ১০ পাইছে।আপনারাই বলেন লিখিত পরীক্ষায় কেউ দশ পেলে তাকে কিভাবে আমি সিলেক্ট করবো।এজন্য অভিভাবক যারা পিতা, বড় ভাই রয়েছেন তাদের বলি আপনাদের সন্তান, ছোটভাইকে লেখাপড়া করান।লেখাপড়া না করলে চাকুরি দেয়া সম্ভব না।আমি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হয়ে আমার এলাকার ছেলেদের চাকুরি দিতে পারিনি এরথেকে বড় কষ্ট কি হতে পারে।
    বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার সপ্ন দেখেছিলেন। সেই সপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আজ বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এখন বাংলাদেশকে নিয়ে হাসেনা, বলে না তলাবিহীন ঝুড়ি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতা হয়েছেন।তার সাথে অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন কথা বলেন, তখন হিসেব করে বলেন।বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে একটা রোল মডেল হয়েছে।এজন্য আপনারাও কাজ করেছেন, আগের থেকে অনেক কর্মঠ হয়েছেন।সরকারের সাথে একসাথে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যায়।
    ধুলিয়া-দুর্গাপাশায় ৭১২ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ হয়েছে।যেখানে সাড়ে ৭ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষায় বাধ করা হবে এবং ড্রেজিং করা হবে। এটি হলে পরে তীর রক্ষার পাশাপাশি নদী শাসন হবে, যারমধ্য দিয়ে অতীতের নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে এ এলাকার মানুষ রক্ষা পাবে।
    ১৫ টি প্যাকেজে এখানকার কাজ হবে জানিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কাজটি যাতে ভালোভাবে হয় সেদিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে, কারন এটি আপনাদের কাজ। প্রকৌশলীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে কাজ ভালোভাবে করার জন্য এবং কাজের মান ভালো হওয়ার জন্য।কেউ ডিস্টার্ব করবেন না, তবে চলমান কাজের দিকে নজর রাখবেন,যাতে করে কেউ অসাধু করার চেষ্টা করলে সেটি করতে না পারে।কেউ চেষ্টা করলে সেটি আপনাদের সংসদ সদস্য, অথবা আমাদের চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে জানাবেন, যাতে করে কাজটি ভালোভাবে হয়। ভালোভাবে না হলে ধুলিয়া দুর্গাপাশায় ৭১২ কোটি টাকার আর একটি প্রকল্প দেয়া কিন্তু সম্ভব হবে না।
    স্থানীয় কিছু মানুষ অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজেশে নদীর তীর থেকে বালু উঠায়। এরফলে যতো শক্তিশালী তীর রক্ষা বাধ আমরা করি না কেন তা টেকসই হবে না। এজন্য অসাধু উপায়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে হবে।আর ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ আপনারা বালু মহল থেকে বালু উত্তোলন কর

  • ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক ০২ জন

    ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক ০২ জন

    বিএমপি গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর ২০২১ খ্রিঃ সন্ধ্যা ১৮ঃ৩৫ ঘটিকায় কোতয়ালী মডেল থানাধীন ১৩ নং ওয়ার্ডস্থ আমতলার পানির ট্যাঙ্কির উত্তর পাশে ডেল্টা ফার্নিচার নাম দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযান পরিচালনায় অভিযুক্ত ১) মোঃ সোহেল খান (৩৭), পিতা-মৃত আলতাফ হোসেন খান, মাতা-মোসাঃ মিনারা বেগম, সাং-মেঘিয়া, ৮নং ওয়ার্ড, ৬নং মাধবপাশা ইউপি, থানা-এয়ারপোর্ট, বিএমপি, বরিশাল, ২) মোঃ আলামিন খান (৩১), পিতা-মৃত ফজলে আলী খান, মাতা-মৃত দেলোয়ারা বেগম, সাং-মগরপাড়া (কাদের মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন) ওয়ার্ড নং-০২, ০২নং কাশিপুর ইউপি, থানা-এয়ারপোর্ট, বিএমপি, বরিশালদ্বয়কে গ্রেফতার পূর্বক তাদের হেফাজত হতে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট (অবৈধ মাদকদ্রব্য) উদ্ধার করেন।

    এই সংক্রান্তে অভিযুক্তেদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • রাজনীতি মানুষের জন্য পেটের ক্ষুধার জন্য না : মেয়র সাদিক

    রাজনীতি মানুষের জন্য পেটের ক্ষুধার জন্য না : মেয়র সাদিক

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, রাজনীতি মানুষের জন্য, পেটের ক্ষুদা নিবারণ করার জন্য না। আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

    বিসিসির চতুর্থ পরিষদের শপথ গ্রহণের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিনগত রাতে বরিশাল নগরের কালী বাড়ি রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবন কম্পাউন্ডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এ সময় সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, জাতির জনকের আদর্শকে অনুসরণ করে আমরা রাজনীতি করি। সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজনীতি করি।

    আজ সবার মধ্যে সেই চেতনা আসা উচিত যে- আজ আমরা রাজনীতি পেটের ভাতের জন্য নয়, সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য করছি। যতদিন এটা মনের ভেতর গেঁথে রাখতে না পারবো ততদিন কোনো পরিবর্তন আনতে পারবো না।

    মেয়র বলেন, আজ দেশ স্বাধীন, আজ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়, আজ আমি এ শহরের মেয়র, আজ আমি রাজনীতি করি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য।

    এ সময় তিনি আগামী দুই বছরে নগরীবাসীর আশা আকাঙ্ক্ষা পূরনে সাধ্যমতো চেষ্টা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, গত তিন বছরে আমার সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু পেরেছি করার চেষ্টা করেছি।

    আমার যদি কোনো ভূল-ত্রুটি হয়ে থাকে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই, বন্ধু। আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে দেখবেন সেখানে কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য আছে কিনা।

    ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থাকলে এটা অবশ্যই আমার অপরাধ। কিন্তু এটা যদি দেখেন আমার সংগঠনের জন্য, আমার শহরের জন্য, আমার সিটি করপোরেশনের জন্য কিংবা ১০০ বা হাজার মানুষের বৃহৎ স্বার্থে তাহলে আপনাদের আমার প্রতি অভিমান বা অভিযোগ করাটা অন্যায় হবে বলে আমি মনে করি।

    তিনি বলেন, আমি জনগণের সেবক হয়ে কাজ করছি। পাত্রের ছিদ্র যদি বন্ধ না করি তবে যত পানি ঢালিই না কেন তা বের হয়ে যাবে। আমি চেষ্টা করেছি ছিদ্র বন্ধ করার।

    গত ৩ বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করেছি। সিটি করপোরেশনে সর্ব প্রথম পেভার মেশিন দিয়ে ৫ বছর মেয়াদি সড়ক নির্মাণ করে স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে আগাচ্ছি।

    সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর, সহ-সভাপতি আফজালুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস।

    পরে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের এদিনে বর্তমান পরিষদের মেয়র ও কাউন্সলিররা শপথ গ্রহণ করেন।

  • আমি বক্তৃতার থেকে কাজে বেশি বিশ্বাস করি : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    আমি বক্তৃতার থেকে কাজে বেশি বিশ্বাস করি : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক-এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সোনার বাংলার সপ্ন দেখেছিলেন।
    যে সপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা, মানবতার মা, জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।আজ দেশের যতো উন্নয়ন দেখছেন সবই সম্ভব হয়েছে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে।
    আজ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের যে বিভিন্ন ধরণের ভাতা দেয়া হচ্ছে, এগুলো সবকিছুই সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারনে। আর তার মানবতার দৃস্টির কারনেই ভাতাগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোন দিক নেই যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাতা দিচ্ছে না।
    সেটা বিধবা ভাতা হোক,বয়স্ক ভাতা হোক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাতা হোক আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভাতা হোক।সবকিছুই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে বাড়ানো হয়।
    ডিজিটাল সাদাছড়ি, নিরাপদে পথ চলি এই স্লোগানে শনিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বরিশাল সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে ৫৩ তম বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাদাছড়ি বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২১ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি এসব কথা বলেন।
    দৃষ্টি প্রতিবন্ধি সংস্থার বরিশালের নেতৃবৃন্দর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য যতো ধরণের সহায়তা দেয়া দরকার আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সে সাহায্যগুলো দেয়ার চেষ্টা করবো।
    আমি দুই বছর আগে একটি অনুষ্ঠানে এসে বলেছিলাম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাইবোনদেরকে সাদাছড়ি বিতরণ করার কথা। আজ সেই প্রতিশ্রুতি পালন করার জন্যই আমি উপস্থিত হয়েছি।
    সরকারের পক্ষ থেকে যে জায়গা দেয়া হয়েছে সেটি ভরাটের জন্য জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধি সংস্থার বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক অনুরোধ জানিয়েছিলো। সেটি ভরাটের জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ করেছি এবং সেই সেই জায়গাতে যাওয়ার জন্য খালের ওপর যে কালভার্টের প্রয়োজন ছিলো সেটিও দিয়েছি।
    আর অফিস ভবনের যে কথা বলা হয়েছে, তার জন্য সমাজকল্যান মন্ত্রীর সাথে কথা বলে বরাদ্দ দেয়ার চেষ্টা করবো। যদি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে মন্ত্রী মহোদয় না পারেন, ছোট আকারে হলেও একটি অফিসের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
    তিনি বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের যে গুনাবলি আছে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সমাজে যারা আমরা ভালো অবস্থানে আছি তারা যদি সহযোগীতার হাত বাড়াতে পারি তাহলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা বর্তমানের থেকেও অনেক ভালো থাকতে পারবে।
    যুব সমাজসহ বরিশালের সকলের প্রতি আহবান জানাই- রাস্তায় যদি কোন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ দেখেন, তাহলে সবার আগে তাকে এগিয়ে দিবেন।যাতে করে সে নিরাপদে সবার আগে রাস্তাটা পার হতে পারে। এছাড়া যতো ধরণের সাহায্য করা সম্ভব তা করবেন।
    তিনি বলেন, আমাদের মন মানসিকতার উন্নয়ন করতে হবে।যাতে করে আমরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের আমরা সহযোগীতা করতে পারি। তাদের প্রতি সহযোগীতার হাত প্রসারিত করতে পারি। আমরা বক্তৃতায় অনেক কথা বলি কিন্তু কাজের বেলায় সে কাজটা করিনা।
    আমি মনে করি বক্তৃতার থেকে কাজে বেশি বিশ্বাস করি। আমাদের বরিশালের জেলা প্রশাসক বলেছেন, তিনি প্রচার বিমুখ হলেও কাজ করতে বেশি আনন্দবোধ করেন।
    তিনি বলেছেন,সমাজকল্যানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওখানে ৭ বার গিয়েছিলো এবং অন্যান্যদের কাছে ২০ বার গিয়েছেন। এটা থেকে প্রমান হয় তিনি মনের দিক থেকেই আপনাদের সহযোগীতা করার জন্য আছেন।লোক দেখানোর জন্য ২০ বার কেউ যায়না, সেজন্য একবার দুবার যেতে পারে।
    যে ২০ বার যায় সেখান থেকে প্রমান হয় আমাদের জেলা প্রশাসক বিশাল মনের অধিকারী। আপনাদের কষ্ট,ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য তার অফিসের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে এটাও তিনি বলেছেন।
    প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকলে মিলে আমরা যদি প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের সাহায্য করতে পারি,তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সপ্ন এবং প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সে লক্ষে এগিয়ে যেতে পারবো।
    সমাজে যারা পিছিয়ে আছে তাদের নিয়ে যদি অগ্রসর না হতে পারি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে পৌছাতে পারবো না।আমাদের সে লক্ষ্যে পৌছাতে চাইলে সমাজের সকলকে নিয়ে এগুতে হবে।
    জেলা প্রশাসন এবং বরিশাল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধি সংস্থা বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি আইউব আলী হাওলাদার।
    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুনিবুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আল-মামুন তালুকদার, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খান মামুন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, বরিশাল সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুবুর রহমান মধু, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ প্রমুখ।
    এরআগে শুরুতে সঙ্গীতা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করা হয়। পরে অতিথিরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন।
    এছাড়া জেলার ২ শতাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপির পক্ষ থেকে সাদাছড়ি ও শাড়ি বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অমৃত গ্রুপ অব কোম্পানি এর পক্ষ দুপুরে খাবার ও টিশার্ট বিতরণ করা হয়।

  • অপরাধী হিসেবে সন্তানদেরকে যেন থানায় ধরে আনতে না হয়

    অপরাধী হিসেবে সন্তানদেরকে যেন থানায় ধরে আনতে না হয়

    বিএমপি’র কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেছেন, এই ওপেন হাউজ ডে’তে আমরা তিন ধরনের আবেদন গুরুত্ব সহকারে শুনে থাকি।

    ভুক্তভোগীর কথা শুনি, সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ জনগণের গঠনমূলক পরামর্শ শুনি এমনকি আমাদের কোন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম রয়েছে কিনা তা সরাসরি আপনাদের কাছ থেকে শুনে থাকি এবং সেই অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থা সকলের সামনে পর্যালোচনা করে থাকি। তাই, নিজ ও প্রতিবেশীকে ভালো রাখতে অপরাধ দানাবাঁধার আগেই এখানে এসে বেশি বেশি তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন।

    এমনকি আমাদের আচরণে সাধারণ জনগণ বা সেবা প্রত্যাশী ভুক্তভোগীর প্রতি অনিয়ম-দুর্নীতি,অনাস্থার নেপথ্যে কেউ থাকলে মুখ বুজে না থেকে সরাসরি বা গোপনে বলুন।

    তিনি আরো বলেন, আমরা ঘরে ঘরে পাড়া মহল্লায়, জনগণকে সাথে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় দিন-রাত কাজ করে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলছি।

    অনেকেই কিশোরদের চুলকাটা নিয়ে অভিযোগ করে থাকেন। সন্তানকে ঘর থেকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার দায়িত্ব আপনার, সে কোথায় যায়, কি করে, কার সাথে মিশে, এগুলো একজন অভিভাবক হিসেবে নজরদারিতে রেখে ফ্রন্টলাইনার হয়ে কাজ করতে হবে।

    সন্তানদেরকে যেন অপরাধী হিসেবে থানায় ধরে আনতে না হয়, আইন মান্যকারী সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেই মর্মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম সহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি।

    সকলের আন্তরিক তৎপরতায় সকল অপরাধে বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ উপহার দেয়া সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা বিএমপি কর্তৃক “ওপেন হাউজ ডে ” অনুষ্ঠিত হয়।

    উল্লেখ্য, প্রতিমাসের ৪ তারিখ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানা , ৭ তারিখ কাউনিয়া থানা , ১০ তারিখ এয়াপোর্ট থানা ও ১৩ তারিখ কোতয়ালী মডেল থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়। থানা এলাকার সাধারণ মানুষও এই ওপেন হাউজ ডে’র দিন উপস্থিত থাকেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভুক্তভোগীর কথা সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে থাকেন। ওপেন হাউজ ডে’তে উপস্থিত ছিলেন বিএমপি’র ক্রাইম এন্ড অপস অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ এনামুল হক, দক্ষিনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আলী আশরাফ ভূঞা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ফজলুল করীম, কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ সহ সুশীল সমাজের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ও ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যক্তিবর্গ।

  • আমি ২৪ ঘন্টাই জনগণের কথা চিন্তা করি : মেয়র সাদিক

    আমি ২৪ ঘন্টাই জনগণের কথা চিন্তা করি : মেয়র সাদিক

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন,আমি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমানোর আগ পর্যন্ত বলতে গেলে ২৪ ঘন্টাই জনগনের জন্য চিন্তা করি।

    কারণ আপনারা যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন সেই দায়িত্বের ওজনটা অনেক বেশি। সোমবার (১১ই অক্টোবর ) নগর ভবন চত্বরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২৫০ জনকে ৩০ লাখ টাকার সহায়তার জন্য অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মেয়র বলেন,আমার কোনো পারসোনাল লাইফ নেই। আপনারা দেখেছেন হয়তো, আমি আমার পরিবারকেও ঠিকমতো সময় দিতে পারিনা। মাঝে মধ্যে তারা আসলেও তাদেরকে একটু সময় দিতে পারিনা আমি।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আস্থার যায়গায় আমাকে বসিয়েছেন। আমি সেই আস্থা বজায় রেখে সততার ও নিষ্ঠার সাথে পালনের চেস্টা করছি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে কে কত নাম্বার দেয় তাতে কিছু আসে যায়না।

    আপনারা দেখেন পাঁচ বছরের গ্যরান্টি দিয়ে রাস্তার যে থিমটি আমি শুরু করেছি এই থিম অনুসারে যদি বাংলাদেশের প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট যেমন রোডস,এলজিইডি এবং বাংলাদেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন যদি এই থিমে কাজ করতো তাহলে প্রতি বছর সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা সেইভ হতো।

    তবে এগুলো শুনতে অন্যরক মনে হতে পারে কিন্তু এখান থেকেই অনেকটা দুর্নীতি দমন করা সম্ভব। তারপরেও বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে যে অবস্থানে এনেছি প্রতিটি মানুষের স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, স্বচ্ছতার দিক দিয়ে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নাম্বার ওয়ান। তিনি আরও বলেন, সবকিছুর পরেও আমার বিচার বাংলাদেশের সকল জনগন করবেনা।

    আমি ভালো কাজ করি নাকি খারাপ কাজ করি সেইটার বিচার করবে আমার সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি নাগরিক।

    কে কি বল্লো তাতে কিছু আসে যায়না মেয়র হয়েও বরিশালের মানুষের পাশে ছিলাম আছি এবং মেয়র না থাকলেও মানুষের পাশে থাকবো ইনশাল্লাহ।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,বিসিসি প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু,সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মো. ফারুক প্রমুখ।

  • আটকে থাকা সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট শুরু

    আটকে থাকা সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট শুরু

    নানা জটিলতায় আটকে থাকা সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক শেখ মাহবুব-এ-রাব্বানী।

    তিনি বলেন, রোববার (১০ অক্টোবর) গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে প্রিন্টিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কুরিয়ারে আমরা আমাদের আউটলেটগুলোতে পাঠিয়ে দেব, আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস চলে যাবে। এরপর তারা এসে ওই কার্যালয় থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন। তবে গ্রাহকের হাতে লাইসেন্স পৌঁছাতে আরও দুই একদিন লাগবে বলেও জানান তিনি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য যারা আবেদন করছেন, নির্ধারিত তারিখেই তাদের লাইসেন্স সরবরাহ করছে বিআরটিএ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন আটকে থাকা সাড়ে ১২ লাখের মতো লাইসেন্সও আগামী ছয় মাসের মধ্যে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলছে সরকারি সংস্থাটি। এরই মধ্যে লাইসেন্স প্রিন্টের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিআরটিএ।

    এর আগে, ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ড সরবরাহকারী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি ২০১৯ সাল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। এরপর বেশ ভালোই বিপাকে পড়ে বিআরটিএ। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এ সংকট আর থাকছে না। নতুন আবেদনকারীরা যথাসময়েই স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন। মাদ্রাজ নামক একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুসারে সেটি সরবরাহ করছে।

    এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেছিলেন, ১২ লাখ ৪৫ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেন্ডিং আছে। এটা দ্রুত করার জন্য ডিপিএম পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছি, চুক্তিও হয়েছে। অক্টোবর থেকে প্রিন্টিং শুরু হবে। আশা করি, ছয় মাসের মধ্যে সব লাইসেন্স সরবরাহ করতে পারবো।

    এরই মধ্যে সেই কার্যক্রম শুরুর খবর দিল বিআরটিএ।

  • দ্বিতীয় ধাপে বরিশালে নৌকার মাঝি হলেন যারা…

    দ্বিতীয় ধাপে বরিশালে নৌকার মাঝি হলেন যারা…

    দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ঢাকা বিভাগের পাঁচ জেলাসহ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার (৯ অক্টোবর) রাতে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে শনিবার দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভা হয়। সভায় ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের এসব প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। এ ছাড়া আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবার আবারও মনোনয়ন বোর্ডের সভা হবে। সভায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হবে।

    বরগুনা জেলা সদর উপজেলার এমবালিয়াতলীতে মো. নাজমুল ইসলাম ।

    পটুয়াখালী জেলা সদরে লোহালিয়ায় মো. কবির হোসেন, আউলিয়াপুরে মো. হুমায়ুন কবির, মরিচবুনিয়ায় মো. আসাদুল ইসলাম, মাদারবুনিয়ায় মো. আমিনুল ইসলাম মাসুম, ছোটবিঘাইয়ে মো. আলতাফ হোসাইন হাওলাদার, বদরপুরে তানজিন নাহার সোনিয়া, বড়বিঘাইয়ে মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বাউফল উপজেলার নওমালায় মো. কামাল হোসেন, সূর্যমনিতে মো. আনোয়ার হোসেন, দশমিনা উপজেলার দশমিনায় ইকবাল মাহামুদ, বেতাগী সানকিপুরে মো. মসিউর রহমান, কলাগাছিয়ায় মো. দুলাল চৌধুরী, বকুলবাড়িয়া আবু জাফর খান, গজালিয়ায় মো. খালিদুল ইসলাম, ডাকুয়ায় বিশ্বজিৎ রায়, গলাচিপায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু, পানপট্টিতে আবুল কালাম, চরকাজলে মো. সাইদুর রহমান, চরবিশ্বাসে মো. তোফাজ্জেল হোসাইন বাবুল।

    ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলঅর মদনপুরে এ কে এম নাছির উদ্দিন, মেদুয়ায় মো. মনজুর আলম, চরপাতায় কাজল ইসলাম তালুকদার, উত্তর জয়নগরে মো. বশির, দক্ষিণ জয়নগরে মো. আলমগীর হাং, চরখলিফায় মো. শামীম হোসেন, ভবানীপুরে মো. গোলাম নবী।

    বরিশাল জেলা সদরের রায়পাশা কড়াপুরে আহম্মদ শাহরিয়ার, শায়েস্তাবাদে আরিফুজ্জামান মুন্না, চরমোনাইয়ে মো. নুরুল ইসলাম, চরকাউয়ায় মো. মনিরুল ইসলাম চাঁদপুরায় মো. হেলাল উদ্দীন খান, চন্দ্রমোহনে এস এম মতিউর রহমান, আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহারে মো. ইলিয়াস তালুকদার, বাকালে বিপুল দাস, বাগদায় আমিনুল ইসলাম বাবুল, গৈলায় মো. শফিকুল হোসেন, রত্নপুরে গোলাম মোস্তফা সরদার, বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠীতে মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা, পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাটে মো. কামরুজ্জামান শাওন, পত্তাশীতে হাওলাদার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ইন্দুরকানীতে মো. মোবারক আলী হাওলাদার, পিরোজপুর সদরের দূর্গাপুরে রামপ্রসাদ রায়, শংকরপাশায় তোফাজ্জেল হোসেন মল্লিক স্বপন, নাজিরপুর উপজেলার শাখারীকাঠীতে শেখ আখতারুজ্জামান, শ্রীরামকাঠীতে উত্তর কুমার মৈত্রী চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

  • কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ ১৭২ জন নিয়ে বিপাকে বরিশাল ছাত্রদল

    কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ ১৭২ জন নিয়ে বিপাকে বরিশাল ছাত্রদল

    কেউ থাকেন বিদেশে, আবার কেউবা অন্য জেলায়। চাকরির সুবাদে বেশ কয়েকজন বউ-বাচ্চা নিয়ে বহু বছর ধরে ঢাকায় থাকেন।

    ছাত্রলীগের কমিটিতেও কারো কারো নাম আছে। বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে ঢুকে পড়া এমন ১৭২ জনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে ছাত্রদল।

    গুরুত্বপূর্ণ পদে কি করে তারা ঢুকে পড়লেন এর কোনো ব্যাখ্যা কোথাও মিলছে না। ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অনেকের বাদপড়া নিয়ে জবাবদিহি করতে ঘাম ছুটে যাওয়ার দশা স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের।

    জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, ‘টিম লিডারের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ কয়েকজনের ঘুস বাণিজ্যে এমন ঘটনা ঘটে। বিপুল অর্থের বিনিময়ে জেলা কমিটিতে বিতর্কিত লোকজনকে ঢোকানো হয়েছে।

    এক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। বিষয়টি জানলেও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছুই বলতে পারছি না আমরা। কেননা কেন্দ্রীয় নেতাদের ক্ষেপিয়ে দলের রাজনীতিতে উপরে উঠা বা টিকে থাকা মুশকিল।

    জানা গেছে, লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বাধ্য হয়ে ১৭২ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের আশা শেষ পর্যন্ত তিনিই দেবেন এ সমস্যার সমাধান।

    ২০১৮ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। পাঁচ নেতার কমিটিকে জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    অবশ্য করোনাভাইরাস মহামারিসহ নানা কারণে কমিটি গঠনের কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। মাস ছয়েক আগে হঠাৎ বরিশাল জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নির্দেশনা অনুযায়ী ৩৩১ সদস্যের কমিটির প্রস্তাব পাঠানো হয়।

    সপ্তাহ দেড়েক আগে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া কমিটির সদস্য সংখ্যা ৪৮৭ জন দেখা যায়। এ বিশাল কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

    বরিশাল থেকে পাঠানো ৩৩১ জনের তালিকা থেকেও বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন। আর কেন্দ্রের অনুমোদিত কমিটির ৪৮৭ জনের মধ্যে ১৭২ জনের নাম বরিশাল থেকে পাঠানো হয়নি।

    দেখা গেছে- এ ১৭২ জনের মধ্যে ২১ জনকে সহ-সভাপতি, ৫৪ জনকে যুগ্ম সম্পাদক, ৩৭ জনকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, ৩২ জনকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ৯ জনকে সহ-সম্পাদক এবং ১৪ জনকে সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে।

    জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান বলেন, আমরা ৩৩১ জনের কমিটির প্রস্তাব পাঠিয়েছি। গত মাসে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন হয়ে আসার পর দেখি মোট সদস্য সংখ্যা ৪৮৭।

    তাদের মধ্যে অনেককেই আমরা চিনি না। অনেকে আবার কখনোই ছাত্রদলে সক্রিয় ছিলেন না। তাদের মধ্যে এমন লোকজনও আছেন যারা বছরের পর বছর ঢাকা কিংবা বিদেশে থাকেন। তাদের নাম কি করে কমিটিতে এলো তা কেন্দ্রীয় নেতারাই ভালো বলতে পারবেন।

    ৪৮৭ জনের বিশাল কমিটিতে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া নেতাদের মধ্যে সাইমন আহম্মেদ কালুর বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। অথচ তাকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি করা হয়েছে।

    একইভাবে ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনকে বরিশাল জেলার সহ-সভাপতি পদ দেয়া হয়েছে। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া জাহিদুল ইসলামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় হলেও তিনি বহু বছর ধরে আমেরিকাপ্রবাসী।

    হিজলা উপজেলার বাসিন্দা সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া আনোয়ার হোসেন চাকরি সূত্রে আছেন মালয়েশিয়ায়। সহ-সভাপতি পদ পাওয়া একই উপজেলার নূর হোসেনও থাকেন সেখানেই।

    সিংগাপুরপ্রবাসী গাজী কামালকে সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শুধু তারাই নন, ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা নেতাকেও জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। এরকম একজন সদস্য হলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান।

    আল নাহিয়ান জয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হলে বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।

    বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ মল্লিককে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য সচিব এসএম আরাফাতকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

    বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক লেলিন খান মোর্শেদ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন। এছাড়া পদপদবি পাওয়া অন্তত ৩-৪ ডজন আছেন যারা সংসার এবং চাকরির সুবাদে বহু বছর ধরে রাজধানীর বাসিন্দা।

    জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাপ্পি কমিটি গঠনের দায়িত্বে ছিলেন। টিম লিডার হিসাবে তিনিই মূলত কমিটি গঠনের পুরো বিষয়টি দেখভাল করেন।

    যতদূর জানি, বরিশাল থেকে পাঠানো কমিটিতে যাদের নাম ছিল না তারা বাপ্পির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক্ষেত্রে নানা অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ও আমাদের কানে আসে। পরে দেখি ৪৮৭ সদস্যের বিশাল কমিটি।

    যেখানকার অনেককে আমরা চিনি না। বরিশাল থেকে পাঠানো কমিটিতে তাদের নাম ছিল না। বিশেষ কিছুর বিনিময় ছাড়া এভাবে গণহারে কমিটিতে ঢোকা অসম্ভব। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত আমরা।

    বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু বলেন, কমিটি ঘোষণার পর খুব বিস্মিত হয়েছি। অনুমোদন দেওয়ার আগে জেলা নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি।

    এমন অনেকে কমিটিতে এসেছেন যারা নানাভাবে বিতর্কিত। মাদক ব্যবসায়ী আর ধর্ষণে অভিযুক্তরাও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে।

    মাহফুজুল মিঠু আরও বলেন, আমাদের পাঠানো কমিটির যাচাই-বাছাইকালে আমরা নানাভাবে কেন্দ্রকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।

    বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে রাখার ব্যাপারে লবিং-তদবির কথা শোনামাত্র তাদের সম্পর্কে কেন্দ্রে আমরা বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছি। এমনকি অভিযোগের সাপোর্টিং ডকুমেন্টসও পাঠানো হয়েছে।

    কিন্তু এরপরও কি করে ১৭২ জন পদপদবি পেল তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানোর পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে। ১৭২ জনের পুরো তালিকা তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের মোবাইল ফোনে বহুবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি এবং খুদে বার্তারও সাড়া দেননি।

    সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ফোন ব্যাক করার কথা বললেও তা করেননি। কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাপ্পির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।