Category: প্রচ্ছদ

  • হাসপাতালে থেকেও ইউএনও’র মামলার আসামী হলেন ফাইজুল

    হাসপাতালে থেকেও ইউএনও’র মামলার আসামী হলেন ফাইজুল

    গত বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার অভিযোগ এনে সিটি মেয়র ও বরিশাল মহানগগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও এবং প্রশাসন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    মামলার এজাহারে আগৈলঝাড়া উপজেলার সুজনকাঠী গ্রামের উপজেলা যুবলীগ নেতা ফাইজুল সেরনিয়াবাতকে ৯ নম্বর আসামী করা হয়েছে।

    নানান সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সামনে আনসার কর্তৃক নেতাকর্মীদের উপর গুলি বর্ষণ ও হামলার সময় এজাহারের উল্লেখিত ৯ নম্বর আসামী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

    মামলার ৯ নম্বর আসামী উপজেলা যুবলীগ নেতা ফাইজুল সেরনিয়াবাত তার করোনা আক্রান্ত মাকে নিয়ে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসারত অবস্থায় বিগত দুই মাস যাবৎ বরিশালের একটি হাসপাতালে রয়েছেন। করোনা ওয়ার্ডে থাকার কারনে বাইরে চলাচল করছেন না তিনি।

    যুবলীগ নেতা ফাইজুল সেরনিয়াবাত একাত্তরকে জানান, ঘরে তার বাবা অসুস্থ্য সত্বেও মা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় দুই মাস যাবৎ হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাকে নিয়ে আমি বরিশাল রাহাত অনোয়ার হাসপাতালে থাকা সত্বেও মিথ্যা মামলার আসামী হতে হলো আমাকে। তিনি আরো বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে। মামলা কারনে অসুস্থ্য মাকে করোনা ওয়ার্ডে রেখেই গ্রেপ্তার আতংকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে আমাকে। যে কারনে ব্যহত হচ্ছে করোনা আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা। এছাড়া এ মামলায় একজন মৃত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

    ফাইজুলের দাবীর বিষয়ে নিশ্চিত হতে ১৮ আগস্ট রাতে বরিশাল রাহাত অনোয়ার হাসপাতালে দায়িত্বরত নার্স অনিমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একাত্তরকে জানান, ঘটনার দিন বুধবার রাতে তার (অনিমার) নাইট ডিউটি ছিল। সেসময় ফাইজুল সেরনিয়াবাত ওই হাপাতালেই উপস্থিত ছিলেন।

  • রোটারি ক্লাবের সাথে সম্পর্ক আমার ছাত্র বয়স থেকে, রোটারিয়ানগণ ও সমাজসেবী মনোভাব নিয়ে আত্ম পরিচর্যার কাজ করে থাকেন ;বিএমপি কমিশনার।

    রোটারি ক্লাবের সাথে সম্পর্ক আমার ছাত্র বয়স থেকে, রোটারিয়ানগণ ও সমাজসেবী মনোভাব নিয়ে আত্ম পরিচর্যার কাজ করে থাকেন ;বিএমপি কমিশনার।

     

    কাউনিয়া থানাধীন শায়েস্তাবাদ সুরভীপল্লী বরিশালে রোটারি ক্লাব বরিশাল এ ২১ আগস্ট ২০২১ খ্রিঃ” Year Launching Ceremony 2021-2022 ” অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএমবার মহোদয়।

    অনুষ্ঠানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন বৃক্ষ রোপণ ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবন্মুক্ত করা হয়।

    প্রধান অতিথি মহোদয় বলেন, অপরাধ দমন করে সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের চ্যলেঞ্জ ও লক্ষ্য ; রোটারিয়ানগণ ও সমাজসেবী মনোভাব নিয়ে আত্ম পরিচর্যায় অনেকটা নিজের খেয়ে সমাজের মোষ তাড়ানোর মতো সেই কাজ করে থাকেন।

    সমাজের সর্বস্তরের অসঙ্গতিগুলো দূর করে পরিবেশ ও সমাজের সবাইকে ভালো রাখার ব্রত নিয়ে বিবেকের টানে রোটারি ক্লাবের এই কর্মকাণ্ডগুলো সত্যি প্রশংসনীয়। তাই রোটারিয়ানদের মাঝে আসলে সময়ের অপচয় মনে হয় না।

    এই পেন্ডামিক পরিস্থিতিতে অদম্য আগ্রহ নিয়ে রোটারি ক্লাব কর্তৃক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জনগণের কথা চিন্তা করে অক্সিজেন ও আমিষের ঘাটতি পূরণে বৃক্ষ রোপণ ও মৎস উৎপাদনের কর্মসূচিকে তথা এই দেশকে শক্তশালী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার ব্রত নিয়ে রোটারিয়ান ক্লাব কর্তৃক স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে কাজ করা এমন সকল কর্মকান্ডে প্রতি সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

    তিনি আরও বলেন, আজকের এই ২১ আগস্ট জাতীয় জীবনে আরেকটি কলঙ্ক ও দুঃখজনক দিন। আমরা সকল বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

    একটি অগ্রহণযোগ্য বিরল ঘটনায় এই আগস্ট মাসে জাতীয় ভাবে আমরা অত্যন্ত পরিতাপ ও বেদনার ক্ষত বহন করে থাকি। একটি অসাম্প্রদায়িক, অহিংস, সমৃদ্ধির দেশ হিসেবে বাঙালির স্বাধীনতা, বাঙালির মুক্তি কামনায় যিনি প্রতিদিন নিরলস ভাবে কাজ করেছিলেন। সেই মহান মুক্তিকামি নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আজকের এই দিনে কতিপয় বিপদগামী মীরজাফরের দল ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সালের এই মাসে নৃশংসভাবে স্ব-পরিবারে হত্যা করে।

    আমরা কতোটা বোকা ও অভাগা জাতি যে,এই দেশ স্বাধীন ভূখন্ডে পরিনত করার মেধা মনন, যোগ্যতা নিয়ে জন্ম নেয়া প্রকৃতি প্রদত্ত নেতাকে আমরা ধরে রাখতে পারিনি। একটা সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তাঁর আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া আমাদের কর্তব্য।

    রোটারি একটি চমৎকার সংগঠন,
    খুব সক্রিয়ভাবে মেম্বারশিপ না থাকলেও,
    রোটারি ক্লাবের সাথে সম্পর্ক আমার ছাত্র বয়স থেকে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহপাঠী, বন্ধুদের সাথে যেতাম।

    নিরাপত্তার চাহিদা নিশ্চিত না হলে মানুষের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ রয়ে যায়।সেই নিরাপত্তার চাহিদা শতভাগ পূরণ করতে ও জনগণের দোরগোড়ায় স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল সেবা পৌঁছাতে রোটারি ক্লাব আগুয়ান ভূমিকা রাখবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • বরিশালে সংঘর্ষ: ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে দুই মামলার আবেদন

    বরিশালে সংঘর্ষ: ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে দুই মামলার আবেদন

    বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

    রোববার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহর আদালতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন ও বিসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার এ আবেদন দুটি করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস।

    তিনি জানান, আমরা শতভাগ নিশ্চিত নালিশি দুটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করবেন আদালত। মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে শত্রুপক্ষের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে ইউএনও মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামসহ তাদের সহযোগীরা হত্যার উদ্দেশে গুলিবর্ষণ করা, মারধর, ভাঙচুর এবং ১০০ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে ইউএনও মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজালাল মল্লিকের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত ২১ জনের মধ্যে ১৮ জনের জামিন আবেদন করা হয়েছিল।

    তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত, জানান তালুকদার মো. ইউনুস।

    মামলার বাদী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, নিয়মিত কাজ করতে গেলে ইউএনও বাধা প্রদান করেন এবং গুলিবর্ষণ করেন।

    এরপর সেখানে তিনি পুলিশ এনে তাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও বেধড়ক মারধর করেন।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মতোই তিনি বরিশালে ১৮ আগস্ট সিটি মেয়রসহ নেতাকর্মী, সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের হত্যার জন্য গুলি চালান। এই অপরাধের বিচার চাইতেই আমরা আদালতে এসেছি।

    দুটি মামলার মধ্যে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের মামলায় আসামি করা হয়েছে বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও মুনিবুর রহমান, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, ওই থানার এসআই শাহজালাল মল্লিক, ইউএনওর নিরাপত্তারক্ষী পাঁচ আনসার সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ জন।

    অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদারের করা মালায় আসামি করা হয়েছে ইউএনও মুনিবুর রহমান, তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পাঁচ আনসার সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ জন।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন, আনসার ও পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    এতে দুজনের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আহত হয়েছে শতাধিক। ওই ঘটনায় গুলিবর্ষণ করেন ইউএনও মুনিবুর রহমান।

    পরে তিনি ও এসআই শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করে ৬০২ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করেন। মামলায় কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতাসহ ২২ জন গ্রেফতার রয়েছেন।

  • বিসিসি মেয়রের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের

    বিসিসি মেয়রের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেরিনয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের বরিশালের নেতারা।

    আজ ২১ আগস্ট শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় বরিশাল ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা বলেন, গত ১৮ ই আগস্ট বরিশাল উপজেলা পরিষদের ভিতরে ব্যানার নামানোকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের ভিতরে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসন, আনসার ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।

    এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনসার সদস্যরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর গুলি বর্ষন করে।তৎক্ষনাৎ খবর শুনে মেয়র ঘটনা স্থলে গেলে, মেয়রের উপর ও চড়াও হয় উপজেলা প্রশাসন।

    এমনকি এক পর্যায়ে মেয়রকেও গুলি করে।এতে মেয়র ঘটনা স্থল থেকে চলে আসে। এরপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে প্রশাসনের লাঠি চার্জে আওয়ামীলীগের অনেক কর্মী আহত হয়।

    পরে ঘটনার পরের দিন ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে মেয়র ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাদী হয়ে মেয়র সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করে।

    দুটি মামলায়ই প্রধান আসামি করা হয় মেয়রকে।উক্ত সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে গৌরনদী উপজেলার চেয়ারম্যান মনিরুন নাহার মেরী, এ সময় অন্যান্য বক্তারা অনতিবিলম্বে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।উক্ত সংবাদ সন্মেলনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ ৬৩ জন উপস্থিত ছিলেন।

  • মেয়রের আশ্বাসের পর বরিশাল নগরীর পরিচ্ছন্নতা শুরু

    মেয়রের আশ্বাসের পর বরিশাল নগরীর পরিচ্ছন্নতা শুরু

    মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর আশ্বাসে দুই দিন পরে অবশেষে নগরী থেকে ময়লা অপসারণ শুরু করেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। শনিবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বাসা-বাড়ির আশপাশ থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ শুরু করেন তারা।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেছেন, বুধবারের ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের করা হয়রানিমূলক মামলার পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা নিজ বাসা-বাড়ি থেকে আত্মগোপনে চলে যান।

    এতে নগরীর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ হচ্ছিল না। কিন্তু আজ (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টায় মাননীয় মেয়র সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশ্বস্ত করেন। সেই সঙ্গে তাদের যেন হয়রানি না করা হয়, সে জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    মূলত মেয়রের আশ্বাস পেয়েই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ফিরে এসে কাজ শুরু করেছেন। জনগণের ভোগান্তি লাঘবেই মেয়র এই আহ্বান করেছেন।

    এই কর্মকর্তা বলেন, রাতের মধ্যেই নগরীর সবি ময়লা-আবর্জনা অপসারণ হয়ে যাবে।

    নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, তিন দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল সড়কের ওপর। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। কিন্তু তা পরিচ্ছন্ন করতে মেয়র উদ্যোগী হয়েছেন, এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।

    এর আগে দুপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সদর রোডে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনর সামনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    এতে ইউএনও মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি পুলিশের এসআই শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। মামলায় ৬০২ জনকে আসামি করা হয়।

    উভয় মামলার ১ নম্বর আসামি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। মামলায় এখন পর্যন্ত কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাস মালিক সমিতির সভাপতি, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • সত্য দাবায়ে রাখতে পারবেন না সত্য উদঘটন হবেই : মেয়র সাদিক

    সত্য দাবায়ে রাখতে পারবেন না সত্য উদঘটন হবেই : মেয়র সাদিক

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন,আমি যদি অন্যায় করে থাকি আমার এই চেয়ারে থাকার কোনো অধিকার নেই।সত্য দাবায়ে রাখতে পারবেন না সত্য উদঘটন হবেই।

    আমি পরিচিত মানুষ। আমার চেহারা সারা বাংলাদেশের মানুষ চেনেন।আমি যদি অপরাধী হয়ে থাকি বা আমার দলের আওয়ামীলীগের কেউ অপরাধী হয়ে থাকি তাহলে আমার বিচার করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি তো আর পালিয়ে যাব না।

    আমাকে বললে আমি নিজেই থানায় হাজির হয়ে যাব।শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    মেয়র সাদিক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন।

    জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে আন্দোলন বন্ধ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের এ সিটি মেয়র।

    এ সময় মামলার নামে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের হয়রানি না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে মেয়র, সেই রাতের আংশিক নয়, পুরো ভিডিও প্রকাশ করার দাবি জানান।ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি।

    যা আগে থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। গত তিন বছরে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজেক্টের বরাদ্দ পাননি বলেও জানান মেয়র।

    তবে নগর ভবনের নিজস্ব ফান্ডে উন্নয়ন কাজ চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। মেয়র বলেন, তিনি যদি কোনো অন্যায় করেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী যে ব্যবস্থা নেবেন তাই মাথা পেতে নেবেন তিনি। সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে সত্য উদঘাটন হবেই বলে আশা করেন।

  • মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বরিশালে মানবন্ধন

    মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বরিশালে মানবন্ধন

     বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানবন্ধন করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
    শনিবার (২১আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
    সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলুর পরিচালনায় মানবন্ধনে স্বাস্থ কর্মকর্তা ডাঃ ফয়সাল, পরিচ্ছন্ন বিভাগের পরিদর্শক মাসুম, সহ সিটি করপোরেশনের কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
    মানবন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,’আমাদের মেয়র মহোদয়ের উপর হামলা করে উলটো ইউএনও তার মেয়র মহোদয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা সবাই এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছি।’
    তারা আরও বলেন,’আমরা আমাদের মেয়র মহোদয়ের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি।’
  • ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত দিন

    ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত দিন

    আজ ২১ আগস্ট। আজ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ঘৃণ্যতম ও নৃশংসতম এক দিন; রক্তাক্ত ভয়াল বিভীষিকাময় হত্যা ও চক্রান্তের এক দিন; নারকীয়তায় বর্বরতায় কলঙ্কিত এক দিন।

    ১৭ বছর আগে, ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশে’ পৈশাচিক গ্রেনেড হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দলটির ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হন আরও পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

    তৎকালীন এই বিরোধী দলটির নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই হামলায় প্রাণে রক্ষা পেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ১৭ বছর আগে এই দিন বিকেল ৩টা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হতে থাকেন। বিকাল ৫টার দিকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন শেখ হাসিনা।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রায় ২০ মিনিট বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ভাষণ শেষে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার’ উদ্বোধন ঘোষণার মুহূর্তে সন্ত্রাসীরা নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালায়।

    এতে মুহূর্তের মধ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। পুরো বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। গ্রেনেড হামলার সময় মঞ্চে বসা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা শেখ হাসিনার চারপাশে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেন। চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে।

    রাস্তায় পড়ে থাকে সারি সারি মানুষ। মানুষের গোঙানি আর কাতর চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। সেদিন আহত নেতাকর্মীদের অনেকেই আজও শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেনেডের স্প্লিন্টার, এখনও ভোগ করছেন দুর্বিষহ যন্ত্রণা।

    ২১ আগস্টের হামলার সময় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ আছে, আহতদের সাহায্যে এগিয়ে না এসে পুলিশ উল্টো তাদের হেনস্তা করে। চিকিৎসকরা চিকিৎসা না দিয়ে আহতরা যেন চিকিৎসাহীন থাকেন সে তৎপরতা চালিয়েছেন। ওই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়েছে। গ্রেনেড হামলার পর তদন্তে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে।

    জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয়। সেই তদন্তে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর নাম বেরিয়ে আসে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে পুনরায় এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ওই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম উঠে আসে।

    ইতিহাসের বর্বরোচিত এই গ্রেনেড হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, আমিনুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া প্রমুখ।

    এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, মাহবুবা পারভীন, অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দীপ্তি, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনিসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

    আজকের দিনের কর্মসূচি

    নিহতদের স্মরণে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সাড়ে ১০টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এ জনসভায় অংশ গ্রহণ করবেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • Untitled post 61988

    আজ ২১ আগস্ট। আজ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ঘৃণ্যতম ও নৃশংসতম এক দিন; রক্তাক্ত ভয়াল বিভীষিকাময় হত্যা ও চক্রান্তের এক দিন; নারকীয়তায় বর্বরতায় কলঙ্কিত এক দিন।

    ১৭ বছর আগে, ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশে’ পৈশাচিক গ্রেনেড হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দলটির ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হন আরও পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

    তৎকালীন এই বিরোধী দলটির নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই হামলায় প্রাণে রক্ষা পেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ১৭ বছর আগে এই দিন বিকেল ৩টা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হতে থাকেন। বিকাল ৫টার দিকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন শেখ হাসিনা।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রায় ২০ মিনিট বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ভাষণ শেষে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার’ উদ্বোধন ঘোষণার মুহূর্তে সন্ত্রাসীরা নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালায়।

    এতে মুহূর্তের মধ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। পুরো বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। গ্রেনেড হামলার সময় মঞ্চে বসা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা শেখ হাসিনার চারপাশে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেন। চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে।

    রাস্তায় পড়ে থাকে সারি সারি মানুষ। মানুষের গোঙানি আর কাতর চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। সেদিন আহত নেতাকর্মীদের অনেকেই আজও শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেনেডের স্প্লিন্টার, এখনও ভোগ করছেন দুর্বিষহ যন্ত্রণা।

    ২১ আগস্টের হামলার সময় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ আছে, আহতদের সাহায্যে এগিয়ে না এসে পুলিশ উল্টো তাদের হেনস্তা করে। চিকিৎসকরা চিকিৎসা না দিয়ে আহতরা যেন চিকিৎসাহীন থাকেন সে তৎপরতা চালিয়েছেন। ওই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়েছে। গ্রেনেড হামলার পর তদন্তে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে।

    জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয়। সেই তদন্তে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর নাম বেরিয়ে আসে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে পুনরায় এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ওই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম উঠে আসে।

    ইতিহাসের বর্বরোচিত এই গ্রেনেড হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, আমিনুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া প্রমুখ।

    এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, মাহবুবা পারভীন, অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দীপ্তি, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনিসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

    আজকের দিনের কর্মসূচি

    নিহতদের স্মরণে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সাড়ে ১০টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এ জনসভায় অংশ গ্রহণ করবেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • বিসিসি কাউন্সিলর মান্নাকে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারীরা

    বিসিসি কাউন্সিলর মান্নাকে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারীরা

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাইয়েদ আহমেদ মান্না কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার রাত পৌনে ১০টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধিন সিয়া মসজিদ সংলগ্ন বোনের বাসা থেকে দুজন সাদা পোশাকধারী লোক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যায় বলে দাবি মান্নার বড় ভাই শেখ মাসুদ আহমেদ রানার।

    তবে শেখ সাইয়েদ আহমেদ মান্নাকে ধরে নেয়ার বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

    শেখ সাইয়েদ আহমেদ মান্না বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন আহমেদ এর ছোট ছেলে।