Category: প্রচ্ছদ

  • মাস্ক নিয়ে যৎকিঞ্চিৎ

    মাস্ক নিয়ে যৎকিঞ্চিৎ

    করোনাকালে বিশ্বে সর্বাধিক আলোচিত শব্দের অন‍্যতম একটি হচ্ছে ফেস মাস্ক। এই মাস্ক নিয়ে বিশ্বে ঘটে চলেছে বিভিন্ন তেলেসমাতি। মাস্কের উচ্চারণ নিয়েও আছে নানা সমস‍্যা। অনেক শিক্ষিত বাঙালিও ‘মাক্স’ উচ্চারণ করে থাকেন। ফেসবুকে পেলাম, স্ত্রী তাঁর স্বামীকে বাজার থেকে মাস্ক নিয়ে আসতে বললে স্বামী নাকি মাছ নিয়ে আসেন। এ নিয়ে বাধে হুলুস্থুল কাণ্ড। আবার পাত্রের মুখের মাস্ক খোলার পর বিয়ে ভেঙে গেছে, এমন ঘটনাও তো আছে! বিয়ের জন‍্য পাত্র দেখা প্রায় শেষ পর্যায়ে; বিয়ের দিন–তারিখ নিয়ে কথা চলছে; এমন সময় পাত্রীপক্ষের একজনের মনে হলো মাস্ক খুলে পাত্রের বদনখানি দেখা দরকার। স্বাস্থ্যসচেতন পাত্রের সামনের পাটির দুটি দাঁত অতিরিক্ত বড় ও ফাঁকা থাকার কারণে পরে ওই বিয়েই ভেঙে যায়। ইদানীং তরুণেরা কিন্তু অনেক সচেতন। কারও ওপর ক্রাশ খাওয়ার আগে নাকি কৌশলে মাস্ক খুলে দেখে নেন।
    প্রায় দেড় বছর যাবৎ আমরা মাস্ক পরছি। এরই মধ‍্যে আমার দুই বছরের ছেলে বুঝে গেছে, ঘরের বাইরে গেলে যেমন প‍্যান্ট-গেঞ্জি পরতে হয়, তেমনি মাস্কও পরিধান করতে হয়।

    এই মাস্কের রয়েছে বহুবিধ ব‍্যবহার। বিশেষ করে ললনাদের অনেকেই ইতিমধ্যে মাস্ককে ফ‍্যাশনে পরিণত করে ফেলেছেন। পোশাকের সঙ্গে এমনকি গায়ের রঙের সঙ্গে ম‍্যাচিং করে তাঁরা মাস্ক ব‍্যবহার করছেন। মাস্ক কেউ শুধু মুখে পরেন, কেউ আবার পরেন নাকে। পকেটে রাখেন অনেকে। মাথার সামনে, পেছনে এমনকি বেশির ভাগের থুতনিতেই শোভা পায় মাস্ক।

    মাস্ক এখন অনেকটা মোটরসাইকেলের হেলমেটের মতো। হেলমেট না পরলে যেমন আক্কেল সেলামি গুনতে হয়, একইভাবে মাস্ক না পরলে পুলিশের খপ্পরে পড়তে হয়। এ জন‍্য ঢাকা শহরের রাইড শেয়ারিং বাইকাররা নাকি সব সময় সঙ্গে কিছু মাস্ক রাখেন। ৪–৫টা মাস্ক হলে নাকি ৫০–৬০ জনকে নিয়ে রাইড শেয়ার করা যায়। এখন সিদ্ধান্ত আপনার, নিজের সঙ্গে রাখবেন নাকি বাইকারেরটাই পরবেন।

    আবার মাস্ক না পরার জন‍্য কত যে বাহানা, তা–ও আমাদের জানা আছে। পান খেলে করোনা হয় না, তাই মাস্ক পরার দরকার কী! কিছু বকধার্মিকের যুক্তি শুনলে আরও অবাক হতে হয়। ধর্ম পালনের সঙ্গে মাস্ক না পরার যোগসূত্র দিয়ে কেউ কেউ যুক্তি দাঁড় করান। অর্থাৎ নিজেদের সুবিধামতো ধর্মও ব‍্যবহার করা আরকি!

    এখানে ব‍্যবসায়ীরাও বাদ যাবেন কেন? এ সুযোগে করোনার শুরুতে মাস্কের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটে নিতে একটুও ভুল করেননি তাঁরা।

    অবশ‍্য বিভিন্ন সময় মাস্ক নিয়ে কর্তাব্যক্তিদের নানা রকম বাণীতেও আমরা বিভ্রান্ত হয়েছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরুতে বলেছিল, সুস্থ মানুষের মাস্ক পরার প্রয়োজন আছে, এ সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির পরিচালক বলেন, ‘শুধু মাস্ক কখনো আপনাকে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত রাখবে না।’ কিছুদিন পর সংস্থাটি আবার বলছে, মাস্ক পরলে জীবাণু বহণকারী ড্রপলেট থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তাদের গবেষণায় পাওয়া গেছে

    এরপর বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব এল যে করোনা বাতাসে ছড়ায়। ঘরে বসে থাকলেও করোনা হতে পারে! এসব নানাবিধ বাণী আমাদের মতো আমজনতাকে মাস্কের বিষয়ে আরও সন্ধিগ্ধ করে তুলেছে।

    মাস্ক নিয়ে যেমন অনেক রসাল কথা শুনতে পাই, তেমনি এটাও সত‍্য যে মাস্ক মানুষের অনুভূতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করার এক দারুণ অস্ত্র, যা লুকিয়ে রেখেছে লাখো মানুষের দুঃসহ অনুভূতি।

    অকিঞ্চিৎকর এই লেখা শেষ করছি কবি জসিমউদ্‌দীনের বিখ‍্যাত ‘আসমানী’ কবিতার প্রথম কয়েকটি লাইনের প‍্যারোডি দিয়ে:
    করোনা থেকে বাঁচতে যদি তোমরা সবে চাও,
    ঘরের বাইরে সব সময়ই মাস্ক পরে যাও।
    হেলা নয় নিয়ম করে মাস্ক পরো জানি,
    একটুখানি অসাবধানতায় করোনার হাতছানি।
    স্বাস্থ্যবিধি মানলে পরে করোনা যাবে সরে,
    ধরিত্রী হবে করোনামুক্ত শুধু তারই তরে।

  • সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির দাবিতে বরিশাল বিভাগ জুড়ে মানববন্ধন

    সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির দাবিতে বরিশাল বিভাগ জুড়ে মানববন্ধন

    সচিবালয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে শারীরিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদ এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা।

    বরিশাল : বরিশাল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর সদর রোডে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বরিশাল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিইমজা), বরিশাল টেলিভিশন ক্যামেরাপার্সন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বরিশাল ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বিমান বন্দর থানা প্রেসক্লাব, অনলাইন প্রেসক্লাব, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

    বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদের সঞ্চলানায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জী, সিনিয়র সদস্য নজরুল ইসলাম চুন্নু, এমএম আমজাদ হোসাইনসহ অন্যান্যরা।

    এসময় সাংবাদিকরা বলেন, রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিকভাবে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। তাকে কারাগারে প্রেরণ করা সারাদেশের গণমাধ্যমকে গলা চেপে ধরার সমতুল্য। বক্তারা এসব ঘটনার নিন্দা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন। এছাড়াও অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী কঠোর গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

    ঝালকাঠি : ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ইউনিটির (জিআরইউ) আয়োজনে বুধবার বেলা ১১টায় টাউনহলের সামনে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি আল-আমিন তালুকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আক্কাস সিকদার, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতি ও দৈনিক দূরযাত্রার সম্পাদক জিয়াউল হাসান পলাশ, এটিএন বাংলা’র প্রতিনিধি শ্যামল সরকার, জেআরইউ’র সহসভাপতি আতিকুর রহমান, দৈনিক প্রথম আলো প্রতিনিধি অ্যাড. আ.স.ম মাহমুদুর রহমান পারভেজ, এসএ টিভি’র প্রতিনিধি অলোক সাহা প্রমুখ।

    বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নামে দেয়া হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

    এদিকে জেলার নলছিটিতে সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নলছিটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ তালুকদার, বর্তমান সহসভাপতি মো. ইউসুফ আলি তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন কান্তি দাস, দৈনিক জাগরণের বরিশাল প্রতিনিধি গোলাম মাওলা শান্ত, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেন, প্রথম আলো বন্ধুসভার উপজেলা সভাপতি সাথী আক্তার প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সচেতন মানুষেরা প্রকৃত ঘটনা জানতে সক্ষম বলেই রোজিনার বিরুদ্ধে হাস্যকর অভিযোগে মামলা এবং তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে।
    বক্তারা দ্রুত রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবি করেন এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও তাকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    মানববন্ধনে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের হয়রানির ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা। সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়া দৈনিক জনতা ও আঞ্চলিক দৈনিক সময়ের বার্তার নলছিটি প্রতিনিধি খলিলুর রহমানের মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার দাবি করেন তারা।মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

    বরগুনা : বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে বুধবার সকাল ১০টায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন অফিস চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অ্যাড. মজিবুল হক কিসলু, সাধারণ সম্পাদক এম.এ আজিম, বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম মান্নু, মাই টিভির বরগুনা প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ।

    এসময় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের গলা চেপে ধরে কখনো কলম থামানো যাবে না। সাংবাদিকরা সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করে আসছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। বক্তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার ও তদন্ত সাপেক্ষে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি দাবি করেন।

    এছাড়াও পটুয়াখালির গলাচিপা, পিরোজপুরের কাউখালিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুুিষ্ঠত হয়।

  • স্বাস্থ্যখাত নিয়ে রোজিনার প্রতিবেদন

    স্বাস্থ্যখাত নিয়ে রোজিনার প্রতিবেদন

    স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবেদন করেছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। রোজিনা ইসলামের এসব্ প্রতিবেদন মানুষের মধ্যে আলোচিত হয়েছে। দুর্নীতির অনেক চিত্র সামনে এসেছে।

    এসব প্রতিবেদনের আলোকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থাও নিয়েছে।

    স্বাস্থ্যখাত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে রোজিনা ইসলামের কিছু প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:

    ‘এখন এক কোটি দেব, পরে আরও পাবেন’

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বড় একটি নিয়োগে বড় অঙ্কের ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন নিয়োগ কমিটিরই দুজন সদস্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে তাঁরা দাবি করেছেন, এই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রার্থীদের একটি অংশের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

    লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের সন্দেহ হয় মৌখিক পরীক্ষা নিতে গিয়ে। নিয়োগ কমিটির সদস্যরা বলছেন, লিখিত পরীক্ষায় যেসব প্রার্থী ৮০ নম্বরের মধ্যে ৬০ থেকে ৭৯ পেয়েছেন, তাঁরা মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। বরং ভালো করেন লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা।

    মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে নিয়োগ বোর্ডের এক সদস্যকে ঘুষ ও পদোন্নতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন আরেক মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে দেওয়া চিঠিতে নিয়োগ কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করেন, তাঁকে নগদ এক কোটি টাকা এবং পরে আরও টাকা ও পদোন্নতি দেওয়ার লোভ দেখানো হয়।

    করোনাকালে সরকারি হাসপাতালে কারিগরি জনবল ঘাটতি মেটাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় গত বছরের ২৯ জুন। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ২ হাজার ৫২১ জন উত্তীর্ণ হন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫ শতাংশের মতো। তবে যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ খুব ভালো নম্বর পান, যা থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় খুব কড়াকড়িভাবে।

    লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই নিয়োগসংক্রান্ত কমিটির দুজন সদস্যকে সরিয়ে দিয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, পুরো পরীক্ষা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বরের মধ্যে ১০ পাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সব পদের বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এ জন্য ৮০০ জনের মতো প্রার্থীকে নিয়োগের চিন্তা করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও নিয়োগ কমিটির প্রধান শেখ মো. হাসান ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা যেসব অভিযোগ করেছেন, তা আমি স্বাস্থ্যসেবা সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়েছি। আমার কাছে এর সকল প্রমাণ আছে।’ তিনি বলেন, ‘৮০ নম্বরের মধ্যে যখন একাধিক পরীক্ষার্থী ৭৯ পায়, তখন সেটা ভাবনার বিষয়।’

    ‘শুক্রবারে এক কোটি টাকা দেব’

    অনিয়মের অভিযোগে নিয়োগ কমিটি থেকে যে দুজন সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের একজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) আ ফ ম আখতার হোসেন। তাঁর জায়গায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ দেওয়া হয় ডা. মো. আবুল হাশেম শেখকে। তিনি এর আগে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে এই নিয়োগসংক্রান্ত কমিটিতে সদস্যসচিব করা হয়।

    আখতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।

    অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে নতুন নিয়োগ পাওয়া ডা. আবুল হাশেম গত ৮ মার্চ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে একটি চিঠি দিয়ে তাঁকে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। ওই সময় স্বাস্থ্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল মান্নান। চিঠিতে ডা. হাশেম লিখেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পরিকল্পনা অধিশাখা) শ্রীনিবাস দেবনাথ গত ১ মার্চ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। তখনই তিনি ঘুষের প্রস্তাব দেন।

    ডা. হাশেম আরও লেখেন, ‘তিনি (শ্রীনিবাস) বললেন শুক্রবারে আপনাকে এক কোটি টাকা দেব, কোথায় দেখা করব? আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী জন্য আমাকে এত টাকা দেবেন? তিনি জানালেন, আমরা যে তালিকা দেব, তাঁদেরকে ভাইভা বোর্ডে পাস করিয়ে দিতে হবে। তাঁরা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেছেন।’

    সেদিনের সাক্ষাৎকালে উপসচিব শ্রীনিবাস ডা. হাশেমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদোন্নতির লোভ দেখান বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। এতে ডা. হাশেম আরও লেখেন, কথা বলার সময় শ্রীনিবাসের মুঠোফোনে একটি ফোন আসে। শ্রীনিবাস ফোনটি তাঁকে দিয়ে বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এপিএস কথা বলবেন। তখন আরিফুর নামে একজন বলেন (ডা. হাশেমকে), তিনি যেভাবে বলেছেন সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

    আপনাকে এক কোটি টাকা দেব, কোথায় দেখা করব? আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী জন্য আমাকে এত টাকা দেবেন? তিনি জানালেন, আমরা যে তালিকা দেব, তাঁদেরকে ভাইভা বোর্ডে পাস করিয়ে দিতে হবে। তাঁরা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেছেন।’

    সেদিনের সাক্ষাৎকালে উপসচিব শ্রীনিবাস ডা. হাশেমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদোন্নতির লোভ দেখান বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। এতে ডা. হাশেম আরও লেখেন, কথা বলার সময় শ্রীনিবাসের মুঠোফোনে একটি ফোন আসে। শ্রীনিবাস ফোনটি তাঁকে দিয়ে বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এপিএস কথা বলবেন। তখন আরিফুর নামে একজন বলেন (ডা. হাশেমকে), তিনি যেভাবে বলেছেন সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

    চিঠিতে ডা. হাশেম স্বাস্থ্যসেবা সচিবকে বলেন, ‘আমি শ্রীনিবাস দেবনাথকে জানালাম, ঘুষের বিনিময়ে কোনো কাজ করতে অপারগ। …তিনি জানালেন, এক কোটি টাকা শেষ নয়, নিয়োগের পরে আরও পাবেন, চিন্তা করে দেখুন।’

    ডা. হাশেমের চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, শ্রীনিবাস দেবনাথ অনেকের সঙ্গে জড়িত হয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য পরিচালনা করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত। তাঁরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. আ ফ ম আখতার হোসেন। অন্যজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ সোহেল। ডা. হাশেমের ভাষ্যমতে, সোহেল একজন নৈশপ্রহরী ছিলেন, যিনি বিধিবহির্ভূতভাবে এমএলএসএস পদে পদোন্নতি পান।

    চিঠিতে ডা. হাশেম নিয়োগ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করার অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যসেবা সচিবকে। চিঠি দেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মনে হয় এই নিয়োগে বড় বাণিজ্য হয়েছে। তাই অভিযোগ লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। স্বাস্থ্যসচিবকে (সাবেক) আমি মৌখিকভাবে বলেছি। তাঁরা আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।’

    ‘দুই-চার বছরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যাইনি’

    ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপসচিব শ্রীনিবাস দেবনাথের কাছে জানতে চাইলে তিনি গতকাল রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমি দুই-চার বছরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যাইনি।’
    অবশ্য শ্রীনিবাস জানান, তিনি আরিফুরকে চেনেন। তাঁরা দুজনেই ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর এই ‘ছোট ভাই’ আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এপিএস ছিলেন।

    উল্লেখ্য, আরিফুর রহমান সেখ নামের একজন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ছিলেন। নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    আরিফুর রহমান সেখ বর্তমানে পরিকল্পনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। ডা. হাশেমের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, এ ধরনের কথা কাউকে তিনি বলেননি।

    নিয়োগ কমিটির আরেক সদস্যের অভিযোগ

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ও নিয়োগ কমিটির সদস্য শারমিন আক্তার জাহান স্বাস্থ্যসেবা সচিবকে চিঠি দেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়োগ কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দীপঙ্কর বিশ্বাসের প্রস্তাব ও কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগকে লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করে শারমিন আক্তার আরও লিখেছেন, কঠিন প্রশ্নেও উত্তীর্ণদের বেশির ভাগ অনেক ভালো নম্বর পান। কিছু খাতা খুলে দেখা যায়, মুক্তার মতো হরফে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত লেখা, যেখানে কলম ধরার কোনো সুযোগ নেই। এত নম্বর পাওয়া খুবই অপ্রাসঙ্গিক ছিল।

    চিঠিতে শারমিন আক্তার আরও উল্লেখ করেন, মৌখিক পরীক্ষা শুরু হলে দেখা যায়, যাঁরা অনেক নম্বর পেয়েছেন, তাঁরা মৌখিক পরীক্ষার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। যাঁরা ৪০ থেকে ৫৯ পর্যন্ত নম্বর পেয়েছেন, তাঁরা অনেক ভালো মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

    শারমিন আক্তার চিঠিতে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব অভিযোগ স্বাস্থ্যসচিবকে জানানো হলে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানান। এরপর দীপঙ্কর বিশ্বাসকে নিয়োগ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য দীপঙ্কর বিশ্বাস প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তাঁর কোনো ভূমিকা নেই। সবকিছু যেন বিধিসম্মতভাবে হয়, সেটাই তিনি দেখেছেন।

    অবশ্য শারমিন আক্তার জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই যাঁদের নামে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের সবার বিষয়ে তদন্ত করা হোক।’

    ‘আমরা লিংক পেয়েছিলাম’

    লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মৌখিক পরীক্ষায় একটি বিশেষ কৌশল নেয় নিয়োগ কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায়ও ছোট তিনটি প্রশ্নের উত্তর লিখে দিতে বলা হয়। এতে আগে উচ্চ নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ ভুল করেন।

    এদিকে লিখিত পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর পেয়েছেন, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার কোনো প্রশ্নের উত্তর পারেননি এমন ছয়জনের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তাঁরা দাবি করেন, অনেকেই লিখিত পরীক্ষার আগে ইন্টারনেটে একটি লিংকে উত্তর পান। সে অনুযায়ী মুখস্থ করে পরীক্ষা দেন। একজন প্রার্থী বলেন, ‘এসব নিয়োগ কি টাকা ছাড়া হয়!’

    বিস্তারিত তদন্তের তাগিদ

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, অনিয়মের বিষয়টি তাঁকে এখনো জানানো হয়নি।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা দিতে সরকারি হাসপাতালগুলো জনবল ঘাটতিতে পড়েছে। এ জন্যই বড় একটি নিয়োগ জরুরি ভিত্তিতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে জরুরি প্রয়োজনে ২০২০ সালের শুরুর দিকে এক দফায় ২০৩ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনায় ওই নিয়োগ সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে নিয়োগে এমন দুর্নীতি অহরহ হয়। তবে প্রকাশিত হয় না। এবার যেসব সরকারি কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তিনি বলেন, এখন বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে বুঝতে হবে দুর্নীতিবাজদের আরও ওপরের স্তরের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে।

  • অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পেলেন আরও ৪ জন

    অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পেলেন আরও ৪ জন

    বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পেলেন আরও চার জন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    রবিবার (১৬ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের গত ৬ মে তারিখের সভায় সুপারিশকৃত চার জনের পদোন্নতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ মে অনুমোদন করেছেন।

    পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন— দিদার আহম্মদ উপপুলিশ মহাপরিদর্শক বর্তমান কর্মস্থল অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট ঢাকা, মো. আতিকুল ইসলাম, উপপুলিশ মহাপরিদর্শক বর্তমান কর্মস্থল নৌপুলিশ ইউনিট বাংলাদেশ, এম খুরশিদ হোসেন, উপপুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ সদর দফতর ঢাকা, মো. শফিকুল ইসলাম উপপুলিশ মহাপরিদর্শক বরিশাল রেঞ্জ বাংলাদেশ পুলিশ।

    এই চার জন অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) হিসেবে পদোন্নতি পেলেন।

  • প্রজ্ঞাপন জারি: আরও সাতদিন লকডাউন

    প্রজ্ঞাপন জারি: আরও সাতদিন লকডাউন

    করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের (বিধিনিষেধ) মেয়াদ আরও সাতদিন অর্থাৎ ১৭ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত আরেক দফা বাড়ল।

    বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে রোববার (১৬ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী নতুন করে দুটি শর্ত সংযুক্ত করে বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা ১৬ মে মধ্যরাত থেকে ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

    ১. সরকারের রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব দফতর/সংস্থা জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত হবে।

    ২. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ কেবল খাদ্য বিক্রি/সরবরাহ করতে পারবে।

    কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। পরে তিন দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়, নির্দেশনাও আসে সংশোধনের। লকডাউনের সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হবে আজ রোববার মধ্যরাতে।

    বিধিনিষেধের বর্ধিত মেয়াদেও জেলার মধ্যে বাস চলবে। আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। এছাড়া আগের মতোই বন্ধ থাকবে ট্রেন ও লঞ্চ।

    এছাড়া লকডাউনে আগে মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। এছাড়া জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া যথারীতি সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সীমিত পরিসরে হবে ব্যাংকে লেনদেন।

    গত শুক্রবার (১৪ মে) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা থাকলেও তা মানেননি অনেকেই।

    ঈদের কিছুদিন আগে থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে মানুষ। জেলার মধ্যে চলাচল করা বাসের মাধ্যমে মানুষ চলে যায় ফেরিঘাটগুলোতে কিংবা জেলার প্রান্তে। ফেরি পার হয়ে কিংবা গাড়ি পাল্টে পৌঁছে গেছে গন্তব্যে।

    ব্যক্তিগত গাড়িতে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় অনেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বা প্রাইভেটকার নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে গেছেন ঈদ উদযাপনের জন্য। ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী বিভিন্ন গাড়িতেও রাজধানী ছেড়েছেন অনেকে।

    কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা এর আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের ধারণা হচ্ছে, এই পরিস্থিতির পর চলতি মাসের শেষ দিকে বা আগামী মাসের শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে।’

    এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞ কমিটি লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ করে। সে অনুযায়ী আরও এক সপ্তাহ বাড়ল লকডাউন।

  • বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

    বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

    বরিশাল নগরীরসহ জেলা এবং বিভাগের সকল মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ২ থেকে ৩টি করে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    শুক্রবার সকাল ১০টায় নগরীর কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত বাড়িতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে ঈদের নামাজ আদায় করেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।

    এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর এবং জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসসহ অন্যান্যরা জামাতে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সকাল ৮টায় নগরীর কালেক্টরেট জামে মসজিদের প্রথম জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল এবং জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

    জামাত শেষে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। করোনা মহামারি থেকে নিজে, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারী বিধিবিধান মেনে চলার নির্দেশনা দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বাদল।

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করায় মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। করোনাকালীন ঈদে সংক্রামন এড়াতেই সকল বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

    এছাড়াও বরিশাল নগরী এবং বিভাগের ৬ জেলায় সহস্রাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     

  • অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করব: প্রধানমন্ত্রী

    অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করব: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন, করোনার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মানুষ যেন অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। তিনি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো কাজ যেন কেউ না করেন যাতে সংক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

    আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সরকারপ্রধান এই আহ্বান জানান। এ সময় তিনি দেশবাসী ও বিদেশে বসবাসরত সব বাঙালিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

    পাশাপাশি এই করোনাকালে যেসব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা দিচ্ছেন তাদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা।

    আওয়ামী লীগের সভাপতি সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব এক গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ নামক এক মরণঘাতী ব্যাধি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ভাইরাস একদিকে যেমন অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিসাধন করছে মানুষের জীবন-জীবিকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এই ভাইরাস।

    ‘গত বছরের শেষদিকে যখন বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ অনেকটা কমতে শুরু করেছিল, তখন সবার সঙ্গে আমরাও আশান্বিত হয়েছিলাম যে বিশ্ববাসী বুঝি এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি থেকে দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের সকল পরিকল্পনা ও প্রত্যাশাকে নৎস্যাৎ করে দেয়।’

    মানুষের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়, কাজেই জনসমাগম এড়াতে না পারলে এ রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণে কষ্ট হবে জেনেও আমরা বাধ্য হয়েছি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে। দোকানপাট, শপিংমলসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখতে হচ্ছে। একই কারণে গণপরিবহন চলাচলের উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।’

    এমনি এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে এবারও আমাদের ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঈদ উদযাপন করব, তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কোনোভাবেই এই ঈদ উদযাপন যাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির উপলক্ষ্য হয়ে না উঠে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। জনগণের প্রতি অনুরোধ: আপনারা আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার পাশের ব্যক্তিটিই করোনাভাইরাস বহন করছে। এর ফলে আপনি যেমন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা পাড়া-প্রতিবেশীকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন। মনে রাখবেন, সবার উপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারব।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত বছরের মতো এ বছরও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।’

    সরকারপ্রধান দেশবাসীর আহ্বান জানিয়েছেন, ‘আসুন, আমরা সবাই যে যেখানে আছি সেখান থেকেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করি। বিত্তবান যাঁরা আছেন বা যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, এই দুঃসময়ে আপনার দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ান। তাঁদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার সাহায্য হয়তো একটি পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাবে। দেখবেন, তাঁদের হাসিমুখ আপনার হৃদয়মনকেও পরিপূর্ণ করে তুলবে ঈদের আনন্দে। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কর্তব্য। আমরা যেন এই কর্তব্যকর্ম ভুলে না যাই।’

  • সাদিক আব্দুল্লাহর নিজ খরচে অসহায় মা পেল নতুন স্বপ্ন

    সাদিক আব্দুল্লাহর নিজ খরচে অসহায় মা পেল নতুন স্বপ্ন

    সদর উপজেলার চরকাউয়ায় জয়নব বিবির মুখে হাসি ফোটালেন মেয়র সাদিক বরিশাল সদর উপজেলার ৭ নং চরকাউয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের অসহায় জয়নব বিবি এক মাকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিলেন বরিশালের জননন্দিত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

     

    জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সদর উপজেলার শ্রমিক ইউনিয়নের ভবন উদ্বোধনে গেলে অসহায় জয়নব বিবি মেয়রের কাছে তার মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘরের কথা বললে তিনি তাৎক্ষণিক স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক সাগরের তত্ত্বাবধানে তার নিজ অর্থায়নে ঘরটি নির্মাণ করে দেন।

     

    আজ ১২ মে জয়নব বিবিকে ঘর বুঝিয়ে দিলে তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান।

     

    তার এই ঘর পাওয়ার অনুভূতি দেখে ৭ নং চরকাউয়া ইউনিয়নের আ’লীগ ও ছাত্রলীগ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা খুব আনন্দিত ও তার পাশে থাকার আশা ব্যক্ত করেন এবং এ ধরনের মহৎ কাজে তারাও এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

  • বরিশাল নগরীর সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে অর্থ সহায়তা

    বরিশাল নগরীর সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে অর্থ সহায়তা

    বরিশাল নগরীর সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। সোমবার বিকালে নগরীর বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিভাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বসিক) মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজের সন্মানীত মানুষ। তাদের জন্য নগরীর ঈদগাহ ময়দানের পেছনে একটি ইমাম ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

    ৪ হাজার স্কয়ারফিট আয়তনের ৫তলা বিশিষ্ট এই ইমাম ভবনে একটি হেফজখানা, কনফারেন্স কক্ষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত ইমামদের জন্য বিশ্রামাগার থাকছে। কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তীস্থানে এই ইমাম ভবনটি হবে বরিশালের অন্যতম নান্দনিক ভবন। ভবনটির নাম রাখা হচ্ছে ‘মুক্তিযোদ্ধা শাহান আরা বেগম ইমাম ভবন’।

    ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস এই ভবন নির্মাণের যাবতীয় অর্থ অনুদান দিচ্ছে বলে জানান মেয়র।

    অনুষ্ঠানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এবং নগরীর চকবাজার জামে এবাদুল্লাহ মসজিদের খতিব নূরুর রহমান বেগ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

    এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন এবং ১ নম্বর প্যানেল মেয়র গাজী নাইমুল হোসেন লিটুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত ইমাম ভবনের অ্যানিমেশন এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয়। অর্থ সহায়তা প্রদান শেষে নগরীর বান্দ রোডের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের পেছনে ৫তলা বিশিষ্ট ইমাম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।

  • যাত্রীদের চাপে ফেরিতে ৫ জনের মৃত্যু, অসুস্থ অর্ধশতাধিক

    যাত্রীদের চাপে ফেরিতে ৫ জনের মৃত্যু, অসুস্থ অর্ধশতাধিক

    শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরিতে যাত্রীদের চাপে ৫ যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অসুস্থ হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী।

    বুধবার (১২ মে) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে