Category: প্রচ্ছদ

  • বরিশালে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

    বরিশালে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

    জাতীর জনকের ভগ্নিপতি সাবেক ভূমি মন্ত্রী কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

    আজ রোববার ২৮ মার্চ সকাল নয়টায় নগরীর অশি^নী কুমার টাউন হর চত্বরে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট,বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ও বরিশাল বিভাগীয় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আয়োজনে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের অস্থায়ী প্রতিকৃর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মিষ্টি বিতরন করা হয়।

    সকাল নয়টায় প্রথমে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের প্রতিকৃর্তিতে শ্রদ্ধা জানান পার্বত্য শান্তি চুক্তির রুপকার (মন্ত্রী) ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তারই বড় পুত্র বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    এরপরই শ্রদ্ধা জানান বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, প্যানেল মেয়র এ্যাড,রফিকুল ইসলাম খোকন সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিল বৃন্দ।

    এখানে আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল বিশ^ বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সাদেকুল আরেফিন সহ বিভিন্ন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

    বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান সভাপতি নজরুল বিশ^াষ, সাধারন সম্পাদক মিথুন সাহা, দপ্তর সম্পাদক রাসেল আহমেদ সহ বিভিন্ন সদস্য গণ।

    অপরদিকে আরো শ্রদ্ধা জানান বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বরিশাল শিশু সংগঠন খেলা ঘড়,শব্দবলী গ্রুপ থিয়েটার, খেয়ালী নাট্য সংগঠন,বরিশাল শিক্ষক সমিতি সহ বিভিন্ন সংগঠন এখানে এসে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করে।

    অপর দিকে নগরীর সোহেল চত্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে জাতীর জনক ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিযাবাতের ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেরা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন।

    এছাড়া সদররোডে বিভিন্ন পথচারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরন করা হয়।

  • শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’র জন্মশতবার্ষিকী আজ

    শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’র জন্মশতবার্ষিকী আজ

    বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধু সরকারের তৎকালিন মন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপা এবং আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি’র বাবা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর জন্মশতবার্ষিকী আজ। ১৯২১ সালের আজকের এই দিনে জেলার গৌরনদী উপজেলার সেরাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

    যিনি ১৯২১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবদান রাখেন। দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহামন হত্যাকান্ডের সময় ঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান কৃষক কুলের নয়নমনি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত।

    তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বিস্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। এরি মধ্যে শনিবার বিকালে কীর্তনখোলা নদীতে বণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে ‘নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা’। এছাড়াও ২৮ মার্চ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া-মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

    আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন একজন পরিশ্রমি এবং মেধাবী রাজনীতিবীদ। বাল্যকাল থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে তিনি ভ‚মি প্রশাসন, ভ‚মি সংস্কার ও ভ‚মি রাজস্ব এবং বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ছিলেন। এর পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন সাংবাদিক ও আইনজীবী ছিলেন।

    এদিকে, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালো রাতে মেজর শাহরিয়ার রশিদ, মেজর আজিজ পাশা, ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা এবং ক্যাপ্টেন মাজেদ- এর নেতৃত্বে ঢাকা ২৭ নম্বর মিন্টো রোডে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বাড়িতে আক্রমণ করা হয়। সে সময় ঘাতকের গুলিতে শহীদ হন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত।

    শুধু তিনিই নন, সেই কালো রাতে শহীদ হয়েছিলেন তাঁর মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবু, ভাগ্নে শহিদ সেরনিয়াবাত। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন তার স্ত্রী। তবে দরজার পিছনে লুকিয়ে থেকে প্রাণে বেঁচে যাঁন তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাসানাত আবদুল্লাহ’র স্ত্রী সাহান আরা বেগম।

    এদিকে, ‘ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকা রমনা থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আর ১৫ই আগস্টের নিরব সাক্ষী মিন্টো রোডের সেই বাসভবনটি বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যলয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    অপরদিকে, ‘শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর অবর্তমানে তাকে স্মরণিয় করে রাখতে বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্ত হয়েছে তাঁর নামটি। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল স্টেডিয়াম, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি’র নাম শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত আইনজীবী ভবন, জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্ত¡রে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এ্যানেক্স ভবন এবং সর্বশেষ বরিশাল ‘ল’ কলেজ এর নামকরণ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ‘ল’ কলেজ নামকরণ করা হয়েছে।

  • বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

    বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

    স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, বঙ্গবন্ধু ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (২৭) মার্চ শনিবার বিকেলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে কীর্তনখোলা নদীর ৩ কিলোমিটার জুড়ে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

    বিকেল ৪টায় নগরীর ত্রিশ গোডাউনস্থ স্মৃতি সৌধ এলাকা থেকে ঢাকা নৌ বন্দর পর্যন্ত ১০টি দলের অংশগ্রহণে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী হয় বিসিসির সাবেক কাউন্সিলর আউয়াল মোল্লার দল প্রথম স্থান অর্জন করে। রানারআপ হয় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেনের দল। তৃতীয় স্থান অধিকার করে ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদ আহম্মেদ মান্নার দল।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুবিনা আক্তার মিরা, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর হোসাইন, মেয়র পতœী লিপি আবদুল্লাহ।

    অতিথিবৃন্দ বিজয়ী তিন দলকে ট্রফিসহ তিন লাখ ও অংশগ্রহণকারী ৭টি দলের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে পুরষ্কার দেওয়া হয়। নদীতে নৌ পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ সহ আয়োজকদের পক্ষ থেকে শৃংখলা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বিভিন্ন উৎসুক জনতার ট্রলারের ভিড়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নৌকা বাইচ প্রতিযোগীদের বিঘœ ঘটে। এসময় অংশ নেওয়া ৫টি বাইচ নৌকা ডুবে যায়। বাইচ নৌকা ডুবে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত নৌ-পুলিশ এসে মাঝিমাল্লাদের উদ্ধার করে।

    এদিকে দীর্ঘদিন পর পুনরায় বিসিসি মেয়র কর্তৃক নৌকা বাইচের আয়োজন করায় কির্তনখোলা নদীর তিরে শত শত পুরুষ-মহিলা ও শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের মানুস ভীড় জমায়। অপরদিকে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিান আরো ঝাক-ঝোমক করে তুলতে নৌ পথে মুরাদের দল নৃত্য পরিবেশন আরো আগত জনতার মাঝে আনন্দ বইয়ে দেয়।

  • বাংলার মুখ ২৪.কম এর পক্ষ থেকে বরিশাল নির্যাতন কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিবেদন

    বাংলার মুখ ২৪.কম এর পক্ষ থেকে বরিশাল নির্যাতন কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিবেদন

    মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বরিশাল থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলার মুখ ২৪.কম এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। ২৬ শে মার্চ শুক্রবার সকলে বাংলার মুখ ২৪.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক মুহাঃ পলাশ চৌধুরীর পক্ষ থেকে নির্যাতন কেন্দ্র ও বদ্ধভুমিত ওয়াপদা কলোনি বরিশালে এ শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ ২৪.কম এর যুগ্ন বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক বরিশাল সংবাদ এর বার্তা সম্পাদক তানজিম হোসাইন রাকিব, বাংলার মুখ ২৪.কম এর ক্রাইম রিপোর্টার সফেন আব্দুল্লাহ, বাংলার মুখ ২৪.কম এর সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম সুমন,হাসিবুর রহমান সিফাত, স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম, নারী প্রতিবেদক ফারজানা অনিমা সহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

  • সেইদিন ৭ কোটি মুক্তিপিপাসু বাঙালির মনে জেগেছিল স্বাধীনতার ঢেউ

    সেইদিন ৭ কোটি মুক্তিপিপাসু বাঙালির মনে জেগেছিল স্বাধীনতার ঢেউ

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ

    আজ ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। আজ ২৬ শে মার্চ বাঙ্গালির শৃঙ্খল মুক্তির দিন। আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা উড়ানোর দিন আজ।১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে ইতিহাসের পৃষ্ঠা রক্তে রাঙ্গিয়ে আত্মত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে যে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরেছিল এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা স্বাধীনতা তার চূড়ান্ত ফলাফল। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সূচনার সেই গৌরব ও অহংকারের দিন আজ। ভয়াল কালরাত্রীর পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙ্গা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ।সারি সারি স্বজনের মৃত দেহ, আকাশে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোয়া, জ্বলে উঠলো মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ল প্রতিরোধ, মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে জয় বাংলা স্লোগান তুলে ট্যাংকের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক। পাক বাহিনীর গনহত্যার বিরুদ্ধে বাংঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষনা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবন বাজি রেখে ঝাপিয়ে পরল বীর বাঙ্গালী। গুরুতর অমানিশা বেদ করে দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীন সেই লাল টুকটুকে সূর্য। বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুনতে হয়েছিলো আজকের এই দিনে। ৩০ লাখ শহিদ আর ৩ লক্ষ নারীর সমভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই স্বাধীন বাংলাদেশ।

    সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দুইশ’ বছরের ব্রিটিশ-বেনিয়া শাসনের অবসানের পর ২৪ বছর ধরে চলে বিজাতীয় ভাষাভাষী গোষ্ঠীর শাসন-শোষণ ও আগ্রাসন। ’৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকদের নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। মাতৃভাষার দাবিতে ’৪৮ সাল থেকে শুরু করে ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তদান, সংগ্রাম-আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে রায়, ’৫৬-তে এসে সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি আদায়, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬ দফার মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তির সনদ ঘোষণা, ’৬৯-এর ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের বিদায় এবং ’৭০-এ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ধারাবাহিকতায়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এসেছে স্বপ্নের স্বাধীনতা।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। আমাদের জীবনে এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি নব প্রত্যয় ও শপথ গ্রহণের দিন। ১৯৭১ সালের ২৬-এ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য বাঙালি নিয়েছিল দৃপ্ত শপথ। পশ্চিম পাকিস্তানের শােষণের নাগপাশ থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য এবং আপন পরিচয় খোঁজার নিমিত্তে সেদিন বাঙালি গর্জে উঠেছিল। দীর্ঘদিনের শােষণ ও নিপীড়ন ভেঙে আবহমানকালের গৌরবময় সাহসিকতার ইতিহাস যেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেদিন এ জাতির ভেতরে। তাই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে সেদিন বাঙালি অর্জন করেছিল স্বাধীনতার সােনালি সূর্য।

    বাংলাদেশের জন্য স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও আত্ম-অহংকারের একটি দিন। ১৯৭১ সালের ২৬-এ মার্চ এদেশের মানুষ পৃথিবীর বুকে নতুন একটি মানচিত্রের সৃষ্টি করে। বাঙালির মুক্তির সমস্ত আকাঙ্ক্ষা সমন্বিত হয়েছিল সেদিন। আকাশের নক্ষত্ররাজির মতাে ছােটো-বড়াে হাজারাে ঘটনার জন্ম হয়েছিল সেদিন। সমস্ত জাতি যেন একই অঙ্গীকারে শপথ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। রক্তস্নাত হয়ে এ সবুজ-শ্যামল বাংলা অন্যরূপ পেয়েছিল সে সময়। বাঙালির সে ক্ষণের বীরত্বের ইতিহাস চর্চিত হয়েছে বহুভাবে বহুস্থানে। এ ইতিহাস আজন্মকাল ধরে বাঙালির হৃদয়ে জাগরূক থাকবে।

    আমাদের জন্য স্বাধীনতা দিবসের মূল তাৎপর্য হলাে— এটি আমাদের ত্যাগ ও মুক্তিসংগ্রামের গৌরবময় একটি দিন। এদিন আমাদের আত্মপরিচয়ের গৌরবে উজ্জ্বল; ত্যাগে ও বেদনায় মহীয়ান। এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের বতি নিপীড়িত সাধারণ মানুষ মুক্তির নতুন দিশা অর্জন করেছিল। স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে ইতিহাস রচিত হয়েছে তা এদেশের মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সােচ্চার হতে যুগে যুগে প্রেরণা জোগাবে। তাই প্রতিবছর ২৬-এ মার্চ এলেই বাঙালি নতুন শপথ গ্রহণের মাধ্যমে উজ্জীবিত হয়।

    স্বাধীনতার মূল অর্থ হলাে অধীনতা থেকে মুক্তি; আত্মােন্নয়নের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিজেকে বিকশিত করার সুযােগ লাভ । প্রতিটি স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে এনে দেয় নতুন সম্ভাবনা। আমরা নিজেদের ভেতরে স্বাধীনতার স্বাদ কতটা অনুভব করতে সমর্থ হচ্ছি তা মূল্যায়ন করি। স্বাধীনতার সুফল আমরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারছি কিনা তাও আমরা ভেবে দেখি।

    মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীনতার অধিকারপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশে ও বিশ্বে পরাধীনতাই যেন সবাইকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে। আমাদের সমাজেও সুপ্তভাবে এই প্রক্রিয়াটি লক্ষ করা যায়। কিন্তু ভুললে চলবে না আমাদের স্বাধীনতা অনেক রক্তের দামে কেনা; শহিদদের এই পবিত্র রক্তের দায় জাতি হিসেবে আমাদের সবারই। সেই দায় শােধ হতে পারে কেবল স্বাধীনতাকে সবার জন্য ভােগ্য করে তােলার মাধ্যমে। এই প্রত্যয় নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে ভবিষ্যৎকালের পথে ।

    তানজিম হোসাইন রাকিব 

     01742-165941

  • আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

    আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

    আজ ভয়াল ২৫ মার্চ। ১৯৭১ সালের এ দিনে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত নেমে এসেছিল। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী চিরতরে কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    সুনির্দিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাকিস্তানি জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল সেই কালরাত্রি। নিষ্ঠুরতার এক ভয়াল স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত এ রাত।

    পাক-হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    ২৫ মার্চ রাতে শুরু হওয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

    মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে ৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেফতার হন আরও ৩ হাজার লোক। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হলো। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠল শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।

    এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।

    কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার স্মরণে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়।

    এ বছর ২৫ মার্চ এমন একটি সময়ে সমাগত, যখন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ উদযাপিত হচ্ছে। এ উৎসবের প্রাক্কালে বাঙালি জাতি ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে নিহত সব শহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে।

    দিবসটি উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিট ব্ল্যাক আউট ঘোষণা করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ওই রাতে আলোকসজ্জা করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণহত্যা দিবসে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাসমূহ এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

    ২৫ মার্চ রাতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না।

    তবে ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে আলোকসজ্জা করা যাবে। জাতীয় কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তথা সর্বসাধারণকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    অন্যদিকে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। এদিন সকাল ১১টায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

  • বরিশালে বঙ্গবন্ধু’র ছোট বোন আমেনা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

    বরিশালে বঙ্গবন্ধু’র ছোট বোন আমেনা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট বোন মরহুমা আমেনা বেগমের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২৪ মার্চ) আসর নামাজবাদ নগরীর সেরনিয়াবাত ভবনে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, সিটি করপোরেশন প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর, জেলা ও মহানগর আ’লীগের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ, মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদক বৃন্দ এবং বিভিন্ন উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন, নগরীর চকবাজার এবায়দুল্লাহ জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মির্জা নুরুর রহমান বেগ।

    উল্লেখ, মরহুমা আমেনা বেগম সাবেক ভূমি মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের সহধর্মিনী, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী), বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র মাতা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দাদী।

  • গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বঙ্গবন্ধু

    গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বঙ্গবন্ধু

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০২০ এ ভূষিত করেছে ভারত সরকার। সোমবার (২২ মার্চ) দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে।

    ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে, ঠিক সেই সময় তাকে এমন সম্মান দিতে পেরে ভারতের সরকার ও জনগণ সম্মানিত রোধ করছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এক সভায় এই পুরস্কারের জুরি বোর্ড সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন।

    এতে আরও বলা হয়েছে, গান্ধী শান্তি পুরস্কারের জন্য এক কোটি টাকা, একটি পদক ও একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প দেয়া হবে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবাধিকার ও মানুষের মুক্তির কাণ্ডারি ছিলেন। ভারতীয়দের কাছেও নায়ক তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ও অনুপ্রেরণা দুই দেশের ঐতিহ্যকে বিস্তীর্ণ ও শক্তিশালী করেছে। তার দেখানো পথেই গত দুই দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তি আরও পোক্ত হয়েছে।

    ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিয়ে আসছে ভারত সরকার। মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ওই বছর থেকে তার মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই পুরস্কার চালু করা হয়।  জাতীয়তা, জাতি, ধর্ম-মত ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাইকে এই পুরস্কার দেয় ভারত সরকার।

  • বরিশালে সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন

    বরিশালে সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন

    বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বরিশালে বছরব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ।
    অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন বরিশাল বিভাগ, বরিশাল বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। সার্বিক সহযোগিতা করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী।
    নাট্যজন সৈয়দ দুলাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সমন্বয় পরিষদ সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ, নজরুল ইসলাম চুন্নু, বীর প্রতীক মহিউদ্দিন মানিক, জীবন কৃষ্ণ দে, বিসিবির প্যানেল মেয়র নঈমুল হোসেন লিটু, রফিকুল ইসলাম খোকন, আনোয়ার জাহিদ, টুনু কর্মকার, মুকুল দাস, কাজল ঘোষ, আজমল হোসেন লাবু, শুভংকর চক্রবর্তী, সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসাইন, বাসুদেব ঘোষ, সুশান্ত ঘোষ প্রমূখ
  • টপ টেন উদ্বোধন করলেন বিসিসি মেয়র

    টপ টেন উদ্বোধন করলেন বিসিসি মেয়র

    ব‌রিশা‌লে টেইলা‌রিং ব্র্যান্ড টপ টে‌ন শোরু‌মে হামলা ও লুটপা‌টের ঘটনার ১৪ দিন পর আবারও চালু হয়েছে শোরুম‌টি। উদ্বোধনের ১২ দিন পর শোরুমটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

     

    সদর রো‌ডের সৈয়দ ঈমান আলী টাওয়া‌রে শ‌নিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শোরুম‌টির উ‌দ্বোধন করেন ব‌রিশাল সি‌টি করপোরেশ‌নের মেয়র ও ব‌রিশাল মহানগর আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ।

    প্রতিষ্ঠান‌টির ব্যবস্থাপনা প‌রিচালক সৈয়দ হো‌সে‌ন তাকে প্রধান অতিথি করার কথা জানিয়েছেন।

    এ সময় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন টপ টেনের সিইও শ‌ফিকুল ইসলাম, ব‌রিশাল সি‌টি করপোরেশনের প‌্যা‌নেল মেয়র গাজী নইমুল হো‌সেন লিটু, র‌ফিকুল ইসলাম খোকন, ব‌রিশাল জেলা ছাত্রলী‌গের সভাপ‌তি হেমা‌য়েত উ‌দ্দিন সের‌নিয়াবাত সুমনসহ অ‌নে‌কে।

    টপ টেন শোরু‌ম চালুর ১২ দিন প‌রই সেখানে হামলা ও লুটপা‌টের অ‌ভি‌যোগ ও‌ঠে ছাত্রলী‌গ নেতা-কর্মী‌দের বিরু‌দ্ধে। সি‌সি টি‌ভি ফু‌টেজ দে‌খে পরে তা চি‌হ্নিত করা হয়।

    ৭ মার্চ সন্ধ্যায় ৫০ থেকে ৬০ জন কিশোর-যুবক দলবেঁধে ওই শোরুমে ঢুকে মালামাল লুট করে বলে দাবি করেন শাখা ব্যবস্থাপক মো. মিরাজ। এ সময় প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ কর্মচারীকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    হামলার সময় ঘটনাস্থল থে‌কে আটক ক‌রে পাঁচজন‌কে পু‌লি‌শে দেন শোরুমটির কর্মচারীরা। ৮ মার্চ ২১ জনের নামে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২৫-৩০ জন‌কে আসামি ক‌রে ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটের মামলা করে কর্তৃপক্ষ।

    পরে ৯ মার্চ ১৪ জন আসামি বরিশালের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

    এসব আসামির মধ্যে এক ছাত্রলীগ নেতা সোহানের নামে মামলা হলে আত্মসমর্পণ করেন তাদের দোকানের কর্মচারী নকল ‘সোহান’। সে দিনই ১৪ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আদালত।

    বর্তমানে মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯ আসামি কারাগারে আছেন।