Category: প্রচ্ছদ

  • বরিশালে শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন

    বরিশালে শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন

    আজ ২১ ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

    এ উপলক্ষে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংসঠন। প্রথমেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন, পরে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সহ বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ এর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশ, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, বরিশাল জেলা প্রশাসন পরে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

  • আজ আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস

    আজ আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস

    মহান ২১ ফেব্রুয়ারি, ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

    রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

    করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশের প্রথম প্রহরে সরাসরি পুস্পস্তবক করতে পারেননি। তবে তাদের পক্ষে ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবরা।

    দিবসটি সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।

    দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

     

    পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি হিসেবে ও ব্যক্তিপর্যায়ে একসাথে সর্বোচ্চ ২ জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্পবক অর্পণ করার নিয়ম করা হয়েছে এবার। শহীদ মিনারের সকল প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখা হয়েছে। মাস্ক পরা ব্যতীত কাউকে শহীদ মিনার চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

    মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

    মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠীর প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।

    ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’।

    একুশে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।

    ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

    ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

  • ভাষা আন্দোলনে বরিশাল

    ভাষা আন্দোলনে বরিশাল

    মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের রাজপথে যে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, তাঁর ব্যতিক্রম ঘটেনি ধান-নদীর শহর বরিশালেও। ১৯৪৮ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বরিশাল সফর করে ঢাকা যাবার পর মাতৃ ভাষার দাবিতে প্রদেশব্যাপী ধর্মঘট ধর্মঘট করে সেক্রেটারিয়েট ঘেরাও করা হয়। ওইদিন শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেকেই গ্রেফতার হন।

    অন্যদিকে রাষ্ট্রভাষার জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন বরিশালের কৃতী সন্তান কাজী গোলাম মাহবুব।

    এছাড়াও ওই কমিটিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বরিশালের আব্দুর রহমান চৌধুরী (বিচারপতি),আখতার উদ্দিন আহমেদ, এম ডব্লিউ লকিতুল্লাহ, অনিল দাস চৌধুরী, ভোলার শামসুল আলমসহ বৃহত্তর বরিশালের অনেক ভাষাসৈনিক।

    যে গানটি প্রতিটি বাঙালি বুকে ধারন করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে গেয়ে উঠি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ সেই গানের রচিয়তা তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীও বরিশালের কৃতী সন্তান।

    একই সাথে প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ, পরবর্তী ও বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ (শহীদ)। আবার আব্দুল লতিফের ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ বিখ্যাত এই গান, কিংবদন্তির কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতায় ফুটে ওঠা মায়ের ভাষার প্রতি হৃদয়স্পর্শী আবেগ আর অনুভূতির কবি ও গীতিকার তারা সবাই আমাদের বরিশালের কৃতী সন্তান।

    শুধু তাই নয়, একুশে ফেব্রুয়ারির সাংস্কৃতিক চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন বরিশালের কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পীরা।

    ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে যেসব গান-কবিতা সারাদেশে এমনকি সমগ্র বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তার অধিকাংশরই স্রষ্টা বরিশালের সন্তান।

    যার প্রমাণ হিসেবে বলা যায়, ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদের কথা। যার লেখনীতে ফুটে উঠেছে ভাষাসংগ্রামের নানা ইতিহাস।

    সূত্রমতে, বাঙালী জাতির অন্যতম আদি বাসভূমি বাকলার চন্দ্রদ্বীপ যা আজ বরিশাল নামে পরিচিতি। বাঙালীদের ভাষার নাম বাংলা।

    বাংলা ভাষার প্রথম কবি মীননাথ এগার শতকে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে বরিশালবাসী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

    ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগ্রাম শুরু হয়। ওইবছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদের সদস্য কুমিল্লার কৃতী সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদে উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান।

    ১৯৪৮ সালের ১০ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়ে ফজলুল হক হলে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

    এর পূর্বে (মার্চের প্রথম সপ্তাহে) শেখ মুজিবুর রহমান বরিশালে এসে বিএম কলেজের ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে সভা করে ছাত্রদের সংগঠিত করেন।

    শেখ মুজিবুর রহমান মার্চের প্রথমে বরিশালে সভা করে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে প্রদেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয় এবং সেক্রেটারিয়েট ঘেরাও করা হয়। ওইদিন শেখ মুজিবুর রহমান, বরিশালের গৌরনদী থানার কাজী গোলাম মাহবুব, সরদার ফজলুল করিম গ্রেফতার হন।

    পরবর্তীতে শেরে-বাংলা একে ফজলুল হক একদল আইনজীবী নিয়ে হাইকোর্ট থেকে বেরিয়ে রাস্তায় মিছিল করেন। এ সময় পুলিশ ছাত্রদের মিছিলে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। ছাত্ররা পুলিশের লাঠিচার্জে রাস্তায় দাঁড়াতে না পেরে শেরে-বাংলা একে ফজলুল হকের পাশে আশ্রয় নেন।

    ওই সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে শেরে-বাংলা হাঁটুতে ব্যথা পান। ১৪ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়। মোহাম্মদ তোয়াহা, কামরুদ্দিন আহমদ ও বরিশালের আব্দুর রহমান চৌধুরীর ছাত্রদের দাবি নিয়ে খাজা নাজিমউদ্দিনের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। খাজা নাজিমউদ্দিন ছাত্রদের বাংলাভাষা দাবি মেনে নেয়। গ্রেফতারকৃত ছাত্ররা ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করেন।

    ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বরিশালে ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ফেডারেশন এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। ১১ মার্চ কোথাও জায়গা না পেয়ে সদর রোডে দিপালী সিনেমা (বর্তমান অভিরুচি) হলের সামনে এবং ফকিরবাড়ী রাস্তার পাশের কচুক্ষেতে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কাজী বাহাউদ্দীন আহমদ এবং বক্তব্য রাখেন শামসুল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ আর্শেদ (ভোলা), মোখলেসুর রহমান, হাসান ইমাম চৌধুরী, এবিএম আশরাফ আলী খান প্রমুখ। ওইদিন (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় পুলিশ কাজী বাহাউদ্দীন আহমদ, শামসুল হক চৌধুরী, আর্শেদ, এবিএম আশরাফ আলী খানকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় এবং পরে মুক্তি দেয়।

    বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালীতে ১১ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে হরতাল পালিত হয়। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে বরিশালে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন কাজী বাহাউদ্দীন আহমদ, অমিয় কুমার দাশগুপ্ত, আলী আশরাফ, রমিজুল হক চুন্নু, হাসান ইমাম চৌধুরী, মোশারেফ হোসেন নান্নু, মুহাম্মদ আর্শেদ, মোখলেসুর রহমান, নেহাল হোসেন, স্বদেশ বসু, শামসুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

    রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন-যুক্তফ্রন্টের বিজয় ॥ ১৯৫২-১৯৫৮ মুসলিম লীগ সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিরোধিতা করে। পূর্ব বাংলার জাগ্রত ছাত্র-জনতা ১৯৪৭ সাল থেকে বাংলা ভাষা আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তোলে। তারা ১১ মার্চ ভাষা দিবস হিসেবে পালন করত। ১৯৪৯ সালে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক এসএম হলের ভিপি আব্দুর রহমান চৌধুরী তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন। ১৯৫২ সালের ২৫ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমউদ্দীন ঢাকার এক জনসভায় ঘোষণা করেন ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। বাংলার জনগণ নাজিমউদ্দীনের উক্তির তীব্র সমালোচনা করে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে। আওয়ামী মুসলিম লীগ, ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

    ২৮ সদস্যবিশিষ্ট সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং আহ্বায়ক হলেন কাজী গোলাম মাহবুব। ২৮ জন সদস্যের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন বরিশালের। তারা হলেন আহ্বায়ক গৌরনদীর কাজী গোলাম মাহবুব-আওয়ামী লীগ, গাভার মুজিবুল হক ভিপি-সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, দৌলতখার শামসুল আলম ভিপি-ফজলুল হক হল, পিরোজপুরের শামসুল হক চৌধুরী-ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ, আখতার উদ্দীন আহমদ নিখিল-পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ (শাহ গ্রুপ)।

    ভাষা সৈনিকদের পরিচিতি ॥ কাজী গোলাম মাহবুব ১৯২৭ সালে গৌরনদী থানার কসবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কৃষক নেতা মরহুম আব্দুল মাজেদ কাজী। কাজী গোলাম মাহবুব ১৯৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ভিপি ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

    এ্যাডভোকেট শামসুল আলম দৌলতখা থানার হাজীপুর গ্রামে ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী গোলাম রহমান প-িত। শামসুল আলম বিএম কলেজ থেকে ১৯৪৮ সালে বিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫০ সালে এমএ এবং ১৯৫২ সালে এলএলবি পাস করেন। তিনি ফজলুল হক হলের ভিপি ছিলেন।

    ভাষা আন্দোলনে তিনি ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালে কারাবরণ করেছেন। একুশের পদকপ্রাপ্ত শামসুল আলম বরিশাল জজকোর্টে আইন ব্যবসা করতেন। মোহাম্মদ মুজিবুল হক ১৯৩০ সালে ঝালকাঠির গাভা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    তার পিতা শেখ মোবারেক উদ্দীন সরদার। মুজিবুল হক চাখার কলেজ থেকে আইএ, বিএম কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। তিনি ১৯৫১-৫২ সালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি ছিলেন।

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি এক মাস কারাবরণ করেছেন। ১৯৫৪ সালে তিনি এসপি হন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। মুজিবুল হক বাংলাদেশ প্লানিং কমিশনের সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন।

    মুহাম্মদ শামসুল হক চৌধুরী পিরোজপুরের দুর্গাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন।

    একজন নির্ভীক আইনজীবী ও বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কর্মী হওয়ায় শামসুল হক একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। আখতার উদ্দীন আহমেদ ঝালকাঠী থানার নবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬২-৬৪ সালে গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে দখলদার বাহিনীর মন্ত্রী ছিলেন।

    কেন্দ্রীয় সংগ্রাম কমিটির আহ্বানে ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ববঙ্গে হরতাল পালিত হয়। মুসলিম লীগ সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আইন পরিষদে যাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওইসময় আইন পরিষদের অধিবেশন চলছিল।

    প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। তাদের মধ্যে ছিলেন, স্পীকার আব্দুল ওহাব খানের কন্যা সামছুন্নাহার এবং নলছিটির নন্দিকাঠী গ্রামের খান সাহেব বদরুদ্দিন আহমেদের কন্যা সুফিয়া খান।

    ছাত্রদের মধ্যে বরিশালের যারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তাদের মধ্যে ছিলেন, ফজলুল হক হলের ভিপি শামসুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈয়দ আশরাফ, আব্দুল লতিফ, খন্দকার আলমগীর প্রমুখ।

    পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বেলা তিনটার সময় পুলিশ মেডিক্যাল কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ করে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বরকত, রফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন। গুলির সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে এমএলএ আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ, আনোয়ারা বেগম, খয়রাত হোসেন, আবুল কালাম শামসুদ্দিন পরিষদ থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্র হত্যার বিচার ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। ছাত্রদের আন্দোলন জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়।

    কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

    পরিষদের আহ্বায়ক করা হয় গলাচিপার ইচাদি নিবাসী আবুল হাসেমকে এবং সভাপতি হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক খান।

    পরিষদের উল্লেখযোগ্যরা হলেন- আলী আশরাফ, আব্দুল আজিজ তালুকদার, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, প্রাণকুমার সেন, জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীর, সফিউর রহমান গদু মিয়া, সিরাজুল হক ভূঁইয়া ওরফে বাচ্চু মিয়া, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম,

    নূরুল ইসলাম খান, ডাঃ হাবিবুর রহমান, নিখিল সেন, বেলায়েত হোসেন, আমিনুল হক চৌধুরী, উকিল ওবায়দুল হক, কাজেম আলী, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, মোশারেফ হোসেন মোচন, ইমাদুল্লাহ লালা, মোশারেফ হোসেন নান্নু, রমিজুল হক চুন্নু, আলতাফ মাহমুদ, শাহজাহান চৌধুরী, রানী ভট্টাচার্য ও এমএ গফুর মোল্লা। ’৫২’র রক্তাক্ত পথ ধরে ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৪, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।

  • মায়ের জন্য দোয়া করলেন বিসিসি মেয়র

    মায়ের জন্য দোয়া করলেন বিসিসি মেয়র

    পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক(মন্ত্রী) আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র সহধর্মিনী, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র মাতা, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম সাহান আরা বেগম এর জম্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাদ যোহর বরিশাল নগরীর গোরস্থান রোড মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত আয়োজন করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসার ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন,

    বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুসসহ আরও অনেকে।

    এসময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তার মায়ের জন্য দোয়া করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান।

  • কোভিড-১৯ টিকা (প্রথম ডোজ) গ্রহন করলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি.

    কোভিড-১৯ টিকা (প্রথম ডোজ) গ্রহন করলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি.

    কোভিড-১৯ টিকা (প্রথম ডোজ) গ্রহন করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির মাননীয় আহ্বায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

    আজ সোমবার ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স এর মেডিকেল সেন্টারে কোভিড ১৯ টিকা গ্রহন করেন। এবং সবাইকে এই কোভিড ১৯ টিকা গ্রহনের আহবান জানান।

  • কথিত সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব এর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

    কথিত সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব এর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ

    হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে আক্রমণাত্মক মিথ্যা তথ্য প্রকাশ ও মানহানিকর সংবাদ প্রচার ও প্রকাশের অভিযোগ এনে নিউজ পোর্টাল বরিশাল টাইমসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও রিপোর্টার শাকিব বিপ্লবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য ও ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা এস,এম ইশতিয়াক কবির রকি মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেণ। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে বাদী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

    গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘উত্তপ্ত বরিশাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ ঃ দমনে কৌশলী পরিকল্পনা’ এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ‘বরিশাল সিটি মেয়রের ক্ষমতা খর্ব, শহরজুড়ে জোর গুঞ্জন’ শিরোনামে বরিশাল টাইমস নামক অনলাইনে ইলেকট্রনিকস ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। যা হলুদ সাংবাদিকতার সামিল। আসামি শাকিব বিপ্লব মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে যে সংবাদ পরিবেশন করেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বানোয়াট ও কল্পকাহিনী মাত্র। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামি যাচাই-বাছাই না করে সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর অসত্য, অশ্লীল, মানহানিকর ও বাস্তবতা বিবর্জিত বিভিন্ন কল্প কাহিনি সাজিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন।

    এছাড়া সংবাদে সরকারি উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য উপাত্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রচারিত দুটি সংবাদে প্রধানমন্ত্রী সহ সিটি মেয়রের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, একারণে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাজার কোটি টাকার মানহানি হয়। আসামি এর মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫ (২)(৩),২৯(১)(২),৩১(২)(৩) ধারার অপরাধ করেছেন।

    ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এই মাধকসেবক শাকিব বিপ্লব বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে নগরীর সদররোড বিবির পুকুর পাড়ে বসে এক নারীকে উত্তাক্ত করায় সাধারণ জনগন তাকে গনধোলাই দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শাকিব বিপ্লব পুকুরে পরে যায়। যার ভিডিও নগরীতে বেশ সাড়া ফালায়। মাদক সেবন, মাদক ব্যাবসা, নারী কেলেংকারী সহ অসংখ্য অপকর্মের আলমনামা তার। এইসব অপকর্মের ফলে একপর্যায়ে তাকে বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলার বন এবং দেশ জনপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।এরপর তিনি বেশ কিছুদিন নিরুদ্দেশ ছিলেন।অতপর ফিরে এসে তিনি কিছু কথিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের বাহবায় এইরকম উদ্ভট উদ্ভট সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এই হলুদ সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব এর বিচার এবং এই রকম কীটদের থেকে বরিশাল সাংবাদিক অঙ্গনকে মুক্ত করার জন্য বরিশালের দ্বায়িত্ববোধ সম্পন্ন সিনিয়র সাংবাদিকদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন নগরীর সুশীল সমাজ।

  • বরিশাল বিসিক উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের বালি ভরাট কাজের উদ্বোধন করলেন সিটি মেয়র

    বরিশাল বিসিক উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের বালি ভরাট কাজের উদ্বোধন করলেন সিটি মেয়র

    আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বরিশাল এর আয়োজনে বিসিক এলাকার বর্ধিত অংশে উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের বালি ভরাট কাজের শুভ উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও জেলা প্রশাসক বরিশাল জসিম উদ্দীন হায়দার।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ মহাব্যবস্থাপক (অঃ দাঃ) বিসিক বরিশাল মোঃ জালিস মাহমুদ, সহকারী কমিশনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল সুব্রত বিশ্বাস দাস, শিল্প নগরী কর্মকর্তা বিসিক মালিক সমিতি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ আয়তনের শিল্পনগরী বরিশাল বিসিকের উন্নয়নকাজে গতি ফিরেছে প্রায় ৭০ বছর আগে ১৩০ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর গড়ে তোলা বরিশাল বিসিকের ‘শিল্পনগরীর অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন এবং উন্নত এলাকার অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য ২০১৭ সালের এপ্রিলে বরিশাল বিসিকের উন্নয়নের জন্য ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্পটি একনেকে পাস হয় এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়।

    কিন্তু পরবর্তী সময়ে নানা কারণ দেখিয়ে তত্কালীন সময়ের প্রকল্প পরিচালক সময় চেয়ে তা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।

    এর পরও শেষ পর্যন্ত কাজ শুরু না হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে এ উন্নয়ন কার্যক্রম। আজ উন্নয়ন কাজের বালু ভরাট কাজের উদ্বোধন করা হয় এর ফলে বিসিক শিল্প এলাকার উন্নয়ন কাজের দার উন্মোচন হলো।

    চলতি বছরের শুরু থেকে দ্রুতগতিতে মানসম্পন্ন কাজ এগিয়ে চলায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে শিল্পউদ্যোক্তারা।তবে উন্নয়নকাজের জন্য ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হলেও এটি এখন বেড়ে ৭১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

  • মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিনকে ফুলের শ্রদ্ধার মাধ্যমে শেষ বিদায়

    মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিনকে ফুলের শ্রদ্ধার মাধ্যমে শেষ বিদায়

    বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিল কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরিশাল নগরবাশী অতি কাছের হৃদের মানুষ শেখ কুতুব উদ্দিন এর যানাজা নামাজ ও দাফন সম্পূর্ন করা হয়েছে।

    আজ বুধবার (১০) ফেব্রয়ারী সকাল ১০টায় নগরীর চৌমাথা সরকারী হাতেম আলী কলেজ মাঠে মেজ ছেলে সমাজসেবা অফিসার জহিরুল ইসলাম মুন্নার ইমামতির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় জানাযার নামাজে অংশ গ্রহন করেন জেলা ডিপুটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতিক),বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ,সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহ আলম, বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, বরিশাল পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান,সাবেক সংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস,সাবেক সংসদ ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ¦ মনিরুল ইসলাম মনি, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুর রহমান রিন্টু, সাবেক সংসদ,সাবেক হুইপ ও কেন্দীয় বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড, মজিবর রহমান সরোয়ার, জাপা চেয়ারম্যনের উপদেষ্টা অধ্যাপক মহসিন-উল-ইসলাম হাবুল, জেলা জাসদ সম্পাদক এ্যাড.আঃ হাই মাহাবুব,মহনগর যুব লীগ আহবায়ক ও প্যানেল মেয়র এ্যাড, রফিকুল ইসলাম খোকন সহ সরকারী বিএম কলেজ অধ্যক্ষ,সরকারী হাতেম আলী কলেজ অধ্যক্ষ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্ধ প্রর্যায়েক্রমে এক এক শেখ কুতুব উদ্দিনের কফিনে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এর পূর্বে বাংলাদেশ সরকারের রাস্ট্রপতির পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদিনের কফিনে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক জসীস উদ্দিন হায়দার। পরে পাব্যর্ত শান্তি কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ’র পক্ষে ফুলের শ্রদ্ধা জানান তারই জৈষ্ঠ সুযোগ্য সন্তান বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    পরবতীতে বিভিন্ন দলীয় নেতৃবৃন্দ ও নানা সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    পরে তার মরদেহ মুসলিম গোরস্তানে দাফন সম্পূর্ন করা হয়। এর পূর্বে পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কুতুব উদ্দিন এর জন্য স্মৃতিচারন তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখেন শেখ কুতুব রানা,বড় ভাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না।

    উল্লেখ্য বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন মঙ্গলবার সকাল পোনে ১০টায় রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদক্রিড়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।

  • মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুতুব উদ্দিন এর মৃত্যু, বিসিসি মেয়রের শোক

    মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুতুব উদ্দিন এর মৃত্যু, বিসিসি মেয়রের শোক

    বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না ইল্লাহি ওয়া ইন্নাল্লাহির রাজেউন)। রাজধানী ঢাকার ল্যাব এইড হসপিটালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি তিন ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
    এই বীরযোদ্ধার বন্ধ প্রদীপ কুমার ঘোষ জানান, কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ ১৯৭১ সালে ৯ নম্বর সেক্টরে মেজর এম এ জলিলের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন।

    কুতুব উদ্দিন আহম্মেদের এক ছেলে সাঈদ আহম্মেদ মান্না বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশকিছু দিন ধরে বাধ্যর্কজনিক রোগে ভুগছিলেন। গত রোববার তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন দুপুরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এবং পরবর্তীতে সেখানকার ল্যাব এইড হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল।

    সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুবরণ করেন।

    বেলা সোয়া ১২টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ খবরে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাকে বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।’

    তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • প্রথম দিন বরিশালে টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৪১২ জন

    প্রথম দিন বরিশালে টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৪১২ জন

    দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের ১১ মাস পর গতকাল দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এদিন টিকা নিয়েছেন। প্রথম দিন টিকা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৬০ জন। চলতি মাসে ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার ঢাকা মহানগরে ৫ হাজার ৭১ জনকে কভিড-১৯ প্রতিরোধের টিকা দেয়া হয়। রাজধানী বাদে ঢাকা বিভাগে ৪ হাজার ২৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৬৯৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ হাজার ৪৪৩, রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৭৫৭, রংপুর বিভাগে ২ হাজার ৯১২, খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ২৩৩, বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৪১২ ও সিলেট বিভাগে ২ হাজার ৩৯৬ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের দেহে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

    গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষামূলক টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ২৬ জন নাগরিকের ওপর টিকা প্রয়োগ করা হয়। পরদিন রাজধানীর পাঁচ হাসপাতালে আরো ৫৪১ জনের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে এ টিকা প্রয়োগ করা হয়। এদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়ায় গণটিকা কর্মসূচিতে যায় সরকার। সারা দেশে ১ হাজার ৫টি হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। টিকা প্রয়োগে ২ হাজার ৪০০টি দল কাজ করছে। প্রতিটি দল দিনে দেড়শ মানুষকে টিকা দিতে পারে।

    প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টিকা কেন্দ্রগুলোয় টিকা দেয়া হবে। গতকাল টিকা নেয়া ব্যক্তিদের আগেই অনলাইনে নিবন্ধন করতে হয়েছিল। এছাড়া টিকাকেন্দ্রেও নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। প্রথম ডোজের টিকা দেয়ার সময় গ্রহীতাকে দ্বিতীয় ডোজের তারিখ বলে দেয়া হয়। টিকা নেয়ার আগে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। প্রথম পর্যায়ের টিকাদান কতদিন চলতে থাকবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। প্রতি মাসে সরকারি ছুটি বাদে দুই সপ্তাহ ধরে টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন কেউ কেউ।

    এদিকে টিকাকেন্দ্রে নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও সেদিনই টিকা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, টিকাকেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে। এ সময় টিকা দেয়ার দিনক্ষণ জানিয়ে দেয়া হবে।

    ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ‘কোভিশিল্ড’-এর তিন কোটি ডোজ কিনেছে সরকার। এর মধ্যে গত ২৫ জানুয়ারি ৫০ লাখ ডোজ বাংলাদেশে পৌঁছে। এর আগে ২১ জানুয়ারি ২০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড বাংলাদেশকে উপহার পাঠায় ভারত সরকার। এর বাইরে কোভ্যাক্স থেকে মোট ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাবে বাংলাদেশ। আগামী জুনের মধ্যে আসবে কোভ্যাক্সের সোয়া এক কোটি ডোজ টিকা।