Category: প্রশাসন
-

তৃণমূলের সাংবাদিকদের শুদ্ধ সাংবাদিকতা করার প্রবনতা বাড়াতে হবে : আলম রায়হান
অনলাইন ডেস্ক ::তৃণমূলের সাংবাদিকদের শুদ্ধ সাংবাদিকতা করার প্রবনতা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন প্রবীন সাংবাদিক আলম রায়হান। দেশে বর্তমান অবস্থা তথা দেশে তৃনমূল সাংবাদিকদের মধ্য অধিকাংশরাই সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভুল করে থাকেন। আর এ সকল ভুল সংশোধনের জন্য যারা দায়িত্ব প্রাপ্ত সম্পাদকগন সেগুলো না দেখেই অথবা তাদের অগচরেই প্রকাশিত হচ্ছে অসংখ্য সংবাদ।এ বিষয় বরিশালের প্রবীন সাংবাদিক আলাম রায়হান মঙ্গলবার (১০ আগষ্ট) গোপলগঞ্জের কোটালিপাড়া ও মকসুদপুর উপজেলা সাংবাদিকদের জন্য ” সাংবাদিকতায় অনুসন্ধানী রিপোর্টিং প্রশিক্ষন ” কর্মশালায় বক্তব্য প্রদান কালে তৃনমূলে সাংবাদিকদের শুদ্ধ সাংবাদিকতা করার প্রবনতা ও তার ব্যক্তিগত আগ্রহের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু থেকে তুলে ধরে বলেন, কলেজছাত্র থাকাকালে ১৯৭৭ সালে লেখার ক্ষেত্রে হাতে খড়ি হয় বরিশাল কলেজের দেয়াল পত্রিকা ‘তমাল’-এর মাধ্যমে। এ পত্রিকার আমি স্বনির্বাচিত সম্পাদক! মোজাম্মেল স্যার ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সূত্রে যোগাযোগ বরিশাল জেলা পরিষদের পাক্ষিক পত্রিকা বাকেরগঞ্জ পরিক্রমা’র সঙ্গে। বয়োবৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ সম্পাদক ইয়াকুব আলীকে সহায়তা করার জন্য ছিলেন বরিশাল কলেজের বাংলার অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, আমার অতি প্রিয় শিক্ষকদের একজন।সম্পাদক প্রতিটি লেখা এমনভাবে দেখতেন যেনো, এটিই তার আখেরী কাজ। এরপর দেখেদিতেন মোজাম্মেল স্যার, যেনো তিনি পরীক্ষার খাতা দেখছেন। দু’জনের এই দেখাদেখির কখনো আগপিছ হয়েছে, কিন্তু দু’জনে দেখা ছাড়া কোন লেখা ছাপা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এর সঙ্গে প্রফেশনাল প্রুফ রিডারতো ছিলেনই। কেবল লেখা এডিট করা নয়, তাঁরা নানান উপদেশও দিতেন অধিকতর শুদ্ধ লেখার বিষয়ে। ফলে একরকম হাইড্রোলি প্রেসার বোধ করতাম আমরা। এই চাপ ধীরে রূপান্তরিত হয় আগ্রহে; এরপর প্রবনতায়।কালের পরিক্রমায় বহু বছর পেরিগেছে, এ সময়ে আমি সুগন্ধাসহ কয়েকটি সাপ্তাহিক, দৈনিক বাংলারবানী-দৈনিক আমাদের সময়সহ বেশ কয়েকটি দৈনিকে কাজ করার পর বাংলাভিশনের মাধ্যমে শুরু হয় আমার টেলিভিশন জীবন। বাংলাভিশন ও মাইটিভি মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় বছর কাজ করেছি টেলিভিশনে।১৯৭৭ সাল থেকে আজতক বহু সময় পেরিয়ে গেছে, বদলে গেছে অনেক কিছু। কিন্তু তৃণমূলের সাংবাদিকদের শুদ্ধ সাংবাদিকতা করার প্রবনতা এবং আগ্রহ রয়েগেছে প্রায় আগের মতোই। সে তুলনায় যারা কেন্দ্রে সাংবাদিকতা করেন, তাদের অনেকের মধ্যেই উল্টো প্রবনতা দেখেছি খুব কাছ থেকে। এরাই আবার, কারণে অকারণে তৃণমূলের সাংবাদিকতা নিয়ে নাক ছিটকান। -

মনপুরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার
নিউজ ডেস্ক ::
ভোলার মনপুরা উপজেলায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি বাকিব হোসেন রনিকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেসনোট সোমবার রাতে গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া হয়।
ভোলা ছাত্রলীগের জেলা শাখার প্যাডে দেয়া ওই জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ছাত্রলীগের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্তে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে মনপুরা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিব হাসান রনিকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হলো।
ওই জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করনে সভাপতি মো. ইব্রাহিম চৌধুরী পাপন ও সম্পাদক মো. রিয়াজ মাহামুদ।
মনপুরার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৫ দিন ধরে জেলাব্যাপী আলোচনার ঝড় বইছে। মঙ্গলবারও সবার মুখে আলোচনার ঝড় অব্যাহত।
ধর্ষণের ঘটনায় রাকিবকে গ্রেফতার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। রাকিবকে পালিয়ে যেতে সুযোগ দিয়েছে পুলিশ এমন অভিযোগও রয়েছে।
গত শুক্রবার প্রথম মামলা নিতে পুলিশ গড়িমসি করে। পরে উপজেলা নির্বাহী বরাবর দেয়া কলেজ ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি আমলে নেয়।
মনপুরায় এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এদিকে আলামত পরীক্ষার জন্য রোববার ওই কলেজছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার রাতে ভোলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, অভিযুক্ত রাকিবকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যায় করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিব্রত বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য একেএম শাজাহান।
উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক সুমন ফরাজি জানান, রাকিবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অপরদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে।
ওই ছাত্রলীগ নেতা রাকিবের বিরুদ্ধে এর আগেও সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের এক শীর্ষ নেতার সেল্টারেই রাকিব হোসেন রনি একের পর এক অপকর্ম করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে রাকিবের পিতা একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ জানান, তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিনা তাও তিনি জানেন না।
থানায় লিখিত অভিযোগে ওই কলেজছাত্রী উল্লেখ করেন, রাকিব তাকে গত এক বছর ধরে উত্যক্ত করতো। প্রেমের প্রস্তাব দিলে তা সে প্রত্যাখান করে। এর মধ্যে তার এক আত্মীয়র চিকিৎসার জন্য মনপুরা হাসপাতালে নিতে এলে, রাকিব কথা আছে বলে তাকে হাসপাতালের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এর পর বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
ওই ছাত্রী জানান, এমন কি বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাকিব ওই ছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে এক দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। বিষয়টি রনির বাবা, মা ও বোনদের জানালে তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে পরে আনুষ্ঠানিক বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহম্মেদ বিষয়টি দেখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।
মনপুরা থানার ওসি ফোরকান আলী জানান, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই ছাত্রীর বক্তব্য রেকর্ড করেন। রাকিব হোসেন রনিকে আসামি করে মামলা নেয়া হয়। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
-

ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন মিন্নি, চিৎকার করেন নিজের অজান্তেই
অনলাইন ডেস্ক ::
অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দুইশর্তে হাইকোর্টের রায়ে জামিনে মুক্ত পেয়েছেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। মামলার প্রধান সাক্ষী এবং অন্যতম আসামি মিন্নি এখন বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও দীর্ঘদিন কারাভোগের কারণে মিন্নি স্বভাবতই শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ। খুন নিজের চোখে দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন, চিৎকার করেন নিজের অজান্তেই। জানাচ্ছে মিন্নির পরিবার।
তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মিন্নির উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু মামলার পরবর্তী তারিখ আসন্ন বলে তাকে ভালো কোনো হাসপাতালে ভর্তি করা যাচ্ছে না। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে। মিন্নি মা-বাবা ছাড়া আর কারো সঙ্গে কথা বলছে না। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে কোনো উত্তর দেয় না। পুলিশ নির্যাতন করেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে চলে কান্নাকাটি।
সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছেন, একাকিত্ব ভর করেছে মনের মধ্যে। তবে মিন্নির এমন জীবনযাপনে চিন্তিত স্বজনরা। উদ্বিগ্ন তার বাবা-মা।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, পুলিশ হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে মেয়ের ওপর। দুই হাঁটুতে কালো দাগ রয়েছে মিন্নির। হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারে না সে। চঞ্চল ও সদালাপী মিন্নি এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। খেতে চায় না কিছুই। নিজের ঘরে সবসময় চুপচাপ থাকে সে। কখনো কখনো কাঁদে মিন্নি। যে ঘরে মিন্নি থাকে সেই ঘরে রিফাতের সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি। এসব স্মৃতি মিন্নিকে আপ্লুত করে। ঘুমের মধ্যেও কেঁদে ওঠে, চিৎকার করে মিন্নি।
মোজাম্মেল হোসেন কিশোর আরও বলেন, মিন্নি ভীষণ অসুস্থ। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু করাতে পারছি না। কদিন পর রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখ রয়েছে। ওই তারিখে মিন্নিকে আদালতে হাজির হতে হবে। ওই তারিখের পরে মিন্নির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।
মিন্নির অসুস্থতার বিষয়ে জানতে তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মিন্নির অসুস্থতার বিষয়টি আমি জানি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে কথা বলেছি আমি। মিন্নির চিকিৎসার জন্য আমি মিন্নির বাবাকে পারামর্শ দিয়েছি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখ রয়েছে। তার আগেই মিন্নিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কিংবা অন্যত্র নেওয়া যাবে। কারণ ধার্য তারিখে মিন্নিকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে।
তিনি আবারও বলেন, আমার মেয়ে ছিল সাক্ষী। একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে তাকে আসামি করা হয়েছে। আমার মেয়ে তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেদিন সন্ত্রাসীদের সামনে পড়েছে। অথচ তাকে আসামি করে দীর্ঘদিন জেলে আটকে রাখা হলো।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা ও বাবার জিম্মায় থাকার শর্তে জামিন পেয়েছেন মিন্নি। জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় মিন্নিকে সেই শর্তের কথা মনে করিয়ে দেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এর পর থেকে চুপ হয়ে যান মিন্নি। বাসায় ফিরে বাবা-মা ছাড়া কারও সঙ্গেই কথা বলছেন না তিনি।
বরগুনা সরকারি কলেজগেটের সামনে ২৬ জুন সকালে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তার সঙ্গীরা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে। বিকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। পরদিন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ১৬ জুলাই মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তা শেষ হওয়ার আগেই ১৯ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা মিন্নিকে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করেন।
মিন্নি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২১ জুলাই বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নির আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত। ২৩ জুলাই তার আইনজীবী বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। ৩০ জুলাই তা নামঞ্জুর হলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে ৬ আগস্ট হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী। ৮ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দিতে চাইলে মিন্নির আইনজীবী আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। পরে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে আবেদন করেন আইনজীবী।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না- মর্মে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুই শর্ত দিয়ে মিন্নির অন্তর্বর্তী স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন।
-

বরিশাল র্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ বিক্রেতা গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বরিশালের গৌরনদীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব ৮) অভিযানে ইয়াবাসহ মো. ওলিদ (২৮) নামে এক মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার হয়েছে।
মঙ্গলবার এক ইমেল বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তার ওলিদ উপজেলার বাটাজোর গ্রামের মৃত বাসাই পেয়াদার ছেলে।
র্যাব অফিস সূত্র জানায়- সোমবার গৌরনদীর বাটাজোর বাজার এলাকার কাওসার হোসেনের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ওলিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৩৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় র্যাবের ডিএডি মো. আল-মামুন শিকদার বাদী হয়ে গৌরনদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছেন।
-

প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঝালকাঠিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মিলন সিকদার (৩৪) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে, ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সোমবার (৯ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে, ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ মো. তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন সিকদার রাজাপুর উপজেলার পশ্চিম পুটিয়াখালী এলাকার মো. আজাহার আলীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৮ই আগস্ট দুপুরে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পশ্চিম পুটিয়াখালী গ্রামের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে তার নিজ ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে একই এলাকার মিলন সিকদার। পরে, ঘটনাটি জানতে পেরে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ২০শে আগস্ট মিলন সিকদারকে আসামি করে রাজাপুর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ওই একই বছরের ৩১শে অক্টোবর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হানিফ সিকদার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও ৭ সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় মিলন সিকদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। আসামি মিলন সিকদার আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল।
-

পিরোজপুরে পুলিশের অভিযানে ‘কিশোর গ্যাং’র ৯২ সদস্য আটক
পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের মোট ৯২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের নাম জানা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে রাতে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা রেখে বাইরে আড্ডা দেয়। সেখান থেকে যেন কোনো অপরাধ সংগঠিত হতে না পারে- এজন্যই পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের ৯২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, আটককৃতদের মধ্যে পিরোজপুরর সদর উপজেলা হতে ৩০ জন, নাজিরপুর উপজেলা থেকে ২২ জন, ভান্ডারিয়া উপজেলা হতে ১৭ জন, মঠবাড়ীয়া উপজেলা থেকে আটজনন, ইন্দুরকানী উপজেলা থেকে একজন, কাউখালী থেকে চারজন এবং নেছারাবাদ উপজেলা হতে ১০ জনসহ মোট ৯২ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, গ্যাং কালচার একটি অপরাধের নতুন মাত্রা। কিশোর অপরাধীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। পিরোজপুর জেলায় কোনো কিশোর গ্যাং লিডার সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। আজ থেকে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার সন্তান কোথায় থাকে কার সঙ্গে আড্ডা দেয় এবং প্রয়োজন ছাড়া রাতে বাইরে থাকে কি না- সেদিকে নজর রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ে যাতে কেউ সম্পৃক্ত হতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা যাতে মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিংসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপরাধে লিপ্ত না হতে পারে, এজন্য অভিভাবক ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ। কিশোর হলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে পিরোজপুরের জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহমাদ মাঈনুল হাসান, অফিসার ইনচার্জ সদর থানা, ওসি ডিবিসহ জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
-

সাংবাদিক পরিচয় দানকারী শিরিনের ফার্মেসীতে র্যাবের অভিযান
নানা অপকর্মে জরিয়ে পরা সাংবাদিক পরিচয় দানকারী শিরিন খানমের ফার্মেসীতে অভিযান চালিয়েছে র্যাবের একটি টিম।
আজ ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত সোয়া ১০ টার দিকে এঘটনা ঘটে বলে র্যাবের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।শিরিন খানম নিজেকে বঙ্গটিভি বরিশাল প্রতিনিধি, বরিশাল ক্রাইমের সাংবাদিকসহ একাধীক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নগরীতে দাপিয়ে বেড়ায়।
অভিযানের সময় শিরিন খানমের ফার্মেসী থেকে নকল ঔষধ জব্দ করে র্যাব।
ঘটনার পরে শিরিন ফার্মেসীতে আসে মোবাইল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেটরা।
পরে নকল ঔষধ সরবারহ ও মজুদ করে বিক্রির দায়ে শিরিন খানম ও সরবারহকারীকে ৭ দিনের জেল দিয়েছে মোবাইল কোর্ট।
-

নগরীর আবাসিক হোটেল থেকে পতিতাসহ মোট ২০ জন আটক
বরিশাল নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে ডিবি পুলিশের হাতে হোটেল থেকে পতিতাসহ মোট ২০ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
ডিবি পুলিশ সূত্র জানা যায়, নগরীর আবাসিক হোটেল সান থেকে ৬ জন পতিতা ও ৫ জন ছেলে এবং নগরীর হোটেল পাতার হাট থেকে ৪ জন পতিতা ও ৫ জন ছেলেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ডিবি পুলিশ জানায়।
-

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে হতাশ হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন ঝালকাঠির ডিসি
নিউজ ডেস্ক ::
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রোববার হঠাৎ পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জোহর আলী। তবে পরিদর্শনে গিয়ে হতাশ হয়েছেন তিনি। পরে রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন জেলা প্রশাসক।
রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১৮ মিনিটে দেয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘ঝালকাঠির ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে খুবই মর্মাহত হই। একটি দাখিল মাদরাসার ২টি শ্রেণিতে একজন করে, একটিতে চারজন, একটিতে ছয়জন, একটিতে সাতজন এবং একটি শ্রেণিতে কোনো ছাত্রছাত্রী উপস্থিত পাওয়া গেলো না।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘চারজন শিক্ষকের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রী ৭২ জন। অন্য আর একটি স্কুলের অবস্থাও একই রকম। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও ভালো কিছু পেলাম না। ক্লাসের সময়ে ক্লাসে শিক্ষক না থাকায় ছাত্ররা বাইরে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত। একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া গেলো না। শুনলাম তিনি কেনাকাটা করতে বরিশালে গেছেন। শিক্ষা অফিসার জানালেন তিনি কারও কাছ থেকে কোনো ছুটি/অনুমতি নেননি।’
জেলা প্রশাসক আরও লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জনগণের লাখ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ শিক্ষার হাল হলো এই। কী আর করা! দেখা যাক সকলে মিলে এর কিছুটা উন্নতি করা যায় কি-না?’ (পরিমার্জিত)
তার ওই স্ট্যাটাসের নিচে কমেন্টে ঝালকাঠি নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর (Ahmed Abu Jafor) লিখেছেন, ‘সরকারি বালক এবং বালিকা বিদ্যালয় দুটির প্রতি কঠোর নজরদারি দরকার। ক্লাশ হয় না, কোচিং হয়। যারা কোচিং করে না তারা স্কুলে যায় না।
রাজাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান কমেন্ট করেন, ‘এদের পাবেন উপজেলা পরিষদের চত্বরে তৈলমর্দনে…।’
শহিদুল ইসলাম পলাশ নামের একজন লিখেছেন, ‘জেলার মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরও করুণ। আশা করি আপনি জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত রাখবেন।’
ঝালকাঠি সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াদুদ জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে কমেন্ট করেছেন, ‘এ ধরনের পরিদর্শন চলমান থাকুক এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, স্যার।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক রোববার রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জীবনদাসকাঠি দাখিল মাদরাসা, জীবনদাসকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট কৈবর্তখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী ওই ৭টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই ৭টি প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
-

আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা, ২ নারীর জেল
অনলাইন ডেস্ক ::
সাতক্ষীরা শহরের আবাসিক হোটেল রয়েল থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে দুই নারীকে আটক করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক দুই নারীকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই নারী হলেন- নড়াইল সদরের চরকোটাকল গ্রামের বাসিন্দা (২৪) ও জামালপুরের দটিয়াবাগ এলাকার বাসিন্দা (২৮)।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজল মোল্লা বলেন, আটক দুই নারী পেশাদার দেহ ব্যবসায়ী। নিজেরাও স্বীকার করেছে তারা দীর্ঘদিন এ কাজে জড়িত। পরে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে তাদের জেলে পাঠানো হয়।