Category: বিনোদন

  • নজরুলের দুই নারী

    নজরুলের দুই নারী

    এক নারীকে দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষায় রেখেছিলেন কবি নজরুল। গ্রাম্য কিশোরীটি এই দুর্বহ প্রতীক্ষার মধ্যেই দীর্ঘকাল কাটিয়ে পরিণত নারী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা পায়নি। শ্রাবণ মাসে (১৯২১ সাল) ফিরে আসবেন বলে সেই যে গিয়েছিলেন, জীবনে কত ‘শাওন আসিল ফিরে, সে ফিরে এল না।’ প্রথম প্রণয়িনীর সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কটি এ রকমই এক অপূর্ণতার হাহাকারে ভরা।

    স্কুলজীবনের কোনো এক অনুষ্ঠানে ‘নার্গিসকে লেখা নজরুলের চিঠি’র আবৃত্তি শুনে এই নারীকে নিয়ে কৌতূহল জেগেছিল মনে। তা আর নিবৃত্ত হয়নি তখন। সেই সুযোগও হয়নি। কবি নজরুলের জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে কম-বেশি ধারণা পাওয়া হয়তো সহজ, কিন্তু নার্গিস নামের এক অখ্যাত তরুণীকে চেনাবে কে? বহুকাল পরে, ওই যে সংখ্যাটা, ১৭, এই ১৭ বছর অপেক্ষার পেছনে এক নারীর জীবনের কতটা প্রেম, কতটা ত্যাগ, ক্ষয়ে ক্ষয়ে উজ্জ্বল আর পুড়ে পুড়ে সোনা হয়ে ওঠার ইতিহাস লুকিয়ে আছে, সেটা খুঁজতে গিয়েই পরে ‘নার্গিস’ নামে উপন্যাস রচনা করি।

    তবে ব্যাপারটা এমন ছিল না যে নার্গিসের জীবনী লিপিবদ্ধ হয়ে আছে কোথাও। থাকার কথাও না। কেন থাকবে, তাঁর তো আলাদা পরিচয়ে নিজেকে চেনানোর সামর্থ্য ছিল না। তাই তাঁকে চিনতে হয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনীর একটিমাত্র অধ্যায় থেকে। সেই অধ্যায়টি আবার রচিত হয়েছে নানাজনের হাতে নানাভাবে। নজরুলের ঘনিষ্ঠ সুহৃদ ও অভিভাবক মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের বয়ানে নজরুল-নার্গিস সম্পর্ক একটি ষড়যন্ত্রের ফসল। নার্গিসের মামা আলী আকবর খান গভীর অভিসন্ধির অংশ হিসেবে নজরুলকে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর বাড়ি কুমিল্লার দৌলতপুর গ্রামে। সেখানে আলী আকবরের বিধবা বোনের মেয়ে সৈয়দা খাতুনের, যার নাম পাল্টে নজরুলই ডেকেছিলেন নার্গিস, সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কটিও সেই দুরভিসন্ধিরই বাস্তবায়ন।
    মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের এই নির্মম সাক্ষ্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছেন দেশের অনেক বিজ্ঞ নজরুল গবেষক। রফিকুল ইসলাম, জিয়াদ আলী, হায়াৎ মামুদ থেকে শান্তনু কায়সার পর্যন্ত সবাই মুজফ্‌ফরের সঙ্গে সহমত।
    কেন? কী কারণে এ রকম একটি পরিকল্পনা ফাঁদলেন নার্গিসের মামা আলী আকবর খান? কেন বাড়িতে ডেকে এনে তাঁকে ভাগনির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার এই মতলব? কারণ, তাঁদের মতে, নজরুল ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস।’ তাঁকে নিজের কবজায় রেখে তাঁর বই প্রকাশের একচ্ছত্র অধিকার নিয়ে বিত্তবান হওয়ার ফন্দি ছিল আলী আকবরের মনে। মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের ‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা’ গ্রন্থটি প্রকাশের পর থেকে নজরুল জীবনীর এক খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেন আলী আকবর। কিন্তু এ প্রশ্ন তখন কেউ তুলল না, নজরুল দেশজোড়া খ্যাতিমান বটে, নজরুলকে নিয়ে আবেগের জোয়ারে ভেসে যাওয়া ভক্ত-অনুরক্ত মানুষের ভিড়ে প্রকৃত পাঠক কজন? নজরুলের বই প্রকাশ করে রাতারাতি ধনী হওয়ার পরিকল্পনা আলী আকবরের মনে আসবে কেন? বই বিক্রি থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন কি নজরুলের জীবনে আদৌ ঘটেছিল? তাঁর পেছনের প্রকাশকেরা সারি বেঁধে অপেক্ষা করতেন, এমন কোনো তথ্যও তো ইতিহাস ঘেঁটে পাওয়া যায় না। বরং এক-দুই শ টাকার বিনিময়ে বইয়ের স্বত্ব বিক্রি করার জন্য নজরুল দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, এই নির্মম বাস্তবতাই তো বিভিন্ন জীবনী গ্রন্থ থেকে পাই।
    আসলে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকেই আলী আকবর চরিত্রটিকে এমন খলনায়ক হিসেবে এঁকেছেন মুজফ্‌ফর। নানা ঘটনার অনুষঙ্গে নজরুল-নার্গিসের মধ্যে চিরবিরহের সম্পর্কটিরও পেছনে আছে এই বিদ্বেষ। আর কুমিল্লার সেনগুপ্ত পরিবারের ইন্ধনও তাতে যুক্ত হয়েছিল কি না, এই সংশয় তো আছেই।
    নার্গিসের ঠিকুজি খুঁজতে গিয়ে পেলাম মাঠপর্যায়ের কিছু লেখক ও গবেষকের লেখা, যাঁদের সেই অর্থে লেখক হিসেবে তেমন যশ, খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা নেই, কিন্তু তাঁরা অনেক আন্তরিক। ওই অঞ্চলের (কুমিল্লা) বাসিন্দা বলে তাঁদের সংগৃহীত তথ্যও অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
    ‘নার্গিস’ উপন্যাসটি লিখি ২০১৪ সালে। এর মধ্যে ষষ্ঠ মুদ্রণ প্রকাশিত হয়েছে। সন্দেহ নেই, আমাদের জাতীয় কবির জীবন নিয়ে পাঠকের কৌতূহল এখনো সমান জাগরুক। পাশাপাশি নার্গিস নামের এক গ্রাম্য কিশোরীর বঞ্চনার ইতিহাস জানতে চেয়েছেন পাঠক। বিয়ের রাত ফুরাবার আগেই দয়িতাকে কেন ছেড়ে গিয়েছিলেন কবি? গবেষকের নিষ্ঠা ও ঐতিহাসিকের সততা নিয়ে কোনো লেখক এই মানবিক সম্পর্কের উন্মোচন করুক, এটাই চেয়েছেন পাঠক। জানতে চেয়েছেন নার্গিস নামের এক গ্রাম্য মেয়ের রূপান্তরের কাহিনি, ভালোবাসা যাকে আগুনে পোড়া খাঁটি সোনা করে তুলেছিল।
    ‘নার্গিস’ উপন্যাসটি প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় কিছুটা সংক্ষিপ্তাকারে, পরে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল। আমার লেখকজীবনে কোনো লেখা নিয়ে এ রকম প্রতিক্রিয়া আমি পাইনি। বেশির ভাগই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেখকের প্রতি একধরনের কৃতজ্ঞতাও যেন। যেন কৃতজ্ঞতা? বুঝলাম, নার্গিসের প্রতি একটা ভালোবাসা ও মমতা তৈরি হয়েছে পাঠকের মনে। এই নারীর প্রতি লেখকের একটা পক্ষপাত হয়তো তাঁরা অনুভব করতে পেরেছেন।
    ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত পত্র-পত্রিকায় নার্গিসের বেশ কিছু গ্রন্থ সমালোচনা বেরিয়েছে। এখনো ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নার্গিস’-এর পাঠ-প্রতিক্রিয়া দেখি।
    একবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন জয়শ্রী ভট্টাচার্য নামে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি, নিজেও পরিচালনা করেছেন একটি বা দুটি ছবি। তিনি ‘নার্গিস’ নিয়ে তাঁর মুগ্ধতার কথা জানান। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চান এই উপন্যাস নিয়ে। সেই জয়শ্রী ঢাকায় এসেছিলেন। আমি ঘটনাচক্রে তখন ঢাকায় ছিলাম। একটি রেস্তোরাঁয় দেখা হলো। দেখলাম একটি স্কেচবুকে উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রের চেহারা-পোশাক ইত্যাদির ছবি এঁকে রেখেছেন। বলাবাহুল্য তাঁর এই প্রস্তুতি দেখে খুবই ভালো লেগেছিল। পরে ঢাকা থেকে আমি ফিরে এলাম চট্টগ্রামে, জয়শ্রী গেলেন কুমিল্লায়। কুমিল্লা থেকে রাতে তাঁর ফোন পেলাম, ‘ঝিঁঝির ডাক শুনতে পাচ্ছেন?’
    বললাম, ‘হ্যাঁ।’
    জয়শ্রী হেসে বললেন, ‘আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি নার্গিসের দৌলতপুর গ্রামে। নার্গিসকে খুঁজছি, নজরুলকে খুঁজছি…।’
    সৃজনশীল লোকজন একটু পাগলই হয়। জয়শ্রীকেও সেই পাগলামিতেই পেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ছবিটা কেন হলো না, অবশ্য জানি না।
    চট্টগ্রামে প্রথমা প্রকাশনের একটি বিক্রয়কেন্দ্র ছিল। তার পাশেই ‘গ্রন্থনিলয়’ নামের আরেকটি বইয়ের দোকান। ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী সুভাষ দে (লেখক ও সাংবাদিক) একদিন ঠাট্টা করে প্রথমার কিশোর বিক্রয়কর্মী সোহেলকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওকে দিয়ে তো বিক্রিবাট্টা ভালো হবে না।’
    বললাম, ‘কেন দাদা?’
    আরে, কালকে দেখলাম, দুপুরে এককোণে বসে একটা বই পড়ছে আর চোখের পানি মুছছে। কোন বই পড়ছিল জানেন?
    কোনটা?
    ‘নার্গিস’।
    ভাবি, এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী আছে?
    চট্টগ্রামে একবার মানবাধিকার বিষয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলাম সাংবাদিক হিসেবে। প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তিনি উপস্থিতি স্বাক্ষরের কাগজটি হাতে নিয়ে হঠাৎ বললেন, ‘আপনাদের এখানে বিশ্বজিৎ চৌধুরী কে?’
    হাত তুলে বললাম, ‘আমি?’
    আপনি নার্গিস বইটির লেখক?
    বললাম, ‘জি।’
    তিনি আমাকে দাঁড় করালেন, উপস্থিত সকলের সামনে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন। সবাই করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করলেন আমাকে। এই ক্ষুদ্র লেখকজীবনে এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে!
    ‘নার্গিস’-এর সাত বছর পর লিখেছি নজরুলের জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নারী, তাঁর অচরিতার্থ প্রেম ফজিলাতুন্নেসাকে নিয়ে আরেকটি উপন্যাস ‘কবি ও রহস্যময়ী’। কী কাকতাল! নজরুল-নার্গিস পর্বের সাত বছর পর ফজিলাতুন্নেসার প্রেমে পড়েছিলেন কবি, আর ‘নার্গিস’ উপন্যাসের সঙ্গে আমার এ উপন্যাসের রচনাকালের ব্যবধানও সাত বছরই। নার্গিস রচনাকালে বিভিন্ন বইপত্র ঘাঁটতে গিয়ে নানা চরিত্রের ভিড়ে ফজিলাতুন্নেসাকে আলাদা করে চোখে পড়েছিল আমার। এ দুটি মেয়ের চেহারা, আদল ও মানসিক গড়নের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। কর্মজীবনের সাফল্যের বিবেচনায় একের সঙ্গে অন্যের তুলনা চলে না। নার্গিসের সঙ্গে নজরুলের পরিচয় বাংলার চিরকালীন এক সাধারণ গ্রামে। আর ফজিলাতুন্নেসাকে তিনি প্রথম দেখেন ঢাকা শহরের একটি সাহিত্য সম্মেলনে, যেখানে প্রবন্ধ পাঠ করেছেন এই বিদূষী নারী। নার্গিস সুন্দরী গ্রাম্য বালিকা, আর ফজিলত শ্যামাঙ্গী যুবতী। একজনের চেহারায় রূপ ও লাবণ্য, অন্যের চেহারায় মেধার দীপ্তি। নজরুলের যশ ও খ্যাতির সামনে বিহ্বল নার্গিস, তাঁর প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার তেমন সামর্থ্য কোথায় তার? কিন্তু ফজিলাতুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী। ঢাকার ইডেন কলেজ ও কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে ডিস্টিংশন নিয়ে পাস করে আসা মেয়ে। তিনি নজরুলের গুণমুগ্ধ বটে, এমনকি কমলা রঙের চাদর পরা রক্তাভ আয়তনেত্র ও কাঁধ পর্যন্ত ঝাঁকড়া চুলের সুঠামদেহী লোকটার প্রবল পৌরুষ তাঁকে আকৃষ্টও করে বটে, কিন্তু নিজের আবেগের নিয়ন্ত্রণ তার নিজেরই হাতে। ভেসে যাওয়ার আগে কোথায় দৃঢ় পায়ে দাঁড়াতে হয়, এটা তার ভালো করেই জানা। তাই নজরুল তার প্রেমে উদ্‌ভ্রান্ত হলেন বটে, ফজিলাতুন্নেসা ব্যাপারটাকে সামলালেন দক্ষ হাতে। দ্বিধাগ্রস্ত হননি, তা নয়। কী করে সম্ভব, নজরুল ইসলাম তখন দেশ তোলপাড় করছেন তাঁর গানে-কবিতায়, বক্তৃতায়-জাগরণের বাণীতে। এমন সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব! কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যাত হলেন নজরুল। এই প্রত্যাখ্যানের বেদনা তাঁর বহু কবিতা ও উৎকীর্ণ।
    ফজিলাতুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী]ফজিলাতুন্নেসার জীবনকে উপন্যাসে তুলে আনা শুধু শ্রমসাধ্য বললে যথেষ্ট হয় না, অক ক্ষেত্রে অসম্ভব বলেও মনে হয়েছে আমার। একজন বিদূষী নারী, যাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই প্রথার বিরুদ্ধে। টাঙ্গাইলের করটিয়া গ্রাম থেকে কলকাতা হয়ে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ এক কঠিন সফর। গণিত শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। মৌলবাদীদের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর ইংল্যান্ডে। এমন একজন নারী আত্মজীবনী তো নয়ই, এমনকি ডায়েরিও লিখে যাননি। তাঁকেও আবিষ্কার করতে হয় নজরুল জীবনীরই একটি অধ্যায় থেকে। কিন্তু সেখানে শুধু দুজনের সম্পর্কটুকু, পূর্ণাঙ্গ নারীটিকে পাওয়া তো যায় না। লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল। তাঁর বই পড়ে কিছুটা চিনলাম। কিন্তু সেখানেও নজরুল প্রসঙ্গটাই ঘুরে ফিরে আসে। ‘বাংলা সাহিত্যে সওগাত যুগ’ নামের ঢাউস একটি সংকলনেও দু-একটি পৃষ্ঠা বরাদ্দ ছিল ফজিলাতুন্নেসার জন্য। সৈয়দ আলী আশরাফ সম্পাদিত ‘নজরুল জীবনে প্রেমের এক অধ্যায়’ নামের একটি সংকলনে নজরুলের আটটি চিঠি পাওয়া গেল। সাতটি চিঠিই কাজী মোতাহার হোসেনকে লেখা। কিন্তু তার ছত্রে ছত্রে ফজিলাতুন্নেসার কথা। বিরহী যক্ষের মতো হাহাকার। দুর্লভ সংকলন, করাচি ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে বেরিয়েছিল সেটি। সব মিলিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন তথ্যের জন্য ফোন দিয়েছি বাংলা একাডেমিতে কর্মরত তরুণ কবি ও লেখক পিয়াস মজিদকে। পিয়াস নানা কাগজপত্র দিয়ে সাহায্য করেছে।
    শেষে ফজিলাতুন্নেসার খোঁজে টাঙ্গাইলের করটিয়া গ্রামে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম একবার। খুবই ফলপ্রসূ ছিল সেই যাত্রা। ফজিলতের বাড়িটি দেখা হলো, কাছের-দূরের কিছু আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলাপ করে মোটামুটি পরিবার-পরিজন সম্পর্কেও ধারণা হলো। আর বইয়ে কথোপকথন বা সংলাপের ভাষা হিসেবে টাঙ্গাইলের ভাষা ব্যবহার করতে পারলাম প্রথম আলোর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখরের সহযোগিতায়।
    ‘কবি ও রহস্যময়ী’ প্রথম আলোর ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল সংক্ষিপ্তাকারে। বই আকারে বেরোল তার দ্বিগুণের বেশি কলেবরে। এক মাসের মধ্যেই এর দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হওয়ায় বোঝা গেল, এই বইটিও পাঠককে টেনেছে। অবশ্য গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে ও পরে পত্র-পত্রিকা ও ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া দেখেই এটির পাঠকপ্রিয়তা সম্পর্কে আঁচ পেয়েছিলাম।
    এই করোনাকালে গৃহবন্দী মানুষেরা অনেকেই বইপত্রে মনোযোগী হয়েছেন। এ কারণেই হয়তো প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ফেসবুকে ‘কবি ও রহস্যময়ী’ সম্পর্কে তাঁদের অনুভূতি জানাচ্ছেন লেখককে।
    গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগেই ঈদসংখ্যায় লেখাটি পড়ে কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এই উপন্যাস সম্পর্কে। লেখাটির প্রশংসা করেও তথ্য সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছিলেন এই বিশিষ্ট কথাশিল্পী। প্রায় মধ্যরাতে ফজিলাতুন্নেসার ঘরে নজরুলের প্রবেশ, তাঁকে প্রেম নিবেদন ও চুম্বনে উদ্যত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, এই ঘটনার কোনো দালিলিক প্রমাণ আছে কি না। একমাত্র ফজিলাতুন্নেসার লেখাই হতে পারে এর দালিলিক প্রমাণ, এই দাবি করেনও তিনি। আমাদের শ্রদ্ধেয় অগ্রজের প্রশ্নের উত্তরে আমি জানিয়েছিলাম, ফজিলাতুন্নেসাকে উপহার দেওয়া একটি গানের খাতা এখনো নজরুল একাডেমিতে রক্ষিত আছে। সেখানে সন-তারিখ (২৪.২.২৮) ও সময় উল্লেখ করে নজরুলের হাতের লেখা কবিতা পাওয়া যায়। এতে নজরুলের কোনো একটা আচরণে যে ফজিলাতুন্নেসা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায় নজরুলের কবিতাতেই—’দিনের আলোকে ভুলিও তোমার রাতের দুঃস্বপন/ ঊর্ধ্বে তোমার প্রহরী দেবতা, মধ্যে দাঁড়ায়ে তুমি ব্যথাহতা/ পায়ের তলার দৈত্যের কথা ভুলিতে কতক্ষণ?’—এই পঙ্‌ক্তিগুলো পড়ে কি বোঝা যায় না, কৃতকর্মের জন্য নজরুল ব্যথিত ও অনুতপ্ত? তাহলে সেই রাতে তিনি কী এমন করেছিলেন, যার জন্য তিনি লজ্জিত ও অনুতপ্ত।
    এ ছাড়া নজরুল যে সেই রাতে ফজিলাতুন্নেসার বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং সকালে প্রায় বিধ্বস্ত অবস্থায় ফিরে এসেছিলেন, সে কথা তো কাজী মোতাহার হোসেনের (ঢাকায় যাঁর বাড়িতে নজরুল অতিথি হিসেবে ছিলেন) লেখাতেই উল্লেখ আছে। এতটা ইঙ্গিত পেয়েও ঔপন্যাসিক নজরুলের প্রেম নিবেদনের কথাটি লিখতে পারবেন না—এমন কঠিন শর্ত যদি আরোপ করা হয়, তাহলে ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখার অধিকার বা স্বাধীনতাই কোনো লেখকের থাকবে না

    ‘কবি ও রহস্যময়ী’ উপন্যাসে প্রায় এক শ বছর আগের সময় ও সমাজকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একটা অতীত ভ্রমণও হয়ে গেল পাঠকের। আর খ্যাতিমান মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রত্যাখ্যানের বেদনা, সর্বোপরি লাভ অ্যান্ড হেট রিলেশনের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টাও ছিল। বড় মানুষের ছোট ত্রুটি থেকে হয়তো জীবনের অসহায়ত্ব ও সীমাবদ্ধতার দিকটাও উপলব্ধি করতে পারব আমরা।

  • আবার ভাঙলো অপূর্বর সংসার

    আবার ভাঙলো অপূর্বর সংসার

    অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজিয়া হাসান অদিতির সংসার ভেঙে গেছে। ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ হলো দুজনের। ১৭ মে, রবিবার বিকেলে নাজিয়া হাসান তার ফেসবুকে এক তথ্য জানান। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘স্টপ কলিং মি ভাবি এভরিওয়ান।’

    এ বিষয়ে নাজিয়া জানান, ‘অপূর্বর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে, এটা সত্য।’ তবে কী কারণে ডিভোর্স হলো, কবে ডিভোর্স হলো সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। নাজিয়া বলেন, ‘অপূর্বর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে মানুষের এটা জানা দরকার। জানালাম। এর বেশি কিছুই বলতে চাইনা। ব্যক্তিগত বিষয় ব্যক্তিগতই থাকুক।’

    অপূর্ব-নাজিয়ার দাম্পত্যজীবনে আয়াশ নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

    তবে ডিভোর্সের বিষয়ে অপূর্বর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন অপূর্ব। যদিও এর পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ডিভোর্স হয়ে যায় তাদের। ওই বছরের ১৪ জুলাই পারিবারিকভাবে নাজিয়া হাসান অদিতিকে বিয়ে করেন অপূর্ব।

  • এখনো মরিনি : এ টি এম শামসুজ্জামান

    এখনো মরিনি : এ টি এম শামসুজ্জামান

    আবারও অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের মৃত্যু গুজব ছড়িয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ খবর রটে যায়, বাংলাদেশের গুণী অভিনয়শিল্পী এ টি এম শামসুজ্জামান মারা গেছেন। ফেসবুকে অনেকেই তার ছবি দিয়ে এ গুজব প্রচার করেন। যা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই গুনি অভিনেতা। জানিয়েছেন তিনি সুস্থ আছেন।

    এ টি এম শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ‘মরিনি এখনো। এর আগেও ১০–১২ বার আমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছে। কেন যে এ রকম করে বুঝি না। আমার সঙ্গে কিসের শক্রতা, বুঝি না। আল্লাহ এদের হেদায়েত দান করুন।’

    তার মৃত্যুর খবর যখন রটে যায়, তখন তিনি সুত্রাপুরের বাসায় ছিলেন। নিজের মৃত্যুর খবর শোনার পর এ টি এম শামসুজ্জামান বিরক্তি আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    এ টি এম শামসুজ্জামান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। অভিনয়ের জন্য কয়েকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক।

  • পিকে অভিনেতা সাই গুন্ডেওয়ার মারা গেছেন

    পিকে অভিনেতা সাই গুন্ডেওয়ার মারা গেছেন

    ফের বলিউড থাবা বসাল ক্যানসার। এবার ছিনিয়ে নিল ‘পিকে’ খ্যাত অভিনেতা সাই গুন্ডেওয়ার-কে।

    মাত্র ৪২ বছর বয়সেই মারা গেলেন এই অভিনেতা। মস্তিস্কের ক্যানসার আক্রান্ত হয়েছিলেন সাই গুন্ডেওয়ার। গত একবছরই সাই চিকিৎসার জন্য লস অ্যাঞ্জেলসে ছিলেন। অস্ত্রোপচারও হয়েছিল তার। তবে শেষরক্ষা হলও না।

    এই অভিনেতার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে টুইট করেছেন মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী অনিল দেশমুখ।

    তিনি লিখেছেন, অভিনেতা সাই প্রসাদ গুন্ডেওয়ার, যিনি জনপ্রিয় ছবি পিকে-তে অভিনয় করে সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি হেরে গিয়েছেন। তার মতো প্রতিভাবান অভিনেতার মৃত্যু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে বড় ক্ষতি। পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।’

    ‘পিকে’ ছাড়াও ‘বাজার’, ‘রক অন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন সাই গুন্ডেওয়ার। এমটিভির জনপ্রিয় শো ‘স্প্লিটস ভিলা’ -২০১০-এর প্রতিযোগী ছিলেন সাই।

  • আটার ভিতর টাকা আমিরের নয়

    আটার ভিতর টাকা আমিরের নয়

    দুনিয়াজুড়ে এখন ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি। তাই কোনটা সত্যি আর কোনটাই–বা গুজব, তা বাছাই করা খুবই কষ্টকর। এমনই এক গুজবের পর্দা সরালেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান। করোনার কারণে ভারতজুড়ে হাহাকার। এ সময় বলিউড অভিনেতারা সাধারণ মানুষ তথা সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা নানাভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অসহায় এবং ক্ষুধার্ত মানুষের দিকে।

     

    তবে এসব বলিউড তারকাকে নিয়ে নানান ভুয়া খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ভাইরাল হচ্ছে। কিছুদিন আগে খবর এসেছিল যে আমির খান আটার সঙ্গে ১৫ হাজার রুপি বিলি করেছেন। এবার এ খবরের সত্যতা তিনি নিজে ফাঁস করেছেন।

     

     

    খবরটা এমন, দিল্লির এক এলাকায় এক ট্রাক ভর্তি এক কিলোর আটার প্যাকেট পাঠিয়েছিলেন আমির। আর সবচেয়ে মজাদার খবর ছিল, প্রতিটি এক কিলো আটার প্যাকেটে ১৫ হাজার রুপি লুকানো ছিল। এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর আমির টুইট করে এ খবরের সত্যটা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, আমি ওই ব্যক্তি নই যে আটার মধ্যে টাকা রেখে বণ্টন করেছি। এটা তো এক ভুয়া খবর। আমার ধারণা, কোনো রবিনহুড এটা দিয়েছেন, কিন্তু এর সত্যতা প্রকাশ করতে চান না। সুরক্ষিত থাকুন। আর সবাই আমার ভালোবাসা।’

     

    তাই বলে বসে নেই আমির। করোনার সঙ্গে এ যুদ্ধে আমিরও সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এক পোস্টের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের কুর্নিশ জানিয়েছেন। আর পুলিশের সাহসের প্রশংসা করেছেন এই বলিউড সুপারস্টার। পাশাপাশি একটা অ্যাকাউন্ট শেয়ার করে সবাইকে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন আমির। আমির খানের আগামী ছবি ‘লাল সিং চাড্ডা’র শুটিং চলছিল জোরকদমে। করোনার কারণে এখন সব শুটিং বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি ছাড়া এই ছবিতে কারিনা কাপুর খান আছেন। বেশ কিছুদিন আগে ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছবির একটা পোস্টার ইন্টারনেটে এসেছিল। এ পোস্টারে আমিরের লুক সামনে আসে।

  • তাকে হারিয়ে বিধ্বস্ত বলিউড

    তাকে হারিয়ে বিধ্বস্ত বলিউড

    গতকাল ইরফান খান আর আজ চলে গেলেন আর এক শক্তিশালী বলিউড অভিনেতা ঋষি কাপুর। এতে রীতিমতো শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে বলিউড। বলিউড ভাসছে শোকের সাগরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ভারতের অভিনেতা, অভিনেত্রীরা একের এক শোকাহত টুইট করছেন।

    অমিতাভ বচ্চন তার টুইটে লিখেছেন, ‘তিনি চলে গেলেন–! ঋষি কাপুর… চলে গেলেন… মাত্রই চলে গেলেন… আমি বিধ্বস্ত।’

    ‘হৃদয় ভেঙে গেছে… শান্তিতে ঘুমাও… আমার প্রিয়তম বন্ধু’ এভাবেই রজনীকান্ত তার শোকবার্তা জানিয়েছেন।

    আনুসকা শর্মা বলেন, ‘আমি আমার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। গতকাল ইরফান আর আজ….!’

    এদিকে প্রিয়াংকা চোপড়া লিখেছেন, ‘আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত।একটা যুগের শেষ হয়ে গেলো। ঋষি স্যারের মতো এমন মহৎ হৃদয় ও অপরিমেয় মেধাবী আর কখনই আসবে না..।’

    কঙ্গনা রাউতের টুইট, ‘তিনি এমন একজন প্রানবন্ত, হাস্যেজ্জ্বল এবং বন্ধুবৎসল মানুষ… অভিনেতা হিসেবে যিনি সবসময় উৎসাহ দিতেন ও প্রশংসা করতেন…।’

    লাস্যময়ী মাধূরী দিক্ষিত লিখেছেন, ‘আমার ঋষিজির সাথে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। জীবন্ত মানুষের চেয়েও বেশকিছু ছিলেন তিনি, এতটা দিলখোলা, উদার।’

    ‘ইরফানের শোক শেষ হতে না হতেই ঋষি কাপুর চলে গেলেন’ বলে মনোজ বাজপেয়ী শোক প্রকাশ করেছেন।

    রিতেশ দেশমুখ তার শোকবাণীতে লিখেছেন, ‘আমার হৃদয়, মননে ও প্রার্থনায় থাকবে নিতুজি, রিদিমা, রনবীর– পুরো কাপুর পরিবার এবং ভালোবাসার মানুষগুলো।’

    নায়ক অক্ষয় কুমার তার টুইটে লিখেছেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার দুঃস্বপ্নের ভেতরে আছি… মাত্রই হতাশাজনক এ সংবাদ শুনলাম।’

    ‘কয়েকমাস আগে তার সাথে দেখা হওয়ার কথা স্মরণ করছি… এই সন্ধ্যাটা আমার কাছে সারাজীবন উষ্ণ ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ স্মৃতি হাতড়ে লিখেছেন জেনেলিয়া দেশমুখ।

    তামান্না ভাটিয়া লিখেছেন, ‘আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে… এই দুঃসংবাদ থেকে আবার জেগে উঠুন ঋষিকাজি… কাপুর পরিবারের প্রতি শোক জানাচ্ছি।’

    ‘একজন পরিচালক হিসেবে তোমার মতো করে কোন অভিনেতা এতটা সম্মান আমাকে করেনি, তুমিও এমনই ছিলে। তুমি এমনই ছিলে…’ পরিচালক নিখিল আদভানি তার শোকবার্তা এমন করেই প্রকাশ করেছেন।

    ‘নয়নভরা জল নিয়ে লিখছি… তিনি অভিনেতা হিসেবে আমার কাছে ছিলেন ভাই, বাবা এবং সবশেষে হিরোর মতো’ উর্মিলার শোকবার্তায় লেখা হয়েছে এমন কথা।

    এভাবেই বলিউডের অভিনতা, অভিনেত্রী, নায়ক, নায়িকা, পরিচালক — সকলেই সত্যিকারের একজন লিজেন্ডের মৃত্যুতে শোকাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

  • ঋষি কাপুরের মৃত্যুতে কাঁদছে বলিউড

    ঋষি কাপুরের মৃত্যুতে কাঁদছে বলিউড

    পরপর দুইদিনে দুই তারকার চিরপ্রস্থান দেখলো বলিউড। ২৯ এপ্রিল ইরফান খানের মৃত্যুর একদিন পর চলে গেলেন অভিনেতা ও প্রযোজক ঋষি কাপুর। তার মৃত্যুতে শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে হিন্দি সিনেমার আঙিনা।

     

    সেইসঙ্গে শোক নেমেছে সমগ্র ভারতেও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ নানা ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান শোক জানাচ্ছে।

     

    এদিকে বলিউডের তারকারা ইরফানের কান্নার জল মুছার আগেই আরও একবার কান্নায় মেতেছেন ঋষির বিদায়ে। এভাবে আকস্মিকভাবে এই অভিনেতা চলে যাবেন ভাবতে পারেননি কেউই! জানাতে গিয়ে কণ্ঠস্বর রোধ হয়ে আসছিল অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের।

     

    তিনি বলেন, ‘আমি শোকাহত, মর্মাহত! বিশ্বাস করতে পারছি না। কী ভাল অভিনেতা। ওর শূন্যস্থান দিন পূরণ হবে না। তার ‘মুলক’, ‘কাপুর অ্যান্ড সনস’ কত ছবির নাম বলব! কাল ইরফান খান, আজ ঋষি! আমরা তো এখন একটা পরিবার। আমার পুত্রবধূ কারিনার চাচা। আমি কথা বলতে পারছি না। গলা পাকিয়ে আসছে। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিল ও। মনে আছে, নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পর পৃথ্বী থিয়েটারে গিয়েছিলাম একদিন। অনেকে ছিল তাই কথা হয়নি তার সঙ্গে। হাসিঠাট্টা করছিল, দেখে মনে হচ্ছিল সব ঠিকই তো চলছিল। এই তো দিন কয়েক আগেই, লকডাউনে মদের দোকান খোলা নিয়ে কথা বলল। আর কারও ক্ষমতা হত না এটা বলার আমি নিশ্চিত। আমি তো এখন দিল্লিতে থাকি, মুম্বাইতে যেতেও পারব না।’

     

    ঋষিকে ভাল বন্ধু দাবি করে শর্মিলা বলেন, ‘তার সঙ্গে কোনো ছবি করিনি। কিন্তু ঋষি খুব ভাল বন্ধু ছিল আমার। আমার দুই ছেলেমেয়ে সাইফ আর সোহা দু’জনেই তার সঙ্গে স্ক্রিন স্পেস শেয়ার করেছে। এখন তো পারিবারিকভাবেও জড়িত আমরা। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।’

     

    আমিতাভ বললেন, ‘আমি শেষ হয়ে গেলাম! ও চলে গেল। ঋষি চলে গেল এভাবে ছেড়ে। আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি।’ বৃহস্পতিবার সকালে টুইট করে ঋষি কাপুরের মৃত্যুর খবরে এভাবেই শোক প্রকাশ করেন অমিতাভ বচ্চন।

     

    ঋষি কাপুরের বহু সিনেমাএ নায়িকা হেমা মালিনী বলেন, ‘ঋষির মতো অভিনেতা হয় না। বহু বছর থেকেই নীতু আর ঋষিকে চিনি। এই সময়ে কথা বলতে পারছি না।’

     

    আবেগপ্রবণ ধর্মেন্দ্র বললেন, “আমি ভেবেছিলাম ও লড়ে, জিতে ফিরেছে! ঋষি অনেক কিছু শিখিয়ে গিয়েছে আমাদের।’ অক্ষুয় কুমার বলেন, ‘তিনি ছিলেন কিংবদন্তি, একজন ভালো সহকর্মী এবং বন্ধু।’

     

    আরও শোক জানিয়েছেন রজনীকান্ত, জন আব্রাহাম, বোমান ইরানি, রাভিনা ট্যান্ডন, রিতেশ দেশমুখ, প্রিয়াঙ্কা, সালমান খানসহ বলিউডের অনেক তারকা।

  • অভিনেতা ইরফান খান এর আবেগঘন স্টাটাস

    অভিনেতা ইরফান খান এর আবেগঘন স্টাটাস

     

     

    “বেশ কিছুদিন হল জানতে পেরেছি আমার হাই-গ্রেড নিউরোএন্ডোক্রিন ক্যানসার হয়েছে। আমার শব্দকোষে এক্কেবারে নতুন এই শব্দবন্ধ। জানতে পেরেছি এই রোগ এতটাই বিরল যে এর নির্দিষ্ট কোনও চিকিত্‍সা পদ্ধতিও নেই। অতএব এক অনির্দিষ্ট ট্রায়াল অ্যান্ড এরর গেমের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছি আমি। এতদিন আমি কিন্তু এক অন্য দুনিয়াতেই বুঁদ হয়ে ছিলাম… অনেক স্বপ্ন, পরিকল্পনা, উচ্চাকাঙ্খার ডানায় ভর দিতে দ্রুত গতির ট্রেনে যেন সওয়ার ছিলাম।

    হঠাত্‍ই ছন্দপতন।

    যেন কোনও টিকিট চেকার এসে কাঁধে টোকা মেরে জানিয়ে গেলেন আমার সফর শেষ… এবার নেমে যেতে হবে। এদিকে আমি হতবাক। তর্ক করছি, না, এটা আমার স্টেশন নয়… তবুও তিনি বলে চলেছেন—হ্যাঁ, এখানেই নামতে হবে। এমনই হয়তো হয় জীবনে চলার পথে। ঘটনার আকস্মিকতায় অনুভব করলাম এক চরম সত্যি।

    এই বিশাল বিশ্বের ভাসমান জীবন স্রোতে মানুষ শুধুমাত্র এক শক্তিহীন কর্কের থেকে বেশি কিচ্ছু নয়। তবুও আমরা সেই জীবনকেই নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। অসুখের কথা জানার পরে হাজার অনিশ্চয়তার মধ্যেও ছেলের কাছে বার বার বলেছি ভয় এবং অনিশ্চয়তা যেন আমাকে দমিয়ে দিতে না পারে। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাত্‍ করেই চুড়ান্ত যন্ত্রণা আমাকে গ্রাস করল। কোনও সান্ত্বনা, কোনও প্রেরণাই কাজ করছিল না। ঈশ্বরের থেকেও যন্ত্রণা বড় হয়ে উঠেছিল।

    জানেন, আমার হাসপাতাল ছিল ক্রিকেটের মক্কা লর্ডস স্টেডিয়ামের বিপরীতে। আমার স্বপ্নের মক্কা… এত যন্ত্রণা, এত কষ্টের মধ্যেও একদিন হাসপাতালের ঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে হঠাত্‍ই এক অন্যরকম উপলব্ধি হল। জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে শুধু এক রাস্তার ফারাক। প্রথমবার বুঝলাম মুক্তির স্বাদ কী…মনে হল এই প্রথম যেন জীবনকে সঠিক অর্থে চিনতে পারলাম।

    ঠিক করলাম, না হেরে যাব না। লড়াইটা আমাকে চালিয়ে যেতেই হবে।”

     

    আহারে জীবন, আহা জীবন!

  • ৬০০ রুপি দিতে পারেননি, তাই ক্রিকেটার হননি ইরফান

    ৬০০ রুপি দিতে পারেননি, তাই ক্রিকেটার হননি ইরফান

    স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’, ‘লাইফ অব পাই, ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান– এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক মহীরূহই ছিলেন তিনি। ইরফান খানের মৃত্যু কাঁদিয়ে যাচ্ছে গোট উপমহাদেশকে। অভিনয়কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই মানুষটির জীবনের একটা গল্প আপনাকে চমকে দিতেই পারে। অভিনেতা হয়ে ওঠার আগে তিনি ছিলেন দারুণ এক ক্রিকেটার। ব্যাট–বল নিয়ে নিজের স্বপ্নটাকে ছড়িয়ে দিতে ভারতের বিখ্যাত ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা সিকে নাইডু ট্রফিতে খেলার সুযোগও পেয়ে গিয়েছিলেন।

     

     

    কিন্তু মাত্র ৬০০ রুপি জোগাড় করতে পারেননি বলে সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর।

     

    ভারতের ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে ইরফান এ কথা বলেছিলেন নিজেই। এ তথ্যটিই আজ আবার সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে টাইমস অনলাইন।

     

    টেলিগ্রাফের সঙ্গে সেই সাক্ষাৎকারে ইরফান বলেছিলেন, ‘আমি ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেটারই হতে চেয়েছিলাম। জয়পুরে আমার দলের সবচেয়ে কম বয়সী অলরাউন্ডার ছিলাম আমি। ক্রিকেটেই ক্যারিয়ার গড়ব, এমন ভাবনাই ভেবে রেখেছিলাম। সিকে নাইডু ট্রফিতে খেলার জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ওই সময় আমার ৬০০ রুপির দরকার ছিল কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না ওটা কার কাছ থেকে নেব। সেদিন থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম। আর ক্রিকেট নয়। এমনকি কারও কাছে ৬০০ রুপি চাইনি পর্যন্ত।’

     

    অভিনয়য়ের প্রতিও আগ্রহ ছিল। এরপরই তিনি ভর্তি হয়ে যান ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায়। সেখানে অবশ্য তাঁকে ৩০০ রুপি খরচ করতে হয়েছিল সেই সময়। সে অর্থ জোগাড় করে দিয়েছিলেন তাঁর এক বোন

  • পরিচালকের সঙ্গে বিয়ের কথা বলতেই তেড়ে উঠলেন নায়িকা!

    পরিচালকের সঙ্গে বিয়ের কথা বলতেই তেড়ে উঠলেন নায়িকা!

    পরিচালক প্রকাশ কোভালামুদির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন দক্ষিণী সিনেমার জগতের জনপ্রিয় নায়িকা আনুশকা শেঠি। বেশ কিছুদিন ধরে এমন গুঞ্জনই শোনা যাচ্ছে।

    শুধু তাই নয়, চলতি বছরেই নাকি তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন, এমনও শোনা যাচ্ছে।

    তবে বিয়ের কথা কানে যেতেই রেগে আগুন বাহুবলী অভিনেত্রী। তেড়ে উঠে আনুশকা বলেন, এসব খবর একেবারেই সত্যি নয়। বিয়ে নিয়ে যদি কখনও কোনো সামনে আসে, তাহলে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত।

    ‘আমি বিয়ে করলে, সবাই সবকিছু জানতে পারবেন। এটা নিয়ে লুকোচুরির কোনো বিষয় নেই।’

    নায়িকা বলেন, কেউ কোনো সম্পর্কে জড়ালে সবাই জানতে পারবেন। এখানে লুকনোর কিছু নেই। শুধু তাই নয়, বিয়ের মতো কোনো কিছু হলে, প্রত্যেককে ডেকে তা জানাবেন।

    প্রসঙ্গত বাহুবলী মুক্তির পর নায়ক প্রভাসের সঙ্গেই নাকি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন আনুশকা শেঠি। যদিও পরবর্তীতে কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই দুই তারকা।