Category: বিনোদন

  • নোবেলের কড়া সমালোচনা পরিকল্পনামন্ত্রীর

    নোবেলের কড়া সমালোচনা পরিকল্পনামন্ত্রীর

    ভারতের জি বাংলার গানবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’তে জনপ্রিয়তা অর্জন করা বাংলাদেশের সঙ্গীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

    তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ইতিহাস নিয়ে, পরিচয় নিয়ে নাড়াচাড়া করার জ্ঞান, বুদ্ধি-বিদ্যা তোমার মোটেও নেই।’

    শুক্রবার (২৩ আগস্ট) পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মিলনায়তনে শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

    ইউটিউবে নোংড়া, মিথ্যা, অর্ধসত্য কথা ছড়ানো হচ্ছে। এমন কি দেশের বাইরে থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা, আমাদের দেশ সম্পর্কে মূর্খের মতো মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এম এ মান্নান।

    Planning-Minister

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা, আমাদের দেশ সম্পর্কে মূর্খের মতো মন্তব্য করেছে এক ছোকড়া। তার নাম নোবেল। আমার খুব স্নেহ ছিল তার প্রতি। বাচ্চা ছেলে, ভালো গান গাইছে, সুন্দর লাগে। সে কী বলল, যে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত সঠিক নয়! আরও ভালো জাতীয় সঙ্গীত তার কাছে লাগে!’

    তিনি বলেন, ‘এভাবে জাতি সম্পর্কে মন্তব্য করা তোমার মতো বাচ্চা ছোকড়া ছেলের উচিত নয়। তুমি মোটামুটি পরিচয় অর্জন করেছ। এটাকে আরও বাড়িয়ে নিয়ে যাও। আমরা তোমাকে আশীর্বাদ করি, দোয়া করি। কিন্তু আমাদের ইতিহাস নিয়ে, পরিচয় নিয়ে নাড়াচাড়া করার জ্ঞান, বুদ্ধি-বিদ্যা তোমার মোটেও নেই।’

    বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, ‘এক জীবনে বঙ্গবন্ধুর অবদান বলে শেষ করা যাবে না। তার ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। তার সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।’

    সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যাপক আবুল হোসেন, সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল আলমসহ অনেকে এতে অংশ নেন।

  • প্রেমিকার ছড়ানো নগ্ন ছবি নিয়ে মুখ খুললেন নোবেল

    প্রেমিকার ছড়ানো নগ্ন ছবি নিয়ে মুখ খুললেন নোবেল

    কলকাতার সা রে গা মা পা অনুষ্ঠান থেকে আলোচনায় আসেন নোবেল। বিভিন্ন শিল্পীর জনপ্রিয় গান কণ্ঠে তুলে পরিচিতি পান ও আলোচনায় আসেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে প্রচুর জনপ্রিয় হয়ে যান নোবেল।

    সা রে গা মা পা তে গান কাভার করার সময় গীতিকার সুরকারদের নাম না বলায় অনেকবার সমালোচিত হয়েছেন। জাতীয় সংগীত নিয়ে মন্তব্য করেও তোপের মুখে পড়েন। এতো সব ঝড় কাটিয়ে ওঠার আগেই সম্প্রতি তার কিছু নগ্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়।

    নোবেলের কপালে জোটে প্রচুর অপমান। নোবেলের নগ্ন ছবি পোস্ট করে এক কিশোরী অভিযোগ করেন, গোপালগঞ্জে থাকাকালীন নোবেল সেই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

    বিয়ের লোভ দেখিয়ে নোবেল তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন ওই কিশোরী। মিথ্যে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েই নোবেল তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন ওই কিশোরী। নোবেলকে মাদক সেবন করেন বলেও অভিযোগ করেন সেই কিশোরী।

    এরপর নোবেলকে এই ছবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। শাহরিন সুলতানা নামের সেই কিশোরীর ওই পোস্টের পর প্রায় ১০ ঘণ্টা ফেসবুকে দেখা যায়নি দশ লাখেরও বেশি ফলোয়ার সমৃদ্ধ নোবেলের ফেসবুক পেজটি। বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন চুপ করে ছিলেন নোবেল। ফোন করেও পাওয়া যায়নি তাকে।

    ছবিগুলো প্রকাশ হওয়ার অনেক দিন পরেই ভাইরাল হওয়া বিষয়ে মুখ খুললেন নোবেল। সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

    একটি সাক্ষাতকারে নোবেল বলেন, ‘বর্তমানে যে কোনও ছবি এডিট করা যায়। আমাকে নিয়ে যে ছবিগুলি প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলি সব এডিট করা। শুধু তাই নয়, যিনি ছবিগুলি প্রকাশ করেছেন, বর্তমানে তার কোনও হদিশ নেই। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এসব কাজ করা হচ্ছে।’

  • হৃত্বিক-শহিদকে সমকামিতার প্রস্তাব

    হৃত্বিক-শহিদকে সমকামিতার প্রস্তাব

    অভিনয় একটা শিল্প। যেখানে অভিনয়শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করতে হয়। সমাজে বাস করা সব চরিত্রেই থাকে নানা রকম গল্প। সেসব চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলাই শিল্পীদের কাজ। কিন্তু বলিউড তারকা হৃত্বিক রোশন ও শহিদ কাপুরদের নিয়ে বিপদেই পড়েছেন প্রযোজক করণ জোহর। তিনি ভাবছেন সমকামীদের নিয়ে তৈরি করবেন একটি নতুন চলচ্চিত্র। কিন্তু হৃতিক রোশন ও শহিদ কাপুর দুজনেই সমকামী চরিত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। সমকামিতা নিয়ে সেলেব্রিটিদের মধ্যে যে এখনও যথেষ্ট অস্বস্তি আছে তা আবারও প্রমাণিত হল। ‘দোস্তানা টু’ ঘোষণা করে দিলেও কাস্টিং চূড়ান্ত করতে পারেননি করণ। সমকামী চরিত্র করতে হবে শুনে পিছিয়ে যাচ্ছেন সবাই। জানা গেছে, মাসখানেক আগে শকুন বত্রার পরিচালনায় ‘দোস্তানা টু’ ঘোষণা করেন করণ। কার্তিক আরিয়ান এবং জাহ্নবী কাপুর থাকছেন সেই ছবিতে। কিন্তু তৃতীয় চরিত্র নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, কাহিনি অনুযায়ী কার্তিক এবং জাহ্নবী ভাই-বোন। দু’জনে একই পুরুষের প্রেমে পড়েন। তা নিয়েই নানা বিপত্তি। কিন্তু আসল বিপত্তি বেধেছে সেই চরিত্রের মুখ খুঁজে পেতে। হৃতিক রোশন, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, শহিদ কাপুর, রাজকুমার রাও, দিলজিৎ দোসাঞ্জ- এত জনের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকেই নানা কারণ দেখিয়ে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠতে পারে ‘দোস্তানা’ করার সময়ে তো এত সমস্যা হয়নি। আসলে সেখানে জন আব্রাহাম বা অভিষেক বচ্চন গে ছিলেন না, ভান করেছিলেন মাত্র। একই সমস্যা দেখা দিয়েছিল ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’ ছবির সময়েও। ফাওয়াদ খানের চরিত্রটি অনেকেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। হৃতিক কী কারণে চরিত্রটি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে, তিনি সোলো লিড ছাড়া রাজি নন। ‘অর্জুন রেড্ডি’তে শহিদের চরিত্রটি নিয়ে ইতিমধ্যেই এত বিতর্ক হয়েছে যে, অভিনেতা এখন সমকামীর চরিত্রে অভিনয় করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। অনেক দিন পরে হিটের মুখ দেখেছেন অভিনেতা। স্রেফ আইক্যান্ডি রোল করতে চাইছেন না তিনি। করণের ছবিতে রাজি হয়েছিলেন রাজকুমার রাও। তার কোনো ছুতমার্গ নেই। তবে ১৩ কোটি টাকা হেঁকেছেন রাজকুমার, যা দিতে রাজি নন নির্মাতারা। এই ছবিটির বাজেটও খুব বেশি নয়। প্রথম ছবির শুটিং হয়েছি মায়ামিতে। এবারের প্রেক্ষাপট দেশের ছোট শহর। প্রস্তাব গিয়েছিল সিদ্ধার্থ মালহোত্রার কাছেও। তবে বর্তমানে সিদ্ধার্থ আর করণের সম্পর্ক খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। সিদ্ধার্থ মনে করেন, জোরালো চরিত্রে তাকে কাস্ট করেন না করণ। ঝরতি-পড়তি চরিত্রই নাকি তাকে গছানো হয়! শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গিয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জের কাছে। তিনিই একমাত্র স্পষ্ট করে জানান, সমকামী চরিত্রে অভিনয় করতে তাঁর আপত্তির কথা। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত সমকামী চরিত্রে কাকে সঙ্গে পান করণ।

  • নায়িকার যে ছবি দেখে আতঙ্কে অনলাইন দুনিয়া

    নায়িকার যে ছবি দেখে আতঙ্কে অনলাইন দুনিয়া

    বাথটাবে বসে রয়েছেন। চোখে মুখে আতঙ্কের ভাব স্পষ্ট। চোখের কাজল ঘেঁটে গিয়েছে। মাথায় ক্ষত, রক্তাক্ত। বুধবার টুইটারে নিজের এমনই এক ছবি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। সেই ছবি দেখে ভয়ে আৎকে উঠছেন সবাই। হঠাৎ কী হলো বলিউডের মিষ্টি মেয়ের?

    তবে উত্তরটাও নিজেই দিয়েছেন অভিনেত্রী। ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশনে পরিণীতি লেখেন, ‘এর আগে যা কোনোদিন আমি করিনি, ক্যারিয়ারের সব থেকে কঠিন চরিত্রে এবার অভিনয় করতে চলেছি।’

    ছবির নাম ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’। এটি পরিচালনা করছেন ঋভু দাশগুপ্ত। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হলিউড ছবি ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’র হিন্দি রিমেক এটি। ব্রিটিশ লেখিকা পলা হকিন্সের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এ ছবি।

    ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’ ছবিতে এমিলি ব্লান্ট যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, সেই নারী চরিত্রটি বিবাহ বিচ্ছেদের পর মদ্যপ হয়ে পড়ে। তাকে ঘিরেই এর মূল গল্প। এমিলি ব্লান্ট যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সেই চরিত্রেই দেখা যাবে পরিণীতিকে।

    পরিণীতি চোপড়া ছাড়াও ওই ছবিতে রয়েছেন অদিতি রাও হায়দারী, কীর্তি কুলহারি এবং টোটা রায় চৌধুরী। সম্প্রতি টোটা বলেছিলেন, ‘আমি আপাতত ছবির শুটিংয়ের জন্য লন্ডনে রয়েছি। এই ছবিটিতে সাতটি মুখ্য চরিত্র রয়েছে। তার মধ্যে একটিতে অভিনয় করছি আমি। শুট চলছে পুরোদমে। পরিণীতিও শুটের জন্য লন্ডনেই রয়েছেন।’

    জানা গেছে, ২০২০ এর শুরুতেই বড় পর্দায় মুক্তি পাবে এই ছবি।

  • ঢাকায় আসছেন টাইটানিকের নায়ক ও ব্রাড পিট

    ঢাকায় আসছেন টাইটানিকের নায়ক ও ব্রাড পিট

    তাবৎ দুনিয়ার চলচ্চিত্রপ্রেমীরা কোয়েন্টিন টারান্টিনোর ছবি দেখার অপেক্ষায় থাকে। খ্যাতিমান এই পরিচালক সম্প্রতি পর্দায় নিয়ে এসেছেন হলিউড ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও মর্মান্তিক এক ঘটনাকে। ষাটের দশকে সিরিয়াল কিলিংয়ের জন্য কুখ্যাত কাল্ট নেতা চার্লস ম্যানসন।

    ১৯৬৯ সালে চার্লস ও তার অনুসারীরা নির্বিচারে ৭ জনকে হত্যা করে সাড়া ফেলে দেয় যুক্তরাষ্ট্রে। হতভাগ্যদের একজন ছিলেন বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রোমান পোলানস্কির অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রী শ্যারন টেইট। ম্যানসন ফ্যামিলি নামে পরিচিত তার অনুসারীরা রোমান পোলানস্কির স্ত্রী শ্যারন টেইটসহ ৫ জনকে ১৯৬৯ সালের ৯ আগস্ট ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করে।

    পরদিন একই গোষ্ঠীর সদস্যরা লস অ্যাঞ্জেলেসের ধনাঢ্য দম্পতি লেনো ও রোজমেরি লাবিয়ানকাকেও হত্যা করে। মার্কিন ইতিহাসে এ দুটি হত্যাকান্ড টেইট-লাবিয়ানকা হত্যা মামলা নামে সুপরিচিত।

    এই ঘটনা অবলম্বনে টারান্টিনো নির্মাণ করেছেন ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’ নামের চলচ্চিত্র। ঘটনাটির ৫০ বছর পূর্তিতে গত ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। আগামী ২৩ আগস্ট বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে ছবিটি।

    তবে হুবহু সেই সত্য ঘটনা নিয়েই ছবিটি নির্মিত হয়নি, সেটার সঙ্গে পরিচালক সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন কল্পনারও। রিক ডাল্টন নামের একজন নিজেকে হারিয়ে খোঁজা অভিনেতা এবং তার বন্ধু ক্লিফ বুথের সংগ্রাম নিয়ে এগিয়েছে গল্প। শ্যারন টেইট ছিলেন রিক ডাল্টনের প্রতিবেশী। না চাইতেও তাই রিক ও ক্লিফকে জড়িয়ে পড়তে হয় এই হত্যাকান্ডের ঘটনাপ্রবাহে।

    কমেডি ও থ্রিলারের মিশ্রণে নির্মিত চলচ্চিত্রটির প্রধান দুই চরিত্র রিক ও লিফের ভূমিকায় দেখা যাবে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং ব্র্যাড পিটকে। শ্যারন টেইটের চরিত্র করছেন মার্গট রবি।

    ২০১৫ সালে কোয়েন্টিন টারান্টিনোর ‘দ্য হেইটফুল এইট’ মুক্তির পর থেকে দর্শক-সমালোচকরা অপেক্ষায় ছিলেন তার পরবর্তী চলচ্চিত্রের। এরই মধ্যে পরিচালক জানান, আর মাত্র দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেই অবসরে যাচ্ছেন তিনি। তাই ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’ নির্মাণের ঘোষণা আসার পর থেকেই বিনোদন পত্রিকাগুলোর শিরোনামে। প্রধান কারণ অবশ্যই চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু।

    তবে ছবির অন্যতম আকর্ষণ ডিক্যাপ্রিও-ব্র্যাড পিট জুটি। স্বয়ং পরিচালক বলেছেন, এই জুটি পল নিউম্যান ও রবার্ট রেডফোর্ডের পর হলিউডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জুটি হতে চলেছে। এ দুই তারকা আগে টারান্টিনোর চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও একসঙ্গে কখনোই বড় পর্দায় আসেননি। চিত্রায়ণ শুরুর পর থেকে দুজনের রসায়ন সবার মুখে মুখে ফিরছে।

    কান চলচ্চিত্র উৎসবে তো দুই তারকা একত্রেই জানিয়েছেন, আবারও বড় পর্দায় একত্রে অভিনয় করতে চান তারা। কান উৎসবে দর্শকদের প্রবল প্রশংসায় ভেসেছে চলচ্চিত্রটি। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর তো দর্শকরা টানা ৭ মিনিট দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সম্মান জানিয়েছে পরিচালককে।

  • নিশোর বিপরীতে অভিনয় করতে চান বুবলী

    নিশোর বিপরীতে অভিনয় করতে চান বুবলী

    সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শবনম বুবলী। অভিষেকের পর থেকে একে একে শাকিব খানের সঙ্গে করে ফেলেছেন নয়টি ছবি। শাকিব খানের বাইরে বুবলীকে অন্য কোনো নায়কের বিপরীতে এখন পর্যন্ত অভিনয় করতে দেখা যায়নি। অবশ্য বুবলীর দাবি, গল্প আর কথাবার্তা ঠিকঠাক মিলে গেলে অন্য নায়কদের সঙ্গেও কাজ করতে তার আপত্তি নেই। এরই ধারাবাহিকতায় একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে বুবলী এবার জানালেন, যদি কখনো সুযোগ হয় তিনি আফরান নিশোর বিপরীতে অভিনয় করতে চান। কারণ আফরান নিশো তার প্রিয় অভিনেতাদের একজন।

    আফরান নিশো প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, ‘তিনি খুব ভালো একজন অভিনেতা এবং ভার্সেটাইল অভিনেতা। অসম্ভব ভালো অভিনয় করেন। কিছুদিন আগে কয়েকজন আমাকে নিশো ভাইয়ের কয়েকটি নাটকের লিঙ্ক পাঠিয়েছেন। তখন আমি ওনার কাজ দেখেছি এবং এই ঈদেও ওনার কিছু কাজ দেখেছি যা অসাধারণ!’

    যদি সিনেমাতে তার সাথে কাজের সুযোগ আসে করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বুবলী বলেন, সিনেমাতে কখনও তার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেলে অবশ্যই করবো। দেখবো গল্প কেমন এবং নির্মাতা কে। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে আমাদের কাজ দর্শকদের ভালো লাগবে।

    নাট্যাঙ্গনের প্রশংসা করে বুবলী বলেন, ছোটবেলায় নাটকে যাদের দেখতাম তাদের মধ্যে সবাই যেমন দুর্দান্ত অভিনেতা অভিনেত্রীরা ছিলেন, এখন যারা কাজ করছেন এর মধ্যে অনেকে খুব ভালো করছেন। আমাদের নাট্যাঙ্গনে অনেক ভালো ভালো মেধাবী নির্মাতা, শিল্পীরা রয়েছেন। তারা তাদের কাজ দিয়ে এই জায়গাটাকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন।

    উল্লেখ্য, এবারের কোরবানি ঈদে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান-বুবলী অভিনীত ‘মনের মত মানুষ পাইলাম না’ ছবিটি। এটি পরিচালনা করেছেন জাকির হোসেন রাজু। ২০১৩ সালে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে জাকির হোসেন রাজু সিনেমাটি নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর সিনেমাটির চিত্রগ্রহণ শুরু হতে দেরি হয়। পরে ২০১৯ সালে জাকির হোসেন রাজু সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী ও গল্পে পরিবর্তন আনেন এবং অপু বিশ্বাসের পরিবর্তে শবনম বুবলিকে তালিকায় যোগ করেন।

  • নেটফ্লিক্সের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ প্রিয়াঙ্কা

    নেটফ্লিক্সের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ প্রিয়াঙ্কা

    ভারতীয় কন্যা, মার্কিন বধূ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা নেটফ্লিক্সের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

    বলিউড হাঙ্গামা জানিয়েছে, ভিনগ্রহের কল্পিত প্রাণী এলিয়েনদের কাহিনি নির্ভর সিনেমাটির নাম ‘উই ক্যান বি হিরোস’। প্রযোজনা ও পরিচালনা করবেন রবার্ট রদ্রিগেজ। তার শেষ ছবির নাম আলিটা: ব্যাটেল অ্যাঞ্জেল।

    ‘উই ক্যান বি হিরোস’এ এলিয়েনরা পৃথিবী থেকে নামকরা ব্যক্তিদের তুলে নিতে থাকবে। পৃথিবী এবং পিতা-মাতাকে রক্ষা করতে হলে তাদের সন্তানদের দলবদ্ধ হয়ে কৌশল শিখতে হবে। এভাবে এগিয়ে চলবে গল্প।

    প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি সিনেমাটিতে অভিনয় করবেন ক্রিশ্চিয়ান স্লেটার, ইয়া ইয়া গোসেলিন, অকিরা আকবর, অ্যান্ড্রু ডিয়াজ, অ্যান্ডি ওয়াকেন, বয়ড হলব্রুক, হালা ফিনলে-সহ আরো অনেকে।

    ২০১১ সালে অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ব্যবসায়ে নামে নেটফ্লিক্স। এর গ্রাহকেরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখতে পারেন নতুন নতুন ছবি বা টিভি সিরিজ। এ জন্য প্রতি মাসে মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

    ‘উই ক্যান বি হিরোস’র আগে প্রিয়াঙ্কাকে দেখা যাবে ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’এ। টরেন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে হবে প্রিমিয়ার।

    হলিউডে প্রিয়াঙ্কা এর আগে চারটি ছবিতে কাজ করেছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে মার্কিন গায়ক নিককে বিয়ে করে সেদেশেই কাজের দিকে ঝুঁকছেন সাবেক বিশ্ব সুন্দরী।

    খ্রিষ্টান রীতিতে তাদের বিয়ে হয় ১ ডিসেম্বর। পরদিন হয় হিন্দু রীতিতে।

  • কোয়েলের কোলে সদ্যোজাত ফুটফুটে শিশু

    কোয়েলের কোলে সদ্যোজাত ফুটফুটে শিশু

    কোলে ফুটফুটে সদ্য়জাতকে নিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। ছবি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই টলিউড অভিনেত্রী কোয়েলের এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

    তবে কোয়েলের কোলে এই শিশুটি কে? খুব স্বাভাবিকভাবেই এনিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই। সকলেরই প্রশ্ন তবে কি মা হলেন রঞ্জিত মল্লিক কন্যা? অবশ্য, কোয়েলের মা হওয়ার কথা একবারেই সত্যি নয়। ছবি পোস্ট করার পাশাপাশি ক্যাপশানে কোয়েল এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শিশুটি তাঁর প্রিয় বন্ধু অন্তরার সদ্যোজাত ‘রাজপুত্র’।

    কোয়েলের এই ছবি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। সকলেই সদ্য়োজাত সন্তান ও তাঁর মা অর্থাৎ কোয়েলের বন্ধু অন্তরার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, কোয়েল মল্লিক অবশ্য এই মুহূ্র্তে তাঁর দুটি ছবির কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত। অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘মিতিন মাসি’ ছবিতে মহিলা গোয়েন্দার ভূমিকায় দেখা যাবে কোয়েল মল্লিককে। অন্যদিকে হোম প্রোডাকশন সুরিন্দর ফিল্মস প্রযোজিত ছবি ‘বনি’তে তাঁকে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে দেখা যাবে। বনি ছবিটির পরিচালনাও করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনেই তৈরি হচ্ছে এই ছবি। ‘বনি’তে কোয়েল, পরমব্রত ছাড়াও রয়েছেন অঞ্জন দত্ত, কাঞ্চন মল্লিকরা। ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করছেন অনুপম রায়।

  • বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয় জুটি রাজ্জাক-কবরী

    বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয় জুটি রাজ্জাক-কবরী

    বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক রাজ্জাকের আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। চলচ্চিত্র কেরিয়ারে তিনি জুটিবেঁধে অভিনয় করেছেন অনেক নায়িকার বিপরীতে। কিন্তু রাজ্জাক-কবরী জুটি ছিল সবসময়ের আলোচিত ও সমালোচিত জুটি। ১৯৬৭ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে রাজ্জাক-কবরী জুটির। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এ জুটিকে। তারা একের পর এক উপহার দেন ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র।

    ‘রংবাজ’ রাজ্জাক-কবরী জুটির সেরা ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি মাইলফলকও। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া এটিই বাংলাদেশের প্রথম অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র। এছাড়া ‘রংবাজে’র মাধ্যমে একজন প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রাজ্জাক। এ চলচ্চিত্রের ‘সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে।

    দর্শক ভালোবাসায় কবরী খেতাব পান ‘মিষ্টি মেয়ে’। প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি হিসেবে বেশ সুনাম কুড়ান রাজ্জাক-কবরী জুটি। তারা একসঙ্গে ৬০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরমধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘পরিচয়’, ‘অধিকার’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’, ‘বেঈমান’ ও ‘অবাক পৃথিবী’।

    বলা যায়, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের নক্ষত্রসম প্রেমিকজুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী। তাদের মুখের প্রেমময় সংলাপকে পর্দার এপাশের সব প্রেমিক প্রেমিকারা সবসময়ই নিজের বলে গ্রহণ করেছেন। নিজেদের জীবনের আবেগীয় মুহূর্তে সেসব সংলাপ প্রয়োগ করেছেন। এমনকি অনেকে এখনো করে থাকেন। পৌরুষদীপ্ত চেহারার নায়ক রাজ্জাক আর মিষ্টি হাসির মধু ছড়ানো কবরীর চলচ্চিত্রগুলোকে অনুসরণ করেই কাটিয়ে দেয়া যায় জীবনের বর্ণিল সব হলুদ বসন্ত।

    রাজ্জাক-কবরী জুটির প্রেমপর্যায়ের মাধুর্যময় সংলাপগুলো একসময় প্রেমিকদের মুখস্ত ছিল। আর প্রেমিকারা তো সবসময়ই পছন্দ করেন প্রিয় মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসার প্রকাশ দেখতে। সুতরাং দুইয়ে দুইয়ে চার। প্রেমের সুখ অথবা খুঁনসুটি দুটোই দুর্দান্ত করে ফুটিয়ে তুলেছেন স্বর্ণযুগের দুই কিংবদন্তির অভিনয় শিল্পী রাজ্জাক-কবরী।

    ‘স্মৃতিটুকু থাক’ চলচ্চিত্রের মনতো ছোঁয়া যাবে না অথবা ‘আবির্ভাবে’র আমি নিজের মনে নিজেই যেন গোপনে ধরা পড়েছি অথবা ‘নীল আকাশের নীচে’র প্রেমের নাম বেদনা, সে কথা বুঝিনি আগে/দুটি প্রাণের সাধনা কেন যে বিধুর লাগে। এসব গান সময়ের সঙ্গে কি কখনো যায়নি আমাদের! আমরা সবসময় সময়ের আবেদন মেনে চলতে পছন্দ করি। কোন গানটা ভালো লাগবে আর কোনটা না, সময়ই কিন্তু আমাদের মনকে উসকে দেবে।

    মন ভালো থাকলে কতো রকম সুন্দর স্মৃতি মনের মাঝে লুটোপুটি খায়। সেই আবেদন অন্য কোথাও থেকে ধার করার কোনো প্রয়োজন হয়নি কখনো প্রেমিকযুগলদের।  সামনেই রাজ্জাক-কবরীর গানে তার অনবদ্য প্রকাশ। আবার মন খারাপের একেকটা দিন যখন নিকষ কালো মেঘলা লাগে, তখনো হাত ধরে পথ দেখান রাজ্জাক-কবরী জুটি। বাঙালি মাত্রই রাজ্জাক-কবরী জুটির অপূর্ব আবেদনে আবেগে আপ্লুত।

    প্রেম শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, নয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনালাপ, ভার্চুয়াল জগতের চ্যাটিং কিংবা প্যানপ্যানানি নয়।  একটুখানি চোখের পলকেই প্রেমের অসাধারণ প্রকাশ সম্ভব। মিনিটেই অনেক কিছু বোঝানো সম্ভব কিছু না বলেই। হৃদয়খানি তো চোখের মধ্যেই উছলে পড়ে! এসব মানসিক ব্যাপার রাজ্জাক-কবরী জুটির প্রেম থেকেই বাঙালিরা শিখে নিয়েছেন।  বাঙালিরা কিন্তু বলতে গেলে মহাপ্রেমিক জাতি। যেটুকু সমস্যা আছে সেটা হলো প্রকাশহীনতায়। কাব্যিক মন কি আর সব প্রেমিকমাত্রই থাকে! সুতরাং পথ হাতড়ে বারবার সেই একই পথে পা রাখতে হয়।

    চলচ্চিত্রের পথে চলতে চলতে রাজ্জাক-কবরী জুটি নিজেরাও একসময় নিজেদের ভেতর হারিয়ে যান। সেসব খবর এখনো মানুষকে কৌতুহলী করে তোলে। হয়তো সেকারণেই চলচ্চিত্রে এমন দ্বিধাহীনভাবে পুর্ণাঙ্গ আবেদন প্রকাশ করতে পেরেছেন। যেটাকে তাদের একান্ত নিজের বলে ভেবে ভুল করেছেন অনেকেই। তারপরও কথা তো থেকেই যায়।

    সবই কি আসলে অভিনয়ই ছিল! কিছুই কি তবে হৃদয়ের লেনদেন নয়! পাঠক সেসব উত্তর আপনারা খুঁজতে থাকুন। উত্তর খুঁজে না পেলেও আমরা পেয়েছি তাদের অনবদ্য কিছু কাজ। এর বেশি আর কি চাই!

  • নায়করাজ চলে যাওয়ার দুই বছর আজ

    নায়করাজ চলে যাওয়ার দুই বছর আজ

    পশ্চিম বাংলার এক যুবক ১৯৬৪ সালে ঢাকায় পা রেখেছিলেন পরিবারের হাত ধরে। কে জানতো ভাগ্য তার জন্য এখানে এত সাফল্যের গালিচা বিছিয়ে রেখেছে।

    ক্যারিয়ার শুরু করেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। সেই তিনি হুট করেই হাজির হন নায়ক হয়ে। অধ্যাবসায় আর ভাগ্যদেবী তাকে দু হাত উজাড় করে দিয়েছে। একের পর এক উপহার দেন সুপারহিট সব সিনেমা।

    কলকাতায় যখন উত্তম-সৌমিত্ররা সুচিত্রা-সুপ্রিয়া-অপর্ণা-শর্মিলাদের নিয়ে দর্শক মাতাচ্ছেন এপার বাংলায় তখন সুচন্দা-কবরী-শাবানা আর ববিতাদের নিয়ে দর্শক মনে আনন্দ বিলিয়েছেন তিনি। রোমান্স, একশনে দিনে দিনে হয়ে উঠলেন তিনি এদেশীয় সিনেমার রাজা। তিনি নায়করাজ রাজ্জাক।

    আজ নায়করাজের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ্জাক। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গন তথা সারাদেশে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। সেই শোকের দাগ এখনো রয়ে গেছে দর্শকের অন্তরে অন্তরে।

    নায়করাজ রাজ্জাকেরর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতিসহ নানা সংগঠনের পক্ষ থেকে দিবসটিতে নায়করাজ রাজ্জাকের সমাধিতে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। রয়েছে স্মরণ সভার কর্মসূচিও। বিটিভি এবং বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন দিবসটিতে নায়করাজ অভিনীত চলচ্চিত্র সম্প্রচার করবে বলে জানা গেছে।

    নায়করাজের পরিবারের পক্ষ থেকেও কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    নায়করাজ একাধারে ছিলেন অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক। দুই বাংলাতেই তিনি পেয়েছিলেন জনপ্রিয়তা৷ বাংলা চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘ সাড়ে ছয় দশক এই জনপ্রিয় অভিনেতা দাপটের সাথে কাজ করেছেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী তার কাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে নায়করাজ উপাধি দেন। এরপর এই উপাধির স্বীকৃতি মিলে যায় সবখানে। দল মত নির্বিশেষে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় নায়করাজ।

    ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে সরস্বতি পূজা চলাকালীন মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাকে বেছে নেন। এতে তিনি নায়ক অর্থাৎ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা এ নাটকের শিরোনাম ছিল ‘বিদ্রোহী’। এতে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয় জীবন শুরু।

    ১৯৬৪ সালে রাজ্জাক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ‘তের নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। এর পর ‘কার বউ’ ও ‘ডাক বাবু’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

    নায়ক হিসেব তার প্রথম চলচ্চিত্র হচ্ছে জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা ’। সেই থেকে তিনি ৩ শতাধিক চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন।

    এর বাইরে প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন ১৬টি চলচ্চিত্র। তিনি সাতবার চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার, চলচ্চিত্রের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।

    ব্যক্তিজীবনে রাজলক্ষীর সঙ্গে সুখের দাম্পত্যে রাজ্জাক ছিলেন তিন পুত্র ও দুই কন্যার জনক। তার দুই পুত্র বাপ্পারাজ ও সম্রাটও বাবার মতোই নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত৷

    শেষ জীবনে নানা অসুখে আক্রান্ত ছিলেন নায়করাজ। মৃত্যুর পর তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। বাপ্পারাজ, সম্রাট, জায়েদ খান ও শাকিব খান- এই চার নায়কের কাঁধে চড়ে শেষ নিদ্রায় যান ঢাকাই সিনেমার রাজা রাজ্জাক।