Category: বিনোদন

  • লেখকের পাশে আমির খান

    লেখকের পাশে আমির খান

    থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবি ফ্লপের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা আমির খান। এবার তিনি বললেন, যাঁরা ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখছেন, তাঁদের পারিশ্রমিক বাড়ানো দরকার। হঠাৎ আমির খান ছবির কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকারদের পাশে দাঁড়ালেন কেন? আমির খান বলেন, ‘ছবির স্ক্রিপ্ট কেমন, তার ওপর ভিত্তি করে আমি ছবি বাছাই করি। তাই আমার মনে হয়, একটা ছবির নেপথ্যে চিত্রনাট্যকার খুব গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রনাট্যকারদের আরও বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত, যাতে তাঁরা ভালো ভালো চিত্রনাট্য লিখতে পারেন। আর ভালো চিত্রনাট্য ছাড়া কখনোই ভালো ছবি হতে পারে না।

    সিনেস্তান ইন্ডিয়া’স স্টোরিটেলার্স স্ক্রিপ্ট কনটেস্ট আয়োজনে বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় আমির খানকে। এখানে বিচারক হিসেবে ছিলেন লেখক ও চিত্র পরিচালক রাজকুমার হিরানী, চিত্রনাট্যকার আনজুম রাজাবলী ও জুহি চতুর্বেদি। গত সোমবার মুম্বাইয়ে এই আয়োজন করা হয়। সিনেস্তান প্রা. লি. আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সারা ভারত থেকে সাড়ে তিন হাজার প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। এখানে সেরা চিত্রনাট্যকার পাচ্ছেন ৫০ লাখ রুপি। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ভালো কিছু চিত্রনাট্য সিনেস্তান স্ক্রিপ্ট ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হবে।

    এখানে আমির খান আরও বলেন, ‘ছবির মূল কান্ডারি একজন পরিচালক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তিনিই গল্পটা বলেন। এটা আসলে একটা টিম ওয়ার্ক। এখানে সবাই কাজ করেন। তবে গল্পটা লেখেন একজন চিত্রনাট্যকার। তাই আমার মনে হয়, চিত্রনাট্যকারদের সম্মান দেওয়া দরকার, তাঁদের পারিশ্রমিক বাড়ানো খুব জরুরি।

    বহুল আলোচিত ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমির খান। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ক্যাটরিনা কাইফ ও ফাতিমা সানা শেখের মতো অভিনয়শিল্পীরা। ‘থাগস অব হিন্দোস্থান’ নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। অথচ এখনো পর্যন্ত ছবি থেকে আয় হয়েছে মাত্র দেড় শ কোটি রুপি।

    এদিকে আমিরের ওপর আস্থা রাখা ভক্ত-দর্শকদের কাছে তাই ক্ষমা চেয়েছেন তিনি নিজেই। এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছেন, ‘ছবিটা খারাপ হওয়ার সব দায় আমার। আমার মনে হয়, আমরা কোনো ভুল করেছিলাম, কিন্তু সেই দায়টা আমিই নিচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছু ভুল নিশ্চয়ই ছিল। যে কারণে অল্প কিছু মানুষের কাছে ছবিটি ভালো লাগলেও বেশির ভাগ দর্শক ছবিটি পছন্দ করেননি। “থাগস অব হিন্দোস্থান” যাঁদের ভালো লেগেছে, তাঁদের ধন্যবাদ। যাঁদের ভালো লাগেনি, তাঁদের প্রতিক্রিয়া থেকে আমাদের উপলব্ধি হয়েছে, আমরা তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। আমি দুঃখিত, আমি তাঁদের বিনোদন দিতে পারিনি।

  • কী লজ্জার ছিঃ ছিঃ

    কী লজ্জার ছিঃ ছিঃ

    বলিউডে ‘#মি টু’ ইস্যুর শুরুর দিকের সোচ্চার পুরুষদের অন্যতম চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা ফারহান আখতার। নারীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনিও। অবস্থান নিয়েছিলেন যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে। কিন্তু হায়, এখন এই ইস্যুতে লজ্জায় পড়তে হয়েছে তাঁকেও। কেননা তাঁর ঘরের ভেতরে বসে আছেন যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত এক পুরুষ!

    চাচাতো ভাই সাজিদ খানের কারণে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেছে ফারহান আখতারের। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা বিশ্বাস করতেই চাননি তিনি। কিন্তু ফারহানের পরিচিত কয়েকজন নারী গোপনে তাঁকে জানিয়েছেন, ওঁর ব্যবহার আসলেই খারাপ। এখন এ নিয়ে রীতিমতো অপরাধবোধে ভুগছেন ফারহান আখতার।

    পরিচালক সাজিদ খানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন অভিনেত্রী সালোনি চোপড়া এবং এক নারী সাংবাদিক। এতে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর ‘হাউসফুল ফোর’ ছবির শুটিং। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভীষণ মর্মাহত হন ফারহান আখতার। ‘#মি টু’ আন্দোলনে তিনি এক সক্রিয় কণ্ঠস্বর। অথচ তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধেই কিনা সেই অভিযোগ।

    এখন কী করবেন তিনি? এ প্রসঙ্গে ফারহান আখতার বলেন, ‘এত দিন আমি এসব ঘটনার প্রতিবাদ করে এসেছি। এখন ঘরের মানুষদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে যদি মুখ বন্ধ রাখি, সেটা হবে চূড়ান্ত ভন্ডামো।

    সম্প্রতি সাংবাদিক বারখা দত্তের সঙ্গে ‘উই দ্য উইমেন’ শিরোনামের এক অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচক ছিলেন ফারহান আখতার। বারখা প্রশ্ন করেন, যৌন হয়রানি যখন একটি অপরাধ তখন কেবল ক্ষমা প্রার্থনাই কি যথেষ্ট? ফারহান বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ানো উচিত। আর সাজিদের এসবের মুখোমুখি হওয়ার দরকার আছে।

    ফারহান বলেন, ‘সাজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা শুনে আমার মন খারাপ হয়ে গেছে। আমি বিস্মিত ও হতাশ হয়েছি। কারণ সে আমার পরিবারের লোক। অন্তত তিনজন নারী আমাকে সাজিদের ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলেছেন। তাঁরা বলেছিলেন, আপনার ভাইয়ের সম্পর্কে যা শোনা যাচ্ছে, সেসব সত্য। কারণ সে আমাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেছে। সেই নারীদের কাউকে আমি ১২, ১৫ বা ২০ বছর ধরে চিনি। তাঁদের আমি অবিশ্বাস করতে পারিনি। অবশ্য বলেছিলাম, এসব কেন আমাকে তাঁরা আগে জানায়নি।

    ফারহান বলেন, ‘একজন নারীর সঙ্গে যদি কেউ খারাপ আচরণ করে আর তাঁরা সেটা গোপন রাখতে চায়, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আবার কেউ যদি গোপনে বিষয়টি কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে, যেমন ওই তিন নারী করেছিলেন, আমি কি তাঁদের কথা কাউকে বলে দেব? না। কারণ তাতে সারা জীবন তাঁকে মানুষের প্রশ্নবাণ সইতে হবে। বরং নারী যাতে খোলাখুলি তাদের যাতনার কথা প্রকাশ করতে পারে, তাদের জন্য সেই পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।’

    ওই আলোচনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে আরও ছিলেন রাজনীতিক মিলিন্দ দেওরা এবং কমেডিয়ান সাইরাস ব্রচা। ডেকান ক্রনিকল

  • মধুদা হচ্ছেন ওমর সানী

    মধুদা হচ্ছেন ওমর সানী

    চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এবার ঐতিহাসিক একটি চরিত্রে দেখা যাবে ওমর সানীকে। পর্দায় তিনি হাজির হচ্ছেন মধুদা হয়ে। সাঈদুর রহমান সাঈদের ‘মধুর ক্যান্টিন’ চলচ্চিত্রে এমন চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি।

    গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এর শুভ মহরত অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমান। মহরতে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা সাঈদুর রহমান সাঈদ, চিত্রনায়ক ওমর সানী, মৌসুমীসহ অনেকে। এ সময় ওমর সানী বলেন, এটি আমার অভিনয় জীবনে অন্যতম একটি চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে।

     ছবির চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য অনেকদিন ধরেই নিজেকে প্রস্তুত করছি। সাঈদ ভাই আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন একজন পরিচালক। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর তিনি আবারো চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ায় তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।আমি আমার সাধ্যমতো চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, মধুর ক্যান্টিন চলচ্চিত্রের কাজ শেষ হলে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ছবিটি উপহার দেব।
    এই ছবিতে সাংবাদিক মৃদুলা চরিত্রে অভিনয় করবে মৌসুমী। মৌসুমী বলেন, সাঈদ ভাই অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছবির কাজটি শুরু করেছেন। আশা করি, তিনি সফল হবেন।
  • বিবিসির সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

    বিবিসির সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

    সিনেমার চরিত্রে নয়। বাস্তব জীবনে সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন খ্যাতিমান হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বড়দিনকে সামনে রেখে বিবিসি রেডিওর অতিথি সম্পাদক হিসেবে কাজ করবেন জাতিসংঘের এই শরণার্থীবিষয়ক বিশেষ দূত। বিবিসি রেডিও ফোর-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানটির জন্য কাজ করবেন তিনি।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলিঅ্যাঞ্জেলিনা জোলিযুদ্ধক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং বৈশ্বিক শরণার্থী সংকট নিয়ে আলোচনা করতে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আমন্ত্রণ জানাবেন কয়েকজন শরণার্থী আর যুদ্ধফেরত মানুষকে।

    জোলির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানটির জন্য বিবিসি রেডিওর কর্মীদের সঙ্গে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সংকটগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য বিবিসির গ্রহণযোগ্য ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর এই সুযোগ দেওয়ার জন্য বিবিসির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জোলি।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলিঅ্যাঞ্জেলিনা জোলিআগামী ২৮ ডিসেম্বর বিবিসির অতিথি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

    বিশেষ দিনগুলোতে অতিথি সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গনের তারকা ও জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানায় বিবিসির রেডিও ফোর। এ বছর এসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে বিবিসি রেডিও ফোর। এ বছর অতিথি সম্পাদক হিসেবে আরও থাকবেন ইতিহাসবিদ অ্যান্ড্রু রবার্ট, ঔপন্যাসিক কামিলা সামসি, নারীবাদী ব্লগার ছিদেরা এগুরে প্রমুখ।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলিঅ্যাঞ্জেলিনা জোলিআগেও বিবিসির অতিথি সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বিবিসি রেডিওর ‘উইমেন্স আওয়ার’ অনুষ্ঠানের বিশেষ এক আয়োজনে অতিথি সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি।

  • কখনও সারা-ইব্রাহিমের মা হতে চান না কারিনা

    কখনও সারা-ইব্রাহিমের মা হতে চান না কারিনা

    সাইফ আলি খানের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তার জীবনে কোন সমস্যা নেই। সাইফের সাবেক স্ত্রী অমৃতা সিংয়ের সঙ্গেও নাকি ভালো সম্পর্ক কারিনা কাপুরের। এতকিছুর পরেও সাইফ আলি খানের প্রথম পক্ষের ছেলে মেয়েদের সম্বন্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন তিনি। কিন্তু এমন কথা কেন বললেন কারিনা?

    যদিও তেমনভাবে অভিনেত্রী কিছুই বলেননি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎাকরে কারিনা জানিয়েছেন, তিনি কখনই সারা আলি খান কিংবা ইব্রাহিমের মা হয়ে উঠতে পারবেন না। সেই চেষ্টাই তিনি করবেন না।

    কারিনার কথায়, “সারা আর ইব্রাহিমের মা হয়ে ওঠার চেষ্টাও করতে চাইনা। কারণ ওরা এত ভালো একজন মা কে পাশে পেয়েছে সেখানে আমায় কেন মা হিসেবে দেখবে ওরা? সইফের সঙ্গে বিয়ের আগে এবং পরে বারবারই বলে এসেছি যে আমি ওদের ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে চাই। আমায় যখনই ওদের প্রয়োজন হবে আমি থাকব ওদের পাশে। কিন্তু মায়ের কোন অধিকারবোধ ফলাতে চাই না। অমৃতা যেভাবে ওদের মানুষ করেছে তাতে আর কাউকে ওদের দরকার হবে না।”

    অন্যদিকে, তিনি সারার ডেবিউ ফিল্ম ‘কেদারনাথ’র প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, ছবিটির জন্য তিন বেশ আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। কারণ তার মতে সারা বর্ন স্টার৷ খুব ছোট বয়স থেকেই নাকি কারিনা ওর মধ্যে একটা স্টার ক্যোয়ালিটি দেখতে পেয়েছিলেন।

  • আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এই গুণী নির্মাতার দুই ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও সোহেল আরমানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে পাঠান তিনি। সেখানে তাঁদের কাছে আমজাদ হোসেনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে জানতে চান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম জানান, চলচ্চিত্রের এই গুণী নির্মাতার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সোহেল আরমান বলেন, ‘আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল কর্মকর্তা এস এম খুরশিদ-উল-আলম ফোনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আমার বাবার অসুস্থতার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আমজাদ হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চান। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর কার্যালয়ে যাই। এ সময় জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজমও ছিলেন সেখানে।

    সোহেল আরমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, দেশে কিংবা দেশের বাইরে যেখানেই হোক, আমজাদ হোসেনের চিকিৎসা নিয়ে ভাবতে হবে না। তিনি আব্বুর চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আমাদের এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমজাদ হোসেনের দুই ছেলে সোহেল আরমান ও সাজ্জাদ হোসেন দোদুল। সঙ্গে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলীক। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সৌজন্যেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমজাদ হোসেনের দুই ছেলে সোহেল আরমান ও সাজ্জাদ হোসেন দোদুল। সঙ্গে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলীক। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের।

    সৌজন্যেপ্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দুই ছেলে। সোহেল আরমান বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ প্রথম দেখা হলো। সত্যিই তিনি মমতাময়ী। আমাদের তিনি ৩০ মিনিটের বেশি সময় দিয়েছেন। এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমাদের কথা ধৈর্য নিয়ে শুনেছেন, এই কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

    বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের গুণী পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী আমজাদ হোসেন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    গত রোববার সকালে বাসায় আমজাদ হোসেনের স্ট্রোক হয়। এরপর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে আমজাদ হোসেন চিকিৎসক শহীদুল্লাহ সবুজের তত্ত্বাবধানে আছেন। গতকাল সোমবার চিকিৎসক প্রতিনিধিদল থেকে জানানো হয়, আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

    ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’, ‘ভাত দে’, কসাই, ‘নয়নমণি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ ছবিগুলোর নাম নিলেই কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক আমজাদ হোসেনের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়েও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।

    ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন আমজাদ হোসেন। শৈশব থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন। প্রথমেই তিনি অভিনয়ে করেন মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ সিনেমায়। এরপর তিনি অভিনয় করেন মোস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ সিনেমায়। আমজাদ হোসেন একসময় চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

    ১৯৬৭ সালে তিনি নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতা পুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি। গুণী এই পরিচালক ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

  • বিব্রত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঐশী

    বিব্রত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঐশী

    কয়েক মাস আগেও সাদামাটা জীবনযাপন ছিল জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশীর। উচ্চমাধ্যমিক পাস শেষে যখন ঢাকায় এলেন, তখনো ছিল তাঁর সাধারণ জীবন।

    আর দশজন মেয়ের মতো চলাফেরা ছিল তাঁর। পড়তে হয়নি কোনো বিড়ম্বনায়। যেই না ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেন, তখন থেকে নতুন এক জীবনে ঢুকে যান ঐশী। রাতারাতি বদলে যাওয়া ঐশীকে নিয়ে নাকি ফেসবুকসহ মোবাইল প্ল্যাটফর্ম মবস্টারে খোলা হয় অনেকগুলো ভুয়া আইডি। এসব ভুয়া আইডি চীনের সানাইয়া শহরে মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে থাকা ঐশীকে বিব্রত করছে। গতকাল সোমবার ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় এসব কথা জানান তিনি।

    মিস সার্বিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐশীমিস সার্বিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐশীবিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১০ নভেম্বর চীনের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঐশী। এখন তিনি চীনের সানাইয়া শহরে আছেন। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার ৬৮তম আসরে ১৫০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে সেরার লড়াইয়ে আছেন ঐশী। আগামী ৮ ডিসেম্বর মিস ওয়ার্ল্ডের গ্র্যান্ড ফিনালে। এর আগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন সেগমেন্টে অংশ নিতে হবে তাঁকে। সব কটি ধাপ সাফল্যের সঙ্গে পার হলে তবেই গ্র্যান্ড ফিনালেতে দেখা যাবে বাংলাদেশের ঐশীকে।

    মিস ওয়ার্ল্ডের একটি ইভেন্টে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়িতে ঐশীমিস ওয়ার্ল্ডের একটি ইভেন্টে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়িতে।

    ঐশীবিশ্বব্যাপী প্রতিভাবানদের সঙ্গে ভক্তদের সেতুবন্ধ তৈরি করে মোবাইল প্ল্যাটফর্ম মবস্টার। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিযোগীরা ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও আপলোড করতে পারেন, ভক্তদের কাছে ভোট চাইতে পারেন। কিন্তু কে বা কারা নাকি মবস্টারে ঐশীর নামে অনেকগুলো আইডি খুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে মিস ওয়ার্ল্ডে অন্য দেশের কয়েকজন প্রতিযোগীর সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ভিডিও বার্তায় ঐশী বলেন, ‘মবস্টারে আমার নামে অনেকগুলো ফেক আইডি আছে। এগুলো নিয়ে আমাকে বিব্রতকর অবস্থাতে পড়তে হচ্ছে। দয়া করে আপনারা আমার নামের ফেক আইডিগুলো বন্ধ করে দিন।

    মিস ওয়ার্ল্ডের অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ঐশী (বাম থেকে চতুর্থ)মিস ওয়ার্ল্ডের অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ঐশী (বাম থেকে চতুর্থ)।

    ঐশী আরও বলেন, ‘আমার নামে যাঁরা ফেক অ্যাকাউন্ট খুলছেন, কী লাভ আপনাদের! আপনাদের অতি উৎসাহে কিন্তু আমার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমার অনেক কমেন্ট লাইক শেয়ার অন্য আইডিতে চলে যাচ্ছে। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় এসেছি আমি, এখন আপনাদের অনেক সাপোর্ট দরকার। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য। আমি এখানে দেশের প্রতিনিধি হয়ে এসেছি। নিজের দেশের মানুষ যদি আমার ক্ষতি করেন, তাহলে কীভাবে সামনে দিকে এগিয়ে যাব! আপনারা যাঁরা আমার নামে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন,তাঁদের কাছে অনুরোধ, এগুলো বন্ধ করে দেন।

    জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশীজান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশীপিরোজপুরের মাটিভাঙ্গা এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশী।

    এইচএসসি পাস করেছেন মাথাভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছিলেন ঢাকায়। ভর্তি কোচিং করার সময়ই দেখেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন। নাম লেখান প্রতিযোগিতায়। নানা ধাপ পেরিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের গ্র্যান্ড ফিনালেতে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের রাজদর্শন মিলনায়তনে বসেছিল ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮ ’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। সেখানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের গ্র্যান্ড ফিনালেতে সেরা ১০ সুন্দরীর মধ্য থেকে ঐশীকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

  • তসলিমা নাসরিন হিরো আলমকে নিয়ে যা বললেন

    তসলিমা নাসরিন হিরো আলমকে নিয়ে যা বললেন

    বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো হিরো আলম নিয়ে পড়েছে। পাগলের মতো তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে সবাই। বাজারের জনপ্রিয় গানের সঙ্গে লিপ মিলিয়ে ভাড়া করা ‘অভিনেত্রী’র সঙ্গে তার যে নাচানাচির ভিডিও ইউটিউবে আছে, সেগুলো নিতান্তই কুরুচিপূর্ণ, হাস্যকর এবং বিরক্তিকর জিনিস।

    সেগুলোর দর্শক বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। মানুষের ‘ভালোবাসা’ পেয়ে হিরো আলম এখন ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। একসময় মন্ত্রী হবেন। হয়তো প্রধানমন্ত্রীও হবেন। আসলে হিরো আলম বাংলাদেশের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য উপযুক্ত লোক। দেশটাও হিরো আলমের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে এতদিনে।

    গরিব থেকে ধনী হলে, বা স্ট্রাগল করে বড় হলে বা সোজা সরল হলেই কি ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্য হয় কেউ? লোকে বলে হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত আর কুটিল জটিল রাজনীতিক দেখতে দেখতে মানুষ এখন সাদাসিধে কাউকে দেখলেই তাকে দেশ শাসনের ভার দিতে চায়।

    সাদাসিধে আর সৎ হলেই যে ভালো রাজনীতিক হওয়া সম্ভব তা তো নয়।

    রাজনীতির জগতটাকে একটা সার্কাস বানিয়ে ফেলেছে দেশটা। বাংলাদেশের সংসদে তো কম ক্লাউন নেই। হিরো আলম নামে নতুন এক ক্লাউনের নিশ্চয়ই ওখানে জায়গা হবে।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • বিয়ের দিন রণবীরকে দিয়ে এ কী করালেন দীপিকা!

    বিয়ের দিন রণবীরকে দিয়ে এ কী করালেন দীপিকা!

    দীর্ঘদিন প্রেমের পর মঙ্গলবার ইতালিতে রীতি মেনে গাঁটছড়া বেঁধেছেন রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন। তবে অতিথিদের ওপর কড়া নজরদারি কারণে বিয়ের ছবি দেখতে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও দু’দিন। বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিকা-রণবীর নিজেরাই সেই ছবি প্রকাশ করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁদের পরিণয়ের ছবি পোস্ট হতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরই মধ্যে হঠাৎ ভাইরাল হয়ে গেল আরও একটি ছবি। সেটি দীপিকার প্রাক্তন প্রেমিক রণবীর কাপুরের। ছবির উপরে লেখা, সবাই দীপিকা-রণবীরের বিয়ের ছবি শেয়ারে করছে। কিন্তু দীপিকার বিয়েতে রণবীর কাপুর কী করছেন, সেই ছবি কেউ শেয়ার করছে না!

    ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পাঞ্জাবি পরিহিত রণবীর কাপুর বালতি হাতে খাবার পরিবেশন করছেন। ছবি পোস্ট হওয়া মাত্রই দীপিকার প্রাক্তন প্রেমিকের খাবার পরিবেশনের ছবি নিয়ে হাসি-তামাশায় মেতেছেন নেটিজেনরা। ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে পোস্টারের মতো সেঁটে গেছে রণবীর কাপুরের এই ছবি। হাজার হাজার শেয়ার, হরেক রকমের মন্তব্য। হোয়াটসঅ্যাপেও ঘুরে বেড়াচ্ছে ছবিটি।

    উল্লেখ্য, দীপিকা-রণবীরের বিয়েতে বলিউড থেকে থেকে কেবল আমন্ত্রিত ছিলেন মাত্র তিনজন। তবে শাহরুখ খান ও সঞ্জয়লীলা বানশালি বিয়েতে গেলেও ছিলেন না পরিচালক ফারাহ খান। ফলে দীপিকার বিয়েতে রণবীর কাপুরের খাবার পরিবেশন করা তো দূরের কথা, তিনি যে সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না সেটা নিশ্চিত। তবে অনেকে না বুঝে মন্তব্য করছেন-রণবীরের সাথে দীপিকার এমনটা করা মোটেও উচিত হয়নি।

  • মৈমনসিংহের মহুয়া সুন্দরী এখন বরিশালে!

    মৈমনসিংহের মহুয়া সুন্দরী এখন বরিশালে!

    নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

    ঘরের দাওয়ায়, কখনো ধান কাটা মাঠে গা-শিউরানো বাতাসের চাঁদোয়ায়, চন্দ্রালোকে ভিজে অথবা হয়তো হ্যাজাক বাতির অল্প আলোতে আর বাকিটা আঁধারে ঢাকা কোনো রহস্যঘেরা রাতে গাওয়া গীতিকাব্যের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’। এই গীতিকার এক অমর প্রেমকাহিনী ‘মহুয়া’ পালা প্রায় ৪’শ বছর আগেকার।

    সেই কাহিনী নিয়ে বরিশালে অন্যতম নাট্য সংগঠন খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার সৃস্টি করেছে ৯৭ তম প্রযজনা। এই নাটকটি শনিবার থিয়েটার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। নাটকটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

    নাটকটির কাহিনী সংক্ষেপে বলা যায়, ৬ মাসের পথের দূরত্বে গারো পাহাড়ের ওপর হিমানী পর্বত। এর উত্তরের সাগর পাড়ের চান্দ সূরুজ নাই আন্দারিতে ঘেরা গভীর বনে বাস করে ডাকাত সর্দার বেদে হুমরা বাইদ্যা। ১৬ বছর আগে ধনু নদীর পাড়ের কাঞ্চনপুর গ্রামের এক ব্রাহ্মণের ছয় মাসের কন্যাকে চুরি করে আনে সে। তাকে লালন-পালন করে বড় করে, বিভিন্ন কসরত শেখায় আর খেলা দেখিয়ে বেড়ায়।

    উপচে পড়া রূপ ‘আন্দাইর ঘরে থুইলে কন্যা জ্বলে কাঞ্চা সোনা’ নাম মহুয়া সুন্দরী। একবার বামনকান্দা গ্রামের ব্রাহ্মণ নদ্যার চান ঠাকুরের বাড়িতে খেলা দেখাতে যায় বাপ-বেটি। মহুয়ার কসরতে মুগ্ধ রূপবান নদ্যার ঠাকুর হুমরা বাইদ্যার দলকে উলুইয়াকান্দা নামক স্থানে বসতের অনুমতি দেন।

    নদের চাঁদ ঠাকুরের সঙ্গে মহুয়ার মন দেয়া-নেয়া, বাধাঁ বিপত্তি নিয়ে দুই হতভাগ প্রেমিক-প্রেমিকার কাহিনী ফুটে উঠেছে এই নাটকটিতে। ময়মনসিংহের এক পালাকার ব্রাহ্মণ দ্বিজ কানাই তার কুঁড়েঘরে বসে যে পালা লিখেছেন তাই একদিন এক দেশ থেকে অন্য দেশে বয়ে যায়, সময়ের পাখায় চড়ে, ভাষা পরিবর্তন করে ইউরোপের কালজয়ী রোমান্স ‘ট্রিস্টান অ্যান্ড ইসল্ড’ হয়ে। মহুয়া পালায় মোট ৭৫৫ ছত্র আছে।

    দীনেশচন্দ্র সেন এই পালাকে ২৪টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন। এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন অপূর্ব কুমার রায় অপু। লোকসংস্কৃতি সাধনায় খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারের ৯৭তম প্রযোজনা মহুয়া।

    থিয়েটারের সভাপতি এ্যাড. নজরুল ইসলাম চুন্নু আশা প্রকাশ করেছেন, এক ঝাঁক নবীন ও তরুণ নাট্যকর্মীর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল মহুয়া দর্শকদের আপ্লুত করবে।