Category: রাজণীতি

  • দুর্নীতির প্রমাণ দিতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    দুর্নীতির প্রমাণ দিতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। ক্লাস বর্জন, ভাঙচুর, অবরোধ চলছে।অপরাধী যারাই হোক না কেন আমি কিন্তু সব অপরাধীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেই। হঠাৎ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কিছু হলেই ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একটা স্পষ্ট কথা- যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছেন তাদের কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। তাদের তথ্য দিতে হবে। তারা যদি তথ্য দিতে পারেন তাহলে নিশ্চয়ই আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে না পারেন। সময় নষ্ট করবেন, ক্লাস চলতে দেবেন না, ভিসির বাড়িতে, অফিসে আক্রমণ, ভাঙচুর করবেন, দিনের পর দিন ক্লাস বন্ধ থাকবে এটা তো হয় না। প্রমাণ করতে হবে। যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন তাহলে দুর্নীতি করলে যে সাজা হতো তাকে কিন্তু সেই সাজা পেতে হবে। এটি কিন্তু আইনেও আছে মিথ্যা অভিযোগ করলে আইন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমরা কিন্তু সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। যারা কথা বলছে, বক্তৃতা করছে, আন্দোলন করেছে সব রেকর্ড থাকবে। তারা যদি প্রমাণ করতে না পারে, মিথ্যা অভিযোগের জন্য তার শাস্তি হবে। এভাবে দিনের পর দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, সেটা কিন্তু আমরা বরদাসত করবো না।

    প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক আর্থিক সহায়তা-ভাতা অনুদানের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর থেকে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। আজকে এতগুলো টিভি চ্যানেল, আগে একটিমাত্র টিভি চ্যানেল ছিল। এতগুলো চ্যানেলের ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আজকে প্রায় ৪৪টি চ্যানেল অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২৪টি চ্যানেল ইতিমধ্যে চলছে। সেখানে কত কর্মসংস্থান, কাজর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আবার সেখানে মধ্য রাতে ট শো চলে। সেখানে অনেক কথা বলার পরেও তারা বলে আমারা কথা বলার অধিকার নেই। আমরা তথ্য অধিকার আইন করে তথ্য কমিশন গঠন করেছি।সেখানে যে কেউ যেকোনো তথ্য পেতে পারে। এই সুযোগ কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারই দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার যত বেশি সুযোগ দেয় তত বেশি সমালোচানার শিকার হয়। আগে কথাও বলতে পারতো না, সমালোচনা করতেও পারত না।

    তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ আর্থসামাজিকভাবে উন্নতি করেছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, সব দিক থেকে দেশের উন্নতি হয়েছে, তাহেল অভিযোগটা কী? আমারা তো কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মেট্রোরেলের কাজ করছি, এখানে স্টেশন হতে পারবে না, ওখানে হতে পারবে না। যাদের সুবিধার জন্য তারাই সেখানে আন্দোলন করে স্টেশন হতে দেবে না।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে কাজ করতে হলে তো কতগুলো নিয়ম মানতেই হবে। তাদের অসুবিধাটা কোথায়? তারা ট্রেন থেকে নেমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে চলে যাবে। আর তারাই যদি বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তাহেল ডেভলেপমেন্টটা হবে কিভাবে?

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩তে উঠে গেছে, স্বল্পন্নত উন্নয়নশীল দেশে আমরা অগ্রযাত্রা শুরু করেছি। অনেকের কাছে এটা হয়তো পছন্দ হবে না। কারণ ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পরে বাংলাদেশকে পিছনে টেনে রাখতে সক্ষম হয়েছিল তারা। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আর তা সম্ভব হচ্ছে না।বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেখানেই বোধহয় তাদের মনে কষ্ট।

    তিনি বলেন, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুলে যে ঘটনাটা ঘটলো, যারা অনুষ্ঠান করে তাদের তো একটা দায়িত্ববোধ থাকে। যারা স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠান করছে তাদের ওই বাচ্চাদের সেফটি সিকিউরিটির দিকে দেখা উচিত ছিল। তারা এতটাই নেগলেট করেছে যে ইলেকট্রিক কারণে মারা গেছে বাচ্চাটা। ধানমন্ডির ওই এলকায় কতগুলো হাসপাতাল, কিন্তু সেগুলোতে না নিয়ে মহাখালী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। ইলেকট্রিকের ওই বিষয়গুলোর দিকে তারা দৃষ্টিই দেইনি। এত অবহেলা কিভাবে করতে পারে। তারা অনুষ্ঠান করেছেন, তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? এটি তাদের একটি গর্হিত অপরাধ। এভাবে একটা বাচ্চা মারা যাবে এটা তো বরদাসত করা যায় না।

  • বছরের প্রথম দিন আ’লীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরন করা হবে : মেয়র সাদিক

    বছরের প্রথম দিন আ’লীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরন করা হবে : মেয়র সাদিক

    স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যে সকল নেতা-কর্মী দলের জন্য শহীদ হয়েছেন অথবা স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তাদের সকলের রুহের মাগফেরাত কামনায় প্রতি বছর ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ শোক সভা এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করার ঘোষনা দিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    তিনি এরইমধ্যে তার ফেসবুক ওয়ালে এ সংক্রান্ত একটি পোষ্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি ১ জানুয়ারি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াতদের স্মরনে দোয়া মোনাজাত ও কালোব্যাজ ধারন কর্মসূচি পালনের কথা উল্লেখ করেছেন।

    আর বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও তরুন নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র  এমন উদ্যোগকে মহতি বলে এরই মধ্যে কমেন্টেস-এ উল্লেখ করেছেন এবং সাধুবাদ জানিয়েছেন। আর এ উদ্যোগ সংগঠনের প্রয়াত নেতৃবৃন্দকে বর্তমান নেতৃবৃন্দের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবেন বলে মনে করছে সুশীল সমাজ।

    এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে অনেককে তাক লাগিয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পৌছা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র এ উদ্যোগ রাজনীতিতে মহতি হিসেবেই দেখছেন সকলে।

    তিনি বলেন, মেয়র গত ১ নভেম্বর বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের যেসকল নেতাকর্মী মারা গেছেন তাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে উদ্যোগ গ্রহনের ওপর জোড় দেন।  ওই সময় তিনি বলেছিলেন, যারা সংগঠনকে গতিশীল করতে ভূমিকা রেখেছিলেন কিন্তু এখন আর বেঁচে নেই তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা। ওই ভাবনা থেকে তিনি (মেয়র) তাঁর ফেইসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট শেয়ার করেন।

  • বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল বহিস্কার

    বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল বহিস্কার

    বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাসেলকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বুধবার জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের এক জরুরি সভায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    পরবর্তীতে বিষয়টি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়েছে।

    কিন্তু কী কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হল বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ না করলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে- সাম্প্রতিকালে বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা প্রকাশ পায়। ওই তালিকায় উঠে আসে এক সময়কার ইউনিয়ন ছাত্রদল সহ-সভাপতি রাসেল বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

    সেক্ষেত্রে ধারনা করা হচ্ছে- অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় তার নাম স্থান পাওয়ার কারণেই তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।’

  • এবার বোমা ফাটালেন সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ

    এবার বোমা ফাটালেন সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ

    কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবকলীগের সকল প্রকার কার্যক্রমে বিরত থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ এই প্রথম মিডিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুললেন। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পর মিডিয়ায় বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত মিশ্রিত তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি ও সম্পদে ফুলে-ফেঁপে ওঠার অভিযোগ খন্ডন করে বলেছেন- প্রকাশিত সংবাদের সাথে তার জীবনের বাস্তবতার কোন মিল নেই। মনগড়া ও চটকদার সংবাদ পরিবেশন মাধ্যমে তাকে হেয় করার এই ষড়যন্ত্র নতুন নয়। তার দাবি এসবই ঘটছে বরিশাল থেকে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নীতিগত দ্ব›দ্ব থেকেই দলের একটি অংশ ষড়যন্ত্রের জাল বপন করে সময় বিশেষ তাকে হেয় করার সুযোগ নেয়। সর্বশেষ দলীয় সমর্থিত একজন নরসুন্দরকে ব্যবহার করে আক্রোশমুলক নানা অভিযোগ মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে।

    বুধবার সকালে তার নির্বাচনি এলাকা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা শহরের ‘মুক্তিযোদ্ধা পার্ক’ মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল ৪ আসনের সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ উপরোক্ত মন্তব্য করে তার বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে তা খন্ডন করেন। সাংসদের এই উদ্যোগের দুইদিন আগে স্থানীয় কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পেশায় নরসুন্দর সঞ্জয় চন্দ্র দলীয় নেতা পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির একাধিক অভিযোগ উপস্থাপন করে তার অঢেল সম্পদ অর্জনের অষ্পষ্ট বর্ণণা দিয়েছিলেন। বরিশাল শহরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সাংসদ পঙ্কজ মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন এ ধারনা করা হলেও গোটা আয়োজনজুড়ে কীভাবে, কারা কখন থেকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ তুলেছিল এবং তা মিডিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যের রহস্য ভেদ করার যুক্তিকতা তুলে ধরেন। এসময় তিনি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের শীর্ষে থাকা নেতৃবৃন্দের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি পরিস্কার করার চেষ্টা করেন।

    সাংসদ পঙ্কজের দাবি- তিনি সঠিক পথে অবস্থান নেওয়ায় দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়া জেলার দায়িত্বশীল নেতারা তাকে কোনঠাসা করতেই দীর্ঘদিন ধরে তৎপর। এসময় তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসকে প্রকাশ্যে দায়ী করলেও একই কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে পরোক্ষভাবে এর সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করেন। জেলার এই দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য ও থানা- ইউনিয়ন কমিটি গঠনের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার উল্টো অভিযোগ তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সদস্য অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দলীয় প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট মুনসুর আহম্মেদকে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়ে দলীয় বিভেদ তৈরি করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি- বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজ উল আলম লিটনের পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটেছিল। জেলা আ’লীগ চেয়েছিল মুনসুর আহম্মেদকে মাঠে নামিয়ে একটি আবহাওয়া তৈরি করে তাকে বিতর্কিত করা। নির্বাচন পূর্ব সংসদ ভবন এলাকায় অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে মুনসুর আহম্মেদকে কোন এক নেতা ছেড়া পাঞ্জাবী পরে ঢাকায় ওঠার পরামর্শ দেওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনে জেলা নেতৃবৃন্দ কীভাবে তাকে ঠেসে ধরে চলেছে তার একটি কায়দাও তুলে ধরেন। এমনকি সেই মুনসুর আহম্মেদকে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বরিশালে ডেকে নিয়ে সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা নির্বাচন বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়। জেলা কমিটির এই নেতরাই সঞ্জয় চন্দ্রকে পুনরায় মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে গত সোমবার তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলতে কৌশল নেয়। এর আগে একই ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে সন্ত্রাস নৈরাজ্যর অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই ভুমিকায় জেলা কমিটি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের সন্তান শাম্মি আক্তারের সাথে একট্টা হওয়ার দাবি করেন।

    সোমবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে তার নিজ ভাইয়ের স্ত্রীকে দুর্নীতির মাধ্যমে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, তার ভাইকে ভূমিদস্যু এবং তার বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজিসহ দেশ-বিদেশে দৃশ্যমাণ সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা উদাহরণ তুলে ধরা হয়। সাংসদ পঙ্কজের দাবি- ওই অভিযোগসমূহ মনগড়া। একটিরও প্রমাণ নেই দাবি করে তিনি বলেন- নিজ যোগ্যতা ও মেধায় তার ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ চাকরি নিয়েছেন। রাজধানী ঢাকার উত্তরায় যে বাড়ি নির্মাণের কথা বলা হয়েছে- সেই স্থাপনা তার নিজের নয়, অনুদান হিসেবে ২০০৪ সালে সরকারের দেওয়া ওই সম্পত্তিতে নিয়ম মেনে তার মা ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করেন। ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তা স্বীকার করে বলেন- সেটি দেড় যুগ আগে ক্রয় করা। ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং একটি মার্কেট রয়েছে বলে যে কথা প্রচার করা হচ্ছে- তাও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে হাস্যরসের মাধ্যমের সাংসদ পঙ্কজ বলেন- ওই সম্পত্তি নিজের তো নয়, উপরন্ত যখন কথা উঠেছে তখন তাকে লিখে দিলে খুশি হতেন।

    বিশেষ করে ঢাকার সড়কপথে চলা বিহঙ্গ পরিবহন নিয়ে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনে অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্পষ্ট করেন যে- ৬ জনের অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে এই পরিবহন ব্যবসার সাথে তিনি যুক্ত। এবং তার জ্ঞাত আয় সম্পর্কিত তথ্যে তা উল্লেখ করা আছে। পারিবারিক ব্যবহারে একটি জিপগাড়ির অস্তিত্ব নিজেই তুলে ধরে বলেন এটি মান্ধাতা আমলের। যা তৎসময়ে ৪ লাখ টাকায় অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রয় করেন সাংসদ হওয়ার আগেই। ভূমিদস্যু ও টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত থাকলে তার প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন- হিজলা মেহেন্দিগঞ্জে এই ধরনের রেকর্ড তার নেই। বরং এই জনপদের হাটবাজারের ইজারা বাতিলসহ নৌ-টার্মিনাল ও খেয়াঘাট টোলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

    সেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃত্ব থেকে তাকে কেন দূরে রাখা হলো, মিডিয়াকর্মীরা এমন প্রশ্ন রাখার আগে আভাস পেয়েই এ প্রসঙ্গটি তিনি নিজেই সামনে নিয়ে আসেন। এই সাংসদ মনে করেন- দীর্ঘ ১৭ বছর একই পদে থাকায় দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভবত বিতর্ক এড়াতেই তাকে সম্মেলনের কার্যক্রম থেকে আপাতত দূরে সরিয়ে রাখতেই এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু দেশব্যাপি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযানের মাঝে এধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকের ধারনা হতে পারে- তিনিও দুর্নীতির তালিকায় থাকায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    পঙ্কজ জোর দিয়ে বলেন- নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এখানে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। কিন্তু ইর্ষাকাতর জেলার নেতৃবৃন্দ সুযোগ বুঝে অপপ্রচারের সামিল হওয়ায় মিডিয়ায় বিষয়টি ভিন্নভাবে আসছে। তার ওপর জেলা নেতৃবৃন্দের অবিচারের নমুনা দেখিয়ে বলেন- দুই দফা সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরেও তাকে জেলা কমিটির সদস্য পদ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা কমিটির বৈঠকেও তাকে ডাকা হচ্ছে না। অনুন্নত ও বিএনপির দুর্গ হিসেবে বিবেচিত সেই হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে অবস্থার আমুল পরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের ভোট বৃদ্ধির দাবি করে এই সাংসদের অভিমত- ইতিবাচক এই ভুমিকায় জেলার নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে একপাশে করে রাখায় তিনি রাজনীতিতে বরিশাল নয়, ঢাকামুখী হতে বাধ্য হয়েছেন। এতে আরও সংক্ষুব্ধ জেলার নেতারা যাকে তাকে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে নৌকার ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করে তাকে বিতর্কের মধ্যে ফেলতে চায়। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন নির্বাচনে ফলাফল আওয়ামী লীগের অনুকুলে রাখতেই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিজয় ঘরে তুলে নিয়ে আসছেন। কিন্তু কেন্দ্রে তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দলের লোকদের আ’লীগে নিয়ে এসে কমিটিতে স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন- দলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তারা চিহ্নিত হলেও অনেকের নাম উহ্য রেখে প্রকৃত বঙ্গবন্ধুপ্রেমীদের এই তালিকায় কৌশলে ঠাই দিয়ে তাকে কোনঠাসা করতে গিয়ে দলকেই দুর্বল করছেন।

    জেলার নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তার এই সংবাদ সম্মেলনকে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপস্থী কীনা এমন প্রশ্নে এই সাংসদের ভাষ্য হচ্ছে- তিনি কারও নাম উল্লেখ করে কথা বলতে চান না। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিয়ে ঠেকিয়েছে যাকে-তাকে দিয়ে তাকে হেয় করতে ঘনঘন সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ তুলে পত্রিকার শিরোনাম করার ধারাবাহিকতায় তিনি মিডিয়ার মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছেন।

    দলীয় নেতাকর্মী ও ১৫ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে মাঠে প্যান্ডেল করে অনেকটা কর্মীসভার আদলে ডাকা বুধবারের এই সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়াকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গেলেও তার লেজ টেনে জেলার রাজনীতির টানপোড়নের অজানা তথ্য প্রকাশ করে উত্তর সাজাতে এই ঝানু রাজনীতিবিদের কারিশমা দেখা গেছে।’

  • খোকাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় নির্দেশ :প্রধানমন্ত্রী

    খোকাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় নির্দেশ :প্রধানমন্ত্রী

    নিউইয়র্কে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বিএনপি নেতা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার খোঁজখবর নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আইনগত বাধা থাকলেও তিনি যেন নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন এ জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    রোববার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে দেখতে যান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

    এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মানবিক বিবেচনায় খোকার দেশের ফেরার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

  • সাদেক হোসেন খোকা আর নেই

    সাদেক হোসেন খোকা আর নেই

    অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা আর নেই।

    নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় আজ বেলা ১টার সময় তিনি ইন্তেকাল করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন বলেও জানান শায়রুল।

    ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন খোকা। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি।

    ২০১৪ সালের ১৪ মে মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। এর কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেয়া হয়েছে।

  • নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশন(এনসিএফ) পক্ষ থেকে  এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা

    নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশন(এনসিএফ) পক্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা

    ঝালকাঠী প্রতিনিধি//আরিফুর রহমান আরিফ:

    অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশনের (এনসিএফ) পক্ষ থেকে নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের হতদরিদ্র এসএসসি পরীক্ষার্থী শিউলী আক্তারকে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ৪ (নভেম্বর) দুপুরে নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ সহযোগিতা প্রদান করা হয়।এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জলিল আকন্দ, সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিলন কান্তি দাস, সদস্য সচিব গোলাম মাওলা শান্ত, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম পলাশ, এস.আর সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য সিটিজেন ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ হলো- ১/সংগঠনটি সর্বদা অরাজনৈতিক ও সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে। ২/প্রতি উপজেলার গরীব ও মেধাবীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা। ৩/অসহায় ও দুস্থদের সার্বিক সহায়তা করা। ৪/দুরারোগ্য ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার রোগে আক্রান্ত রোগীকে সহায়তা প্রদান। ৫/গরীবদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ। ৬/যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাড়ানো। ৭/মাদক,সন্ত্রাস,বাল্যবিবাহ রোধসহ সামাজিক অপরাধসমূহের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন করা ও খেলাধুলা ও সামাজিক কাজকর্মে ছাত্র-যুবকদের অংশগ্রহণে সাহায্য করা। ৮/যেকোনো ধরনের বিরোধ বা বৈষম্যের ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তা করা। ৯/বৃক্ষরোপণ, পরিছন্ন ও পরিবেশবান্ধব কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা। ১০/সংগঠনের সকল সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববন্ধন সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা এবং কল্যাণময় সবকিছুতে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করা

  • জনগণের জন্য কাজ করতে ক্লান্তি আসে না: প্রধানমন্ত্রী

    জনগণের জন্য কাজ করতে ক্লান্তি আসে না: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, উন্নত জীবন পায় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের জন্য যখন কাজ করি, তখন আমার কোনো ক্লান্তি আসে না।

    শনিবার (০২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস’র (বিএবি) কম্বল গ্রহণ ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

    অনুষ্ঠানে বিএবি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর নিরলস কর্মতৎপরতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, আপনি এতো কাজ করেন, ক্লান্ত হন না।

    এরই জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে এতো ক্লান্ত, ক্লান্ত বলার কিছু নাই। আমি এতো তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হই না। আর জনগণের জন্য যখন কাজ করি, তখন আমার কোনো ক্লান্তি আসে না। এটা বাস্তবতা। আমি তো নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি জনগণের জন্য।

    বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। তার একটা স্বপ্ন ছিল, মানুষের জন্য তিনি করতে চেয়েছিলেন। সেটা তিনি করতে পারেন নাই। আমি এটাকে দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। আমার দেশের মানুষ যদি একটু ভালো থাকে, সেটাই আমার কাছে সব থেকে বড় পাওয়া। এজন্য আর কোনো কাজ রাখিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে, তাদের যেন সুন্দর জীবন দিতে পারি। অন্তত তারা যেন দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারে। তাদের বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থা, তাদের জীবনটা যেন একটু স্বচ্ছলভাবে চলে। একটু উন্নত জীবন হয়।

    আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটাই স্বপ্ন, বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে। সেটা অনেকাংশে আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্ব বাংলাদেশকে এখন আর করুণার চোখে দেখে না। সম্মানের চোখে দেখে।

    উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। সে লক্ষ্যে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, কাজ করে যাচ্ছি।

    শীতার্ত মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডারে কম্বল দেওয়ার জন্য বিএবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নিজেদের প্রতিশ্রুত সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণের তাগিদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যা কিছু করি জনগণের কল্যাণে, সেখানে আপনারা সবসময় এগিয়ে আসেন। প্রাকৃতিক দুযোর্গ হলেও আপনারা সহযোগিতা দিয়ে যান। কম্বলগুলো দেবেন সে জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। সরকারি ভাবে তো আমরা দেই। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আরও বেশি মানুষকে দিতে পারি। আরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়। আমাদের প্রতিবন্ধী, বয়োবৃদ্ধ, অসহায় আছে তাদের সহযোগিতা করতে হয়।

    ‘আমাদের দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালো হচ্ছে। আশা করি ভবিষ্যতে এতো বেশি (সহযোগিতা) দেওয়া লাগবে না। জনগণের কল্যাণে সহযোগিতা করছেন এ জন্য আল্লাহর কাছে সওয়াবও পাবেন।’

    গ্রামীন মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে যে গতিশীলতা তৈরিতে আমরা চেষ্টা করছি, তার ফলটা দেশবাসী পাচ্ছে, গ্রামের মানুষ পাচ্ছে।

    মানুষকে ব্যাংক ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ ছাড়াও ব্যাংক ব্যবহার করার অভ্যাসটা মানুষের মধ্যে গড়ে তোলার জন্য আমরা পদক্ষেপ নেই।

    অনুষ্ঠানে বিএবি’র অধীনে ৩৬টি বেসরকারি ব্যাংক আসন্ন শীতে অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডারে প্রায় ২৭ লাখ কম্বল দেয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও কম্বল কেনার জন্য ডাচ-বাংলা লিমিটেড’র পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ কোটি টাকার একটি চেক গ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ ফজলুর রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • জেলহত্যাসহ সকল খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জেলহত্যাসহ সকল খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    শুধু জেলহত্যা নয়, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও ২১ আগস্টের খুনিদেরও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    আজ রোববার (৩ নভেম্বর) জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীরা বিদেশে পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে তারা আমাদের দেশের আইনের আওতায় নেই। যেসব দেশে তারা অবস্থান করছে, তাদের আইনানুযায়ী প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘যেসব দেশে তারা পালিয়ে রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে নেগোসিয়েশন হচ্ছে। আমরা সবাইকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সকল খুনিকে ক্রমান্বয়ে ফিরিয়ে আনা হবে।’

    এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা কারাগারের ভেতরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • বরিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় জেল হত্যা দিবস পালিত

    বরিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় জেল হত্যা দিবস পালিত

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় গভীর শ্রদ্ধার সাথে দলীয় কার্যলয়ের সামনে অস্থায়ী রক্ষিত জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করাসহ তাদের প্রতি স্মরণ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ সকাল নয়টায় নগরীর শহীদ সোহেল চত্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ীভাবে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে প্রথমে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল জেলা আ.লীগের পক্ষ থেকে জেলা সম্পাদক সাবেক জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুসসহ জেলা আ.লীগ নেতৃবৃন্দ, বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ্সহ প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু, প্যানেল মেয়র (২) এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ।

    পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল মহানগর আ.লীগের সভাপতি সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্য এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড.এ.কে.এম জাহাঙ্গির হোসাইন, যুগ্ম-সম্পাদক বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, সহ-সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করীম ও মহানগর যুবলীগের আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজামসহ মহানগর আ.লীগ নেতৃবৃন্দ। আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবলীগ, জেলা কৃষকলীগ, জাতীয় শ্রমীক লীগ, মহানগর মহিলা আ.লীগ, জেলা ও মহানগর যুব মহিলা আ.লীগ, মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ বিসিসি শাখা, মহানগর জাতীয় শ্রমীকলীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি, মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর ছিন্নমূল বাস্তহারালীগ,জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতৃবৃন্দ।

    দলীয় কার্যলয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস, জেলা সহ-সভাপতি সৈয়দ আনিস, মহানগর সম্পাদক এ্যাড, এ.কে.এম জাহাঙ্গীর হোসাইন ও মহানগর নেতা প্যানেল মেয়র (১) গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু প্রমুখ।

    আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, ১৫ই আগস্ট ও ৩ই নভেম্বর ঘাতকদের হত্যাকান্ডের ফটনা একই সূত্রে গাঁথা। ওরা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে এদেশের মানুষের হৃদয়কে হত্যা করেছে।

    অপরদিকে পৃথিবীর নিরাপদ স্থান জেলখানা ঘাতকরা সেই জেলখানায় প্রবেশ করে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করে ঘৃনার জন্ম দিয়েছে।

    বক্তরা আরো বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আজ দলের ভিতর নৈতিক অবক্ষয়ের জন্ম হয়েছে সে কারনেই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ ঘড় থেকে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে একটি পরিচ্ছন্ন দল গড়ার কাজ করছেন।

    এসময় তারা আরো বলেন ১৫ই আগস্ট ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পূন্ন করা হয়েছে। তাই অভিলম্বে ৩ই নভেম্বর জেল হত্যার বিচার কাজ তরান্বিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।