Category: রাজণীতি

  • কোটি টাকা লেনদেন, এবার প্রক্টর-ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

    কোটি টাকা লেনদেন, এবার প্রক্টর-ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

    এবার ফাঁস হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতার ফোনালাপের অডিও। একের পর এক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যাম্পাসে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

    কোটি টাকা লেনদেন নিয়ে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁসের কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন এ অডিও ফাঁস হয়।

    প্রক্টরের ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর। হামজা নিজেই এ ফোনালাপ ফাঁস করেন। ফোনালাপের একপর্যায়ে অন্তর বলেন, ‘টাকার কথা এখন টক অব দ্য টাউন। এটা তো অস্বীকার করার কিছু নাই স্যার।’

    ছাত্রলীগের পদ হারানোর আগে অন্তরের মোবাইল ফোন দিয়ে টাকা লেনদেনের খবর নিয়েছিলেন রাব্বানী। টাকার বিষয়ে জানতেই প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলমকে ফোন করেন অন্তর। তাদের ফোনালাপেও টাকা লেনদেনের তথ্য ওঠে আসে। লেনদেনের অডিও ভাইরালের পর জাবি ছাত্রলীগের এই নেতা খোলা চিঠিও দিয়েছেন।

    কথোপকথনের সময় অন্তর দৃঢ়তার সঙ্গে প্রক্টরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পেয়েছে। এটি অস্বীকার করার কিছু নাই স্যার।

    প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলম ও হামজা রহমান অন্তরের কথোপকথন নিচে উল্লেখ করা হলো :

    অন্তর : স্যার, আসসালামু আলাইকুম।
    প্রক্টর : অন্তর, তুমি তোমার ফোন থেকে এমন একটা অডিও বানাইলা কেন?
    অন্তর : স্যার আমি তো কিছু জানি না।
    প্রক্টর : তোমার ফোন থেকেই তো কথা হয়েছে।
    অন্তর : কথা তো হয়েছে দুপক্ষ থেকে স্যার, আমার ফোন থেকে কিছু হয়নি স্যার, এইটা শিউর থাকেন।
    প্রক্টর : তুমিই তো কথা বললা, তোমার ফোন থেকেই তো কথা বলাই দিলা।
    অন্তর : আমার ফোন থেকে কথা হইছে, কিন্তু ওই পাশে তো রাব্বানী ভাই ছিল। এখন রেকর্ডটা কি ওই পাশ থেকে হইছে না কি গোয়েন্দা সংস্থা করছে সেটা তো আমি জানি না।

    প্রক্টর : কবে তোমার সাথে এই কথা হইছে?
    অন্তর : স্যার, পরশু দিন রাতে যখন রাব্বানী ভাইদের কমিটি ভেঙে যাচ্ছিল। তখন আমারে হঠাৎ করে ফোন দিছে রাব্বানী ভাই। তখন আমার সাথেই ছিল। তখন আমি বললাম, ভাই আমিতো বেশি কিছু জানি না, আপনি সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে কথা বলেন। পরে সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে কথা বললো। কথা বলে, আমার ফোন তো লক দেয়া আছে, আমার ফোনে তো কিছু করার সুযোগ নাই। ফোন কাটার সাথে সাথেই ফোনটা আমার হাতেই চলে আসে।

    প্রক্টর : কিন্তু তোমার ফোন থেকেই তো কথোপকথনটা হলো রাব্বানীর সাথে।
    অন্তর : স্যার, আমার ফোন থেকে কথোপকথন কিন্তু ওই পাশে তো রাব্বানী ভাই ছিলেন।

    প্রক্টর : রাব্বানীর যদি এমন রেকর্ড থাকে তাহলে এতদিন করে নাই কেন? এতদিন তোমার সাথে কথা বলে আজকে সেটা প্রকাশ করতেছে কেন? ওই দিন করতো, কালকে করতো। নিজের হাতে ক্ষমতা নাই বলে বিশ্ববিদ্যালয়টাকে নষ্ট করতে চায় কেন?
    অন্তর : স্যার, আমি তো বেশিকিছু বলি নাই, আপনি হয়তো শুনেছেন। আমি ধরাই দিছি ফোনটা।
    প্রক্টর : হ্যাঁ, তুমি ধরাই দিছো ফোনটা। কিন্তু আল্টিমেটলি ফোনটা তো তোমার।
    অন্তর : স্যার, আমার ফোনে ফোন দিতে পারে না স্যার? সে আমার নেতা না?
    প্রক্টর : না, ফোন দিতেই পারে। কিন্তু এই যে গল্পগুলো; এই গল্পগুলো আগে বলেনি কেন? যদি এই গল্পগুলো থাকে?

    অন্তর : স্যার, এই গল্পগুলো তো এখন টক অব দ্য টাউন। এটা তো অস্বীকার করারও কিছু নাই স্যার। জাহাঙ্গীরনগরের এইটা তো একটা চলমান ইস্যু। আমি কি এইটা অস্বীকার করব। রাব্বানী ভাই যখন আমারে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাস করছে আমি কি অস্বীকার করব? সে আমার নেতা না?

    প্রক্টর : তুমি কি অস্বীকার করবা, তোমাকে কি অস্বীকার করতে বলছি? তোমাকে তো আমি কিছু অস্বীকার করতেই বলি নাই। তুমি স্বীকার করবা বা অস্বীকার করবা সেটা তো তোমার ব্যাপার।

    অন্তর : স্যার, আপনি তো ভালো করেই জানেন। আমি হয়তো বাইরে একরকম বলব, কিন্তু আমার ঘরে যখন কেউ জিজ্ঞাস করবে তখন তো আমি আর মিথ্যা বলব না।
    প্রক্টর : আমি তোমাকে তো সত্য-মিথ্যা বলতে বলছি না।
    অন্তর : আমার ফোন থেকে কিছু হয় নাই স্যার, এইটা শিউর থাকেন।
    প্রক্টর : কিন্তু এই যে সাদ্দাম যে কথাগুলো বলছে, এই কথাগুলো কতটুকু সত্য?
    অন্তর : স্যার, সত্য-মিথ্যার বিষয়টা তো জাস্টিফিকেশনের দায়িত্ব আমার না। রাব্বানী ভাই যদি সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে কথা বলতো সেটাও ফাঁস হইতো। কিন্তু আমার ফোন থেকে কথা বলে ফাঁস হয়ে তো এটা কিছু হয়ে আসে না। এই জিনিসটা তো স্যার সবাই জানে, আপনিও জানেন।

    প্রক্টর : না, আমি বলি তোমাকে, ফোনটা যেহেতু তোমার। দায়টা কিন্তু তোমাকেই নিতে হবে।
    অন্তর : স্যার, ফোনালাপ ফাঁস হয় না? নির্বাচনের আগে দেখেন নাই আওয়ামী লীগ নেতাদের…
    প্রক্টর : হ্যাঁ হয়। কিন্তু যেহেতু তোমার ফোনে করছে তুমি কি দায়টা এড়াইতে পারো?
    অন্তর : স্যার, আমার কোনো দায় নাই স্যার, কারণ আমি করি নাই স্যার।
    প্রক্টর : তুমি কর নাই ঠিক আছে, কিন্তু ধর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে এত বড় ষড়যন্ত্র। ওর অস্তিত্বে টান পড়ছে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এরকম করবে সে?
    অন্তর : বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্র, বিষয়টা এরকম না স্যার। ছাত্রলীগ নিয়েও তো ষড়যন্ত্র চলতেছে স্যার, গত চার-পাঁচদিন ধরে।
    প্রক্টর : এইটা তো জাহাঙ্গীরনগরের ইস্যুর সাথে না, তাদের বিরুদ্ধে তো পুরা গ্লোবাল ইস্যু আছে।
    অন্তর : স্যার, আমি জাহাঙ্গীরনগরে না পড়লেও ছাত্রলীগ করতাম। আমার কাছে ছাত্রলীগ আগে।
    প্রক্টর : সেটা তোমাকে আমি বলি নাই। ছাত্রলীগ আগে ভালো কথা। কিন্তু এখন জাহাঙ্গীরনগরে যেহেতু পড় জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগ করো।

    অন্তর : জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগ তো আর জাহাঙ্গীরনগরের সাথে তৈরি হয় নাই। এইটা সেন্ট্রাল ছাত্রলীগের একটা ইউনিট।
    প্রক্টর : তুমি কিন্তু উল্টা দিকে কথা বলতেছো অন্তর।
    অন্তর : না স্যার, আমি যৌক্তিক কথা বলতেছি। আমি আমার বাইরের লোক জিজ্ঞাস করলে আমি একটা কথা বলব। কিন্তু ঘরের লোক জিজ্ঞাস করলে আমি কি উল্টাপাল্টা কথা বলব? আমি কি বলব, ভাই হ্যাঁ এরকম কিছু ঘটে নাই।
    প্রক্টর : আমি তোমারে বলি, তুমি জাহাঙ্গীনগরে যদি না পড়তা, জাহাঙ্গীনগরের ছাত্রলীগ হিসেবে কিন্তু ইস্টাবলিস হতে না। জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগ হিসেবেই তোমার পরিচয়।

    অন্তর : স্যার, ক্যাম্পাসের ৪৪ থেকে ৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে। আমি এটা গোপন রাখার কে স্যার?
    প্রক্টর : আচ্ছা তোমাদের কে টাকা দিলো আর কে টাকা দেয় নাই সেটা দেখার দায়িত্ব কি আমার?
    অন্তর : স্যার আমাকেও তো টাকা সাধছে, আমি তো নেই নাই স্যার।
    প্রক্টর : না তোমাকে কে সাধছে, না সাধছে সেটা তো আমি জানি না। কে দিয়েছে সেটা দেখার দায়িত্ব আমার নাকি?
    অন্তর : স্যার, আপনি যদি চান আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারব। ৪৪ থেকে ৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।
    প্রক্টর : আরে বাবা, এইটা নিয়ে কেন তুমি পড়ে আছো? টাকা কে দিছে, আমি তো সেটা জিজ্ঞাস করছি না।

    এদিকে এই ফোনালাপ ফাঁস করায় প্রক্টর তাকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলম বলেন, অন্তরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। আমি আসলে ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ফোন দিয়েছি। সে অভিযোগ করছে আমি হুমকি দিয়েছি। আসলে এখানে হুমকিস্বরূপ একটা শব্দও নেই। অন্তর আসলে হতাশা থেকে এমন অভিযোগ করেছে।

  • ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা ঈদ সালামি দিয়েছেন ভিসি

    ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা ঈদ সালামি দিয়েছেন ভিসি

    ছাত্রলীগের পদ হারানো সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের ফাঁস হওয়া ফোনালাপে আলোচিত ১ কোটি টাকা শাখা ছাত্রলীগকে ঈদ সালামি হিসেবে দিয়েছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।

    সোমবার বিকেলে টাকা লেনদেন ও ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়ে জানতে চাইলে জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ফাঁস হওয়া ফোনালাপে আলোচিত ১ কোটি টাকা শাখা ছাত্রলীগকে ঈদ সালামি হিসেবে দিয়েছেন ভিসি ফারজানা ইসলাম। এটি অস্বীকার করার কিছুই নেই।

    এর আগে দুপুরে হঠাৎ করে দেড় শতাধিক ছাত্রলীগের কর্মী নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘণ্টাখানেক শোডাউন দেন সাদ্দাম হোসেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আসলে এটা শোডাউন না। সামনে ভর্তি পরীক্ষা, তাই ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করলাম। সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কিনা তা দেখলাম।

    সাদ্দাম হোসেন বলেন, ভিসির বাসায় মিটিংয়ে আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা হয়, আমাদের ঈদ সালামি বাবদ টাকা দেবে বলা হয়। সেখানে আমাদের ১ কোটি টাকা ঈদ সালামি দেয়ার কথা হয়। পরদিন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল ও ছাত্রলীগ সম্পাদক চঞ্চলের কাছে ১ কোটি টাকা পৌঁছে দেয়া হয়।

    তিনি আরও বলেন, আমরা (সাদ্দাম গ্রুপ) চঞ্চলের কাছ থেকে ভাগের টাকা বুঝি নিই। ভিসি কোথায় থেকে এই টাকা আমাদের দিয়েছেন তা আমরা জানি না। ১ কোটি টাকা ঈদ সালামি পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি আমরা।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ‘শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে’ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমন দাবির পর বিষয়টি প্রথমবারের মতো স্বীকার করে নিলেন সাদ্দাম হোসেন।

    উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, যখন শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টেন্ডার শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল তখন আমরা (সাদ্দামের গ্রুপ) মাঠে নেমে সবার টেন্ডার ড্রপ নিশ্চিত করেছি। আমরা কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না। জাবিতে কমিশন কেলেঙ্কারি টাকা-পয়সা বা দুর্নীতির ব্যাপারে যদি বিস্তারিত জানতে চান তবে শিডিউল বিক্রি থেকে শুরু করে ওপেন হওয়া পর্যন্ত ভিসির ছেলে প্রতীক হোসেনের ফোন রেকর্ড দেখেন। যদি প্রতীকের ফোন রেকর্ড বের করতে পারেন তাহলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, বিশেষ করে ৯ আগস্ট আমাদের সঙ্গে মিটিংয়ের আগে-পরে ভিসির ছেলের যেসব কথাবার্তা হয়েছে তা বের করতে পারলে দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না।

    শিডিউল ছিনতাইয়ের যে অভিযোগের কথা বলছেন তার তদন্ত বা বিচার চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, অবশ্যই, অবশ্যই চাই। আমরা যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিপক্ষে। শিডিউল ছিনতাইয়ের যে ঘটনা ঘটেছে তার বিচার চাই আমরা।

    আজকের শোডাউনে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লা, সহসভাপতি নিয়ামুল হোসেন তাজ, সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, মওলানা ভাসানী হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও সালাম-বরকত হলের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীদের দেখা গেছে।

    চারটি হল আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, মওলানা ভাসানী হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও সালাম-বরকত হল ছাড়াও মীর মশাররফ হোসেন হল ও আ ফ ম কামাল উদ্দীন হল আমাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    তিনি বলেন, শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক ক্যাম্পাসে নেই। এখানে সাংগঠনিক নিয়ম মানা হয় না। যেসব প্রেস রিলিজ যাচ্ছে শাখা ছাত্রলীগের নাম করে তা সভাপতি একা দেন। এটা একটা অংশের প্রেস রিলিজ। এটা জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের প্রেস রিলিজ নয়। গ্রুপের সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করি আমরা, আমরা একা নয়।

    এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, তারা ফোনালাপ করছে, ফোনালাপ বানিয়েছে। আমার ছেলে তাদের সঙ্গে কেনো বিষয়ে আলাপ করেনি। এখানে শিক্ষকদের ইন্ধন থাকতে পারে। তবে কারা সেটা আমি বলব না।

    এদিকে, ফাঁসকৃত ফোনালাপ জাবি ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে ভিসিপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ।

    পাশাপাশি ফোনালাপকে ‘মিথ্যাচার’ দাবি করে সবাইকে মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সমর্থন ও অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনংসযোগ অফিস।

    অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দুর্নীতি উন্মোচন ও এর বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

  • নিজেদের কে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৪০ দিনের চিল্লায় তাবলীগে যাচ্ছেন শোভন-রাব্বানী!

    নিজেদের কে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৪০ দিনের চিল্লায় তাবলীগে যাচ্ছেন শোভন-রাব্বানী!

    বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

    আজ শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

    গণভবন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ইতিমধ্যেই ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

    জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সভায় দুটি প্রধান সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি সিদ্ধান্ত ছাত্রলীগের বিষয়ে। ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে সংগঠনের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি হয়েছে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের বিষয়ে। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।-প্রথম আলো

    এদিকে দল থেকে অপসারিত হবার চিল্লায় চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দুই নেতা। নিজেদের বিশুদ্ধ করতেই তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান। শুদ্ধি পরীক্ষা করতেই তাদের এই পদক্ষেপ।

  • সিনেট থেকে পদত্যাগ চেয়ে শোভনের আবেদন

    সিনেট থেকে পদত্যাগ চেয়ে শোভনের আবেদন

    অনলাইন ডেস্ক ::

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য থেকে পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট সভাপতি বরাবর আবেদন করেছেন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

    সোমবার বিকেল ৪টায় শোভনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক আহসান হাবিব ও ডাকসু সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ।

    আবেদনপত্রে শোভন উল্লেখ করেন, যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক উপর্যুক্ত বিষয়ের বরাতে আপনাকে জানাচ্ছি যে, আমি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় আমি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করতে আগ্রহী।

    অতএব, বিনীত নিবেদন, আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমার ওপর আপনার অর্পিত সিনেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দানে বাধিত করবেন।

    southeast

    আবেদনপত্রে শোভন নিজে স্বাক্ষর করেছেন।

    প্রসঙ্গত চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে। সিনিয়র সহসভাপতি আল নাহিয়ান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

  • কোটি টাকার ‌‘চাঁদাবাজি’, রাব্বানীর ফোনালাপ ফাঁস

    কোটি টাকার ‌‘চাঁদাবাজি’, রাব্বানীর ফোনালাপ ফাঁস

    অনলাইন ডেস্ক :::

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির টাকা নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ফোনালাপে সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের মোবাইল কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। এই ফোনালাপে ছাত্রলীগের আরেক নেতা হামজা রহমান অন্তরকেও কথা বলতে শোনা গেছে। ফাঁস হওয়া কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।

    পাঠকদের জন্য ফোনালাপটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    গোলাম রাব্বানী : হ্যাঁ, অন্তর, কোথায় আছো, টাকা নেয়ার সময় ছিল কে কে?
    হামজা রহমান অন্তর : জুয়েল ভাই, চঞ্চল ভাই ও সাদ্দাম ভাই ছিল আরকি।
    গোলাম রাব্বানী : টাকাটা দিছে কোথায়?
    অন্তর : ভাই, ম্যামের বাসায়। সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে একটু কথা বলেন। আমার পাশেই আছে।
    গোলাম রাব্বানী : আচ্ছা দাও দাও!
    সাদ্দাম হোসাইন : ভাই আসসালামু আলাইকুম।
    গোলাম রাব্বানী : ওয়ালাইকুম সালাম, সাদ্দাম কি খবর ভাই।

    সাদ্দাম হোসাইন : ভাই খবর তো আপনাকে জানাইছি ভাই। খবর তো ভালো না বেশি একটা। আমি আপনাকে বলছিলাম না ভাই, আমি তাজ, জুয়েল চঞ্চল আমরা চারজন ছিলাম ওই মিটিংয়ের সময়। আজকে কিছুক্ষণ আগে জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রেস রিলিজ দিছে আপনাদের বিপক্ষে।

    গোলাম রাব্বানী : সেটা তো দেখলাম।
    সাদ্দাম হোসাইন : বিষয়টা হচ্ছে ভাই, বামের সাথে সেটিংয়ে গেছে। বৈঠক হইছে বামের সাথে। তারপর বৈঠকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত বাদে বাকিগুলা বামের সাথে মেনে নিছে। আর বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে মানবে কিনা আগামী বুধবার পর্যন্ত ভাই তিনদিন সময় দিছে।
    গোলাম রাব্বানী : আন্দোলন নিয়া?
    সাদ্দাম হোসাইন : হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ।

    গোলাম রব্বানী: ম্যাম তো বলছে যে আন্দোলনও নাকি আমরা করাচ্ছি। সামথিং লাইক ওরকম কিছু। আন্দোলন কারা করতেছে ওটাও তো আমরা জানি না। এটা তো আমরা জানি না।

    সাদ্দাম হোসাইন : ভাই বিষয়টা হচ্ছে উনি ছাত্রলীগের ওপর দিয়ে সবকিছু করে নিজের ফ্যামিলিকে সেফ করতে চাচ্ছে আরকি। উনি বাঁচতে চাচ্ছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর রেফারেন্স দিয়ে অনেকগুলা কথা বলছে আপনার বিপক্ষে, মানে সেন্ট্রাল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এবং যুগান্তরে ভাই, নিউজটা কি দেখছেন…
    গোলাম রাব্বানী : ওটা দেখছি, আচ্ছা টাকা যখন দিছিলো তখন তুই ছিলি না!

    সাদ্দাম হোসাইন : ছিলাম ভাই আমি আর তাজ ছিলাম। এখন আপনি ভাই বলেন কি করতে হবে, আমরা করতেছি। সমস্যা নাই।

    গোলাম রব্বানী : তুই আর কে?
    সাদ্দাম হোসাইন : আমি আর তাজ, আমার বন্ধু ভাই।
    গোলাম রাব্বানী : অহ তাজ তাজ, সহ-সভাপতি! তুই হলি জয়েন্ট সেক্রেটারি। টাকাটা কীভাবে! ম্যাডাম দিছিলো নাকি অন্য কেউ ছিল?
    সাদ্দাম হোসাইন : ওইখানে আর কেউ ছিল না। ব্যাপারটা হচ্ছে ম্যাডাম আমাদের সাথে ডিলিংটা করছে। টাকাটা আমাদের হলে পৌঁছায় দিছে।
    গোলাম রাব্বানী : ওহ হলে পৌঁছায় দিছে টাকা!
    সাদ্দাম হোসাইন : হ্যাঁ হ্যাঁ। কথা তো হইছেই। আমি আর জুয়েলসহ তিনজনের সাথেই কথা হইছে।

    গোলাম রাব্বানী : কয় টাকা দিছে?
    সাদ্দাম হোসাইন : আমাদেরকে বলছে এক কোটি। আমরা বাকিটা জানি না। জুয়েল-চঞ্চলের সাথে আলাদা ডিল হইতে পারে। বাট আমাদের সাথে বসে মীমাংসা…
    গোলাম রাব্বানী : আমি শুনলাম যে ১ কোটি ৬০ লাখ…
    সাদ্দাম হোসাইন : ব্যাপারটা হচ্ছে ভাই ৬০ এর টা আমরা জানি না। ওখানে বসে ভাগ করে দিছে ৫০ হচ্ছে জুয়েলের, ২৫ আমাদের আর ২৫ চঞ্চলের।

    গোলাম রাব্বানী : ওহ ম্যাডাম ওভাবে ভাগ করে দিছে! জুয়েল ভালো ছেলে ওই জন্য ৫০ আর চঞ্চল ক্যাম্পাসের বাইরে থাকে এজন্য ২৫…
    সাদ্দাম হোসাইন : চঞ্চল তো ভাই ওই ঝামেলায় আমাদের বাদ দিতে পারে নাই।
    গোলাম রাব্বানী : ও সেক্রেটারির টাকাই তোদেরকে দিছে।
    সাদ্দাম হোসাইন : আমরা বলছি আমাদের ২৫% দিতে হবে। চঞ্চলকে ২৫% দিতে হবে। আমাদেরকে না জানাইয়া ওদের আলাদা ৬০ লাখ টাকা দিছে। এটা হতে পারে। আমরা ওটা জানি না। আমরা ১ কোটির হিসাব জানি।

    গোলাম রাব্বানী : কিন্তু তোমার ম্যাডাম যে এখানে আমাদের নাম জড়াইলো, আমার তো কোনো আইডিয়াই নাই।
    সাদ্দাম হোসাইন : ভাই উনি খুব নোংরামী করতেছে ভাই। আপনারা ভাই সিদ্ধান্ত নেন। আমাদের কি করা লাগবে আমরা করতেছি।
    গোলাম রাব্বানী : তোমাদের কিছু করা লাগবে না। তোমরা সাইলেন্ট থাকো। যেহেতু আপার কানে দিয়েছে, আমিও বুঝতেছি সে নিজে সেফ হওয়ার জন্য নিজের ফ্যামিলিকে সেফ করার জন্য। আরেকটি জিনিস, এই ৬টা কাজ ডিল করছে কে বেসিক্যালি?
    সাদ্দাম হোসাইন : তার ছেলে, মূলত হচ্ছে তার ছেলে, তার পিএস সানোয়ার ভাই আর হচ্ছে পিডি, আর হচ্ছে তার হাজবেন্ড। এই হচ্ছে চারজন।
    গোলাম রাব্বানী : স্বামী, ছেলে, পিএস সানোয়ার ও পিডি নাসির? আগে থেকে ৬টা কোম্পানি রেডি করে রাখছে না!
    সাদ্দাম হোসাইন : শুরু থেকেই তারা সবকিছু করছে ভাই। টেকনিক্যাল কমিটিতে ওরা ছিল।

    গোলাম রাব্বানী : টেকনিক্যাল কমিটিতে ওরা ছিল? না না ওরা তো থাকতে পারে না। এটার নিয়ম নেই।
    সাদ্দাম হোসাইন : কথা হলো উনিতো সবাইকে ফেরত টেরত পাঠালো না! ছিনাই নিচ্ছিলো। তখন আমরা বললাম সবাইকে ড্রপ করাতে দিতে হবে। তখন সবাইকে ড্রপ করাতে দিলো। কিন্তু কাজ হচ্ছে…. হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ওটা নাটক ছিল। শিডিউল বিক্রির টাইমে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ইচ্ছে করে। যেন কেউ যোগাযোগ করতে না পারে।
    গোলাম রাব্বানী : ওহ আচ্ছা আচ্ছা। শিডিউল বিক্রির টাইমে সে হাসপাতালে ভর্তি হইছে ইচ্ছা করে?
    সাদ্দাম হোসাইন : হ্যাঁ ভাই।

    গোলাম রাব্বানী : তুই জানলি কেমনে এইটা?
    সাদ্দাম হোসাইন : শিডিউল বিক্রির সময় উনি হাসপাতালে ছিলেন। শিডিউল বিক্রি শেষ উনি….
    গোলাম রাব্বানী : আমি তোর সাথে কথা বলবোনি প্রয়োজন হলে। ম্যাম আমাদের সম্পর্কে যা মিথ্যাচার করলো!
    সাদ্দাম হোসাইন : আমি ফোন দিলে ভাই…..
    গোলাম রাব্বানী : আচ্ছা। থ্যাংকিউ থ্যাংকিউ

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাবি ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসাইন বলেন, সেন্ট্রাল ছাত্রলীগের সেক্রেটারিকে নেত্রী বানাইছেন। তার কথা শোনা আমাদের দায়িত্ব ছিল। অনেক কথাই তার সঙ্গে হয়েছে। আগে পরে অনেক কথাই হয়েছে। আগে পরের কথাও তো জড়িত। সে সেন্ট্রাল সেক্রেটারি সে যা বলতে বলছে তাই বলছি, যা করতে বলছে তাই করছি। এ ফোন কলের আগে পরেও ফোন কল ছিল। সে তো এখন এক্স। আমি আসলে কোনো কথার প্রেক্ষিতে এসব বলছি মনে নেই। মনে করে জানাবো।

    এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‌অডিওতে আমি টাকা দিয়েছি এমন গল্প ফাঁদছে। আমার সঙ্গে টাকার কোনো দেখা হইনি। এই মিথ্যাটা সত্য করার দায়িত্ব আমার না। ওরা করুক। আর ওরা তো বলতেই পারে। সাদ্দাম বলতে পারে রাব্বানীকে যে উপাচার্য আমাদের টাকা দিলেন বলে আমরা টাকা পেলাম। রাব্বানীর যেহেতু পদ নেই এটা সে ষড়যন্ত্র থেকে এসব বলাতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত থাকেন আমার বাসায় টাকা পয়সার কোনো কথায় বলিনি, আনিওনি।

  • বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগে আলোচনার শীর্ষে ৩ নেতা

    বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগে আলোচনার শীর্ষে ৩ নেতা

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে আরও ৫ বছর আগে। এরপরও কমিটি গঠনের নাম গন্ধ নেই এই দুই ইউনিটে। যে কারণে অনেকটা স্থবির ছাত্রলীগের কার্যক্রম। পাশাপাশি মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা নেতারা এখন সক্রিয় না থাকায় কলেজগুলোতেও ভাটা পড়েছে ছাত্রলীগের কার্যক্রমে। ২০১১ সালে গঠিত বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদক কেউই এখন বরিশালের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এদের মধ্যে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবার বহিষ্কৃত হয়েছেন। এমন অবস্থায় তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি নতুন কমিটি গঠনের। তা না হলে বরিশালে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টিতে সমস্যা হবে বলে দাবি তাদের। জানা গেছে, ২০১১ সালের জুলাই মাসে জসীম উদ্দিনকে সভাপতি এবং অসীম দেওয়ানকে সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমনকে সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ২০১৫ সালের পর থেকে মহানগর ছাত্রলীগের পদধারী এই নেতারা বরিশালের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ানকে নারায়গঞ্জের রূপগঞ্জ থানা পুলিশ অস্ত্রসহ আটকের পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু জসীম উদ্দিন রাজনীতি বাদ দিয়ে এখন নেমেছেন ক্যাবল ব্যবসায়। তবে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত ও সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বরিশালে সক্রিয় রয়েছেন রাজনীতির মাঠে। এই দুই ইউনিটের কমিটিসহ বরিশালে ছাত্ররাজনীতির ফ্যাক্ট খ্যাত সরকারি বিএম কলেজের কমিটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন ৬ জন ছাত্রনেতা। তাছাড়া এদের নিয়েই আলোচনা রয়েছে সর্বমহলে। কেননা বরিশাল ছাত্রলীগ যতটুকু জীবিত রয়েছে, তা তাদের জন্যই রয়েছে। পাশাপাশি কিছু বিতর্কও রয়েছে এর মধ্যে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।

    বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে,বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের মাইনুল ইসলাম, নূর আল আহাদ সাঈদী, রইজ আহম্মেদ মান্না ও বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ মুনিম, এবং জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব হোসেন খান বরিশাল ছাত্রলীগের কমিটির জন্য আলোচনায় রয়েছেন। এদের মধ্যে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে মাইনুল ইসলাম, নূর আল আহাদ সাঈদী ও রইজ আহম্মেদ মান্নাকে নিয়ে ও জেলা ছাত্রলীগের কমিটির জন্য আলোচনা চলছে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত ও রাজীব হোসেন খানকে নিয়ে। তবে আতিকুল্লাহ মুনিম বিএম কলেজ ও মহানগর ছাত্রলীগের অর্থাৎ এই উভয় ইউনিটের জন্যই আলোচনায় রয়েছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী আতিকুল্লাহ মুনিমকে অনেকে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ বাকসু’র অঘোষিত ভিপিও আখ্যা দিয়েছেন।এছাড়াও বর্তমানে বেশী আলোচনায় বা ফোকাস পয়েন্টে রয়েছে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম। তবে জানা গেছে রইজ আহম্মেদ মান্না মহানগর যুবলীগের গুরুত্বপূর্ন পদের দাবীদার হতে পারেন ভবিষ্যতে। আরও সক্রিয় রয়েছে আরিফুর রহমান শাকিল ও ইমরান মোল্লা।

    আলোচনায় থাকা এই ছাত্রনেতারা বলছেন, তারা দলের জন্য কাজ করছেন, দল যদি তাদের ভালো কোনো স্থানে রাখে তাতে দলেরই লাভ হবে। কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, কমিটি গঠন নিয়ে আমরা আন্তরিক। আলোচনা করে শীঘ্রই এই কমিটিগুলো গঠন করার উদ্যেগ নেয়া হবে।

  • জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়ায় তার জেলা বরিশাল ছাত্রলীগে আনন্দের বন্যা

    জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়ায় তার জেলা বরিশাল ছাত্রলীগে আনন্দের বন্যা

    আল নাহিয়ান খান জয়কে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়ায় নিজ জেলা বরিশালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

    আল নাহিয়ান খান জয়ের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়। রোববার বেলা ১১টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

    এর আগে শনিবার রাতে জয়কে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার খবরে বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশালের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে পোস্ট ও স্ট্যাটাস দিয়ে জয়কে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কেউ কেউ জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। সেই সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে সুন্দর বিশ্লেষণ।

    barisal

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী খানের ছেলে আল নাহিয়ান খান জয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বরিশাল জিলা স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় জয়ের। এসএসসি পাস করে ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান অধিকার করে আইন বিভাগে ভর্তি হন জয়।

    পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে একই হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। এরপরই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক হন জয়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগে স্নাতকোত্তর বিভাগে অধ্যয়ন করছেন তিনি।

    barisal

    মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান জয়ের পূর্বসূরিরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তার বাবা আব্দুল আলীম খানের হাতে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের পথচলা। বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন জয়ের বাবা। ইতোপূর্বে জয়ের ফুফু ছিলেন উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের নেতৃত্বে। তার পরিবার উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের পরিবারের একাধিক সদস্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত বলে জয়ের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরের অনেক কার্যক্রম জয়ের বাড়িতে পরিচালিত হতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    ছাত্রলীগের স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন জয়। জয়ের নাম সভাপতি পদে উঠে আসবে, এমন স্বপ্ন দেখেছিলেন বরিশালবাসী। তবে সম্মেলন শেষে ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি মনোনীত করা হয়। আশাভঙ্গ হয় বরিশালবাসীর। অবশেষে জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়ায় বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হলো।

    barisal

    বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নেতৃত্বের কারণে সংগঠনের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলার আভাস পেয়েছিলাম। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। জয় ভালো মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তিনি ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ। ছাত্রলীগে তার অনেক ত্যাগ আছে। তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ আরও সুসংগঠিত হবে।

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, জয়কে নিয়ে বরিশালবাসী গর্বিত। জয় আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় মাঠের সৈনিক জয়। তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

  • যশোর-খুলনা ও বেনাপোল মহাসড়ক ডাবল লেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

    যশোর-খুলনা ও বেনাপোল মহাসড়ক ডাবল লেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

    খুলনা প্রতিনিধি/ জান্নাতুল ফেরদৌস:

    যশোর-বেনাপোল ও খুলনা মহাসড়ক উন্নয়নের সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার কাজ গোজামিল দিয়ে চলছে। উন্নয়নের চরম দুর্ভোগ যশোরবাসী পোহালেও কাক্সিক্ষত মানে কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়ক দু’টির ৭৬ কিলোমিটার নতুন করে ভিত তৈরির কাজে পুরাতন ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। আর নতুন বালির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন রাস্তা খুঁড়ে উঠনো মাটি মিশ্রিত বালু ও স্থানীয় ভিত বালি। গত এক বছর যাবৎ এ অনিয়ম চললেও কর্তৃপক্ষের তেমন কোন পদক্ষেপ কারো চোখে পড়েনি। সূত্র জানায়, যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার উন্নয়নে ৩২১ কোটি টাকা ও যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ৩৮ কিলেমিটার উন্নয়নে ৩২৮ কোটি টাকা প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ করা হয়। দু’টি সড়কই নতুন করে ডাবল লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। খুলনা মহাসড়কটি শহরতলীর পালবাড়ি মোড় থেকে শুরু হয়ে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার রাজঘাট পর্যন্ত নতুন করে নির্মিত হচ্ছে। আর বেনাপোল মহাসড়কটি শহরের দড়াটানা মোড়ের মুজিব সড়ক থেকে শুরু হয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যন্স ল্যান্ড পর্যন্ত যাবে। দু’টি সড়কই দু’পাশে ৫ ফুট করে বাড়ানো হচ্ছে। যশোরবাসীর অভিযোগ, এ অঞ্চলে সড়ক পথে চলাচলে এক সময়কার যন্ত্রণার নাম ছিল যশোর-খুলনা ও বেনাপোল মহাসড়ক। এ দু’টি সড়কে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে বছরের পর বছর যন্ত্রণার আগুনে পুড়তে হয়েছে। সে যন্ত্রণার কোন ভাষা ছিল না। বড় বড় গর্ত ও খানা খন্দে ভরা ছিল সড়ক দু’টি। যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। টায়ার ফেটে, এক্সেল ও স্প্রিংপাতি ভেঙে রাস্তার পাশে উল্টে পড়েছে। হরহামেশা দুর্ঘটনায় বাস যাত্রীরা আহত হয়েছেন ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যশোর সড়ক বিভাগ নতুন ফর্মূলা আবিস্কার করে। তারা সড়কের বড় বড় গর্তে আদলা ইট ফেলে ও পিস উঠে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইটের সোলিং করে খানিকটা চলাচল উপযোগী করে। বর্তমানে যশোরবাসী সে যন্ত্রণা থেকে খানিকটা মুক্তি পেয়েছে। চলছে যশোরের আলোচিত মহাসড়ক দু’টির উন্নয়ন কাজ। বর্তমানে এ কাজের এক-তৃতীয়াংশ শেষ হয়েছে বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দাবি করেছেন। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, যশোর-খুলনা ও যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার করে মোট ৭৬ কিলোমিটার ডাবল লেনের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে ৬৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেনাপোল সড়কে ব্যয় ৩২৮ কোটি টাকা ও খুলনা সড়কে ব্যয় ৩২১ কোটি টাকা। খুলনা সড়কটি শহরতলীর পালবাড়ি মোড় থেকে চাঁচড়ামোড় হয়ে নওয়াপাড়ার রাজঘাট পর্যন্ত যশোর অংশের ৩৮ কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ গত জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে। সড়কটি দু’টি প্যাকেজে কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ও খুলনার তাহের এন্ড ব্রাদার্স, মাহবুব এন্ড ব্রাদার্স, তমা কনস্ট্রাশন এন্ড কোং। তিনি বলেন, সড়কটি বর্তমানে ২৪ ফুট চওড়া রয়েছে। এটি আরো ১০ ফুট উন্নিত করে ৩৪ ফুট চওড়া ও দুই লেন করা হবে। এক্ষেত্রে সড়কের নতুন করে ভিত তৈরি করা হচ্ছে। সড়কটি সাড়ে ৪ ফুট থেকে ৫ ফুট গর্ত করে প্রথমে বালু ফিলিং, পরে বালি ও খোয়া এবং শেষে বালি ও পাথর মিশিয়ে ভরাট করা হবে। এরপর বিটুমিন সারফেজ ৫ ইঞ্চি দিয়ে কাজ শেষ করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার নিদের্শনা রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, যশোর-বেনাপোল সড়কটিও ডাবল লেনে উন্নীত হচ্ছে। অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এর কাজ শুরু হয়েছে। ডাবল লেনের অর্থ চার লেন নয়। সড়কটি সর্বসাকুল্যে ১০ ফুট চওড়া হচ্ছে। মাঝখানে কোন ডিভাইডার থাকছে না। দু’টি প্যাকেজে সড়কটির ৩৮ কিলোমিটার জুড়ে এ উন্নয়ন কাজ করা হবে। মোট ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি ২৪ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। সড়কের দু’পাশেই ৫ ফুট করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আর সড়কটি খুঁড়ে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ফুট গর্ত করে ভিত তৈরি করা হচ্ছে। এ গর্তে প্রথমে বালি ফিলিং ও পরে খোয়া ও পাথর মিশ্রিত বালু ফিলিং এবং পরে ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি বিটুমিন সারফেজ (পিচ ও পাথরের আস্তরণ) দেয়া হচ্ছে। এ কাজও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবার নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বেনাপোল সড়কের পুরনো ঐতিহ্যবাহী গাছগুলো রেখেই ডাবল লেন করা হচ্ছে। তবে গাছ থাকার কারণে সড়কটির কোন কোন অংশে চওড়া কম-বেশী হচ্ছে। যেখানে গাছ নেই, সেখানে সর্বোচ্চ ৩৪ ফুট চওড়া হবে ও যেখানে গাছ রয়েছে সেখানে সাধ্য অনুযায়ী চওড়া করা হবে। এ কারণে সড়কটি সমান্তরাল চওড়া হচ্ছে না। এদিকে, সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক দু’টির কাজের শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘাপলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ সড়ক উন্নয়নের এ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের কোন নিয়মনীতি মানছেন না। তারা গোজামিল দিয়ে ইচ্ছামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঠিকাদাররা সড়কের পুরনো বৃটিশ আমলের লোনা ধরা ইট ও খোয়া তুলে সেটাই আবার ভেঙে গর্তে ব্যবহার করছেন। যা তারা কোনভাবেই ব্যবহার করতে পারেন না বা দরপত্রে বলাও হয়নি। এছাড়া, সড়কটি ৫ ফুট গর্ত করে ভিত তৈরির নির্দেশনা থাকলেও সেটা করা হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তিন থেকে ৪ ফুটের গর্ত তৈরি করে তা সড়ক খুঁড়ে উঠনো ইট খোয়া মাটি মিশ্রিত বালু দিয়েই ভর্তি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়ক দু’টির গোটা ৭৬ কিলোমিটারেই নতুন ইট বালি, খোয়া ব্যবহার না করে খুঁড়ে উঠানো মালামালই ফের ভরাট করা হয়েছে। এ অঞ্চলের জনগনের বহু কাক্সিক্ষত এ দু’টি সড়কের নির্মাণ কাজে এ জাতীয় ঘাপলা হওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। গত এক বছর যাবৎ সড়ক নির্মাণ কাজের কারণে পার্শ্ববর্তী দোকানী, ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তারা খুঁড়ে রাখো সড়কে যাতায়াতের কষ্ট ও ধুলো ময়লার যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। বিনিময়ে তারা একটি মানসম্মত সড়ক তৈরির আশা করেছিলেন। কিন্তু সেটাও তারা পাচ্ছেন না। পরিবর্তে অনিয়মে চলা দু’টি সড়ক উপহার পেতে যাচ্ছেন। যার স্থায়ীত্ব নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। নিয়ম মেনে সড়ক নির্মাণ করা না হলে সেটা বেশিদিন স্থায়ী হতে পারে না বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সড়ক উন্নয়নের এ কাজ দু’টি যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানই করুক না কেন, কোনভাবেই তাদেরকে ছাড় দেয়

     

  • শোভন-রাব্বানীতেই শেষ হোক ছাত্রলীগের অশোভন কাজ

    শোভন-রাব্বানীতেই শেষ হোক ছাত্রলীগের অশোভন কাজ

    একেই হয়তো প্রকৃতির প্রতিশোধ বলে। গত ১২ বছরে ছাত্রলীগের পাপের পেয়ালা পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। সবসময়ই বলা হয়, সীমা লঙ্ঘন না করতে। সীমা লঙ্ঘনকারীকে নাকি আল্লাহও পছন্দ করেন না। ছাত্রলীগের নেতারা সত্যিই সীমা লঙ্ঘন করেছেন।

    একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে মোটা অংকের চাঁদা চেয়েছেন এবং তার সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। এটি নিছক অভিযোগ নয়। ছাত্রলীগের পদচ্যুত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ‘ন্যায্য পাওনা’ চাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে গোলাম রাব্বানী জাবি উপাচার্যের সাথে অসমীচীন আচরণের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু কখনো কখনো কিছু কিছু অপরাধ ক্ষমার ঊর্ধ্বে উঠে যায়। তাই ক্ষমা পাননি শোভন-রাব্বানী।

     সংগঠন বাঁচাতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। শোভন-রাব্বানীকে অপসারণ করে শেখ হাসিনা সেই কঠিন বার্তাটাই দিলেন সবাইকে। বুঝিয়ে দিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সত্যি সত্যি ‘জিরো টলারেন্স’দেখান। শোভন-রাব্বানীর ঘটনায় যদি বাকি সবাই শিক্ষা নিয়ে নেন, তাহলে তো ভালোই। নইলে হয়তো ভবিষ্যতে আরো বড় কোনো অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে 

    অনেকদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট ছাত্রলীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতো। গত সম্মেলনে সেই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন শেখ হাসিনা। তাই এই কমিটির কাছে তার প্রত্যাশা ছিল বেশি, তাই ক্ষোভটাও হয়েছে বেশি। অবশ্য সম্মেলনের এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কে জড়ায় ছাত্রলীগের পদচ্যুত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

    পদবঞ্চিত নেতারা আন্দোলন, বিক্ষোভ, অনশন করে। তাদের অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে অছাত্র, বিবাহিত, অনুপ্রবেশকারী, মাদকাসক্তদের কমিটিতে ঠাঁই দেয়া হয়েছে। তারা এ ধরনের নেতাদের তালিকাও দেন। আওয়ামী লীগ নেতারাও বিক্ষুব্ধদের সাথে কথা বলেন। আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করা হলেও তা আর পূরণ করা হয়নি। এখনও ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের হাহাকার ভেসে বেড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। তাই তো শোভন-রাব্বানীর পদচ্যুতির খবরে ক্যাম্পাসে উল্লাস করে বঞ্চিতরা। তবে যত দিন যাচ্ছিল, ততই বেপরোয়া হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ, শেখ হাসিনা যাদেরকে অভিহিত করেছেন ‘মনস্টার’ হিসেবে।

    অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেয়া, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মাদক পাওয়া, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো এসব অভিযোগও যায় শেখ হাসিনার কানে। সিনিয়র নেতাদের দাওয়াত দিয়ে অনুষ্ঠানে দেরি করে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগই শেখ হাসিনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

    গত ৭ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে শেখ হাসিনা প্রথম ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভের কথা বলেন। সে বৈঠকে আরো অনেক নেতা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তখন থেকেই আসলে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের পতনের ক্ষণগণনা শুরু হয়। দুদিন চেষ্টা করেও শেখ হাসিনার দেখা পাননি শোভন-রাব্বানী। এরপর তাদের গণভবনের পাস বাতিল করা হয়। আর তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় শনিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায়।

    প্রথমে কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পরে সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। চাঁদাবাজির অভিযোগে শীর্ষ দুই নেতার অপসারণের ঘটনা ছাত্রলীগের ইতিহাসে এই প্রথম। ছাত্রলীগের জন্ম আওয়ামী লীগের আগে। আর দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ আর বাংলাদেশের সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ। কিন্তু গত এক যুগে মূল দল ক্ষমতায় থাকায় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নানা অপকর্মে বারবার দল এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।

    যে অভিযোগে শোভন-রাব্বানীকে বহিষ্কার করা হয়েছে; ছাত্রলীগের জন্য তা নতুন নয়। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হত্যা, ধর্ষণ, দখল- হেন কোনো অপরাধ নেই; যা ছাত্রলীগ করেনি। গত অনেকদিন ধরেই ছাত্রলীগ নেতাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ছাত্রলীগের আগের কমিটির সভাপতি হেলিকপ্টারে করে এক জেলার সম্মেলনে গিয়েছিলেন। আগের কমিটির নেতাদের ব্যয় ও বিলাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ছাত্রলীগের নেতারাই। এমনিতে সংগঠন চালানো এবং নিজেদের ব্যয়ের জন্য সংগঠন থেকেই তাদের টাকা দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও তারা জড়িয়ে পড়ে নানান অপকর্মে।

    বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগের জবাবে ছাত্রলীগের নেতারা দাবি করেন, দলের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশেই বাধ্য হয়ে তাদের নানান অপকর্মে জড়াতে হয়। নেতাদের লাঠিয়াল হতে গিয়ে ছাত্রলীগকে অনেক বদনাম নিতে হয়। তবে শুধু ছাত্রলীগ নয়; আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নানাভাবে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়েছে।

    শনিবারের সভায় শেখ হাসিনা যুবলীগের চাঁদাবাজির বিপক্ষেও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে আর্থিক লেনদেনের কথাও সবাই জানেন। মনোনয়ন পেতে ছোট নেতাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন বড় নেতারা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা পর্যায়ের কমিটি করতেও আর্থিক লেনদেন হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উপ-কমিটির সদস্য হতেও নাকি টাকা লাগে। শেখ হাসিনাও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের সবাইকে কেনা যায়, আমাকে ছাড়া।

    আসলে গত এক যুগে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের চরম নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। সংগঠন বাঁচাতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। শোভন-রাব্বানীকে অপসারণ করে শেখ হাসিনা সেই কঠিন বার্তাটাই দিলেন সবাইকে। বুঝিয়ে দিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সত্যি সত্যি ‘জিরো টলারেন্স’দেখান। শোভন-রাব্বানীর ঘটনায় যদি বাকি সবাই শিক্ষা নিয়ে নেন, তাহলে তো ভালোই। নইলে হয়তো ভবিষ্যতে আরো বড় কোনো অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন। আশা করি শোভন-রাব্বানীর এই ঘটনাতেই আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সকল অশোভন কাজের সমাপ্তি ঘটবে। তাহলে দেশ ও জাতির সবার জন্যই মঙ্গল।

  • পবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

    পবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

    পবিপ্রবি প্রতিনিধি //মোঃইমরান হোসেনঃ
    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে পটুয়াখালীর বাবুগঞ্জের সন্তান আল নাহিয়ান খান জয়কে মনোনীত করায় আনন্দ মিছিল করেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ছাত্রলীগ। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় এ আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
    বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হলের মূল ভবন হাপসী থেকে এ মিছিলের সূচনা হয় এবং বঙ্গবন্ধু চত্বরে কেক কাটার মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন- সোয়েব শুভ, মাইদুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ সজীব, ফেরদৌস পিয়াল, স্বপন কুমার আবির, আফনান ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ, ইভান আহমেদসহ ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
    প্রসঙ্গত, আল নাহিয়ান খান জয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ১ নম্বর সহসভাপতি ছিলেন। নানা অভিযোগের মুখে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আল-নাহিয়ান খান জয় নির্বাচিত হওয়ার খবরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান ও বাবুগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেন ছাত্রলীগ কর্মী ও নেতারা।