Category: রাজণীতি

  • শোভন-রাব্বানীর পদ হারানো যেভাবে দেখছে বিএনপি

    শোভন-রাব্বানীর পদ হারানো যেভাবে দেখছে বিএনপি

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়ায় প্রমাণ হয় তারা দুর্নীতি করেছে। এটাই প্রমাণ করেছে দেশে কী হারে দুর্নীতি চলছে, চাঁদাবাজি ….। এটাতে শুধু একটা প্রকাশ পেয়েছে যে, এটাতে একটি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি জড়িত, তাদের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এরকম সারাদেশে অনেক চলছে।

    তিনি বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে দুর্নীতি কোন পর্যায়ে চলে গেছে। এটা (বহিষ্কার) হচ্ছে স্বীকৃতি, রিকগনেশন। এটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে, তারা দুর্নীতি করছে।’

    আজ (রোববার) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    এই বহিষ্কারকে আপনি কিভাবে দেখছেন প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, এটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে, তাদের দল দুর্নীতি করছে এবং সবাই মিলে দুর্নীতি করছে। এটা তো রিকগনেশন অব করাপশন।

    ছাত্র দলের কাউন্সিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইন দিয়ে তো রাজনীতি হয় না। আমি সেদিনও বলেছি, যে এভাবে রাজনীতিকে আদালত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা…এখানেই আমাদের আপত্তি। এটা নজিরবিহীন ঘটনা যে, একটা রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে আদালত এবং সেটা সরকারের উদ্যোগে, তারাই করাচ্ছে।”

    তিনি বলেন, এটাতে প্রমাণিত হয় যে, এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, বিরোধী দলে বিশ্বাস করে না। এটাই বাস্তবতা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেন, দেশে দুই আইন চলছে। সরকারি দল হলে একরকমের আইন আবার বিরোধী দল হলে আরেক ধরনের আইন। যেমন- আমরা পরিষ্কার দেখেছি যে, ১/১১ তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ২১টি মামলা ছিল, একটি মামলাও এখন নাই। কোনোটা বাতিল, কোনোটা চার্জশিট থেকে বাতিল ইত্যাদি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ট্রায়ালও ফেস করতে হয় না।

    তিনি বলেন, একই ধরনের মামলায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত ছিল, তারা কিন্তু এখনও বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। আজকে আমাদের নেত্রীকে বিচার করে বানোয়াট মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। তাকে জামিনও দেয়া হচ্ছে না। বিএনপি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, একটি নিম্ন আদালত রায় দিচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ হস্তক্ষেপ করতে পারছে। এটার সম্বন্ধে বিচারটা কে করবে? যেহেতু সরকার পুরো বিচার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে, সরকার যেভাবে চাচ্ছে সেভাবে হচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • জয়-লেখক আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন সোমবার

    জয়-লেখক আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন সোমবার

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন।

    রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে (টিএসসি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা জানান।

    নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান জয় বলেন, ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আমরা সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করব। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করব।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এখন এক ব্যানারের নিচে থাকবে। সব ইউনিটকে এক ব্যানারের নিচে নিয়ে আসার কাজ করব।

    এ সময় তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘শোভন-রাব্বানীকে আইনের আওতায়ও আনতে হবে’

    ‘শোভন-রাব্বানীকে আইনের আওতায়ও আনতে হবে’

    সদ্য সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, ‘শুধুমাত্র পদচ্যুত করলেই হবে না, তারা অপরাধী তাদের বিচার করতে হবে।’

    তিনি বলেন, আজকের এ মানববন্ধন থেকে বলতে চাই যারা সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছেন তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। তাদের বিচার হবে না এমনটি হতে পারে না। এদের তো বয়স বেশি না এদের তো গডফাদার আছে, বড় ভাই আছে যারা তাদের চাঁদাবাজি শিখিয়েছে শুধুমাত্র এই দুইজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না। যারা এদের চাঁদাবাজি শিখিয়েছেন তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

    রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন।

    shohel

    ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে সোহেল বলেন, আমি জানি হয়তো ওবায়দুল কাদের সাহেব কালকেই বলবেন ৮৬ কোটি টাকা কি কোন টাকা হলো? এমন কথা তিনি বলতেও পারেন বলবেনই না বা কেন যে দেশে পর্দার দাম ৩৭ লাখ টাকা, বালিশের দাম ৭ হাজার টাকা।

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সোহেল বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করুন অনতিবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দিন। জনতার আদালতে যখন তাদের রায় বাস্তবায়ন করতে যাবে পৃথিবীর এমন কোন শক্তি নাই, আপনার বিচার ঠেকিয়ে রাখতে পারে।

    আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহাতাবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্যে রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহীম প্রমুখ।

  • পদ হারাতেই শোভন-রাব্বানীর ব্যানার-ফেস্টুন গায়েব

    পদ হারাতেই শোভন-রাব্বানীর ব্যানার-ফেস্টুন গায়েব

    চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সিলেট সফর করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তাকে স্বাগত জানিয়ে হাজারো পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুনে সেজেছিল সিলেট নগর।

    শোভন সিলেট ছাড়লেও ব্যানার-ফেস্টুন ঠিকই শোভা পাচ্ছিল নগরজুড়ে। কিন্তু দলীয় পদ হারানোর মাত্র ২৪ ঘণ্টায় সব পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন এবং তোরণ উধাও হয়ে গেছে। অনেকে আবার ফেস্টুন উল্টিয়ে রেখেছেন। বিষয়টি বেশ আশ্চর্যের।

    শনিবার রাতে যখন গণমাধ্যমে খবর আসে ছাত্রলীগের পদ হারালেন শোভন-রাব্বানী তখনও শোভন-রাব্বানীর ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছিল নগরের মোড়ে মোড়ে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় দৃশ্যপট। শোভন-রাব্বানীর শুভাকাঙ্ক্ষী স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতকর্মীরা একে একে নামিয়ে ফেলেন স্বাগত জানিয়ে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন। এখন দৃশ্যপট দেখে মনে হয় শোভন-রাব্বানী শত বছরের অতীত। কেউ কেউ বলছেন, এখন শোভন-রাব্বানীর পাশে কেউ নেই

    শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সদ্য সাবেক দুই নেতার ছবি সরিয়ে দিচ্ছেন নতুনদের ছবি। অভিনন্দন বার্তা তো আছেই।

    এদিকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শীর্ষ এই দুই নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন। এর বেশির ভাগ পোস্টে দুই নেতার ব্যর্থতা আর নেতাকর্মীকে অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনা কর্তৃক দুই নেতাকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তকে যুগোপযোগীও বলছেন নেতাকর্মীদের কেউ কেউ।

    Sylet1

    দলটির কর্মী-সমর্থকদের এই মনোভাবকে ছাত্ররাজনীতির অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, আগের ছাত্ররাজনীতি আর বর্তমান ছাত্ররাজনীতির মধ্যে বিস্তর ফারাক। আগে ছাত্ররাজনীতি ছিল সমাজের অগ্রপ্রতীক। কারণ ছাত্রসমাজ তাদের নেতা মনোনীত করতো। কিন্তু বর্তমানে নেতা হচ্ছেন টাকার জোরে কিংবা বলয়ভিত্তিক। এজন্য যারাই ক্ষমতায় আসছেন তারা দলীয় আদর্শকে একপাশে সরিয়ে ভাইয়ের আদর্শ ধারণ করছেন।

    এই সুযোগে কথিত ‘বড় ভাই’ বা ‘ভাই লীগ’ ছেলেদের ব্যবহার করছে। এর প্রমাণই বর্তমানে দলটির কর্মকাণ্ড। কারণ সাবেক হওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয় কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবেক হয়ে যাওয়া মানে সব শেষ।

    আশিক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, পদ হারানোর এক ঘণ্টার মধ্যে সব ব্যানার-ফেস্টুন গায়েব। আজ থেকে হয়তো নগরজুড়ে দেখা যাবে নতুন মুখের কারো ব্যানার-ফেস্টুন। সঙ্গে জুড়ে দেয়া হবে অদ্ভুত অদ্ভুত সব বিশ্লেষণ!

    মারুফ খান মুন্না লিখেছেন, শোভনের জন্য সত্যিই দুঃখ লাগছে। সিন্ডিকেট ছাড়া এই প্রথম ছাত্রলীগের সভাপতি পেয়েছিল দলটি। সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে ডাকসু নির্বাচনেও হারতে হয়েছিল তাকে। জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী লৌহ মানবী হাসিনার অনেক ভরসা ছিল তাকে দিয়ে। শেষ পর্যন্ত বিতর্কমুক্ত থাকতে পারেননি তিনিও।

    ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এরপর ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়।

    কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এক বছর না পেরোতেই তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা ওঠে আসে।

    এর মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা, নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না করা অন্যতম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপেক্ষা, ফোন রিসিভ না করার অভিযোগও আছে।

    এর বাইরে রাতজাগা ও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, কর্মসূচিতে বিলম্বে যাওয়া, প্রধান অতিথিদের বসিয়ে রাখা, জেলা সম্মেলন করতে না পারা ও বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ও এ তালিকায় রয়েছে। এসব দেখে এবং শুনে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শনিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে বলেন।

    সবশেষে শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান লেখক ভট্টাচার্য।

    ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসা জয়-লেখক এর আগে সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি ও ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

  • রং সাইডে গিয়ে ৩ ছাত্রলীগ নেতার প্রাণ নিল শ্যামলীর বাস

    অনলাইন ডেস্ক ::

    কুমিল্লায় শ্যামলী পরিবহনের বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- বিজয়পুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল হোসেন (২৫), একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. সজল (২৫) ও ছাত্রলীগের সদস্য শাহিন (২৬)।

    সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) খাদেমুল বাহার জানান, দুপুরে মোটরসাইকেলে উপজেলা পরিষদ থেকে ছাত্রলীগের ওই তিন নেতা নূরজাহান হোটেলে যাচ্ছিলেন। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের বাসটি নূরজাহান হোটেলে যাত্রা বিরত শেষে দ্রুতগতিতে উল্টো পথে লেনে ওঠার সময় ওই তিন মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। হাইওয়ে পুলিশ বাস এবং এর চালককে আটক করেছে বলে তিনি জানান।

  • বাবার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিক হয়ে রাজনীতি শুরু জয়ের!

    বাবার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিক হয়ে রাজনীতি শুরু জয়ের!

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    অবশেষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জের কৃতি সন্তান আল-নাহিয়ান খান জয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে বাবার হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন তিনি। বরিশাল জিলা স্কুলে অধ্যায়নরত অবস্থাতেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি দেয়া জয় উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পৃক্ত ছিলেন।

    তাছাড়া ঢাকায় লেখাপড়া করার সুবাধে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অবস্থান করে নেন তিনি। এসএসসি পাশ করে ঢাকা কমার্স কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন জয়। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারনেই এই কলেজে ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে যায়। এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন আল নাহিয়ান খান জয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।

    এর পর পরই তার ডাক আসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে নিজের অবস্থান সৃষ্টি করে নেন জয়। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী জয় ঢাবি’র ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় ১৬ তম স্থান লাভ করেছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। সাহসিকতা নিয়ে হরতাল প্রতিরোধ এবং পিকেটারদের ককটেল বোমাসহ ধরিয়ে দেওয়ায় ২০১৫ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে পুরস্কার লাভ করেছিল সে।

    সেই পুরস্কারের অর্থ বার্ণ ইউনিটে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ অসহায় মানুষের চিকিৎসার্থে দান করেছিল মহৎপ্রাণ এই ছেলেটি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান জয়ের পূর্ব পুরুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার বাবা আব্দুল আলীম খানের হাতে উপজেলা ছাত্রলীগ এর পথচলা। এরপর উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

    মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরের কার্যক্রম আল-নাহিয়ান খান জয়ের ঘরে বসেই হতো। ফুফু উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আল নাহিয়ান খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় বাবুগঞ্জের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ভিতরে আনন্দের বন্যা বইছে। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছে বাবুগঞ্জে গর্ব আল নাহিয়ান খান জয়কে।

    আল নাহিয়ান খান জয় বাবুগঞ্জের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সর্বজনে। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নাহিয়ান খান জয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ১ নম্বর সহ-সভাপতি ছিলেন।

    উলে­খ্য,নানাবিধ অভিযোগের মুখে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় আল নাহিয়ান খান জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহম্মেদ আজাদের নেতৃত্বে এক বিশাল আনন্দ র‌্যালী বের হয়। রবিবার সকাল ১১ টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে সামনে থেকে এ র‌্যালীটি বাবুগঞ্জ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

    এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ শাহিনুল ইসলাম শিকদার, উপজেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাইনুর রহমান শিকদার, দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান, মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন, আ’লীগ নেতা সৈয়দ ফারুক মীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু-সুফিয়ান, ছাত্রলীগ নেতা ফায়জুল হক মুন্না, ইউপি সদস্য ফিরোজ আলম প্রমূখ।

  • চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    অপরাধ নির্মূল ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার দুপুরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মতো অশুভ সামাজিক ব্যাধি। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অব্যাহত সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এদেশের মাটিতে কোনোভাবেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না।

    শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সমস্যাকে দেখতে হবে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে সেজন্য জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

    নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, একজন মানুষ তার সবচেয়ে বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই আপনাদেরকে সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে গণমানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু তার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে সর্বদাই এ দেশের পুলিশকে জনগণের পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। বঙ্গবন্ধু পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলতেন- আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশি শোষকদের পুলিশ নন, জনগণের পুলিশ। আপনাদের কর্তব্য জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা। আমি আশা করি আপনারা জাতির পিতার সেই প্রত্যাশা পূরণে আপনাদের ওপর অর্পিত পবিত্র
    দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন সময় গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এসব গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। পরে প্যারেড মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী তাকে স্বাগত জানান।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী অভিবাদন মঞ্চে গিয়ে নবীন পুলিশদের সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন। পরে একটি খোলা জিপে চড়ে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।

    প্যারেড কমান্ডার শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন আক্তার ও সহকারী প্যারেড কমান্ডার রবিউল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এক এক করে মোট ৮টি কন্টিনজেন্ট প্যারেড অংশগ্রহণ করে। ৮টি কন্টিনজেন্ট থাকা মোট ১১৭জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান। এরপর পতাকাবাহী দল, পুলিশ একাডেমির বিশেষ অশ্বারোহী দল ও সর্বশেষ বাদক দল একে একে মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম ও অভিবাদন জানান।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপাররা হলেন- বেস্ট শ্যুটার খায়রুল কবির, বেস্ট ফিল্ড পারফমার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ সালাহউদ্দিন, বেস্ট একাডেমিক সাইফুল ইসলাম খান এবং বেস্ট প্রবেশনার সালাহ্ উদ্দিন। প্যারেডে ১৭ জন নারী অফিসারসহ ১১৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিভিন্ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. নজিবুর রহমান, সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা, বিদেশি কূটনীতিকরা, অতিরিক্ত আইজিপিরা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজশাহী শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেয় না ছাত্রলীগ : আল নাহিয়ান খান জয়

    চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেয় না ছাত্রলীগ : আল নাহিয়ান খান জয়

    অনলাইন ডেস্ক ::

    চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিসহ যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় না দেয়ার কথা বলেছেন ছাত্রলীগের নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

    রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। তার পাশে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

    সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সংগঠনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জয় বলেন,আমরা দেশরত্নের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য যেকোনো ধরনের পজিটিভ পদক্ষেপ নেবে। এজন্য আমরা সবসময় কাজ করে যাব। আশা রাখি, অতীতে যদি সংগঠনের কোন ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় তাহলে পজিটিভ ইমেজ উদ্ধারের জন্য কাজ করব। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোন অন্যায়, চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।

    নিজেদের বেলায় দুর্নীতি হবে কি না-এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, আমি হলেও দায়িত্ব পালন করেছি। চেষ্টা করি আমাদের গায়ে কোন কালিমা যেন না লাগে। আমরা দেশরত্নের আস্থার জায়গাটা অবশ্যই রাখব, সে অনুযায়ী কাজ করব।

  • ছাত্রলীগ সভাপতি জয়ের কাছে বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা স্বপ্নের মতো

    ছাত্রলীগ সভাপতি জয়ের কাছে বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা স্বপ্নের মতো

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন::

    বরিশালের সন্তান আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণার খবরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে গোটা বরিশালের মানুষ। গতকাল শনিবার রাতে তাঁর নাম ঘোষণা করা হলে বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দনের ঝড় ওঠে। বরিশাল ছাত্রলীগের সর্বস্থরের নেতাকর্মীরা আল নাহিয়ান খান জয়ের ছবি দিয়ে ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানায়।

    বিএম কলেজের ছাত্র আবির রহমান বলেন, ‘আমাদের বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। আনন্দে বাবুগঞ্জ বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। নতুন সভাপতির কাছে আমার একটাই দাবি, কেউ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হয়।

    বরিশালের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা আল নাহিয়ান খান জয় বরিশালের সন্তান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি দায়িত্ব পাওয়ায় বরিশাল ছাত্রলীগের রাজনীতি আরও বেগবান হবে।

    বহু বছর পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পেল বরিশালের সন্তান আল নাহিয়ান খান জয়। তিনি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় বরিশালের সর্বস্থরের রাজনৈতিকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

    বরিশালে ছাত্রলীগের মধ্যে কোনঠাসা অনেক নেতা প্রকাশ্যে না আসলেও জয়ের সভাপতি হওয়ায় তারাও জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছে। তাদের আশা দলীয় কোন্দল নয় অথবা গ্রুপের রাজনীতি নয় জয় আমাদের সবার। এলাকার সন্তান হিসেবে বরিশালের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।


    আল নাহিয়ান খান জয় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী খানের ছেলে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবার হাত ধরে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।

    বরিশাল জেলা স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি দেয়া জয় উপজেলা ছাত্রলীগেও সম্পৃক্ত ছিলেন। এসএসসি পাশ করে ঢাকা কমার্স কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন জয়। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই এই কলেজে ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে যায়।

    এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ সেশনে আইন বিভাগে ভর্তি হন আল নাহিয়ান খান জয়। বর্তমানে তিনি অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এর পর পরই তার ডাক আসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

    মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান জয়ের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার বাবা আব্দুল আলীম খানের হাতে উপজেলা ছাত্রলীগের পথচলা। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

    উল্লেখ্য , ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সংগঠনটির ১ নম্বর সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

    গতকাল শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

  • কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত নেতারা পাবে সব ক্ষমতা

    কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত নেতারা পাবে সব ক্ষমতা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত সব রকম সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা থাকছে সদ্য ভারপ্রাপ্ত দুই নেতা আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের। বর্তমান কমিটির বাকি ১০ মাস মেয়াদে সাংগঠনিক কমিটি গঠন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সব কাজ করতে পারবেন তারা।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এ তথ্য জানান।

    এই বিষয়ে আবদুর রহমান বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া দু’জন ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। শোভন-রাব্বানী কমিটির বাকি মেয়াদে তারা দায়িত্বে থাকবেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন থেকে শুরু করে নিয়মিত সব সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তারা।’

    এর আগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, দলীয় প্রধানের নির্দেশের খবর পাওয়ার পর রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

    গত বছরের জুলাইতে ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় এই বছরের মে মাসে। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাদ পড়লেন। ছাত্রলীগের ইতিহাসে এ ধরনের নজির খুব একটা নেই বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ থেকে কমিশন দাবি, টাকার বিনিময়ে কমিটিতে পদ দেয়া, অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রদর্শনসহ ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসে। ৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই ছাত্রলীগের দুই নেতার ভবিষ্যৎ নিয়ে দলে নানা আলোচনা শুরু হয়।

    ওই সভায় ছাত্রলীগের সদ্য বাদ পড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তোলা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, মধুর ক্যানটিনে অনিয়মিত যাওয়া, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন প্রভৃতি। একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করানোর অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

    এছাড়াও গতকাল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ছাত্রলীগের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। আলোচনায় আসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টিও। সভায় উপস্থিত সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দুই শীর্ষ নেতাকে বাদ দেয়ার কথা বলেন।

    এ সময় তিনি তাদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। তারা যাতে সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করেন, সে কথাও বলেন।