Category: রাজণীতি

  • ২ মিনিটেই রিপ্লাই দিলেন মন্ত্রী, সমস্যার সমাধান করলেন ১ মিনিটে

    ২ মিনিটেই রিপ্লাই দিলেন মন্ত্রী, সমস্যার সমাধান করলেন ১ মিনিটে

    ডাক অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে কোনোভাবেই প্রবেশপত্র বের করা যাচ্ছিল না। বারবার ব্যর্থ হয়ে বিরক্ত শিক্ষার্থী হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে।

    মেসেজ পাওয়ার দুই মিনিট পর রিপ্লাই দিলেন মন্ত্রী, পরবর্তী মিনিটে সার্ভার সচল। মন্ত্রীর এমন ত্বরিত সমাধানে আনন্দিত এক শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন।

    এম এ আহাদ শাহীন নামে ওই শিক্ষার্থীর পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

    ‘আগামীকাল ডাক অধিদপ্তরের একটি পরীক্ষা আছে। আজ বিকাল থেকেই প্রবেশপত্র সংগ্রহের জন্য অনেক পরীক্ষার্থী অপেক্ষা করছিলেন নীলক্ষেত এলাকায়।

    সন্ধ্যা অব্দি সার্ভারে ঢুকতে না পারায় পরীক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন।

    পরে বিষয়টি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে ফোন করি। কিন্তু বেচারা কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে এখন কিছুই করতে পারবেন না জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করে মন্ত্রী মহোদয়কে জানানোর পরামর্শ দেন।

    পরে বিষয়টি জানিয়ে ডাক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করি।

    মন্ত্রী মহোদয়ের দুই মিনিটের মাথায় রিপ্লাই, দেখছি- ঠিক হয়ে যাবে।

    পরের মিনিটে সমস্যার সমাধান। সার্ভার সচল।

    সবাই প্রবেশপত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন।

    ধন্যবাদ মন্ত্রী।

    ইনি হচ্ছেন আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক মোস্তাফা জব্বার।

    অনেক কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি।’

  • বরিশালে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অর্থসহায়তা দিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    বরিশালে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অর্থসহায়তা দিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    বরিশাল সদর উপজেলার শোলনা বাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের মাঝে অর্থসহায়তা দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।

    শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে শহরের বিআইপি কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসে এ অর্থসহায়তা তিনি।

    চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বরিশাল সদর ১ নম্বর রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের শোলনা বাজারে আগুনে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। তখন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন।

    প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ৯ ব্যবসায়ীকে নগদ ৬ হাজার টাকার পাশাপাশি এক বান করে ঢেউটিনও দিয়েছেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মধু, মহানগর আ’লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন, রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকন এবং জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জুবায়ের আব্দুল্লাহ জিন্নাহসহ দলীয় অনেক নেতাকর্মী।

  • মানুষের ভালোবাসাকে জীবনের বড় অর্জন ভেবে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান মেয়র সাদিক

    মানুষের ভালোবাসাকে জীবনের বড় অর্জন ভেবে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান মেয়র সাদিক

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    সুন্দর পোশাক পরা, গাড়িতে চড়া, এক কথায় বিলাসিতা কার না ভালো লাগে। আর নেতা কিংবা মন্ত্রী, এমপি অথবা মেয়র হলেতো কথাই নেই। ভারিক্কি চালচলন আর কড়া নিরাপত্তা। এর ব্যতিক্রম অন্য কিছুতো ভাবাই যায় না। এমনই বিলাসিতার গন্ডি পেরিয়ে বরিশালসহ গোটা দেশবাসীর নজর কেড়েছেন এক ব্যক্তি। সাধারণের পোশাকেই নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে ছুটে গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কখনও রিকশায় চড়ে আবার কখনও পায়ে হেঁটে এমনকি বৃষ্টিতে ভিজেও নগর ও নগরবাসীর উন্নয়ন কর্মকান্ডের তদারকি করেন তিনি। তিনি আর কেউ নন; তিনি হলেন যুবরত্ন সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহ।

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাইয়ের ছেলে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সর্বাধিক জনপ্রিয় মেয়র। রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে।

    বরিশাল মহানগরের সর্বস্তরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রাণের স্পন্দন। দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আওয়ামী পরিবারের সন্তানও তিনি। এতকিছুর পরেও তিনি সাধারণের বেশেই চলাফেরা করছেন। নেই কোনো অহংকার, বিলাসিতা। ভারিক্কি চলাফেরা কিংবা কড়া নিরাপত্তারও প্রয়োজন হয়না তার। কখনও পায়ে স্যান্ডেল, গায়ে টিশার্ট, ট্রাউজার পরে নগরবাসীর কাছে ছুটে যান। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ব্যবহার করছেন না সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি। অযথা বিলাসিতায় অভ্যস্থ নন তিনি। রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে অনেকেই মনে করেন, একজন সাধারণ মানুষ হেঁটে যাচ্ছেন। কখনও সকাল ৭টা কখনও বা রাত ৩টা, হঠাৎ করেই তাকে দেখা যায় নগর সেবকের ভূমিকায়।

    যখন নগরবাসী ঘুমিয়ে থাকেন তখন নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা বেগবান করার জন্যই তিনি ঘুরে বেড়ান। এখানেই শেষ নয়, ২৪ ঘণ্টাই তিনি নগরবাসীর সেবা করার চেষ্টায় বিভোর থাকেন। যে কারণেই শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ‘যুবরত্ন’ উপাধিও পেয়েছেন। এভাবেই সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অবশ্য সাদিকের ইচ্ছাই হল সাধারণের বেশে মানুষের সেবা করা। তিনি বিলাসিতা কিংবা সুন্দর পোশাক পরে মানুষের নগর কাড়ার প্রয়োজন মনে করেন না। পাশাপাশি তিনি ঘোষনাও দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে ভোট চাইবেন না। কারন নরগবাসীর সেবার মাধ্যমেই তাদের অন্তরের একজন মানুষ হয়েই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন।

    নগরীর জনৈক অটোচালক রফিক বলেন, একজন নগর পিতাকে এভাবে সাধারণ মানুষের মতো করে চলাচল করতে এরপূর্বে কখনও দেখিনি। দেখিনি পায়ে স্যান্ডেল, ট্রাউজার-টিশার্ট পরে নগরবাসীর কাছে ছুটে যেতে। বিগত দিনের মেয়ররা চাকচিক্যের চলাচলেই অভ্যস্থ ছিলেন। যেটা আমাদের বর্তমান মেয়রের নেই। তার শুধু একটাই কাজ- নগরবাসীর সেবা করা। নগরবাসীর কাছে ছুটে যেতে তার সাজসজ্জার প্রয়োজন পড়েনা। এমনকি হাসপাতালে গিয়েও নগরবাসীর খোঁজ খবর নিতে দেখা যায় তাকে।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু বলেন, সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। জন্মের পর থেকেই তিনি ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেছেন। তার বাবা এবং দাদা মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও এখন মেয়র। তারপরেও ক্ষমতার অপব্যবহার করেন না। তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করেন, ভালো বোঝেন তাদের ভাষা। নির্বাচনের পূর্বে ঘোষণা দিয়েছিলেন- মেয়র নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের কথা শুনবেন, তাদের জন্য কাজ করবেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ঠিকই তিনি তার কথা রেখে সাধারণ জনগণের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। জনগণের চাহিদাই তার ইচ্ছা। ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা নেই তার।

    গভীর রাতে রাস্তায় ঘুরতে বের হওয়া প্রসঙ্গে বাবলু বলেন, দিনের বেলায়ও তিনি নগরবাসীর কাছে গিয়ে খোঁজ খবর নেন। এছাড়াও রাতের বেলায় নগরীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে নগরীর প্রকৃত দৃশ্য দেখেন, বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং সমাধান করেন। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ। তাই নগরীর সৌন্দর্য কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করেন। তিনি সুন্দর পোশাক পরাকে সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য করেন না, নগরীর সৌন্দর্যই তার কাছে প্রকৃত সৌন্দর্য।

    সাধারণ একজন মানুষ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ প্রসঙ্গে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ বলেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অভিমত- দেশ ও বরিশালের উন্নয়নের জন্য কোনো কাজকেই ভয় পাননা তিনি। জনগণের মাঝেই থাকতে চান। মানুষের ভালোবাসাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ভেবে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান। এক্ষেত্রে কেবলমাত্রে সুন্দর পোশাক পরাকেই প্রকৃত সৌন্দর্য মনে করেন না। তাৎক্ষণিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করাকেই প্রকৃত সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য করেন তিনি। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সব সময়ই বলে থাকেন আমি নগর পিতা হতে আসিনি, আমি নগরীর সেবক হতে চাই।

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ: রিজভী

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ: রিজভী

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার কিছু করতে পারেনি। সরকার একজনকেও ফেরত পাঠাতে পারেনি।

    একে চরম ব্যর্থতা দাবি করে রুহুল কবির রিজভী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

    খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও জাতীয়তবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল ও সমাবেশ হয়।

    সেখানে বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, আপনাদের নাকি এত বন্ধু আছে, তারা কেউ কিছু করতে পারল না আপনাদের জন্য। অথচ এই যে এতোগুলো মানুষের চাপ বাংলাদেশের সহ্য করতে হচ্ছে।

    সরকার কেবল কূটনৈতিকভাবে নয়, দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সামাল দিতেও ‘ব্যর্থ হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সরকারের পতন তরান্বিত করতে হবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়েই এই দেশের মানুষ মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ পাবে।

    জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল করেন রুহুল কবির রিজভী।

    মিছিল থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোক্তাদের ভূমিমন্ত্রী

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোক্তাদের ভূমিমন্ত্রী

    বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।

    গত ১৭ আগস্ট ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতার ৭৪তম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ান দূতাবাস বৃহস্পতিবার ঢাকায় র‌্যাডিসন হোটেলে স্বাধীনতার ৭৪তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোয়েমারনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    ভূমিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিনিধি, বিরোধী দলের নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    Saifuzzaman

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ড. সুকর্ণের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশে বহুত্ববাদী বৈচিত্র্যের সংমিশ্রণে এমন একটি সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন; যেখানে একটি উদার ও সহনশীল সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে, যা ইন্দোনেশিয়ার গণতান্ত্রিক সমাজের মতো। সুতরাং উভয় দেশই সহজাত গণতান্ত্রিক মিত্র।

    পারস্পরিক সহযোগিতামূলক চেতনায় একসাথে কাজ করার ক্ষেত্রে আমরা (বাংলাদেশ) সহজাত অংশীদার বলেও মন্তব্য করেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

    ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ করব, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণ করুন এবং বাংলাদেশ থেকে আরও মানসম্পন্ন পণ্য আমদানি করুন।’

  • আরেকটি ২১ আগস্ট যেন না হয়

    আরেকটি ২১ আগস্ট যেন না হয়

    প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানের লক্ষ্যে আরেকটি ২১ আগস্টের উদ্ভব যাতে কোনো দিন না হয় তা নিশ্চিত করতেই এই ঘটনার অন্তরালের রহস্য জাতির সামনে প্রকাশের দাবি করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া।

    তিনি বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে জড়িত, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের নেপথ্য হোতাদের চিহ্নিত করা এবং তাদের শিকড় সমাজ ও দেশ থেকে উচ্ছেদ করা আজ সময়ের দাবি।

    এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করাই ছিল গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনাকারীদের প্রধান টার্গেট। পৃথিবীতে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার নজির খুব বেশি নেই বলেই ধারণা। সেই সময় জজ মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে আটক করে, তার কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে, ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের আড়াল করার চেষ্টা করে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, দেশবাসীর সামনে তা উদ্ঘাটন সময়ের দাবি।

    বুধবার শাহজাহানপুরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী স্মরণে জাতীয় গণমুক্তি আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মোস্তফা বলেন, ২০০৪ সালে ওই ন্যক্কারজনক গ্রেনেড হামলার সময় যারা সরকারে ছিলেন তারা কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। কারণ সরকার বা রাষ্ট্রের মদদ ছাড়া এবং দেশ বা বিদেশের কোনো না কোনো সামরিক উৎস ছাড়া এত বিপুলসংখ্যক আরজিএস গ্রেনেড অসামরিক জনসমাবেশে নিক্ষিপ্ত হতে পারে না। ওই গ্রেনেড হামলার পর ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা একটি অপরাজনীতি ও নোংরা মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

    ন্যাপ মহাসচিব আরও বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যেসব আসামির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, দায় তাদেরই, পুরো রাজনৈতিক দলের নয়- সবার মধ্যে এ উপলব্ধিও থাকা উচিত। দলের বিশেষ ব্যক্তি বা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা মানে পুরো দলের সংশ্লিষ্টতা নয়- এ উপলব্ধি থেকে দলীয় হাইকমান্ডেরও উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। ভয়াবহ এ ঘটনা থেকে রাজনৈতিক নেতাদেরও শিক্ষা নিয়ে সজাগ হতে হবে।

    সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, লেবার পার্টি মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভূঁইয়া, সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সদস্য আবদুল হালিম, মাওলানা আবু জাফর রেদোয়ানী, আবদুল কাইয়ূম মাহমুদ, আফরোজা বেগম, ইমরুল হাসান, যুব নেতা আবদুল হালিম মল্লিক প্রমুখ।

  • গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন না খালেদা

    গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন না খালেদা

    ২০০৪ সালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া তার দায় এড়াতে পারেন না। তার যে দায়-দায়িত্ব ছিল তা অস্বীকার করা যায় না।

    ‘বাবর তো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। যদিও খালেদা জিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। কিন্তু তখন সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে ছিলেন।’

    বুধবার রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একুশে আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ওই হামলায় বিএনপি-জামায়াত সরকার জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটা পরিস্থিতি দিনে-দুপুরে কীভাবে ঘটতে পারে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায়- তাদের মদদ ছাড়া এটা হতে পারে না। কাজেই এ ঘটনার পর তাদের তো ধারণা ছিল, আমি মারা গেছি; গ্রেনেড ট্রাকের ওপর পড়তে পারত; কিন্তু সেখান থেকে বাড়ি খেয়ে বাইরে পড়ে যায়। যদি ট্রাকের ওপর পড়ে তখন আমরা সবাই শেষ হয়ে যাই। সেখান থেকে যখন গাড়িতে উঠতে যাই, গাড়িতে ওঠার সময় আবার গুলি করে। মাহবুবের (ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী) গায়ে গুলি লাগে।’

    তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে যেখানে সবসময় মঞ্চ করা হয়, এদিন একটু সামনে এগিয়ে যায় ট্রাক। এটা আল্লাহর ইশারা, না হলে ট্রাক আরও সামনে এগিয়ে যাবে কেন!’

    বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘এ হামলার আগে খালেদা জিয়ার প্রতিটি বক্তব্যে একটাই কথা ছিল, শেখ হাসিনা ১০০ বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না। যাক আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর, মানুষ বোঝে না- আল্লাহর ক্ষমতা কত- সে (খালেদা জিয়া) যে অভিশাপ আমাকে দিয়েছিল, তার জন্যই তা বাস্তব হয়েছে।’

    ভয়াল গ্রেনেড হামলার মূল টার্গেটে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলব, আমি বেঁচে আছি। সেদিন একটা নয়, ১৩টি গ্রেনেড ছোড়া হয়। ১২টিই বিস্ফোরিত হয়। বেঁচে থাকার কথা নয়, তারাও ভেবেছিল আমি বেঁচে নাই; যারা হামলা করেছে তারা সেখান থেকে ফোন করেছে, আমি মারা গেছি।’

    ‘২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হলো। আমি ও আমার ছোট বোন রেহানা, আমাদেরকেও হত্যা করা হতো। আমাদের বাসায় গুলি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দুই বোন জার্মানিতে গিয়েছিলাম। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এতিম হয়ে যাই। সব হারিয়ে আমরা আর দেশে আসতে পারিনি। পাসপোর্টটাও জিয়াউর রহমান সরকার রিনিউ করতে দেয়নি। আমি দেশে চলে আসলাম, আমি জানি দেশে যেকোনো মুহূর্তে আমার ওপর হামলা হবে। আমি দেশে এসেছিলাম একটি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে; এই বাংলার মাটিতে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড হয়েছিল সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার- সে অপরাধের বিচার করতে হবে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছিল- বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকে থাকতে না পারে, স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত হয়- স্বাধীনতাবিরোধীরা বলতে পারে যে, বাংলাদেশ স্বাধীন করে ভুল করে গেছে।’

    পঁচাত্তরের জাতির পিতাকে হত্যায় অন্যদের সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এর প্রত্যক্ষ অপরাধী। জিয়াউর রহমান ছিল মোস্তাকের বিশ্বস্ত সহযোগী। জিয়া ১৫ আগস্ট হত্যার বিচারের রাস্তা বন্ধ করেছিল। অপরাধীদের বিদেশে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল; বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাদের কোয়ালিফিকেশন ছিল জাতির পিতার হত্যাকারী! ওই খুনিদের রাজনীতি করার অধিকার দেয়া হয়েছিল, তাদের সংসদে নির্বাচিত করে রাখা হয়েছিল।’

    ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি সেই মুহূর্তে দেশে ফিরে এসেছিলাম একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা, জনগণের ওপর আস্থা রেখে। শুধু একবার না বারবার এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই ঢাল হিসেবে আমাকে বাঁচিয়েছে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাত আসেনি।

    ২১ আগস্টের শান্তির সমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একটা র‌্যালি করতে চেয়েছিলাম। শান্তি র‌্যালি। সিলেট শাহজালালের মাজারে হামলা হয়েছিল। বৃটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা হয়েছিল। গোপালগঞ্জে বোমা হামলা। এসব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা শান্তির মিছিল করতে চেয়েছিলাম, র‌্যালি করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অনুমতি দেয়া হয়নি। প্রোগ্রামের আগে রাত ১২টায় অনুমতি দেয়া হলো। পরে আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি করার সিদ্ধান্ত নেই। সেখানে গ্রেনেড হামলা হলো।

    গ্রেনেড হামলার দিনের স্মৃতিচারণা করে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যান্য সময় আমাদের ভলান্টিয়াররা আশেপাশের ছাদের ওপরে পাহারায় থাকে। সেদিন কাউকে উপরে উঠতে দেয়া হয়নি, পুলিশ বাধা দিয়েছিল। ফটোগ্রাফার গোর্কি এসে বলল, আমি ছবি নিতে পারিনি। গোর্কির বাবাকে আমি চিনতাম, তিনি অবজারভারের ফটোসাংবাদিক ছিলেন। অন্য সাংবাদিকরাও চিৎকার করছিলেন, ছবি পাইনি। এই ছবি তুলতে গিয়ে কয়েকটা সেকেন্ড দাঁড়ানো, এর মধ্যেই গ্রেনেড হামলা শুরু হয়ে গেল।

    গ্রেনেড হামলা-পরবর্তী অবস্থার বিবরণ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার চোখে সমস্যা ছিল, চশমাটা পড়ে গিয়েছিল। আমি দেখতে পারছিলাম না ভালোমতো। আমি যখন স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে বের হলাম, তখন টিয়ারশেল মারা হচ্ছিল, আমাদের নেতাকর্মীরা যখন সহযোগিতায় ছিলেন তখনই পুলিশ টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

    উষ্মা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোথাও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে পুলিশের দায়িত্ব থাকে, দোষীদের ধরা বা যারা নির্যাতিত তাদের সাহায্য করা; কিন্তু এখানে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। সেখান থেকে আক্রমণকারীরা যাতে সহজে বের হয়ে যেতে পারে, সেই সুযোগ তারা (পুলিশ) করে দিয়েছিল। জেলখানায়ও একটা গ্রেনেড পাওয়া গেল। জেলখানা থেকেও লোক এনে আক্রমণ করিয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে এসেছিল চিকিৎসা করানোর জন্য। কিছু গ্রেনেড, সেগুলো তারা জেলখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাহলে কত গ্রেনেড ছিল তাদের? রামনাতেও একটি গ্রেনেড পাওয়া যায়।

    ‘তৎকালীন সরকার এ হামলার সব আলামত ধ্বংস করে দিয়েছিল’ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনার পরের দিনই সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি এনে সমস্ত কিছু ধুয়ে ফেলা হয়। আলামত নষ্ট করার জন্য। আমরা কিছু আলামত রক্ষা করার চেষ্টা করি। সরকারের উচিত ছিল আলামত সংরক্ষণ করা; কিন্তু সেটা না করে তারা ধুয়ে-মুছে দিয়েছিল। কোনো এক আর্মি অফিসার একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড আলামত হিসেবে রাখতে চেয়েছিল, সে চাকরি হারায়। এই ঘটনার পর কোনো আলামতই যেন না থাকে সে চেষ্টাই করা হয়।’

    ‘হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়। নাম জয়নাল আবেদীন। তাদের মতো করে একটি ফরমায়েশি রিপোর্ট দেয়া হয়। সেই ঘটনায় একজন সাধারণ মানুষকে নিয়ে, জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়। এখন সবই বের হচ্ছে। সেই জজ মিয়াকে নিয়ে এসে তাকে টর্চার করে কথা বলানো হয়। সে একজন সাধারণ মানুষ, এত গ্রেনেড কীভাবে নিয়ে আসে?’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রোগীকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তাদের ইমারজেন্সি ছিল না বলে বের করে দেয়া হয়। বিএনপিপন্থী কোনো ডাক্তার সেখানে যায়নি। আমাদের যেসব ডাক্তার, তারাই কাজ করেছেন। আমাদের লোকজন রক্ত দিয়েছে, আমি চেষ্টা করেছি, আমাদের যেসব ডাক্তার আছে, আমি সব জায়গায় জানার চেষ্টা করেছি, কোথাও আমাদের লোকেরা চিকিৎসা ছাড়া আছে কি-না। অনেককে দেশের বাইরেও চিকিৎসা করিয়েছি।’

    হামলার পর বিএনপির দায় চাপানোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপর বলা হলো কী; শেখ হাসিনা হ্যান্ডব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। এই কথাটাই স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের কাছে পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হলো। মনে হলো, আমরা সেখানে সুইসাইড করতে গিয়েছিলাম।’

    নিজের দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মৃত্যু আসবে, সেটা অবধারিত জানি; কিন্তু সেই মৃত্যুভয়ে আমি বসে থাকব না। জাতির পিতা যেভাবে ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, সেভাবেই দেশের সেবা করে যাব। জাতির পিতার আদর্শে বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, সেটাই আমার চাওয়া।’

    আলোচনা মঞ্চে উপস্থিত আহত ও নিহতদের স্বজনদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মঞ্চে যারা রয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে আপনজন হারিয়েছেন। মানুষ একটা শোক সইতে পারে না। আমি সবাইকে হারিয়েছি। দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমরা সবসময় স্মরণ করি।

    সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন। সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

  • বঙ্গবন্ধু খুনের মদদদাতাদের নির্মূল করতে হবে

    বঙ্গবন্ধু খুনের মদদদাতাদের নির্মূল করতে হবে

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

    জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার বিবি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘১৫ ও ২১ আগস্ট একইসূত্রে গাঁথা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

    খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট একইসূত্রে গাঁথা। ১৫ আগস্টে জিয়াউর রহমান আর ২১ আগস্টে তারেক জিয়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ১৫ আগস্ট খুনের মাধ্যমে দেশের চরিত্র পাল্টে দেয়া হয়েছে। আর শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার যাতে না হয় সে চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই সোনার বাংলা গড়তে বঙ্গবন্ধু খুনের মদদদাতাদের নির্মূল করতে হবে।’

    এ সময় বঙ্গবন্ধু হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠন করলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভবিষ্যত প্রজন্ম পরিষ্কার ধারণা পাবে।’

    নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে ছিলেন এবং রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়ে ছিলেন। খুনিদের রক্ষা করতে রাজকারদের বিদেশে পুর্নবাসন করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান শত শত সৈনিককে হত্যা করেছেন। সৈনিকদের হত্যা করে তাদের পরিবারের সদস্যদের চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে ছিলেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত, কর্মস্থলে যোগদান না করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসলে জিয়া পরিবার খুনি পরিবার।’

    খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে কিন্তু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় নাই। আগামী দিনে এ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।’

    জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের গুপ্তচর ছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জিয়া মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না।’
    ‘সময় এসেছে ২১ আগস্টের খুনিদের এবং সমর্থনকারীদের নির্মূল করতে করার। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে না,’ যোগ করেন খালিদ মাহমুদ।

    বিবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাহাদুর বেপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. রাশেদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

  • উপহাসকারী রিজভীদেরও বিচার হওয়া উচিত : তথ্যমন্ত্রী

    উপহাসকারী রিজভীদেরও বিচার হওয়া উচিত : তথ্যমন্ত্রী

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে উপহাসকারী রিজভীদেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও প্রযুক্তি ভাবনা : চলমান ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে এ হত্যাকাণ্ডকে যেভাবে উপহাস করা হয়েছিল, গতকাল রিজভী সাহেব (বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী) সংবাদ সম্মেলনে একইভাবে উপহাস করে তিনি বিএনপির ন্যক্কারজনক ভূমিকারই পুনরাবৃত্তি করেছেন। রিজভী বলেছেন, এটি আওয়ামী লীগের সাজানো ঘটনা, তারা আত্মহত্যা করতে সেখানে গিয়েছিল। এ ধরনের কথা যারা বলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।’

    ‘এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ভবিষ্যতে ঘটানোর জন্য এমন উস্কানি দেয়া হয়। যারা এ ধরনের কথা বলে উপহাস করে, উস্কানি দেয়, রিজভী আহমেদসহ তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি খালেদা জিয়াকেও বিচারের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তাকে জিজ্ঞাসা করলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গ্রেনেড ব্যবহারের রহস্যসহ আরও বহু সত্য বেরিয়ে আসবে’ বলেন হাছান মাহমুদ।

    আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই এমন দূরদর্শী কাজ করে গেছেন, যেগুলো রাষ্ট্রের ভিত্তি রচনা করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘এ রক্তার্জিত স্বাধীনতা আর উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অক্ষুণ্ন রাখতে সব রাজনৈতিক অপশক্তি মোকাবিলায় সমগ্র জাতিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

    আইডইবি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোরাদ হোসেন মোল্ল্যা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ আব্দুল আজিজ ও শাহ আলম মজুমদার।

  • বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কেন পালানোর সুযোগ দিলেন জিয়া

    বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কেন পালানোর সুযোগ দিলেন জিয়া

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘১৫ আগস্টের সঙ্গে জিয়াউর রহমান যদি জড়িত নাই থাকতো তাহলে তিনি এ খুনিদের নিরাপদে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিলেন কেন? মির্জা ফখরুল সাহেব এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের শোক দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সেভেন্টি ফাইভের কন্সপাইরেসি কন্টিনিউ হয়েছে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে জড়িত, তারাই ২১ আগস্ট হামলা সংঘটিত করেছেন। মুফতি হান্নান আদালতে স্বীকার করেছে ২১ আগস্ট হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং নির্দেশদাতা তারেক রহমান।’

    বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘যদি আপনারা জড়িত না থাকেন তাহলে এফবিআইকে কেন তখন তদন্ত করতে দিলেন না। স্কটল্যান্ডের তদন্ত টিমকে কেন কাজ করতে দিলেন না?’

    তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিন সকালেই খালেদা জিয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি কোথায় ছিলেন, কেন গিয়েছিলেন? যিনি দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠেন না, সূর্য ওঠার আগেই তার এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায় তিনি ঘটনা জানতেন এবং জড়িত ছিলেন।’

    ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘যারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে তাদের আমি বলতে চাই আপনারাই বলুন আপনাদের নেত্রী কেন ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন?’

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাইম টার্গেট করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। কিন্তু তাদের এ অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অলৌকিকভাবে আমাদের নেত্রী বেঁচে যান।’

    এ সময় ১৫ আগস্ট জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তার দলই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, ‘সিরাজুদ্দৌলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন মীরজাফর, জগৎশেঠ, ইয়ার লতিফরা। ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে জোট বেঁধে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।’

    মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, নির্বাহী সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা, পারভিন জামান কল্পনা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।