Category: রাজণীতি

  • সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা জোরদার-দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ১১১ সুপারিশ

    সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা জোরদার-দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ১১১ সুপারিশ

    সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ১১১টি সুপারিশ করেছে এ সংক্রান্ত কমিটি।

    বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কমিটির সভাপতি সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের নেতৃত্বে সুপারিশমালা পেশ করা হয়।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬ তম সভায় সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শাহজাহান খানকে এ কমিটির প্রধান করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও ৮ জন সদস্যকে কো-অপ্ট করা হয়।

    তিনি বলেন, কমিটি পরপর ৭টি সভার মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত এবং সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। প্রতিবেদনে মোট ১১১টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আশু করণীয় ৫০টি, স্বল্প মেয়াদী ৩২টি এবং দীর্ঘ মেয়াদী ২৯টি সুপারিশ।

    কমিটির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও সড়কে চলাচলের পরিবেশ, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অসর্তকতা, সড়ক নির্মাণে প্রকৌশলগত ত্রুটি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালনে অনীহা, যানবাহন ও সড়ক ব্যবহারকারী তথা চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবার অসচতেনতা, সড়কের পাশে বসবাসরত জনগণের অসচতেনতা ইত্যাদি।

    প্রতিবেদনে করা সুপারিশগুলো হলো- সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা ও শিক্ষা, প্রচার-প্রচারণা, মহাসড়কের প্রকৌশলগত বিষয়াদি, কারিগরি দিক, রাস্তার উপর বিভিন্ন স্থাপনা ও রাস্তার দু’পাশে বৃক্ষরোপণ, হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা/ইজারা, বাস স্টপেজ, বাস-বে, ডিভাইডার, লেন, লেভেল ক্রসিং, মহাসড়কের সঙ্গে গ্রামীণ রাস্তার সংযোগ, ঢাকা শহরের বাস ফ্রাঞ্চাইজিং, ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন ইত্যাদি।

    ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা আহ্বান করে এসব সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হবে।

    সুপারিশমালা বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করার প্রস্তাবনা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কমিটির সুপারিশ ও সড়ক পরিবহন আইন আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই। সাধারণত কমিটি গঠনের পর প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। তবে এটি তার ব্যতিক্রম।

  • পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে শাস্তির দাবী

    পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে শাস্তির দাবী

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীণ মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতসহ ১৫ আগষ্ট ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত পলাতক খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
    বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীরা এ দাবী জানান। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জিনিয়া আফরোজ হেলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাষক আলমগীর হোসেন কবিরাজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মামুন মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জালাল উদ্দিন সরদার, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সরদার, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন খলিফা, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন আকন প্রমুখ। শেষে জাতির পিতাসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

  • প্রত্যাবাসনের জন্য কাউকে না পাওয়াটা দুঃখজনক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রত্যাবাসনের জন্য কাউকে না পাওয়াটা দুঃখজনক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রত্যাবাসনের জন্য কাউকে না পাওয়াটা দুঃখজনক। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়নি, আগামীতেও চলবে। কাউকে পাওয়া গেলে পাঠানো হবে।

    তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম আজ থেকে স্বল্প আকারে হলেও প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। কিন্তু আমরা আশা ছাড়িনি। আমরা এখনো প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আশায় বুক বেঁধে আছি। আজকের বিষয়টি দুঃখজনক। পরবর্তী সময়ে কী করব, আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।

    বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত কেউ ফিরতে রাজি না হওয়ায় বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

    আরো পড়ুন: মিটফোর্ডে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গুরোগী ১০২ জন, ৩ দিনে ৩ নারীর মৃত্যু

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে প্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের আরামের জীবন থেকে আরাম কমানো হবে, যাতে তারা ফিরতে রাজি হয়।

  • শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ২০ বার

    শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ২০ বার

    ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর ক্ষমতা নয়, দেশের মানুষের অধিকার আদায়, যুদ্ধাপরাধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এসব বিচারের রায় কার্যকর করেন। এসব কঠিন কাজ সম্পন্ন করতে তিনি শত্রুপক্ষের কমপক্ষে ২০ বার হত্যার চেষ্টার সম্মুখীন হন।

    এসব মামলার মধ্যে বোমা ও গুলিবর্ষণের ১৪টি ঘটনা রয়েছে। তবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা রক্ষা পেলেও নিহত হন ২৪ নেতাকর্মী। আহত হন চার শতাধিক নেতাকর্মী।

    ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রথম সশস্ত্র হামলা হয় ঢাকায় সচিবালয়ের সামনে। সেদিন তার গাড়ি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি করা হয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচিকালে ওই হামলায় গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন।

    দ্বিতীয় হামলা হয় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার ট্রাক মিছিলে। ওই সময় তিনি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আটদলীয় জোটের জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তখন পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে ২৪ জন নিহত হন। যাদের মধ্যে ৯ জন শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হন।

    পরের হামলাটি হয় ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের গড়া দল ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন। ওই ঘটনার দুটি মামলায় ২৮ বছর পর বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১১ আসামির যাবজ্জীবন এবং অপর দন্ডবিধি আইনের মামলায় একই আসামিদের ২০ বছর করে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

    এর পর ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চতুর্থ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় ধানমন্ডির গ্রিন রোডের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গাড়িতে গুলি লাগলেও তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। একই বছর ২৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিমসহ অন্যরা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

    পরের হত্যাচেষ্টা হয় ১৯৯৪ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেনমার্চ করার সময় পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে। এ সময় শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। অসংখ্য গুলি লাগে বগিটিতে।

    ১৯৯৫ সালের মার্চে রাজধানীর পান্থপথে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বোমা হামলা চালানো হয়। তখন দলের নেতাকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর শেখ রাসেল স্কয়ারের কাছে সমাবেশে ভাষণদানরত অবস্থায় শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।

    পরের হত্যাচেষ্টা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায়। ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে ২০ জন আহত হন।

    ২০০০ সালের ২০ জুলাই শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জঙ্গিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয় মাঠের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখে। ২২ জুলাই সেখানে জনসভায় শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু বোমাটি আগেই অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার মামলায় ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট ১০ আসামিকে গুলিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তিন আসামির ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা নির্বাচনী জনসভা করতে সিলেটে গেলে সেখানে বোমা পুঁতে রেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু হামলার পরিকল্পনার আগের দিন জনসভাস্থলের অদূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহত হলে ওই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সদস্য মাসুদ আহমেদ শাকিল ও আবু ওবায়দা হারুন আহত হয়। ওই ঘটনার মামলায় হুজির আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা আবু সাইদ ওরফে আবু জাফর ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর আদালতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

    পরের হত্যাচেষ্টা হয় ২০০১ সালের ৩০ মে। ওই দিন খুলনায় রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘাতকচক্র সেখানে শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখলে তা বিস্ফোরণের আগেই গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালায়।

    ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিএনপি অফিসের সামনে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ওই দিন তার গাড়িবহরে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে তার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে ওই হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, লুটতরাজের ঘটনায় প্রকৃত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে উল্টো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের আসামি করে মামলা দেয় পুলিশ। পরে ওই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়।

    এর পর সবচেয়ে বড় হত্যাচেষ্টা হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওই দিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশস্থলে চালানো হয় গ্রেনেড হামলা। ওই ঘটনায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে যান। নিহত হন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন।

    ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে রাখা হয়েছিল জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাবজেলে। সেই সময় খাবারে ক্রমাগত বিষ মিশিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

    ২০১১ সালে শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের শত্রুরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সে জন্য আগাম টাকাও প্রদান করা হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো, যা পরে ব্যর্থ হয়ে যায়। সবশেষ ২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময়ে কাওরানবাজারে তার গাড়িবহরে বোমা হামলার চেষ্টা চালায় জেএমবি।

    এছাড়া ২০১৮-১৯ সালে কয়েকবার তাকে বহনকারী বিমানে ত্রুটি ধরা পড়ে। এগুলোও হত্যা চেষ্টা বা হত্যা ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন অনেকে।

  • ভালো রেজাল্ট হলে সচিব, খারাপ রেজাল্টে মন্ত্রী

    ভালো রেজাল্ট হলে সচিব, খারাপ রেজাল্টে মন্ত্রী

    ভালো রেজাল্ট হলে ভালো ডাক্তার হবেন, খারাপ রেজাল্ট হলে হাসপাতালের মালিক হবেন। ভালো রেজাল্ট হলে ইঞ্জিনিয়ার হবেন, খারাপ রেজাল্ট হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক হবেন। ভালো রেজাল্ট হলে অধ্যাপক হয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতায় তরী শব্দের ব্যবহার নিয়ে থিসিস লিখবেন, খারাপ রেজাল্ট হলে রবীন্দ্রনাথ হবেন। ভালো রেজাল্ট হলে সচিব হবেন, খারাপ রেজাল্ট হলে মন্ত্রী হবেন। ভালো রেজাল্টেও মন্ত্রী হয় কিন্তু…

    আবার মেডিকালের ফার্স্ট বয়/গার্ল সবচেয়ে ভালো ডাক্তার হয় না। আর্ট কলেজের ফার্স্ট বয়/গার্ল সবচেয়ে ভালো আর্টিস্ট হয় না। বাংলা সাহিত্যের ফার্স্ট বয়/গার্ল বড় কবি হয় না। আবার ভালো ছাত্রও লেখক হতে পারেন, যেমন হুমায়ূন আহমেদ, বোর্ডের সেকেন্ড স্ট্যান্ড করা। কিন্তু তিনি বিজ্ঞান পড়েছেন, সাহিত্য নয়।

    পরীক্ষার ফলের সঙ্গে বাস্তবজীবনের সম্পর্ক কম। বাংলাদেশের সেরা ১০ ধনীর কেউই ভালো ছাত্র ছিলেন না।

    বিবিসির জরিপে হাজার বছরের সেরা বাঙালিদের ২০ জনের দুই/তিনজন মাত্র ভালো ছাত্র ছিলেন, শেরে বাংলা, আর কিছুটা অমর্ত্য সেন। বাকিরা কেউই ভালো ছাত্র ছিলেন না।

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার: কতটা উপকৃত হবে দেশ

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার: কতটা উপকৃত হবে দেশ

    সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালু করতে যাচ্ছে। ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের একবেলা খাবার খাওয়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিকের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে একবেলা খাবার দেয়া হবে।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম।

    তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া হ্রাস করতে সারা বছর পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার দিতে এ নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ নীতিমালা অনুসারে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে পাঁচদিন গরম খাবার ও একদিন পুষ্টিকর বিস্কুট দেয়া হবে।’

    একটা বিষয় প্রণিধানযোগ্য, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার’ দিতেই এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। অথচ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হওয়া উচিত মানসম্পন্ন শিক্ষার বাতিঘর।

    দেশে খাদ্যের অভাব আছে, এমন তথ্য সাম্প্রতিককালে কারো জানা নেই। স্কুলগামী শিশুরা না খেয়ে পড়তে যায়, বিষয়টি এমনও নয়। তাছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো দুই শিফটে চলে। এর প্রথমটি চলে দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত, দ্বিতীয়টি বারোটা থেকে চারটা পর্যন্ত। দুটি শিফটের মধ্যবর্তী সময় দুপুর বারোটা।  নিশ্চিতভাবেই এই সময়টা ‘মিড-ডে মিল’ গ্রহণের সময়।

    কিন্তু, প্রথম শিফট যখন শেষ হয়, বাচ্চারা যার যার বাড়ি ফিরে গিয়েই দুপুরের খাবার খেতে পারে।  অপরদিকে দ্বিতীয় শিফটের অপেক্ষাকৃত বড় বাচ্চারা বারোটার দিকে বাড়ি থেকে খেয়েই বিদ্যালয়ে আসে।  স্কুল কর্তৃক সরবরাহকৃত একটি বিস্কুটের প্যাকেট দিয়েই বাকি সময়টুকু স্কুলে নির্ধারিত সময় পার করতে পারবে বলে মনে হয়।

    এখন মিড-ডে মিল চালু হলে দুই শিফটের মধ্যবর্তী সময়ে খাওয়া-দাওয়ার বিশাল আয়োজন হবে।  ছয়-সাতশো ছেলেমেয়ের খাওয়ার আয়োজনটি একটি হুলস্থূল কাণ্ডে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  প্রতিদিন কয়েকশো ছেলেমেয়ের খাওয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে উভয় শিফটের ক্লাসগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা শিক্ষকদের জন্য সহজ নাও হতে পারে।

    এমনিতেই বর্তমানে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথেষ্ট।  ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেকটাই কমে এসেছে। নির্ধারিত ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থী দিয়েই প্রতিটি ক্লাসরুম পরিপূর্ণ থাকে। এদেরকে ধরে রাখার জন্য প্রতিটি স্কুলের ভৌত অবকাঠামোর আধুনিকায়নসহ আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই সময়ের সবচেয়ে শ্রেষ্ট চাহিদা। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মনে রাখা প্রয়োজন, প্রলোভন দেখিয়ে আর যাই হোক, পাঠদান হয় না।দুপুরের খাবার-মিড ডে মিল

    ইতিমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সাথে দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্ম যুক্ত হচ্ছে। এটা অবশ্যই আশার কথা। তবে হতাশার কথা হল, অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিকমত পাঠদান হয় না, হচ্ছে না।  যেনতেনভাবে আয়োজিত পিইসি নামের পরীক্ষার রেজাল্টের যে চিত্র আমরা প্রতিবছর দেখি, তার সাথে বাস্তবতার ফারাক অনেক বেশিই থাকে।

    সরকার কোয়ালিটি এডুকেশন চায়। এ জন্য শিক্ষাখাতে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও প্রতিবছর বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। দেখার বিষয় হল, সাধারণ মানুষের করের টাকায় বাজেটে বরাদ্দকৃত টাকা সঠিক উদ্দেশ্যে ঠিকমত ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা।

    বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। ভাতের অভাবে দিন কাটায় এমন পরিবার আছে বলে মনে হয় না। তাই, ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্পটি শিক্ষার মানোন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবে তা কিন্তু অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। তার চেয়ে বরং সব শিক্ষার্থীর ইউনিফরম ও খাতা কলম খরচের পুরোটা সরকার বহন করলে এর কার্যকারিতা বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। মিড ডে মিল প্রকল্পের চেয়ে এক্ষেত্রে খরচের হারও কম হতে পারে।

    দরকার, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।  তৃতীয় পক্ষের কারো পকেট যাতে ভারি না হয়, সেই দিকটায় নজরদারিটাই যে কোন প্রকল্প সফল হওয়ার মূল কারণ। আমাদের ঘাটতি এখানেই প্রবল।

  • কমিটি দিতে নিজের লোক খুঁজবেন না, দলের লোক খুঁজুন, বললেন ওবায়দুল কাদের

    কমিটি দিতে নিজের লোক খুঁজবেন না, দলের লোক খুঁজুন, বললেন ওবায়দুল কাদের

    বুধবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। বিভিন্ন ইউনিট ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর দ্রুত সম্মেলন করারও নির্দেশ দেন তিনি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলো যাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। শুধু সহযোগী সংগঠন নয়, আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা শাখা সংগঠনের যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের স্ব স্ব সম্মেলন সম্পন্ন করতে কেন্দ্র থেকে নোটিশ দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। কমিটিগুলো যেগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের জাতীয় সম্মেলনের আগেই সম্মেলন করতে হবে।’
    কমিটিতে ব্যক্তি পছন্দের লোক না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কমিটি করতে গিয়ে নিজের লোক খুঁজবেন না, দলের লোক খুঁজবেন। কেউ নিজের থাকবেন না। সবাই আওয়ামী লীগের, সবাই শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকবেন।’ ‘নিজের লোক কখনও চিরস্থায়ী থাকে না। দলের জন্য কাজ করুন। দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের অবহেলা করবেন না। যারা অসহায় অসচ্ছল, তাদের পাশে দাঁড়ান।’

    বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের জন্য আটকে আছে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি কেবল আদালতই দিতে পারেন। এখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। আওয়ামী লীগ সরকার কখনই আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করে না। বিএনপির এমন সব অভিযোগ হাস্যকর।

  • অবর্ণনীয় মর্মান্তিক ছিল সেই দৃশ্য

    অবর্ণনীয় মর্মান্তিক ছিল সেই দৃশ্য

    আজ ২১ আগস্ট। স্মরণকালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পঞ্চদশ বার্ষিকী। ২০০৪ সালের আজকের দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় তিনশ’।

    দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ২১ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের দিনটি ছিল শনিবার। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে সেদিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ডাকে সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। তাই মঞ্চ নির্মাণ না করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সমাবেশে অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের পর শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

    সময় তখন বিকেল ৫টা ২২ মিনিট। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তৃতা শেষ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগোচ্ছিলেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির  কাছে। মুহূর্তেই শুরু হয় নারকীয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ মুহূর্তেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৩টি গ্রেনেড হামলার বীভৎসতায় রক্ত-মাংসের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। শান্তিপ্রিয় অসংখ্য মানুষের হাত-পাসহ মানবদেহের বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। রক্তে লাল হয়ে যায় পিচঢালা কালো পথ। অস্থায়ী সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে রক্তের অনাহুত আলপনা, শত শত মানুষের আর্তচিৎকার। প্রাণ বাঁচানোর জন্য মুমূর্ষুদের আকুতি, কাতর আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক ছিল সেই দৃশ্য।

    তবে দলের নেতাকর্মী ও দেহরক্ষীদের আত্মত্যাগে বেঁচে যান ভয়ঙ্কর এই গ্রেনেড হামলার প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা। অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। মানববর্ম রচনা করে তার জীবনরক্ষা করে প্রিয় নেত্রীকে গাড়িতে উঠিয়ে দেন তারই সহকর্মীরা। এরপরও বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ঘাতকচক্র তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২টি গুলি ছুড়েছিল। সৌভাগ্যবশত এ গুলিবর্ষণ থেকেও প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

    সেদিনের এই গ্রেনেড হামলায় ঝরে যায় ২৪টি তাজা প্রাণ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে আড়াল করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনাস্থলেই জীবন বিলিয়ে দেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ। আর গ্রেনেডের স্প্নিন্টারের আঘাতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান ২৪ আগস্ট মারা যান। আরও নিহত হন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সেন্টু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), ঢাকা মহানগরের ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুফিয়া বেগম, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা মমতাজ রীনা, মহিলা আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিয়া বেগম, জাতীয় শ্রমিক লীগ কর্মী নাসির উদ্দিন সর্দার, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড রিকশা শ্রমিক লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হানিফ, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন, যুবলীগ বালুঘাট ইউনিটের সভাপতি ও ক্যান্টনমেন্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, হোসেনপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি লিটন মুন্সী লিটু, ৮৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আতিক সরকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কর্মী ও রিরোলিং মিল ব্যবসায়ী রতন সিকদার, ছাত্রলীগ কর্মী ও সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মামুন মৃধা, জামালপুর আওয়ামী লীগ কর্মী আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ কর্মী ইছহাক মিয়া, মো. শামসুদ্দিন, মমিন আলী, আবুল কাসেম ও জাহেদ আলী। এ ছাড়া আরও দু’জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়; তবে তাদের পরিচয় মেলেনি।

    অন্যদিকে গ্রেনেড হামলাকালে শেখ হাসিনাকে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করা ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মাথায় অসংখ্য স্প্নিন্টার বিদ্ধ হয়। প্রায় আড়াই বছর অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ এবং দেশ-বিদেশে চিকিৎসার পর ২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। এদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনও দেহে অসংখ্য স্প্নিন্টারের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে পথ চলছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারাসহ অনেকেই।

    আজকের কর্মসূচি: দিবসটি উপলক্ষে বুধবার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে প্রতি বছরের মতো এবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

    আজ সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং বিকেল ৪টায় রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসের কর্মসূচি পালন করতে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

  • আমি সেই জজ মিয়াই

    আমি সেই জজ মিয়াই

    ২০০৪ সালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলার সাজানো আসামি জজ মিয়া বলেছেন, আমাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। রিমান্ডের নামে সাজানো জবানবন্দি আদায়ে দীর্ঘ এক মাস ধরে আমার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এত নির্যাতন সহ্য করার পরও আজ পর্যন্ত আমি এর কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। আগে যেই জজ মিয়া ছিলাম এখনো সেই জজ মিয়াই রয়ে গেলাম।

    পুলিশের নির্যাতনের বিষয়ে জজ মিয়া বলেন, প্রথমে আমাকে গ্রেনেড হামলার ভিডিওগুলো দেখানো হয় এবং বলে ভিডিওতে যেভাবে হামলা করা হয়েছে সেরকম জবানবন্দি দিতে। আমি মিথ্যা জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করলে প্রথমে আমাকে অমানসিক নির্যাতন করে এবং পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জবানবন্দি নেয়। সেখানে সিআইডির তিন জন কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানান তিনি। তারা হলেন—এস এস রুহুল আমিন, এএসপি মুন্সী আতিক এবং এএসপি আবদুর রশিদ।

    নিজের পরিবার সম্পর্কে জজ মিয়া বলেন, ছেলের শোক এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আঠারো মাস আগে তার মা জোবেদা বেগম মারা গেছেন। আগেই আমার মামলা চালানোর জন্য মা ভিটামাটি সব বিক্রি করে দিয়েছেন। টাকার অভাবে ঠিকমতো মায়ের চিকিত্সাও করতে পারিনি।

    বোন খুরশিদা বেগম ডিগ্রি পাশ করে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নার্সের চাকরি করেন। এছাড়া তার স্ত্রী সুপিয়া আক্তারও প্রাইভেট হাসপাতালে নার্সের চাকরি করেন। নিজের সম্পর্কে বলেন, আমাকে নিয়ে এত হইচই হলো; কিন্তু এখনো আমাকে প্রাইভেট কোম্পানির গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে।

    এতো নির্যাতন সহ্য করার পরেও কেন কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি—এ বিষয়ে বলেন, অনেকেই অনেক রকম আশ্বাস দিয়েছেন; কিন্তু ১৪-১৫ বছরেও কেউ আজ পর্যন্ত আমার জন্য কিছুই করেননি। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই দায়মুক্ত হয়ে যায়। আমি চাই আমার যারা ক্ষতি করেছে তারা যেনো এর উপযুক্ত শাস্তি পায়। পাশাপাশি আমি যেন সব মানসিক যন্ত্রণা ভুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারি। তার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।

  • ঘাতকদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করা

    ঘাতকদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করা

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ২১ আগস্ট ঘাতকচক্রের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে দেশে স্বৈরশাসন ও জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেয়নি। ২১শে আগস্ট উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, শোকাবহ ২১ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। ২০০৪ সালের এ দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জনসভায় বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ কাপুরুষোচিত হামলায় শহীদ হন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী।=

    শোকাবহ ওই মর্মান্তিক ঘটনায় সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি। সাথে সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    তিনি বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের ফসল মহান স্বাধীনতা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে শাসকের বুলেটের আঘাতে। তাই এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ কখনো মসৃণ ছিল না। অগণতান্ত্রিক ও অশুভশক্তি বারবার গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উপর প্রথম আঘাত আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এদিন স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে অকালে জীবন দিতে হয়েছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, এছাড়া ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। এরপরও ঘাতকচক্র থেমে থাকেনি। তারা বঙ্গবন্ধু তনয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জনসভা চলাকালীন ইতিহাসের বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালায়।

    আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান দলের ২৪ জন নেতাকর্মী। আহত হন অনেকে। এ হামলায় বেঁচে থাকা অনেকে আজও পঙ্গুত্ববরণ করে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

    আবদুল হামিদ বলেন, গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণুতা অপরিহার্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে সকল রাজনৈতিক দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণ একটি আত্মমর্যাদাশীল ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসবেন, এই প্রত্যাশা করি।