Category: রাজণীতি

  • দালালদের দেখানো ‘সোনার হরিণ’ থেকে সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    দালালদের দেখানো ‘সোনার হরিণ’ থেকে সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বিদেশে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নানা ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও মানুষ অসচেতনার কারণে দালালের খপ্পরে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটা জিনিস দেখি, কিছু কিছু দালাল শ্রেণির লোক থাকে, যারা গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে মানুষকে বড় বড় স্বপ্ন দেখায়। সোনার হরিণের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বাইরে (বিদেশ) পাঠায়। তারা শুধু বাইরেই পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরপর কে কোথায় গেছে, সেই খবর কেউ জানে না।

    তিনি বলেন, মানুষ জমিজমা বিক্রি করে, সবকিছু বন্ধক রেখে দালালকে টাকা দিয়ে বাইরে যায়। কিন্তু যাওয়ার পর সেখানে তাদের কোনো খবর থাকে না। অনেক সময় তাদের কোনো কাজের ঠিকানাও থাকে না। তখন আবার তাদের আত্মীয়-স্বজনকে চাপ দেয় এবং তাদের কাছ থেকে আবারও টাকা নেয়। এ ধরনের অনিয়ম সারা বাংলাদেশে আছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করছি জনগণকে বোঝাতে। আবার অনেক দেশে আমাদের মেয়েরা যায়। কিন্তু তারা কোন ধরনের কাজ করতে পারবে -সেসব তথ্য নেয়া হয় না। কী ধরনের কাজ করতে পারবে বা করবে -এর জন্য ট্রেনিংও দেয়া হয় না। ফলে যে নারীরা যাচ্ছে তারা কোনো কাজ করতে পারে না এবং সেখানে অত্যাচারেরও শিকার হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো বন্ধ করতে আমরা ইতোমধ্যে তাদের স্মার্টকার্ড করে দেয়া, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, কে কোথায় কাজ নিয়ে যাচ্ছে সেগুলোর খবর রাখার কাজ করছি। সারা বাংলাদেশে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। এসব সেন্টারের মাধ্যমে তাদের রেজিস্ট্রেশন করা, এ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তাদেরকে পাঠানো, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

    তিনি বলেন, এসব সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই দালালের খপ্পরে পড়ে। যার ফলে বাইরে গিয়ে তারা বিপদে পড়ে যায়। মানুষ যাতে ধোঁকাবাজিতে না পড়ে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। এভাবে কোথাও কেউ যেন অকালে হারিয়ে না যায়। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা, তাদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদেরই।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু কিছু দালাল শ্রেণির লোক সোনার হরিণের স্বপ্ন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মানুষকে দেশের বাইরে পাঠায়। মানুষ যাতে ওদের মুখরোচক কথার ধোঁকাবাজিতে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। এভাবে কোথায়ও গিয়ে কেউ যেন অকালে হারিয়ে না যায়।

    তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের দেশের মানুষ যখন বিদেশে যায়, আমরা সরকার গঠনের পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করার কাজ করে আসছি। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি, যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনে বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে মানুষ বিদেশ যেতে পারে। আর তারা কোথায় কী কাজ করতে যাচ্ছেন তার একটা খবর নেয়া, যেন সঠিক কাজটা পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা, যেখানে যে কাজে যাবে সেভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, সে দেশের আইন-কানুন সম্পর্কে জানানো, এসব বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।

  • ইতিহাসের আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের অহংকার

    ইতিহাসের আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের অহংকার

    ইতিহাস বস্তুত রসবোধহীন। শুধু সময়কে ফ্রেমে আটকে দিয়ে চলে যায়। কারো মন্বন্তর বা কারো হিরোইজম ফুটিয়ে তোলার গরজ কখনো দেখায়নি। তবে অদেখানো প্রচেষ্টাগুলোতে অনেক পদাঙ্ক আঁকা থাকে যা সময়ের বির্বতনে খুব প্রাসঙ্গিক ও জরুরী হয়ে ওঠে। আমাদের গর্হিত কাজ হলো নিরাসক্ত ইতিহাসকে পর্যালোচনা না করা। ফলে প্রয়োজনীয় কিছু ঘটনা, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিত্বকে হতে দেখা যায় নিশ্চুপ। এই ব্যক্তি বা ঘটনা আসলে কি অতাটা ক্ষণস্থায়ী, যতটা ইতিহাস দ্রুত পাল্টায়? আমরা অনুধাবন করতে পারি না। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো কর্নেল তাহের, কখনো শহীদ নূর হোসেন আবার শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে দেখা গেছে।এদিকে বছরের মধ্যে ২ ডিসেম্বর এলে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে স্তুতি করতে দেখা গেছে তার সমর্থকদের। কারন এদিন স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে সবুজ সূর্যোদয়ের দিন। পার্বত্য চট্টগ্রামের হিংসা এবং রক্তাক্ত ঝর্ণাধারা বন্ধ করে শান্তি চুক্তির দিন। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন চিফ হুইপ থাকা অবস্থায় শান্তির নিশ্চয়তা করেছিলেন তিনি। কিন্তু আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ কি অতটুকুতে সীমাবদ্ধ কেউ? নতুবা শাসক দলের নীতি নির্ধারণি মহলের হেভিওয়েট একজন? অথবা জাতির জনকের ভাগ্নে? আমার মতে, এগুলো তার পরিচয় হতে পারে। কিন্তু ততোটুকু অবিন্যাস্ত যতবড় এই বিরল ব্যক্তিত্ব। এর কারণ আমাদের অদূরদর্শীতা কিংবা নিরাসক্ত ইতিহাসকে অনুপস্থিত করে রাখা। রাজনীতিতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে কখনো কখনো চিন্ময়বোধন হচ্ছে, তবে আমি মনে করি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রশ্নে ভূত-ভবিষ্যতের রাজনীতি কোন প্রসঙ্গ নয়। স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে তাকে নিয়ে আলোচনার আরো বৃহৎ পরিধি রয়েছে; যা সময়োচিত এবং কাঙ্খিত বাংলাদেশ বিনির্মানে রূপরেখা এঁকে দিয়েছেন। ফলত আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে জানাশোনা খুব বেশি প্রাসাঙ্গিক। অন্তত রাজনৈতিব বুহ্য বন্ধনে নয়, কারণ রাজনীতিতে এমন কোন মানদন্ড নেই যে; কেউ সফল না ব্যর্থ তা মেপে ঘোষণা করে দেবে।

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে দুটি স্পর্শকাতর স্থানে বীরোচিত দৃষ্টান্তের নাম। প্রথমত ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি করার জন্য। যে অধ্যায় কখনো অন্তঃনিরীক্ষায় আসেনি বা পর্যালোচনাও হয়নি তেমন। অখেয়ালে অদেখা থেকে হারিয়ে যাবার মত হয়েছে অবস্থা। দ্বিতীয়ত হল সেটি ১৫ আগস্টে মর্মভেদী রাতে তার ভূমিকা। অখন্ড বাংলাদেশ রক্ষা করতে পার্বত্য শান্তিচুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার আগে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, স্বাধীন দেশে কেন দরকার হয়েছিল আবার কোন চুক্তি?

    পার্বত্য চট্টগ্রামতো বাংলাদেশের আয়তনের বাইরে নয়। তবে কি এমন বিষফোঁড়া হয়ে উঠছিল ঐ অঞ্চল? এই উত্তরগুলো খুঁজতে গেলেই বেড়িয়ে আসবে একজন শান্তির সন্ধানী অগ্রপথিক। শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্রোহীদের সাথে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল ৬’শ বছর আগে। পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকারী উপজাতিরা বন্তুত বাঙাল দেশের বংশদ্ভুত নয়। প্রাচীন ইতিহাস স্বাক্ষী দেয়, কুকি আদিবাসীরা ছিল এই জনপদের প্রাচীন গোষ্ঠী। চাকমাদের গোড়াপত্তন ঘটে পনেরো শতকে। চাকমা রাজা মোআন তসনি ১৪১৮ খ্রিঃ ব্রহ্মদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নেয় রামু ও টেকনাফে এবং তিনি তাড়িয়ে দেন কুকিদের। মোআন তাসনির পাশাপাশি এসে বসতি স্থাপন করে চাকমা, মারমা (মগ)রা। সতেরো শতকে অর্থাৎ ১৬৬৬ সালে ভয়াবহ আওরঙ্গজেবের শাসনামলে মুঘলরা পার্বত্য চট্টগ্রাম অধিকার করে এবং শাসন ক্ষমতা দেয় ‘বাঙাল’ শাসকদের হাতে। বাঙালদের হাতে শাসনক্ষমতা মেনে নিতে পারে না আদিবাসিরা। এতে তারা মুঘলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সম্ভবক ঐটিই ছিল পার্বত্য অঞ্চলের প্রথম বিদ্রোহ। ১৭৬০ সালে মীর কাশেম খাঁর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন নেয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী। এটিও মেনে নিতে পারে না চাকমারা। ইংরেজদের বিরুদ্ধে শুরু হয় গেরিলা যুদ্ধ। চলে ২৫ বছর, ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত। ১৮৬০ সালে চট্টগ্রাম জেলা থেকে পৃথক জেলা ঘোষণা করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রামকে। ইংরেজরা এই বিভক্তি দিয়েই মূলত সমতল বাঙালী এবং পর্বতের আদিবাসীদের মধ্যে তুষের আগুনে হাওয়া দিয়েছিল।

    আর ১৯০০ সালে কোম্পানীর স্বার্থে উপজাতিদের নিয়ে প্রণয়ন করা হয় বিধিমালা; যেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়েল নামে অভিহিত। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে অশাসিত বা অনিয়ন্ত্রিত এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়। কার্যত এর মাধ্যমে বাঙাল ভূঁখন্ড থেকে এ অংশটি আলাদা করে ফেলা হয়। পাওয়ার অফ এটর্নি প্রদান করা হয় আদিবাসীদের হাতে। যার বদৌলতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর রাঙামাটি এবং বিভিন্ন শহরে উপজাতিরা উত্তোলন করে রাখে ভারতীয় পতাকা ও ব্রাহ্ম পতাকা। মজার কথা হল মুঘল বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী শাসন যেমন উপজাতিরা মানতে পারেনি। তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেরও ঘোর বিরোধী ছিল আদিবাসী বয়স্করা।

    তারা তখন গোর পাকিস্তান সমর্থক। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বাংলাধেশ স্বাধীন হলে উপজাতিরা সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা অঞ্চল অর্থাৎ স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল দাবী করে বসে। যে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হত গোটা বাঙালির কাছে হঠকারিতার। ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল আদিবাসী নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ৪ দফা দাবী নিয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু দেখলেন তাদের দাবী কোনটিই মেনে নেয়ার মত নয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যান লারমারা। একে একে গঠন করতে শুরু করেন সশস্ত্র বাহিনী। ১৯৭৩ সালে মানবেন্দ্র লারমা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শান্তি বাহিনীতে সদস্য সংগ্রহ চলে। চলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ। নতুন করে বিদ্রোহের ডাক দিতে প্রস্তুত তারা।

    ১৯৭৪ সালে লারমার শান্তিবাহিনী ভারতের কাছে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারকে ভারত জানিয়ে দেয়। এতে বেকায়দায় পরে যান লারমা ও তার বাহিনী। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামরিক ক্যু’রা যে নারকীয় উল্লাসে মেতে ওঠে তাতে আরো শক্তি পায় পার্বত্যবাহিনী। মানবেন্দ্র লারমা আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদ্রোহের ঘোষণা দেয়। পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করে লড়াই। শান্তিবাহিনী প্রথম হামলা চালায় ১৯৭৬ সালে পুলিশের উপর। যদিও এই বিদ্রোহে সাহায্যের জন্য ভারত এগিয়ে আসে। পুরোপুরি অশান্ত হয়ে ওঠে পার্বত্য অঞ্চল। পার্বত্য বিদ্রোহ নিরসন করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন।

    তিনি ১৯৭৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচুর সমতলের বাঙালীর পুর্নবাসন করেন। এটি ছিল তার আত্মঘাতি সিদ্ধান্তর একটি।

    কারন, বাঙালী পাহাড়িতে তখন লড়াইটা আরো ভয়ানকভাবে বৃদ্ধি পায়। দেশে ও দেশের বাইরে ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়া হত্যার মধ্য দিয়ে আরো এলোমেলো হয়ে পরে পরিস্থিতি। উত্তপ্ত চট্টগ্রাম শান্ত হয় না। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে হানাহানি, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি। দেখা গেছে স্বাধীন বাংলাদেশে শান্তিবাহিনী ৩৪ বার যুদ্ধে বিরতি ঘোষণা করেছে আর শান্তি চুক্তির আলোচনা কত হয়েছে আর কতবার ভেস্তে গেছে তার হিসেব নেই। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য অঞ্চলের প্রতি দৃষ্টি আরোপ করেন। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দেয়া হয় তার দায়িত্ব।

    ১৪ মে থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৮ মাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা তাকে সফলতা এনে দেয়। এক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরী যে, ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর কাছে যখন শন্তু লারমা ৪ দফা দাবী নিয়ে গিয়েছিলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাকে বলেছিলেন, ‘যা বাঙালি হইয়া যা’।

    জাতির জনক এর মাধ্যমে কি বোঝাতে চেয়েছিলেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে সংসদে এক অধিবেশনে মানবেন্দ্র লারমা ক্রুদ্ধ স্বরেই বলেছিলেন, আমি একজন চাকমা। একজন চাকমা কখনো ম্রোং হতে পারে না এবং চাকমা কখনো বাঙালি হতে পারে না। আমি চাকমা। আমি বাঙালি নই। আমি বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশী।

    আপনারাও বাংলাদেশী, তবে জাত হিসেবে আপনারা বাঙালি। আর উপজাতিরা কখনো বাঙালী হতে পারে না। স্ব-ঘোষিত এই অবাঙালিদের স্বাধীনতার পরে বেশ কয়েক রাষ্ট্রপ্রধান, উচুমাপের নেতা বাঙালী করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তারা ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সফল হয়েছিলেন। যথাযথ উদ্যোগ এবং ফলপ্রসূ আলোচনা ৬শ’ বছর ধরে চলমান সংঘাত নিরসন করে এক টেবিলে এনে বসায় বিদ্রোহীদের। এটা কি জাতি তথা বিশ^ শান্তির জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ? আমিতো মনে করি মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠান গড়ে যারা নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন, তাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ এবং যথার্থ শান্তি প্রতিষ্ঠার মাইলফলক ছিল এটি।

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রসঙ্গে আরো যে বিষয়টি আলোকপাত করা অত্যান্ত জরুরী তা হল, ১৫ আগস্টের ভয়ঙ্কর রাতে তার ভূমিকা। বিষয়টি অনেকেরই অজানা। আর যারা জানেন, তারা হয়তো তলিয়ে দেখতে ইচ্ছাপোষণ করেন না।

    জাতির জীবনে সবচেয়ে ভয়ানক ও মর্মস্পর্শী রাত ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাত। ঐ রাতে দেশ ও জাতির নৃশংস শত্রুরা মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাকান্ডে। চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় জাতির জনককে হত্যা করার। বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনী মাসকারেনহাস-এর ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে পাওয়া যায় তার অনুপুঙ্খ বর্ননা। ঐ রাতে কর্নেল ফারুখ নৃশংস হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ৭৫ থেকে ১৫০ জন সৈন্যর বড় বড় তিনটি দল প্রস্তুত করা হয়।

    শুধু জাতির জনক নয়, আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং শেক ফজলুল হক মনির বাড়িতেও হত্যাযজ্ঞ চালানো দায়িত্ব দেয়া হয় তিনটি সৈন্যদলের উপর। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি মেজর ডালিমকে আক্রমনের জন্য বলা হলেও তিনি তাতে রাজি না হয়ে বেছে নেয় আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়িত্ব। ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ডালিমের দল কেবিনেট মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর বাড়িতে পৌঁছে একই সময়ে জাতির জনক এবং শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনে আক্রমণ চলে। ঐ বাড়িতে মাত্র একজন পুলিশ পাহারায় ছিল।

    তাকে ভীত করতে ডালিম বাহিনী গুলি চালায়। পুলিশ কোন প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করতে পারেনি। এখানে ফ্লাসব্যাকে বলে নেয়া উচিত, জাতির জনকের বাসভবনে কি হচ্ছিল তখন? বঙ্গবন্ধুর বাড়ির প্রহরায় থাকা পুলিশ সদস্যরা গেটের বাইরে কালো উর্দি পরা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সৈন্য দেখে ভরকে যায় এবং কোন বাদানুবাদ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করে। গেটে প্রহরীরা সশস্ত্র বাহিনী দেখে ভয়ে গেট খুলে দিল।

    ফলে হন্তারকদের কোন বাঁধার মুখে পরতে হয় না। অথচ কর্তব্যানুসারে বঙ্গবন্ধু বা আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর বাসভবনে প্রহরায় থাকা পুলিশ সদস্যদের দ্বারা প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে হন্তারকরা, এটা হবার কাথা ছিল। এদিকে গুলির শব্দ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায় ৩০ বছরের যুবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর। সে জানালা দিয়ে উর্দি পরা সৈনিক দেখে নিজের কাছে রাখা স্টেনগানটি নিয়ে দোতলায় পিতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর কক্ষে ছুটে আসেন।

    পিতাকে জাগিয়ে পরিস্থিতি বলেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাত তখন শেখ মুজিবকে টেলিফোন করে। অনেক পরে লাইন পাওয়া যায়। আবদুর রব সেরনিয়াবাত বঙ্গবন্ধুকে জানায়, তার বাড়ি দুস্কৃতিকারী কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছে। টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে কেউ খুব উচ্চস্বরে কথা বলছিল। রব সেরনিয়াবাত নিশ্চিত হন জাতির জনকের বাড়িও আক্রান্ত হয়েছে। ফলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তিনি। তবে খুব দ্রুত উঠে জানালার দিকে ছুটে যান যুবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। উর্দি পরা হন্তারক সৈন্যদের ঠেকাতে জানালা থেকে সৈন্যদের লক্ষ্য করে স্টেনগানটি চালিয়ে দেন।

    ১৫ আগস্ট আক্রান্ত হওয়া তিনটি বাড়ির মধ্যে এই বাড়িতেই একমাত্র প্রতিরোধের মুখে পরে হন্তারক দল। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর এই প্রতিরোধ জাতিকে গভীর সংকটে ফেলতে উন্মাদ হয়ে যাওয়া সৈন্য রুখতে নিতান্ত দুর্বল।

    কিন্তু সার্বিক বিবেচনা আর একা তিনি যে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন সেটাকে কি প্রকৃতপক্ষে ছোট ভাবার অবকাশ আছে? মোটেও না। উল্টো আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর এই প্রচেষ্টা বিরোচিত এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। ঐ রাতে তিনি ততক্ষণ স্টেনগানটি সৈন্যদের দিকে তাক করে গুলি ছুড়তেই থাকেন, যতক্ষণ গুলির ম্যাগজিন শেষ না হয়। ম্যাগজিন শেষ হলে দ্রুত উপর তলায় ছুটে যান, গুলিভর্তি ট্রাংকের দিকে। দ্রুত মুহূর্তে ট্রাংকের চাবি খুঁজে না পেয়ে ট্রাংক ভাংতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। এ সময়ে বাসভবনে উঠে আসে ডালিমের হন্তারক বাহিনী। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ শুনতে পায় গুলির আওয়াজ এবং উপর তলায় এগিয়ে আসা সৈনিকের বুটের আওয়াজ।

    তিনি মেঝেতে স্টেনগান রেখে বসে থাকেন। সৈন্যদের অপেক্ষা করতে থাকেন। কারন এবার তার মৃত্যুর পালা। সৌভাগ্যক্রমে উপরে কেউ আসে না। তবে টানা বিশ মিনিট ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনতে পায় আর তীব্র চিৎকার। সব নিস্তব্দ হয়ে গেলে হাসানাত নিচে নেমে দেখে গোটা পরিবার তার আহত এবং লাশের স্তুপ হয়ে আছে।

    যদিও পরে ভারতে গিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা সামাল দিয়েছেন কিন্তু ১৫ আগস্টের রাতে একমাত্র প্রতিরোধকারী বীরকে কি কেউ আমরা সম্মান জানিয়েছি?

    শুরুতেই বলেছিলাম, নিরাসক্ত ইতিহাসকে আমরা না দেখতে দেখতে হারিয়েই ফেলছি প্রায়। তবে বাংলাদেশ অর্থাৎ স্বাধীনোত্তর বাংলায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ রাজনীতির অভিভাবকই নয়; দেশ এবং জাতির অহংকার। তাকে নিয়ে বিশ্লেষণ, নেতৃত্বের দিকপাত করা সময়ের সাথে সাথে প্রবলভাবে আকাঙ্খা বাড়াচ্ছে।

  • ৭ বছর পর বরিশাল জেলা ও মহানগর আ.লীগের কাউন্সিলের সুবাতাস

    ৭ বছর পর বরিশাল জেলা ও মহানগর আ.লীগের কাউন্সিলের সুবাতাস

    চলতি বছর অক্টোবরে শেষ হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। সে অনুযায়ী অক্টোবরেই ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ বিষয়ে চলছে তোড়জোড়। যদিও জাতীয় সম্মেলনের আগেই উপজেলা ও জেলা শাখার সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিভিন্ন কারণে তৃণমূলের সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারেনি দলটি।

    জানা গেছে, দেশের চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সমস্যার কারণে দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। ঠিক কবেনাগাদ শুরু হবে দলটির জেলা উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।

    আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তাতে জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সম্মেলন সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের পক্ষে তৃণমূলে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যার কারণেও তৃণমূলের সম্মেলন আটকে গেছে। এর আগে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছরের মার্চে আট বিভাগে আটটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে এই টিম বিভিন্ন বিভাগে সাংগঠনিক সফর করে। সাংগঠনিক সফর থেকে বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশনাও দেয়া হয়।

    কিন্তু রমজান মাসে সফর বন্ধ হয়ে যায়, যা পূর্ণাঙ্গরূপে শুরু হয়নি। এখনো পর্যন্ত হাতে গোনা দু-একটি উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাড়া কোথাও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

    আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার তাগিদ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নেতৃত্বে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও ডেঙ্গুর প্রদুর্ভাবের কারণে সিদ্ধান্ত বদল করেছে দলটি। ফলে জেলা-উপজেলার সম্মেলন প্রস্তুতির কার্যক্রম স্থগিত রেখে বন্যা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে নেতাকর্মীদের। ফলে জেলা-উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

    দলের তৃণমূলের সম্মেলনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে নেত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সবাই সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া বন্যা শেষ হলেও আমাদের নেতাকর্মীরা কবলিত এলাকাগুলোয় বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত। এসব সমস্যা সমাধান হলে তৃণমূলের সম্মেলন নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৭৭টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় সম্মেলনের পর মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১৭ সালে ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার সম্মেলন হয়। এ ছাড়া বাকি জেলা ইউনিটগুলোর বেশির ভাগই ২০১২ থেকে ১৬ সালের মধ্যে করা হয়েছে। যদিও সম্মেলনের পরপরই এসব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি। বেশির ভাগ জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে সময় লেগেছিল এক-দেড় বছর। আর উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর অবস্থা আরও করুণ। এর মধ্যে এমন কিছু ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর কমিটি কবে হয়েছে সেটা ভুলতে বসেছেন সেই ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

    তেমনি বরিশাল বিভাগের চিত্র। খোদ বরিশাল জেলায় প্রায় ৭ বছর পর হতে যাচ্ছে কাউন্সিল। ওদিকে বরগুনা জেলায় কাউন্সিল হয় ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর, ভোলায় কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, পটুয়াখালীতে কাউন্সিল হয় ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর, বরিশাল জেলায় কাউন্সিল হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর, একই দিনে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়, ঝালকাঠিতে কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি, পিরোজপুরে কাউন্সিল হয় ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সম্মেলন হয়।

    ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনের তিন বছর পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলন আর হয়নি। এ ছাড়া ২০০২ সালের ২৭ মার্চ সম্মেলন না করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৬৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই আহ্বায়ক কমিটির তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সাড়ে ১৪ বছরেও তা হয়নি।

    এ ছাড়া মাদারীপুর জেলা কমিটি ২০১৩ সালে করা হলেও সম্মেলন হয়েছিল আরও কয়েক বছর আগে। টাঙ্গাঈলে ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর, কিশোরগঞ্জে ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, মানিকগঞ্জে ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি, মুন্সীগঞ্জে ২০১৪ সালের ২১ জুন, নরসিংদীতে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি, রাজবাড়ীতে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর, শরীয়তপুরে ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ফরিদপুরে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ, গোপালগঞ্জে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    চট্টগ্রাম বিভাগেরও সবকটি জেলা ইউনিটের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বেশ আগেই। ২০০৬ সালের ২৭ জুন চট্টগ্রাম মহানগরে সম্মেলন হলেও ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সর্বশেষ সম্মেলন হয়- ২০০৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। সর্বোশেষ ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই সম্মেলন না করে কেন্দ্র থেকে কমিটি দেয়া হয়েছিল।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর, চাঁদপুরে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, কুমিল্লা দক্ষিণে ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা উত্তরে ২০১৬ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি, ফেনীতে ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর, লক্ষ্মীপুরে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ, নোয়াখালীতে ২০১৪ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর, কক্সবাজারে ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি, ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর বান্দরবানে, ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর খাগড়াছড়িতে, ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর রাঙামাটিতে সর্বশেষ সম্মেলন হয়।

    রাজশাহী বিভাগের সব কটি জেলা কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এ বিভাগের সিরাজগঞ্জে ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি, নওগাঁয় ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর, নাটোরে ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর, জয়পুরহাটে ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর, বগুড়ায় ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই অবস্থা খুলনা বিভাগের জেলা গুলোয়। খুলনায় ২০১৪ সালে, মেহেরপুরে ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, নড়াইলে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, সাতক্ষীরায় ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, মাগুরায় ২০১৫ সালের ৮ মার্চ, কুষ্টিয়ায় ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর, ঝিনাইদহে ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ, যশোরে ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, বাগেরহাটে ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, চুয়াডাঙ্গায় ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ২০তম জাতীয় কাউনসিলের পর ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর একমাত্র সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জে ২০১৩ সালে ২৫ জুন, সুনামগঞ্জে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলন হয়।

    রংপুর বিভাগের আওতাধীন পঞ্চগড়ে ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর, ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর, দিনাজপুরে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে, রংপুরে ২০০৮ সালে, কুড়িগ্রামে ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, গাইবান্ধায় জেলা সম্মেলন ২০১৬ সালের ১২ মার্চ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর সম্মেলন হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৬ মে, নেত্রকোনায় ২০১৪ সালে, শেরপুরে ২০১৫ সালের ১৫ মে, ময়মনসিংহে ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর।

  • ‌‌‌‌‌‘২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আপিল করা হবে’

    ‌‌‌‌‌‘২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আপিল করা হবে’

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি আইভি রহমানের ১৫তম শাহাদত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, আইভি রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের মধ্যে একজন নক্ষত্র।

    ‘গ্রেনেড হামলায় তিনি রক্তাক্ত হয়ে কাতরাচ্ছেন। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা পাননি। চিকিৎসায় বিলম্ব না হলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।’

    কাদের বলেন, গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। মাস্টারমাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আদালতে আপিল করা হবে।

    তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হয়েছে। এখন উচ্চ আদালতে শুনানি হবে। সেজন্য পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের নেতারা।

  • মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শনিবার (২৪ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহ নেওয়া হয়।

    জানাজা শেষে তার লাশ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বসস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুরে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    বাদ আছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    রাতে লাশ নেওয়া হবে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদে তার গ্রামের বাড়িতে। আগামীকাল রোববার জানাজা শেষে সকাল ১০টায় নিজ গ্রামে দাফন করা হবে তাকে।

    শুক্রবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

    মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

    মুজিবনগর সরকারের ছয়জন উপদেষ্টার মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। এছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

    গত ১৪ আগস্ট অধ্যাপক মোজাফফরকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, ছিলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    অধ্যাপক মোজাফফর দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিতসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। এ জন্য ঘন ঘন তাকে হাসপাতালে আনতে হয়েছে। এবারের অসুস্থতা ছিল বেশ গুরুতর। বুকে কফ জমে যাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার।

    বাংলাদেশসহ বাম ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতিতে কিংবদন্তিতুল্য মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবিদ্বারের এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজেকে তিনি সব সময় `কুঁড়েঘরের মোজাফফর’বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।

    মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৩৭ সালে। তিনি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানস্বরূপ সরকার ২০১৫ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করলেও তিনি সবিনয়ে তা ফিরিয়ে দেন।

  • স্কুলে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    স্কুলে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    ফেসবুক এর কল্যাণে যেমন সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি হয়েছে। ঠিক তেমনি এর অপব্যবহারের কারণে বেড়েছে বিভিন্ন অপরাধ। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকে বেশি সময় দেওয়ার কারণে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে লেখাপড়ায়।

    এবার স্কুলে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে নতুন একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের মধ্যে আইসিটি ডিভাইস বহন, ছবি তোলা এবং ভিডিও করা নিষিদ্ধ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে প্রায় দুই বছর পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

    শনিবার (২৪ আগস্ট) ব্যানবেইসে সারাদেশে শতাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবকদের নিয়ে একটি কর্মশালার মাধ্যমে ‘স্কুল বুলিং নীতিমালা-২০১৯’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নীতিমালায় বুলিং প্রতিরোধের উপায় হিসেবে পারিবারিক শিক্ষা, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

    খসড়া নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ শেখানোর দিকে বেশি নজর দিতে বলা হয়েছে। নীতিমালায় নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এমনকি নিয়ম ভঙ্গ করলে টিসি দিয়ে দেয়া হবে এমন বার্তা সবার মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা যাবে না। প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করতে হবে। অভিভাবকদের ডেকে বোঝাতে হবে। বুলিং রোধে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, করিডোর, ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি মনিটরিং করতে হবে।

    এক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মচারীদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এ আইন অমান্য বা একে বুলিং হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ক্রিমিনাল ক্রাইম না হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন। শিক্ষকদের কোনো চাপমুক্তভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। শিক্ষক যুক্তিসঙ্গত উপায়ে তা হ্যান্ডেল করবেন। বুলিংয়ের শিকার ও বুলিং করা উভয়ের কাছে লিখিত নেয়ার ব্যবস্থা করা উত্তম। এক্ষেত্রে কেউ সাক্ষী থাকলে তার থেকেও লিখিত রিপোর্ট নেয়া যাবে। বুলিংয়ের শিকার ও বুলিং করা উভয়কে আলাদাভাবে বা একসঙ্গে প্রতিরোধ কমিটি প্রয়োজনীয় কথা বলবে।

    এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) জাবেদ আহমেদ বলেন, নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত। শনিবার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের নিয়ে একটি কর্মশালার পর এটি চূড়ান্ত করার পর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। আদালতের নির্দেশে নীতিমালায় এটি করা হয়েছে।

    খসড়া নীতিমালায় স্কুল বুলিং বলতে বোঝানো হয়েছে, স্কুল চলাকালীন সময় বা শুরুর আগে ও পরে, ক্লাস রুমে, স্কুলের ভেতরে, প্রাঙ্গণে বা স্কুলের বাইরে কোনো শিক্ষার্থী দ্বারা অন্য শিক্ষার্থীকে শারীরিক আঘাত করা বা মানসিক বিপর্যস্ত করা, অশালীন বা অপমানজনক নামে ডাকা, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা, কোনো বিশেষ শব্দ বার বার বলে উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাকে স্কুল বুলিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত স্কুলে মৌখিক, শারীরিক ও সামাজিক- এ তিন ধরনের বুলিং হয়ে থাকে। মৌখিক বুলিং হলো কাউকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলা বা লেখা, যা খারাপ কোনো কিছুর প্রতি ইঙ্গিত।

    উল্লেখ্য, এর আগে জার্মানিতে ফেসবুক আর টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো অফিসে ব্যবহার নিষিদ্ধ করে৷

  • ‘২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ডদের ফিরিয়ে আনা হবে’

    ‘২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ডদের ফিরিয়ে আনা হবে’

    ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ডদের ফিরিয়ে এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা: কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু
    শনিবার সকালে বনানী কবরস্থানে আইভী রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এমন মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা রাজনৈতিক বাধা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এগিয়ে যাচ্ছি।

    আইভি রহমান প্রসঙ্গে কাদের বলেন, আইভি রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের মধ্যে একজন নক্ষত্র। গণতন্ত্রের সংগ্রামে ছিলেন তিনি আপসহীন। গ্রেনেড হামলায় তিনি রক্তাক্ত হয়ে কাতরাচ্ছেন। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা পাননি। চিকিৎসায় বিলম্ব না হলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।

    এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা এ শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ মাহমুদ হুমায়ুন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের নেতারা।

  • আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ : কেবল রাজনৈতিক অভিভাবক নয় বাংলাদেশের অহংকার

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ : কেবল রাজনৈতিক অভিভাবক নয় বাংলাদেশের অহংকার

    ইতিহাস বস্তুত রসবোধহীন। শুধু সময়কে ফ্রেমে আটকে দিয়ে চলে যায়। কারো মন্বন্তর বা কারো হিরোইজম ফুটিয়ে তোলার গরজ কখনো দেখায়নি। তবে অদেখানো প্রচেষ্টাগুলোতে অনেক পদাঙ্ক আঁকা থাকে যা সময়ের বির্বতনে খুব প্রাসঙ্গিক ও জরুরী হয়ে ওঠে। আমাদের গর্হিত কাজ হলো নিরাসক্ত ইতিহাসকে পর্যালোচনা না করা। ফলে প্রয়োজনীয় কিছু ঘটনা, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিত্বকে হতে দেখা যায় নিশ্চুপ। এই ব্যক্তি বা ঘটনা আসলে কি অতাটা ক্ষণস্থায়ী, যতটা ইতিহাস দ্রুত পাল্টায়? আমরা অনুধাবন করতে পারি না। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো কর্নেল তাহের, কখনো শহীদ নূর হোসেন আবার শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে দেখা গেছে।

    এদিকে বছরের মধ্যে ২ ডিসেম্বর এলে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে স্তুতি করতে দেখা গেছে তার সমর্থকদের। কারন এদিন স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে সবুজ সূর্যোদয়ের দিন। পার্বত্য চট্টগ্রামের হিংসা এবং রক্তাক্ত ঝর্ণাধারা বন্ধ করে শান্তি চুক্তির দিন। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন চিফ হুইপ থাকা অবস্থায় শান্তির নিশ্চয়তা করেছিলেন তিনি। কিন্তু আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ কি অতটুকুতে সীমাবদ্ধ কেউ? নতুবা শাসক দলের নীতি নির্ধারণি মহলের হেভিওয়েট একজন? অথবা জাতির জনকের ভাগ্নে? আমার মতে, এগুলো তার পরিচয় হতে পারে। কিন্তু ততোটুকু অবিন্যাস্ত যতবড় এই বিরল ব্যক্তিত্ব। এর কারণ আমাদের অদূরদর্শীতা কিংবা নিরাসক্ত ইতিহাসকে অনুপস্থিত করে রাখা। রাজনীতিতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে কখনো কখনো চিন্ময়বোধন হচ্ছে, তবে আমি মনে করি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রশ্নে ভূত-ভবিষ্যতের রাজনীতি কোন প্রসঙ্গ নয়। স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে তাকে নিয়ে আলোচনার আরো বৃহৎ পরিধি রয়েছে; যা সময়োচিত এবং কাঙ্খিত বাংলাদেশ বিনির্মানে রূপরেখা এঁকে দিয়েছেন। ফলত আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে জানাশোনা খুব বেশি প্রাসাঙ্গিক। অন্তত রাজনৈতিব বুহ্য বন্ধনে নয়, কারণ রাজনীতিতে এমন কোন মানদন্ড নেই যে; কেউ সফল না ব্যর্থ তা মেপে ঘোষণা করে দেবে।

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে দুটি স্পর্শকাতর স্থানে বীরোচিত দৃষ্টান্তের নাম। প্রথমত ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি করার জন্য। যে অধ্যায় কখনো অন্তঃনিরীক্ষায় আসেনি বা পর্যালোচনাও হয়নি তেমন। অখেয়ালে অদেখা থেকে হারিয়ে যাবার মত হয়েছে অবস্থা। দ্বিতীয়ত হল সেটি ১৫ আগস্টে মর্মভেদী রাতে তার ভূমিকা। অখন্ড বাংলাদেশ রক্ষা করতে পার্বত্য শান্তিচুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার আগে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, স্বাধীন দেশে কেন দরকার হয়েছিল আবার কোন চুক্তি?

    পার্বত্য চট্টগ্রামতো বাংলাদেশের আয়তনের বাইরে নয়। তবে কি এমন বিষফোঁড়া হয়ে উঠছিল ঐ অঞ্চল? এই উত্তরগুলো খুঁজতে গেলেই বেড়িয়ে আসবে একজন শান্তির সন্ধানী অগ্রপথিক। শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্রোহীদের সাথে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল ৬’শ বছর আগে। পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকারী উপজাতিরা বন্তুত বাঙাল দেশের বংশদ্ভুত নয়। প্রাচীন ইতিহাস স্বাক্ষী দেয়, কুকি আদিবাসীরা ছিল এই জনপদের প্রাচীন গোষ্ঠী। চাকমাদের গোড়াপত্তন ঘটে পনেরো শতকে। চাকমা রাজা মোআন তসনি ১৪১৮ খ্রিঃ ব্রহ্মদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নেয় রামু ও টেকনাফে এবং তিনি তাড়িয়ে দেন কুকিদের। মোআন তাসনির পাশাপাশি এসে বসতি স্থাপন করে চাকমা, মারমা (মগ)রা। সতেরো শতকে অর্থাৎ ১৬৬৬ সালে ভয়াবহ আওরঙ্গজেবের শাসনামলে মুঘলরা পার্বত্য চট্টগ্রাম অধিকার করে এবং শাসন ক্ষমতা দেয় ‘বাঙাল’ শাসকদের হাতে। বাঙালদের হাতে শাসনক্ষমতা মেনে নিতে পারে না আদিবাসিরা। এতে তারা মুঘলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সম্ভবক ঐটিই ছিল পার্বত্য অঞ্চলের প্রথম বিদ্রোহ। ১৭৬০ সালে মীর কাশেম খাঁর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন নেয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী। এটিও মেনে নিতে পারে না চাকমারা। ইংরেজদের বিরুদ্ধে শুরু হয় গেরিলা যুদ্ধ। চলে ২৫ বছর, ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত। ১৮৬০ সালে চট্টগ্রাম জেলা থেকে পৃথক জেলা ঘোষণা করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রামকে। ইংরেজরা এই বিভক্তি দিয়েই মূলত সমতল বাঙালী এবং পর্বতের আদিবাসীদের মধ্যে তুষের আগুনে হাওয়া দিয়েছিল।

    আর ১৯০০ সালে কোম্পানীর স্বার্থে উপজাতিদের নিয়ে প্রণয়ন করা হয় বিধিমালা; যেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়েল নামে অভিহিত। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে অশাসিত বা অনিয়ন্ত্রিত এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়। কার্যত এর মাধ্যমে বাঙাল ভূঁখন্ড থেকে এ অংশটি আলাদা করে ফেলা হয়। পাওয়ার অফ এটর্নি প্রদান করা হয় আদিবাসীদের হাতে। যার বদৌলতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর রাঙামাটি এবং বিভিন্ন শহরে উপজাতিরা উত্তোলন করে রাখে ভারতীয় পতাকা ও ব্রাহ্ম পতাকা। মজার কথা হল মুঘল বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী শাসন যেমন উপজাতিরা মানতে পারেনি। তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেরও ঘোর বিরোধী ছিল আদিবাসী বয়স্করা।

    তারা তখন গোর পাকিস্তান সমর্থক। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বাংলাধেশ স্বাধীন হলে উপজাতিরা সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা অঞ্চল অর্থাৎ স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল দাবী করে বসে। যে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হত গোটা বাঙালির কাছে হঠকারিতার। ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল আদিবাসী নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ৪ দফা দাবী নিয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু দেখলেন তাদের দাবী কোনটিই মেনে নেয়ার মত নয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যান লারমারা। একে একে গঠন করতে শুরু করেন সশস্ত্র বাহিনী। ১৯৭৩ সালে মানবেন্দ্র লারমা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শান্তি বাহিনীতে সদস্য সংগ্রহ চলে। চলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ। নতুন করে বিদ্রোহের ডাক দিতে প্রস্তুত তারা।

    ১৯৭৪ সালে লারমার শান্তিবাহিনী ভারতের কাছে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারকে ভারত জানিয়ে দেয়। এতে বেকায়দায় পরে যান লারমা ও তার বাহিনী। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামরিক ক্যু’রা যে নারকীয় উল্লাসে মেতে ওঠে তাতে আরো শক্তি পায় পার্বত্যবাহিনী। মানবেন্দ্র লারমা আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদ্রোহের ঘোষণা দেয়। পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করে লড়াই। শান্তিবাহিনী প্রথম হামলা চালায় ১৯৭৬ সালে পুলিশের উপর। যদিও এই বিদ্রোহে সাহায্যের জন্য ভারত এগিয়ে আসে। পুরোপুরি অশান্ত হয়ে ওঠে পার্বত্য অঞ্চল। পার্বত্য বিদ্রোহ নিরসন করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন।

    তিনি ১৯৭৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচুর সমতলের বাঙালীর পুর্নবাসন করেন। এটি ছিল তার আত্মঘাতি সিদ্ধান্তর একটি।

    কারন, বাঙালী পাহাড়িতে তখন লড়াইটা আরো ভয়ানকভাবে বৃদ্ধি পায়। দেশে ও দেশের বাইরে ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়া হত্যার মধ্য দিয়ে আরো এলোমেলো হয়ে পরে পরিস্থিতি। উত্তপ্ত চট্টগ্রাম শান্ত হয় না। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে হানাহানি, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি। দেখা গেছে স্বাধীন বাংলাদেশে শান্তিবাহিনী ৩৪ বার যুদ্ধে বিরতি ঘোষণা করেছে আর শান্তি চুক্তির আলোচনা কত হয়েছে আর কতবার ভেস্তে গেছে তার হিসেব নেই। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য অঞ্চলের প্রতি দৃষ্টি আরোপ করেন। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দেয়া হয় তার দায়িত্ব।

    ১৪ মে থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৮ মাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা তাকে সফলতা এনে দেয়। এক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরী যে, ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর কাছে যখন শন্তু লারমা ৪ দফা দাবী নিয়ে গিয়েছিলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাকে বলেছিলেন, ‘যা বাঙালি হইয়া যা’।

    জাতির জনক এর মাধ্যমে কি বোঝাতে চেয়েছিলেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে সংসদে এক অধিবেশনে মানবেন্দ্র লারমা ক্রুদ্ধ স্বরেই বলেছিলেন, আমি একজন চাকমা। একজন চাকমা কখনো ম্রোং হতে পারে না এবং চাকমা কখনো বাঙালি হতে পারে না। আমি চাকমা। আমি বাঙালি নই। আমি বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশী।

    আপনারাও বাংলাদেশী, তবে জাত হিসেবে আপনারা বাঙালি। আর উপজাতিরা কখনো বাঙালী হতে পারে না। স্ব-ঘোষিত এই অবাঙালিদের স্বাধীনতার পরে বেশ কয়েক রাষ্ট্রপ্রধান, উচুমাপের নেতা বাঙালী করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তারা ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সফল হয়েছিলেন। যথাযথ উদ্যোগ এবং ফলপ্রসূ আলোচনা ৬শ’ বছর ধরে চলমান সংঘাত নিরসন করে এক টেবিলে এনে বসায় বিদ্রোহীদের। এটা কি জাতি তথা বিশ^ শান্তির জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ? আমিতো মনে করি মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠান গড়ে যারা নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন, তাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ এবং যথার্থ শান্তি প্রতিষ্ঠার মাইলফলক ছিল এটি।

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রসঙ্গে আরো যে বিষয়টি আলোকপাত করা অত্যান্ত জরুরী তা হল, ১৫ আগস্টের ভয়ঙ্কর রাতে তার ভূমিকা। বিষয়টি অনেকেরই অজানা। আর যারা জানেন, তারা হয়তো তলিয়ে দেখতে ইচ্ছাপোষণ করেন না।

    জাতির জীবনে সবচেয়ে ভয়ানক ও মর্মস্পর্শী রাত ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাত। ঐ রাতে দেশ ও জাতির নৃশংস শত্রুরা মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাকান্ডে। চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় জাতির জনককে হত্যা করার। বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনী মাসকারেনহাস-এর ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে পাওয়া যায় তার অনুপুঙ্খ বর্ননা। ঐ রাতে কর্নেল ফারুখ নৃশংস হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ৭৫ থেকে ১৫০ জন সৈন্যর বড় বড় তিনটি দল প্রস্তুত করা হয়।

    শুধু জাতির জনক নয়, আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং শেক ফজলুল হক মনির বাড়িতেও হত্যাযজ্ঞ চালানো দায়িত্ব দেয়া হয় তিনটি সৈন্যদলের উপর। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি মেজর ডালিমকে আক্রমনের জন্য বলা হলেও তিনি তাতে রাজি না হয়ে বেছে নেয় আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়িত্ব। ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ডালিমের দল কেবিনেট মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর বাড়িতে পৌঁছে একই সময়ে জাতির জনক এবং শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনে আক্রমণ চলে। ঐ বাড়িতে মাত্র একজন পুলিশ পাহারায় ছিল।

    তাকে ভীত করতে ডালিম বাহিনী গুলি চালায়। পুলিশ কোন প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করতে পারেনি। এখানে ফ্লাসব্যাকে বলে নেয়া উচিত, জাতির জনকের বাসভবনে কি হচ্ছিল তখন? বঙ্গবন্ধুর বাড়ির প্রহরায় থাকা পুলিশ সদস্যরা গেটের বাইরে কালো উর্দি পরা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সৈন্য দেখে ভরকে যায় এবং কোন বাদানুবাদ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করে। গেটে প্রহরীরা সশস্ত্র বাহিনী দেখে ভয়ে গেট খুলে দিল।

    ফলে হন্তারকদের কোন বাঁধার মুখে পরতে হয় না। অথচ কর্তব্যানুসারে বঙ্গবন্ধু বা আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর বাসভবনে প্রহরায় থাকা পুলিশ সদস্যদের দ্বারা প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে হন্তারকরা, এটা হবার কাথা ছিল। এদিকে গুলির শব্দ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায় ৩০ বছরের যুবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর। সে জানালা দিয়ে উর্দি পরা সৈনিক দেখে নিজের কাছে রাখা স্টেনগানটি নিয়ে দোতলায় পিতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর কক্ষে ছুটে আসেন।

    পিতাকে জাগিয়ে পরিস্থিতি বলেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাত তখন শেখ মুজিবকে টেলিফোন করে। অনেক পরে লাইন পাওয়া যায়। আবদুর রব সেরনিয়াবাত বঙ্গবন্ধুকে জানায়, তার বাড়ি দুস্কৃতিকারী কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছে। টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে কেউ খুব উচ্চস্বরে কথা বলছিল। রব সেরনিয়াবাত নিশ্চিত হন জাতির জনকের বাড়িও আক্রান্ত হয়েছে। ফলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তিনি। তবে খুব দ্রুত উঠে জানালার দিকে ছুটে যান যুবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। উর্দি পরা হন্তারক সৈন্যদের ঠেকাতে জানালা থেকে সৈন্যদের লক্ষ্য করে স্টেনগানটি চালিয়ে দেন।

    ১৫ আগস্ট আক্রান্ত হওয়া তিনটি বাড়ির মধ্যে এই বাড়িতেই একমাত্র প্রতিরোধের মুখে পরে হন্তারক দল। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর এই প্রতিরোধ জাতিকে গভীর সংকটে ফেলতে উন্মাদ হয়ে যাওয়া সৈন্য রুখতে নিতান্ত দুর্বল।

    কিন্তু সার্বিক বিবেচনা আর একা তিনি যে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন সেটাকে কি প্রকৃতপক্ষে ছোট ভাবার অবকাশ আছে? মোটেও না। উল্টো আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর এই প্রচেষ্টা বিরোচিত এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। ঐ রাতে তিনি ততক্ষণ স্টেনগানটি সৈন্যদের দিকে তাক করে গুলি ছুড়তেই থাকেন, যতক্ষণ গুলির ম্যাগজিন শেষ না হয়। ম্যাগজিন শেষ হলে দ্রুত উপর তলায় ছুটে যান, গুলিভর্তি ট্রাংকের দিকে। দ্রুত মুহূর্তে ট্রাংকের চাবি খুঁজে না পেয়ে ট্রাংক ভাংতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। এ সময়ে বাসভবনে উঠে আসে ডালিমের হন্তারক বাহিনী। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ শুনতে পায় গুলির আওয়াজ এবং উপর তলায় এগিয়ে আসা সৈনিকের বুটের আওয়াজ।

    তিনি মেঝেতে স্টেনগান রেখে বসে থাকেন। সৈন্যদের অপেক্ষা করতে থাকেন। কারন এবার তার মৃত্যুর পালা। সৌভাগ্যক্রমে উপরে কেউ আসে না। তবে টানা বিশ মিনিট ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনতে পায় আর তীব্র চিৎকার। সব নিস্তব্দ হয়ে গেলে হাসানাত নিচে নেমে দেখে গোটা পরিবার তার আহত এবং লাশের স্তুপ হয়ে আছে।

    যদিও পরে ভারতে গিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা সামাল দিয়েছেন কিন্তু ১৫ আগস্টের রাতে একমাত্র প্রতিরোধকারী বীরকে কি কেউ আমরা সম্মান জানিয়েছি?

    শুরুতেই বলেছিলাম, নিরাসক্ত ইতিহাসকে আমরা না দেখতে দেখতে হারিয়েই ফেলছি প্রায়। তবে বাংলাদেশ অর্থাৎ স্বাধীনোত্তর বাংলায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ রাজনীতির অভিভাবকই নয়; দেশ এবং জাতির অহংকার। তাকে নিয়ে বিশ্লেষণ, নেতৃত্বের দিকপাত করা সময়ের সাথে সাথে প্রবলভাবে আকাঙ্খা বাড়াচ্ছে।

  • মাশরাফিকে নোটিশ পাঠালো সংসদ

    মাশরাফিকে নোটিশ পাঠালো সংসদ

    মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছাড়াও আরও একটা পরিচয় হলো তিনি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য।

    বাজেট অধিবেশন উপস্থিত না থাকার কারণে এবার মাশরাফিকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে সংসদ থেকে।

    জানা গেছে, বাজেট অধিবেশন হলো জাতীয় সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। আর এই বাজেট অধিবেশন চলাকালীন একদিনও সংসদে উপস্থিত হননি জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা।

    সংসদের এই দীর্ঘ অধিবেশন ২১ কার্যদিবস চললেও তিনিসহ মোট তিন এমপি সংসদে যাননি বলে জানা গেছে সংসদ সূত্রে।

    উপস্থিত না হওয়া তিন সংসদ সদস্যের দুজন আওয়ামী লীগের এবং একজন জাতীয় পার্টির।

    সূত্র জানায়, চলমান একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন গত ১১ জুন শুরু হয়ে ১১ জুলাই পর্যন্ত চলে। এর মধ্যে সংসদ অধিবেশনে মোট ২১টি বৈঠক দিবস ছিল। অধিবেশনকালে সদস্যদের উপস্থিতির গড় ছিল ২৫৯ জন। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উপস্থিতি ছিল যথাক্রমে ৩০৬ জন (১৩ জুন) এবং ১৫৯ জন (২২ জুন)।

    অধিবেশনে আওয়ামী লীগের মাশরাফি বিন মর্তুজা (৯৪ নড়াইল-১), বেগম সিমিন হোসেন রিমি (১৯৭ গাজীপুর-৫) এবং জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ সর্বমোট তিনজন অনুপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, ওই সময় ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলার কারণে সংসদে যেতে পারেননি মাশরাফি। অন্য দুজন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। পরে অবশ্য অসুস্থতার কারণে জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু হয়।

    সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া গণমাধ্যমে বলেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা আমাদের জাতীয় বীর। তিনি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বে উজ্জ্বল করেছেন। তিনি কেন সংসদে যাননি, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। সে সময় ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলায় তিনি সংসদে যেতে পারেননি। খেলার কারণে দেশের বাইরে ছিলেন মাশরাফি।

  • বঙ্গবন্ধুর বাংলার অপূর্ণ স্বপ্নকে পরিপূর্ণ করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    বঙ্গবন্ধুর বাংলার অপূর্ণ স্বপ্নকে পরিপূর্ণ করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়নুর রহমান সফেন:

    পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর সংসদ সদস্য কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘাতক ও কুচক্রি মহলের জন্য যে সোনার বাংলা গড়ে যেতে পারেনি আজ তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পরিপূর্ণ করছেন।

    আজ আমরা পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধু যে জাতির জন্য সারা জীবন ঘর-সংসার, স্ত্রী-পুত্র রেখে দেশের মানুষের সুখের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে সেই জাতি আজ সোনার স্বপ্নের দেশে বাস করছে।

    তিনি আলো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সোনার বাংলার গ্রামকেও উন্নয়নের মাধ্যমে শহরে পরিণত করা হবে। আমরাও প্রধানমন্ত্রীর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সকলেই সম্মিলিতভাবে নেত্রীর হাতকে শক্তিশালি করতে হবে।

    আজ শনিবার বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথাগুলো বলেন।

    স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এর ৪৪ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও ১৫ই আগস্ট শাহাদৎ বরণকারী সকল শহীদদের স্বরণে সদর উপজেলা শায়েস্তবাদ মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান শিক্ষক সুলতান আহেম্মেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তযোদ্বা আঃ খালেক, স্থানীয় আ.লীগের সভাপতি মামুন তালুকদার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান মুন্না, মুক্তিযোদ্বা এম.জি কবীর ভুলু, মহানগর যুবলীগ যুগ্ম-আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি জোবায়ের আবদুল্লাহ জিন্নাহসহ এলাকার জনসাধারণ।

    আলোচনা সভা শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষককুলের নয়ন মনি শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতসহ সকল শহীদদের জন্য দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

    এর পূর্বে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলোচনা সভাস্থলে আসার সময় শায়েস্তাবাদ ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা,শায়েস্তাবাদ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও চরআইচা সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

    পরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সদর উপজেলার তালতলী ও চরমোনাই ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন।