Category: রাজণীতি

  • হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই

    হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই

    অনলাইন ডেস্ক :

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই। আজ (রোববার) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৭টা ৪৫ থেকে ৮টার মধ্যে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুও সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    এর আগে শনিবার এরশাদের ছোট ভাই ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের জানিয়েছিলেন, ওনার লিভার যেটা কাজ করছিল না, এখনো সেই অবস্থায় আছে। ওনাকে সিরার মাধ্যমে শরীরে পুষ্টি দেওয়া হচ্ছে এখনো পর্যন্ত। ব্লাডে ওনার যে সমস্যা এবং সার্বিকভাবে ওনার যে বয়স হয়ে গেছে -এ দুটোর কারণে ডাক্তাররা মনে করছেন, রিকভারি যত দ্রুত হওয়ার কথা ছিল বা অন্যান্য ক্ষেত্রে যা হয় তার ক্ষেত্রে সেভাবে রিকভারি হচ্ছে না, অনেকটা স্লো।

    ৯০ বছর বয়সী এরশাদ রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২২ জুন সিএমএইচে ভর্তি করা হয় তাকে। এর আগেও তিনি একাধিকবার দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেন।

    রংপুর-৩ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত এ সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৩০ সালের ১ ফ্রেব্রুয়ারি। তিনি রংপুর জেলার দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন। এরশাদ বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান, এককালীন প্রধান সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯০ সালে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জেলও খাটতে হয় তাকে।

    ১৯৮১ সালে ৩০ মে, জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এরশাদের রাজনৈতিক অভিলাষ প্রকাশ পায়। ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নাগাদ তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন শুরু করেন। ওইদিন তিনি দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএফএম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে নিজের অধিকারে নেন।

    এরশাদ দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

    প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দিনটিকে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’, বিএনপি ‘গণতন্ত্র দিবস’ এবং এরশাদের জাতীয় পার্টি ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল দিনটিকে ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবেও পালন করে থাকে।

    রাজনীতিতে বহুল বিতর্কিত এ ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেননি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় এরশাদ ছুটিতে রংপুর ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে পাকিস্তান চলে যান। পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া বাঙালিরা যখন ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে আসেন তখন তিনিও প্রত্যাবর্তন করেন।

    এরশাদ ও তার দল জাতীয় পার্টি বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে রীতিমতো হাস্যরসের বস্তুতে পরিণত হয়েছিল। একেক সময় একেক ধরনের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ‘অসুস্থ বোধ’ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

    ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকার তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। তার মধ্যে কয়েকটিতে তিনি দোষীসাব্যস্ত হন এবং সাজাপ্রাপ্ত হন।

    ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছয় বছর আবরুদ্ধ থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে মূল ধারার চেয়ারম্যান হন তিনি।

    ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় পার্টি। তার স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হন।

    গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত হন। জোটগতভাবে নির্বাচন করে ২২টি আসনে জয়ী হয় জাতীয় পার্টি।

  • জিয়া হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি লাভবান খালেদা: তথ্যমন্ত্রী

    জিয়া হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি লাভবান খালেদা: তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। কারণ এই সুযোগে দলের চেয়ারপারসন হয়েছেন তিনি। দুইবার প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। বললেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

    শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতারা জড়িত হতে পারে। এটা খুঁজে বের করা দরকার। কারণ, জিয়ার মৃত্যুর পরে বিএনপি দুই বার ক্ষমতায় এলেও জিয়া হত্যার মামলা করেনি দলটি। তারা মামলাটা চালালেন না কেনো। এই রহস্যটা খুঁজে বেড় করা দরকার।তিনি বলেন, আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

  • দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: প্রধানমন্ত্রী

    দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: প্রধানমন্ত্রী

    দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তাই দুর্নীতি দমনে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যিনি ঘুষ নেন এবং যিনি ঘুষ দেন তারা উভয়েই অপরাধী। সবাই মিলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে।

    শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে নিজ কার্যালয়ে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের ২০১৯-২০ অর্থ-বছরের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী শুধু শহর কেন্দ্রিক উন্নয়ন নয় বরং তৃণমূলেও উন্নয়নের ওপর জোর দেন এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সকল প্রস্তুতি আছে বলে জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে নাগরিক সুবিধা দিতে চায় সরকার। মানুষ যেন গ্রামে বসেই সবধরণের সুবিধা পায় সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। কৃষিজমি রক্ষার জন্য ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে দিয়েছে সরকার।’ তাই কৃষিজমিতে যেন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে না উঠতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর দেবার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী এবং দেশের সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের পর দেশে কোন ভিক্ষুক ও গৃহহারা থাকবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘কর্ম-সম্পাদন চুক্তির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের মধ্যে সমন্বয় এসেছে ফলে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সম্ভব হচ্ছে। কর্মঘণ্টার বাইরে গিয়ে সচিব ও কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন, যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে।’ তাই সবাইকে আরো দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

  • এমপির ওপর ক্ষুব্ধ কুদ্দুস বয়াতি

    এমপির ওপর ক্ষুব্ধ কুদ্দুস বয়াতি

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি তার এলাকার দুই কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার না হওয়ার অভিযোগ তুলেন।

    ১২ জুলাই ওই ভিডিও বার্তায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অবহেলার কথা তুলে ধরে সরকারের কাছে এলাকার দুই কিলোমিটারের মাটির রাস্তাটি উন্নত করার আবেদন জানান। সাংসদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    ভিডিও বার্তায় কুদ্দুস বয়াতি বলেন, ‘১৬ কোটি লোক জানে আমি দেশের জন্য কী করেছি। দেশেরও এখন অনেক উন্নতি হচ্ছে। এই দিন দিন নয় আরও দিন আছে, এই দিনেরও নিচ্ছে তারা ওই দিনেরও কাছে। অথচ আমার এই রাস্তাটা হলো না। চার-পাঁচটা গ্রামের মানুষ এই কাদা নিয়ে বিপদে আছে। এমপি’র বাড়ির রাস্তা ঠিকই হয়ে গেছে, আমার রাস্তাটাই হলো না। আমি সরকারের প্রতি আবেদন জানাই আমার রাস্তাটা অচিরেই করে দেওয়ার জন্য।’

    উল্লেখ্য, নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার রাজীবপুর গ্রামে বসবাস করেন কুদ্দুস বয়াতি। ১৯৯২ সালে তার গাওয়া ‘এই দিন দিন না আরও দিন আছে’ গানটি সারা দেশে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নিজের প্রতিভা তুলে ধরেন।

  • পঁচনশীল সমাজ রোধে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংলাপ আয়োজন করার আহ্বান বিএনপির

    পঁচনশীল সমাজ রোধে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংলাপ আয়োজন করার আহ্বান বিএনপির

    এটা বলার অপেক্ষা রাখে না আজকে গুম হত্যা ধর্ষণ এটা মহামারী আকার ধারণ করেছে। এটা নতুন করে বলার কোন প্রয়োজন হয় না। আমাদের দেশে মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ সুযোগে যেভাবে এ বিষয়গুলোকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছে তাতে এটাকে মহামারী বলা ছাড়া আর অন্য কোন সংজ্ঞা হতে পারে না। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের সংবাদপত্র ও মিডিয়াগুলোতে যে সংবাদ পরিবেশন হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে চলেছে। আমাদের সমাজটা এমন যদি কেউ ধর্ষিত হয় এবং কোন ভাবে যদি লুকিয়ে রাখা যায় তাহলে সেটা কিন্তু প্রকাশ হয় না। অতএব আমাদের সামনে যে সংখ্যাগুলো আসে আমার বিশ্বাসের চেয়ে অনেক বেশি এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের ঘটছে।

    ডঃ খন্দকার মোশারফ অধিকারের রিপোর্ট থেকে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দেখতে পাই গত ছয় মাসে ২৬০ জন গুম হয়েছে। চলতি বছরেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে প্রায় দুই হাজারেরও অধিক। এরমধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৩১জনকে। এই হিসাব থেকে বোঝা যায় আমরা যেটা প্রথমেই বলেছি এগুলো লুকিয়ে রাখা যায় না বলে প্রকাশিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে গড়ে ৬জন শিশু ধর্ষিত হয়েছে। শিশু ধর্ষণ কত জঘন্য অপরাধ সমাজকে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা দেখলে বোঝা যায়। এরপর তাদেরকে জঘন্যভাবে হত্যা করা হচ্ছে।

    রিক্সা চালক শাহিন, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড, রাজিব এর ঘটনা দেখেছি, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে তনু হত্যা এসব কিসের আলামত? কেউ এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এইজন্য দেশে বিচারহীনতা, প্রতিহিংসার রাজনীতি সুশাসনের অভাব।
    সমাজে পচন ধরেছে । আর পচন লেগেছে মাথা থেকে। এটাই হচ্ছে ভয়ঙ্কর আতংকের বিষয়। এই পচা লাগছে একটাই কারণ গণতন্ত্রহীনতা , গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনা করার জন্য। সেই লোভ থেকেই আজকের এই পরিস্থিতি। গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে হলে তিনি একটা সুবিধাভোগী শ্রেণি গোষ্ঠী সৃষ্টি করতে হবে রাজনৈতিক দলের এবং প্রশাসনের মধ্যে।

    তিনি বলেন, লক্ষীপুরের ছাত্রী ধর্ষণ এমন একটা পর্যায়ে গেছে যেখানে সরকারের কত লোক এর সঙ্গে জড়িত এই জঘন্য ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সরকারের কত সংস্থা সক্রিয় ছিল।তার পরেও মিডিয়ার কল্যাণের কারণে তা ধামাচাপা দিতে পারিনি।
    বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা প্রকাশ্য দিবালোকে অত্যন্ত নৃশংস।একটা মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করছে আর হাজার হাজার মানুষ তাকিয়ে দেখছে এটা কিন্তু আমাদের সমাজে এর আগে ছিল না।

    অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে কেউ এখন এগিয়ে আসছে না এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। মানুষ কেন এগিয়ে আসছে না তার কারণ হচ্ছে এই সমস্ত ঘটনা যারা করছে তারা সবাই চিহ্নিত এলাকাতে তারা অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসী তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল এটা জানে এ জন্যই দিন দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করছে তাকে নিবৃত করার জন্য কেউ আসতে সাহস পায় না।
    যখন বলা হয়েছে নয়ন বন্ড পালিয়ে গেছে তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে সে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে আছে সে পালায়নি। সে অচিরেই ধরা পড়বে। তাহলে আমাদের বুঝতে হবে যে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আমাদের বিষয় সেই সময় থেকেই নয়ন পুলিশ হেফাজতে আছে। তারপর দেখলাম না এবং পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে।

    মোশারফ বলেন বিচারবহির্ভূত হত্যায় একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু কেন তাকে হত্যা করা হলো? যদি সে বেঁচে থাকে আর কোর্টে গিয়ে যদি সে সব কিছু বলে দেয় তাহলে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এর মধ্যে জড়িয়ে পড়বে। তার জন্যই এই বিচার বহির্ভূত হত্যা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পিছনে যারা আছে তাদেরকে আড়াল করা হলো।

    প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন মানুষকে অবহেলা করে দেশ চালায় না এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা মোশারফ বলেন,আমি কয়েকটি প্রশ্ন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর হওয়ার কথা ছিল ২৯ তারিখে রাতে ডাকাতি হয়ে গেছে একে অস্বীকার করতে পারবে না । এই ভোট এদেশের মানুষের সংবিধানের স্বীকৃত অধিকার। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে তার প্রশাসনকে ব্যবহার করে ,আওয়ামী লীগ , যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ২৯ তারিখ রাতে এই মানুষের অধিকার আপনি লুট করে নিয়ে গেলেন। এখানে কি জবাব আপনার ? আপনি মানুষকে অবহেলা করেন না, আপনি মানুষের অধিকার ডাকাতি করেন।

    মোশারফ বলেন, হাইকোর্ট থেকে মন্তব্য এসেছে বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গার কিছু কিছু ডিসি, ওসি রাজা বাদশার মত ব্যবহার করছে। এরা কারা আপনাদের মদদপুষ্ট সুবিধাভোগী রাজা বাদশা মনে করছে বলে সমাজে এই পচন লেগেছে। তারা জনগণের সেবক না হয়ে জনগণের ভক্ষক হিসেবে নিজেদের কে প্রতিষ্ঠা করেছে।

    নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন,এই সরকার নির্বাচনের যে ঘটনা ঘটল অত্যন্ত ধিক্কৃত চিফ ইলেকশন কমিশনার হুদা শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছে যে শতভাগ ভোট পড়া স্বাভাবিক নয় । যদি এটা স্বাভাবিক না হয় তাহলে তো অবশ্যই এটা অস্বাভাবিক। যদি ২১৩ টি আসনের শতভাগ আসনে অস্বাভাবিক হয় তাহলে ৫৮৬ভোটকেন্দ্রে সব ভোট নৌকায় পড়ে এটা কি অস্বাভাবিক নয়? যদি ৯০ ভাগের বেশি ১২৭ টি সেন্টারে বেশি ভোট পড়ে । ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ভোট যদি ১৫৭১৯ টি কেন্দ্রে পরে এটা অস্বাভাবিক । ৭০ থেকে ৮০ভোট পড়ে ১০হাজার ৭৩কেন্দ্রে এগুলো কি অস্বাভাবিক নয় ? অতএব শুধু শতাংশ ভোট পড়লেই অস্বাভাবিক নয় এই সকল ভোটগুলো অস্বাভাবিক। আপনারা উপজেলা নির্বাচন করেছেন সেখানে ৪৩শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। ৪৩ শতাংশ ভোট আপনারা দেখিয়েছেন সবই তো অস্বাভাবিক। আর আগের রাতে ভোট ডাকাতি এটা কতটা স্বাভাবিক।

    ডঃ মোশাররফ বলেন, এই অস্বাভাবিক সরকারের কারণে বর্তমান যে মন্ত্রিসভা সেটাও অস্বভাবিক । এখানে সিনিয়র মন্ত্রীদেরকে বাদ দিয়ে নতুনদেরকে মন্ত্রী করা হয়েছে। যাদেরকে জনগণ চেনে না।

    বর্তমান সরকার যে বাজেট দিয়েছে সেটাও অস্বভাবিক, এই বাজেট ঘাটতি পূর্ণ বাজেট। এক লক্ষ৪৫হাজার ৩৮০কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট।। আর ব্যাংকগুলো এমনিতেই দেউলিয়া। যারা সুযোগ পেল, যারা ঋণখেলাপি ব্যাংক খেলাপি, যারা কালো টাকার অধিকারী তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে এই বাজেট করা হলো। এটা কেন করা হলো? কারণ এবারের অর্থমন্ত্রী তিনি এদেশের ১০জন ধনীর মধ্যে একজন। কোনদিন ধনী ব্যবসায়ীদেরকে কোন দেশের অর্থমন্ত্রী বানানো হয় না । আমাদের দেশে এই প্রথম আজকে সরকারের অর্থমন্ত্রী একজন ধনী ব্যবসায়ী।

  • ড. ইউনূসকে তলব করেছেন শ্রম আদালত

    ড. ইউনূসকে তলব করেছেন শ্রম আদালত

    প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন গঠন করায় চাকরিচ্যুতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তলব (সমন জারি) করেছেন ঢাকার একটি আদালত। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের সদ্য চাকরিচ্যুত সাবেক তিন কর্মচারীর দায়ের করা পৃথক তিন ফৌজদারি মামলায় আগামী ৮ অক্টোবর তাকে ঢাকা শ্রম আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করা হয়েছে।

    ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত এ সমন জারি করেন। ড. ইউনূস ছাড়াও একই দিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীনকেও আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।

    মামলার বাদী এমরানুল হক, শাহ্ আলম ও আব্দুস সালাম বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন গঠন করার কারণে হয়রানিমূলক বদলি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সবশেষে চাকরিচ্যুত করায় গত ৩ জুলাই ড. ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করি। আদালত এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন। যে অনুযায়ী ১০ জুলাই (বুধবার) শ্রম আদালত থেকে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। আশা করি, আমরা ন্যায়বিচার পাব।

    যারা মামলা করেছেন
    ১. আব্দুস সালাম, কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার চড়াইকোল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রস্তাবিত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। ২০০৫ সালের ২৭ জুন গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে স্থায়ী পদে জুনিয়র এমআইএস অফিসার (কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

    ২. শাহ আলম, নিলফামারী জেলার এলাহী মসজিদপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে। প্রস্তাবিত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক তিনি। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে স্থায়ী পদে জুনিয়র এমআইএস অফিসার (কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে যোগদান করেন।

    ৩. এমরানুল হক, হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার নারিকেলতলা গ্রামের সফর আলী ছেলে। তিনি প্রস্তাবিত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য। তিনি ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ গ্রামীণ কমিউনিকেশান্সে স্থায়ী পদে জুনিয়র এমআইএস অফিসার (কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে যোগদান করেন।

    যে অভিযোগে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে তিন মামলা
    মামলার বাদীরা গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে স্থায়ী পদে এমআইএস অফিসার (কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কাজে যোগদান করেন। শ্রমিক হিসেবে নিজেদের সংগঠিত হওয়া ও নিজেদের কল্যাণের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী নিজেরাসহ অন্যান্য শ্রমিক সহকর্মীদের নিয়ে ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ (প্রস্তাবিত) নামে একটি ইউনিয়ন গঠন করেন এবং তা আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন।

    ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল ট্রেড ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য মহাপরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নে আবেদন করেন তারা। ৯ জুন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। মামলার বাদী আব্দুস সালাম প্রস্তাবিত ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, শাহ আলম প্রচার সম্পাদক ও এমরানুল হক সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং মামলার আসামিরা ইউনিয়নের বিষয় জানতে পারলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনেও তারা বাধা প্রদান করেন।

    বাদীর প্রতি এরূপ অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন আসামিরা। আসামিদের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বেআইনিভাবে বাদীদের প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজ থেকে বিরত রাখেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই বাদীদের চাকরি হতে টার্মিনেট করেন।

    বিষয়টি লিখিতভাবে শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালকে অবগত করেন বাদীরা। পরবর্তীতে কাজের বিষয় বহুবার যোগাযোগ ও অনুনয়-বিনয় করলেও তাদের (বাদীদের) প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র ইউনিয়ন গঠন করার কারণে আসামিরা তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করে কাজ থেকে বিরত রাখেন এবং বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করেন।

    ইউনিয়ন করার কারণে চাকরিচুত্যির বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি বিধায় চলতি বছরের ২৩ জুন আসামি নাজনীন সুলতানা ও খন্দকার আবু আবেদীনের বরাবর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে অনুযোগপত্র প্রদান করেন তারা।

    সেখানে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা তাদের প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন গঠনের কারণে বাদীদের বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৯৫ (ঘ) ধারা লঙ্ঘন এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। বাদীরা শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম আইন ৩১৩ ধারার তাদের ন্যায়সংগত অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ও ইউনিয়ন গঠন এবং তার কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ৩৯১ (১) ধারা মোতাবেক মামলা করতে বাধ্য হয়েছে।

    সারাদেশে আইটি সেবা দেয় গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের কর্মীরা
    নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত (ISO 9001:2015) সার্টিফাইড, গ্রামীণ ব্যাংকের একমাত্র আইটি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স’। সারাদেশে ২৫৬টি তথ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এ আইটি সেবা দিয়ে থাকে। গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে ১ হাজার কর্মী রয়েছেন।

    দীর্ঘদিন যাবত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হওয়ায় সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করে। কমিউনিকেশন কর্তৃপক্ষ বারবার মৌখিক আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি। গত ১৬ এপ্রিল প্রায় ৫৫০ জন কর্মী সংগঠিত হয়ে ঢাকার শ্রম অধিদফতরের ট্রেড ইউনিয়নের শাখায়, ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন’ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) ইউনিয়ন জমা দেন।

  • বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনীতির খাতায় নাম লিখছেন ধোনি!

    বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনীতির খাতায় নাম লিখছেন ধোনি!

    প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ রানের পরাজয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে ভারতের। আর সেই সাথে ভারতীয় ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি অধ্যায়েরও শেষ দেখছেন অনেকেই। বিশ্বকাপের আগে ধোনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই বিশ্বকাপ খেলেই ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন ক্যাপ্টেন কুল নামে খ্যাত এই ক্রিকেটার।

    সেমিফাইনালে পরাজয়ের পরপরই গণমাধ্যমে গুঞ্জন শুরু হয়, যেকোনো সময়ই হয়তো আসতে পারে ধোনির অবসরের ঘোষণা। ক্রিকেট ছেড়ে দিলে কী করবেন টি-২০ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র অধিনায়ক?

    বিশ্বকাপের আগে ভারতের সাবেক অধিনায়ক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিওতে ধোনি বলেছিলেন, আপনাদের সবার সঙ্গে একটা গোপন কথা শেয়ার করতে চাই। ছোটবেলা থেকেই আমি সব সময় চেয়েছিলাম একজন শিল্পী হতে। অনেক ক্রিকেট খেলেছি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা চেয়েছিলাম সেটাই করার সময় হয়ে গিয়েছে। কয়েকটা ছবিও এঁকেছি।

    তবে এবার জানা যাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন এক তথ্য। অবসরের পর নাকি ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়ে রাজনীতির খাতায় নাম লিখিয়ে নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি!

    ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস হিন্দিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপি নেতা এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় পাসওয়ান বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ধোনির বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ক্রিকেট থেকে অবসরের পরেই একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    সঞ্জয় পাসওয়ান বলেন, ধোনি আমার বন্ধু। সে বিশ্ববিখ্যাত একজন খেলোয়াড় এবং তাকে বিজেপিতে নেয়ার বিশয়ে পার্টির ভেতর আলোচনা চলছে।

    এর আগে ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট ধোনির সঙ্গে নয়াদিল্লিতে দেখা করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সে সময় দলের ‘সম্পর্কের জন্য সমর্থন’ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তার সঙ্গে নিজে গিয়ে কথা বলেন বিজেপি সভাপতি। তখন তার হাতে বিজেপির প্রচারপত্র তুলে দেন তিনি।

  • মমতাকে কংগ্রেসের সভাপতি করার বিজেপির প্রস্তাব

    মমতাকে কংগ্রেসের সভাপতি করার বিজেপির প্রস্তাব

    কংগ্রেসের দায়িত্ব নিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে এমন প্রস্তাব দিলেন বিজেপির রাজ্যসভার এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

    তার দাবি, বিজেপির একচেটিয়া রাজত্ব চললে বিপন্ন হবে দেশের গণতন্ত্র। ইউনাইটেড কংগ্রেসের সভানেত্রী হোন মমতা।

    ইউনাইটেড কংগ্রেস বলতে তিনি এনসিপি, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে বুঝিয়েছেন।

    শুক্রবার টুইটারে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী লেখেন, ‘গোয়া ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখার পর আমার মনে হচ্ছে, দেশে একটাই দল বিজেপি থাকলে বিপন্ন হবে দেশের গণতন্ত্র।’

    তাহলে কী উপায়? এই প্রশ্ন রেখে তিনি আবার এর একটি সমাধানও দিলেন। স্বামী টুইটারে লিখেন, ‘ইতালিয়ান ও পরিবারের লোকেরা বিদায় নিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইউনাইটেড কংগ্রেসের সভানেত্রী করা হোক। কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়া উচিত এনসিপিরও।’

    ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী কংগ্রেসের অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন। গোয়ায় কংগ্রেসের ১৫ বিধায়কের মধ্যে ১০ জন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, কর্নাটকে প্রথমে ১২ বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছিলেন কর্নাটক বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে। যাদের অধিকাংশই ছিলেন কংগ্রেসের। এর পরবর্তী পর্যায়ে একাধিক কংগ্রেস বিধায়ক সেই পথ ধরেন। কার্যত সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে কর্নাটকের কংগ্রেস জেডিইউ জোট সরকার। অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ফল যেমন খারাপ, এনসিপির ফলও খারাপ। সেই তুলনায় ভালো ফল করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি বিরোধী রাজনীতিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তাই কংগ্রেসের সঙ্গে এনসিপি এবং তৃণমূলের মিশে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

  • পিরোজপুরে মহিলা আ’লীগ নেত্রীর দুই পা ভাঙলো প্রতিপক্ষরা

    পিরোজপুরে মহিলা আ’লীগ নেত্রীর দুই পা ভাঙলো প্রতিপক্ষরা

    পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসা: সেলিনা বেগমের দুই পা পিটিয়ে ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার ইন্দুরকানী উপজেলার চরণী পত্তাশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    গুরুতর আহত অবস্থায় সেলিনা বেগমকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোসা: সেলিনা বেগম (৩৮) ইন্দুরকানী উপজেলার চরনী পত্তাশী গ্রাামের মো: জাহিদ হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী।

    হাসপাতালে চিৎিসাধীন সেলিনা বেগম বরিশালটাইমসকে জানান, ইন্দুরকানী উপজেলার চরনী পত্তাশী এলাকার তার স্বামীর নামের একটি জমি নিয়ে স্থানীয় রশিদ হাওলাদারের পুত্র আলমগীর হাওলাদার ও আলাউদ্দিন হাওলাদারের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে তিনি তার স্বামীকে নিয়ে সেই জমিতে ধানের বীজ রোপন করে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় রশিদ হাওলাদার, আলাউদ্দিন হাওলাদার, আলমগীর হাওলাদার, বাদশা মৃধা, বশির মৃধা, শহিদুল হাওলাদার, নাইম হাওলাদার ও গফফার হাওলাদারসহ কয়েক জন তাদের পথ আগলে দাঁড়ায় এবং তাদের ওপরে হামলা চালায়।

    একপর্যায়ে তার স্বামী জাহিদ হোসেন হাওলাদারকে কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে তার সামনে থেকে নিয়ে যায় এবং সেলিনার ওপর হামলা চালায়। পরে হামলাকারীরা সেলিনা বেগমকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের একটি বাড়িতে আটকে লোহার রডে পাটের বস্তা পেচিয়ে পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙে ফেলে এবং তার শরিরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করে।

    সেলিনা বেগম আরও জানান, হামলাকারীরা তাকে আহত করার পর তার কাছে থাকা দুইটি মোবাইল ফোন, কানের স্বর্ণের দুল ও স্বর্ণের গলার চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং তার সাথে থাকা একটি ব্যাগ থেকে প্রায় চার হাজার টাকা লুটে নেয়। পরে তার স্বামী বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

    পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. নণী গোপাল রায় বরিশালটাইমসকে জানান, সেলিনা বেগমের দুই পা আঘাতের কারণে ভেঙে গেছে। এছাড়া তার শরিরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখমের আঘাত আছে।

    ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, বিষয়টি জানার পরে থানার পুলিশ তাকে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

    তবে এ বিষয়ে থানায় এখানো কেউ কোন অভিযোগ করেনি।’

  • যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে: প্রধানমন্ত্রী

    বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও দুর্গত বিষয়ে সরকার দৃষ্টি রাখছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও এ নিয়ে সজাগ ও সচেতন হতে হবে। সুখে-দুঃখে আমরা জনগণের পাশে আছি এবং থাকবো।’ শুক্রবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে এবং উন্নয়নে কাজ করাই আওয়ামী লীগের নীতি। জাতির পিতার হাতে গড়া এ দলের হাত ধরেই স্বাধীনতা এসেছে। সেই দলকে সুসংগঠিত করে স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো। আমরা মানুষকে অবহেলা করে কখনও দেশ পরিচালনা করিনি। মানুষের সুখ, দু:খের সাথী হয়ে বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং মানুষের কল্যাণে এবং উন্নয়নে কাজ করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা খুব বড় বড় দেশের মত দৃশ্যত উন্নয়ন হয়তো করতে পারবো না। কিন্তু আমাদের প্রতিটি মানুষই তার জীবনটাকে অর্থবহ করবে, দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি পাবে, সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে, তাদের জীবনের লক্ষ্যগুলো অন্তত পূরণ হবে। সেইভাবে আমাদের দেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল।’

    তিনি এ সময় ‘৭৫ এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে যেভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাতে তিনি জীবিত থাকলে আর ৫/৬ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত হত। কিন্তু, ঘাতকরা তা হতে দেয়নি। তারা জাতির পিতাকে সপরিবারে কেবল হত্যাই করেনি, বরং দেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধূলিসাৎ করে দেশের অগ্রগতির সব পথ রুদ্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কারণ জাতির পিতার হত্যাকারীরা কোনদিন এ দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাসী ছিল না। তাইতো তারা ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।’

    এ সময় তিনি দলের উপদেষ্টাদের দলের ‘থিংক ট্যাংক’ আখ্যায়িত করে তাদেরকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। দেশব্যাপী অতি বর্ষণ চলতে থাকায় তাঁর সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান, দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মোকাবেলায় তাঁর সরকারের প্রস্তুতি ও সাফল্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি ‘৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সে সময় সরকারের কোনরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগ দুর্গত জনগণের পাশে এসে দাঁড়ায়।’

    বিএনপি আমলে বন্যায় দুর্গতদের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা যখন সরকারে ছিল, তখন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দুর্যোগে মারা গেছে। তারা মানুষকে ত্রাণসামগ্রী দিতে পারেনি। বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে পারেনি। তারা ছিল শুধু নিজেদের আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ সমর্থন ও ভোট দিয়ে আমাদের সরকারে পাঠিয়েছে বলেই দেশে উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি ধরে রাখতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি এবং জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। আমি মনে করি, ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং বাংলাদেশে এখন যে জায়গায় এনেছি তার পেছনে মূল শক্তি ছিল দেশের জনগণের সমর্থন। অবশ্যই মহান আল্লাহর একটা রহমতও ছিল। আগামীতে দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই তার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন সেই পথগুলো ধাপে ধাপে অতিক্রমের প্রস্তুতি নিতে হবে।’