Category: রাজণীতি

  • চেহারা কি মানুষের সমস্ত গুণাগুণের মূল বিষয়?

    চেহারা কি মানুষের সমস্ত গুণাগুণের মূল বিষয়?

    বিটিভির খবর পাঠকদের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, একজন সদস্য বলেছেন, বিটিভিতে বয়স্ক মহিলাদের দিয়ে খবর পড়ানো হয়। তাহলে কি সুন্দর তরুণীদের দিয়ে শুধু খবর পড়ানো হবে? চেহারা কি মানুষের সমস্ত গুণাগুণের মূল বিষয়? যে খবর পড়ার জন্য চেহারাই সুন্দর হতে হবে? এটিই কি মুখ্য বিষয়?

    আজ বৃহস্পতিবার রাতে সংসদে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংসদ মজিবুল হক চুন্নুর এক প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চেহারা বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটুক সমীচীন। আমি একই কথাগুলো সংসদীয় প্রসিডিং থেকে এক্সপান্স করার অনুরোধ করছি।

    তিনি আরো বলেন, বিটিভির মান উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ছয়টি বিভাগীয় শহরে নতুন টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চলচ্চিত্র বিকাশে ভারতসহ অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্র আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। চলচ্চিত্র উন্নয়নের জন্য অনেক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গাজীপুরে ১০০ একর জায়গার উপর বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি স্থাপন করা হবে। সেটি বিশ্বমানের ফিল্ম সিটিতে উন্নীত করব।

    সরকারের মেয়াদে গত দশ বছরে গণমাধ্যমের চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। অনেক উন্নত দেশেও সেটি হয়নি। দশ বছর আগে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭০০, এখন দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা এক হাজার ৩০০। দশ বছর আগে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ছিল ১০টি, আজকে ৩৪টি সম্প্রচারে আছে, ৪৫টির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অনলাইন মিডিয়া হাতে গোনা কয়েকটি ছিল। এপর্যন্ত আট হাজারের বেশি অনলাইন পত্রিকার দরখাস্ত জমা পড়েছে।

    সিনেমা হল বন্ধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, হলগুলো বন্ধ হচ্ছে এটা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নয় এটা সমগ্র বিশ্বব্যাপী হচ্ছে, ভারতেও অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়েছে। আকাশ সংস্কৃতির কারণে তাছাড়া নিউ মিডিয়ায় ছবিগুলো চলে আসায় সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে। সমগ্র পৃথিবীতে হল সিনেমা হলগুলো সংকুচিত হচ্ছে। ভারতের মতো আমাদের দেশেও অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়েছিল। যদিও সিনেমা হলগুলো আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা সিনেমা হল আধুনিকায়ন করতে চান বা বন্ধ সিনেমা হল চালু করতে চান তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। এটি হলে কয়েক বছরের মধ্যে সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    পাস হওয়া বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ৬ এর ১ উপ-ধারা দফা (ড) এর পরিবর্তে নতুন (ড) দফা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন দফায় ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডিতে একজন শিক্ষক ও একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাসহ অনূন্য ৪ থেকে ৬ জন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান করা হয়। বিলে গভর্নিং বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ ৩ বছরের পরিবর্তে ২ বছর করা করা হয়। এছাড়া বিলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত করার বিধান করা হয়েছে।

  • শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার বন্ধে আইনকে আরো কঠোর করা হবে

    শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার বন্ধে আইনকে আরো কঠোর করা হবে

    সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি ও শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনকে আরো কঠোর করা হবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা ঘটানোর কেউ সাহস না পায়।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সমাপনি বক্তব্যে শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ধর্ষকদের চেহারা যেন বার বার দেখানো ও প্রকাশ করা হয়। যাতে এই জঘন্য অপরাধীরা লজ্জা পায়। পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা কেন একা প্রতিবাদ করবে। এ বিষয়ে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

    শেখ হাসিনা দৃঢ় কন্ঠে বলেন, রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে হবে সেই রাজনীতি আমি করি না। আমার প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নতি ও দেশের মানুষের কল্যাণ। দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।

    গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এলএমজি আমদানি করছি গ্যাসের চাহিদা মেটাবার জন্য। দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে, শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সে পরিমাণ গ্যাস আমাদের দেশে নাই। আমরা গ্যাসের কুপ খনন করছি। গ্যাসের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে, যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা উত্তোলন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমায় গ্যাস উত্তলনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। গ্যাসের দাম নিয়ে যে কথাগুলো আসছে যে, দাম না বাড়িয়েও করা যাবে। কিন্তু দাম বাড়ানোর প্রয়োজনটা কেন ছিল? গ্যাসের বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য পেট্রোবাংলা ও  বিভিন্ন কোম্পানী গ্যাসের দাম ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিলো।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলএমজি গ্যাস আমদানি এটা খুব ব্যয় সাপেক্ষ। বাংলাদেশ এনার্জি  রেগুলেটরি কমিশন মূল্যায়ন করে দেখেছে বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। সেখানে আমরা কতটুক দাম বৃদ্ধি করেছি? গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বিষয়টা বিবেচনা করে কমিশন মাত্র ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করেছে। অর্থাৎ ভোক্তা পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য হার বর্তমানে প্রতি ঘন মিটার ৯ দশমিক ৮০ টাকা। আর প্রতি ঘন মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গ্রাহকদের জন্য কোন দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় করে সিএনজি খাতে শুধুমাত্র প্রতি ঘনমিটারে ৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এখন থেকে মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সকল শিল্প গ্রাহকদের ইবিসি মিটার দেওয়া হবে। যাতে করে গ্যাস কে কত ব্যবহার করে সেটা যেন নির্দিষ্ট থাকে। যাতে বিল পরিশোধ সহজ হয়।

    এ প্রসঙ্গে ২০০০ ও ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে এসে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির জন্য চাপ দেয়। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও খালেদা জিয়া ও আমার সঙ্গে বিক্রি করে একই চাপ দেয়। আমি তাঁদেরকে স্পষ্ট করে জানাই, আগে আমাদের কত পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ৫০ বছরের গ্যাস রিজার্ভ রেখে যদি উদ্বৃত্ত থাকে তবেই আমি গ্যাস বিক্রি করতে রাজি।

    তিনি আরো বলেন, গ্যাস বিক্রিতে রাজি না হলেও খালেদা জিয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে আমরা বেশি ভোট পেলেও ক্ষমতায় যেতে পারিনি। কারণ আমি রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় যেতে হবে সেই রাজনীতি আমি করি না।

    তিনি বলেন, এনার্জি ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। এখন দেশের ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আমরা যদি গ্যাস সরবরাহ করতে না পারি তবে দেশের উৎপাদিন বন্ধ হবে, রফতানি কমে যাবে, দেশে হাহাকারের সৃষ্টি হবে। যারা এ নিয়ে আন্দোলন বা সমালোচনা করে তারা কী দেশে এমন পরিস্থিতি হোক সেটাই চান?

    ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে গ্যাসের মূল্য বেশি এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে দু’দেশের তুলনামূলক মূল্যের চিত্র সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারতসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের তুলনায় বাংলাদেশে গ্যাসের মূল্য কম। বাংলাদেশে গৃহস্থালী খাতে যেখানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ১২ টাকা ৬০ পয়সা, সেখানে ভারতের মূল ৩০ থেকে ৩৭ রুপি। শিল্পে বাংলাদেশে ১০ টাকা ৭০ পয়সা, ভারতে ৪০ থেকে ৪২ রুপি, সিএনজি খাতে বাংলাদেশে ৪৩ টাকা, ভারতে ৪৪ থেকে ৫৩ রুপি এবং বাণিজ্যিক খাতে বাংলাদেশে ২৩ টাকা, সেখানে ভারতে ৫৮ থেকে ৬৫ রুপি। তবে ভারত থেকে আমাদের দেশে গ্যাসের দাম বেশি হলো কীভাবে?

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বেও আজ প্রমাণিত উন্নয়নে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন বিশাল বাজেট নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। বাজেটের বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ মাত্র শুণ্য দশমিক ৮ ভাগ। তিনি বলেন, ভিক্ষা চেয়ে নয়, দেশের নিজস্ব সম্পদ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। কারণ আমাদের দেশের সম্পদ জনগণ আর দেশের মাটি হচ্ছে উর্বর। আমরা দেশের যে উন্নতি করতে পারি তা আজ প্রমাণিত। আগামী এক বছরের দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।

    দেশের উন্নয়ন ও সফলতার বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি আমরা ৪ দশমিক ৯ ভাগে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করেছি, দেশ আজ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষের পুষ্টিও নিশ্চিত করেছি বলেই পুরুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৮ ভাগ এবং নারীদের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য ভেজালের কথা বলা হয়, অথচ মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। রফতানি আয় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
    শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করতে চাই। আকাশ, রেল, নৌ-পথ, সড়ক পথ সবক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। গত ১০ বছরে আমরা ১০ হাজার চিকিৎসককে নিয়োগ দিয়েছি। নার্সদের শিক্ষার মানও বৃদ্ধি করেছি।

    সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, ডেঙ্গু রোগটা বেড়ে গেছে। সমস্যা হচ্ছে ডেঙ্গু মশাটা এরোসক্রেট হয়ে গেছে। এরা পঁচা ডোবা-নর্দমায় নয়, একটু ভদ্র এলাকায় বাস করে। বাসা-বাড়ির স্বচ্ছ পানিতে এরা বংশবিস্তার করে। তাই এ ব্যাপারে দেশের মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে, বাসা-বাড়ির আশেপাশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তবে ডেঙ্গুর চিকিৎসা আগের থেকে এখন অনেক সহজ হয়েছে, চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ

    রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার রাজাকারদের তালিকা তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে এতে যেন কেউ প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

    সোমবার (৮ জুলাই) লন্ডনে প্রজন্ম ’৭১ যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

    পূর্ব লন্ডনের মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তানদের অনেকেই বর্তমানে খোলস পাল্টে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে চলেছে।

    বাংলাদেশকে স্বাধীনতার চেতনায় এগিয়ে নিতে হলে এসব সুবিধাভোগী স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে খুঁজে বের করে প্রতিহত করা সময়ের দাবি।

    বক্তারা বলেন, দেরিতে হলেও রাজাকারদের তালিকা তৈরির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। রাজাকার এবং রাজাকারের বংশধর যারা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে তারা যেন এ তালিকা প্রণয়নে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেজন্য দরকার সরকারের কঠোর নজরদারি।

    সভায় বক্তারা ৩০ লাখ শহীদের তালিকা তৈরি, গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা, যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের রাজাকার হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, শহীদ পরিবার কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভালের ব্যবস্থা নেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্থাপনা-স্থান ইত্যাদি সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট প্রণয়ন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ত্যাগ, তাদের জীবনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং সব শহীদের কবর সরকারিভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান।

    নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তকে পর্যাপ্ত তথ্য যোগ করার পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান বক্তারা।

    বক্তারা আশা করেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনায় একটি উন্নত-সমৃদ্ধ, শহীদদের স্বপ্নের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন। সভা পরিচালনা করেন এ কে এম আবদুল্লাহ।

    গোলটেবিল আলোচনা সভায় অংশ নেন সাবেক সংসদ সদস্য সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ দেওয়ান গৌস সুলতান, যুক্তরাজ্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবুল কাশেম খান, সাংবাদিক ও গবেষক মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক কাজল, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আহবাব চৌধুরী, আমির খান, আবদুল হাদি, ফয়জুর রহমান খান, আশরাফ উদ্দিন মুকুল, সৈয়দ গোলাম আলী, দেওয়ান কামাল, আতিকুর রহমান।

  • ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংককে সহযোগিতার আহ্বান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

    ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংককে সহযোগিতার আহ্বান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

    ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংককে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দফতরে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক পরিচালক জন রমি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিকে এ আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

    বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে জলবায়ু পরিবর্তন ও তা মোকাবিলায় অভিযোজন কার্যক্রমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যেহেতু ডেল্টা প্ল্যান দীর্ঘ সময় ধরে অনেকগুলো কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য ডেল্টা প্ল্যানের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বব্যাংকের মত বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অধিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

    আলোচনায় পানি সম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার ডেল্টা প্ল্যানের লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরে বিশ্বব্যাংককে সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

    প্রতিনিধি দলের প্রধান জন রমি ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের জোর সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করে তা বাস্তবায়নে একটি কোর গ্রুপ গঠন এবং তার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুতের ওপর আলোকপাত করেন।

    জন রমির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে প্রোগ্রাম লিডার সঞ্জয় শ্রীবাস্তাবা, সিনিয়র ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট স্বর্ণা কাজী এবং সিনিয়র ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এ টি এম খালেকুজ্জামান এবং প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন দলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল ইসলাম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব নুর আলম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

  • রাষ্ট্রের অর্থ আপচয় রোধে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা থাকতে হবে: মঞ্জু

    রাষ্ট্রের অর্থ আপচয় রোধে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা থাকতে হবে: মঞ্জু

    সাবেক মন্ত্রী, জাতীয়পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় রোধ করতে হবে। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোসহ সাধারন মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কারন রাস্ট্রের টাকায় এসকল উন্নয়ন করা হয়।

    আর সে টাকা জনগনের ট্যাক্সের মাধ্যমে আদায় করা হয়। তাই উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন কাজের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্ধের অপচয় বন্ধ এবং গৃহীত প্রকল্প সমূহ নির্ধারিত সময়ে সঠিক ভাব সম্পন্ন হয়েছে কিনা বে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। বুধবার রাতে ভা-ারিয়া উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারেফ হোসেন হল রুমে পৌর সভার কর্মকর্তা,কাউন্সিলরদের সাথে পৌর সভার বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন।

    এসময় পৌর সভায় চলমান কাজের মধ্যে জলবায়ূ ট্রাস্টফান্ড,নগর উন্নয়ন ,কুয়েত ফান্ড ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কাজের অগ্রগতি বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। এ সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন,স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে উন্নয়ন কাজ তরান্বিত করার জন্য চেয়ারম্যানদের শুধু শালিসি করার জন্য নয় তাদের কাজের বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রের বরাদ্ধকৃত অর্থের অপচয় রোধ করতে হবে। কাজের বিষয়ে এমপি বলেন,যারা কাজ করেন তারা যদি সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে তাদের ছাড়পত্র বাতিল করে নতুন করে হলেও সঠিক সময়ে কাজের মান ভালো রেখে সঠিক সময়ে যারা কাজ সম্পন্ন করতে পারবে তাদের কাজ দিতে হবে। কারন বর্তমান সরকার প্রধান কাজের বিষয় যথেষ্ট আন্তরিক। সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম। পৌর সভায় গৃহীত প্রকল্পসমূহের বিষয় উপস্থাপন করেন সহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমীন।

    এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান খালেক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভা-ারিয়া পৌর সভার সহায়ক কমিটির সদস্য ও ভা-ারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, ওসি মো. মাকসুদুর রহমান, পৌর সভার সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সহায়ক কমিটির সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দার এবং কাউন্সির ও সহায়ক কমিটির সদস্যগণ ছাড়াও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান টুলু, হুমায়উন কবির, জেলা পরিষদের সদস্য আ.হাই হাওলাদার প্রমূখ।

  • বিভিন্ন দেশে কারাবন্দি ৮৮৪৮ বাংলাদেশি

    বিভিন্ন দেশে কারাবন্দি ৮৮৪৮ বাংলাদেশি

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘৩০ জুন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানামতে ৮ হাজার ৮৪৮ জন বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জেলে বা ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন।

    জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি তালিকাও উপস্থাপন করেন মন্ত্রী।

    তিনি জানান, কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। এটা দূতাবাসের সাহায্যে রুটিন মাফিক করে আসছে মন্ত্রণালয়। অতি সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া, তিউনিশিয়া, লিবিয়া ও ভানুয়াতু থেকে আটকে পড়া অনেক বাংলাদেশি দূতাবাসের সার্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে ফিরে এসেছে এবং দেশে ফিরে আসার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪৪টি দেশে এসব বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। এর মধ্যে সব থেকে বেশি আটক ভারতে। দেশটিতে আটক আছেন ২ হাজার ৪৯ জন। এরমধ্যে ২ হাজার ৩১ জন কলকাতায় বাকি ১৮ জন আগরতলায়।

    এ ছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে আবুধাবিতে ১ হাজার ১৫৬ জন, বাহারাইনে ৬৯৩, মালয়েশিয়ায় ৫৭২, সৌদি আরবে ৭৬৮, ওমানে ৪৪২, কুয়েতে ৩১৬ এবং তুরস্কে ৩২৭ জন আটক আছেন।

  • ইসলামী পর্যটন বিপুল সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

    ইসলামী পর্যটন বিপুল সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী পর্যটন প্রসঙ্গে বলেছেন, ইসলামী পর্যটনের আকার বিশাল। এটা বিপুল সম্ভাবনাময় একটি খাত। ওআইসির ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে মুসলিম ট্যুরিস্টের সংখ্যা ১৫৬ মিলিয়ন; যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১৮০ মিলিয়ন। একই বছর সারাবিশ্বের জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ হবে মুসলিম।

    আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘ঢাকা অ্যাজ দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল মুক্তাদির এবং ওআইসির সহকারি মহাসচিব মুসা ইলিকায়া বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামী পর্যটনকে ‘বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রয়োজন। এ বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি করতে তিনি ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামী পর্যটনের বিকাশে আন্তঃওআইসি পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলো পর্যটন খাতের অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তাদের বেসরকারি খাতকে একক ও যৌথভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করবে। থমসন-রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালে ইসলামী পর্যটনের বাজার ছিল ১৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যার মধ্যে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বাজার ছিল প্রায় ১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ইসলামী পর্যটনের বাজার বার্ষিক ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে।

    বিকাশমান ইসলামী অর্থনীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামী অর্থনীতি’ বর্তমানে নবরূপে বিকাশ লাভ করছে। হালাল ফুডস, ইসলামী ফাইন্যান্স, হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রসাধনী, হালাল পর্যটন ইত্যাদি ইসলামিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান খাত। এ খাতগুলো বিকাশের জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব একান্ত প্রয়োজন।

  • ‘যুদ্ধাপরাধীর সন্তান আ.লীগের আসলেই বহিষ্কার’

    ‘যুদ্ধাপরাধীর সন্তান আ.লীগের আসলেই বহিষ্কার’

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীর সন্তানরা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। যদি কোথাও সদস্য হয়ে থাকে তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীর সন্তানরা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। যদি কোথাও সদস্য হয়ে থাকে তাহলে তাকে বহিস্কার করা হবে। এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।

    বৃহস্পতিবার (১১জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় ভারতীয় মিত্র বাহিনীর স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের জন্য জায়গা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনো অবস্থাতেই থমকে যাবে না। আপনাদের এখানে যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামালা দায়ের করেন। পর্যায়ক্রমে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে। যারা খুব বড় যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচারের কথা পত্র-পত্রিকায় ওঠে, মানুষ জানতে পারে। যারা নিম্ন পর্যায়ে স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে- তাদের যে যাবজ্জীবন বা অন্যান্য শাস্তি হচ্ছে সেগুলো পত্র-পত্রিকায় আসে না বলে মনে হচ্ছে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ স্থগিত হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা সঠিক নয়, বিচার কাজ চলমান আছে।

    ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা নন এমন ব্যক্তিরা আমাদের তালিকাভুক্ত আছে। যখই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে অভিযোগ পাচ্ছি তদন্ত করে তখনই তাদের বাতিল করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সাত শতাধিক ভারতীয় সৈন্য আমাদের পাশে থেকে যুদ্ধ করে বাংলার মাটিতে শহীদ হয়েছেন। আমরা তাদের স্মরণে একটি স্মৃতি স্তম্ভ করতে চাই। যেহেতু আশুগঞ্জে বেশি যুদ্ধ হয়েছে তাই আমরা মনে করি আশুগঞ্জের কোথায় স্মৃতি স্তম্ভটি হলে ভালো হবে।

    এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়েল সচিব এস এম আরিফ উর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিমুল হায়দার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) আবু সাঈদ, বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান আনসারী ও আশুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইকবাল হোসেন প্রমুখ

  • কী নির্মম, কী নিষ্ঠুর! পদ্মা সেতুতে লক্ষ মানুষের মাথা আর রক্ত লাগবে এসব অপপ্রচার : কাদের

    কী নির্মম, কী নিষ্ঠুর! পদ্মা সেতুতে লক্ষ মানুষের মাথা আর রক্ত লাগবে এসব অপপ্রচার : কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কী নির্মম, কী নিষ্ঠুর! পদ্মা সেতুতে লক্ষ মানুষের মাথা আর রক্ত লাগবে এসব অপপ্রচারও তারা (বিএনপি) করে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের কর্মী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ; এখন শুরু করেছে অপপ্রচার। অপপ্রচার ছাড়া আর কোনো পুঁজি নেই বিএনপির। এসব অপ্রপচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    কাদের বলেন, পদ্মা সেতু নিজের অর্থায়নে হচ্ছে, এটা তারা (বিএনপি) মানতে পারছে না। পদ্মা সেতু আজকে দুই কিলোমিটার দুশ্যমান এবং ৭১ ভাগ সার্বিক অগ্রগতি। এটা তাদের গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে। সেজন্য বলে, পদ্মা সেতুর জন্য নাকি লক্ষ মানুষের মাথা আর রক্তের প্রয়োজন।

    নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, সাইবার অ্যাটাকের মোকাবেলা করতে পেরেছি বলেই নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছি। সামনে কঠিন লড়াই আছে। আপনারা মনে করবেন না, বর্তমানে যেমন শান্তিপূর্ণ সময় যাচ্ছে, এমন যাবে। কাজেই সতর্ক থাকতে হবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত।

    বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ।

  • সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির সিরাজ

    সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির সিরাজ

    সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।

    বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

    শপথ বাক্য পরিচালনা করেন সংসদের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান। এ সময় বিএনপির হারুনুর রশিদ, জাহিদুর রহমান, মোশাররফ হোসন ও সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ধানের শীষ প্রতীকে ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

    তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী টি জামান নিকেতা নৌকা প্রতীকে পান ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট। জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭১ ভোট।

    দেশের ইতিহাসে কোনো সংসদীয় আসনের সবগুলো কেন্দ্রে এই প্রথম ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি একাদশ সংসদে শপথ নেননি। তাই উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

    এই আসনে বরাবরই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করে জয়ী হয়ে আসছেন। কিন্তু দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি থাকায় ৩০ ডিসেম্বর তিনি ভোট করতে পারেননি।